📄 পুরুষের অন্যতম প্রধান দুর্বলতা নারী
গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড কালচার আমাদের সমাজকে গ্রাস করে নিচ্ছে আধুনিকতার নামে। যুবসমাজের চোখে এমন এক অদ্ভুত চশমা এঁটে আছে, তারা এভাবে ভাবতে শুরু করেছে যে, যার গার্লফ্রেন্ড নেই সে যেন নপুংসক। ফলে নপুংসক তকমা থেকে পিঠ বাঁচাতে ছোট্টো-খাটো কিশোরেরাও আজ প্রেমপ্রেম খেলায় ব্যস্ত। এই চিন্তাধারার প্রতিফলন হচ্ছে : সমাজের ভূরি ভূরি অনৈতিক সম্পর্ক, পর্নোগ্রাফিপর্নোগ্রাফি, ধর্ষণ, গণ-ধর্ষণ, হত্যা, আত্মহত্যা, ড্রেনে পড়ে থাকা সদ্য জন্ম নেয়া শিশু, বিয়ের পরও নিষিদ্ধ বিষয়ের প্রতি মোহের কারণে পরকীয়া, পতিতালয়ে গমন আরও কত কী!
পুরুষেরা যখন দ্বীনে ফিরে তখন তাদের একটা বেগ পেতে হয় হারাম সম্পর্ক থেকে সরে আসার সময়। প্রথম প্রথম বিপরীত লিঙ্গের মানুষটার প্রতি একটা মায়া কাজ করে স্বভাবগতভাবেই। পরবর্তীকালে দ্বীনের সামান্য পরিপক্কতা ও রবের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা যখন অন্তরে বীজ বুনে তখন সেই নিষিদ্ধ প্রেয়সীর প্রতি মায়া ঘোর কাটার মতোই বিলীন হয়ে যায় অনেকটা। বোঝা যায় যেন চোখের সামনে একটা পর্দা ছিল, পর্দাটা সরে গিয়েছে তাই এখন বাস্তবতা দেখা যাচ্ছে। সে বুঝে নিতে পারে যে, যেই সম্পর্ক সে গড়ে তুলেছে চোরাবালির ওপর, তা কখনোই অসীম নয়; ভঙ্গুর। তাই সে সরে আসতে চায়। কিন্তু অপরপক্ষ তো নাদান। তার ওপর রয়েছে শয়তানের ওয়াসওয়াসা। সে খুব বোঝানোর চেষ্টা করতে থাকবে যে, এভাবে তার পক্ষে বাঁচা সম্ভব নয়। এসবে তোয়াক্কা করেই আল্লাহর ভয়ে সরে আসতে চেয়েও অনেকে বছরের পর বছর হারাম সম্পর্কের সাথে জুড়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে সমাধান আসলে নিজের কাছেই। নিজেকে ভালো করে বোঝাতে হবে। এ রকম আবেগে পাত্তা না দেয়া, নিজের নিয়তের ওপর অটল থাকা এবং অন্তর পরিবর্তনকারী রবের কাছে দু'আ করা যাতে অন্তরকে তিনি শক্ত রাখেন এবং সেই বোনের অন্তরকে অন্য দিকে প্রবাহিত করে দেন। আর যদি বিপরীত লিঙ্গের সেই ব্যক্তির প্রতি আবেগ থেকে যায়, তাহলে তাকে দু'আতে এভাবে চাওয়া, “হে আল্লাহ, যদি সে আমার দ্বীন ও দুনিয়ার জন্য ভালো হয়, তাহলে আমার নিয়তিতে তাকে লিখে দিন।"
সব ঝামেলা দূর করে যখন একজন হারাম সম্পর্ক থেকে সরে আসতে আল্লাহর ইচ্ছায় সক্ষম হয়, তখন তার অন্তর খুঁজে এমন এক মানুষকে যে তারই পথের পথিক। যে তারই মতো করে আল্লাহকে ভালোবাসে। ইসলামকে যে জড়িয়ে নিয়েছে নিজের শরীরে, অন্তরে ও মনমগজে। এই অবস্থায় এসে অনেকে পড়ে যায় আরেক ফিতনায়। রাস্তা-ঘাটে, কলেজ-ভার্সিটিতে কোনো পর্দানশীন বোন দেখলেই তখন অন্তরটাতে চিলিক দিয়ে ওঠে। তাকে নিয়ে ভাবতে ভালো লাগে, একটু বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে হয়, একটু কথা বলতে মন চায়-যেহেতু একই চিন্তাধারার দুজনই। সামাজিক যোগাযোগ-মাধ্যমে কোনো বোনের দ্বীনি পোস্ট পেলে প্রোফাইল ঘাঁটার সময় বুকের ধুকুর-পুকুর বেড়ে যায়। একটা কমেন্ট করে দিতে ইচ্ছা করে, ম্যাসেজে একটু ইসলামিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে ইচ্ছা করে! আর এভাবেই অনেক সময় সূচনা ঘটে আরেক কালো অধ্যায়ের। নেক সুরতে ধোঁকা দেয় শয়তান। দ্বীনি লিবাস, দাড়ি বা নিকাব, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত এ্যাডেড উইথ তাহাজ্জুদ; দ্বীনি উদ্দেশ্যে ম্যাসেজিং শুরু করে দিন শেষে ম্যাসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি আদান-প্রদান! এটা ধ্রুব সত্য। সবার জীবনের ঘটনা নয়, তবে অনেকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সেই অনেকের কাতারে 'আমি' যাতে চলে না যাই, তাই আগে থেকেই চিন্তা করতে হবে। নিজের লজ্জাস্থান ও নজর হেফাযতের কথা আগ থেকেই ভাবতে হবে, শয়তানের টোপে নিজের ঠোঁট বেজে যাওয়ার পরে তা যাতে ধ্বংসের কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।
📄 সুরের ডামাঢোল
রিলেশনশিপ কালচারের সাথেই যেন গান-বাজনার একটা গভীর যোগসূত্র পাওয়া যায়। বাদলা দিনের গান, একাকিত্বের গান এসব শোনার পর একাকিত্ব বাড়ে, মনের মাঝে প্রেমভাব জাগে, প্রেমিকা খুঁজতে ইচ্ছা করে। যখন সম্পর্ক শুরু হয় তখন প্রেমের গানগুলো শুনতে খুবই ভালো লাগে। যখন একটু ঝগড়া হয় তখন বিরহের গানগুলো শুনে শুনে রাত কাটে। তারপর যখন ছেড়ে চলে যায় তখন ছ্যাঁকা খাওয়া গানগুলো হয় অন্তরের খোরাক। গান মানুষের অন্তরকে ব্যাপকভাবে কলুষিত করে এবং মস্তিষ্ককে মন্দ কাজের দিকে অনুপ্রাণিত করে। গানের কথাগুলো দ্বারা মানুষ ব্যাপক প্রভাবিত হয়। মানুষের চিন্তাধারা এভাবে পরিণত হয়েছে যে, গান ভালো কোনো বস্তু, কাজেই তাতে যা বলা হবে তা নিঃসন্দেহে ভালো। অনেক হারাম সম্পর্ক শুরু হয় গানের কথার মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে। আর যখন সম্পর্কচ্ছেদ হয় তখন গানের মাধ্যমে প্রভাবিত হয়ে অনেকে মাদক হাতে নেয়, অনেকে আত্মহত্যা করে; আরও কত কী! প্রেম-সম্পর্কিত কারণে আত্মহত্যা করেছে এমন কারও সোশ্যাল মিডিয়ার এক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ করলে এটা খুব সহজে আঁচ করতে পারা যাবে যে, সেই ব্যক্তি ব্যাপকহারে গান দ্বারা প্রভাবিত ছিল। গান অন্তরের রোগ বাড়ায়। দ্বীনে আসার পর অনেকে গান-বাজনা থেকে ফিরে আসতে চায়, কিন্তু যেহেতু এটাও এক ধরনের আসক্তি তাই এ থেকে এক নিমিষেই সরে আসাটা কিছুটা কষ্টসাধ্য। যারা কঠিনভাবে গান-বাজনায় ডুবে ছিল তারা ধীরে ধীরে পদক্ষেপ নিতে পারে। নিজেকে তৈরি করতে হবে গান ছেড়ে দেয়ার জন্য। ধাপে ধাপে আগাতে হবে। কঠিন বাজনা-সংবলিত গানগুলো ছেড়ে তুলনামূলক কম বাজনাবিশিষ্ট এবং ভালো কথাবিশিষ্ট গান শোনার অনুশীলন করা যেতে পারে। অতঃপর একটা সময় প্রয়োজনে নাশিদ শোনা যেতে পারে, যেসবে বাজনা নেই। তারপর গান পুরোপুরিভাবে ছেড়ে দিয়ে গানের প্রতিস্থাপন করতে হবে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এভাবে ধীরে ধীরে গান-বাজনা থেকে ফিরে আসা সম্ভব।
📄 ধোঁয়ার জীবন
প্রেম ও গানবাজনার সাথে মাদক ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অধিকাংশ যুবক মাদকের সাথে জড়ায় প্রেমে ব্যর্থ হয়েই। আর গান তাকে প্রভাবিত করে পরোক্ষভাবে, এমনকি অনেক সময় প্রত্যক্ষভাবেও। যারা নিয়মিত মাদক সেবনকারী নয় বরং মাঝে মাঝে আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে মাদক সেবন করেছে, তাদের জন্য মাদক থেকে ফিরে আসা কঠিন কিছু না। কিন্তু যারা এতে পুরোপুরি আসক্ত তাদের জন্য কিছুটা কষ্টসাধ্য হতে পারে। গানের প্রতি আসক্তদের জন্য যেমন ধীরে ধীরে আগানো উচিত, মাদকাসক্তদের জন্যেও অনুরূপ। ধীরে ধীরে মাদক থেকে সরে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে ধাপগুলো হতে পারে:
* ভালোভাবে নিয়ত করতে হবে। একটা একটা করে কমিয়ে আনতে হবে, ধীরে-সুস্থে এগিয়ে পুরোপুরিভাবে সরে আসতে হবে। * অবশ্যই আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে সাহায্য চাইতে হবে। * বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করতে হবে। * সৎ লোকদের সাথে চলতে হবে, যাতে লোকলজ্জার কারণে অন্তত মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়।
* শরীরে সুন্নাহসম্মত লিবাস আনা প্রয়োজন। এতে লোকলজ্জার কারণে হলেও ধুমপান বা মাদক সেবন থেকে বিরত থাকা সম্ভব হয়। * এসব ক্ষেত্রে রমাদান মাসকে কাজে লাগানো যেতে পারে।
📄 নীল সাগরের ফেনার জীবন
চারদিক এক অশ্লীলতার আঁধারে ছেয়ে গিয়েছে। সমাজে মুসলিম পুরুষদের মাঝে অনেকেই একটা সময় জাহিলিয়াতের ঘোর অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। বড় বড় পাপগুলো ছিল তাদের কাছে মামুলি বিষয়। আল্লাহর ফাযল ও কারমে এমন অনেকেই ইসলামের ছায়াতলে ফিরে আসে। কিন্তু তবুও আগের ভুতুড়ে সেসব স্মৃতি প্রতিনিয়ত তাদেরকে হাতছানি দেয়। মাঝে মাঝে বীরেরা হেরে যায় অন্তরের সাথে এক ঠান্ডা যুদ্ধে। রাজ্যের বিষাদ গ্রাস করে তাকে। বিয়েই যেন একমাত্র সমাধান। কিন্তু যিনা-ব্যভিচার এখন সহজ, বিয়ে হয়ে গিয়েছে কঠিন। যিনা কি কেবল নারী-পুরুষের অবৈধ যৌনক্রিয়াতেই হয়? না! ভোগবাদী সমাজ আজ মানুষকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে একটা ভিন্ন জগতের সাথে। সেই জগৎ আমাদের থেকে একটি ক্লিক আর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানের দূরত্বে। বলছি পর্নোগ্রাফির নীল অন্ধকারের কথা। ওই গহিন সাগরে ডুব লাগিয়ে ফিরে আসতে পারেনি অনেকে। কীভাবে বোঝাই পর্নোগ্রাফির তিরে বিদ্ধ হয়ে কত সাদা পায়রা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে! এ নিয়ে লিখলে কয়েক পাতায় শেষ করা কি আদৌ সম্ভব? তাই সামনে একটু বিস্তৃত করেই আনার চেষ্টা করা হয়েছে। এই বিষয়ে এখানেই মুলতুবি...