📄 নারীদের বিয়ের প্রয়োজনীয়তা
দ্বীনদার পুরুষদের বিয়ের উদ্দেশ্য মূলত চরিত্র রক্ষা, নজর ও লজ্জাস্থান হেফাযতের সাথে সম্পৃক্ত। দ্বীনদার নারীদের ক্ষেত্রে বিয়ের প্রয়োজনীয়তাটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে বহুমুখী। ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভের মাধ্যমে আমরা নারীদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম যে, বিয়ে কেন তাদের জন্য প্রয়োজনীয়। উত্তরে অনেকে একাধিক প্রয়োজনের কথা জানিয়েছেন। এর মাঝে দ্বীন পালন, লজ্জাস্থান ও দৃষ্টি হেফাযত এবং পারিবারিক চাপ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া অনেকের জন্য বিয়ে প্রয়োজনীয় কারণ তারা চলমান হারাম সম্পর্ক থেকে সরে আসতে চায়।
বিবাহ আপনার জন্য কেন প্রয়োজনীয়
চলমান হারাম সম্পর্ক থেকে সরে আসতে ২৩.৯০%
নজর ও লজ্জাস্থানের গুনাহ থেকে বাঁচতে ৬৯.৩৫%
দ্বীন ভালোভাবে মানার জন্য ৮৫.৬০%
পরিবারের চাপ থেকে মুক্তি পেতে ৩৮.০০%
আর্থিক স্বচ্ছলতার জন্য ২০.৭০%
দ্বীনি নারীরা সাধারণত ঘরের ভেতরে থাকে। ফলে তারা বাইরের জগৎ সম্পর্কে একট কম অবগত থাকে। পুরুষেরা যেভাবে নানান হালাকা, মাজলিস, দ্বীনি আসর, আলিমদের সোহবতে থেকে ইলম অর্জন করতে পারে সেই সুযোগটা নারীদের থাকে না বললেই চলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জেনারেল পড়ুয়া দ্বীনদার নারীদের পরিবারের সদস্যদের দ্বীনের বুঝ কম হয়ে থাকে। ফলে কোনো মাহরামের সাথে গিয়ে দ্বীনি হালাকায় উপস্থিত হবে এটা সম্ভব হয় না। তাই দ্বীনের ইলম অর্জনের ক্ষেত্রে তার শেষ আশ্রয় হয়ে যায় একজন দ্বীনি জীবনসঙ্গী। সুতরাং ইলম অর্জনের এই সংকীর্ণতা থেকে আল্লাহর ইচ্ছায় পরিত্রাণ দিতে পারে একজন দ্বীনদার স্বামী। বিয়ের মাধ্যমে একজন দ্বীনদার নারীর ক্ষেত্রে তার স্বামীই এসব সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া বাইরে বের হলে নারীর জন্য তার স্বামীই হয় তার দেহরক্ষী। ফলে গাইরে মাহরামদের সাথে কথাবার্তা বলার প্রয়োজন হয় না, অথবা বখাটেদের মাধ্যমে উত্ত্যক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে আসে।
এই ফিতনার জামানায় সবচেয়ে বহুল প্রচলিত এবং অন্যতম সহজলভ্য গুনাহ হলো অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক। নারী এবং পুরুষদেরকে সময়মতো বিয়ে না দেওয়ার কারণে তারা জড়িয়ে যায় হারাম সম্পর্কের মতো ভয়াবহ গুনাহে। আর শয়তানের ওয়াসওয়াসার জন্য এই গুনাহ থেকে দ্বীনি নারী ও পুরুষরাও নিরাপদ নয়। তারাও পরিবারকে বিয়ের জন্য না মানাতে পেরে নিজেরাই এই গুনাহে পতিত হয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বিয়ের কথা-বার্তার নামে তারা নিজেরদের মধ্যে গোপনে যোগাযোগ করে অনেক দূর পর্যন্ত এই অবৈধ সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিবাহ-বহির্ভূত এই প্রেমের সম্পর্কে ঘটে নানান কুরুচিপূর্ণ কার্যাদি। কথাবার্তা তো চলেই, সেই সাথে অনেকে মোবাইল ফোনে নানান অশ্লীল ও গোপন ছবি, ভিডিও আদান-প্রদানও করে থাকে।
এ ছাড়া যখন একজন ব্যক্তি দ্বীনে প্রবেশ করে তখন পরিবার তথা সবচেয়ে আপন মানুষগুলোও পর হয়ে যায়। ছেলে যখন দিনরাত আড্ডাবাজি করে বেড়াত, সিগারেটে ফুঁ দিয়ে জগৎকে নোংরা করত, মেয়ে যখন এবড়ো-খেবড়ো ছেলেমানুষের সাথে বন-বাদারে ঘুরে বেড়াত তখন টু শব্দটুকু নেই। যত সমস্যা বাধল ভালোতে, যত সমস্যা বাধল দ্বীন পালনের সময়! এহেন পরিস্থিতিতে পুরুষেরা দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে শক্ত হতে পারলেও নারীদের আমল ও ঈমানের ওপর অটল থাকতে বেশ বেগ পোহাতে হয়। অনেক পরিবার থেকে চালানো হয় নির্যাতনের স্টিম রোলার। এমন পরিবার থেকে নিজেকে ও নিজের দ্বীনকে হেফাযত করতে অনেক দ্বীনি বোনের জন্য বিবাহই অন্যতম সমাধান হয়ে দাঁড়ায়। ওমেন'স সাইকোলজি সার্ভের কিছু মন্তব্য পড়লে বোঝা যায়, বিয়ে তাদের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
* আমি বাসা থেকে অনেক দূরের এক মেডিকেল হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করি। সেখানে এত এত ফিতনা। সেখানকার পরিবেশ আর ছেলেমেয়েরা এত আপডেটেড যে, তাদের অবস্থা দেখে হতবাক হয়ে যাই। রাতে একবার দরকারে বেরিয়েছিলাম, সন্ধ্যা না হতেই এত কাপলের ছড়াছড়ি, এত খুল্লাম খুল্লাভাবে তারা প্রেম করছে, চক্ষুলজ্জা না থাকলে মানুষ কত নীচে নেমে যায় তাদের দেখে বুঝেছি। ঢাবির কার্জনে গিয়ে আরেকদিন স্তব্ধ হয়ে যাই। এত অশালীন সেখানকার মানুষজনের অবস্থা। এক দাড়িওয়ালা ভাইকে দেখলাম এক বোনের নিকাব টেনে চুমু খেতে। দ্বীনের লেবাস পড়া ভাইবোনের এই অবস্থা হলে বেদ্বীনিদের কী অবস্থা হতে পারে! হোস্টেলে আমার রুমের ২৪ জনের মধ্যে ১৮ জনের বয়ফ্রেন্ড আছে, রুমে অনেক সময় অশালীন আলাপ হয়। আরও কতশত ফিতনার মধ্যে থেকেছি। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ করোনার উসিলায় বাসায় ফেরার তৌফিক দিলেন। বাসায় এসেও শান্তি নেই। পরিবারে ন্যূনতম সালাতেরও অভ্যাস নেই। পর্দা করতে গেলে অনেক কথা শুনতে হয়। মাকে ইনবাতের ওনলি সিস্টার্স কোর্সের আনিকা তুবা আপুর দারসও শুনিয়েছিলাম। কিছুদিন ঠিক ছিলেন, পরে আবার যেই সেই। বাসায় গাইরে মাহরামের সামনে পর্দা করে গেলে, তাদের দিকে না তাকালে, কথা না বলতে চাইলে মা অনেক রাগ করেন আর অনেক কথা শুনান আমাকে। আলহামদুলিল্লাহ, বাসায় থেকে দা'ওয়াহ দেয়ার চেষ্টা করেছি, কখনো ঝিমিয়েও গিয়েছি হতাশ হয়ে। আল্লাহ আমার পরিবারকে হিদায়ত দান করুক। সারাদিন গান-বাজনা, বেদ্বীনি পরিবেশে থেকে নিজের দ্বীনদারিও অনেকটা খুইয়েছি। বাসায় বসে ইলম অর্জন করতে পারি না, কোনো মাদরাসা বা ইসলামিক কোর্সে ভর্তির ক্ষেত্রে তেমন সহায়তা নেই, দ্বীনি বোনের সাথে ফোনে কথা বলতে পারি না। তাদের কাছে আমি খারাপ হয়ে গিয়েছি। আমার মনোবল, দ্বীনদারি সবকিছু এখন তলানিতে। এখন ইচ্ছা করে ফিতনাময় হোস্টেলে দ্বীনি বোনদের সোহবতে নিজের ঈমানি ধার বাড়াতে, দ্বীনের পথে এগিয়ে যেতে। একটা সঙ্গী চাই, যে সত্যিকার অর্থেই আমার অর্ধেক দ্বীন পূর্ণ করবে। এত এত ফিতনা থেকে আমাকে রক্ষা করবে। ইসলামের হুকুম-আহকাম পালনে আমি ঢিলেমি দেখালে কড়াভাবে আমাকে শাসন করবে শিক্ষকের মতো। যার অনেক গাইরত থাকবে আমাকে নিয়ে। যার মাধ্যমে দুনিয়াতে নেককার সন্তান রেখে যেতে পারব, আল্লাহর রাস্তায় নিজেকে, তাকে ও সন্তানদেরকে উৎসর্গ করতে পারব।
* আমার পরিবার বেদ্বীন, আমাকে অত্যাচার করে। দ্বীন পালন করা আমার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নামাজ বেশি সময় নিয়ে পড়লেও কথা শুনায়। মূলত দ্বীন সুন্দরভাবে পালনের জন্য বিয়ে প্রয়োজন।
* পরিবারের ওপর আর বোঝা হয়ে থাকতে চাই না। দ্বীন ভালোভাবে পালন করতে চাই।
* আমার পরিবার আমার পর্দার ব্যাপারে উদাসীন। আমার মনে হয়, বিয়ে হলে একজন গাইরতবিশিষ্ট দ্বীনি জীবনসঙ্গী পেলে আরও ভালোমতো পর্দা করতে পারব।
এ রকমই আরও অনেক মন্তব্যে ব্যথিত হতে হয়েছে আমাদেরকে। আমরা চাই পুরুষেরাও বুঝুক দ্বীনি বোনদের কথা, তাদের সংগ্রামের আর ত্যাগ-তিতিক্ষার কথা。