📄 সওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ
রাসূলুল্লাহ বাড়ি থেকে বের হয়ে সোজা আবু বকর (রাঃ) এর কাছে গেলেন। আবু বকর (রাঃ) আগে থেকেই প্রস্তুত হয়েছিলেন। তারপর তাঁরা দুজন বাড়ির পেছনের একটি জানালা দিয়ে বের হয়ে যান। তারপর তাঁরা মদিনার ঠিক বিপরীত দিক তথা দক্ষিণ দিক দিয়ে যাত্রা শুরু করেন। যাতে করে কুরাইশরা সহজে তাঁদেরকে ধরতে না পারে। আর সে সময় তাঁরা খুব দ্রুত অগ্রসর হচ্ছিলেন, যাতে তাঁরা রাত শেষ হওয়ার পূর্বেই কুরাইশদের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারেন। অবশেষে তাঁরা সওর পর্বতের গুহায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।
📄 কুরাইশদের ব্যর্থ প্রচেষ্টা
এদিকে কুরাইশরা রাসূলুল্লাহ -কে তাঁর বিছানায় না পেয়ে চরম উত্তেজিত হয়ে গেল। তারপর তারা আবু বকর (রাঃ) এর বাড়িতে গেল। কিন্তু তারা সেখানে তাকেও না পেয়ে বুঝতে পারল যে, তাঁরা উভয়েই হিজরত করার জন্য বের হয়ে গেছেন। ফলে তারা মক্কা এবং মক্কার আশেপাশের এলাকাগুলোতে পাগলের মতো খুঁজতে শুরু করল। এক পর্যায়ে কুরাইশরা সওর পর্বতের সেই গুহায় এসে পড়ল এবং তাঁদেরকে প্রায় দেখে ফেলেছিল। তখন আবু বকর (রাঃ) ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। ফলে রাসূলুল্লাহ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়ে বলেছিলেন, হে আবু বকর! তুমি ভয় করো না, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন। ৬৭ তারপর তাঁরা আল্লাহর উপর ভরসা করে নীরবে বসে রইলেন। এদিকে মুশরিকরা কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজি করল; কিন্তু তবুও তাঁদের অবস্থানের বিষয়টি জানতে পারল না। আর এটি ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সাহায্য।
টিকাঃ
৬৭ সহীহ বুখারী, হা/৩৬৫৩; সহীহ মুসলিম, হা/২৩৮১; সূরা তাওবা- ৪০।
📄 গুহা থেকে মদিনার পথে
রাসূলুল্লাহ ও আবু বকর (রাঃ) এ অবস্থায় তিন দিন কাটিয়ে দিলেন। এদিকে কুরাইশদের খোঁজাখুঁজিও কিছুটা স্তিমিত হয়ে গেল। হিজরতের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার দিন আবু বকর (রাঃ) তার প্রস্তুতকৃত উট দুটি কিছু পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আবদুল্লাহ ইবনে আরীকত নামক এক ব্যক্তির কাছে রেখে এসেছিলেন। কথা ছিল যে, ঠিক তিন দিন পর চতুর্থ রাত্রিতে সওর পর্বতের গুহায় নিয়ে আসবে। ফলে সে কথামতো তাই করল। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ ও আবু বকর (রাঃ)-কে পথ প্রদর্শন করে মদিনায় পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বও সে-ই পালন করল। সে প্রথমে তাঁদেরকে নিয়ে ইয়ামেনের পথে অনেক দূর পর্যন্ত যাওয়ার পর সমুদ্র তীরের দিকে মোড় নিয়ে খুবই বিচক্ষণতার সাথে একটি অপরিচিত পথ দিয়ে মদিনায় পৌঁছে দিল।
গুহা থেকে বের হয়ে মদিনার পথে যাত্রা শুরু করার রাতে আসমা (রাঃ) তাঁদের পাথেয় নিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। কিন্তু পাথেয় বেঁধে রাখার মতো কোন রশি না পেয়ে তিনি নিজের কোমরবন্ধনী খুলে দুই ভাগ করে এক ভাগ দিয়ে পাথেয় বেঁধে দিয়েছিলেন এবং অপরটি দিয়ে নিজের কোমর বেঁধেছিলেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ তাকে 'যাতুন নিতাকাইন' উপাধীতে ভূষিত করেছিলেন।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কুবায় আগমন
সর্বপ্রথম নবী মদিনার পার্শ্ববর্তী এলাকা কুবা নামক স্থানে অবতরণ করেন। সে দিনটি ছিল নবুওয়াতের ১৪তম বর্ষের ৮ই রবিউল আওয়াল মোতাবেক ২৩ সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দ। সেখানে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন, যা এখনো মসজিদে কুবা নামে খ্যাত। এ সময় তিনি কুলসুম বিন হাদাম (রাঃ) এর বাড়িতে উঠলেন। অতঃপর সেখানে তিনি চার দিন তথা সোমবার, মঙ্গলবার, বুধবার এবং বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অবস্থান করেন।