📄 পায়খানা
পুরুষ ও নারীর মূত্রনালির গঠনের মাঝে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, পায়খানার রাস্তায় সে রকম কোনো ভিন্নতা নেই। এ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় যে বিষয়গুলো সকলের জেনে রাখা উচিত:
• মলত্যাগের সময় লো প্যান (নিচু কমোড) ব্যবহার করা উচিত। এটি অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। কেননা লো প্যান টয়লেটে যেভাবে হাঁটু উঁচু করে বসা হয় এভাবে বসলে পায়ুনালি সোজা হয়ে থাকে। তাই খুব সহজেই মল বের হয়ে আসতে পারে। উঁচু কমোডে বসলে পায়ুনালিটি সোজা থাকে না।
• হাই কমোডে সামনের দিকে ঝুঁকে, পেছনে হেলান দিয়ে অথবা সোজা হয়ে যেভাবেই বসা হোক না কেন, সব ক্ষেত্রে পায়খানার নালির অবস্থান একই রকম থাকে। এজন্যে কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত রোগীর যথাসম্ভব হাই কমোড এড়িয়ে চলা উচিত।
• তবে হাঁটু বা কোমরে সমস্যা থাকলে ভিন্ন কথা, সে ক্ষেত্রে উঁচু কমোড ব্যবহার করা যেতে পারে।
• অবশ্যই মলত্যাগের পর ভালো করে পায়ুপথ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ভালোমতো পরিষ্কার না রাখার কারণে অনেকেই রক্তক্ষরণ বা অর্শ, গেজ, ফিস্টুলা, ক্যান্সারের মতো পায়ুজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন।
• ধৌত করার সময় সাবান পরিহার করা উচিত, কেননা তা উক্ত স্থানের ত্বকের স্বাভাবিক প্রকৃতি পরিবর্তন করে ফেলে।
• মলমূত্র ত্যাগের পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। অন্যথায় বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
📄 অধিক মযী নিঃসরণ
মযী হচ্ছে বীর্যপাতের পূর্বে নিঃসৃত হওয়া এক ধরনের তরল পদার্থ। এটি স্বচ্ছ, বীর্যের মতো সাদা রঙের নয়। এতে শুক্রাণু থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণত থাকে না। এটি বের হলে উত্তেজনা কমে না, বরং বেড়ে যায়; অপরদিকে বীর্য বের হলে উত্তেজনা কমে যায়। এই তরল পদার্থটির কাজ হচ্ছে, এটি শুক্রাণুর আগমনের পথকে সুগম করে। মযী নিঃসরণের ব্যাপারটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। স্ত্রীর সাথে চুম্বন বা স্পর্শের কারণে অথবা অনুচিতভাবে অশ্লীল কিছু দেখা বা চিন্তা করার কারণে মযী বের হয়ে থাকে। কিন্তু এসব ব্যতীতও যদি প্রতিনিয়ত মযী বের হয় তবে সেটি অস্বাভাবিক। খুব বেশি পরিমাণে যখন-তখন মযী বের হলে সে ব্যক্তিকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (urologist/skin- venerologist)-এর কাছ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য প্রদানসহ পরামর্শ নেয়া উচিত।
📄 অবাঞ্ছিত লোম
এটিও একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। পুরুষ বা নারী যখন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায় তখন বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণের কারণে এই পরিবর্তন হয়ে থাকে। বালেগ অবস্থা নির্ণয় করা হয় এই লোমের মাধ্যমে। বগলে ও গোপনাঙ্গের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ রাখা জরুরি-
♦ দেহের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে কেমিকেল-জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা উচিত;
♦ রেজার ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে নেওয়া জরুরি;
♦ হেয়ার রিমুভাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এরপর অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের কালচে ভাব ও শুষ্ক ভাব দূর করতে সহায়ক;
♦ অধিক দিন না কাটার ফলে প্রস্রাব এবং ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই দ্রুত এগুলো কেটে ফেলাই উত্তম।