📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গোসল ও কাফন
রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর দিন তথা সোমবার দিনটি খলীফা নির্বাচন করার মধ্য দিয়েই কেটে যায়। ফলে মঙ্গলবারের দিন সকালে তাঁকে গোসল দেয়া হয়। গোসলের কাজে অংশ নেন চাচা আব্বাস (রাঃ), তার দুই পুত্র ফযল ও কুছাম, রাসূলুল্লাহ এর আযাদকৃত ক্রীতদাস শুকুরান, উসামা বিন যায়েদ, আওস বিন খাওলী এবং আলী (রাঃ) সহ সর্বমোট ৭ জন। এ সময় আওস বিন খাওলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর দেহ নিজের বুকের উপরে ঠেস দিয়ে রাখেন। আব্বাস ও তার পুত্রদ্বয় তাঁর দেহের পার্শ্ব পরিবর্তন করে দেন। উসামা ও শুকুরান পানি ঢালেন এবং আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর দেহ ধৌত করেন। এ সময় তারা রাসূলুল্লাহ এর পরিহিত পোশাক খোলা হতে বিরত থাকেন।
তারপর তারা তাঁকে তিনটি সাদা ইয়ামেনী চাদর দ্বারা কাফন পরিয়ে দেন। আর এগুলোর মধ্যে জামা কিংবা কোন ধরনের পাগড়ী ছিল না।১৬৫
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোসল ও কাফন সম্পন্ন করার পর সাহাবীগণের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, যেহেতু তারা ইতিপূর্বে কোন নবীর মৃত্যু দেখেননি। অতঃপর তারা এ বিষয়ে নবনির্বাচিত খলীফা আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা পড়া হবে। আর তা এ নিয়মে যে, একদল লোক প্রবেশ করবে, তারা তাকবীর বলবে, দু'আ করবে এবং দরূদ পাঠ করবে। তারা বের হয়ে এলে আরেক দল প্রবেশ করে একই নিয়মে তাকবীর, দু'আ ও দরূদ পড়ে বের হয়ে আসবে। এ নিয়মে জামা'আত ছাড়া সকলে আলাদা আলাদা জানাযার সালাত আদায় করবে। ১৬৬ ফলে সাহাবীগণ ১০ জন করে ভেতরে প্রবেশ করে এই নিয়মে জানাযা সালাত আদায় করলেন। আর এসব প্রক্রিয়া মঙ্গলবারের সারা দিন ও রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন: এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন কার্য সম্পাদন করা নিয়েও সাহাবীগণের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেননা কোন সাহাবীই এ কাজ করতে সাহস পাচ্ছিলেন না। ফলে তারা এ বিষয়েও আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ- তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি যে স্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন সেখানেই তাঁকে দাফন দেয়া হবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর পছন্দের স্থানেই তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন।১৬৭ তিনি আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, নবীগণ যেখানে মৃত্যুবরণ করেন, সেখানেই কবরস্থ হন। ১৬৮
আবু বকর (রাঃ) এর নিকট হতে এসব কথা শোনার পর সাহাবীগণের মধ্যে বিদ্যমান সকল মতভেদের অবসান হয়। অতঃপর আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিছানা উঠিয়ে নেন এবং সেখানেই তাঁর জন্য কবর খনন করেন।১৬৯ অতঃপর আলী ইবনে আবু তালিব, ফযল ইবনে আব্বাস, কুছাম ইবনে আব্বাস, শুকুরান ও আউস ইবনে খাওলী (রাঃ) কবরে নেমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে কবরস্থ করেন।১৭০
টিকাঃ
১৬৫ সহীহ বুখারী, হা/১২৬৪; সহীহ মুসলিম, হা/৯৪১; মিশকাত, হা/১৬৩৫।
১৬৬ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬৭ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬৮ ইবনে মাজাহ, হা/১৬২৮।
১৬৯ ইবনে মাজাহ, হা/১৫৫৭।
১৭০ ইবনে হিশাম ২/৬৬৪।
রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর দিন তথা সোমবার দিনটি খলীফা নির্বাচন করার মধ্য দিয়েই কেটে যায়। ফলে মঙ্গলবারের দিন সকালে তাঁকে গোসল দেয়া হয়। গোসলের কাজে অংশ নেন চাচা আব্বাস (রাঃ), তার দুই পুত্র ফযল ও কুছাম, রাসূলুল্লাহ এর আযাদকৃত ক্রীতদাস শুকুরান, উসামা বিন যায়েদ, আওস বিন খাওলী এবং আলী (রাঃ) সহ সর্বমোট ৭ জন। এ সময় আওস বিন খাওলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর দেহ নিজের বুকের উপরে ঠেস দিয়ে রাখেন। আব্বাস ও তার পুত্রদ্বয় তাঁর দেহের পার্শ্ব পরিবর্তন করে দেন। উসামা ও শুকুরান পানি ঢালেন এবং আলী (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর দেহ ধৌত করেন। এ সময় তারা রাসূলুল্লাহ এর পরিহিত পোশাক খোলা হতে বিরত থাকেন।
তারপর তারা তাঁকে তিনটি সাদা ইয়ামেনী চাদর দ্বারা কাফন পরিয়ে দেন। আর এগুলোর মধ্যে জামা কিংবা কোন ধরনের পাগড়ী ছিল না।১৬৫
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর গোসল ও কাফন সম্পন্ন করার পর সাহাবীগণের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়, যেহেতু তারা ইতিপূর্বে কোন নবীর মৃত্যু দেখেননি। অতঃপর তারা এ বিষয়ে নবনির্বাচিত খলীফা আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জানাযা পড়া হবে। আর তা এ নিয়মে যে, একদল লোক প্রবেশ করবে, তারা তাকবীর বলবে, দু'আ করবে এবং দরূদ পাঠ করবে। তারা বের হয়ে এলে আরেক দল প্রবেশ করে একই নিয়মে তাকবীর, দু'আ ও দরূদ পড়ে বের হয়ে আসবে। এ নিয়মে জামা'আত ছাড়া সকলে আলাদা আলাদা জানাযার সালাত আদায় করবে। ১৬৬ ফলে সাহাবীগণ ১০ জন করে ভেতরে প্রবেশ করে এই নিয়মে জানাযা সালাত আদায় করলেন। আর এসব প্রক্রিয়া মঙ্গলবারের সারা দিন ও রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন: এবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাফন কার্য সম্পাদন করা নিয়েও সাহাবীগণের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেননা কোন সাহাবীই এ কাজ করতে সাহস পাচ্ছিলেন না। ফলে তারা এ বিষয়েও আবু বকর (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, হ্যাঁ- তাঁকে দাফন করা হবে। তিনি যে স্থানে মৃত্যুবরণ করেছেন সেখানেই তাঁকে দাফন দেয়া হবে। কেননা আল্লাহ তা'আলা তাঁর পছন্দের স্থানেই তাঁকে মৃত্যু দিয়েছেন।১৬৭ তিনি আরো বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে বলতে শুনেছি যে, নবীগণ যেখানে মৃত্যুবরণ করেন, সেখানেই কবরস্থ হন। ১৬৮
আবু বকর (রাঃ) এর নিকট হতে এসব কথা শোনার পর সাহাবীগণের মধ্যে বিদ্যমান সকল মতভেদের অবসান হয়। অতঃপর আবু তালহা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিছানা উঠিয়ে নেন এবং সেখানেই তাঁর জন্য কবর খনন করেন।১৬৯ অতঃপর আলী ইবনে আবু তালিব, ফযল ইবনে আব্বাস, কুছাম ইবনে আব্বাস, শুকুরান ও আউস ইবনে খাওলী (রাঃ) কবরে নেমে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে কবরস্থ করেন।১৭০
টিকাঃ
১৬৫ সহীহ বুখারী, হা/১২৬৪; সহীহ মুসলিম, হা/৯৪১; মিশকাত, হা/১৬৩৫।
১৬৬ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬৭ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬৮ ইবনে মাজাহ, হা/১৬২৮।
১৬৯ ইবনে মাজাহ, হা/১৫৫৭।
১৭০ ইবনে হিশাম ২/৬৬৪।
📄 নবী ﷺ এর প্রতি দরূদ
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও নবীর জন্য রহমত প্রার্থনা করে। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার জন্য রহমত প্রার্থনা করো এবং তার প্রতি সালাম প্রেরণ করো। (সূরা আহযাব- ৫৬) اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা 'আলা ইবরা-হীমা ওয়া 'আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা 'আলা ইবরা-হীমা ওয়া 'আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ ।
অর্থ : হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর। নিঃসন্দেহে আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমনিভাবে বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর। নিঃসন্দেহে আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।১৭১
টিকাঃ
১৭১ সহীহ বুখারী, হা/৩৩৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮১৫৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৮৭২৪; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৭৪৫; মিশকাত, হা/৯১৯।
إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
নিশ্চয় আল্লাহ নবীর প্রতি রহমত প্রেরণ করেন এবং তাঁর ফেরেশতারাও নবীর জন্য রহমত প্রার্থনা করে। হে ঈমানদারগণ! তোমরাও তার জন্য রহমত প্রার্থনা করো এবং তার প্রতি সালাম প্রেরণ করো। (সূরা আহযাব- ৫৬) اللَّهُمَّ صَلِّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ اللَّهُمَّ بَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَعَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَجِيدٌ
উচ্চারণ : আল্লা-হুম্মা সাল্লি 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা সাল্লাইতা 'আলা ইবরা-হীমা ওয়া 'আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। আল্লা-হুম্মা বারিক 'আলা মুহাম্মাদিও ওয়া 'আলা আ-লি মুহাম্মাদ, কামা বা-রাকতা 'আলা ইবরা-হীমা ওয়া 'আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ ।
অর্থ : হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর রহমত বর্ষণ করুন, যেমনিভাবে আপনি রহমত বর্ষণ করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর। নিঃসন্দেহে আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত। হে আল্লাহ! মুহাম্মাদ ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর বরকত নাযিল করুন, যেমনিভাবে বরকত নাযিল করেছেন ইবরাহীম ও তাঁর পরিবারবর্গের উপর। নিঃসন্দেহে আপনি প্রশংসিত ও সম্মানিত।১৭১
টিকাঃ
১৭১ সহীহ বুখারী, হা/৩৩৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৮১৫৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৮৭২৪; মুসনাদে হুমাইদী, হা/৭৪৫; মিশকাত, হা/৯১৯।