📄 লজ্জাস্থানের হিফাযত
রাসূলুল্লাহ বলেন,
مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ
যে ব্যক্তি আমার কাছে এই অঙ্গীকার করবে যে, সে তার দুই চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (জিহ্বা) এবং তার দুপায়ের মধ্যস্থিত বস্তুর (গোপনাঙ্গ) জিম্মাদার হবে; আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হব। [২৬]
দুনিয়াতে যত ফিতনা, ফাসাদ ও অপকর্ম সংঘটিত হয় তার অধিকাংশই হয়ে থাকে জিহ্বা ও লজ্জাস্থানের মাধ্যমে। এ দুটোকে যে সংযত করবে, রাসূলুল্লাহ তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দিয়েছেন। ভিন্ন হাদীসে রাসূলুল্লাহ বলেছেন, "তোমরা আমার জন্য ছয়টি জিনিসের দায়িত্ব নিলে আমি তোমাদের জান্নাতের দায়িত্ব নেব। যখন কথা বলবে, সত্য বলবে। যখন প্রতিশ্রুতি দেবে তা পূরণ করবে, আর যখন তোমার নিকট আমানত রাখা হবে, তা রক্ষা করবে। আর তোমরা তোমাদের লজ্জাস্থানের হেফাযত করবে, তোমাদের চক্ষুকে অবনত করবে এবং তোমরা তোমাদের হাতকে (অশ্লীল কাজ হতে) বিরত রাখবে।”[২৭]
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ سُبِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الْجَنَّةَ فَقَالَ تَقْوَى اللهِ وَحُسْنُ الْخُلُقِ وَسُبِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ فَقَالَ الْفَمُ وَالْفَرْجُ
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, তোমরা কি জানো কোন বস্তু মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করায়? তা হচ্ছে, আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া এবং উত্তম চরিত্র। তোমরা কি জানো মানুষকে কোন বস্তু সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করায়? একটি মুখ ও অপরটি লজ্জাস্থান। [২৮]
এই হাদীসে আদর্শ পুরুষের চারটি গুণ তুলে ধরা হয়েছে: (১) তাকওয়া বা আল্লাহভীতি; (২) উত্তম চরিত্র; (৩) জবান নিয়ন্ত্রণ; (৪) লজ্জাস্থানের হেফাযত।
কেউ যদি নিজের মাঝে এই চারটি গুণ গড়ে তুলতে পারে, তাহলে আল্লাহর ইচ্ছায় সে আদর্শ মানুষ হয়ে গড়ে উঠবে। তার দ্বারা দেশ ও সমাজ উপকৃত হবে। আবাল বৃদ্ধবনিতা সকলে উত্তম চরিত্রের অধিকারী হলে এবং সবাই তাকওয়ার গুণে গুণান্বিত হলে তাদের দ্বারা অন্যরা নির্যাতিত হবে না। সবাই শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করবে। আর এই মানুষগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য হবে জান্নাত ইন শা আল্লাহ। অপরদিকে এই চারের অনুপস্থিতি এই পৃথিবীকেই জাহান্নামে পরিণত করতে সক্ষম, যা আমরা ইতিমধ্যে অনুভব করতে পারছি।
টিকাঃ
[২৬] সহীহ বুখারী- ৬৪৭৪
[২৭] মুসনাদে আহমাদ- ২২৭৫৭
[২৮] সুনানে তিরমিযী- ২১৩৫; মিশকাত- ৪৬২১
📄 পুরুষদের সতর
পুরুষের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন সতর হচ্ছে, নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত। স্ত্রী ব্যতীত বাকি সকলের সামনে এতটুকু ঢেকে রাখা পুরুষদের জন্য ফরয। এর মানে এই নয় যে, বাকি অংশ ইচ্ছাকৃতভাবে উন্মুক্ত রাখা যাবে। সেগুলোও ঢেকে রাখা জরুরি। এ ছাড়া খালি গায়ে থাকার কারণেও অনেক সময় নাভির নিম্নের স্থান প্রকাশ পেয়ে যেতে পারে, যা কারও দৃষ্টিতে পড়লে কবিরা গুনাহ হবে।
বিশেষ করে সালাতের ক্ষেত্রে যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো কারণ ব্যতীত তার নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রেখেও বাকি অঙ্গ তথা পেট, পিঠ ইত্যাদি উন্মুক্ত রাখে তাহলে এটি মাকরুহে তাহরীমী হবে। [২৯]
আর সালাতের মধ্যে বাধ্যতামূলক ঢেকে রাখার অঙ্গ তথা নাভি থেকে হাঁটুর এক-চতুর্থাংশ বা এর অধিক ইচ্ছাকৃত খোলামাত্রই নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃত এক-চতুর্থাংশ পরিমাণ খুলে যায়, সে ক্ষেত্রে তিন তাসবিহ পরিমাণ সময় খোলা থাকলে সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। [৩০]
উল্লেখ্য, যতটুকু সতর উন্মুক্ত রাখা পুরুষদের জন্য হারাম তা যদি অন্য কোনো পুরুষ উন্মুক্ত রেখে দেয় সেদিকে তাকানোও হারাম। এমনকি অন্য কোনো পুরুষের পোশাকের ওপর দিয়েও গোপনাঙ্গের দিকে তাকানো হারাম। আল্লাহর রাসূল বলেন, لَا يَنْظُرُ الرَّجُلُ إِلَى عَوْرَةِ الرَّجُلِ
কোনো পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। [৩১]
এর সাথে প্রাসঙ্গিক, বিভিন্ন খেলাধুলার জন্য বিশেষায়িত পোশাক পুরুষদের সতর ঢাকতে পারে না। এতে খেলোয়ারদের নারী-পুরুষ যারাই এসব দেখছে সকলেরই কবিরা গুনাহ হচ্ছে। এ ছাড়াও খেলা দেখা অনর্থক ও নাজায়েয কাজ।
টিকাঃ
[২৯] রদ্দুল মুহতার- ১/৩৭৯; তাবঈনুল হাক্বায়েক- ১/৯৭
[৩০] ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/১০৬
[৩১] সহীহ মুসলিম-৭৯৪