📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 নারীদের ডানা

📄 নারীদের ডানা


পুরুষদেরকে নিয়ে নারীদের মনকোঠরে বহুমুখী ভাবনার আনাগোনা উঁকি দেয়। কারও কাছে পুরুষ খুব ভয়ংকর জন্তুর নাম (!) আবার কেউ কেউ একজন সুপুরুষের অপেক্ষায় যুগ কাটিয়ে দেয়। নারীমনের এই প্রতিক্রিয়ার মিশেল আমরা খাঁচাবন্দী করার চেষ্টা করেছি ইনবাত ওমেন্স সাইকোলজি সার্ভে-এর মাধ্যমে। নারীদের মনস্তত্ত্ব পরিপূর্ণভাবে কে বুঝেছে কবে! তবু আমরা চেষ্টা করেছি, পুরুষেরা যাতে যুদ্ধের ময়দানে নামার আগে নারীমন সম্পর্কে অন্তত মোটামোটি একটা ধারণা এখান থেকে পেতে পারে।

জরিপটিতে অংশগ্রহণ করেছেন ৬৫২ জন নারী। তাদেরকে পুরুষ, নানান ধরনের ফিতনা, বিবাহসহ আরও বিভিন্ন বিষয়ে মোট ৩১টি প্রশ্ন করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিবাহিত ৩৬.৩০%, অবিবাহিত ৬০% এবং ৩.৭০% তালাকপ্রাপ্তা বা বিধবা।

বৈবাহিক অবস্থা

* অবিবাহিত
* বিবাহিত
* তালাকপ্রাপ্ত/বিপত্নীক

ইনবাতের জরিপটিতে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ২১-২৫ বছর বয়সী নারী সর্বাধিক।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৪১ থেকে ৬০ বছর ২.০০% ৩৬ থেকে ৪০ বছর ৩.০০% ৩১ থেকে ৩৫ বছর ৮.০০% ২৬ থেকে ৩০ বছর ১৮.০০% ২১ থেকে ২৫ বছর ৪৯.০০% ১৫ থেকে ২০ বছর ২০.০০%

বলা যেতে পারে, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রায় ৭০.২৩% নারী পুরোপুরি দ্বীনের বুঝসম্পন্ন। বাকিরা মোটামুটি দ্বীনদার।

জীবনে সর্বাবস্থায় ইসলামকে প্রাধান্য দেই ৭৪.৮০% গাইরে মাহরামদের সাথে সর্বাবস্থায় নিক্কাবসহ পর্দা করি ৪৮.৯০% নিয়মিত ৫ ওয়াক্ত সালাত আদায়কারী ৮৭.০০%

জরিপটির মাধ্যমে প্রাপ্ত অংশগ্রহণকারীর বাচ্য হুবহু সেভাবেই তুলে ধরা হয়েছে যেভাবে তারা ব্যক্ত করেছেন। অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল যে, তাদের পরিচয় আমাদের কাছে অজানা থাকবে তাই তারা যাতে তাদের মনের কথাগুলো ঠিক সেভাবেই তুলে ধরেন যেভাবে তারা চিন্তা করেন। এটা এ কারণে তাদেরকে বলা হয়েছে যাতে পুরুষদের প্রতি নারীদের মানসিকতাকে পরিপূর্ণভাবে ব্যবচ্ছেদ করা সম্ভব হয়। এমন কিছু মন্তব্য এখানে থাকতে পারে যেগুলো অনেকেরই অপছন্দ হতে পারে। মাথায় রাখতে হবে এর উদ্দেশ্য কেবল এই যে, পুরুষেরা যাতে নারীদের মানসিকতা সম্পর্কে সুষ্ঠু ধারণা পেতে পারে। নারীজাতিকে খাটো করে দেখা কাম্য নয়।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 দ্বীনি পুরুষের প্রতি দ্বীনি নারীর আকর্ষণ

📄 দ্বীনি পুরুষের প্রতি দ্বীনি নারীর আকর্ষণ


অনেকের ধারণা নারীদের হয়তো পুরুষদের প্রতি কোনো আকর্ষণ নেই, যত আকর্ষণ কেবল পুরুষদেরই। অথচ বিপরীত লিঙ্গের প্রতি একে অপরের আকর্ষণ থাকবে এটাই স্বাভাবিক এবং সহজাত। কাজেই পুরুষদের প্রতি সাধারণ আকর্ষণ থাকা নারীদের জন্য চরিত্রহীনতা নয়। দ্বীনের বুঝ নেই এমন নারীর জন্য নিজের মানসিক ও জৈবিক চাহিদা নিবারণের অনেক পন্থা রয়েছে। কিন্তু একজন দ্বীনদার মুহস্বানাত নারী একজন দ্বীনদার স্বামীর সাহচর্য আকাঙ্ক্ষা করে। কেননা, এ ছাড়া তাঁর চাহিদাগুলো পূরণের আর কোনো হালাল মাধ্যম নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দ্বীনদার পুরুষদের নিয়ে চিন্তা তাদের মগজের কোনো এক কোণে অবস্থান করে। বস্তুত পুরুষরা যতটা গভীরভাবে একজন নারীকে নিয়ে গবেষণা করে অধিকাংশ নারীদের ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। তবে পুরুষদের নজর, কথাবার্তা ইত্যাদি অনস্বীকার্যভাবে একজন নারীকে ফিতনায় ফেলতে পারে। আবার এসব আচরণ একজন নারীর মনে পুরুষদের প্রতি ভয় বা ঘৃণা জন্ম নেয়ারও কারণ হতে পারে। ইনবাতের জরিপটিতে আমরা এ বিষয়ে নারীদের কাছে বেশ কিছু প্রশ্ন করেছিলাম। নিম্নে জরিপের প্রশ্ন ও তাদের মন্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে।

* কোনো দ্বীনদার পুরুষ যদি আপনার দিকে দৃষ্টিপাত করে, তাহলে কি আপনার অন্তরে ফিতনা জন্মায়? জন্মালে সেটা কেমন ফিতনা? বিস্তারিত লিখুন। এর উত্তরে প্রায় ৪৫.৮৭% অংশগ্রহণকারী বলেছেন যে, দ্বীনদার পুরুষরা তাদের দিকে দৃষ্টিপাত করলে তাদের অন্তরে ফিতনা জন্মায় না। ৩০.৫৮% নারী বলেছেন যে, এতে তাদের ফিতনা জন্মায়। ২৩.৫৬% নারী দ্বীনদার পুরুষদের দৃষ্টিপাতে বিরক্ত বা লজ্জিত হয় এবং অনেকের মনে এরূপ পুরুষদের প্রতি ঘৃণা ও তাদের দ্বীনদারি নিয়ে সংশয় জন্মায়। নিম্নে তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো :

* এইভাবে কখনোই ভাবিনি। তাই চিন্তা করে করে উত্তর দিতে হচ্ছে। দ্বীনদার কেউ আমার দিকে ভালো দৃষ্টিতে যদি তাকায় আর সেটা যদি আমি দেখি তবে কেমন যেন কলিজা কাঁপে। আমার ভয় লাগে। ওই জায়গা থেকে প্রস্থান করতে ইচ্ছে করে। আর সে ২-৩ বার তাকালে তাকে আর ভালো লাগে না। মনে হয় উনি ওপরে ফিটফাট আর ভিতরে সদরঘাট টাইপের লোক। বস্তুত, যারা ইসলাম পালন করে চলে তাদের অনেক ভালো লাগে। মনে হয়, তারা যদি এইভাবে নিজেকে হেফাযত করে চলে তবে আমি কেন পারব না!
* না, যদি ওই রকম তাকায়, তবে তার প্রতি উল্টা খারাপ ধারণাই জন্মায় যে, সত্যিকার তাকওয়াবান পুরুষ কখনো এভাবে তাকাবে না। তবে কেউ ভুলে দৃষ্টিপাত করলে এবং পরে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা করলে তার প্রতি সুধারণা রাখার চেষ্টা করি। তবে কোনো ছেলে বা দ্বীনদার ছেলে তাকালে মেয়েসুলভ বৈশিষ্ট্যস্বরূপ মনের মধ্যে একটা তৃপ্তি বা ভালোলাগার অনুভূতি মাঝেমধ্যে আসে, যা শয়তানের পক্ষ থেকে ওয়াসওয়াসা বলেই জানি এবং আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজীম পড়ি ও আল্লাহর কাছে তাওবা-ইস্তেগফার করি।
* ফিতনা বলে কি না জানি না! তবে, এ রকম হলে নিজেকে সস্তা মনে হয় খুব! আমরা যারা শরী'আহ মেনে পর্দা করি তারা রাস্তায় কোনো কাজে বের হলে এমন অনেক সময় হয় যে, অনেক গায়রে মাহরাম ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু আমার চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করেন! যার কারণে নিজেকে তখন প্রচণ্ড ঈমানহীন মনে হয়! কিন্তু, আসলে তাকে এভাবে আমার চোখের দিকে ইচ্ছাকৃত তাকিয়ে থাকতে আমিই সুযোগ করে দিই! যার কারণে, দেখা যাবে না এমন কাপড় চোখের ওপর দিয়ে চোখ ঢাকা সর্বোত্তম!

◇ না, তাকালে আমি মনে করি সে দ্বীনদার না।
* এটাকে দ্বীনদারির ক্ষেত্রে একটা ফুটা কলসির মতো মনে হয়।
* জি হয়। তবে ফিতনার চেয়ে ভয় বেশি লাগে। উনাদের দ্বীনদারির দৈন্য অবস্থা বুঝতে পারি!
* খুব খুব বিরক্তি লাগে। বিষয়টা এমন যে, আমি চাই না আমার স্বামী ছাড়া আমার দিকে অন্য কেউ তাকিয়ে থাকুক।
* ফিতনা হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। তবে অনেক সময় তাদের প্রতি মন থেকে ঘৃণা এসে পড়ে, তাদের তো আল্লাহর বিধান মানা উচিত।

◇ জি। এটা কেবল প্রাথমিক ধাক্কার মতো। তাড়াতাড়ি আঊযুবিল্লাহ পড়ে নিই, দৃষ্টি সরিয়ে নিই। আলহামদুলিল্লাহ ঠিক হয়ে যায়।
* আলহামদুলিল্লাহ না। বরং আমার চিন্তা হয়, আল্লাহ না করুক আমার দ্বারা অসচেতনতাবশত অপর ব্যক্তি ফিতনায় পড়লে কী হবে!
* না, দ্বীনদার পুরুষ তাকালে মন খারাপ হয়। মনে হয় হুজুর হয়েও যদি মহিলাদের দিকে তাকায়, তাহলে বদদ্বীনে থাকা পুরুষদের মনের হালত কী?
* জি অবশ্যই ফিতনা হয়। বহু কষ্টে তখন নজরের হেফাযত করতে হয়। আল্লাহ মাফ করুক কখনো কখনো ভুলবশত ব্যর্থ হয়ে যাই। পরক্ষণেই নিজেকে সামলানোর চেষ্টা করি।

◇ সুন্নতী লেবাস ধারণ করেও কেন ওই পুরুষ নারীর দিকে দৃষ্টিপাত করছে! তিনি দ্বীনি ইলম কতটা অন্তরে ধারণ করতে পেরেছে এটা নিয়ে প্রশ্ন জাগে।

◇ জি ফিতনার সৃষ্টি হয়। কোনো দ্বীনদার পুরুষ তাকালে প্রথমত মনে হয়, আমার বোরকা-নিকাব সুন্দরভাবে আছে কি না, আমার চোখ দুটো সুন্দর লাগছে কি না; এ রকমটা। এগুলো বিয়ের আগে মনে হয়েছে, বিয়ের পর এমনটা মনে হয় না।

♦ যদি কুদৃষ্টি দেয়, তাহলে প্রথমে সহানুভূতি হয়। কারণ, সে আল্লাহর দ্বীনকে প্রকৃত অর্থে আঁকড়ে ধরতে পারেনি। আর দ্বিতীয়ত, ঘৃণা হয়। কারণ, এদের জন্যেই মানুষ হুজুরমাত্রই দুশ্চরিত্রের অধিকারী মনে করে।

◇ ফিতনা না, আমি তার জন্য আরও ভয় পাই। দ্বীনদার পুরুষ তাকালে হালকা ভালোলাগার পাশাপাশি বিরক্তও হই। আমাকে বোরকা পরিহিতা দেখে যাতে কারও ফিতনা তৈরি না হয়, সেই চেষ্টা করি।

* কোনো দ্বীনদার পুরুষের কণ্ঠ শুনলে, বা আপনার সাথে কথা বললে কি আপনার মনে ফিতনার সৃষ্টি হয়? হলে সেটা কেমন ফিতনা? বিস্তারিত লিখুন। প্রায় ৪৫.৮৭% অংশগ্রহণকারী বলেছেন যে, দ্বীনদার পুরুষদের কণ্ঠ তাদের জন্য ফিতনার কারণ হয় না। ৩০.৫৮% নারী বলেছেন যে, এতে তাদের ফিতনা জন্মায়। নিম্নে তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো :

* স্রেফ কণ্ঠস্বরের ক্ষেত্রে দ্বীনি হোক বা বেদ্বীন, ফিতনা কখনোই হয় না। আরও কিছু বিষয় এখানে কাজ করে। যেমন : সে কি ক্বওয়াম হওয়ার যোগ্যতা রাখে কি না, আমার আহল থেকে কতটা এগিয়ে, ইলম-আমলে কেমন, নারীদের সম্মান করে কি না, কেমন পর্দা করে নারীদের ব্যাপারে ইত্যাদি। মোটামুটি ভাষায় তার এসব বিষয় ঠিক থাকলে তাহলে কণ্ঠ ফিতনা হিসাবে কাজ করতে পারে।
* এমনিতে হয় না। কিন্তু ইদানীং কিছু ইসলামী ভিডিওতে খুব আকর্ষণীয় করে ভয়েস দেওয়া হয়, তখন শুনতে গেলে মনের ভেতর একটা অপরাধবোধ কাজ করে যে, আমি দ্বীনি কোনো কথা শুনছি নাকি ভাইদের ইচ্ছাকৃত কণ্ঠের কারুকাজ শুনছি! তখন খুব জরুরি ভিডিও হলেও শোনা বাদ দেওয়ার চেষ্টা করি। আরেকটা ট্রেন্ড শুরু হয়েছে বর্তমানে, বাদ্যযন্ত্র ছাড়া ভাইয়েরা রোমান্টিক গান বা নাশিদ করেন। এটা নিঃসন্দেহে ফিতনা মনে হয়। এই রোমান্টিক কথাগুলো তো আমার স্বামী ব্যতীত অন্য কারও মুখে শোনার কথা ছিল না। বাদ্যযন্ত্র নেই তাই হালাল, এমনটি তো নয়। এসব ক্ষেত্রে যেকোনো মেয়ে ফিতনায় পড়ে যেতে পারে।

* কথার পরিধি স্বল্প বা স্বল্প যোগাযোগ হলে সাধারণত হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু একাধিকবার কানে আসতে থাকলে ফিতনা অনুভব হয় না, সেই নিশ্চয়তা দিতে পারব না।
* বিপরীত লিঙ্গের প্রতি পারস্পরিক আকর্ষণ থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। এজন্য আল্লাহ একটা সীমারেখাও টেনে দিয়েছেন। অস্বীকার করবার উপায় নেই যে, ভরাট কণ্ঠের কোনো পুরুষ মাঝে মাঝে আকর্ষণ করে। হয়তো মনে হয়, বাহ সুন্দর কণ্ঠ তো! মাঝে মাঝে কিছু কণ্ঠ বারবার শুনতে ইচ্ছে করে হয়তো –সাধারণত ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে এমনটি ঘটে।
* সরাসরি কথা বললে তো কোনো ফিতনাই তৈরি হয় না আলহামদুলিল্লাহ, তিনি যত বড় বুযুর্গই হন না কেন। তবে পরোক্ষভাবে কণ্ঠ শুনলে কণ্ঠটি ভালো না খারাপ এ রকম একটা জাজমেন্ট তৈরি হয় মনে মনে, এতটুকুই। এর বেশি কোনো অনুভূতি কাজ করে না আলহামদুলিল্লাহ। তবে যতটুকু দেখেছি দ্বীনে প্রবেশের প্রাথমিক পর্যায়ে এবং পারিবারিক ঝামেলায় থাকা বোনদের এই ফিতনাগুলো বেশি কাজ করে।
* উঁচু মাপের যোগ্য আলেম-উস্তাদগণের অনেক লেকচার আছে ইউটিউবে। অনলাইনের অনেক কোর্স এসেছে। এসকল ক্ষেত্রে গায়রে মাহরামের কণ্ঠ শোনা ফিতনার মনে হয় না! তবে, কোনো পুরুষের সাথে সরাসরি অযাচিত ও অপ্রয়োজনীয় সকল কথাই ফিতনার কারণ এবং ফিতনার দরজা বলে মনে করি! এ রকম আলাপন সাধারণ মনে করাই ফিতনার প্রথম ধাপ! এর পরের ধাপগুলোই সরাসরি ফিতনা!
* ফেসবুকে কেউ আপনার পোস্টে নিয়মিত লাইক-রিয়েক্ট করলে, কমেন্ট করলে, দ্বীনি বা দুনিয়াবি উদ্দেশ্যে ম্যাসেজিং করলে আপনার অন্তরে কি ফিতনা অনুভূত হয়? হলে সেটা কেমন তা বিস্তারিত লিখুন।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রায় ৩০% বলেছেন যে, দ্বীনদার কোনো পুরুষ এমনটি করলে তাদের অন্তরে ফিতনা হয়। ১৮% নারী বলেছেন যে, এতে তাদের কোনো ফিতনা হয় না। ১৬.১৫% নারী বিষয়টিকে বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর বলে মত দিয়েছেন। বাকি নারীরা অনলাইনে শক্তভাবে পর্দা মেনে চলেন তাই এ বিষয়ে কোনো অভিজ্ঞতা নেই বলে জানিয়েছেন। তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হচ্ছে:

◇ ফিতনার অনুভূতি হয়, তবে আগের মতো না। এখন তেমন ফিতনা না হলেও মাঝে মাঝে মনে হয় আরেকবার এমন কিছু পোস্ট করি যাতে লোকটা কিছু একটা রিয়েক্ট দেয় বা কিছু হলেও কমেন্ট করে। আগে তো ফেসবুকে কোনো কিছু পাবলিক পোস্ট করলে বারবার ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করতাম বা মেসেঞ্জার দেখতাম কোনো ছেলে রিয়েক্ট দিয়েছে কি না বা কেউ ভুল ধরিয়ে দিয়েছে কি না বা কেউ কোনো কমেন্ট করেছে কি না। ঘণ্টার পর ঘণ্টাও কেটে যেত মাঝে মাঝে ছেলেদের নোটিফিকেশনের অপেক্ষায়। তবে এখন এমন হয় না, আলহামদুলিল্লাহ। তাও মাঝে মাঝে এমন ইচ্ছে প্রকাশ পায়, কিন্তু নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করি।

◆ গাইরে মাহরামদের সাথে ম্যাসেজিং হয় না। তবে বহু আগে হতো। হ্যাঁ, তখন তাদের রিয়েক্ট, কমেন্ট, ম্যাসেজে অসম্ভব রকমের ফিতনা অনুভূত হতো। যেমন মনে হতো সে আমার প্রতি ইম্প্রেসড। আর এভাবে চলতে থাকলে এক সময় তার প্রতি দুর্বলতা অনুভব করতাম।

◇ তখন বারবার চেক করা হয় সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তি লাইক-কমেন্ট করল কি না, বা সে নিজের টাইমলাইনে কী পোস্ট করল। আর ম্যাসেজ আদান-প্রদান হলে নিজেকে নিয়ন্ত্রণের প্রবল চেষ্টা থাকে, যা শেষ পর্যন্ত সত্যি কোনো কাজের হয় না; শয়তান ধোঁকা দিয়েই দেয়।
* দ্বীনি উদ্দেশ্যে ম্যাসেজ করলেও তাকে আমার একটুও ভালো লাগে না। ক্যারেক্টারলেস মনে হয়, ছ্যাঁচড়া লোক মনে হয়। আমার আইডিতে কেবল বোনেরা আছেন। কিছু সুপরিচিত দ্বীনি পুরুষ আগে অ্যাড ছিল। লাইক দিলে ফিতনা অনুভব করতাম, তাই সবাইকে আনফ্রেন্ড করে দিয়েছি।
* ফিতনা অনুভব হতো ১৭-২১ বছর বয়স পর্যন্ত। এখন এগুলো গায়ে লাগে না। কেউ দাড়ি রেখেও এভাবে ফেসবুকে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলে তাকে ফালতু মনে হয়। 'স্বামী' পদের জন্য অনুপযুক্ত মনে হয় এসব দ্বীনি ভাইদেরকে।

◆ আলহামদুলিল্লাহ, আমার ফেইসবুক আইডিতে কেবল বোনদেরকে রেখেছি ফিতনা থেকে বাঁচতে। আগে এক-দুজন লাইক-কমেন্ট করত এবং ম্যাসেজ দিত, যেটা আমার পছন্দ হতো না। তবে মনে হতো, সে হয়তো আমাকে পছন্দ করে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাই এসব ফিতনা থেকে।
* বিরক্ত হই, সহ্য হয় না। আর যদি ডিরেক্ট ম্যাসেজ করে তো ব্লক করে দিই। ফিতনা আসলে তাদেরকে নিয়েই হয়, যারা এইসব কাজ করে না। অন্যদিকে যারা আমার আইডিতে এসে লাইক কমেন্ট করে তাদের দ্বীনদারির ব্যাপারে সুধারণা নেই আমার।

◆ সাধারণত এইসব ক্ষেত্রে ফিতনা অনুভূত হয় না, তার ব্যাপারে খারাপ ধারণা সৃষ্টি হয়। তবে যদি সেই দ্বীনদার পুরুষটি আমার পরিচিত ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন কেউ হয়, সে ক্ষেত্রে ফিতনা অনুভব হতে পারে।

♦ জি হয়। মনে হয় আমি উনার কাছে স্পেশাল এজন্য উনি আমার প্রোফাইল স্টকিং করে। নিজেকে উনার সামনে আরও ভালোভাবে তুলে ধরতে ইচ্ছা করে, আস্তাগফিরুল্লাহ।
* লাইক কমেন্ট এ রকম কেউ করে না যেহেতু মেয়েদেরই রেখেছি আমার লিস্টে। তবে আগে এক সময় দ্বীনি উদ্দেশ্যে একজনের সাথে ম্যাসেজে কথা হতো, তখন তার কথাগুলো ভালো লাগলে ফিতনায় পড়ে যেতাম।

◇ আগে হতো, মনে হতো সেও হয়তো আমাকে মনে মনে পছন্দ করে। তবে এখন তেমন ফিতনা হয় না; যাদের প্রতি আমি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা করি, তাদেরকে ফেসবুকে আনফ্রেন্ড বা রেস্ট্রিক্টেড করে রেখেছি।
* ঘন ঘন কোনো দ্বীনদার ভাই যোগাযোগ রক্ষা করলে তখন এটাই মনে হবে যে, সে বিয়ে করতে ইচ্ছুক! এবং একটা সময় তার প্রতি অনুভূতিও তৈরি হয়ে যাবে যা পরবর্তী সময় ফিতনা তৈরি করতে সক্ষম!
* মোটেও হয় না কোনো ফিতনা, কারণ আলহামদুলিল্লাহ আমার জানামতে কোনো পুরুষ ফেসবুকে আমার পোস্ট দেখতে পায় না। যারা পায় তারা আমার পরিবারের আপনজন, তাও মাহরাম বেশির ভাগ।

◇ লাইক-কমেন্ট বা দ্বীনি উদ্দেশ্যে ম্যাসেজিং করার কোনো অপশনই রাখিনি। তারপরেও কোনো গাইরে মাহরাম ম্যাসেজ করলে সরাসরি ব্লক করি। ফিতনা অনুভব হওয়া পর্যন্ত যেতেই দিই না।
* ফেসবুকে গাইরে মাহরামদের ফ্রেন্ড বানানো হয় না। ম্যাসেজিং-এ প্রয়োজনের বাইরে কথা বলা হয় না। তাও এ রকম ক্ষেত্রে কৌতূহল হয়, ব্যক্তি সম্পর্কে জানার ব্যাপারে।

♦ লাইক, কমেন্ট করলে ততটা ফিতনার সৃষ্টি হয় না, কিন্তু ম্যাসেজিং-এ হুটহাট দশজনের মধ্যে একজনের রিপ্লাই দিয়ে ফেললে মনে শয়তান ওয়াসওয়াসা দেয়!
* না। আগে হয়তো হতো, কিন্তু এখন বিরক্ত হই। নোংরামি মনে হয়। সাথে সাথে শিফট-ডিলিট করি এদেরকে।

◇ নিশ্চয় ফিতনার আশঙ্কা করি আর বিরক্তি অনুভব করি। কারণ, আপাতদৃষ্টিতে দ্বীনি কারও থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়।

◇ সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে কোনো পুরুষ যদি নিজের ছবি আপলোড করে সেটা কি আপনার জন্য ফিতনার কারণ হয়?

প্রায় ৫২% নারী বলেছেন যে, কোনো পুরুষ নিজের ছবি সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে আপলোড করলে তাদের অন্তরে কোনো ফিতনা হয় না। তবে অধিকাংশ নারী বিষয়টিকে বিরক্তিকর বা অস্বস্তিকর বলে মত দিয়েছেন। ৪৭% নারী বলেছেন যে, এতে তাদের নজর হেফাযতে সমস্যা হয় এবং কিছু কিছু ক্ষেত্রে ফিতনাও হয়। নিম্নে তাদের কিছু মন্তব্য তুলে ধরা হলো:

◇ জি, আমার চোখের পর্দা নষ্ট হয়। মেয়েরা করলে যেমন পুরুষেরা বলে যে, তাদের চোখের পর্দা নষ্ট হয়, ঠিক তেমনই। দ্বীনদার পুরুষেরা কেন ছবি দেয় বুঝি না... আমি শুধু আমার চোখ দিয়ে আমার স্বামীকেই দেখব, অথচ পরপুরুষদেকে না চাইতেও দেখতে হয়। অনেক দুঃখজনক। অনেক আলেম আর স্কলারগণ ছবি আপলোড দেয়। এই জন্য তাঁদের দেখাদেখি একে জায়েয মনে করে হয়তো সাধারণ দ্বীনি ভাইয়েরাও অনলাইনে ছবি দেয়।

◇ অবশ্যই হতে পারে। আমি এমন অনেক পুরুষদের দেখি যারা বিভিন্ন গ্রুপে নারীদের পর্দার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে সচেতনতামূলক কথা বলে। অবশ্যই এটা ভালো একটা দিক। কিন্তু দেখা যায় তাদের বেশির ভাগই নিজেদের ছবি প্রোফাইলে দিয়ে রেখেছে। এটা তো অনেকের বা আমার ফেতনার কারণ হতেই পারে, তাই নয় কি? আর এমনিতেও আমি যতদূর জানি অপ্রয়োজনে ছবি তোলা নিষিদ্ধ। তাহলে তারা এত সচেতন হয়েও অপ্রয়োজনে কেন ছবি তোলে? তবে কি তাদের নিজেদের পর্দা সম্পর্কে সচেতন না হলেও চলবে? ফেসবুকে ফ্রেন্ড সাজেশানে এলেও ছবি কিন্তু স্পষ্টই দেখা যায়। আমাদের তো আগে নিজেদের সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত, তাই নয় কি? অবশ্যই নারীদের পর্দা অনেক গুরুত্বপূর্ণ, সাথে আমি মনে করি পুরুষদেরটাও জরুরি।

◇ হায়, আমার দ্বীনি ভাইয়েরা ভুলেই গেছেন পুরুষের সাথে মেয়েদেরও চোখের পর্দার নির্দেশ আছে কুরআনে। এই ফিতনাটা এখন অন্য সকল পুরুষঘটিত ফিতনার চেয়ে প্রবল বলে আমার কাছে মনে হয়। অন্য ফিতনা পাশ কাটাতে পারি আলহামদুলিল্লাহ। তবে অনর্থক ছবি খালি চোখে ভাসে, এ কী যন্ত্রণা!

♦ অবশ্যই এটা ফিতনা। দেখা যায় কোনো কোনো দ্বীনি ভাই ভালো লিখেন বলে ফলো করি। তিনি হুট করে ছবি আপলোড করলেন, এতে খুব রাগও হয়। এসব দেওয়া তো প্রয়োজন মনে করি না।

♦ আমি না চাইলেও নিজের অজান্তেই অনেক সময় চোখ চলে যায়। আর তা আমার গুনাহের পাল্লা ভারী করার জন্য যথেষ্ট। আমি চাই দৃষ্টি হেফাযত করতে, কিন্তু মাঝে মাঝে এই ছবিগুলো আমার গুনাহের পথ সুগম করে দেয়।

♦ জি হয়! বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ভাইয়েরা অযথা ছবি আপলোড করে করে টাইমলাইন ভরিয়ে রাখেন! পর্দা করা ছবি যেমন ভাইদের জন্য ফিতনা; দাড়ি-টুপিওয়ালা এসব ভাইদের ছবিগুলোও বোনদের জন্য ফিতনা।

♦ খুব কম। আমি না তাকালেই হলো। চেষ্টা করি দৃষ্টির হেফাযত করতে। বারেবারে চোখের সামনে আসতে থাকলে সে ক্ষেত্রে অবশ্য কিছুটা সমস্যা। কিন্তু তবুও আমার দায়িত্ব দৃষ্টি নত করা।

♦ হ্যাঁ, সেটা কিছু ক্ষেত্রে ফিতনার কারণ! ছবির কারণে দৃষ্টি হেফাযত কষ্টের হয়ে যায়, এই দৃষ্টির হেফাযতের ব্যাপারে নবী সাবধান করেছেন তাঁর স্ত্রীদের। অকারণে কেনই-বা একজন তার ছবি পোস্ট করবেন! কারণ, কারও ছবি দ্বীনের কাজে আসার কথা না! এটা নিতান্তই অযাচিত কাজ।

♦ আসলেই, এই ফিতনা থেকে বড় ফিতনার শুরু। মেয়েদের ছবি আপলোড দেওয়াটা দোষের যেহেতু, ভাইদেরও এই ব্যাপারে সজাগ থাকা উচিত। তার দ্বারা কোনো বোনের ফিতনা না হোক—এমনটাই কামনা করা উচিত। বিশেষ করে যারা লেখালেখি করেন, যাদের থেকে কিছু শেখা যায়...

♦ না। টাইমলাইন কন্ট্রোল করে রাখার ট্রাই করি। শায়খদের লেকচারের ভিডিও ছাড়া অন্য কোনো দ্বীনদার পুরুষের ছবি তেমন আসে না। এলে ফিতনা হয় না, আমি এককথায় চরম বিরক্ত হই। সাথে সাথে ফেস-এরিয়া ঢেকে স্ক্রল করে চলে যাই।

♦ অন্য রকম চিন্তাভাবনা বা কল্পনা না এলেও চেহারাটা মাথায় ঘুরতে থাকে, বারবার চোখের সামনে আসে। বিরক্ত লাগে যে, কেন তিনি দ্বীনের বুঝ থাকা সত্ত্বেও ছবি দিলেন!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00