📄 ধারণা
অন্তরের পরিশুদ্ধি যেমন মানুষের ঈমানকে রক্ষা করে, মানুষকে আল্লাহর অবাধ্যতা থেকে বাঁচায়; তেমনি শরীরের পবিত্রতা অধিকাংশ আমলের পূর্বশর্ত এবং তা আল্লাহর নৈকট্য হাসিলের মাধ্যম। নিম্নোক্ত আয়াতে সেই দিকটিরই ইঙ্গিত রয়েছে:
إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবাকারীদের এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের ভালোবাসেন। [১]
তাওবাহ যেমন মানুষের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করে, তেমনি শরীর থেকে ময়লা দূরীভূতকরণ মানুষের শরীরকে পবিত্র করে দেয়। একটি ভেতরের পবিত্রতা; অপরটি বাহ্যিক পবিত্রতা। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর দ্বীনের ভিত্তি স্থাপিত। [২]
আল্লাহ তাঁর প্রিয় হাবীব মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলেন,
وَثِيَابَكَ فَطَهِّرْ وَالرُّجْزَ فَاهْجُرْ
তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকো। [৩] পবিত্রতার গুরুত্ব বুঝতে নিম্নোক্ত হাদীসগুলোই যথেষ্ট :
الطَّهُورُ شَطْرُ الْإِيمَانِ পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক। [৪]
مِفْتَاحُ الْجَنَّةِ الصَّلَاةُ وَمِفْتَاحُ الصَّلَاةِ الطُّهُورُ জান্নাতের চাবি হলো সালাত। আর সালাতের চাবি হলো পবিত্রতা (ওযু)। [৫]
ইসলামে পবিত্রতাকে যতটা প্রাধান্য দেয়া হয়েছে অন্য কোনো ধর্মে ততটা প্রাধান্য দেয়া হয়নি। এই কারনেই অন্যান্য ধর্মাবলম্বী বা জাতিদের মাঝে অধিক নোংরামি লক্ষ করা যায়।
টিকাঃ
[১] সূরা বাকারাহ- ২২২
[২] মাউসুআতু আতরাফিল হাদীস আন-নববী, পৃষ্ঠা- ২৯৪
[৩] সূরা মুদ্দাসসির- ৪, ৫
[৪] সহীহ মুসলিম- ২২৩; সুনানে তিরমিযী- ৩৫১৭; সুনানে ইবনু মাজাহ ২৮০, মুসনাদে আহমাদ- ২২৩৯৫, ২২৪০১; সুনানে দারেমী- ৬৫৩
[৫] আহমাদ- ১৪২৫২, মিশকাতুল মাসাবীহ- ২৯৪
📄 আন-নাজাসাতুল নাজাসা-এর বিবরণ
النجاسة (আন-নাজাসাত) এর শাব্দিক অর্থ হলো, ময়লা বা আবর্জনা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, এটি الطهارة (আত-ত্বাহারাত) বা পবিত্রতার বিপরীত। পরিভাষায়, শরী'আত- নির্ধারিত নির্দিষ্ট পরিমাণ নাপাকী বা ময়লা যা সালাত ও এ-জাতীয় ইবাদাতে বাধা সৃষ্টি করে সেটিই নাজাসাত। যেমন: মল-মূত্র, রক্ত ইত্যাদি। মুসলিমদের জন্য এরূপ নাজাসাত থেকে পবিত্রতা অর্জন করা অর্থাৎ তা শরীর, কাপড় বা কোনো স্থানে লেগে গেলে ধৌত করা ওয়াজিব। [৬]
নাজাসাত দু-ধরনের।
(১) النجاسة الغليظة (আন-নাজাসাতুল গালীযাহ) তথা ভারী নাপাকী (২) النجاسة الخفيفة (আন-নাজাসাতুল খাফীফাহ) তথা হালকা নাপাকী ইমাম কাসানী বলেন,
وَذَكَرَ الْكَرْحِيُّ أَنَّ النَّجَاسَةَ الْغَلِيظَةَ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةً: مَا وَرَدَنَصُّ عَلَى نَجَاسَتِهِ وَلَمْ يَرِدْنَصُّ عَلَى طَهَارَتِهِ، مُعَارِضَالَهُ وَإِنْ اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِيهِ وَالْخَفِيفَةُ مَا تَعَارَضَ نَصَّانِ فِي طَهَارَتِهِ وَنَجَاسَتِهِ، وَعِنْدَأَبِي يُوسُفَ وَمُحَمَّدٍ الْغَلِيظَةُ: مَا وَقَعَ الْإِتَّفَاقُ عَلَى نَجَاسَتِهِ، وَالْخَفِيفَةُ: مَا اخْتَلَفَ الْعُلَمَاءُ فِي نَجَاسَتِهِ وَطَهَارَتِهِ
ইমাম কারখী উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম আবু হানীফা -এর মতে, যেসব নাজাসাত ও নাপাকীর ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহতে নস এসেছে এবং সেগুলো ত্বাহারাত তথা পাক হওয়ার ব্যাপারে কুরআন ও সুন্নাহয় কোনো নস আসেনি, যদিও আলেম ও ফক্কিহদের মাঝে ওই নাজাসাত নিয়ে ইখতিলাফ থাকে, এমন নাজাসাতকে গালীযাহ বলা হবে।
আর যেসব নাজাসাত ও নাপাকীর বিষয়ে পরস্পর বৈপরীত্য রয়েছে, অর্থাৎ পাক ও নাপাক উভয়ের পক্ষেই নস পাওয়া যায়, তাকে নাজাসাতে খফীফাহ বলা হয়।
ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মাদ -এর মতে, যেই নাপাকীর ব্যাপারে সকলেই একমত তা নাজাসাতে গালীযাহ আর যে বিষয়ে পাক ও নাপাক হওয়া নিয়ে আলেমদের ইখতিলাফ রয়েছে তা নাজাসাতে খফীফাহ [৭]
টিকাঃ
[৬] সহীহ ফিকহুস সুন্নাহ, আবু মালিক কামাল বিন আস সাইয়্যিদ সালিম।
[৭] বাদায়েউস সানায়ে- ১/৮০
📄 আন-নাজাসাতুল গায়ীযাহ-এর বিবরণ
নাজাসাতে গালীযাহ হলো, এমন নাপাকী যা অতিমাত্রায় তীব্র হওয়ার দরুন এর কারণে নামাজ জায়েজ হবে না। এ রকম ৪টি নাপাকী রয়েছে। সংক্ষেপে সেগুলো হলো: ১ হায়েয, নিফাস, ইস্তিহাযাসহ অন্যান্য সকল প্রবহমান রক্ত যা অবশ্যই দূর করতে হবে। এসব সহকারে নামাজ, তাওয়াফ জায়েয নেই। আল্লাহ বলেন,
قُل لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَى مُحَرَّمًا عَلَى طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ باغ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ﴾
বলুন, আমার নিকট যে ওহী পাঠানো হয়, তাতে আমি আহারকারীর ওপর কোনো হারাম পাই না, যা সে আহার করে। তবে মৃত কিংবা প্রবাহিত রক্ত অথবা শূকরের গোশত ব্যতীত। কেননা নিশ্চয়ই তা অপবিত্র। কিংবা এমন অবৈধ পশু যা আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও জন্য যবেহ করা হয়েছে। তবে যে নিরুপায় ব্যক্তি অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে তা গ্রহণে বাধ্য হয়েছে, সে ক্ষেত্রে নিশ্চয় তোমার রব ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। [৮]
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষসহ সকল প্রাণীর প্রবহমান রক্তই নাপাক। এবং হানাফী মাযহাবসহ ৪ মাযহাবেই এটি নাপাক। [৯] তবে মাছের রক্ত, প্রবহমান নয় এমন রক্ত এবং শহীদদের রক্ত নাপাক নয়। [১০]
১ মদ নাপাক বস্তু। আল্লাহ বলেন,
يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ إِنَّمَا ٱلْخَمْرُ وَٱلْمَيْسِرُ وَٱلْأَنصَابُ وَٱلْأَزْلَٰمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ ٱلشَّيْطَٰنِ فَٱجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
হে মু'মিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-দেবী ও ভাগ্যনির্ধারক তিরসমূহ তো শয়তানের নাপাক কর্ম। সুতরাং তোমরা তা পরিহার করো, যাতে তোমরা সফলকাম হও। [১১]
মদ্যপান হারাম হওয়ার ব্যাপারে তো কোনো দ্বিমত নেই, যেহেতু তা শরী'আতে অকাট্যভাবে প্রমাণিত। অনুরূপভাবে অধিকাংশ ফক্কিহদের মতেই মদ নাজাস তথা নাপাক। বলতে গেলে ৪ মাযহাবের মতই হচ্ছে এই যে, মদ নাপাক। আর এই আয়াতে মদকে رِجْسٌ (রিজসুন) আখ্যায়িত করা হয়েছে আর তা নাপাক ও হারাম উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। [১২]
> আল্লাহর নামে জবাই করা হয়নি এমন মৃত প্রাণীর গোশত নাপাক। তবে মৎস্য এর অন্তর্ভুক্ত নয়। এ ছাড়া ব্যবহারযোগ্য করতে লবণ প্রয়োগ করে দাবাগাত করা হয়নি এমন চামড়াও নাপাক। তবে শূকরের চামড়া সর্বাবস্থায় নাপাক। কেননা এটি 'নাজাসাতে আইন' বা সত্তাগত নাপাকী। [১৩]
> ভক্ষণ করা হারাম এমন প্রাণীর গোশত। যেমন: শূকর, কুকুর ইত্যাদি।
১ যেসব প্রাণী খাওয়া হারাম তাদের মল ও মূত্র। [১৪]
১ হিংস্র প্রাণী (যেমন: কুকুর) এর লালা। [১৫]
> হাঁস, মুরগি ও পানকৌড়ির বিষ্ঠা। এসব হালাল প্রাণী হলেও তাদের বিষ্ঠা নাপাক হওয়ার ব্যাপারে সবাই একমত, বিশেষ করে হানাফী ও মালেকী মাযহাবের ফকিহগণ। কেননা তাদের বিষ্ঠা নোংরা, পচা ও দুর্গন্ধময়। ফক্বিহগণ পায়খানার মতো গালীয নাপাকীর সাথে এর তুলনা করেছেন। এ ছাড়াও হাঁস-মুরগির খাদ্যাভ্যাসেও অনেক নাপাকী থাকে। [১৬]
> মানবদেহ থেকে নির্গত বস্তু যার কারণে ওযু ভেঙে যায়, সেসব বস্তু নাপাক। যেমন- প্রস্রাব বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে বের হওয়া মলমূত্র, বীর্য, কামরস, হায়েয-নিফাসের রক্ত ইত্যাদি অথবা ক্ষতস্থান থেকে বের হওয়া গড়িয়ে পড়া রক্ত, পুঁজ এবং মুখ দিয়ে বের হওয়া মুখভর্তি বমি। [১৭]
উপর্যুক্ত ৮টি নাপাকীর ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে, যদি তা কোনো এক স্থান জুড়ে এক দিরহাম (বর্তমানের ৫ টাকার পয়সা বা হাতের তালুর মাঝে গোলক) পরিমাণ হয় সেই ক্ষেত্রে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে। এই পরিমাণ নাপাকী যদি কাপড়ে বা শরীরে লাগে, তাহলে ওই অবস্থায় নামাজ পড়লে নামাজ আদায় হয়ে যাবে; তবে তা মাকরুহ বলে গণ্য হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে এবং উপায় থাকা সত্ত্বেও নাপাকী দূর না করেই সালাত আদায় করলে গুনাহ হবে। কিন্তু যদি এর পরিমাণ এক দিরহামের অধিক হয়ে যায়, তাহলে তা দূর না করে সালাত বা তাওয়াফ হবে না এবং এই অবস্থায় কুরআন স্পর্শ করা যাবে না। নাপাকী দূর করা এমতাবস্থায় ফরয হয়ে যায়। হযরত আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, “এক দিরহাম পরিমাণ রক্তের কারণে নামাজ পুনরায় আদায় করো।”[১৮]
فلمًا ذکره صاحب الأسرار عن علي وبن مسعود انهما قدرا النجاسة بالدرهم وكفى بهما حجة في الاقتداء وروي عن عمر أيضا أنه قدره بظفره
হযরত আলী এবং ইবনে মাসউদ (কাপড়) নাপাক হওয়ার পরিমাণ নির্দিষ্ট করেছেন এক দিরহাম মুদ্রা। আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমার নির্ধারণ করেছেন নখ পরিমাণ। [১৯]
ইমাম ইবনু তাইমিয়া সহ প্রমুখ বিখ্যাত আলিমগণ এর পক্ষে মতামত দিয়েছেন। আর যদি নাপাকী শক্ত প্রকৃতির হয়, তাহলে এক দিরহাম মুদ্রার ওজনের কম হলে নামাজ আদায় হয়ে যাবে। এক দিরহাম মুদ্রার ওজন বর্তমানে প্রায় তিন গ্রাম। [২০]
টিকাঃ
[৮] সূরা আন'আম- ১৪৫
[৯] বাদায়েউস সানায়ে- ১/৩৬৪ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বাইরুত); উমদাতুল ক্বারী, আইনী- ৫/৫৯। এ ছাড়াও এ বিষয়ে আলোচনা পাওয়া যাবে: ফাতহুল কাদীর- ১/৫৭; মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ২৫
[১০] মারাতিবুল ইজমা- ১/১৯; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৩৬৪ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বাইরুত); আত তাজরীদ, কুদুরী- ২/৭৪১; রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার- ১/৫২৭, তাবঈনুল হাক্বায়েক, যাইলাঈ- ১/২৯; বাহরুর রায়েক, ইবনু নুজাইম- ১/৩৯৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, লুবনান); আল ইনসাফ, মারদাউই- ১/৩২৮; কাশশাফুল কিনা, বুহুতী- ১/১৯১; শারহুল উমদাহ, ইবনু তাইমিয়া- ১/১০৯; শারহু মুনতাহাল ইরাদাত, বুহুতী- ১/২১৪; ইরশাদু উলিল বাসায়ের ওয়াল আলবাব, সা'দী, পৃষ্ঠা- ২০; আহকামুল মিয়াহ ফিল ফিকহিল ইসলামী, সারহান আল উতায়বী, পৃষ্ঠা- ৫৬
[১১] সূরা মায়িদা- ৯০
[১২] তুহফাতুল ফুকাহা- ১/৬৯; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬৬; বাহরুর রায়েক- ১/৩৯৯-৪০০; আল বিনায়াহ, আইনী- ১/৪৭৭; আল ইনায়াহ শারহিল হিদায়াহ, বাবারতী- ১০/৯৯; ফাতহুল কাদীর, ইবনুল হুমام- ১/৭৯; হাশিয়াতুদ দাসুকী- ১/৪৯-৫০; আত তাজুল ইকলীল লি মুখতাসারি খলীল, মাউওয়ার্ক- ১/৯৭; বুলগাতুস সালেক (শরহুস সগীরসহ), সাউই আল মালেকী- ১/১৯; কিতাবুল উম্ম, শাফেঈ- ১/৭২; আত নিহায়াতুল মুহতাজ ইলা শারহিল মিনহাজ, রমালী আশ শাফেঈ- ১/২৩৪; আল মাজমু- ২/৫৬৩; আল মুগনী, ইবনু কুদামা- ৯/১৭১; আল মুবদি', ইবনু মুফলিহ- ১/২০৯; আল মুহাল্লা, ইবনু হাযাম- ১/১৮৮
[১৩] সহীহ মুসলিম- ৩৬৬; সুনানে আবী দাউদ- ৪১২৩; সুনানে তিরমিযী- ১৭২৮; আত তামহীদ- ৪/১৫২; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৮৫-৮৬; আল মাবসূত্ব, সারাখসী- ১/২০৩; বাহরুর রায়েক- ৬/৮৮; হাশিয়াতু ইবনি আবেদীন- ১/২০৪; মারাকিল ফালাহ, শুরুম্বুলালী, পৃষ্ঠা- ৬৭; শারহু মুখতাসারিত ত্বহাবী, জাসসাস- ১/২৯৩-২৯৭; ফাতহুল কাদীর, ইবনুল হুমام- ১/১২; আল বায়ান ওয়াত তাহসীল, ইবনু রুশদ- ৩/৩৫৭; আল ইসতেযকার, ইবনু আব্দিল বার- ৫/২৯৪; মিনাহুল জালীল, আলীশ- ১/৫১; রাওযাতুত ত্বালেবীন, নববী- ১/২৭; আল হাউই আল কাবীর, মাওয়ারদী- ১/৬২; আল ইনসাফ, মারদাউই- ১/৭২, ৩২৪; আল মুগনী- ১/৪৯
[১৪] বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬১। এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন: মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ৬২; হাশিয়াতুল ইসবাহ আলা নূরিল ইযাহ, শুরুম্বুলালী, পৃষ্ঠা- ১৭১; ফাতহুল কাদীর- ১/১৫১; নিহায়াতুল মুহতাজ- ১/২৪১; তানভীরুল হাওয়ালিক শরহে মুয়াত্ত্বা ইমাম মালেক- ১/৬৩; আয যাখীরাহ- ১/১৭৭; বিদায়াতুল মুজতাহিদ- ১/৮০; আল মুক্কনি', ইবনু কুদামা- ১/৮৪
[১৫] মারক্কিল ফালাহ শারহু নূরিল ইযাহ, শুরুম্বুলালী, পৃষ্ঠা- ৬৫; হাশিয়াতুত ত্বাহত্ববী আলা মারাক্কিল ফালাহ, ত্বাহত্ববী, পৃষ্ঠা- ১৫৫; বাহরুর রায়েক- ১/৪০০; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া- ১/১৮২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া); ফতোয়ায়ে কাযীখান (ফতোয়ায়ে বাযযাযিয়াহ সহ)- ১/১৪ (দারুল ফিকর, বাইরুত); আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, যুহাইলী- ১/১৬২; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন, যাবেদী (কিতাবু আসরারিত ত্বহারাহ)- ২/৫০৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া)
[১৬] বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬২; বাহরুর রায়েক- ১/৪০০; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার, মাওসীলি- ১/৪২; মাজমাউল আনহুর মুনতাক্কাল আবহুর, হালাবী- ১/৯৫; ফতোয়ায়ে তাতারখানিয়া- ১/১৮২ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া); ফতোয়ায়ে কাযীখান (ফতোয়ায়ে বাযযাযিয়াহ সহ)- ১/১৪ (দারুল ফিকর, বাইরুত); আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, যুহাইলী- ১/১৬২; ইতহাফুস সাদাতিল মুত্তাকীন, যাবেদী (কিতাবু আসরারিত ত্বহারাহ)- ২/৫০৬ (দারুল কুতুবিল ইলমিয়া); মাওসূআতুল ফিকহিয়্যাহ কুয়েতিয়্যাহ- ২১/২১১
[১৭] সহীহ বুখারী- ৬০২৫; সহীহ মুসলিম- ২৮৪; ফাতহুল বারী- ১/১২৭; সুবুলুস সালাম, সানআনী- ১/২৫; আল বিনায়াহ শরহুল হিদায়াহ, আইনী- ১/৭২৮; আল বাহরুর রায়েক, ইবনু নুজাইম- ১/২৪২; বাদায়েউস সানায়ে, কাসানী- ১/২৪-২৫; হাশিয়াতু ইবনি আবেদীন- ১/৩১৮; বাদরুল মুনতাক্বা আলা মাজমাইল আনহুর- ১/৬৪
[১৮] সুনানে দারাকুতনী- ১; সুনানে বায়হাকী কুবরা- ৩৮৯৬, জামেউল আহাদীস- ১০৭৮৩, মারেফাতুস সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী- ১৩২৩; আল জামেউল কাবীর- ২৩৮
[১৯] উমদাতুল কারী- ৩/১৪০, আদিল্লাতুল হানাফিয়্যাহ- ১০১
[২০] কানযুদ দাকায়েকের টীকা- ১৫ থেকে ১৬
📄 আন-নাজাসাতুল খফীফাহ-এর বিবরণ
ওপরে উল্লেখিত নাপাকী ব্যতীতও এমন কিছু নাপাকী রয়েছে যেগুলো সুদৃঢ় নয় এবং কুরআন-সুন্নাহয় একে অকাট্য দলিল সহকারে নাপাক বলে ঘোষণা করা হয়নি এবং এসব নাপাকীর হুকুম কিছুটা কমনীয়। [২১] যেমন : > ভক্ষণযোগ্য পাখির মল, > ভক্ষণের ক্ষেত্রে হালাল পশুর প্রস্রাব, > ঘোড়ার প্রস্রাব।
এগুলোর ক্ষেত্রে বিধান হচ্ছে, এর পরিমাণ অধিক হলে তথা কাপড়, স্থান বা শরীরের এক-চতুর্থাংশ হলে তখন ধৌত করা জরুরি। [২২]
কাপড়ের নাজাসাতের ব্যতিক্রম কিছু অবস্থা ◇ যদি নাপাক কাপড় বা নাপাক বিছানা ঘুমন্ত ব্যক্তির ঘামে সিক্ত হয়, তাহলে শরীর নাপাক বলে গণ্য হবে। যদি শরীরের কোথাও নাপাকীর চিহ্ন পরিলক্ষিত না হয়, তবে নাপাক হবে না।
◇ যদি পবিত্র শুকনো কাপড়কে ভেজা নাপাক কাপড় দ্বারা এমনভাবে পেঁচানো হয় যে, ওই ভেজা কাপড় থেকে কোনো পানি নিংড়িয়ে বের করা না যায়, সে ক্ষেত্রে কাপড় নাপাক হবে না। নতুবা নাপাক হবে। [২৩]
◇ যদি শুকনো ভূমিতে নাপাকী লেগে থাকে আর তাতে ভেজা পবিত্র কাপড় ফেলা হলে মাটি যদি কাপড়ের আর্দ্রতায় ভিজে যায়, তখন দেখতে হবে যে কাপড়ে নাপাকী লেগেছে কি না। অর্থাৎ কাপড়ের রং বা গন্ধ পরিবর্তন হয়েছে কি না। যদি কাপড়টিতে নাপাকী লেগে থাকতে দেখা যায়, কাপড়ের রং বা গন্ধ পরিবর্তন হয়ে যায়, তাহলে তা নাপাক বলে গণ্য হবে। [২৪]
টিকাঃ
[২১] আল ফিকহুল ইসলামী ওয়া আদিল্লাতুহু, যুহাইলী- ১/৩১৯-৩২০; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৭৯; আল ইখতিয়ার লি তা'লীলিল মুখতার- ১/৩১; ফাতাওয়া আল কুবরা, ইবনু তাইমিয়া- ৫/৩১৩
[২২] আল ইনায়াহ (ফাতহুল কাদীরের হামেশ সহ)- ১/১৪০-১৪৪; রদ্দুল মুহতার- ১/২৯৩-২৯৭; মারাকিল ফালাহ, পৃষ্ঠা- ২৫ থেকে ২৬; আল লুবাব ফী শারহিল কিতাব (শারহু মুখতাসারিল কুদুরী), মাইদানী আল হানাফী- ১/৫৪-৫৭; বাদায়েউস সানায়ে- ১/৬১-৮০
[২৩] আল-বাহরুর রায়েক- ১/২৪৪; রদ্দুল মুহতার- ১/৩৪৭
[২৪] ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া- ১/৪৭; গুনিয়াতুল মুতামাল্লী ফী শারহি মুনইয়াতিল মুসল্লি (হালাবী কাবীর)- ১/১৫৩; আহসানুল ফতোয়া- ২/৮৫-৮৮; ফাতাওয়া মাহমুদিয়া- ৭/১৮, ১৯, ২৩