📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 প্রকৃতির ডাক

📄 প্রকৃতির ডাক


কেন আমরা বলি ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা? ইসলামকে ধর্ম বললে ইসলামের মূল নির্যাস পাওয়া যাবে না। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কেননা একদম জন্মের শুরু থেকে মৃত্যুর শেষ, দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ, ওয়াশরুম ব্যবহার থেকে শুরু করে রাজ্য পরিচালনা, দুশমনকে ভালোবাসা থেকে শুরু করে তার টুটি পা দিয়ে পিষ্ট করা; জীবনের প্রতিটি পদে পদে পার্ফেক্ট-গাইডলাইন রয়েছে এই জীবনব্যবস্থায়। সালমান ফারসী-কে ইহুদিরা ঠাট্টার ছলে প্রশ্ন করল, তোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! জবাবে সালমান বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, আমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি, ইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি এবং গোবর বা হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি." [১৪]

তাই আমাদের গর্ব হওয়া উচিত আমরা এমন একজন নবী পেয়েছি যিনি আমাদেরকে ছোট থেকে ছোট বিষয় সম্পর্কেও শিক্ষা দিয়েছেন।

৩ সুন্নাহ ও আদবসমূহ : إِذَا ذَهَبَ الْمَذْهَبَ أَبْعَدَ

নবী জরুরত সারার উদ্দেশ্যে দূরে চলে যেতেন, যেন তাঁকে কেউ দেখতে না পায়।[১৫]

তাই সুন্নাহ হচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে পর্দা করে বসা।

• প্রস্রাব-পায়খানার জন্য আওরাহ যতটুকু উন্মুক্ত করা প্রয়োজন ততটুকুই করবে।[১৬]

• কিবলামুখী হয়ে বসা যাবে না, কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসা যাবে না।[১৭]

• ডান হাতে শৌচকার্য করা যাবে না। লজ্জাস্থান ধরার একান্ত প্রয়োজন হলে বাম হাত দিয়ে ধরবে। [১৮]

• তিনটি অথবা জোড়সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে গোবর বা হাড্ডি- জাতীয় কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর রাসূল বলেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ، فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَابِطَ ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَلَا يَسْتَدْبِرْهَا، وَلَا يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ وَكَانَ يَأْمُرُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، وَيَنْهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرَّمَّةِ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে আমি দ্বীন শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে কিবলামুখী হয়ে বসবে না এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না, আর ডান হাতে শৌচ করবে না। তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা শৌচ করতে নিষেধ করতেন। [১৯]

• ঘরের বাইরে অবস্থানকালে রাস্তাঘাটের যেখানে-সেখানে, কবরস্থানে অথবা দুর্গন্ধ সৃষ্টির কারণে মানুষের কষ্ট হবে এমন স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ না করা। প্রস্রাব-পায়খানার স্থলকে আরবীতে বলা হয় “বায়তুল খালা”। কুরআনে ও হাদিসে একে “গায়িতুন” বলা হয়েছে। এর অর্থ : দূরবর্তী, নরম ও নিম্নভূমি। অর্থাৎ, মল-মূত্র ত্যাগের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী ও নিম্নভূমির কোনো স্থানে চলে যাওয়া উত্তম। [২০]

• টয়লেটে প্রবেশের দু'আ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন যেন সেখানে বসবাসরত জ্বীন শয়তান থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। [২১]

দু'আটি হচ্ছে :

بِسْمِ اللهِ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَابِثِ

আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানের অনিষ্ট তথা ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই [২২]

> প্রস্রাব-পায়খানার স্থানে এদিক-সেদিক তাকানো অনুচিত। ফক্বিহগণ এটিকে মাকরুহ বলেছেন।

> অনেকে এ অবস্থায় লজ্জাস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকে, অথচ হাদীসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি মাকরুহ। সাহাবাগণ এটিকে অপছন্দ করতেন।

> ইস্তিঞ্জার জন্যে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করে ডান পা দিয়ে বের হবে। [২৩]

> ইস্তিঞ্জাখানায় যখন বসবে তখন বাম পায়ের ওপর ভর দিয়ে প্রথমে বসবে। [২৪]

> ইস্তিঞ্জার সময় মাথা ঢেকে রাখা। এটি সুন্নাহ ও মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত। [২৫]

> সাপ, পিঁপড়া, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণীর গর্তে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না।[২৬]

> ছায়াদার কোনো স্থানে, যেখানে মানুষ বিশ্রাম করে সেখানে এবং ফলদার বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। [২৭]

> যেই স্থানে মানুষ সমবেত হয় এবং গল্পগুজব করে সেখানেও প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। [২৮]

> প্রস্রাব-পায়খানার সময় ওজর না থাকলে কথা বলা মাকরুহ। অনেকে এই সময় চিল্লাচিল্লি করে, এমনকি গানও গায়। এসব পরিহার করা উচিত।

> চন্দ্র ও সূর্যের দিকে মুখ করেও প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না।

> প্রস্রাব-পায়খানার অবস্থায় যিকির-আযকার, কুরআন তিলাওয়াত, কোনো ফেরেশতার নাম, নবীর নাম ইত্যাদি নেওয়া যাবে না। এর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। [২৯]

> স্থির পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। এটি মাকরুহে তাহরীমী। এমন কাজকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। [৩০]

> প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা মাকরুহে তানযীহী। [৩১]

> শরঈ কোনো ওযর ব্যতীত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরুহে তাহরীমী। [৩২]

> প্রস্রাব-পায়খানা শেষে দু'আ রয়েছে :

غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي

হে আল্লাহ, আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি ক্ষতি ও কষ্টকর জিনিস থেকে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন। [৩৩]

টিকাঃ
[১৪] সহীহ মুসলিম- ২৬২; জামে তিরমিযী- ১৬; সুনানে আবু দাউদ- ৭; সুনানে নাসায়ী- ৪৯; মুসনাদে আহমাদ- ২৩৭১৯
[১৫] সুনান আবু দাউদ- ১, ২
[১৬] সহীহ মুসলিম- ৫১৭
[১৭] সহীহ বুখারী- ৩৮০
[১৮] মুসনাদে আহমাদ- ২৬৩২৬
[১৯] সুনানে আবু দাউদ- ৭, ৮
[২০] সুনানে তিরমিযী- ২০; সহিহ মুসলিম- ৩৯৭, ৩২৮
[২১] সহীহ বুখারী- ১৪৯
[২২] সহীহ বুখারী- ৪২; সহীহ মুসলিম- ৩৭৫; ফাতহুল বারী- ১/২৪৪০
[২৩] সুনানে নাসায়ী- ১১১; মুসনাদে আহমাদ- ২৬,৩২৬
[২৪] সুনানে কুবরা- ৪৬৬; মাজমা'উয যাওয়ায়েদ- ১০২০
[২৫] সুনানে কুবরা- ৪৬৪
[২৬] আবু দাউদ- ২৭; শারহুল সুন্নাহ- ১/৫৬
[২৭] মুসলিম- ৩৯৭; আবু দাউদ- ২৪; আল ফিকহুল ইসলামী- ১/৩১০
[২৮] মুসলিম- ৩৯৭; আল ফিকহুল ইসলামী- ১/৩০৮, ৩০৯; আবু দাউদ- ২৪
[২৯] সহীহ মুসলিম- ৫৬৫
[৩০] সহীহ মুসলিম- ৪২৩; শারহুন নববী- ১/৪৫৪
[৩১] সহীহ মুসলিম- ৪২৫; বাহরুর রায়েক- ১/৩০১
[৩২] সুনানে তিরমিযী- ১২; মুসনাদে আহমাদ- ১৯৫৫৫
[৩৩] সুনানে আবু দাউদ- ৩০; সুনানে তিরমিযী- ০৭; ইবনে মাজাহ- ৩০০, ৩২০; আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলা; নাসায়ী- ১২০০৩

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 ইস্তিবরা কী?

📄 ইস্তিবরা কী?


ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত,

مَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَابِطٍ مِنْ حِيطَانِ مَكَّةَ أَوِ الْمَدِينَةِ سَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذِّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ ، ثُمَّ قَالَ : بَلَى ، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي ... بِالنَّمِيمَةِ

রাসূলুল্লাহ মদীনার অথবা মক্কার এক বাগান অতিক্রম করলেন। তখন তিনি দুই ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদের কবরে আযাব চলছিল। রাসূলুল্লাহ বললেন, তাদেরকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (এমন) বড় কোনো কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না (যা থেকে বাঁচা খুব কঠিন)। এরপর বললেন, হ্যাঁ (তবে বড় গুনাহও বটে)। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে 'ইস্তিবরা' করত না, আরেকজন পরনিন্দা করত। [৩৪]

হাদীসটি কয়েকটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে- يستبرئ -এর স্থলে সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় يستتر এবং অন্য বর্ণনায় يستنزه শব্দ এসেছে। ইমাম নববী, হাফেয বদরুদ্দীন আইনী , হাফেয ইবনে হাজার সহ প্রমুখ এই শব্দ তিনটি সম্পর্কে বলেন, يستبرئ শব্দটি সহীহ বুখারী ও হাদীসের অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। এ সব বর্ণনাই সঠিক।[৩৫] 'ইস্তিবরা' এর অর্থ হলো স্বাভাবিক প্রস্রাব বের হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করা। ইবনুল আসীর, ইমামুল লুগাহ ইবনে মানযূর সহ প্রমুখ এভাবেই ইস্তিবরা-এর অর্থ করেছেন। [৩৬]

ইবনে বাত্তাল সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে (لا يستبرئ )একজন প্রস্রাব থেকে ইস্তিবরা করত না) এর ব্যাখ্যায় বলেন,

لا يستفرغ البول جهده بعد فراغه منه، فيخرج منه بعد وضوءه، فيصلي غير مطهر তাদের একজন প্রস্রাব করার পর চেষ্টা করে অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করত না। ফলে ওযু করার পর তা (অবশিষ্ট অংশ) বের হয়ে আসত। তখন সে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করত। [৩৭]

সহীহ বুখারীর আরেক ভাষ্যকার আল্লামা কিরমানী এ-ও এর ব্যাখ্যায় একইভাবে বলেন,

لا يستفرغ البول جهده بعد فراغه منه، فيخرج منه بعد وضوءه প্রস্রাব করার পর চেষ্টা করে অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করত না। ফলে ওযু করার পর তা বের হতো। [৩৮]

সুতরাং এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, ইস্তিবরা অত্যন্ত জরুরি। যদিও হানাফী মাযহাবে ইস্তিবরা ও ইস্তিঞ্জার মাসআলা একই। তবুও ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী বলেন,

فيه أن الاستبراء واجب এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইস্তিবরা করা ওয়াজিব। [৩৯]

তাই ইমাম নববী র সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন,

باب الدليل على نجاسة البول ووجوب الاستبراء منه অধ্যায় : প্রস্রাব নাপাক এবং প্রস্রাব থেকে ইস্তিবরা করা ওয়াজিব।

মোটকথা, ইস্তিবরা (বাকি প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন) করা জরুরি। অন্যথায় পরে প্রস্রাব ঝরে ওযু নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং শরীর ও কাপড় নাপাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সালাতের মধ্যে এমনটি হলে সালাত ভঙ্গ হবে।

টিকাঃ
[৩৪] সহীহ বুখারী- ২১৬; সহীহ মুসলিম- ২৯২; সুনানে নাসায়ী- ২০৬৮, ২০৬৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা- ১২১৬৪; শরহু মুশকিলিল আসার, তহাবী- ২১০
[৩৫] শরহে মুসলিম- ১/১৪১; শরহু আবী দাউদ, আইনী- ১/৮৩; ফতহুল বারী- ১/৩৭৯; উমদাতুল কারী- ২/৪৭১; শরহে ইবনে মাজাহ, মুগলাতাঈ- ১/১৫৫; আল বদরুল মুনীর- ২/৩৪৬
[৩৬] আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীসি ওয়াল আছার- ১/১১২; লিসানুল আরব- ১/৩৬৭
[৩৭] শরহুল বুখারী- ১/৩২৫ (২১৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
[৩৮] আল কাওয়াকিবুদ দারারী- ৩/৬৬ (২১৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
[৩৯] হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ- ১/৩০৮

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 ইস্তিবরার পদ্ধতি

📄 ইস্তিবরার পদ্ধতি


উল্লিখিত হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হলো, ইস্তিবরা তথা স্বাভাবিক প্রস্রাবের পর অবশিষ্ট প্রস্রাবের ফোঁটা বের করা অত্যন্ত জরুরি। তবে ইস্তিবরার জন্য কোন পন্থা অবলম্বন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো হাদীসে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। অতএব যার জন্য যে পদ্ধতি উপকারী সে সেই পদ্ধতি অবলম্বন করবে। যেমন: হাঁটাহাঁটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। ইস্তিবরার পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে,

طلب البراءة من الخارج بما تعارفه الإنسان من مشي أو تنحنح أو غيرهما إلى أن تنقطع المادة

ইস্তিবরা হলো প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করার জন্য প্রত্যেকের অভ্যাস অনুযায়ী হাঁটাহাঁটি, গলা খাঁকারি ইত্যাদি করা যেন প্রস্রাবের কিছুই বাকি না থাকে। [৪০] ইমাম ইবনে আবেদীন এ-ও ইস্তিবরার একই পরিচয় দিয়েছেন। [৪১]

খোলাসা হলো, প্রস্রাবের পর ইস্তিবরা করা আবশ্যক। তবে এর জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, তা নির্ধারিত নেই। হাদীস ও আছারে বিভিন্ন পদ্ধতি পাওয়া যায়, সবই মুবাহ। কোনোটাই বিদআত বা শরী'আত-পরিপন্থী নয়।[৪২] একটু সময় নিয়ে, পেটে সামান্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে টয়লেটের ভেতর কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। তবে অনেকে ৪০ কদম হাঁটাকে জরুরি মনে করে, এমনটি জরুরি নয়। কেউ কেউ আবার মসজিদে বা বাইরে লোকসম্মুখে গোপনাঙ্গ ধরে হাঁটাহাঁটি করে। মুসলিমদের লজ্জাশীল হওয়া উচিত। তাই এসব অবশ্যই পরিহারযোগ্য।

টিকাঃ
[৪০] আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যাহ-৪/১১৩
[৪১] রদ্দুল মুহতার- ১/৫৫৮
[৪২] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ৫৮, ১৭০৯; আল আল আওসাত, ইবনুল মুনযির- ১/৩৪৩; হুজ্জাতুল্লাহিল বাগিলগাহ- ১/৩৮; আল মাজমূ'-৩/৩৪

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 সালাতের মাঝে প্রস্রাবের অবশিষ্ট ফোঁটা বা মযী বের হচ্ছে ধারণা হলে করণীয়

📄 সালাতের মাঝে প্রস্রাবের অবশিষ্ট ফোঁটা বা মযী বের হচ্ছে ধারণা হলে করণীয়


অবিবাহিত-বিবাহিত নির্বিশেষে সকল পুরুষই এই সমস্যায় ভোগেন। অবস্থাভেদে নারীদের মাঝেও এমন সমস্যা দেখা দেয়। সালাতের মাঝে মযী নির্গত হওয়া থেকে বাঁচার একটি সমাধান হতে পারে বিয়ে, যেহেতু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এমনটি হয় শারীরিক চাহিদার কারণে। এ ছাড়া সালাতের মধ্যে রুকু বা সাজদায় যাওয়ার সময় পেটে চাপ পড়ার কারণে কিছু ফোঁটা অবশিষ্ট প্রস্রাব বের হয়ে যায়। সালাতের ঠিক পূর্বমুহূর্তে প্রস্রাব করলে এমনটি হয়ে থাকে, তাই সালাতের পূর্বে কিছু সময় হাতে রেখে নেওয়া উত্তম। তাহলে সালাতের মাঝে প্রস্রাবের ফোঁটা আর বের হবে না বলে আশা করা যায়।

যদি সালাতের মাঝে সে নিশ্চিত বুঝতে পারে যে, তার গোপনাঙ্গ থেকে কোনো কিছু নির্গত হয়েছে, তাহলে এতে সালাত ভঙ্গ হয়ে যাবে; যেহেতু তার ওযু ভেঙে গিয়েছে। তবে ততক্ষণ পর্যন্ত সে সালাত ছাড়বে না, যতক্ষণ না সে নিশ্চিত হতে পারে।

যদি তার সালাত এ কারণে ভঙ্গ হয়ে যায়, তাহলে প্রথমে যেই স্থানে প্রস্রাবের ফোঁটা বা মযী লেগেছে সেই স্থানটুকুকে চিহ্নিত করে ধৌত করে ফেলবে। এ ক্ষেত্রে পুরো পোশাক ধৌত করার প্রয়োজন নেই। এরপরে উত্তমরূপে ওযু করে সালাতটি পুনরায় আদায় করতে হবে। [৪৩]

তবে যদি রোগের কারণে ঘন ঘন প্রস্রাব হয় বা বায়ু নিঃসরণ হয় আর এমনটি যদি মাসের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ দিনই হতে থাকে এবং চিকিৎসা নেয়ার পরও অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হয়, তাহলে তারা মা'যুর হিসেবে গণ্য হবে। সুতরাং সে প্রত্যেক ওয়াক্তে ওযু করে নেবে, পরবর্তী ওয়াক্তের আগ পর্যন্ত সেই ওযু দিয়ে সে সকল আমল করতে পারবে। কিন্তু মাসে অতি নগণ্য সময়ব্যাপী এমনটি হলে এ ক্ষেত্রে তার জন্য এই বিধান নয়। [৪৪]

টিকাঃ
[৪৩] আলমুহীতুল বুরহানী- ১/১৮০; আল বাহরুর রায়েক- ১/৩১; শরহুল মুনইয়া- ১২৪; আদ্দুররুল মুখতার- ১/১৩৪
[৪৪] হাশিয়াতুত তাহত্ববী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ১৪৮-১৫১; ফাতওয়ায়ে শামী- ১/৫০৪ ও ৫০৫; মাজমাউল আনহুর- ১/৮৪; ফাতওয়ায়ে মাহমুদিয়া- ১০/২৬১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00