📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ

📄 রোজা অবস্থায় স্বপ্নদোষ


সিয়ামরত অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে স্বাভাবিকভাবে রোজা ভাঙে না। [৪৯] তবে এ ক্ষেত্রে সাথে সাথে পানি দিয়ে ধুয়ে তা ফেলতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব গোসল করে ফেলতে হবে। গোসলে দেরি করা অনুচিত।

তবে কেউ যদি জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটায় অর্থাৎ হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বা কোনো কিছুর সাথে ঘষা দিয়ে বীর্য স্খলন করে, তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে [৫০] এবং তাকে এর কাযাও আদায় করতে হবে। তবে যদি বীর্যপাত না হয়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। উল্লেখ্য যে, রোজা রাখা বা রোজা না-রাখা উভয় অবস্থাতেই হস্তমৈথুন ইসলামী শরী'আতের দৃষ্টিতে একটি নাজায়েয ও অত্যন্ত গর্হিত কাজ। তাই এ বদভ্যাস থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য। এই গর্হিত কাজের কারণে আল্লাহর কাছে তাওবা করতে হবে। [৫১]

উল্লেখ্য যে, যদি কেউ গোপনাঙ্গ স্পর্শ বা কোনো বস্তুর সাথে ঘষা ছাড়া অনিচ্ছাকৃতভাবে কেবল কামভাবের সাথে স্ত্রীর কথা চিন্তা করে বা স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বীর্যপাত ঘটায়, তাহলে রোজা ভাঙবে না। কিন্তু রোজাদার রোজার ফজিলত ও বরকত থেকে বঞ্চিত হবে।

قَالَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ إِنْ نَظَرَ فَأَمْنَى يُتِمُّ صَوْمَهُ عَنْ عَمْرِو بْنِ هَرِمٍ ، قَالَ : سُبِلَ جَابِرُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ رَجُلٍ نَظَرَ إِلَى امْرَأَتِهِ فِي رَمَضَانَ فَأَمْنَى مِنْ شَهْوَتِهَا، هَلْ يُفْطِرُ؟ قَالَ: لَا ، وَيُتِمَّ صَوْمَهُ)

হজরত জাবের ইবনে যায়েদ -কে জিজ্ঞাসা করা হলো, কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর দিকে কামভাবের সঙ্গে তাকিয়েছে, ফলে তার বীর্যপাত ঘটেছে। তার রোজা কি ভেঙে গেছে? তিনি বললেন, না। সে রোজা পূর্ণ করবে। [৫২]

টিকাঃ
[৪৯] সুনানে কুবরা বায়হাকি- ৪/২৬৪
[৫০] আল বাহরুর রায়েক- ১/৪৭৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২০৫
[৫১] আলমুহীতুল বুরহানী- ৩/৩৫০; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ- ২/৩৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/২০৫; আল বাহরুর রায়েক- ১/৪৭৫; ফতোয়ায়ে শামী- ১/১৪২; ফতোয়ায়ে দারুল উলুম- ৬/৪১৭
[৫২] সহীহ বুখারী- ১/২৫৮, হাদীস- ১৯২৮ এর অধীনে ইমাম বুখারী এএ এই হাদীসটি তা'লীক হিসেবে এনেছেন; ফাতহুল বারী- ৪/১৭৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ৬/২৫৯, হাদীস- ১৪৮০

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 দৈহিক মিলনের পর ফরয গোসল

📄 দৈহিক মিলনের পর ফরয গোসল


দৈহিক মিলনের ক্ষেত্রে পুরুষাঙ্গ স্ত্রীর যৌনাঙ্গে প্রবেশের দ্বারা উভয়ের ওপর গোসল ফরয হয়ে যায়। এতে বীর্যপাত হোক কিংবা না হোক।[৫৩]

أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِذَا جَلَسَ بَيْنَ شُعَبِهَا الْأَرْبَعِ ثُمَّ جَهَدَهَا، فَقَدْ وَجَبَ عَلَيْهِ الْغُسْلُ وَفِي حَدِيثِ مَطَرٍ وَإِنْ لَّمْ يُنْزِلْ

আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, “যখন কেউ তার স্ত্রীর চার হাত-পায়ের মাঝে উপনীত হবে এবং তার সাথে মিলিত হবে তখন তাঁর ওপর গোসল ফরয হয়ে যাবে।” মাত্বার এর হাদীসে “যদিও বীর্য নির্গত না করে” বাক্যটি অতিরিক্ত রয়েছে। [৫৪]

টিকাঃ
[৫৩] সহীহ বুখারি- ২৯১, সহীহ মুসলিম- ৩৪৩
[৫৪] সহীহ মুসলিম- ৩৪৮

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 চুমু কিংবা স্পর্শের কারণে কামরস নির্গত হওয়া

📄 চুমু কিংবা স্পর্শের কারণে কামরস নির্গত হওয়া


সামান্য চুমু খাওয়ার পর বা একে অপরকে স্পর্শ করার পর যদি পুরুষের সজোরে বীর্য নিক্ষেপ হয়ে যায়, তাহলে তার গোসল ফরয হবে; কিন্তু এতে স্ত্রীর গোসল ফরয হবে না। আর যদি উক্ত কারণে মযী (المذي) তথা হালকা পানি বা কামরস বের হয়, তাহলে ওই অংশ ধৌত করার পর ওযু করে নিলেই যথেষ্ট হবে। [৫৫]

عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ : هُوَ الْمَنِيُّ وَالْمَذْيُّ وَالْوَدْيُّ فَأَمَّا الْمَذْيُّ وَالْوَدْيُّ فَإِنَّهُ يَغْسِلُ ذَكَرَهُ وَ يَتَوَضَّأُ وَأَمَّا الْمَنِيُّ، فَفِيهِ الْغُسْلُ ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, "মনী, মযী, ওদী; এর মাঝে মযী এবং ওদী (মযী : পুরুষদের হালকা পানি, ওদী : নারীদের স্রাব) বের হলে গোপনাঙ্গ ধুয়ে ওযু করে নিতে হবে। আর মনী (পুরুষদের বীর্য) বের হলে গোসল করতে হবে.' [৫৬]

১ মনী, মযী ও ওদী-এর মাঝে পার্থক্য

মনী গাঢ় সাদা পানি। এটি পুরুষাঙ্গ থেকে সবেগে সুখানুভূতির সাথে বের হয়। এটি বের হওয়ার পর মানুষ যৌন নিস্তেজতা অনুভব করে। এটিই পুরুষের বীর্য যা থেকে সন্তান হয়। কেউ বীর্যপাত করলে তার ওপর গোসল ফরয হয়, সেটা সংগমের কারণে হোক কিংবা স্বপ্নদোষ বা অন্যান্য কারণে।

মযী মযী হচ্ছে আঠালো ও পিচ্ছিল ঘন পানি। এটি পুরুষাঙ্গ থেকে উত্তেজনাবশত বের হয়ে আসে। তবে এটি সবেগে বের হয় না এবং এটি বের হওয়ার পর নিস্তেজতা আসে না। এটি যে স্থানে লাগে সেই স্থানটি ধৌত করে নিতে হয়। এটি নির্গত হলে গোসল ফরয হয় না, তবে ওযু ভেঙে যায়।

ওদী পুরুষদের ক্ষেত্রে ওদী হচ্ছে, গাঢ় সাদা রঙের পানি যা দেখতে বীর্যের মতো। এটি প্রস্রাব-পায়খানার চাপ বা উত্তেজনার কারণে প্রস্রাবের সাথে পুরুষাঙ্গ থেকে বের হয়। তবে এতে সুখানুভূতি হয় না। এটি অপবিত্র। এটা বের হলে ওযু করতে হয়। গোসল ফরয হয় না।

টিকাঃ
[৫৫] আল হিদায়াহ- ১/৩২; সহীহ বুখারী- ২৬৯; সহীহ মুসলিম- ৩৪৩; আস সুনানুল কুবরা- ১/২৮২, হাদীস- ৪১১; সুনান নাসায়ী- ১/২৩, হাদীস- ১৯৩; ত্বহাবী শরীফ- ২৫৯
[৫৬] ত্বহাবী শরীফ- ২৫৯

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 জানাবাত অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ ও তিলাওয়াত করা

📄 জানাবাত অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ ও তিলাওয়াত করা


গোসল ফরয অবস্থায় কুরআনের মুসহাফ স্পর্শ করা যাবে না-এ ব্যাপারে চার মাযহাবের সকলেই একমত। তবে ওযু ব্যতীত, জুনুবী তথা গোসল ফরয অবস্থায় কোনো আলগা কাপড় বা রুমাল দিয়ে ধরা যাবে। গিলাফ মুড়ানো কুরআন স্পর্শ করা যাবে না, যেহেতু সেটা আলগা কাপড় নয়। [৫৭] আল্লাহ বলেন,

لَا يَمَسُّهُ إِلَّا الْمُطَهَّرُوْنَ )

“পবিত্ররা ব্যতীত কেউই এই কুরআন স্পর্শ করবে না।” [৫৮] ইমাম নববী ও ইমাম তাইমিয়া থেকে বর্ণিত আছে যে, পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন স্পর্শ করা নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ে মতামত দিয়েছেন হযরত আলী, সা'দ বিন আবি ওয়াক্কাস, সালমান, আবদুল্লাহ ইবনে উমার সহ প্রমুখ সাহাবী এবং অন্য সাহাবীদের থেকে এর বিপরীত কোনো অভিমত নেই। [৫৯]

অনুরূপভাবে এ বিষয়ে রয়েছে একাধিক বিশুদ্ধ হাদীস। যেমন-

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ حَزْمٍ أَنَّ فِي الْكِتَابِ الَّذِي كَتَبَهُ رَسُولُ اللهِ ﷺ لِعَمْرِو بْنِ حَزْمٍ أَنْ لَا يَمَسَّ الْقُرْآنَ إِلَّا طَاهِرُ

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আবু বকর বিন হাযম বলেন, রাসূল ﷺ আমর বিন হাযমের কাছে এই মর্মে চিঠি লিখেছিলেন—“পবিত্র হওয়া ছাড়া কুরআন কেউ স্পর্শ করবে না”। [৬০]

عن عبد الله بن عمر أن رسول الله ﷺ قال: لا يمس القرآن إلا طاهر হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত। রাসূল ইরশাদ করেছেন, "পবিত্র ব্যক্তি ছাড়া কেউ কুরআন স্পর্শ করবে না।” [৬১]

দ্বিতীয়ত, জানাবাত অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত ও তার পূর্ণ কোনো আয়াত লেখা কোনোটিই জায়েয নেই। হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমার থেকে বর্ণিত, রাসূল ﷺ ইরশাদ করেছেন,

لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئا من القرآن ঋতুমতী মহিলা এবং গোসল ফরয হওয়া ব্যক্তি কুরআন পড়বে না। [৬২]

عن إبراهيم قال: الحائض والجنب يذكر ان الله ويسميان [৬৩] ইবরাহীম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,“হায়েয এবং গোসল ফরয হওয়া ব্যক্তি আল্লাহর যিকির করতে পারবে, এবং 'বিসমিল্লাহ' তথা তাঁর নাম নিতে পারবে। তবে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম' বা 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজি'উন', তিন কুল, সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসি ইত্যাদি বা কুরআনের অন্যান্য বাক্যাংশ যা সাধারণত দু'আ হিসেবে পঠিত হয় কেবল সেই আয়াতগুলোই যিকিরস্বরূপ (আল্লাহর স্মরণে) পড়তে পারবে।

আর একান্ত প্রয়োজনে কুরআনের আয়াত লিখতে হলে আয়াতের লিখিত অংশে হাত না লাগিয়ে লেখা যেতে পারে। [৬৪]

টিকাঃ
[৫৭] আদ্দুররুল মুখতার- ১/৩২০; ত্বাহত্ববী- ১৪৩-১৪৪; আলমুহীতুল বুরহানী- ১/৪০২; রদ্দুল মুহতার- ১/২৯৩; আল বাহরুর রায়েক- ১/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া- ১/৩৯; আল বিনায়াহ, আইনী-১/৬৪৯; বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী- ১/৩৩-৩৪; ফাতহুল কাদীর, কামাল ইবনুল হুমام- ১/১৬৮: আশ শারহুল কাবীর, দারদীর (হাশিয়াতুদ দাসুকী সহ)- ১/১৩৮; বিদায়াতুল মুজতাহিদ- ১/৭৩: আয যাখীরাহ করাফী- ১/২৯৩; আল মাজমূ'- ২/১৫৬; আল হাউই আল কাবীর, মাওয়ারদি- ১/১৪৩; আল মুগনী- ১/১০৮; আল ইনসাফ, মারদাউই- ১/২২৩
[৫৮] সূরা ওয়াকিয়াহ- ৭৯
[৫৯] শরহুল মুহাজ্জাব- ২/৮০; মাজমুউল ফাতাওয়া- ২১/২৬৬
[৬০] মুয়াত্তা মালিক- ৬৮০; কানযুল উম্মাল- ২৮৩০; মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার- ২০৯; আল মুজামুল কাবীর- ১৩২১৭; আল মুজামুস সাগীর- ১১৬২; সুনানে দারেমী- ২২৬৬
[৬১] মাজমাউয যাওয়ায়েদ- ৫১২
[৬২] সুনানে তিরমিযী- ১৩১; সুনানে দারেমী- ৯৯১; মুসনাদুর রাবী- ১১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১০৯০; মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক- ৩৮২৩; আল ইলাল, ইবনে আবী হাতিম- ১/৪৯
[৬৩] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ১৩০৫; সুনানে দারেমী- ৯৮৯
[৬৪] ফাতহুল কাদীর, ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00