📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 সুরের ডামাঢোল

📄 সুরের ডামাঢোল


রিলেশনশিপ কালচারের সাথেই যেন গান-বাজনার একটা গভীর যোগসূত্র পাওয়া যায়। বাদলা দিনের গান, একাকিত্বের গান এসব শোনার পর একাকিত্ব বাড়ে, মনের মাঝে প্রেমভাব জাগে, প্রেমিকা খুঁজতে ইচ্ছা করে। যখন সম্পর্ক শুরু হয় তখন প্রেমের গানগুলো শুনতে খুবই ভালো লাগে। যখন একটু ঝগড়া হয় তখন বিরহের গানগুলো শুনে শুনে রাত কাটে। তারপর যখন ছেড়ে চলে যায় তখন ছ্যাঁকা খাওয়া গানগুলো হয় অন্তরের খোরাক। গান মানুষের অন্তরকে ব্যাপকভাবে কলুষিত করে এবং মস্তিষ্ককে মন্দ কাজের দিকে অনুপ্রাণিত করে। গানের কথাগুলো দ্বারা মানুষ ব্যাপক প্রভাবিত হয়। মানুষের চিন্তাধারা এভাবে পরিণত হয়েছে যে, গান ভালো কোনো বস্তু, কাজেই তাতে যা বলা হবে তা নিঃসন্দেহে ভালো। অনেক হারাম সম্পর্ক শুরু হয় গানের কথার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে। আর যখন সম্পর্কচ্ছেদ হয় তখন গানের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে অনেকে মাদক হাতে নেয়, অনেকে আত্মহত্যা করে; আরও কত কী! প্রেম-সম্পর্কিত কারণে আত্মহত্যা করেছে এমন কারও সোশ্যাল মিডিয়ার এক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ করলে এটা খুব সহজে আঁচ করতে পারা যাবে যে, সেই ব্যক্তি ব্যাপকহারে গান দ্বারা প্রভাবিত ছিল। গান অন্তরের রোগ বাড়ায়। দ্বীনে আসার পর অনেকে গান-বাজনা থেকে ফিরে আসতে চায়, কিন্তু যেহেতু এটাও এক ধরনের আসক্তি তাই এ থেকে এক নিমিষেই সরে আসাটা কিছুটা কষ্টসাধ্য। যারা কঠিনভাবে গান-বাজনায় ডুবে ছিল তারা ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিতে পারে। নিজেকে তৈরি করতে হবে গান ছেড়ে দেয়ার জন্য। ধাপে ধাপে আগাতে হবে। কঠিন বাজনা-সংবলিত গানগুলো ছেড়ে তুলনামূলক কম বাজনাবিশিষ্ট এবং ভালো কথাবিশিষ্ট গান শোনার অনুশীলন করা যেতে পারে। অতঃপর একটা সময় প্রয়োজনে নাশিদ শোনা যেতে পারে, যেসবে বাজনা নেই। তারপর গান পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দিয়ে গানের প্রতিস্থাপন করতে হবে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এভাবে ধীরে ধীরে গান-বাজনা থেকে ফিরে আসা সম্ভব।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 ধোঁয়ার জীবন

📄 ধোঁয়ার জীবন


প্রেম ও গানবাজনার সাথে মাদক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অধিকাংশ যুবক মাদকের সাথে জড়ায় প্রেমে ব্যর্থ হয়েই। আর গান তাকে প্রভাবিত করে পরোক্ষভাবে, এমনকি অনেক সময় প্রত্যক্ষভাবেও। যারা নিয়মিত মাদক সেবনকারী নয় বরং মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে মাদক সেবন করেছে, তাদের জন্য মাদক থেকে ফিরে আসা কঠিন কিছু না। কিন্তু যারা এতে পুরোপুরি আসক্ত তাদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হতে পারে। গানের প্রতি আসক্তদের জন্য যেমন ধীরে ধীরে আগানো উচিত, মাদকাসক্তদের জন্যেও অনুরূপ। ধীরে ধীরে মাদক থেকে সরে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধাপগুলো হতে পারে:
* ভালোভাবে নিয়ত করতে হবে। একটা একটা করে কমিয়ে আনতে হবে, ধীরে-সুস্থে এগিয়ে পুরোপুরিভাবে সরে আসতে হবে। * অবশ্যই আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে সাহায্য চাইতে হবে। * বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। * সৎ লোকদের সাথে চলতে হবে, যাতে লোকলজ্জার কারণে অন্তত মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়।
* শরীরে সুন্নাহসম্মত লিবাস আনা প্রয়োজন। এতে লোকলজ্জার কারণে হলেও ধুমপান বা মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়। * এসব ক্ষেত্রে রমাদান মাসকে কাজে লাগানো যেতে পারে।

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 নীল সাগরের ফেনার জীবন

📄 নীল সাগরের ফেনার জীবন


চারদিক এক অশ্লীলতার আঁধারে ছেয়ে গিয়েছে। সমাজে মুসলিম পুরুষদের মাঝে অনেকেই একটা সময় জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। বড় বড় পাপগুলো ছিল তাদের কাছে মামুলি বিষয়। আল্লাহর ফাযল ও কারমে এমন অনেকেই ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসে। কিন্তু তবুও আগের ভুতুড়ে সেসব স্মৃতি প্রতিনিয়ত তাদেরকে হাতছানি দেয়। মাঝে মাঝে বীরেরা হেরে যায় অন্তরের সাথে এক ঠান্ডা যুদ্ধে। রাজ্যের বিষাদ গ্রাস করে তাকে। বিয়েই যেন একমাত্র সমাধান। কিন্তু যিনা-ব্যভিচার এখন সহজ, বিয়ে হয়ে গিয়েছে কঠিন। যিনা কি কেবল নারী-পুরুষের অবৈধ যৌনক্রিয়াতেই হয়? না! ভোগবাদী সমাজ আজ মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে একটা ভিন্ন জগতের সাথে। সেই জগৎ আমাদের থেকে একটি ক্লিক আর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানের দূরত্বে। বলছি পর্নোগ্রাফির নীল অন্ধকারের কথা। ওই গহিন সাগরে ডুব লাগিয়ে ফিরে আসতে পারেনি অনেকে। কীভাবে বোঝাই পর্নোগ্রাফির তিরে বিদ্ধ হয়ে কত সাদা পায়রা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে! এ নিয়ে লিখলে কয়েক পাতায় শেষ করা কি আদৌ সম্ভব? তাই সামনে একটু বিস্তৃত করেই আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়ে এখানেই মুলতুবি...

📘 মুহসিনীন উত্তম পুরুষদের পাঠশালায় > 📄 মন বুঝে কথা বলা

📄 মন বুঝে কথা বলা


নারীদের তুলনায় পুরুষদেরকে মানুষের সাথে অধিক সংযোগ স্থাপন করতে হয়। দৈনন্দিন জীবনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কর্মক্ষেত্রে, ঘরে এবং দা'ওয়াতি ময়দানে অনেক মানুষের সাথে উঠবস করতে হয় পুরুষদের। একেকজনের চিন্তাধারা একেক রকম, তাই প্রত্যেকের সাথে কথা বলার সময় কে কোন চিন্তাধারার সে সম্পর্কে ধারণা রাখা এবং মানসিকতা বুঝে কথা বলায় পারদর্শিতা অর্জন করতে হয় পুরুষদের। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও সহপাঠী কিংবা কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের সাথে কীভাবে কথাবার্তা বলতে হবে তা জানা জরুরি। যাদের দ্বীনের বুঝ নেই তাদের সাথে কথা বলার সময় নম্রতা ও ভদ্রতা বজায় রাখা দরকার, যাতে এই আচরণে বিমোহিত হয়ে তারা দ্বীনের প্রতি আকৃষ্ট হয়। অনেক সময় তারা লিবাসের জন্য টিটকারি মেরে অনেক প্রশ্ন করতে পারে। উত্তর দেয়ার একান্ত প্রয়োজন না হলে চুপ থাকাই উত্তম। আর উত্তর দেয়া আবশ্যক হলে হিকমাহ ও বিচক্ষণতার সাথে উত্তর দিতে হবে। যদি আপনি বিচক্ষণতার প্রমাণ দিতে পারেন এবং তাদের তির তাদের দিকেই ফিরিয়ে দিতে পারেন একটা সময় তারা আপনাকে উত্ত্যক্ত করা থেকে বিরত থাকতে শুরু করবে।

দা'ওয়াতি ক্ষেত্রে মাদ'উ বা যাকে দা'ওয়াহ দেয়া হচ্ছে তার অঙ্গভঙ্গি লক্ষ করা এবং তার মনস্তত্ত্ব বোঝার চেষ্টা করা অত্যন্ত জরুরি। তাই তাকে আগে কিছুক্ষণ কথা বলতে দেয়া যেতে পারে, এই ফাঁকে তাকে পর্যবেক্ষণ করার যথেষ্ট সময় পাওয়া যাবে। আমরা অনেক সময় একটা ভুল করি, মাদ'উকে আমরা কথার মাধ্যমে আক্রমণ করে বসি। এতে শুধরানো তো দূরের কথা, হিতে বিপরীত হওয়ারই সম্ভাবনা অধিক। কোথায় কোন কথা বলতে হয় না আর. কোথায় কোন কথা বলতে হয় এই বিষয়ে আমাদের সঠিক ধারণা থাকতে হবে।

সর্বোপরি, সবচেয়ে সাবধানে কথা বলা উচিত ঘরের মানুষদের সাথে। এ ক্ষেত্রে কয়েকটা প্রেক্ষাপট হতে পারে:

* আপনি দ্বীনদার, পরিবার তেমন দ্বীনদার না : কোনো ব্যক্তির মাঝে হঠাৎ পরিবর্তন ঘটলে পরিবারের কাছে অনেক সময় আপন সন্তানকে অচেনা মনে হতে থাকে। এ ছাড়া, শয়তান যখন সদ্য দ্বীনে আসা সেই ব্যক্তিকে কাবু করতে অক্ষম হয় তখন সে তার পরিবারকে প্ররোচিত করে তাকে ভালো কাজ থেকে বিরত রাখতে। অথবা এর বিপরীতে পরিবার তথা বাবা-মায়ের ওপর সে যাতে চড়াও হয়ে যায় সেই চেষ্টা করে। উভয় ক্ষেত্রে শয়তান জয়ী। অধিকাংশ সময় দেখা যায়, আমরা এই দুইয়ের যেকোনো এক ফাঁদে পরে যাই। তাই শয়তানের ফাঁদ চিনতে হবে।
* আপনার বিয়ের প্রয়োজন, পরিবার অবুঝ : সমাজ এতটাই অবুঝ করে দিয়েছে আমাদেরকে যে সত্য, সুন্দর ও সহজাত একটি বিষয়কে আমরা কঠিনভাবে দেখতে শুরু করেছি। ক্ষুধার্ত হলে খাদ্যের প্রয়োজন হয় এটা যেমন স্বাভাবিক, জৈবিক চাহিদা থাকাটাও তেমনি স্বাভাবিক। আল্লাহ ব্যবস্থা রেখেছেন বিয়ের, এটাই সহজ। আর বিপরীতে রয়েছে যিনা, সেটাই বরং কঠিন। কিন্তু বস্তুখোর সমাজ এখানে সফল, তারা সহজাতকে উল্টো করতে সক্ষম হয়েছে! আর আমাদের মা-বাবারাও সেই তালে চলছে। সন্তান তার নিজের বিয়ের ইচ্ছের কথা পরিবারকে জানালে অনেক মা-বাবাই হয় সন্তানকে তিরস্কার করে অথবা 'সময় হলে বিয়ে দেয়া হবে' এই আশ্বাস দিয়ে প্রেম চালিয়ে যেতে বলে!

তাই এই অবস্থায় বিয়ের অত্যন্ত প্রয়োজন হলে এবং বারবার গুনাহে জড়িয়ে যাওয়ার উপক্রম হলে বাবা-মাকে নাছোড়বান্দার মতো বোঝাতে হবে উত্তম আখলাক বজায় রেখে। কিছু পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হয়। একমাত্র অভিভাবক আল্লাহ। তাই আল্লাহর কাছে কেঁদে কেঁদে দু'আ করতে হবে।
* আপনি বিবাহিত, পরিবার দ্বীনদার না : এই পরিস্থিতিতে স্ত্রীর পর্দা রক্ষা, দম্পতির ব্যক্তিগত সময় কাটানো, পরবর্তী প্রজন্মকে দ্বীনি পরিবেশে বড় করাসহ আরও বেশ কিছু বিষয়ে ঝামেলা পোহাতে হতে পারে। এসবও খুব সবর ও বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিচালনা করতে হবে। এখানে পুরুষের মাথার ওপর অনেক বড় একটা কর্তব্য হচ্ছে মা এবং স্ত্রীর মাঝে ইনসাফ ঠিক রাখা। পরে এই বিষয়ে আমরা আলোচনা পাব।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00