📄 দারুন নদওয়ায় কুরাইশদের বৈঠক
মুসলিমরা যখন এক এক করে হিজরত করতে লাগলেন, তখন মক্কা নগরী ধীরে ধীরে খালি হতে লাগল। এদিকে মুসলিমরা মদিনায় আশ্রয় নেয়ায় বিষয়টি কুরাইশদেরকে আরো চিন্তিত করে তুলেছিল। কেননা কুরাইশদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সবেচেয়ে বড় কেন্দ্র 'সিরিয়া' যেতে হতো মদিনাকে অতিক্রম করেই। এসব চিন্তা করে কুরাইশরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য নবুওয়াতের চতুর্দশ বর্ষের ২৬ শে সফর মোতাবেক ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ১২ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার দিনের প্রথম ভাগে তাদের সভাকেন্দ্র দারুন নদওয়াতে একত্রিত হয় এবং এতে কুরাইশ গোত্রের সকল নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে। অতঃপর যখন তারা আলোচনা শুরু করে, তখন ইবলিসও ছদ্মবেশে তাদের সাথে যোগ দেয়।
উক্ত সভায় অনেক শলা-পরামর্শের পর সবশেষে সিদ্ধান্ত হলো যে, রাসূলুল্লাহ -কে হত্যা করা হবে এবং এ হত্যাকাণ্ডে প্রত্যেক গোত্র থেকে একজন করে সুঠামদেহী ও শক্তিশালী যুবক অংশ গ্রহণ করবে। ফলে এর দায় সবার উপর বর্তাবে। আর এটাই সবচেয়ে নিরাপদ। কেননা এমনটি হলে বনু হাশেম ও বনু মুত্তালিবের পক্ষে সবার সাথে লড়াই করা সম্ভব হবে না।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর হিজরত
যখন দারুন নদওয়ায় বসে কুরাইশরা এ ধরনের ঘৃণ্য ও জঘন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে জিবরাঈল (আঃ) রাসূলুল্লাহ এর নিকট আগমন করেন। তারপর তিনি তাঁকে সবকিছু জানিয়ে দেন এবং বলেন, আল্লাহ তা'আলা আপনাকে হিজরত করার অনুমতি প্রদান করেছেন। রাসূলুল্লাহ হিজরত করার জন্য অনুমতি পাওয়ার সাথে সাথেই আবু বকর (রাঃ) এর সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য তার বাড়িতে যান। অতঃপর তিনি তার সাথে সবকিছু আলোচনা করে ঐ রাতেই হিজরত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
📄 কুরাইশ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বাড়ি ঘেরাও
রাসূলুল্লাহ ﷺ আবু বকর (রাঃ) এর বাড়ি থেকে ফিরে এসে হিজরতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন। আর অপরদিকে কুরাইশরা তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পূর্ণ প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে এবং তাদের উদ্দেশ্য সফল করার জন্য ১১ জন যুবককে নির্বাচিত করে রাখে। তারা হলো- আবু জাহেল ইবনে হিশাম, হাকাম ইবনে আস, উকবা ইবনে আবু মু'আইত, নাযার ইবনে হারিস, উমাইয়া ইবনে খালফ, যাময়াহ ইবনে আসওয়াদ, তোয়াইমা ইবনে আদী, আবু লাহাব, উবাই ইবনে খালফ, নুবাইছ ইবনে হাজ্জাজ এবং তার ভাই মুনাব্বাহ ইবনে হাজ্জাজ। কর্মসূচী অনুযায়ী তাদের সিদ্ধান্ত ছিল এই যে, যখন রাসূলুল্লাহ ঘুমিয়ে পড়বেন তখন তারা সবাই একযোগে আক্রমণ করে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে হত্যা করে ফেলবে।
📄 হিজরতের উদ্দেশ্যে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গৃহত্যাগ
যাই হোক, ঐ রাত্রে কুরাইশরা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ এর বাড়ি ঘেরাও করে ফেলল। এদিকে রাসূলুল্লাহ আলী (রাঃ)-কে তাঁর বিছানায় ঘুমিয়ে থাকতে বললেন। ফলে তিনি একটি চাদর গায়ে দিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বিছানায় শুয়ে পড়লেন। তারপর রাসূলুল্লাহ ﷺ شَاهَتِ الْوُجُوهُ তথা “চেহারাসমূহ ধূলি মলিন হোক” এ বাক্যটি পাঠ করে এক মুষ্টি কংকরযুক্ত মাটি নিয়ে কুরাইশদের উদ্দেশ্যে নিক্ষেপ করলেন। ৬৬ অতঃপর আল্লাহ তা'আলা কিছুক্ষণের জন্য কুরাইশদেরকে অন্ধকারে আচ্ছন্ন করে ফেললেন, যার ফলে তারা কিছুই দেখতে পায়নি। আর রাসূলুল্লাহ ﷺ এ ফাঁকে ঘর থেকে বের হয়ে গেলেন। ফলে তারা পূর্বের অবস্থাতেই থেকে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল।
দিনটি ছিল নবুওয়াতের চতুর্দশ বর্ষের ২৭শে সফর মোতাবেক ১০ই সেপ্টেম্বর ৬২২ খ্রিস্টাব্দ।
টিকাঃ
৬৬ 'মুস্তাদরাকে হাকেম, হা/৫৮৩; সিলসিলা সহীহাহ, হা/২৮২৪।