📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 বিদায় হজ্জ

📄 বিদায় হজ্জ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পালিত একমাত্র হজ্জই হচ্ছে বিদায় হজ্জ। । এ হজ্জে ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। যেহেতু এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের শেষ হজ্জ, কাজেই সার্বিক দিক থেকেই এই হজ্জের গুরুত্ব ছিল অনেক ঊর্ধ্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন সাহাবীগণও অনেকটা অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, হয়তো এ বছরের পর তারা আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হতে পারবেন না। যার ফলেই এত বিপুল পরিমাণ সাহাবী এ হজ্জে একত্রিত হয়েছিলেন। আর এ হজ্জের মাধ্যমেই সাহাবীগণ হজ্জ পালনের যাবতীয় নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
মক্কার পথে যাত্রা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষে এ হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে বের হয়েছিলেন যিলকদ মাসের ২৬ তারিখে তথা জিলহজ্জ মাসের ৪ দিন বাকি থাকতে। যখন তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে শিবির স্থাপন করলেন। তারপর সেখানে তিনি আসরের নামায কসর করে আদায় করলেন। সে রাত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। পরের দিন তিনি যোহরের নামাযের পূর্বে ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করলেন এবং যোহরের নামাযও কসর করে আদায় করলেন। এরপর সেখান থেকেই হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। তারপর তিনি কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে আবারো “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে ফাঁকা ময়দানে এসে সেখানেও উচ্চকণ্ঠে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সাত দিন পর মক্কার পার্শ্ববর্তী স্থান “যী-তোওয়া" নামক স্থানে পৌঁছে সেখানে যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। তার পরের দিন সকালে তিনি ফজরের নামায আদায় করে গোসল করেন এবং সকালেই মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন দিনটি ছিল ১০ম হিজরীর ৪ঠা জিলহজ্জ রোজ রবিবার।
উমরা পালন: রাসূলুল্লাহ মক্কায় প্রবেশ করেই প্রথমে উমরা পালন করেন। তিনি প্রথমে কাবাঘর তাওয়াফ করেন১২৩, তারপর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।১২৪ তারপর সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেন।১২৫ তারপর তিনি হালাল না হয়ে সে অবস্থাতেই থেকে যান। কেননা তিনি হজ্জ ও উমরা পালনের উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে ইহরাম বেঁধেছিলেন। তাছাড়া তাঁর সাথে হাদী তথা কুরবানীর পশুও ছিল।
সাহাবীদের ইতস্ততবোধ : রাসূলুল্লাহ এর সাথে যেসব সাহাবী এসেছিলেন, তাদের অনেকেই কুরবানীর পশু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিলেন না। তাই রাসূলুল্লাহ তাদেরকে উমরা সম্পন্ন করার পর হালাল হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু যেহেতু রাসূলুল্লাহ নিজে হালাল হচ্ছিলেন না, তাই সকলেই ইতস্ততবোধ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যা পরে জানলাম তা যদি আগেই জানতে পারতাম তাহলে আমি সঙ্গে হাদী নিয়ে আসতাম না। তাছাড়া আমার সাথে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।১২৬ রাসূলুল্লাহ এর মুখ থেকে এসব কথা শোনার পর যাদের সাথে হাদী ছিল না তারা সকলেই হালাল হয়ে গেলেন।
মিনায় গমন : তারপর রাসূলুল্লাহ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ (তালবিয়ার দিন) মিনায় গমন করেন এবং ইতিপূর্বে যেসব সাহাবী হালাল হয়ে গিয়েছিলেন, তারাও হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরিধান করে নেন। তারপর তিনি ৯ই জিলহজ্জের সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ১২৭
আরাফায় অবস্থান : তারপর তিনি আরাফায় গমন করেন এবং ওয়াদীয়ে নামিরা নামক স্থানে তাঁর তাঁবুতে অবতরণ করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে গেলে 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে 'বাতনে ওয়াদী' নামক স্থানে গমন করেন।

টিকাঃ
১২৩ সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৪।
১২৪ সহীহ বুখারী, হা/৪০২।
১২৫ সহীহ বুখারী, হা/১৬০৭।
১২৬ সহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/১২১৮।
১২৭ সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৪, ১২১৮; সহীহ বুখারী, হা/১০৮১; ১০৮৩।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পালিত একমাত্র হজ্জই হচ্ছে বিদায় হজ্জ। । এ হজ্জে ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। যেহেতু এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের শেষ হজ্জ, কাজেই সার্বিক দিক থেকেই এই হজ্জের গুরুত্ব ছিল অনেক ঊর্ধ্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন সাহাবীগণও অনেকটা অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, হয়তো এ বছরের পর তারা আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হতে পারবেন না। যার ফলেই এত বিপুল পরিমাণ সাহাবী এ হজ্জে একত্রিত হয়েছিলেন। আর এ হজ্জের মাধ্যমেই সাহাবীগণ হজ্জ পালনের যাবতীয় নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
মক্কার পথে যাত্রা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষে এ হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে বের হয়েছিলেন যিলকদ মাসের ২৬ তারিখে তথা জিলহজ্জ মাসের ৪ দিন বাকি থাকতে। যখন তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে শিবির স্থাপন করলেন। তারপর সেখানে তিনি আসরের নামায কসর করে আদায় করলেন। সে রাত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। পরের দিন তিনি যোহরের নামাযের পূর্বে ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করলেন এবং যোহরের নামাযও কসর করে আদায় করলেন। এরপর সেখান থেকেই হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। তারপর তিনি কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে আবারো “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে ফাঁকা ময়দানে এসে সেখানেও উচ্চকণ্ঠে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সাত দিন পর মক্কার পার্শ্ববর্তী স্থান “যী-তোওয়া" নামক স্থানে পৌঁছে সেখানে যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। তার পরের দিন সকালে তিনি ফজরের নামায আদায় করে গোসল করেন এবং সকালেই মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন দিনটি ছিল ১০ম হিজরীর ৪ঠা জিলহজ্জ রোজ রবিবার।
উমরা পালন: রাসূলুল্লাহ মক্কায় প্রবেশ করেই প্রথমে উমরা পালন করেন। তিনি প্রথমে কাবাঘর তাওয়াফ করেন১২৩, তারপর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।১২৪ তারপর সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেন।১২৫ তারপর তিনি হালাল না হয়ে সে অবস্থাতেই থেকে যান। কেননা তিনি হজ্জ ও উমরা পালনের উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে ইহরাম বেঁধেছিলেন। তাছাড়া তাঁর সাথে হাদী তথা কুরবানীর পশুও ছিল।
সাহাবীদের ইতস্ততবোধ : রাসূলুল্লাহ এর সাথে যেসব সাহাবী এসেছিলেন, তাদের অনেকেই কুরবানীর পশু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিলেন না। তাই রাসূলুল্লাহ তাদেরকে উমরা সম্পন্ন করার পর হালাল হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু যেহেতু রাসূলুল্লাহ নিজে হালাল হচ্ছিলেন না, তাই সকলেই ইতস্ততবোধ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যা পরে জানলাম তা যদি আগেই জানতে পারতাম তাহলে আমি সঙ্গে হাদী নিয়ে আসতাম না। তাছাড়া আমার সাথে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।১২৬ রাসূলুল্লাহ এর মুখ থেকে এসব কথা শোনার পর যাদের সাথে হাদী ছিল না তারা সকলেই হালাল হয়ে গেলেন।
মিনায় গমন : তারপর রাসূলুল্লাহ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ (তালবিয়ার দিন) মিনায় গমন করেন এবং ইতিপূর্বে যেসব সাহাবী হালাল হয়ে গিয়েছিলেন, তারাও হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরিধান করে নেন। তারপর তিনি ৯ই জিলহজ্জের সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ১২৭
আরাফায় অবস্থান : তারপর তিনি আরাফায় গমন করেন এবং ওয়াদীয়ে নামিরা নামক স্থানে তাঁর তাঁবুতে অবতরণ করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে গেলে 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে 'বাতনে ওয়াদী' নামক স্থানে গমন করেন।

টিকাঃ
১২৩ সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৪।
১২৪ সহীহ বুখারী, হা/৪০২।
১২৫ সহীহ বুখারী, হা/১৬০৭।
১২৬ সহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/১২১৮।
১২৭ সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৪, ১২১৮; সহীহ বুখারী, হা/১০৮১; ১০৮৩।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 আরাফার ঐতিহাসিক ভাষণ

📄 আরাফার ঐতিহাসিক ভাষণ


রাসূলুল্লাহ বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে এসে একটি ভাষণ প্রদান করেন, যা ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষণ নামে পরিচিত। তিনি ভাষণ প্রদানকালে বলেন, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমন হারাম, যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে। সাবধান! জাহেলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহেলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের রবী'আ ইবনে হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বনু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। আর জাহেলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি প্রথমেই যে সুদ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হলো। আর তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার করো। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক রয়েছে। আর আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
ভাষণের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে কী বলবে? তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আঙ্গুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে ইশারা করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” এভাবে তিনি তিনবার বললেন।১২৮ রাসূলুল্লাহ যখন এ ভাষণ শেষ করলেন ঠিক তখনই এ আয়াত নাযিল হয়, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর পরই উমর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে ফেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ যোহর ও আসরের নামায এক সাথে কসর আদায় করলেন। ১২৯

টিকাঃ
১২৮ সহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯।
১২৯ সহীহ বুখারী, হা/১৬৬২; মিশকাত, হা/২৬১৭।

রাসূলুল্লাহ বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে এসে একটি ভাষণ প্রদান করেন, যা ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষণ নামে পরিচিত। তিনি ভাষণ প্রদানকালে বলেন, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমন হারাম, যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে। সাবধান! জাহেলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহেলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের রবী'আ ইবনে হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বনু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। আর জাহেলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি প্রথমেই যে সুদ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হলো। আর তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার করো। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক রয়েছে। আর আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
ভাষণের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে কী বলবে? তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আঙ্গুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে ইশারা করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” এভাবে তিনি তিনবার বললেন।১২৮ রাসূলুল্লাহ যখন এ ভাষণ শেষ করলেন ঠিক তখনই এ আয়াত নাযিল হয়, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর পরই উমর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে ফেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ যোহর ও আসরের নামায এক সাথে কসর আদায় করলেন। ১২৯

টিকাঃ
১২৮ সহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯।
১২৯ সহীহ বুখারী, হা/১৬৬২; মিশকাত, হা/২৬১৭।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 ১০ই জিলহজ্জের ভাষণ

📄 ১০ই জিলহজ্জের ভাষণ


তারপর রাসূলুল্লাহ ৯ই জিলহজ্জের ন্যায় ১০ই জিলহজ্জের দিন আবারো একটি ভাষণ প্রদান করেন। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় ভাষণটি এভাবে এসেছে যে, কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এর তিন মাস হলো ধারাবাহিক- ১. যিলকদ, ২. জিলহজ্জ এবং ৩. মুহাররম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জুমাদিউস সানী এবং শা'বানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেন, এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ ব্যাপারে অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়তো এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেন, এটা কি "জিলহজ্জ” মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটা কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেন, এটা কি (মক্কা) শহর নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটা কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেন, এটা কি ইয়াওমুন নাহার (ঈদুল আযহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেন, এগুলো তেমনি পবিত্র যেমন তোমাদের কাছে আজকের এ দিবস, এ নগরী এবং এ মাস পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ো না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌঁছে দেবে। সম্ভবত অনুপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দেয়া হবে, তাঁরা কেউ কেউ হয়তো এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। ১৩৮

টিকাঃ
১৩৮ সহীহ মুসলিম, হা/৪৪৭৭।

তারপর রাসূলুল্লাহ ৯ই জিলহজ্জের ন্যায় ১০ই জিলহজ্জের দিন আবারো একটি ভাষণ প্রদান করেন। সহীহ মুসলিমের বর্ণনায় ভাষণটি এভাবে এসেছে যে, কাল আবর্তিত হয়ে পূর্বাবস্থায় ফিরে এসেছে, যে অবস্থায় আল্লাহ তা'আলা আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। এক বছর হয় বার মাসে, তন্মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এর তিন মাস হলো ধারাবাহিক- ১. যিলকদ, ২. জিলহজ্জ এবং ৩. মুহাররম। আর রজবও নিষিদ্ধ মাস, যা জুমাদিউস সানী এবং শা'বানের মাঝে অবস্থিত। এরপর তিনি বললেন, এটি কোন্ মাস? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ ব্যাপারে অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। আমরা ভাবলাম যে, তিনি হয়তো এ মাসের নতুন কোন নাম বলবেন। এরপর তিনি বললেন, এটা কি "জিলহজ্জ” মাস নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটা কোন্ শহর? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জানেন। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো এর অপর কোন নাম রাখবেন। তিনি বললেন, এটা কি (মক্কা) শহর নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, এটা কোন্ দিন? আমরা বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি কিছুক্ষণ চুপ রইলেন। এতে আমরা ধারণা করলাম যে, তিনি হয়তো এর অন্য কোন নাম বলবেন। তিনি বললেন, এটা কি ইয়াওমুন নাহার (ঈদুল আযহার দিন) নয়? আমরা বললাম, জী-হ্যাঁ। তিনি বললেন, তোমাদের জান ও মাল এবং রাবী মুহাম্মাদ বলেন, আমি ধারণা করি এর সাথে তিনি তোমাদের মান সম্ভ্রম এ কথা যুক্ত করে বললেন, এগুলো তেমনি পবিত্র যেমন তোমাদের কাছে আজকের এ দিবস, এ নগরী এবং এ মাস পবিত্র। তোমরা খুব শীঘ্রই তোমাদের প্রভুর সাথে মিলিত হবে। তখন তোমাদেরকে তোমাদের কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অতএব তোমরা আমার পরে পথভ্রষ্ট হয়ে একে অন্যের সাথে ঝগড়া-ফাসাদে লিপ্ত হয়ো না। সাবধান! তোমাদের উপস্থিতগণ অবশ্যই অনুপস্থিতদের কাছে আমার এ বাণী পৌঁছে দেবে। সম্ভবত অনুপস্থিত ব্যক্তি যাদের কাছে আমার বাণী পৌঁছে দেয়া হবে, তাঁরা কেউ কেউ হয়তো এখানকার শ্রোতাদের চেয়ে অধিকতর সংরক্ষণকারী হবে। ১৩৮

টিকাঃ
১৩৮ সহীহ মুসলিম, হা/৪৪৭৭।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তেকাল

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ইন্তেকাল


রাসূলুল্লাহ হজ্জ থেকে ফেরার পর জীবনের বাকি দিনগুলো মদিনাতেই কাটিয়ে দেন। মূলত উক্ত হজ্জটিই ছিল বিশ্ববাসীর কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ এর বিদায় নেয়ার প্রথম ধাপ। কেননা উক্ত সময় থেকেই রাসূলুল্লাহ এর কথাবার্তা ও কাজকর্মে এমন কিছু নিদর্শন পরিলক্ষিত হচ্ছিল যে, তিনি অতি শীঘ্রই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাঁর মহান রবের সাথে মিলিত হবেন। যেমন
১। রাসূলুল্লাহ এর উপর যখন আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দেয়ার পর এ আয়াত নাযিল হলো- সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩) তখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যেহেতু ইসলাম পরিপূর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং এই পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ এর মিশন শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং অতি শীঘ্রই তিনি নিজের প্রভুর ডাকে সাড়া দেবেন। সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
২। আইয়ামে তাশরীকে অবস্থানকালে যখন রাসূলুল্লাহ এর উপর সূরা নাসর নাযিল হয়, তখন আবু বকর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে দিয়েছিলেন। আর এটিই ছিল কুরআন মাজীদের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা। ১৪০
৩। রাসূলুল্লাহ সাধারণত প্রতি বছর রমাযান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু উক্ত বছরের রমাযান মাসে ২০ দিন ইতিকাফ করেন। ১৪১
৪। জিবরাঈল (আঃ) প্রতি বছর রমাযান মাসে রাসূলুল্লাহ আলাইহি এর কাছে পূর্ণ কুরআন একবার করে তেলাওয়াত করে শেষ করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রমাযান মাসে দুই বার কুরআন খতম দেন।
৫। বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে হজ্জ ও কুরবানীর নিয়ম-কানুনগুলো শিখে নাও। কারণ এ বছরের পর হয়তোবা আমার পক্ষে আর হজ্জ করা সম্ভব হবে না। ১৪২
সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত : রাসূলুল্লাহ এর উপর সর্বশেষ আয়াতটি নাযিল হয় মৃত্যুর ৯ দিন পূর্বে। ১৪৩ আয়াতটি হলো- সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
﴿وَاتَّقُوْا يَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِيْهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ﴾
তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমরা পুনরায় আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে। তারপর প্রত্যেকেই তার কর্মফল পুরোপুরিভাবে ফিরে পাবে। আর সেদিন তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা বাকারা- ২৮১)
অসুস্থতার সূচনা : রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুকালীন এ অসুস্থতা শুরু হয় সফর মাসের দু'এক দিন বাকি থাকতে অথবা রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন। ১৪৪ এ দিন তিনি রাত্রে “বাকী” নামক কবরস্থানে গিয়ে গত হয়ে যাওয়া মুমিন নর-নারীদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অতঃপর সেখান থেকে ফেরার পথে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন। ১৪৫
জীবনের শেষ দিনগুলো: কবরস্থান থেকে ফেরার পর রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করেন।১৪৬ অতঃপর ক্রমেই তাঁর অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে সময় তাঁর শরীরের তাপমাত্রা এতই বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল যে, লেপের উপরেও এর তাপ অনুভূত হচ্ছিল। তখন আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এভাবে আমাদের (নবীদের) কষ্ট দ্বিগুণ হয় এবং পুরস্কারও দ্বিগুণ হয়।১০৭ রাসূলুল্লাহ এর এই অসুস্থতার সময়কাল ছিল ১৩ বা ১৪ দিন। উক্ত দিনগুলোর অধিকাংশ ওয়াক্তের ইমামতি তিনি নিজেই করেন এবং বাকি ওয়াক্তগুলোর ইমামতি করেন আবু বকর (রাঃ)।
সর্বশেষ অসিয়তসমূহ : রাসূলুল্লাহ জীবনের শেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন সময় উম্মতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসিয়ত করে যান। যেমন- ১। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার কবরকে মূর্তি বানিয়ো না, যাকে পূজা করা হয়। ঐ সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহ তা'আলার প্রচণ্ড রাগ রয়েছে, যারা নবীগণের কবরসমূহকে সিজদার স্থানে পরিণত করে।১৪৮
২। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ যখন অন্তিম রোগ যন্ত্রণায় তখন) আবু বকর (রাঃ) ও আব্বাস (রাঃ) একদা আনসারদের কোন এক মজলিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁরা দেখলেন যে, আনসারগণ কাঁদছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তারা বললেন, আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ -এর ওঠা-বসা ও মজলিসে কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) অথবা আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর কাছে যান এবং এ ব্যাপারে তাঁকে জানান। তখন রাসূলুল্লাহ একটি চাদরের এক প্রান্ত মাথায় বাঁধা অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করলেন। আর সে দিনের পর তিনি আর মিম্বরে আরোহণ করেননি। তিনি প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন, আমি তোমাদেরকে আনসারদের দিকে খেয়াল রাখার জন্য আদেশ করছি। কেননা তারা আমার অতি প্রিয়জন এবং আমার আমানতের ভাণ্ডার। তাদের দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে সম্পাদন করেছে, কিন্তু তাদের যা প্রাপ্য তা বাকি রয়েছে। অতএব তাদের উত্তম কাজকে তোমরা গ্রহণ করবে এবং তাদের মন্দ কাজকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। ১৪৯ ওয়াসাল্লাম
৩। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহ! বৃহস্পতিবার দিন। বৃহস্পতিবার দিনই রাসূলুল্লাহ-এর অসুস্থতা বেড়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি উপস্থিত সাহাবীদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমার নিকট লেখার মতো কিছু নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখিয়ে দেব, যা পালন করলে তোমরা কখনো ভুল পথে যাবে না। তখন সেখানে সাহাবীরা মতভেদ করলেন, যদিও কোন নবীর নির্দেশের ব্যাপারে মতভেদ করা সমীচীন নয়। তারা বললেন, রাসূলুল্লাহ এর রোগের তীব্রতা অনেক বেশী। এ সময় রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যেমন আছি তেমনই আমাকে থাকতে দাও। কারণ তোমরা আমাকে যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করছ, তার চেয়ে আমি বর্তমানে যে অবস্থায় আছি তাই উত্তম। তিনি ইহলোক ত্যাগের সময় তিনটি বিষয়ে সবাইকে উপদেশ দান করলেন। [আর তা হলো] (১) আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদেরকে বের করে দেবে। (২) দূত বা প্রতিনিধি দলকে আমি যেভাবে আপ্যায়ন করতাম তোমরাও অনুরূপভাবে আপ্যায়ন করবে। ইবনে আব্বাস বলেন, আর তৃতীয় উপদেশটি আমি ভুলে গিয়েছি।১৫০
সর্বশেষ ইমামতি : রাসূলুল্লাহ এর জীবনের সর্বশেষ ইমামতিটি ছিল মৃত্যুর চার দিন পূর্বে বৃহস্পতিবারের ইমামতি। আর সেটি ছিল মাগরিবের ওয়াক্ত। অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ এত দিন যাবত নিজেই ইমামতি করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর কোন সময় ইমামতি করতে সক্ষম হননি। এ সময় রাসূলুল্লাহ প্রথম দু'রাক'আতে সূরা মুরসালাত পাঠ করেন। আর সর্বশেষ আয়াত পাঠ করেন-
﴿فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ﴾
এরপর তারা আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে? (সূরা মুরসালাত- ৫০) অতঃপর রাসূলুল্লাহ উক্ত দিনের এশার নামাযের জন্য তিন বার অযু করেন এবং তিন বারই অজ্ঞান হয়ে যান। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে আবু বকর (রাঃ)-কে ইমামতি করার জন্য বলেন। এরপর আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সর্বমোট ১৭ ওয়াক্ত সালাত আদায় করান।
মৃত্যুর জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতি : মৃত্যুর জন্য রাসূলুল্লাহ এর সর্বশেষ প্রস্তুতি ছিল নিজের কাছে গচ্ছিত সম্পদ দান করে দেয়া। আর তিনি এটি করেছিলেন মৃত্যুর ঠিক পূর্বের দিন অর্থাৎ রবিবারে। এ দিন তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন, দীনারগুলো কি বিতরণ করেছ? তিনি বললেন, আপনার রোগের কারণে ব্যস্ত থাকায় বিতরণের সময় পাইনি। রাসূলুল্লাহ বললেন, ওগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো। ঐ সময় ঘরে ৫ থেকে ৯টি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। আয়েশা (রাঃ) সেগুলো এনে তাঁর হাতে দিলেন। তখন তিনি বললেন, এগুলো এখনি বিতরণ করে দাও। কেননা কোন নবীর জন্য এটি মর্যাদাকর নয় যে, এরূপ বস্তুগুলো নিয়ে তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। ১৫১
কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে সংবাদ প্রদান: রাসূলুল্লাহ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে ডেকে এনে কিছু কথা বললেন, ফলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারপর তাকে পুনরায় ডেকে এনে কানে কানে কিছু কথা বললেন, ফলে তিনি হাসলেন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় যে, প্রথমবার রাসূলুল্লাহ তাকে বলেছিলেন যে, এই অসুখেই আমার মৃত্যু ঘটবে। এতে তিনি কাঁদতে থাকেন। তারপর দ্বিতীয়বার তিনি বলেছিলেন যে, পরিবারের মধ্যে তোমার সাথেই আমার সর্বপ্রথম দেখা হবে।
এতে তিনি হেঁসে উঠেন। ১৫২ আর এ সময় তিনি তাঁকে জান্নাতী মহিলাদের নেত্রী হওয়ার সুসংবাদও প্রদান করেন। ১৫৩ সাল্লাল্লাহ অতঃপর রাসূলুল্লাহ হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে ডেকে এনে চুম্বন করেন এবং তাদেরকে নসীহত করেন। তারপর তাঁর স্ত্রীগণকেও ডাকেন এবং তাদেরকেও বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ প্রদান করেন।
রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যু : রাসূলুল্লাহ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন তাঁর অসুস্থতা চরম আকার ধারণ করেছিল। যার কারণে বার বার বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, “সালাত” “সালাত” এবং তোমাদের দাস-দাসী অর্থাৎ সালাত ও স্ত্রীজাতির বিষয়ে তোমরা সর্বাধিক খেয়াল রেখো। একথা তিনি তিন বার পুনরাবৃত্তি করলেন। আর এটিই ছিল মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে উম্মতের জন্য রাসূলুল্লাহ এর শেষ উপদেশ। ১৫৪ ওয়াসাল্লাম এর পর পরই শুরু হয় রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর যন্ত্রণা। এ সময় রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর বুক ও কাঁধে ঠেস দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর (রাঃ) এর ছেলে আবদুর রহমান (রাঃ) একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ তা দেখতে পান। তখন রাসূলুল্লাহ এর আগ্রহ বুঝতে পেরে আয়েশা (রাঃ) মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সুন্দর করে মিসওয়াক করেন এবং মুখ ধৌত করেন। তারপর তিনি ছাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে হাত ও আঙ্গুল উত্তোলন করলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) শুনতে পেলেন যে, এ সময় তিনি বলছিলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিয়ে দিন।১৫৫ তারপর রাসূলুল্লাহ এর হাত এলিয়ে পড়ল এবং দৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। এ সময় রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর রানের উপর মাথা রেখে শুয়ে ছিলেন। আর সময়টি ছিল সোমবারের দিন চাশতের তথা সূর্য অধিক গরম হওয়ার সময়। এ দিন রাসূলুল্লাহ এর বয়স হয়েছিল চন্দ্রবর্ষ হিসেবে ৬৩ বছর। ১৫৬
রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুতে সাহাবীদের প্রতিক্রিয়া : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সাহাবীদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ -কে নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। ফলে তাঁর মৃত্যুতে সাহাবীগণ দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেকে আবার জঙ্গলে চলে যান। অনেকে আবার একাকী ক্রন্দন করতে থাকেন। এমনকি অনেকেই রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর বিষয়টি কল্পনাও করতে পারছিলেন না। সে সময় পৃথিবীটা যেন তাদের কাছে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন সে দিনের মতো উজ্জ্বলতম দিন আর কখনো দেখিনি এবং যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন সে দিনের মতো এত নিকৃষ্ট এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন আর কখনো দেখিনি। ১৫৭
উমর (রাঃ) এর অবস্থান : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় উমর (রাঃ) এর অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া তিনি এও বলে বেড়াচ্ছিলেন যে, যাকে এ কথা বলতে শুনব যে, “রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন” আমি আমার এ তরবারি দ্বারা তাকে আঘাত করব। ১৫৮
আবু বকর (রাঃ) এর অবস্থান : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুতে আবু বকর (রাঃ) চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি মসজিদে নববী থেকে ১ মাইল দূরে অবস্থিত 'সুন্হ' এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘর থেকে বের হয়ে ঘোড়ায় আরোহণ করে খুব দ্রুত মসজিদে নববীতে আগমন করেন। তারপর কাউকে কিছু না বলে সরাসরি আয়েশা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃতদেহ একটি ইয়ামেনী চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। তিনি সেখানে গিয়ে প্রথমে রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারায় চুম্বন করলেন এবং কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আপনার উপর আমার পিতামাতা উৎসর্গ হোক! আল্লাহ আপনার উপরে দুটি মৃত্যুকে একত্রিত করবেন না। অতঃপর যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল, তার স্বাদ আপনি আস্বাদন করেছেন।১৫৯ তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন,
إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَّيِّتُونَ
নিশ্চয় তুমিও মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে- (সূরা যুমার- ৩০)।১৬০
অতঃপর আবু বকর (রাঃ) ঘর থেকে বের হলেন। সে সময় উমর (রাঃ) সেখানে লোকদের সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে থামানোর চেষ্টা করলেন; কিন্তু এতে তিনি ব্যর্থ হলেন। তারপর তিনি মসজিদে এসে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানের জন্য দণ্ডায়মান হলেন। এতে লোকেরা উমর (রাঃ)-কে ছেড়ে আবু বকর (রাঃ) এর দিকে মনোযোগী হলো। তখন তিনি প্রথমে হামদ ও সানা পাঠ করার পর রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর ঘোষণা দিলেন। তারপর বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ এর পূজা করে, সে জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদাত করে, সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব; তিনি মরেন না। তিনি বলেছেন, আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ﴿وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفِإِنْ مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ﴾
মুহাম্মাদ একজন রাসূল ব্যতীত কিছুই নয়, নিশ্চয় তার পূর্বেও অনেক রাসূল বিগত হয়ে গেছে। অনন্তর যদি সে মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে? যে কেউ পেছনে ফিরে যায়, তাতে সে আল্লাহর কোন অনিষ্ট করবে না। অচিরেই আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার প্রদান করবেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৪)
অতঃপর লোকেরা উক্ত আয়াতটি বারবার তিলাওয়াত করতে থাকে। ১৬১ এমন পরিস্থিতিতে আবু বকর (রাঃ) এর মুখ থেকে এ ধরনের ভাষণ শোনার পর সাহাবীগণ নিশ্চিত হলেন যে, রাসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আর কখনো দুনিয়াতে ফিরে আসবেন না। আবু বকর (রাঃ) এর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আবু বকরের মুখে উক্ত আয়াত শুনে আমি আমার দু'পা স্থির রাখতে পারিনি। অবশেষে আমি মাটিতে পড়ে গেলাম এবং আমি নিশ্চিত হলাম যে, রাসূলুল্লাহ মারা গেছেন। ১৬২ তিনি আরো বলেন যে, আমার মনে হচ্ছিল যেন আয়াতগুলো আমি এদিন ব্যতীত ইতিপূর্বে আর কখনো পাঠ করিনি। ১৬৩
খলীফা নির্বাচন : রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর পর মুসলিমদের উপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খলীফা নির্বাচন। কেননা নেতৃত্ব ছাড়া থাকাকে ইসলাম অনুমোদন দেয় না। উপরন্তু রাসূলুল্লাহ এর লাশ দাফন করার বিষয়টিও ছিল খুবই জটিল বিষয়, যে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াটা খলীফা নির্বাচন ছাড়া সম্ভব ছিল না। ফলে এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর দিনই একত্রিত হলেন। কিন্তু প্রথমেই এ বিষয়টি নিয়ে আনসার ও মুহাজির সাহাবীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়ে যায়। আনসারগণ দাবি করে যে, খলীফা তাদের মধ্য হতে হবে। আর অপরদিকে মুহাজিরগণ দাবি করে যে, খলীফা তাদের মধ্য হতে নির্বাচিত হবে। আবার অন্য দিকে আরো একটি প্রস্তাব আসে যে, আনসারদের মধ্য হতে একজন আমীর এবং মুহাজিরদের মধ্য হতে একজন আমীর নিযুক্ত করা হোক। কিন্তু এসব কোন প্রস্তাবেই সাহাবীগণ ঐক্যমত পোষণ করতে পারছিলেন না। এমন সময় উমর (রাঃ) বললেন, এমন কে আছে, যে এই ঘটনার দ্বিতীয়জন (যে ঘটনাটির ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন)-
ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا আর সে ছিল দু'জনের দ্বিতীয়জন- যখন তারা উভয়ে (একটি) গুহার মধ্যে অবস্থান করছিল তখন সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, চিন্তিত হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। (সূরা তাওবা- ৪০) এ কথা বলার পর উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ) এর হাতে বাই'আত প্রদান করলেন। তারপর অন্যান্য সাহাবীগণও তাঁর হাতে বাই'আত প্রদান করলেন। ১৬৪

টিকাঃ
১৪০ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৮/৫০৯ নং পৃষ্ঠা।
১৪১ সহীহ বুখারী, হা/৪৯৯৮; মিশকাত, হা/২০৯৯।
১৪২ নাসাঈ, হা/৩০৬২; সহীহ মুসলিম, হা/৬১২৯।
১৪৩ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১/৭২১ পৃঃ।
১৪৪ আল-বিদায়াহ ৫/২২৪।
১৪৫ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬০৪০।
১৪৬ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৫৬; সহীহ মুসলিম, হা/২৩৮৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬৯০।
১৪৭ ইবনে মাজাহ, হা/৪০২৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৪৪।
১৪৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৩৫২; মিশকাত, হা/৭৫০।
১৪৯ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৯৯।
১৫০ সহীহ বুখারী, হা/৩০৫৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৬৩৭।
১৫১ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৫৩১; সহীহ ইবনে হিব্বان, হা/৩২২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৬৫৩।
১৫২ সহীহ বুখারী, হা/৬২৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৫০; মিশকাত, হা/৬১২৯।
১৫৩ সহীহ বুখারী, হা/৩৬২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৫০; মিশকাত, হা/৬১২৯।
১৫৪ ইবনে মাজাহ, হা/২৬৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৫২৬; মিশকাত, হা/৩৩৫৬।
১৫৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৫৬৪; সহীহ বুখারী, হা/৪৪৪০; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৪৬; তিরমিযী, হা/৩৪৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৬১৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৯৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৬১৮; জামেউস সগীর, হা/২১৪৭।
১৫৬ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৩৬।
১৫৭ দারেমী, হা/৮৮; মিশকাত, ৫৯৬২।
১৫৮ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৫৯ সহীহ বুখারী, হা/১২৪১।
১৬০ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬১ সহীহ বুখারী, হা/১২৪২।
১৬২ সহীহ বুখারী, হা/৪৪৫৪।
১৬৩ ইবনে মাজাহ, হা/১৬২৭।
১৬৪ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।

রাসূলুল্লাহ হজ্জ থেকে ফেরার পর জীবনের বাকি দিনগুলো মদিনাতেই কাটিয়ে দেন। মূলত উক্ত হজ্জটিই ছিল বিশ্ববাসীর কাছ থেকে রাসূলুল্লাহ এর বিদায় নেয়ার প্রথম ধাপ। কেননা উক্ত সময় থেকেই রাসূলুল্লাহ এর কথাবার্তা ও কাজকর্মে এমন কিছু নিদর্শন পরিলক্ষিত হচ্ছিল যে, তিনি অতি শীঘ্রই সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তাঁর মহান রবের সাথে মিলিত হবেন। যেমন
১। রাসূলুল্লাহ এর উপর যখন আরাফাতের ময়দানে ভাষণ দেয়ার পর এ আয়াত নাযিল হলো- সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا
আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩) তখন এ কথা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, যেহেতু ইসলাম পরিপূর্ণ হয়ে গেছে, সুতরাং এই পৃথিবীতে রাসূলুল্লাহ এর মিশন শেষ হয়ে গেছে। সুতরাং অতি শীঘ্রই তিনি নিজের প্রভুর ডাকে সাড়া দেবেন। সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
২। আইয়ামে তাশরীকে অবস্থানকালে যখন রাসূলুল্লাহ এর উপর সূরা নাসর নাযিল হয়, তখন আবু বকর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে দিয়েছিলেন। আর এটিই ছিল কুরআন মাজীদের সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা। ১৪০
৩। রাসূলুল্লাহ সাধারণত প্রতি বছর রমাযান মাসের শেষ ১০ দিন ইতিকাফ করতেন। কিন্তু উক্ত বছরের রমাযান মাসে ২০ দিন ইতিকাফ করেন। ১৪১
৪। জিবরাঈল (আঃ) প্রতি বছর রমাযান মাসে রাসূলুল্লাহ আলাইহি এর কাছে পূর্ণ কুরআন একবার করে তেলাওয়াত করে শেষ করতেন। কিন্তু তিনি শেষ রমাযান মাসে দুই বার কুরআন খতম দেন।
৫। বিদায় হজ্জের ভাষণে তিনি বলেছিলেন, তোমরা আমার কাছ থেকে হজ্জ ও কুরবানীর নিয়ম-কানুনগুলো শিখে নাও। কারণ এ বছরের পর হয়তোবা আমার পক্ষে আর হজ্জ করা সম্ভব হবে না। ১৪২
সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত : রাসূলুল্লাহ এর উপর সর্বশেষ আয়াতটি নাযিল হয় মৃত্যুর ৯ দিন পূর্বে। ১৪৩ আয়াতটি হলো- সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম
﴿وَاتَّقُوْا يَوْمًا تُرْجَعُوْنَ فِيْهِ إِلَى اللَّهِ ثُمَّ تُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا كَسَبَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ﴾
তোমরা সেই দিনকে ভয় করো, যেদিন তোমরা পুনরায় আল্লাহর কাছে ফিরে যাবে। তারপর প্রত্যেকেই তার কর্মফল পুরোপুরিভাবে ফিরে পাবে। আর সেদিন তাদের উপর কোন যুলুম করা হবে না। (সূরা বাকারা- ২৮১)
অসুস্থতার সূচনা : রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুকালীন এ অসুস্থতা শুরু হয় সফর মাসের দু'এক দিন বাকি থাকতে অথবা রবিউল আওয়াল মাসের প্রথম দিন। ১৪৪ এ দিন তিনি রাত্রে “বাকী” নামক কবরস্থানে গিয়ে গত হয়ে যাওয়া মুমিন নর-নারীদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অতঃপর সেখান থেকে ফেরার পথে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় আক্রান্ত হন। ১৪৫
জীবনের শেষ দিনগুলো: কবরস্থান থেকে ফেরার পর রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করেন।১৪৬ অতঃপর ক্রমেই তাঁর অসুস্থতার মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। সে সময় তাঁর শরীরের তাপমাত্রা এতই বৃদ্ধি পেয়ে গিয়েছিল যে, লেপের উপরেও এর তাপ অনুভূত হচ্ছিল। তখন আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, এভাবে আমাদের (নবীদের) কষ্ট দ্বিগুণ হয় এবং পুরস্কারও দ্বিগুণ হয়।১০৭ রাসূলুল্লাহ এর এই অসুস্থতার সময়কাল ছিল ১৩ বা ১৪ দিন। উক্ত দিনগুলোর অধিকাংশ ওয়াক্তের ইমামতি তিনি নিজেই করেন এবং বাকি ওয়াক্তগুলোর ইমামতি করেন আবু বকর (রাঃ)।
সর্বশেষ অসিয়তসমূহ : রাসূলুল্লাহ জীবনের শেষ দিনগুলোতে বিভিন্ন সময় উম্মতের জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসিয়ত করে যান। যেমন- ১। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, হে আল্লাহ! তুমি আমার কবরকে মূর্তি বানিয়ো না, যাকে পূজা করা হয়। ঐ সম্প্রদায়ের উপর আল্লাহ তা'আলার প্রচণ্ড রাগ রয়েছে, যারা নবীগণের কবরসমূহকে সিজদার স্থানে পরিণত করে।১৪৮
২। আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, (রাসূলুল্লাহ যখন অন্তিম রোগ যন্ত্রণায় তখন) আবু বকর (রাঃ) ও আব্বাস (রাঃ) একদা আনসারদের কোন এক মজলিসের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় তাঁরা দেখলেন যে, আনসারগণ কাঁদছেন। তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনারা কাঁদছেন কেন? তারা বললেন, আমাদের সাথে রাসূলুল্লাহ -এর ওঠা-বসা ও মজলিসে কথাবার্তা নিয়ে আলোচনা করছিলাম। অতঃপর আবু বকর (রাঃ) অথবা আব্বাস (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর কাছে যান এবং এ ব্যাপারে তাঁকে জানান। তখন রাসূলুল্লাহ একটি চাদরের এক প্রান্ত মাথায় বাঁধা অবস্থায় ঘর থেকে বেরিয়ে আসলেন এবং মিম্বরে আরোহণ করলেন। আর সে দিনের পর তিনি আর মিম্বরে আরোহণ করেননি। তিনি প্রথমে আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ করলেন। তারপর বললেন, আমি তোমাদেরকে আনসারদের দিকে খেয়াল রাখার জন্য আদেশ করছি। কেননা তারা আমার অতি প্রিয়জন এবং আমার আমানতের ভাণ্ডার। তাদের দায়িত্ব তারা সঠিকভাবে সম্পাদন করেছে, কিন্তু তাদের যা প্রাপ্য তা বাকি রয়েছে। অতএব তাদের উত্তম কাজকে তোমরা গ্রহণ করবে এবং তাদের মন্দ কাজকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবে। ১৪৯ ওয়াসাল্লাম
৩। ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আহ! বৃহস্পতিবার দিন। বৃহস্পতিবার দিনই রাসূলুল্লাহ-এর অসুস্থতা বেড়ে গিয়েছিল। এ সময় তিনি উপস্থিত সাহাবীদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আমার নিকট লেখার মতো কিছু নিয়ে এসো, আমি তোমাদের জন্য এমন কিছু লিখিয়ে দেব, যা পালন করলে তোমরা কখনো ভুল পথে যাবে না। তখন সেখানে সাহাবীরা মতভেদ করলেন, যদিও কোন নবীর নির্দেশের ব্যাপারে মতভেদ করা সমীচীন নয়। তারা বললেন, রাসূলুল্লাহ এর রোগের তীব্রতা অনেক বেশী। এ সময় রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যেমন আছি তেমনই আমাকে থাকতে দাও। কারণ তোমরা আমাকে যে বিষয়ের প্রতি আহ্বান করছ, তার চেয়ে আমি বর্তমানে যে অবস্থায় আছি তাই উত্তম। তিনি ইহলোক ত্যাগের সময় তিনটি বিষয়ে সবাইকে উপদেশ দান করলেন। [আর তা হলো] (১) আরব উপদ্বীপ থেকে মুশরিকদেরকে বের করে দেবে। (২) দূত বা প্রতিনিধি দলকে আমি যেভাবে আপ্যায়ন করতাম তোমরাও অনুরূপভাবে আপ্যায়ন করবে। ইবনে আব্বাস বলেন, আর তৃতীয় উপদেশটি আমি ভুলে গিয়েছি।১৫০
সর্বশেষ ইমামতি : রাসূলুল্লাহ এর জীবনের সর্বশেষ ইমামতিটি ছিল মৃত্যুর চার দিন পূর্বে বৃহস্পতিবারের ইমামতি। আর সেটি ছিল মাগরিবের ওয়াক্ত। অসুস্থতা থাকা সত্ত্বেও রাসূলুল্লাহ এত দিন যাবত নিজেই ইমামতি করে যাচ্ছিলেন। কিন্তু এরপর থেকে আর কোন সময় ইমামতি করতে সক্ষম হননি। এ সময় রাসূলুল্লাহ প্রথম দু'রাক'আতে সূরা মুরসালাত পাঠ করেন। আর সর্বশেষ আয়াত পাঠ করেন-
﴿فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ﴾
এরপর তারা আর কোন্ কথায় বিশ্বাস করবে? (সূরা মুরসালাত- ৫০) অতঃপর রাসূলুল্লাহ উক্ত দিনের এশার নামাযের জন্য তিন বার অযু করেন এবং তিন বারই অজ্ঞান হয়ে যান। অবশেষে ব্যর্থ হয়ে আবু বকর (রাঃ)-কে ইমামতি করার জন্য বলেন। এরপর আবু বকর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত সর্বমোট ১৭ ওয়াক্ত সালাত আদায় করান।
মৃত্যুর জন্য সর্বশেষ প্রস্তুতি : মৃত্যুর জন্য রাসূলুল্লাহ এর সর্বশেষ প্রস্তুতি ছিল নিজের কাছে গচ্ছিত সম্পদ দান করে দেয়া। আর তিনি এটি করেছিলেন মৃত্যুর ঠিক পূর্বের দিন অর্থাৎ রবিবারে। এ দিন তিনি আয়েশা (রাঃ)-কে বললেন, দীনারগুলো কি বিতরণ করেছ? তিনি বললেন, আপনার রোগের কারণে ব্যস্ত থাকায় বিতরণের সময় পাইনি। রাসূলুল্লাহ বললেন, ওগুলো আমার কাছে নিয়ে এসো। ঐ সময় ঘরে ৫ থেকে ৯টি স্বর্ণমুদ্রা ছিল। আয়েশা (রাঃ) সেগুলো এনে তাঁর হাতে দিলেন। তখন তিনি বললেন, এগুলো এখনি বিতরণ করে দাও। কেননা কোন নবীর জন্য এটি মর্যাদাকর নয় যে, এরূপ বস্তুগুলো নিয়ে তিনি আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবেন। ১৫১
কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে সংবাদ প্রদান: রাসূলুল্লাহ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন সূর্য কিছুটা উপরে উঠলে কন্যা ফাতিমা (রাঃ)-কে ডেকে এনে কিছু কথা বললেন, ফলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তারপর তাকে পুনরায় ডেকে এনে কানে কানে কিছু কথা বললেন, ফলে তিনি হাসলেন। পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞেস করে জানা যায় যে, প্রথমবার রাসূলুল্লাহ তাকে বলেছিলেন যে, এই অসুখেই আমার মৃত্যু ঘটবে। এতে তিনি কাঁদতে থাকেন। তারপর দ্বিতীয়বার তিনি বলেছিলেন যে, পরিবারের মধ্যে তোমার সাথেই আমার সর্বপ্রথম দেখা হবে।
এতে তিনি হেঁসে উঠেন। ১৫২ আর এ সময় তিনি তাঁকে জান্নাতী মহিলাদের নেত্রী হওয়ার সুসংবাদও প্রদান করেন। ১৫৩ সাল্লাল্লাহ অতঃপর রাসূলুল্লাহ হাসান ও হুসাইন (রাঃ)-কে ডেকে এনে চুম্বন করেন এবং তাদেরকে নসীহত করেন। তারপর তাঁর স্ত্রীগণকেও ডাকেন এবং তাদেরকেও বিভিন্ন বিষয়ে উপদেশ প্রদান করেন।
রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যু : রাসূলুল্লাহ যেদিন মৃত্যুবরণ করেন, সেদিন তাঁর অসুস্থতা চরম আকার ধারণ করেছিল। যার কারণে বার বার বেহুঁশ হয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সবাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন যে, “সালাত” “সালাত” এবং তোমাদের দাস-দাসী অর্থাৎ সালাত ও স্ত্রীজাতির বিষয়ে তোমরা সর্বাধিক খেয়াল রেখো। একথা তিনি তিন বার পুনরাবৃত্তি করলেন। আর এটিই ছিল মৃত্যুর পূর্বমুহূর্তে উম্মতের জন্য রাসূলুল্লাহ এর শেষ উপদেশ। ১৫৪ ওয়াসাল্লাম এর পর পরই শুরু হয় রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর যন্ত্রণা। এ সময় রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর বুক ও কাঁধে ঠেস দিয়ে বসা অবস্থায় ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু বকর (রাঃ) এর ছেলে আবদুর রহমান (রাঃ) একটি মিসওয়াক হাতে নিয়ে উপস্থিত হলে রাসূলুল্লাহ তা দেখতে পান। তখন রাসূলুল্লাহ এর আগ্রহ বুঝতে পেরে আয়েশা (রাঃ) মিসওয়াকটি চিবিয়ে নরম করে দেন। ফলে রাসূলুল্লাহ সুন্দর করে মিসওয়াক করেন এবং মুখ ধৌত করেন। তারপর তিনি ছাদের দিকে দৃষ্টিপাত করে হাত ও আঙ্গুল উত্তোলন করলেন। তখন আয়েশা (রাঃ) শুনতে পেলেন যে, এ সময় তিনি বলছিলেন,
اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي وَارْحَمْنِي وَالْحِقْنِي بِالرَّفِيقِ الْأَعْلَى
হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন, আমার প্রতি দয়া করুন এবং আমাকে মহান বন্ধুর সাথে মিলিয়ে দিন।১৫৫ তারপর রাসূলুল্লাহ এর হাত এলিয়ে পড়ল এবং দৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল। এ সময় রাসূলুল্লাহ আয়েশা (রাঃ) এর রানের উপর মাথা রেখে শুয়ে ছিলেন। আর সময়টি ছিল সোমবারের দিন চাশতের তথা সূর্য অধিক গরম হওয়ার সময়। এ দিন রাসূলুল্লাহ এর বয়স হয়েছিল চন্দ্রবর্ষ হিসেবে ৬৩ বছর। ১৫৬
রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুতে সাহাবীদের প্রতিক্রিয়া : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন সাহাবীদের নিকট সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি। তাঁরা রাসূলুল্লাহ -কে নিজেদের জীবনের চেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। ফলে তাঁর মৃত্যুতে সাহাবীগণ দিশেহারা হয়ে এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করতে থাকেন। অনেকে আবার জঙ্গলে চলে যান। অনেকে আবার একাকী ক্রন্দন করতে থাকেন। এমনকি অনেকেই রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর বিষয়টি কল্পনাও করতে পারছিলেন না। সে সময় পৃথিবীটা যেন তাদের কাছে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেদিন আমাদের নিকট আগমন করেছিলেন সে দিনের মতো উজ্জ্বলতম দিন আর কখনো দেখিনি এবং যে দিন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন সে দিনের মতো এত নিকৃষ্ট এবং অন্ধকারাচ্ছন্ন দিন আর কখনো দেখিনি। ১৫৭
উমর (রাঃ) এর অবস্থান : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়ায় উমর (রাঃ) এর অবস্থান ছিল উল্লেখযোগ্য। তিনি কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম মৃত্যুবরণ করেছেন। তাছাড়া তিনি এও বলে বেড়াচ্ছিলেন যে, যাকে এ কথা বলতে শুনব যে, “রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইন্তেকাল করেছেন” আমি আমার এ তরবারি দ্বারা তাকে আঘাত করব। ১৫৮
আবু বকর (রাঃ) এর অবস্থান : রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুতে আবু বকর (রাঃ) চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি মসজিদে নববী থেকে ১ মাইল দূরে অবস্থিত 'সুন্হ' এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তিনি সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘর থেকে বের হয়ে ঘোড়ায় আরোহণ করে খুব দ্রুত মসজিদে নববীতে আগমন করেন। তারপর কাউকে কিছু না বলে সরাসরি আয়েশা (রাঃ) এর ঘরে প্রবেশ করেন, যেখানে রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃতদেহ একটি ইয়ামেনী চাদর দ্বারা আবৃত ছিল। তিনি সেখানে গিয়ে প্রথমে রাসূলুল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর চেহারায় চুম্বন করলেন এবং কেঁদে ফেললেন। তারপর বললেন, আপনার উপর আমার পিতামাতা উৎসর্গ হোক! আল্লাহ আপনার উপরে দুটি মৃত্যুকে একত্রিত করবেন না। অতঃপর যে মৃত্যু আপনার জন্য নির্ধারিত ছিল, তার স্বাদ আপনি আস্বাদন করেছেন।১৫৯ তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন,
إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُمْ مَّيِّتُونَ
নিশ্চয় তুমিও মৃত্যুবরণ করবে এবং তারাও মৃত্যুবরণ করবে- (সূরা যুমার- ৩০)।১৬০
অতঃপর আবু বকর (রাঃ) ঘর থেকে বের হলেন। সে সময় উমর (রাঃ) সেখানে লোকদের সাথে কথাবার্তা বলছিলেন। তখন আবু বকর (রাঃ) উমর (রাঃ)-কে থামানোর চেষ্টা করলেন; কিন্তু এতে তিনি ব্যর্থ হলেন। তারপর তিনি মসজিদে এসে লোকদের উদ্দেশ্যে ভাষণ প্রদানের জন্য দণ্ডায়মান হলেন। এতে লোকেরা উমর (রাঃ)-কে ছেড়ে আবু বকর (রাঃ) এর দিকে মনোযোগী হলো। তখন তিনি প্রথমে হামদ ও সানা পাঠ করার পর রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর ঘোষণা দিলেন। তারপর বললেন, হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি মুহাম্মাদ এর পূজা করে, সে জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মৃত্যুবরণ করেছেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর ইবাদাত করে, সে জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব; তিনি মরেন না। তিনি বলেছেন, আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ﴿وَمَا مُحَمَّدٌ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفِإِنْ مَّاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ وَمَنْ يَنْقَلِبْ عَلَى عَقِبَيْهِ فَلَنْ يَضُرَّ اللهَ شَيْئًا وَسَيَجْزِي اللَّهُ الشَّاكِرِينَ﴾
মুহাম্মাদ একজন রাসূল ব্যতীত কিছুই নয়, নিশ্চয় তার পূর্বেও অনেক রাসূল বিগত হয়ে গেছে। অনন্তর যদি সে মৃত্যুবরণ করে অথবা নিহত হয়, তবে কি তোমরা পেছনে ফিরে যাবে? যে কেউ পেছনে ফিরে যায়, তাতে সে আল্লাহর কোন অনিষ্ট করবে না। অচিরেই আল্লাহ কৃতজ্ঞদেরকে পুরস্কার প্রদান করবেন। (সূরা আলে ইমরান- ১৪৪)
অতঃপর লোকেরা উক্ত আয়াতটি বারবার তিলাওয়াত করতে থাকে। ১৬১ এমন পরিস্থিতিতে আবু বকর (রাঃ) এর মুখ থেকে এ ধরনের ভাষণ শোনার পর সাহাবীগণ নিশ্চিত হলেন যে, রাসূলুল্লাহ মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি আর কখনো দুনিয়াতে ফিরে আসবেন না। আবু বকর (রাঃ) এর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় উমর (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আবু বকরের মুখে উক্ত আয়াত শুনে আমি আমার দু'পা স্থির রাখতে পারিনি। অবশেষে আমি মাটিতে পড়ে গেলাম এবং আমি নিশ্চিত হলাম যে, রাসূলুল্লাহ মারা গেছেন। ১৬২ তিনি আরো বলেন যে, আমার মনে হচ্ছিল যেন আয়াতগুলো আমি এদিন ব্যতীত ইতিপূর্বে আর কখনো পাঠ করিনি। ১৬৩
খলীফা নির্বাচন : রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর পর মুসলিমদের উপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল খলীফা নির্বাচন। কেননা নেতৃত্ব ছাড়া থাকাকে ইসলাম অনুমোদন দেয় না। উপরন্তু রাসূলুল্লাহ এর লাশ দাফন করার বিষয়টিও ছিল খুবই জটিল বিষয়, যে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়াটা খলীফা নির্বাচন ছাড়া সম্ভব ছিল না। ফলে এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে সাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ এর মৃত্যুর দিনই একত্রিত হলেন। কিন্তু প্রথমেই এ বিষয়টি নিয়ে আনসার ও মুহাজির সাহাবীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়ে যায়। আনসারগণ দাবি করে যে, খলীফা তাদের মধ্য হতে হবে। আর অপরদিকে মুহাজিরগণ দাবি করে যে, খলীফা তাদের মধ্য হতে নির্বাচিত হবে। আবার অন্য দিকে আরো একটি প্রস্তাব আসে যে, আনসারদের মধ্য হতে একজন আমীর এবং মুহাজিরদের মধ্য হতে একজন আমীর নিযুক্ত করা হোক। কিন্তু এসব কোন প্রস্তাবেই সাহাবীগণ ঐক্যমত পোষণ করতে পারছিলেন না। এমন সময় উমর (রাঃ) বললেন, এমন কে আছে, যে এই ঘটনার দ্বিতীয়জন (যে ঘটনাটির ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলা বলেন)-
ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُوْلُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا আর সে ছিল দু'জনের দ্বিতীয়জন- যখন তারা উভয়ে (একটি) গুহার মধ্যে অবস্থান করছিল তখন সে তার সঙ্গীকে বলেছিল, চিন্তিত হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সঙ্গেই রয়েছেন। (সূরা তাওবা- ৪০) এ কথা বলার পর উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ) এর হাতে বাই'আত প্রদান করলেন। তারপর অন্যান্য সাহাবীগণও তাঁর হাতে বাই'আত প্রদান করলেন। ১৬৪

টিকাঃ
১৪০ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ৮/৫০৯ নং পৃষ্ঠা।
১৪১ সহীহ বুখারী, হা/৪৯৯৮; মিশকাত, হা/২০৯৯।
১৪২ নাসাঈ, হা/৩০৬২; সহীহ মুসলিম, হা/৬১২৯।
১৪৩ তাফসীরে ইবনে কাসীর, ১/৭২১ পৃঃ।
১৪৪ আল-বিদায়াহ ৫/২২৪।
১৪৫ মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬০৪০।
১৪৬ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫১৫৬; সহীহ মুসলিম, হা/২৩৮৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/৬৯০।
১৪৭ ইবনে মাজাহ, হা/৪০২৪; সিলসিলা সহীহাহ, হা/১৪৪।
১৪৮ মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৩৫২; মিশকাত, হা/৭৫০।
১৪৯ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৯৯।
১৫০ সহীহ বুখারী, হা/৩০৫৩; সহীহ মুসলিম, হা/১৬৩৭।
১৫১ মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৫৩১; সহীহ ইবনে হিব্বان, হা/৩২২; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৬৫৩।
১৫২ সহীহ বুখারী, হা/৬২৮৫; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৫০; মিশকাত, হা/৬১২৯।
১৫৩ সহীহ বুখারী, হা/৩৬২৪; সহীহ মুসলিম, হা/২৪৫০; মিশকাত, হা/৬১২৯।
১৫৪ ইবনে মাজাহ, হা/২৬৯৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৫২৬; মিশকাত, হা/৩৩৫৬।
১৫৫ মুয়াত্তা ইমাম মালেক, হা/৫৬৪; সহীহ বুখারী, হা/৪৪৪০; সহীহ মুসলিম, হা/৬৪৪৬; তিরমিযী, হা/৩৪৯৬; ইবনে মাজাহ, হা/১৬১৯; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৫৯৮৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৬১৮; জামেউস সগীর, হা/২১৪৭।
১৫৬ সহীহ বুখারী, হা/৩৫৩৬।
১৫৭ দারেমী, হা/৮৮; মিশকাত, ৫৯৬২।
১৫৮ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৫৯ সহীহ বুখারী, হা/১২৪১।
১৬০ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।
১৬১ সহীহ বুখারী, হা/১২৪২।
১৬২ সহীহ বুখারী, হা/৪৪৫৪।
১৬৩ ইবনে মাজাহ, হা/১৬২৭।
১৬৪ সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হা/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হা/৬২৪৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00