📄 পুরুষ-নারীর মানসিক পার্থক্য
আল্লাহ পুরুষ ও নারীকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের ওপর ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্বও আরোপ করেছেন। নারী-পুরুষের মধ্যে আল্লাহ সৃষ্টিগতভাবেই কিছু পার্থক্য রেখেছেন। শারীরিক পার্থক্য তো আমরা স্পষ্টতই দেখতে পাই, কিন্তু মানসিকতার পার্থক্য আমরা ততটা বুঝতে পারি না। নারীবাদিতার জাগরণ থেকেই এই মতবাদ ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছিল যে, নারী-পুরুষের মানসিক কোনো পার্থক্য নেই। তাদের পরিবেশ তথা পুরুষতান্ত্রিক সমাজই তাদের এই পার্থক্যকরণের জন্য দায়ী। কিন্তু এসকল প্রোপাগান্ডাকে ছাপিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাতে আমরা দেখতে পাই যে, নারী-পুরুষের মানসিকতার পার্থক্যে জৈবিক কারণ বিদ্যমান। যেমন: মানুষের মস্তিষ্কের বাম এবং ডান গোলার্ধ যারা ভিন্ন ভিন্ন কাজ করে থাকে। বাম পাশ আমাদের যুক্তি-নির্ভর কাজের দায়িত্বে রয়েছে আর ডান পাশ কল্পনা ও সৃজনশীলতার দায়িত্বে। সাধারণত মানুষ মস্তিষ্কের যেকোনো একটা পাশকেই বেশি ব্যবহার করে থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, পুরুষেরা নারীদের তুলনায় মস্তিষ্কের যেকোনো একটি গোলার্ধে অধিক সমন্বয় করতে পারে, তাই তাদেরকে বেশি একক লক্ষ্যমুখী হতে দেখা যায়। অপরদিকে নারীরা উভয় গোলার্ধেই পুরুষের চেয়ে বেশি সমন্বয় করতে পারে। তাই দেখা যায় যে, নারীরা বিভিন্নমুখী কাজ একসাথে চালিয়ে যেতে পারে।
দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রথম ধাপই হলো স্বীকৃতি। অর্থাৎ, স্বীকার করা যে আমি যেমন বুঝি, ভাবি এবং আচরণ করি তা সবার ভাবনা ও আচরণের মতো হবে না। বিশেষ করে নারীদের অভ্যন্তরীণ যে জগৎ রয়েছে সেটাকে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। যদিও জৈবিক কারণে নারীদের বৈশিষ্ট্যগত কিছু মিল আছে, কিন্তু মানুষভেদে প্রতিটি নারীই অনন্য।
আল্লাহ নারী ও পুরুষ সৃষ্টি করেছেন। দুইয়ের মাঝে শারীরিক দিক থেকে যেমন পার্থক্য রয়েছে তেমনি মানসিক দিক থেকেও রয়েছে ভিন্নতা। কিন্তু আমাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য হলো যে, আমরা সকলকে নিজেদের আতশ কাচে যাচাই করতে পছন্দ করি।
তাই আমরা বিপরীত লিঙ্গের সীমাবদ্ধতাগুলোতে মাঝে মাঝে মেনে নিতে পারি না; অথচ এখানে তাদের কোনো দোষ থাকে না, যেহেতু আল্লাহই তাদের এভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই পুরুষ ও নারীর মানসিক পার্থক্য আমাদের জেনে রাখা দরকার।
গঠনগত দিক থেকে নারী-পুরুষের অনেক পার্থক্য রয়েছে। এসব পার্থক্য আমরা স্বচক্ষে দেখতে পারি। কিন্তু মানসিক পার্থক্যগুলো আমাদের অনুধাবনের বিষয়। একটা মানুষের সাথে অনেক দিন চলাফেরা করার পর তার মানসিকতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে, তবে শতভাগ জেনে যাওয়া কখনোই সম্ভব হয় না। বিপরীত লিঙ্গের একজন মানুষের সাথে ঘর বাঁধার আগেই মানসিকতার মিল খোঁজাটা অনেক জরুরি। এরপর সংসার শুরু করলে একে অপরকে বোঝা, তার মানসিকতা কেমন তা অনুধাবন করা এসব খুব প্রয়োজনীয়। কিন্তু আমাদের সমাজে এই দিকটাতে অতটা গুরুত্ব দেয়া হয় না। এটাও সংসার ভাঙনের অন্যতম কারণ।
বলা হয়, পুরুষেরা তাদের বীজ ছড়িয়ে দিতে পৃথিবীতে এসেছে-এটাই তার জীবনের লক্ষ্য। কিন্তু নারীরা এমন একজন সঙ্গীর সন্ধান করতে থাকে, যে তার সন্তানদের রক্ষা করবে, পরিবারের দেখভাল করবে, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবে ইত্যাদি। রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জৈব নৃবিজ্ঞানী হেলেন ফিশার বলেন, পুরুষদের মস্তিষ্কের দুটি অংশ একটি অপরটির সাথে ততটা উত্তমভাবে যুক্ত নয়। এই গঠন-প্রকৃতির কারণে পুরুষেরা সবকিছু বাদ দিয়ে কেবল একটি বিষয়বস্তুর প্রতি মনোনিবেশ করতে পারে। অর্থাৎ, পুরুষদের মস্তিষ্কের এরূপ গঠন তাকে অত্যন্ত লক্ষ্যমুখী ক্ষমতা দেয়। আর এ ক্ষেত্রে পুরুষদের অন্যতম লক্ষ্য থাকে যৌন মিলন। অন্যদিকে নারীদের মস্তিষ্কের গঠন পুরুষদের বিপরীত। নারীরা একই সাথে অনেকগুলো অনুভূতি একীভূত করতে সক্ষম। অর্থাৎ তারা সংসার, ভালোবাসা, আবেগ, যৌনতা, সন্তান, নিরাপত্তা, সবকিছুকে একই সাথে ধারণ করতে সক্ষম। পুরুষ আর নারীর এই সাধারণ একটা তারতম্য যদি দম্পতির কাছে অজানা থেকে যায়, তাহলে তা দাম্পত্য জীবনের সুখকে মাটি করতে যথেষ্ট হবে।
স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছ থেকে সুখ পাবে, নানান আবদার করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এতটুকু উভয়েরই বুঝতে হবে যে, অপর লিঙ্গের মানুষটিকে তার স্রষ্টা আপনার থেকে ভিন্নভাবে সৃষ্টি করেছেন। তাই তার বিষয়গুলোকে তার দৃষ্টিকোণ থেকেই বোঝার চেষ্টা করতে হবে, সেই সাথে অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।
📄 নারীর দৃষ্টিতে পুরুষ
নারীদেরকেই আয়নার সামনে বেশি দেখা যায় আর চেহারার বাছ-বিচারটা পুরুষরাই বেশি করে। নারীরাও পুরুষের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দেয়, কিন্তু আন্যান্য পছন্দনীয় গুণ থাকলে তারা সৌন্দর্যকে কম গুরুত্বের সাথে দেখে। যারা নিজেদেরকে তুলনামূলকভাবে বেশি সুন্দর হিসেবে জানে তাদের কাছে সঙ্গীর সৌন্দর্যও অধিক গুরুত্ব পেতে পারে। আবার সমাজে প্রচলিত কথার মধ্যেও সত্যতা পাওয়া গেছে যে, নারীরা তাদের তুলনায় লম্বা পুরুষ পছন্দ করে। আর সাধারণভাবে নারীদের কাছে পুরুষের সামাজিক মর্যাদা ও আয় আকর্ষণীয় বিষয়। আর এই প্রাধান্য দেয়াটা আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্বের বিচারেও ভারসাম্যপূর্ণ।
সামগ্রিকভাবে পুরুষকে দুই শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। এক শ্রেণি হলো আলফা (Alfa), যারা গম্ভীর ও পৌরুষসুলভ দেখতে। অপরটি হলো বেটা (Beta)-যারা সাংসারিক, সাধারণ এবং বিশ্বাসযোগ্য। যদিও সমাজে 'আলফা' পুরুষেরাই প্রাধান্য পায়, কিন্তু নারীরা স্বামীর মধ্যে যেসব পেয়ে সন্তুষ্ট হয় তা 'বেটা'র মধ্যেই বেশি দেখা যায়। আল্লাহর রাসূল এমন এক পুরুষ ছিলেন যার মাঝে উভয় বৈশিষ্টই বিদ্যমান ছিল। কোন গুণগুলো নারীরা স্বামীর মাঝে সবচেয়ে বেশি দেখতে চায়, এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে-রসবোধ, বুদ্ধি, সততা, দয়া, মূল্যবোধ ইত্যাদি।
স্বভাবগতভাবেই একজন নারী চায় যে, তার জীবনসঙ্গী হোক তার অভিভাবক ও রক্ষক। আর এ কারণেই জীবনসঙ্গী বাছাইয়ের সময় নারীরা খোঁজে দায়িত্বশীল পুরুষ। সে এমন পুরুষের সংসর্গ চায়, যে তাকে প্রতিটি বিষয়ে পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেবে। নারীদের প্রতি পুরুষদের চাহিদাটা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শারীরিক হলেও নারীদের চাহিদাটা বহুলাংশে মানসিক। এই একটি বিষয়ের বুঝের অভাব থাকলে সংসারে ফাটল ধরে যেতে পারে অচিরেই।
নিজের অজান্তেই একজন নারী একজন পুরুষের মাঝে নিজের সন্তানের পিতার বৈশিষ্ট্য খোঁজে। আর এ কারণে নারী নিজের ও ভবিষ্যৎ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এমন পুরুষকেই অধিক প্রাধান্য দেয়। তাই বিয়ের ক্ষেত্রে সে পুরুষের আর্থিক অবস্থা দেখতে চায়-যা মোটেও দূষণীয় নয়। অনেকেই এই বিষয়টি নিয়ে ঠাট্টা বা সমালোচনা করে, অথচ একজন নারীর জন্য এমন চাওয়াটা যৌক্তিক। পুরুষেরা যেমন নারীদের মাঝে সৌন্দর্য, দৈহিক গঠন ইত্যাদি দেখে ঠিক, তেমনি একজন নারী একজন পুরুষের আর্থিক অবস্থা, ব্যক্তিত্ব ইত্যাদিকে প্রাধান্য দেয়। তবে আমাদের সমাজে একটি বাজে চর্চা আছে যে, বিয়ের জন্য পাত্রকে কোটিপতি বা অন্তত লাখপতি হতে হবে। এটি অতিরিক্ত ও নিঃসন্দেহে সমাজে ফিতনার কারণ।
📄 নারী রত্নজ্ঞান
স্বাভাবিকভাবেই এই দুনিয়ায় নারীদের বিচরণ পুরুষদের তুলনায় কম। এ কারণেই তাদের কল্পনার জগৎও অত বড় না। প্রথমত, নারীদের চিন্তা-ভাবনা মূলত পরিবারকেন্দ্রিক। এ কারণে নারীদেরকে যেকোনো কঠিন বিষয় ব্যাখ্যা করতে চাইলে পরিবারের উদাহরণ টেনে বোঝানো যেতে পারে। পরিবারের বাইরে গিয়ে বৃহৎ চিন্তাও নারীর মগজে কড়া নাড়তে পারে, তবে সেটা ক্ষণস্থায়ী। উদাহরণস্বরূপ, উম্মাহকে নিয়ে ফিকির তাদেরও রয়েছে; কিন্তু সেটা পুরুষদের মতো দীর্ঘস্থায়ী নয়। যখন নারীরা অনুধাবন করে যে উম্মাহ নিয়ে ভাবা দরকার তখন ভাবে। পরক্ষণেই তার দৃষ্টিকোণ থেকে তুলনামূলক অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে চিন্তা স্থানান্তরিত হয়। তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে।
নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেগের জায়গা থেকে কল্পনা করে বিধায় সব সময় যুক্তিতর্কে যাওয়া তেমন একটা বুদ্ধিমানের কাজ না। আবেগ দিয়ে চিন্তা করলেই যে তা ভুল এমনও নয়। স্ত্রী যেটা আবেগ দিয়ে ভাবে স্বামীরও উচিত স্ত্রীর দৃষ্টিকোণ থেকে তা একবার আবেগ দিয়েই ভেবে দেখে। এরপর যদি ভুল মনে হয়, তাহলে তাকে সুন্দর উপায় বোঝানো যেতে পারে। আবার এটাও মাথায় রাখতে হবে, সব ভুলই যে তাকে শুধরে দিতে হবে এমনও না। যেসব ভুল তার দ্বীনকে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, সেসব ভুলগুলো থাকুক তার মাঝে। এটাই তার সৌন্দর্য।
অতীতের সমুদ্রে গা ভাসাতে ভালোবাসে নারীরা। সে যেমন অতীতের সুখ রোমন্থন করে, তেমনি আবার অতীতের ব্যথার বানে ভাসে। পুরুষেরা অতীতকে সহজেই ভুলতে পারে, কিন্তু নারীদের কাছে তাদের অতীত যেন সব সময়ই চোখের সামনে ভাসতে থাকে। অতীত কিছুটা সুখকর হলে সেই অতীতই তাদের কাছে সুখের মানদণ্ড। তাই বর্তমানের প্রতিটি অবস্থা একজন নারী অতীতের সাথে তুলনা করে।
নারীদের মাঝে আরেকটি বৈশিষ্ট্য লক্ষ করা যায় যে, নারীরা অত্যন্ত দুঃখপ্রেমী। তারা জীবনে দুঃখ পেতে ভালোবাসে। খুব ছোট ছোট কথায় তারা প্রচণ্ড রকমের দুঃখ পেয়ে যায়। পুরুষদের কাছে তা নেহাত অযথা মনে হলেও কিছই করা নেই। নিজের দোষ (!) স্বীকার করে নিয়ে স্ত্রীর দুঃখমোচন করতে হবে।
নারীদের কল্পনার জগতের অল্প কিছু জায়গা জুড়ে আছে যৌনতা। বিপরীত লিঙ্গের মাঝে প্রথমেই তারা ভালোবাসা, প্রেম, রোমান্স ইত্যাদি দেখতে পায়। সেখানে পুরুষেরা সাধারণত বিপরীত লিঙ্গের মাঝে প্রথমেই দেখে যৌনতা। কাজেই স্ত্রীর কল্পনার জগতের রাজকুমার হতে হলে তাকে অনেক ভালোবাসতে হবে, উত্তমভাবে সময় দিতে হবে, আদর-সোহাগ করতে হবে।
প্রতিটি নারীই অনন্য এবং নারীদেরকে বুঝতে কোনো একটি নির্দিষ্ট সূত্র অবলম্বন করা ফলপ্রসূ হবে না। বরঞ্চ চেষ্টাই আমাদের কাজ সহজ করে দিতে পারে। একজন নারীকে বোঝার জন্য আমরা বেশ কিছু পথ অবলম্বন করতে পারি-
* নারীরা এমনটা ভাবতে পছন্দ করে যে, সে আর তাঁর সঙ্গী একই সুতোয় গাঁtha। অর্থাৎ, আপনার স্ত্রী আপনার থেকে এই নিশ্চয়তা চায় যে, আপনি তার সাথেই আছেন। যদিও মাত্র এক দিনের জন্য আপনারা পৃথক থাকলেন, যখন ফিরবেন আপনার উচিত হবে প্রথমেই এটা বোঝানো যে আপনারা দুজন মিলে এক। তা শুধু একটু হাতের স্পর্শও হতে পারে, আবার হতে পারে একটু মিষ্টি কথা কিংবা আরও বেশি কিছু। এভাবেই দাম্পত্য জীবনকে সুন্দরভাবে চালিয়ে নেয়া যায়। তার মানে এই না যে, তাকে সময় দিতে গিয়ে আপনার অন্যান্য প্রয়োজনগুলো বাদ দিয়ে দেবেন। ধরুন, আপনি খুবই ক্লান্ত হয়ে অফিস থেকে ফিরলেন আর আপনার স্ত্রী তখনই আপনার সাথে কোনো বিষয়কথা বলতে চাচ্ছেন। আপনি বলতে পারেন, "তোমাকে দেখে শান্তি লাগছে, সারাদিন তোমাকে মিস করেছি। তোমার কথাটা শুনব, তার আগে আমাকে ২০ মিনিট সময় দাও আমি ফ্রেশ হয়ে নিই।"
* যখন স্ত্রী নিজের কোনো সমস্যার কথা বলতে তড়িঘড়ি করে তখন সাথে সাথেই তার সেই সমস্যার সমাধান দিতে যাবেন না। অনেক সময় সে শুধু আপনাকে বলে হালকা হতে চায়। আপনি বোঝার চেষ্টা করুন সে আসলে কী চাচ্ছে। উচিত হবে তাকে বলা "মনে হচ্ছে তোমার মন খারাপ, আমাকে বলো বিষয়টা, আমি শুনছি আর যদি কোনো পরামর্শ চাও সেটাও বলতে পারো।"
◇ আপনার স্ত্রী যদি অন্তরঙ্গ হওয়ার মেজাজে না থাকে আপনি আপনার আচরণ দিয়ে বোঝান যে, আপনি তার অনুভূতিকে সম্মান করেন। আপনার নিজের কোনো দোষ বা কাজের কারণে তার এই মেজাজ, এমনিটি ভাববেন না। এর পেছনে অন্যান্য কারণ থাকতে পারে সেটা বিবেচনায় রাখতে হবে।
♦ আপনার স্ত্রীর কাজ এবং স্ট্রেসকে বিবেচনা করুন। সে অনেক রকম দায়িত্ব একসাথে পালন করছে। আপনি তার সাথে আলোচনা করুন এবং স্ট্রেস ম্যানেজ করার বিষয়ে কী করা যেতে পারে সেগুলো খুঁজে বের করুন।
♦ আপনার স্ত্রীর দুঃশ্চিন্তা ও ভয়গুলোকে আপনার সাথে শেয়ার করতে উদ্বুদ্ধ করুন। আর তাকে এমনভাবে সমর্থন এবং সম্মান করুন যাতে সে নিজেকে অসহায়-পরনির্ভরশীল মনে না করে। তার আত্মমর্যাদা বৃদ্ধিতে কাজ করুন। যখন সে তার চিন্তা বা ভয়গুলো শেয়ার করবে তখন সেগুলো দূর করতে উঠেপড়ে না লেগে তাকে বোঝান যে আপনি মন দিয়ে শুনছেন।
♦ যোগাযোগ হলো একে অন্যকে বোঝার প্রধান উপায়। কথা বলুন, কথা শুনুন। তাকে তার পরিস্থিতিতে বিবেচনা করে বোঝার চেষ্টা করুন। সেই সাথে নিজের পরিস্থিতিও তাকে বোঝানোর চেষ্টা করুন।
📄 স্ত্রীকে বশ করে রাখার টোটকা!
কোনো সম্পর্কের মিষ্টতা আপনা-আপনি টিকে থাকতে পারে না। এতে দুজন মানুষের একে অপরের প্রতি যত্ন-আত্তির প্রয়োজন রয়েছে। নারীরা জীবনে একজন ভালোবাসার মানুষ চায়। যার সাথে সে সুখ-দুঃখের কথা বলবে ও কষ্টের সময়ে পাশে পাবে। সেই পুরুষের পাঞ্জাবীর বাটনে সে নিজের স্বপ্ন বুনবে। মাঝে মাঝে সেই পুরুষ আলো-আঁধারিতে এসে খোঁপায় একগুচ্ছ বেলিফুল গুঁজে দেবে। নারী চায় তার পুরুষ তাকে নিরাপত্তা দেবে, নিষ্ঠুর এই অন্ধকার পৃথিবীতে তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মশাল হাতে সুপথ দেখাবে। এটাই নারীদের কাছে ভালোবাসার প্রকাশ। নারী চায় তার প্রিয়তম তার ভালোবাসার এই সংজ্ঞাকে নিজের মননে প্রোথিত করে নিক। তাই স্ত্রীকে বশে আনতে সামান্য কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে :
♦ স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করা, তার অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়া, বেশি বেশি কথা বলা, তার প্রশংসা করা, তার আনন্দে আনন্দিত হওয়া ও তার কষ্টে মর্মাহত হওয়া;
♦ নারীরা উপহার পছন্দ করে। তাই স্ত্রী কী ভালোবাসে সেটা জেনে নিয়ে তাকে উপহার দেয়া।
♦ তার কখন কী প্রয়োজন তা খেয়াল রাখা, মাসিক ভিত্তিতে কিছু টাকা হাতে দেয়া যাতে সে তার পছন্দমতো কিছু কিনে নিতে পারে।
♦ তার সামনে নিজেকে আকর্ষণীয় ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
• নারী চায় তার সঙ্গী ধৈর্যশীল হোক, দয়ালু হোক। তাই যথাসময়ে ধৈর্য ধরুন, অন্যের ওপর দয়া করুন যাতে স্ত্রীও আপনার থেকে শিখতে পারে।
• এ ছাড়া স্ত্রীরা স্বামীদেরকে শিক্ষক হিসেবে মেনে নেয়। তাই তাদেরকে সময় পেলেই প্রয়োজনীয় বিষয়াদি শিক্ষা দেয়া।
• সহবাসের পূর্বে ফোরপ্লে করা ও সহবাসের সময় তার সুখের বিষয়ে খেয়াল রাখা।
• সহবাস ব্যতীতও প্রতিনিয়ত আদর, আলিঙ্গন ও চুমু দেয়া।
• তার কল্পনার জগতে নিজেকে অংশীদার করা, তার প্রতিটি কথার মূল্য দেয়া।
• শয়তান চাইবে পরিবার ভাঙার উদ্দেশ্যে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করতে। কারণ, দ্বীন কায়েমের প্রথম ক্ষেত্রই হচ্ছে পরিবার। তাই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয় এমন কোনো কাজ করা যাবে না, যেহেতু এতে শয়তান খুশি হয় এবং আল্লাহ নারাজ হন।
• স্ত্রীর আবেগের প্রাধান্য দিতে হবে। আবার স্ত্রী ভুল করলে তাকে আবেগ দিয়েই বোঝাতে হবে। নারীদেরকে বোঝানোর ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে আবেগ অধিক কার্যকর।
• নারীদের কাছে কর্মের চেয়ে মৌখিক স্বীকারোক্তি অধিক কার্যকর। স্বামী মুখ দিয়ে কিছু ব্যক্ত করলে তা স্ত্রী অনেক গুরুত্ব দেয়। এ কারণেই সব সময় বলা উচিত যে, আপনি আপনার স্ত্রীকে ভালোবাসেন। এতে লজ্জার কিছু নেই। স্ত্রীর রূপের প্রশংসা করতে হবে, তার রান্না, পোশাক, সুগন্ধি, তার সবকিছুর প্রশংসা করুন। মিথ্যা প্রশংসা হলেও করা উচিত। কিন্তু মিথ্যা যাতে সম্পর্ক ভালো রাখার জন্যে বলা হয়।
• সম্পর্কের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো একে অন্যের সাথে কথা বলা। এছাড়া সব সময় সৎ থাকা, সদয় আচরণ ও সুন্দরভাবে কথা বলা একটা সম্পর্ককে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়ে দেয়।
• জীবনে চলার পথে মাঝে মাঝে খারাপ সময় যায়, কখনো বা মতের অমিল হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে খারাপ সময় কাটিয়ে ওঠার এবং মতের অমিলকে শ্রদ্ধার সাথে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা একটা ভালো সম্পর্কের অন্যতম জ্বালানি।
• প্রত্যাহিক জীবনের একঘেয়েমি কাটানোর জন্য নিজেদের পছন্দের কোনো কাজ একসাথে করা, একটু হাসি-মজা করা বা একটু ঘুরে বেড়ানো যেতে পারে।
• আমরা প্রতিনিয়ত নতুন উপকারী জ্ঞান অর্জন করি আবার নিজের ভুল শুধরানোর জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এই বিষয়গুলো একে অন্যের সাথে শেয়ার করা জরুরি। একজন আরেকজনকে ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করে আমরা সম্পর্কের যত্ন নিতে পারি।
• স্ত্রীর মন-মেজাজের গুরুত্ব দিন। প্রশংসাসূচক কথা বলুন।
♦ ভালোবাসা, রোমান্স, অন্তরঙ্গতা সম্পর্কের চালিকা-শক্তি। শুধু ভালো রুমমেট হলে চলবে না। নিজেদের মধ্যে কামনা থাকতে হবে। সেই কামনা বারবার জাগিয়ে তোলার জন্য সচেষ্ট থাকতে হবে।
◆ এমন স্বপ্ন লালন করুন যা দুজনই ধারণ করছে। প্রথমত আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা, তারপর দুজনের জন্যই স্বাস্থ্যকর এমন স্বপ্ন লালন করা জরুরি।
• নিজেদের মধ্যে স্বীকৃতি, আন্তরিকতা ও ক্ষমা করার প্রবণতা থাকতে হবে। সম্পর্ককে এমনভাবে গড়ে তোলা দরকার যাতে নিজেদের মাঝে ঘটে যাওয়া সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলা যায় এবং একে অন্যের ভুল ধরিয়ে দিলে উভয়ের মাঝে তা স্বীকার করার মানসিকতা থাকে। বিপদ, ক্ষতি এগুলো জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এসবের মাঝে টিকে থাকতে এই অস্ত্র ব্যবহার করতে হবে।
• দুজন মিলে নতুন কিছু করা। কোনো দ্বীনি কোর্সে ভর্তি হওয়া, একটা সূরা হিফজ করা, একসাথে তাহাজ্জুদ পড়া এমন অনেক কিছুই আছে যা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সাথে সম্পর্কের গভীরতাও বাড়ানো যায়।
• আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিজের মাইন্ডসেট ঠিক রাখা। শয়তান ওয়াসওয়াসা দেবে এবং আপনাকে বোঝাতে চাইবে যে, আপনি দাম্পত্য জীবনে সুখী নন। সে চায় আপনাদের সুন্দর সম্পর্কে আগুন লাগাতে। কেননা, এটাই শয়তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল। তাই নিজের মাইন্ডসেট ঠিক করতে হবে। আপনি চিন্তা করুন ও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করুন যে, আপনি সুখী। তাহলে শয়তানের ওয়াসওয়াসা সম্পর্কের কোনো ক্ষতিই করতে পারবে না ইন শা আল্লাহ।