📄 প্রস্রাব
পুরুষদের প্রস্রাবের রাস্তার গঠন ও পদ্ধতি নারীদের তুলনায় অনেকটাই ভিন্ন। পুরুষদের প্রস্রাবের নালি হয় আঁকা-বাঁকা। এই নালিতে মোট ৩টি বাঁক রয়েছে। প্রস্রাব এই বাঁকগুলো অতিক্রম করে দেহ থেকে বের হয়ে আসে। এই গঠনের কারণে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা পুরুষদের দেখা দেয়। এ ছাড়া পুরুষদের প্রস্রাবজনিত আরও কিছু মেডিকেল বিষয় রয়েছে যা আমাদের জেনে রাখা জরুরি:
♦ একজন পুরুষের উচিত নিজের বিষয়ে যথার্থ জ্ঞান রাখা। তার জানতে হবে যে, তার প্রস্রাব কতক্ষণ সময় নিয়ে সম্পন্ন হয়, নিজের ক্ষেত্রে কীভাবে সর্বোচ্চ পবিত্রতা নিশ্চিত করা যায়, কোন কোন সময় এবং কী কী কারণে প্রসাবের নালি দিয়ে প্রসাব বের হয়ে আসে ইত্যাদি। এসব প্রশ্নের উত্তর বের করতে পারলে প্রস্রাবজনিত অনেকগুলো সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে আশা করা যায়।
• স্বাভাবিক নিয়মে প্রস্রাব করার পর যখন ব্যক্তির মনে হবে যে, তার প্রস্রাব সম্পন্ন হয়েছে তখন সে পানি দিয়ে নিজেকে পবিত্র করে নেবে। পুরুষের প্রস্রাবের নালি যেহেতু কিছুটা বাঁকানো, তাই এ ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করলে কিছু মূত্র ভেতরে অবশিষ্ট থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে যা পরবর্তী সময় হাঁটা-চলা বা সালাতের রুকু-সাজদার সময় পেটে চাপ পড়ার কারণে বের হয়ে আসতে পারে। তাই মূত্রত্যাগের সময় ধৈর্য ধরে সময় নেয়া উচিত। কিন্তু এর মানে দীর্ঘক্ষণ ধরে টয়লেটে বসে থাকতে হবে, জোর-জবরদস্তি করে বা অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করে সবকিছু বের করে ফেলতে হবে এমনটি নয়। এভাবে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
• পুরুষদের মূত্রনালিতে দুইটি বন্ধনী (sphincter) রয়েছে। একটি অভ্যন্তরীণ (Entarnal), অপরটি বাহ্যিক (Extarnal)। ভেতরেরটা আমাদের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, কিন্তু বাইরেরটা আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। এ কারণেই পুরুষদের অনেকেই খুব সহজেই প্রস্রাব চেপে রাখতে পারেন। তবে বিনা প্রয়োজনে এমনটি করা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
• মলমূত্র-জনিত নাপাকী থেকে যেই পদ্ধতিতে পবিত্রতা অর্জন করতে হয়, সেভাবেই আমরা পবিত্রতা অর্জন করব। এর চেয়ে বাড়াবাড়ি করতে যাব না। কেননা, এসব পরবর্তীকালে Obsessive-compulsive disorder (OCD) নামক মানসিক রোগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
* ফ্রিকোয়েন্সি আর্জেন্সি : (১) প্রস্রাব করার পরও আরও প্রস্রাব হবে মনে হওয়া, (২) প্রস্রাব হওয়ার সময় ব্যথা হওয়া, (৩) প্রস্রাব সম্পন্ন হওয়ার পরও ফোঁটা ফোঁটা বের হওয়া এবং এটি প্রায় প্রতিনিয়ত হওয়া, (৪) ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া। উপর্যুক্ত উপসর্গগুলোর ক্ষেত্রে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে।
📄 পায়খানা
পুরুষ ও নারীর মূত্রনালির গঠনের মাঝে যেমন ভিন্নতা রয়েছে, পায়খানার রাস্তায় সে রকম কোনো ভিন্নতা নেই। এ ক্ষেত্রে মলত্যাগের সময় যে বিষয়গুলো সকলের জেনে রাখা উচিত:
• মলত্যাগের সময় লো প্যান (নিচু কমোড) ব্যবহার করা উচিত। এটি অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। কেননা লো প্যান টয়লেটে যেভাবে হাঁটু উঁচু করে বসা হয় এভাবে বসলে পায়ুনালি সোজা হয়ে থাকে। তাই খুব সহজেই মল বের হয়ে আসতে পারে। উঁচু কমোডে বসলে পায়ুনালিটি সোজা থাকে না।
• হাই কমোডে সামনের দিকে ঝুঁকে, পেছনে হেলান দিয়ে অথবা সোজা হয়ে যেভাবেই বসা হোক না কেন, সব ক্ষেত্রে পায়খানার নালির অবস্থান একই রকম থাকে। এজন্যে কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত রোগীর যথাসম্ভব হাই কমোড এড়িয়ে চলা উচিত।
• তবে হাঁটু বা কোমরে সমস্যা থাকলে ভিন্ন কথা, সে ক্ষেত্রে উঁচু কমোড ব্যবহার করা যেতে পারে।
• অবশ্যই মলত্যাগের পর ভালো করে পায়ুপথ পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। ভালোমতো পরিষ্কার না রাখার কারণে অনেকেই রক্তক্ষরণ বা অর্শ, গেজ, ফিস্টুলা, ক্যান্সারের মতো পায়ুজনিত বিভিন্ন রোগে ভোগেন।
• ধৌত করার সময় সাবান পরিহার করা উচিত, কেননা তা উক্ত স্থানের ত্বকের স্বাভাবিক প্রকৃতি পরিবর্তন করে ফেলে।
• মলমূত্র ত্যাগের পর ভালো করে হাত ধুয়ে নিতে হবে। অন্যথায় বিভিন্ন রোগের সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
📄 অধিক মযী নিঃসরণ
মযী হচ্ছে বীর্যপাতের পূর্বে নিঃসৃত হওয়া এক ধরনের তরল পদার্থ। এটি স্বচ্ছ, বীর্যের মতো সাদা রঙের নয়। এতে শুক্রাণু থাকতে পারে, কিন্তু সাধারণত থাকে না। এটি বের হলে উত্তেজনা কমে না, বরং বেড়ে যায়; অপরদিকে বীর্য বের হলে উত্তেজনা কমে যায়। এই তরল পদার্থটির কাজ হচ্ছে, এটি শুক্রাণুর আগমনের পথকে সুগম করে। মযী নিঃসরণের ব্যাপারটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়ে থাকে। স্ত্রীর সাথে চুম্বন বা স্পর্শের কারণে অথবা অনুচিতভাবে অশ্লীল কিছু দেখা বা চিন্তা করার কারণে মযী বের হয়ে থাকে। কিন্তু এসব ব্যতীতও যদি প্রতিনিয়ত মযী বের হয় তবে সেটি অস্বাভাবিক। খুব বেশি পরিমাণে যখন-তখন মযী বের হলে সে ব্যক্তিকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার (urologist/skin- venerologist)-এর কাছ থেকে সম্পূর্ণ তথ্য প্রদানসহ পরামর্শ নেয়া উচিত।
📄 অবাঞ্ছিত লোম
এটিও একটি সাধারণ শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। পুরুষ বা নারী যখন বয়ঃসন্ধিকালে পৌঁছায় তখন বিভিন্ন হরমোন নিঃসরণের কারণে এই পরিবর্তন হয়ে থাকে। বালেগ অবস্থা নির্ণয় করা হয় এই লোমের মাধ্যমে। বগলে ও গোপনাঙ্গের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় লক্ষ রাখা জরুরি-
♦ দেহের অবাঞ্ছিত লোমকর্তনের ক্ষেত্রে কেমিকেল-জাতীয় দ্রব্য পরিহার করা উচিত;
♦ রেজার ব্যবহার করলে তা ব্যবহারের পূর্বে জীবাণুনাশক পদার্থ দিয়ে ধুয়ে নেওয়া জরুরি;
♦ হেয়ার রিমুভাল ব্যবহারের ক্ষেত্রে এরপর অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি ত্বকের কালচে ভাব ও শুষ্ক ভাব দূর করতে সহায়ক;
♦ অধিক দিন না কাটার ফলে প্রস্রাব এবং ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে, তাই দ্রুত এগুলো কেটে ফেলাই উত্তম।