📄 পাত্রীর কোন কোন অঙ্গ কতবার দেখা যাবে
পাত্রের জন্য পাত্রীকে দেখার ক্ষেত্রে কেবল পাত্রীর চেহারা, চোখ, হাতের কবজি অবধি ও পায়ের টাখনু পর্যন্ত দেখার সুযোগ রয়েছে। এ ব্যতীত অন্য কোনো অঙ্গ দেখা জায়েয নেই, এমনকি মাথার চুলও দেখা জায়েয নেই। অবশ্য প্রয়োজন অনুযায়ী খুব ভালো করে এবং বারবার দেখতে কোনো অসুবিধা নেই। এ ক্ষেত্রে উত্তম ও সহজ পন্থা হলো পাত্রপক্ষের নির্ভরযোগ্য কোনো মহিলা পাত্রীর খুঁটিনাটি সবকিছু দেখে এসে পাত্রকে অবহিত করবে। এরপর বিবাহের ইচ্ছা হলে তখন পাত্র সরাসরি পাত্রীকে দেখবে।
আরেকটি বিষয় লক্ষ রাখতে হবে যে, পাত্রীর সাথে নির্জনে সাক্ষাৎ করা যাবে না। পাত্র ও পাত্রী নির্জনে আলাদা স্থানে একত্র হয়ে কথা বলতে পারবে না, যা বলার মাহরামদের সামনেই বলবে। [৫]
পাত্রী দেখা সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস • হযরত আবু হুরাইরা বলেন,
كنت عند النبي صلى الله عليه وسلم فأتاه رجل فأخبره أنه تزوج امرأة من الأنصار فقال له رسول الله صلى الله عليه وسلم أنظرت إليها قال لا قال فاذهب فانظر إليها فإن في أعين الأنصار شيئا
একদা আমি রাসূলুল্লাহ -এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় জনৈক ব্যক্তি এসে রাসূলুল্লাহ -কে জানালেন যে, তিনি জনৈক আনসারী মেয়েকে বিবাহ করতে চান। তখন রাসূলুল্লাহ তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, "তুমি তাকে দেখেছ?” উত্তরে তিনি বললেন, "না, দেখিনি।” রাসূলুল্লাহ বললেন, "যাও, দেখে এসো। কারণ, আনসারদের চোখে কিছু ত্রুটি (চক্ষু ক্ষুদ্রতা) আছে।” [৬] • মুগীরা ইবনে শু'বা বলেন, আমি জনৈক নারীকে বিবাহের প্রস্তাব করলাম। রাসূল তখন আমাকে বললেন,
هَلْ نَظَرْت إِلَيْهَا ۚ قُلْتُ: لَا ، قَالَ فَانْظُرْ إِلَيْهَا، فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يُؤْدَمَ بَيْنَكُمَا "তুমি কি তাকে দেখেছ?” আমি বললাম, "না।” তিনি বললেন, “তাকে দেখে নাও। কেননা, এতে তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালোবাসা জন্মাবে।” [৭] • নবী বলেন,
إِذَا أَلْقَى اللَّهُ فِي قَلْبِ امْرِي خِطْبَةَ امْرَأَةٍ فَلَا بَأْسَ أَنْ يَنْظُرَ إِلَيْهَا
আল্লাহ যখন কোনো ব্যক্তির অন্তরে কোনো নারীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত দিয়ে দেন তখন উক্ত নারীকে দেখায় কোনো সমস্যা নেই। [৮]
إِذَا خَطَبَ أَحَدُكُمُ امْرَأَةً فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِ أَنْ يَنْظُرَ مِنْهَا إِذَا كَانَ إِنَّمَا يَنْظُرُ إِلَيْهَا . لِخُطْبَةٍ، وَإِنْ كَانَتْ لَا تَعْلَمُ
তোমাদের কেউ কোনো নারীকে বিয়ের প্রস্তাব প্রদানের পর তাকে দেখলে কোনো গুনাহ হবে না, যদিও সে না জানে। [৯]
উল্লিখিত হাদীসসমূহে রাসূলুল্লাহ বলেন, বিয়ের প্রস্তাবদাতা যদি বিয়ের উদ্দেশ্যে পাত্রীকে দেখে, তাহলে গুনাহ হবে না। এতে এও প্রতীয়মান হলো যে, যদি কোনো পুরুষ বিয়ের উদ্যোগ না নিয়ে অথবা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে নয় বরং নারীদের রূপ-লাবণ্য দর্শনের স্বাদ উপভোগ করার উদ্দেশ্যে দেখে থাকে, তাহলে তারা পাপাচারীদের দলভুক্ত হবে। পক্ষান্তরে এক নারীর সাথে বিবাহের কথাবার্তা পাকা করে বিবাহ বন্ধনের সময় ধোঁকা দিয়ে অন্য নারীর সাথে বিয়ে দিলে সে বিবাহ শুদ্ধ নয়। এমন করলে সেই বিবাহের পর সকল মেলামেশা যিনা বলে গণ্য হবে। [১০] তাই এ বিষয়ে পুরুষদের সতর্ক থাকতে হবে, পাত্রী ভালোমতো দেখে নিলে এমনটি হওয়ার সুযোগ কমে আসে।
টিকাঃ
[৫] সুনানে আবু দাউদ- ২/৩১৫. হাদীস- ২০৮২; সুনানে ইবনে মাজাহ- ২/৭২৮. হাদীস- ১৮৬৬; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৬/১৬৩, হাদীস- ১০৩৩৫; হেদায়া- ৪/৪৪ও, রদ্দুর মুহতার- ১/৪০৭; ফাতাওয়া শামী- ৬/৩৭০; বিদায়াতুল মুজতাহিদ- ৩/৩১; ফাতহুল বারী- ৯/১৮২; নাইলুল আওত্বার- ৬/১১১; রওদুত্ব তুলেবীন- ৭/১৯
[৬] সহীহ মুসলিম- ২/১০৪, হাদীস- ১৪২৪
[৭] সুনানে তিরমিযী- ১০৮৭; সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৮৬৫; মিরকাতুল মাফাতীহ- ৫/২০৫৩, হাদীস- ৩১০৭; সুনানুল কুবরা- ৭/১৩৫ থেকে ১৩৬, হাদীস- ১৩৪৮৮; সুনানুস সুগরা- ২৩৫৩; মুসনাদে আহমাদ- ৪/২৪৬; সুনানে দারেমী- ২/১৩৪; মুস্তাদরাকে হাকেম- ২/১৬৫
[৮] সুনানে ইবনে মাজাহ- ১৮৬৪; মুসনাদে আহমাদ- ১৮০০৫; নাইলুল আওত্বার- ৬/১৩২, হাদীস- ২৬৪৪, হাদীসটির মান সহীহ।
[৯] মুসনাদে আহমাদ- ৫/৪২৪; নাইলুল আওত্বার- ৬/১৩২, হাদীস- ২৬৪৩; হাদীসটির মান সহীহ।
[১০] হাশিয়াতু রওদ্বিল মুরবি- ৬/২৫৪
📄 প্রথম রাতে করণীয়
বিয়ের পর প্রথম রাতটি স্বামী-স্ত্রীর জন্য অনেক খাস। এই রাতটিই তাদের জীবনে অমলিন হয়ে থাকবে আজীবন। তাই রাতটি যাতে বিশেষ হয়ে থাকে সেই নিমিত্তে সেভাবেই একে সাজানোর পরিকল্পনা তো থাকবেই, পাশাপাশি বাসর রাতকে ঘিরে যেসকল সুন্নাহ ও আদবসমূহ রয়েছে সেগুলোও পালন করা বাঞ্ছনীয়।
* একত্র হয়ে কুশলাদি বিনিময় করা এবং একদম চুপচাপ না থেকে একে অপরের সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলা উচিত। আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই রাকাত সালাত আদায় করা যেতে পারে, এটি মুস্তাহাব। সে ক্ষেত্রে সালাতের সময় স্ত্রী স্বামীর পিছনে দাঁড়াবে। সাহাবাদের থেকে এই আমলটির প্রমাণ পাওয়া যায়। [১১]
* এক পেয়ালা দুধ থেকে প্রথমে স্বামী চুমুক দিয়ে পান করে স্ত্রীর হাতে দেবে, সেও সেখান থেকেই পান করবে। এটি একটি সুন্নাহ যা রাসূল থেকে প্রমাণিত। [১২]
* স্ত্রীর কপালে হাত রেখে বা মাথার সামনের দিকের চুলের গোছায় হাত দিয়ে স্বামী নিম্নের দু'আটি পড়বে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهَا وَ خَيْرَ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِهَا وَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهَا عَلَيْهِ
স্ত্রীও এই দু'আটিই পড়বে এভাবে-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ خَيْرَهُ وَخَيْرَ مَا جَبَلْتَهُ عَلَيْهِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهِ وَ مِنْ شَرِّ مَا جَبَلْتَهُ عَلَيْهِ
হে আল্লাহ, তার যত কল্যাণ রয়েছে এবং যত কল্যাণ তার স্বভাবে আপনি নিহিত রেখেছেন তা আমি আপনার কাছে চাই এবং তার যত অকল্যাণ রয়েছে ও যত অকল্যাণ তার স্বভাবে আপনি নিহিত রেখেছেন তা থেকে আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই। [১৩]
* পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রথম রাতে স্ত্রীর সাথে কুশলাদি বিনিময় করেই কাটিয়ে দেওয়ার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে নবদম্পতির মাঝে বোঝাপড়া ভালো হয়。
* সহবাসের পূর্বে স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই অবশ্যই সহবাসের দু'আটি পাঠ করতে হবে-
بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبْ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
আল্লাহর নামে। হে আল্লাহ, আপনি আমাদের থেকে শয়তানকে দূরে রাখুন এবং আমাদেরকে আপনি যে সন্তান দান করবেন তার থেকেও শয়তানকে দূরে রাখুন। [১৪]
* বাকিরাহ বা কুমারী নারী হলে স্বামী তার সাথে টানা ৭ দিন ৭ রাত কাটানো ও সাইয়্যেবা বা অকুমারী নারী হলে স্বামী তার সাথে টানা ৩ দিন ৩ রাত কাটানোর বিষয়ে হাদীসে এসেছে। [১৫]
* সহবাসের পূর্বে স্ত্রীকে সেটার জন্য প্রস্তুত করে নিতে হবে। এটি অনেক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আল্লাহর রাসূল পশুর মতো সরাসরি সহবাস করে নিজের খায়েশাত মেটাতে বারণ করেছেন এবং স্পর্শ, চুম্বন ও উত্তেজনামূলক কথার মাধ্যমে স্ত্রীর কামভাব জাগিয়ে তুলতে উৎসাহ দিয়েছেন। [১৬]
টিকাঃ
[১১] মুসান্নাফে ইবনু আবী শাইবাহ- ৩/৪০২; মু'জামুল কাবীর, তাবরানী- ১/২০৪; মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক- ৬/১৯১ (সহীহ)
[১২] মুসনাদে আহমাদ- ১৮/৫৯৬, হাদীস- ২৭৪৬৩ (দারুল হাদীস: কায়রো, তাহকীক- হামযাহ আহমাদ যাইন); মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ৪/৫১, হাদীস- ৬১৫০; হাদীসটির সনদ সহীহ।
[১৩] সুনানে আবু দাউদ ২/২৪৮, হাদীস- ২১৬০; সুনানে ইবনে মাজাহ ১/৬১৭, হাদীস- ১৯১৮
[১৪] সহীহ বুখারী- ৬/১৪১, হাদীস- ১৪১; সহীহ মুসলিম- ২/১০২৮, হাদীস- ১৪৩
[১৫] সহীহ মুসলিম- ৩৪৪৭, ৩৪৪৮
[১৬] মুসনাদ আল ফিরদাউস- ২/৫৫
📄 স্ত্রীর স্তন চোষা বা চুমু খাওয়া
স্বামী-স্ত্রী মিলনের পূর্বে একে অপরকে বিশেষ করে স্বামী স্ত্রীকে উত্তেজিত করে সহবাস করা ফকিহগণ মুস্তাহাব বলেছেন। যেমন: চুমু খেয়ে, স্তন মর্দন কিংবা তাতে চুমু খেয়ে অথবা চোষণের মাধ্যমে উত্তেজিত করা ইত্যাদি। এতে ৪ মাযহাবের সকল ইমাম একমত。
তবে লক্ষ রাখতে হবে, স্ত্রীর স্তনে যদি দুগ্ধ থেকে থাকে তাহলে স্বামীকে সতর্কতার সাথে চোষণ করতে হবে, যেন দুগ্ধ মুখে চলে না যায়। নতুবা চোষণ থেকে বিরত থাকা উচিত। কেননা, স্ত্রীর স্তনের দুগ্ধ পান করা একটি মারাত্মক গুনাহের কাজ。
কিন্তু যদি অধিক উত্তেজনাবশত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কেউ স্ত্রীর দুধ পান করেও ফেলে তবে স্ত্রী তার জন্যে হারাম হবে না, যেমনটা লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে। তবে এ কাজের জন্যে তাওবাহ করতে হবে। [১৭]
টিকাঃ
[১৭] সূরা বাক্বারাহ- ২২৩; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (পুরাতন নুসখা)- ১২/৩১০; ফতোয়ায়ে শামী- ১/৩১, ৪/৩৯৭; তাফসীরে মাযহারী- ১/৩৫৬; কেফায়াতুল মুফতী- ৫/১৬২; আযীযুল ফাতাওয়া- ৭৭০; ফতোয়ায়ে মাহমুদিয়া (নতুন নুসখা)- ৬/৩৪৬
📄 মিলনের সময় যোনিপথে আঙুল প্রবেশ করানোর বিধান
উলামায়ে কেরামদের একদল একে জায়েয বলেছেন এই শর্তে যে, যেন পায়ুপথে এমন করা না হয় এবং হায়েয ও নিফাসের সময়েও এমন করা যাবে না। তবে এটি মাকারিমে আখলাক পরিপন্থী একটি কাজ। [১৮]
টিকাঃ
[১৮] আল্লামা দিমইয়াত্বির হাশিয়াতু ইয়ানাতিত ত্বলিবীন- ৩/৩৮৮