📄 ইস্তিঞ্জা কী?
ইস্তিঞ্জা إستنجاء শব্দটির আভিধানিক অর্থ : পরিত্রাণ পাওয়া বা কর্তন করা।
শরী'আহর পরিভাষায় প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা থেকে নির্গত হওয়া নাপাকী পানি, পাথর অথবা এ-জাতীয় অন্যান্য গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে দূর করাকে ইস্তিঞ্জা বলে। কেননা, এর মাধ্যমে নাপাকী থেকে পরিত্রাণ পেয়ে পবিত্রতা অর্জন করা হয়। [১]
প্রস্রাব-পায়খানা থেকে ইস্তিঞ্জার মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা হানাফী মাযহাবে স্বাভাবিক অবস্থায় সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ। যতক্ষণ না তা প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা অতিক্রম করে নাপাকী ছড়িয়ে না যায়। কেননা যদি এক দিরহাম পরিমাণ নাপাকী ছড়িয়ে যায়, তাহলে তা পানি দ্বারা ধৌত করা ওয়াজিব। আর এক দিরহামের অধিক হলে তা ধৌত করা ফরয হবে। তবে অন্যান্য মাযহাবে সর্বাবস্থায় এটি ওয়াজিব।[২]
আল্লাহ কুরআনে বলেন, (فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ) সেখানে (মদীনা-কুবায়) এমন কিছু লোক রয়েছে, যারা পবিত্রতাকে ভালোবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালোবাসেন। [৩]
মদীনাবাসীরা প্রস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্র হওয়ার জন্যে ইস্তিঞ্জার সময় পানি ব্যবহার করতেন। পানি ব্যবহারের মাধ্যমে ইস্তিঞ্জা পূর্ণতা লাভ করে। কেননা, পানির মাধ্যমে ময়লা ও নাপাকী ভালোভাবে দূরীভূত হয়। সাধারণত আরবরা পানি সংকটের জন্যে ঢিলা পাথর ব্যবহার করত। এর বিপরীতে মদীনাবাসীদের ইস্তিঞ্জা করার ক্ষেত্রে পানি ব্যবহার আল্লাহ পছন্দ করেছেন। ফলত কুরআনে উক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে। কাজেই ইস্তিঞ্জার ক্ষেত্রে পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা মুস্তাহাব।
আবু আইয়ূব, জাবের বিন আব্দুল্লাহ ও আনাস বিন মালেক প্রমুখ আনসারী সাহাবীগণ বলেন, আয়াতটি নাযিল হলে রাসূলুল্লাহ বললেন, “হে আনসারীদের দল, আল্লাহ তোমাদের পবিত্রতার উত্তম প্রশংসা করেছেন। তোমাদের ওই পবিত্রতা কী? তারা বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমরা সালাতের জন্য ওযু করি এবং গোসল ফরয হলে গোসল করি।” রাসূলুল্লাহ বললেন, “এর সাথে কি আরও কোনো বিষয় আছে?” তারা বলল, “ইয়া রাসূলাল্লাহ, আর কোনো বিষয় নেই। তবে শৌচাগার থেকে বের হলে আমাদের প্রত্যেকেই পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতে পছন্দ করে।” রাসূলুল্লাহ বললেন, “এটাই সেই পবিত্রতা (আল্লাহ যার কারণে তোমাদের প্রশংসা করেছেন)। সুতরাং এটাকে তোমরা গুরুত্বের সাথে ধরে রাখবে."[৪]
ইমাম নববী, ইমাম হাকিম, হাফেয যাইলাঈ, ইমাম ইবনুল হুমام হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। [৫]
ইমাম নববী বলেন, إن الاستنجاء بالحجر كان معلو ما عندهم، يفعله جميعهم. وأما الاستنجاء بالماء فهو الذي انفردوا به، فلهذا ذكر ولم يذكر الحجر، لأنه مشترك بينهم وبين غيرهم، ولكونه معلوما. فإن المقصود بيان فضلهم الذي أثني الله تعالى عليهم بسببه
ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার বিষয়টি তাঁদের সকলের জানা ছিল। তাঁরা সকলেই ঢিলা ব্যবহার করতেন। আর (ঢিলার পর) পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা, এটা শুধু কুবার সাহাবীদের একক বৈশিষ্ট্য ছিল। তাই বর্ণনায় শুধু পানির উল্লেখ করা হয়েছে, ঢিলার উল্লেখ করা হয়নি। কারণ এখানে উদ্দেশ্য তাদের ওই বিশেষত্বের বিবরণ দেওয়া, যার কারণে আল্লাহ তাদের প্রশংসা করেছেন। আর ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করার ক্ষেত্রে তারা এবং অন্যরা সমান। তা ছাড়া তারা যে ঢিলা দ্বারা ইস্তিঞ্জা করতেন, তা তো সকলেরই জানা ছিল। [৬]
মোটকথা এই হাদীস থেকে বোঝা যায় যে, কুবায় বসবাসরত সাহাবাগণ শৌচাগারে ঢিলা ব্যবহার করে আবার পানি দ্বারা তহারাত অর্জন করতেন। তাই ইমাম বায়হাকী এ হাদীসকে ঢিলা ও পানি উভয় দ্বারা ইস্তিঞ্জা জায়েয হওয়ার দলিল দিয়েছেন এবং এই হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন :
باب الجمع في الاستنجاء بين المسح بالأحجار والغسل بالماء অধ্যায় : ইস্তিঞ্জার সময় ঢিলা দ্বারা মুছে পানি দ্বারা ধৌত করা। [৭]
হাফেয বদরুদ্দীন আইনী বলেন,
و مذهب جمهور السلف والخلف والذي أجمع عليه أهل الفتوى من أئمة الأمصار أن الأفضل أن يجمع بين الحجر والماء، فيقدم الحجر أولا ثم يستعمل الماء فتخف النجاسة، وتقل مباشرتها بيده، ويكون أبلغ في النظافة
সালাফে সালেহীন ও তাদের উত্তরসূরিগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের মত এবং মুসলিমবিশ্বের সকল ইমামের ইজমা হলো, পানি ও ঢিলা উভয়টা ব্যবহার করা উত্তম। প্রথমে ঢিলা ব্যবহার করবে। এরপর পানি ব্যবহার করবে। যাতে নাপাকী কমে যায় এবং হাতে নাপাকীর মিশ্রণ কম হয়। তাহলে পবিত্রতার ক্ষেত্রে সর্বোত্তম পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। [৮]
এ ছাড়া ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল, ইমাম নববী, ইমাম কাযী ইয়ায এ সহ আরও অনেকে এই মত দিয়েছেন যে, প্রথমে ঢিলা ব্যবহার করে অতঃপর পানি ব্যবহার করাই সর্বাধিক উত্তম। [৯]
অর্থাৎ বোঝা গেল, ঢিলা ব্যবহার করে অতঃপর পানি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা অধিক পছন্দনীয়। এ ক্ষেত্রে অনধিক ৩টি পাথর, নরম টিস্য ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে। গোবর, হাড়, মোটা কাগজ ইত্যাদি দিয়ে ইস্তিঞ্জা করা যাবে না। মলত্যাগের পর শৌচকাজ সারতে কেবল বাহিরের অংশ ভালো করে পরিষ্কার করলেই যথেষ্ট হবে। অনেকে অতিরিক্ত পরিষ্কার হতে গিয়ে পায়খানার রাস্তার ভেতরে চলে যায়, যা নিঃসন্দেহে গুনাহর কাজ। মল-মূত্র থেকে যারা ঠিকভাবে পবিত্রতা অর্জন করে না তাদের বিষয়ে হাদীসে আযাবের দুঃসংবাদ এসেছে:
عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ مَرَّ بِقَبْرَيْنِ يُعَذِّبَانِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنَ الْبَوْلِ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ ثُمَّ أَخَذَ جَرِيدَةً رَطْبَةٌ فَشَقَّهَا بِنِصْفَيْنِ ثُمَّ غَرَزَ فِي كُلِّ قَبْرٍ وَاحِدَةٌ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لِمَ صَنَعْتَ هَذَا فَقَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا
ইবনু আব্বাস হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী এমন দুটি কবরের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যে কবর দুটির বাসিন্দাদের আযাব দেয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বললেন, এদের দুজনকে আযাব দেয়া হচ্ছে অথচ তাদের এমন গুনাহর জন্য আযাব দেয়া হচ্ছে না (যা হতে বিরত থাকা) দুরূহ ছিল। তাদের একজন প্রস্রাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না, আর অপরজন চোগলখুরী করে বেড়াত। [১০]
রাসূল আরও বলেন, "তোমরা প্রস্রাব থেকে সাবধানতা অবলম্বন করো। কারণ, অধিকাংশ কবরের আযাব এই প্রস্রাবথেকে সাবধান না হওয়ার ফলেই হয়ে থাকে।”[১১]
এসকল হাদীস দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, প্রস্রাব-পায়খানা থেকে পবিত্রতা অর্জনের ক্ষেত্রে যত্নবান ও সতর্ক হওয়া সকলেরই অবশ্য কর্তব্য।
উল্লেখ্য যে, হাই কমোডে মলমূত্র ত্যাগ করতে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং পূর্ণভাবে সুন্নাহ আদায় হয় না। তাই বিনা ওযরে হাই কমোড ব্যবহার করা অনেকে মাকরুহ বলেছেন। নেহায়েত মা'য়ূর না হলে সুন্নাহকে যথাসম্ভব আঁকড়ে ধরার মাঝেই রয়েছে প্রকৃত সফলতা।[১২] তবে যদি প্রস্রাব-পায়খানার জরুরত মিটানোর জন্য হাই কমোডের তাৎক্ষণিক বিকল্প না পাওয়া যায় সে ক্ষেত্রে হাই কমোড ব্যবহার করা যাবে। [১৩] উল্লেখ থাকে যে, হাই কমোড ব্যবহারের সময় যদি নাপাক পানির ছিটা শরীরের কোনো অঙ্গে লাগে তাহলে সেই অঙ্গ অবশ্যই ধৌত করে নিতে হবে।
টিকাঃ
[১] আল মুগনী- ২০৫/১; আল ফিকহু আলা মাযাহিবিল আরবাআ- ১/৮২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া); রদ্দুল মুহতার- ১/২২৯ ও ২৩০; মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ৭; হাশিয়াতুদ দাসূকী- ১/১১০; আল ইসতেযকার, ইবনু আব্দিল বার- ১/১৩৫; মাওয়াহিবুল জালীল- ১/৪০৭; শারহুস সগীর, সাউই- ১/৮৭; মুগনীল মুহতাজ- ১/৪২; কাশশাফুল কিনা- ১/৬২; আল মুগনী- ১/১১৯, ২০৫; আল মাওসূয়াতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ৪/১১৩; তাহরীরু আলফাযিত তাম্বীহ, নববী, পৃষ্ঠা- ৩৬; আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, যুহাইলী- ১/৩৪৫
[২] নূরুল ঈযাহ, পৃষ্ঠা- ১৭; হাশিয়াতুত ত্বাহত্ববী আলা মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ৪৪; তাবঈনুল হাকায়েক- ১/৭৬; মাজমাউল আনহুর- ১/৬৫; বাহরুর রায়েক- ১/২৫৩; ফাতহুল কাদীর- ১/১৪৮; আল লুবাব- ১/৫৭: হাশিয়াত ইবনি আবেদীন- ১/২২৪; আল ক্বাওয়ানীনুল ফিকহিয়্যাহ, পৃষ্ঠা- ৩৭; আশ শারহুস সগীর, সাউই- ১/৯৪ ও ৯৫; আশ শারহুল কাবীর, দারদীর- ১/১০৯; আল মুগনী- ১/১৪৯; কাশশাফুল কিনা- ১/৭১, ৭৭; আল মাওসূয়াতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ৪/১১৪ ও ১১৫
[৩] সূরা আত তাওবাহ- ১০৮
[৪] সুনানে কুবরা, বায়হাকী- ১/১০৫; মুসতাদরাকে হাকেম- ৫৫৪; সুনানে ইবনে মাজাহ- ৩৫৫
[৫] শারহুল মুহাযযাব- ২/৯৯; মুসতাদরাকে হাকেম- ৫৫৪; নসবুর রায়াহ- ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর- ১/২১৬
[৬] আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব- ২/১০০
[৭] সুনানে কুবরা- ১/১০৫
[৮] উমদাতুল কারী- ২/৩০৪, হাদীস ১৫০ এর ব্যাখ্যা
[৯] নসবুর রায়াহ- ১/২১৯; ফাতহুল কাদীর- ১/২১৬; শরহুল মুহাযযাব- ২/১০০; আল মাজমু শরহুল মুহাযযাব- ২/১০০; সুনানে কুবরা- ১/১০৫; মুসনাদে বাযযার- ২৪৭; নসবুর বায়াহ- ১/২১৮; আল বদরুল মুনীর- ২/৩৭৪; ইকমালুল মু'লিম- ২/৭৮: আইসারুত তাফাসীর- ১/৭০৬; সহীহ মুসলিম- ২৭০; আল আওসাত- ১/৩৬৫, হাদীস- ৩২০; সহীহ বুখারী- ৫০০, ২১৭; সহীহ বুখারী, হাদীস-১৫২; সহীহ মুসলিম, হাদীস- ২৭১; শরহে মুসলিম- ১/১৩২; ইককমালুল মু'লিম- ২/৭৮; উমদাতুল কারী- ২/৪৮০; আল মুগনী- ১/১৯৪; শরহে মুসলিম- ১/১৩২; উমদাতুল কারী- ২/৩০৪, হাদীস ১৫০ এর ব্যাখ্যা।
[১০] সহীহ বুখারী- ১৩৬১
[১১] সুনানে দারাকুতনী- ১/৩১১, হাদীস- ৪৪৮। ইমাম দারাকুতনী এর সনদ মুরসাল বলেছেন। ইমাম যাহাবী তাঁর 'তানকীহুত তাহক্বীক' (১/১২৯)- এ 'إسناده وسط' বলেছেন। তবে ইবনুল মুলাক্কিন এ ও ইমাম ইবনু কাসীর এর সনদকে হাসান বলেছেন। তুহফাতল মুহতাজ- ১/২১৭; ইরশাদুল ফাক্বীহ- ১/৫৭; সুনানে ইবনু মাজাহ- ২৮৩; মুসনাদে আহমাদ- ২/৩৮৯, হাদীস- ৯০৪৭; সুনানে দারাকুতনী- ১/৩১৪; আত তারগীব ওয়াত তারহীব, মুনযিরি- ১/১১৪। ইমাম দারাকুতনী, মুনযিরি এ এর সনদকে সহীহ বলেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম বৃসীরি এ তাঁর যাওয়ায়েদে ইবনু মাজাহতে (১/৬০) বুখারী- মুসলিমের শর্তে সহীহ আখ্যায়িত করেছেন। মুসনাদে আব্দ ইবনু হুমাইদ, পৃষ্ঠা- ২১৫; মুসনাদে বাযযার- ১১/১৭০; মু'জামুল কবীর- ১১/৭৯, হাদীস- ১১১০৪; সুনানে দারাকুতনী- ১/৩১৫; মুস্তাদরাকে হাকেম- ১/২৯৩। ইমাম ত্বহাবী তাঁর শারহে মুশকিলুল আসারে (১৩/১৮৯) সহীহ বলেছেন। এবং ইমাম দারাকুতনী ৬ এতে কোনো সমস্যা নেই বলেছেন।
[১২] জাদিদ ফিকহী মাসায়েল- ১/৫৭
[১৩] রদ্দুল মুহতার- ১/৩১; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/৫০
📄 প্রকৃতির ডাক
কেন আমরা বলি ইসলাম পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা? ইসলামকে ধর্ম বললে ইসলামের মূল নির্যাস পাওয়া যাবে না। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। কেননা একদম জন্মের শুরু থেকে মৃত্যুর শেষ, দিনের শুরু থেকে রাতের শেষ, ওয়াশরুম ব্যবহার থেকে শুরু করে রাজ্য পরিচালনা, দুশমনকে ভালোবাসা থেকে শুরু করে তার টুটি পা দিয়ে পিষ্ট করা; জীবনের প্রতিটি পদে পদে পার্ফেক্ট-গাইডলাইন রয়েছে এই জীবনব্যবস্থায়। সালমান ফারসী-কে ইহুদিরা ঠাট্টার ছলে প্রশ্ন করল, তোমাদের নবী তোমাদের সবকিছু শিক্ষা দিয়েছেন; এমনকি শৌচাগার ব্যবহারের পদ্ধতিও! জবাবে সালমান বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই! তিনি আমাদেরকে নিষেধ করেছেন, আমরা যেন ডান হাত দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি, ইস্তিঞ্জার সময় তিন পাথরের কম ব্যবহার না করি এবং গোবর বা হাড্ডি দ্বারা ইস্তিঞ্জা না করি." [১৪]
তাই আমাদের গর্ব হওয়া উচিত আমরা এমন একজন নবী পেয়েছি যিনি আমাদেরকে ছোট থেকে ছোট বিষয় সম্পর্কেও শিক্ষা দিয়েছেন।
৩ সুন্নাহ ও আদবসমূহ : إِذَا ذَهَبَ الْمَذْهَبَ أَبْعَدَ
নবী জরুরত সারার উদ্দেশ্যে দূরে চলে যেতেন, যেন তাঁকে কেউ দেখতে না পায়।[১৫]
তাই সুন্নাহ হচ্ছে লোকচক্ষুর আড়ালে পর্দা করে বসা।
• প্রস্রাব-পায়খানার জন্য আওরাহ যতটুকু উন্মুক্ত করা প্রয়োজন ততটুকুই করবে।[১৬]
• কিবলামুখী হয়ে বসা যাবে না, কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসা যাবে না।[১৭]
• ডান হাতে শৌচকার্য করা যাবে না। লজ্জাস্থান ধরার একান্ত প্রয়োজন হলে বাম হাত দিয়ে ধরবে। [১৮]
• তিনটি অথবা জোড়সংখ্যক ঢিলা-কুলুখ ব্যবহার করবে। এ ক্ষেত্রে গোবর বা হাড্ডি- জাতীয় কিছু ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। আল্লাহর রাসূল বলেন, عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم إِنَّمَا أَنَا لَكُمْ بِمَنْزِلَةِ الْوَالِدِ أُعَلِّمُكُمْ، فَإِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْغَابِطَ ، فَلَا يَسْتَقْبِلِ الْقِبْلَةَ، وَلَا يَسْتَدْبِرْهَا، وَلَا يَسْتَطِبْ بِيَمِينِهِ وَكَانَ يَأْمُرُ بِثَلَاثَةِ أَحْجَارٍ، وَيَنْهَى عَنِ الرَّوْثِ وَالرَّمَّةِ আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমি তোমাদের জন্য পিতৃতুল্য, তোমাদেরকে আমি দ্বীন শিক্ষা দিয়ে থাকি। তোমাদের কেউ পায়খানায় গেলে কিবলামুখী হয়ে বসবে না এবং কিবলার দিকে পিঠ দিয়েও বসবে না, আর ডান হাতে শৌচ করবে না। তিনি তিনটি ঢিলা ব্যবহারের নির্দেশ দিতেন এবং গোবর ও হাড্ডি দ্বারা শৌচ করতে নিষেধ করতেন। [১৯]
• ঘরের বাইরে অবস্থানকালে রাস্তাঘাটের যেখানে-সেখানে, কবরস্থানে অথবা দুর্গন্ধ সৃষ্টির কারণে মানুষের কষ্ট হবে এমন স্থানে মল-মূত্র ত্যাগ না করা। প্রস্রাব-পায়খানার স্থলকে আরবীতে বলা হয় “বায়তুল খালা”। কুরআনে ও হাদিসে একে “গায়িতুন” বলা হয়েছে। এর অর্থ : দূরবর্তী, নরম ও নিম্নভূমি। অর্থাৎ, মল-মূত্র ত্যাগের উদ্দেশ্যে দূরবর্তী ও নিম্নভূমির কোনো স্থানে চলে যাওয়া উত্তম। [২০]
• টয়লেটে প্রবেশের দু'আ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে শিক্ষা দিয়ে গেছেন যেন সেখানে বসবাসরত জ্বীন শয়তান থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। [২১]
দু'আটি হচ্ছে :
بِسْمِ اللهِ اللهُمَّ إِنِّي أَعُوْذُ بِكَ مِنَ الْخُبْثِ وَالْخَبَابِثِ
আল্লাহর নামে (শুরু করছি); হে আল্লাহ নিশ্চয়ই আমি আপনার কাছে পুরুষ ও নারী শয়তানের অনিষ্ট তথা ক্ষতি থেকে আশ্রয় চাই [২২]
> প্রস্রাব-পায়খানার স্থানে এদিক-সেদিক তাকানো অনুচিত। ফক্বিহগণ এটিকে মাকরুহ বলেছেন।
> অনেকে এ অবস্থায় লজ্জাস্থানের দিকে তাকিয়ে থাকে, অথচ হাদীসে এ বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এটি মাকরুহ। সাহাবাগণ এটিকে অপছন্দ করতেন।
> ইস্তিঞ্জার জন্যে বাম পা দিয়ে প্রবেশ করে ডান পা দিয়ে বের হবে। [২৩]
> ইস্তিঞ্জাখানায় যখন বসবে তখন বাম পায়ের ওপর ভর দিয়ে প্রথমে বসবে। [২৪]
> ইস্তিঞ্জার সময় মাথা ঢেকে রাখা। এটি সুন্নাহ ও মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত। [২৫]
> সাপ, পিঁপড়া, ইঁদুর প্রভৃতি প্রাণীর গর্তে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না।[২৬]
> ছায়াদার কোনো স্থানে, যেখানে মানুষ বিশ্রাম করে সেখানে এবং ফলদার বৃক্ষের নিচে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। [২৭]
> যেই স্থানে মানুষ সমবেত হয় এবং গল্পগুজব করে সেখানেও প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। [২৮]
> প্রস্রাব-পায়খানার সময় ওজর না থাকলে কথা বলা মাকরুহ। অনেকে এই সময় চিল্লাচিল্লি করে, এমনকি গানও গায়। এসব পরিহার করা উচিত।
> চন্দ্র ও সূর্যের দিকে মুখ করেও প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না।
> প্রস্রাব-পায়খানার অবস্থায় যিকির-আযকার, কুরআন তিলাওয়াত, কোনো ফেরেশতার নাম, নবীর নাম ইত্যাদি নেওয়া যাবে না। এর ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। [২৯]
> স্থির পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা যাবে না। এটি মাকরুহে তাহরীমী। এমন কাজকে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে। [৩০]
> প্রবহমান পানিতে প্রস্রাব-পায়খানা করা মাকরুহে তানযীহী। [৩১]
> শরঈ কোনো ওযর ব্যতীত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা মাকরুহে তাহরীমী। [৩২]
> প্রস্রাব-পায়খানা শেষে দু'আ রয়েছে :
غُفْرَانَكَ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي أَذْهَبَ عَنِّي الْأَذَى وَعَافَانِي
হে আল্লাহ, আপনার কাছে ক্ষমা চাই। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য; যিনি ক্ষতি ও কষ্টকর জিনিস থেকে আমাকে মুক্তি দিয়েছেন। [৩৩]
টিকাঃ
[১৪] সহীহ মুসলিম- ২৬২; জামে তিরমিযী- ১৬; সুনানে আবু দাউদ- ৭; সুনানে নাসায়ী- ৪৯; মুসনাদে আহমাদ- ২৩৭১৯
[১৫] সুনান আবু দাউদ- ১, ২
[১৬] সহীহ মুসলিম- ৫১৭
[১৭] সহীহ বুখারী- ৩৮০
[১৮] মুসনাদে আহমাদ- ২৬৩২৬
[১৯] সুনানে আবু দাউদ- ৭, ৮
[২০] সুনানে তিরমিযী- ২০; সহিহ মুসলিম- ৩৯৭, ৩২৮
[২১] সহীহ বুখারী- ১৪৯
[২২] সহীহ বুখারী- ৪২; সহীহ মুসলিম- ৩৭৫; ফাতহুল বারী- ১/২৪৪০
[২৩] সুনানে নাসায়ী- ১১১; মুসনাদে আহমাদ- ২৬,৩২৬
[২৪] সুনানে কুবরা- ৪৬৬; মাজমা'উয যাওয়ায়েদ- ১০২০
[২৫] সুনানে কুবরা- ৪৬৪
[২৬] আবু দাউদ- ২৭; শারহুল সুন্নাহ- ১/৫৬
[২৭] মুসলিম- ৩৯৭; আবু দাউদ- ২৪; আল ফিকহুল ইসলামী- ১/৩১০
[২৮] মুসলিম- ৩৯৭; আল ফিকহুল ইসলামী- ১/৩০৮, ৩০৯; আবু দাউদ- ২৪
[২৯] সহীহ মুসলিম- ৫৬৫
[৩০] সহীহ মুসলিম- ৪২৩; শারহুন নববী- ১/৪৫৪
[৩১] সহীহ মুসলিম- ৪২৫; বাহরুর রায়েক- ১/৩০১
[৩২] সুনানে তিরমিযী- ১২; মুসনাদে আহমাদ- ১৯৫৫৫
[৩৩] সুনানে আবু দাউদ- ৩০; সুনানে তিরমিযী- ০৭; ইবনে মাজাহ- ৩০০, ৩২০; আমালুল ইয়াওম ওয়াল লাইলা; নাসায়ী- ১২০০৩
📄 ইস্তিবরা কী?
ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত,
مَرَّ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِحَابِطٍ مِنْ حِيطَانِ مَكَّةَ أَوِ الْمَدِينَةِ سَمِعَ صَوْتَ إِنْسَانَيْنِ يُعَذِّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ ، ثُمَّ قَالَ : بَلَى ، كَانَ أَحَدُهُمَا لَا يَسْتَبْرِئُ مِنْ بَوْلِهِ، وَكَانَ الْآخَرُ يَمْشِي ... بِالنَّمِيمَةِ
রাসূলুল্লাহ মদীনার অথবা মক্কার এক বাগান অতিক্রম করলেন। তখন তিনি দুই ব্যক্তির আওয়াজ শুনতে পেলেন যাদের কবরে আযাব চলছিল। রাসূলুল্লাহ বললেন, তাদেরকে আযাব দেওয়া হচ্ছে। (এমন) বড় কোনো কারণে আযাব দেওয়া হচ্ছে না (যা থেকে বাঁচা খুব কঠিন)। এরপর বললেন, হ্যাঁ (তবে বড় গুনাহও বটে)। তাদের একজন প্রস্রাব থেকে 'ইস্তিবরা' করত না, আরেকজন পরনিন্দা করত। [৩৪]
হাদীসটি কয়েকটি শব্দে বর্ণিত হয়েছে- يستبرئ -এর স্থলে সহীহ মুসলিমের এক বর্ণনায় يستتر এবং অন্য বর্ণনায় يستنزه শব্দ এসেছে। ইমাম নববী, হাফেয বদরুদ্দীন আইনী , হাফেয ইবনে হাজার সহ প্রমুখ এই শব্দ তিনটি সম্পর্কে বলেন, يستبرئ শব্দটি সহীহ বুখারী ও হাদীসের অন্যান্য কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। এ সব বর্ণনাই সঠিক।[৩৫] 'ইস্তিবরা' এর অর্থ হলো স্বাভাবিক প্রস্রাব বের হওয়ার পর অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করা। ইবনুল আসীর, ইমামুল লুগাহ ইবনে মানযূর সহ প্রমুখ এভাবেই ইস্তিবরা-এর অর্থ করেছেন। [৩৬]
ইবনে বাত্তাল সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থে (لا يستبرئ )একজন প্রস্রাব থেকে ইস্তিবরা করত না) এর ব্যাখ্যায় বলেন,
لا يستفرغ البول جهده بعد فراغه منه، فيخرج منه بعد وضوءه، فيصلي غير مطهر তাদের একজন প্রস্রাব করার পর চেষ্টা করে অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করত না। ফলে ওযু করার পর তা (অবশিষ্ট অংশ) বের হয়ে আসত। তখন সে অপবিত্র অবস্থায় সালাত আদায় করত। [৩৭]
সহীহ বুখারীর আরেক ভাষ্যকার আল্লামা কিরমানী এ-ও এর ব্যাখ্যায় একইভাবে বলেন,
لا يستفرغ البول جهده بعد فراغه منه، فيخرج منه بعد وضوءه প্রস্রাব করার পর চেষ্টা করে অবশিষ্ট প্রস্রাব বের করত না। ফলে ওযু করার পর তা বের হতো। [৩৮]
সুতরাং এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয়, ইস্তিবরা অত্যন্ত জরুরি। যদিও হানাফী মাযহাবে ইস্তিবরা ও ইস্তিঞ্জার মাসআলা একই। তবুও ইমাম শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলবী বলেন,
فيه أن الاستبراء واجب এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, ইস্তিবরা করা ওয়াজিব। [৩৯]
তাই ইমাম নববী র সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যাগ্রন্থে এ হাদীসের শিরোনাম দিয়েছেন,
باب الدليل على نجاسة البول ووجوب الاستبراء منه অধ্যায় : প্রস্রাব নাপাক এবং প্রস্রাব থেকে ইস্তিবরা করা ওয়াজিব।
মোটকথা, ইস্তিবরা (বাকি প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন) করা জরুরি। অন্যথায় পরে প্রস্রাব ঝরে ওযু নষ্ট হয়ে যাওয়া এবং শরীর ও কাপড় নাপাক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সালাতের মধ্যে এমনটি হলে সালাত ভঙ্গ হবে।
টিকাঃ
[৩৪] সহীহ বুখারী- ২১৬; সহীহ মুসলিম- ২৯২; সুনানে নাসায়ী- ২০৬৮, ২০৬৯; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা- ১২১৬৪; শরহু মুশকিলিল আসার, তহাবী- ২১০
[৩৫] শরহে মুসলিম- ১/১৪১; শরহু আবী দাউদ, আইনী- ১/৮৩; ফতহুল বারী- ১/৩৭৯; উমদাতুল কারী- ২/৪৭১; শরহে ইবনে মাজাহ, মুগলাতাঈ- ১/১৫৫; আল বদরুল মুনীর- ২/৩৪৬
[৩৬] আননিহায়া ফী গরীবিল হাদীসি ওয়াল আছার- ১/১১২; লিসানুল আরব- ১/৩৬৭
[৩৭] শরহুল বুখারী- ১/৩২৫ (২১৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
[৩৮] আল কাওয়াকিবুদ দারারী- ৩/৬৬ (২১৬ নং হাদীসের ব্যাখ্যা)
[৩৯] হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ- ১/৩০৮
📄 ইস্তিবরার পদ্ধতি
উল্লিখিত হাদীসসমূহ থেকে প্রমাণিত হলো, ইস্তিবরা তথা স্বাভাবিক প্রস্রাবের পর অবশিষ্ট প্রস্রাবের ফোঁটা বের করা অত্যন্ত জরুরি। তবে ইস্তিবরার জন্য কোন পন্থা অবলম্বন করা হবে, সে সম্পর্কে কোনো হাদীসে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। অতএব যার জন্য যে পদ্ধতি উপকারী সে সেই পদ্ধতি অবলম্বন করবে। যেমন: হাঁটাহাঁটি, ওঠা-বসা ইত্যাদি। ইস্তিবরার পরিচয় দেওয়া হয়েছে এভাবে,
طلب البراءة من الخارج بما تعارفه الإنسان من مشي أو تنحنح أو غيرهما إلى أن تنقطع المادة
ইস্তিবরা হলো প্রস্রাব থেকে পবিত্রতা অর্জন করার জন্য প্রত্যেকের অভ্যাস অনুযায়ী হাঁটাহাঁটি, গলা খাঁকারি ইত্যাদি করা যেন প্রস্রাবের কিছুই বাকি না থাকে। [৪০] ইমাম ইবনে আবেদীন এ-ও ইস্তিবরার একই পরিচয় দিয়েছেন। [৪১]
খোলাসা হলো, প্রস্রাবের পর ইস্তিবরা করা আবশ্যক। তবে এর জন্য কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, তা নির্ধারিত নেই। হাদীস ও আছারে বিভিন্ন পদ্ধতি পাওয়া যায়, সবই মুবাহ। কোনোটাই বিদআত বা শরী'আত-পরিপন্থী নয়।[৪২] একটু সময় নিয়ে, পেটে সামান্য চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তা বের করার চেষ্টা করবে। প্রয়োজনে টয়লেটের ভেতর কিছুটা হাঁটাহাঁটি করা যেতে পারে। তবে অনেকে ৪০ কদম হাঁটাকে জরুরি মনে করে, এমনটি জরুরি নয়। কেউ কেউ আবার মসজিদে বা বাইরে লোকসম্মুখে গোপনাঙ্গ ধরে হাঁটাহাঁটি করে। মুসলিমদের লজ্জাশীল হওয়া উচিত। তাই এসব অবশ্যই পরিহারযোগ্য।
টিকাঃ
[৪০] আল মাওসূআতুল ফিকহিয়্যা আল কুয়েতিয়্যাহ-৪/১১৩
[৪১] রদ্দুল মুহতার- ১/৫৫৮
[৪২] মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা- ৫৮, ১৭০৯; আল আল আওসাত, ইবনুল মুনযির- ১/৩৪৩; হুজ্জাতুল্লাহিল বাগিলগাহ- ১/৩৮; আল মাজমূ'-৩/৩৪