📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 দলে দলে ইসলাম গ্রহণ

📄 দলে দলে ইসলাম গ্রহণ


মূলত মক্কা বিজয়ের পর থেকেই আরবের বিভিন্ন প্রতিনিধি দল এসে ইসলাম গ্রহণ করতে থাকে। তবে তাবুক যুদ্ধের পর মানুষের ইসলাম গ্রহণের গতি আরো প্রবল বেগে বৃদ্ধি পায়। কেননা মক্কা বিজয়ের পরেও আরবের যেসব গোত্র ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাদের শেষ ভরসা এই ছিল যে, হয়তোবা মুসলিমগণ রোমানদের হাতে পরাজিত হবে। কেননা সে সময় মুসলিমদের মোকাবেলা করার মতো এই একটিমাত্র শক্তিই বাকি ছিল। কিন্তু তাবুক যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যখন রোমানদের শক্তির দুর্বলতা প্রকাশ পেল, তখন মক্কাবাসীদের জন্য ইসলাম গ্রহণ করা ছাড়া অন্য কোন পথই আর অবশিষ্ট রইল না। এ সময় ইসলাম গ্রহণের মধ্যে অন্যতম ছিল বনু আবদুল কাইসের প্রতিনিধি দল, উযরাহ প্রতিনিধি দল, বেলী প্রতিনিধি দল, বনু সাকীফ গোত্রের প্রতিনিধি দল, হামদান এর প্রতিনিধি দল, বনু ফাযারার প্রতিনিধি দল, নাজরানের প্রতিনিধি দল, 'তাই' এর প্রতিনিধি দল, তোজাইব এর প্রতিনিধি দলসহ আরো অনেকে। এ সময় এত বেশি সংখ্যক লোক ইসলাম গ্রহণ করেছিল যে, যেখানে তাবুক যুদ্ধে সৈন্য সংখ্যা ছিল ৩০ হাজার, সেখানে বিদায় হজ্জে অংশ নিয়েছিল ১ লক্ষ ২৪ হাজার।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 গভর্ণর হিসেবে মুয়ায (রাঃ)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ

📄 গভর্ণর হিসেবে মুয়ায (রাঃ)-কে ইয়ামেনে প্রেরণ


ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ম হিজরী সনে। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে গভর্নর নিযুক্ত করে ইয়ামেনে পাঠান। ইয়ামেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে কিছু উপদেশ দান করেন এবং এ কথাও বলে দেন যে, “হে মুয়ায! এ বছরের পর তোমার সাথে আমার হয়তো আর সাক্ষাৎ নাও হতে পারে। তখন হয়তোবা আমার এই মসজিদ এবং আমার কবরের পাশ দিয়ে তোমরা যাতায়াত করবে।” মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে এসব কথা শুনে নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে, এ বছরের পর আর তাঁকে পাওয়া যাবে না। তাই তিনি বিচ্ছেদ ব্যথায় অস্থির হয়ে কাঁদতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, কেঁদো না হে মুয়ায! নিশ্চয় কান্না শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।১২২

টিকাঃ
১২২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১০৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৪৯৭।

ঘটনাটি ঘটেছিল ১০ম হিজরী সনে। এ সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে গভর্নর নিযুক্ত করে ইয়ামেনে পাঠান। ইয়ামেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ)-কে কিছু উপদেশ দান করেন এবং এ কথাও বলে দেন যে, “হে মুয়ায! এ বছরের পর তোমার সাথে আমার হয়তো আর সাক্ষাৎ নাও হতে পারে। তখন হয়তোবা আমার এই মসজিদ এবং আমার কবরের পাশ দিয়ে তোমরা যাতায়াত করবে।” মুয়ায ইবনে জাবাল (রাঃ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মুখ থেকে এসব কথা শুনে নিশ্চিত হয়ে গেলেন যে, এ বছরের পর আর তাঁকে পাওয়া যাবে না। তাই তিনি বিচ্ছেদ ব্যথায় অস্থির হয়ে কাঁদতে লাগলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে সান্ত্বনা দিয়ে বললেন, কেঁদো না হে মুয়ায! নিশ্চয় কান্না শয়তানের পক্ষ থেকে আসে।১২২

টিকাঃ
১২২ মুসনাদে আহমাদ, হা/২২১০৭; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৪৯৭।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 বিদায় হজ্জ

📄 বিদায় হজ্জ


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পালিত একমাত্র হজ্জই হচ্ছে বিদায় হজ্জ। । এ হজ্জে ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। যেহেতু এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের শেষ হজ্জ, কাজেই সার্বিক দিক থেকেই এই হজ্জের গুরুত্ব ছিল অনেক ঊর্ধ্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন সাহাবীগণও অনেকটা অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, হয়তো এ বছরের পর তারা আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হতে পারবেন না। যার ফলেই এত বিপুল পরিমাণ সাহাবী এ হজ্জে একত্রিত হয়েছিলেন। আর এ হজ্জের মাধ্যমেই সাহাবীগণ হজ্জ পালনের যাবতীয় নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
মক্কার পথে যাত্রা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষে এ হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে বের হয়েছিলেন যিলকদ মাসের ২৬ তারিখে তথা জিলহজ্জ মাসের ৪ দিন বাকি থাকতে। যখন তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে শিবির স্থাপন করলেন। তারপর সেখানে তিনি আসরের নামায কসর করে আদায় করলেন। সে রাত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। পরের দিন তিনি যোহরের নামাযের পূর্বে ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করলেন এবং যোহরের নামাযও কসর করে আদায় করলেন। এরপর সেখান থেকেই হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। তারপর তিনি কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে আবারো “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে ফাঁকা ময়দানে এসে সেখানেও উচ্চকণ্ঠে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সাত দিন পর মক্কার পার্শ্ববর্তী স্থান “যী-তোওয়া" নামক স্থানে পৌঁছে সেখানে যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। তার পরের দিন সকালে তিনি ফজরের নামায আদায় করে গোসল করেন এবং সকালেই মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন দিনটি ছিল ১০ম হিজরীর ৪ঠা জিলহজ্জ রোজ রবিবার।
উমরা পালন: রাসূলুল্লাহ মক্কায় প্রবেশ করেই প্রথমে উমরা পালন করেন। তিনি প্রথমে কাবাঘর তাওয়াফ করেন১২৩, তারপর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।১২৪ তারপর সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেন।১২৫ তারপর তিনি হালাল না হয়ে সে অবস্থাতেই থেকে যান। কেননা তিনি হজ্জ ও উমরা পালনের উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে ইহরাম বেঁধেছিলেন। তাছাড়া তাঁর সাথে হাদী তথা কুরবানীর পশুও ছিল।
সাহাবীদের ইতস্ততবোধ : রাসূলুল্লাহ এর সাথে যেসব সাহাবী এসেছিলেন, তাদের অনেকেই কুরবানীর পশু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিলেন না। তাই রাসূলুল্লাহ তাদেরকে উমরা সম্পন্ন করার পর হালাল হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু যেহেতু রাসূলুল্লাহ নিজে হালাল হচ্ছিলেন না, তাই সকলেই ইতস্ততবোধ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যা পরে জানলাম তা যদি আগেই জানতে পারতাম তাহলে আমি সঙ্গে হাদী নিয়ে আসতাম না। তাছাড়া আমার সাথে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।১২৬ রাসূলুল্লাহ এর মুখ থেকে এসব কথা শোনার পর যাদের সাথে হাদী ছিল না তারা সকলেই হালাল হয়ে গেলেন।
মিনায় গমন : তারপর রাসূলুল্লাহ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ (তালবিয়ার দিন) মিনায় গমন করেন এবং ইতিপূর্বে যেসব সাহাবী হালাল হয়ে গিয়েছিলেন, তারাও হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরিধান করে নেন। তারপর তিনি ৯ই জিলহজ্জের সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ১২৭
আরাফায় অবস্থান : তারপর তিনি আরাফায় গমন করেন এবং ওয়াদীয়ে নামিরা নামক স্থানে তাঁর তাঁবুতে অবতরণ করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে গেলে 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে 'বাতনে ওয়াদী' নামক স্থানে গমন করেন।

টিকাঃ
১২৩ সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৪।
১২৪ সহীহ বুখারী, হা/৪০২।
১২৫ সহীহ বুখারী, হা/১৬০৭।
১২৬ সহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/১২১৮।
১২৭ সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৪, ১২১৮; সহীহ বুখারী, হা/১০৮১; ১০৮৩।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পালিত একমাত্র হজ্জই হচ্ছে বিদায় হজ্জ। । এ হজ্জে ১ লক্ষ ২৪ হাজার সাহাবী তাঁর সাথে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। যেহেতু এটা ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জীবনের শেষ হজ্জ, কাজেই সার্বিক দিক থেকেই এই হজ্জের গুরুত্ব ছিল অনেক ঊর্ধ্বে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন প্রস্তুতি গ্রহণ করার জন্য সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তখন সাহাবীগণও অনেকটা অনুমান করতে পেরেছিলেন যে, হয়তো এ বছরের পর তারা আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে হজ্জে শরীক হতে পারবেন না। যার ফলেই এত বিপুল পরিমাণ সাহাবী এ হজ্জে একত্রিত হয়েছিলেন। আর এ হজ্জের মাধ্যমেই সাহাবীগণ হজ্জ পালনের যাবতীয় নিয়ম-কানুন আয়ত্ত করে নিয়েছিলেন।
মক্কার পথে যাত্রা:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল প্রকার প্রস্তুতি শেষে এ হজ্জ পালন করার উদ্দেশ্যে মক্কার দিকে বের হয়েছিলেন যিলকদ মাসের ২৬ তারিখে তথা জিলহজ্জ মাসের ৪ দিন বাকি থাকতে। যখন তিনি যুল হুলাইফা নামক স্থানে পৌঁছলেন, তখন তিনি সেখানে শিবির স্থাপন করলেন। তারপর সেখানে তিনি আসরের নামায কসর করে আদায় করলেন। সে রাত তিনি সেখানেই অবস্থান করলেন। পরের দিন তিনি যোহরের নামাযের পূর্বে ইহরামের উদ্দেশ্যে গোসল করলেন এবং যোহরের নামাযও কসর করে আদায় করলেন। এরপর সেখান থেকেই হজ্জ ও উমরার উদ্দেশ্যে ইহরাম বেঁধে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করতে শুরু করলেন। তারপর তিনি কাসওয়া নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে আবারো “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন এবং উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে ফাঁকা ময়দানে এসে সেখানেও উচ্চকণ্ঠে “লাব্বাইক" ধ্বনি উচ্চারণ করেন।
এরপর রাসূলুল্লাহ সেখান থেকে যাত্রা শুরু করে সাত দিন পর মক্কার পার্শ্ববর্তী স্থান “যী-তোওয়া" নামক স্থানে পৌঁছে সেখানে যাত্রা বিরতি করেন এবং সেখানেই রাত্রি যাপন করেন। তার পরের দিন সকালে তিনি ফজরের নামায আদায় করে গোসল করেন এবং সকালেই মক্কায় প্রবেশ করেন। তখন দিনটি ছিল ১০ম হিজরীর ৪ঠা জিলহজ্জ রোজ রবিবার।
উমরা পালন: রাসূলুল্লাহ মক্কায় প্রবেশ করেই প্রথমে উমরা পালন করেন। তিনি প্রথমে কাবাঘর তাওয়াফ করেন১২৩, তারপর মাকামে ইবরাহীমের পেছনে দুই রাক'আত সালাত আদায় করেন।১২৪ তারপর সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সায়ী করেন।১২৫ তারপর তিনি হালাল না হয়ে সে অবস্থাতেই থেকে যান। কেননা তিনি হজ্জ ও উমরা পালনের উদ্দেশ্যে একই সঙ্গে ইহরাম বেঁধেছিলেন। তাছাড়া তাঁর সাথে হাদী তথা কুরবানীর পশুও ছিল।
সাহাবীদের ইতস্ততবোধ : রাসূলুল্লাহ এর সাথে যেসব সাহাবী এসেছিলেন, তাদের অনেকেই কুরবানীর পশু নিয়ে আসতে সক্ষম ছিলেন না। তাই রাসূলুল্লাহ তাদেরকে উমরা সম্পন্ন করার পর হালাল হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু যেহেতু রাসূলুল্লাহ নিজে হালাল হচ্ছিলেন না, তাই সকলেই ইতস্ততবোধ করছিলেন। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, আমি যা পরে জানলাম তা যদি আগেই জানতে পারতাম তাহলে আমি সঙ্গে হাদী নিয়ে আসতাম না। তাছাড়া আমার সাথে যদি হাদী না থাকত তাহলে আমি হালাল হয়ে যেতাম।১২৬ রাসূলুল্লাহ এর মুখ থেকে এসব কথা শোনার পর যাদের সাথে হাদী ছিল না তারা সকলেই হালাল হয়ে গেলেন।
মিনায় গমন : তারপর রাসূলুল্লাহ জিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখ (তালবিয়ার দিন) মিনায় গমন করেন এবং ইতিপূর্বে যেসব সাহাবী হালাল হয়ে গিয়েছিলেন, তারাও হজ্জের উদ্দেশ্যে ইহরাম পরিধান করে নেন। তারপর তিনি ৯ই জিলহজ্জের সকাল পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করেন এবং সূর্যোদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ১২৭
আরাফায় অবস্থান : তারপর তিনি আরাফায় গমন করেন এবং ওয়াদীয়ে নামিরা নামক স্থানে তাঁর তাঁবুতে অবতরণ করেন। অতঃপর সূর্য পশ্চিম দিকে ঢলে গেলে 'কাসওয়া' নামক উষ্ট্রীর উপর আরোহণ করে 'বাতনে ওয়াদী' নামক স্থানে গমন করেন।

টিকাঃ
১২৩ সহীহ মুসলিম, হা/১২৭৪।
১২৪ সহীহ বুখারী, হা/৪০২।
১২৫ সহীহ বুখারী, হা/১৬০৭।
১২৬ সহীহ মুসলিম, হা/১২১১; মিশকাত, হা/১২১৮।
১২৭ সহীহ মুসলিম, হা/৬৯৪, ১২১৮; সহীহ বুখারী, হা/১০৮১; ১০৮৩।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 আরাফার ঐতিহাসিক ভাষণ

📄 আরাফার ঐতিহাসিক ভাষণ


রাসূলুল্লাহ বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে এসে একটি ভাষণ প্রদান করেন, যা ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষণ নামে পরিচিত। তিনি ভাষণ প্রদানকালে বলেন, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমন হারাম, যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে। সাবধান! জাহেলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহেলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের রবী'আ ইবনে হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বনু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। আর জাহেলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি প্রথমেই যে সুদ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হলো। আর তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার করো। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক রয়েছে। আর আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
ভাষণের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে কী বলবে? তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আঙ্গুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে ইশারা করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” এভাবে তিনি তিনবার বললেন।১২৮ রাসূলুল্লাহ যখন এ ভাষণ শেষ করলেন ঠিক তখনই এ আয়াত নাযিল হয়, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর পরই উমর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে ফেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ যোহর ও আসরের নামায এক সাথে কসর আদায় করলেন। ১২৯

টিকাঃ
১২৮ সহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯।
১২৯ সহীহ বুখারী, হা/১৬৬২; মিশকাত, হা/২৬১৭।

রাসূলুল্লাহ বাতনে ওয়াদী নামক স্থানে এসে একটি ভাষণ প্রদান করেন, যা ইতিহাসে বিদায় হজ্জের ভাষণ নামে পরিচিত। তিনি ভাষণ প্রদানকালে বলেন, তোমাদের রক্ত ও তোমাদের সম্পদ তোমাদের জন্য তেমন হারাম, যেমন তা হারাম তোমাদের এ দিনে, এ মাসে এবং তোমাদের এ শহরে। সাবধান! জাহেলী যুগের সকল ব্যাপার (অপসংস্কৃতি) আমার উভয় পায়ের নীচে। জাহেলী যুগের রক্তের দাবিও বাতিল হলো। আমি সর্বপ্রথম যে রক্তপণ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের রবী'আ ইবনে হারিসের পুত্রের রক্তপণ। সে শিশু অবস্থায় বনু সা'দ এ দুগ্ধপোষ্য ছিল, তখন হুযাইল গোত্রের লোকেরা তাকে হত্যা করে। আর জাহেলী যুগের সুদও বাতিল হলো। আমি প্রথমেই যে সুদ বাতিল করছি তা হলো, আমাদের বংশের আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিবের সুদ। তার সমস্ত সুদ বাতিল হলো। আর তোমরা স্ত্রীলোকদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানত হিসেবে গ্রহণ করেছ এবং আল্লাহর কালিমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান নিজেদের জন্য হালাল করেছ। তাদের উপরে তোমাদের অধিকার এই যে, তারা যেন তোমাদের শয্যায় এমন কোন লোককে আশ্রয় না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ কর। যদি তারা এরূপ করে, তবে হালকাভাবে প্রহার করো। আর তোমাদের উপর তাদের ন্যায়সঙ্গত ভরণ-পোষণের ও পোশাক-পরিচ্ছদের হক রয়েছে। আর আমি তোমাদের মাঝে এমন এক জিনিস রেখে যাচ্ছি- যা দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে থাকলে তোমরা পথভ্রষ্ট হবে না। আর তা হচ্ছে আল্লাহর কিতাব।
ভাষণের শেষ দিকে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সম্পর্কে তোমরা জিজ্ঞাসিত হলে কী বলবে? তারা বলল, আমরা সাক্ষ্য দেব যে, আপনি (আল্লাহর বাণী) পৌঁছিয়েছেন, আপনার হক আদায় করেছেন এবং সদুপদেশ দিয়েছেন। অতঃপর তিনি তর্জনী আঙ্গুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে ইশারা করে বললেন, “হে আল্লাহ! তুমি সাক্ষী থেকো।” এভাবে তিনি তিনবার বললেন।১২৮ রাসূলুল্লাহ যখন এ ভাষণ শেষ করলেন ঠিক তখনই এ আয়াত নাযিল হয়, الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম। (সূরা মায়েদা- ৩)
এ আয়াত নাযিল হওয়ার পর পরই উমর (রাঃ) এর মর্ম বুঝতে পেরে কেঁদে ফেলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ যোহর ও আসরের নামায এক সাথে কসর আদায় করলেন। ১২৯

টিকাঃ
১২৮ সহীহ মুসলিম, হা/৩০০৯।
১২৯ সহীহ বুখারী, হা/১৬৬২; মিশকাত, হা/২৬১৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00