📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 আবু তালিবের মৃত্যু

📄 আবু তালিবের মৃত্যু


মুশরিকদের বয়কটের কারণে আবু তালিব পূর্বের তুলনায় খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। ফলে তিনি এ সংকট থেকে মুক্তি পাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে পড়েন। উপরন্তু বার্ধক্য, দুশ্চিন্তা ইত্যাদির কারণে তার সে অসুস্থতা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে। এমনকি এক সময় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তখন ছিল নবুওয়াতের ১০ম বৎসরের রজব মাস।
যখন চাচা আবু তালিবের মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসল, তখন রাসূলুল্লাহ তার নিকট যান এবং সেখানে আবু জাহেলও গমন করে। রাসূলুল্লাহ বললেন, চাচা! আপনি কেবল “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বাক্যটি উচ্চারণ করুন, যাতে আমি সেটা বিচারের দিন আল্লাহর কাছে পেশ করতে পারি। তখন আবু জাহেল ও আবদুল্লাহ বিন উমাইয়া বলল, হে আবু তালিব! আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে কি তাহলে শেষ পর্যন্ত বিমুখ হয়ে যাবেন? এভাবে উভয় পক্ষের বাদানুবাদ চলতেই থাকল। অবশেষে আবু তালিব নিজের পিতৃপুরুষদের ধর্মের উপরই মৃত্যুবরণ করেন।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 খাদীজা (রাঃ) এর মৃত্যু

📄 খাদীজা (রাঃ) এর মৃত্যু


খাদীজা (রাঃ) আবু তালিবের মৃত্যুর ঠিক দুই মাস পর নবুওয়াতের ১০ম বছরের রমাযান মাসে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স ছিল ৬৫ বছর। রাসূলুল্লাহ তখন পর্যন্ত অন্য কাউকে বিবাহ করেননি। অথচ তখন তার বয়স ছিল ৫০ বছর।
খাদীজা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর জীবনে আল্লাহর পক্ষ থেকে নিয়ামতস্বরূপ ছিলেন। তিনি সবসময় রাসূলুল্লাহ এর সুখ-দুঃখের সঙ্গী ছিলেন। ইসলামের প্রয়োজনে তিনি সকল সম্পত্তি রাসূলুল্লাহ এর হাতে তুলে দিয়েছিলেন। যখন সকল মানুষ রাসূলুল্লাহ এর বিরোধিতা করে আসছিল, তখন তিনি ছায়ার মতো রাসূলুল্লাহ-কে বিভিন্ন কথাবার্তার মাধ্যমে সান্ত্বনা প্রদান করে সাহস যোগাতেন। তার এ মৃত্যুতে রাসূলুল্লাহ অত্যন্ত শোকাহত হয়ে পড়েন।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 দুঃখের বছর

📄 দুঃখের বছর


একই বছর প্রাণপ্রিয় চাচা আবু তালিব এবং সহধর্মিণী খাদীজা (রাঃ) এর মৃত্যুতে রাসূলুল্লাহ মানসিকভাবে মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন। কেননা এতদিন বহিরাগত যত শত্রুতাই থাকুক না কেন, তাদের দুজনের কাছ থেকে শক্তি-সাহস পেতেন। কিন্তু তাদের মৃত্যুতে শক্তি-সাহস যোগানোর মতো এখন আর কেউ রইল না। উপরন্তু যখন রাসূলুল্লাহ আলাইহি এর চাচা আবু তালিব মৃত্যুবরণ করল তখন মুশরিকদের মধ্যে এবং রাসূলুল্লাহ আলাইহি এর মধ্যে আর কোন বাধা অবশিষ্ট থাকল না। ফলে তাদের পক্ষ থেকে নেমে আসতে থাকল অবিরাম ধারায় নির্যাতন। মুশরিকদের পক্ষ থেকে আগত নির্যাতনের ধারা এতই বেশি ছিল যে, ইতিপূর্বে সকল মাত্রা অতিক্রম করে ফেলল। ফলে রাসূলুল্লাহ এর জীবন আরো দুর্বিষহ ও বিষাদময় হয়ে উঠল। তাই রাসূলুল্লাহ এ বছরের নাম দেন- আমুল হুযন অর্থাৎ দুঃখ-কষ্টের বছর।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সাওদা (রাঃ) এর বিবাহ

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সাথে সাওদা (রাঃ) এর বিবাহ


খাদীজা (রাঃ) এর মৃত্যুর পর রাসূলুল্লাহ সর্বপ্রথম সাওদা বিনতে যাময়াহ (রাঃ)-কে বিবাহ করেন। তখন ছিল নবুওয়াতের ১০ম বর্ষের শাওয়াল মাস। ইতিপূর্বে সাওদা (রাঃ) সাকারীন বিন আমর (রাঃ) এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। তারা উভয়েই প্রাথমিক যুগের মুসলিম ছিলেন এবং হাবশায় হিজরত করেছিলেন। অতঃপর হাবশায় থাকা অবস্থাতেই স্বামী সাকারীন বিন আমর (রাঃ) মৃত্যুবরণ করেন। তারপর সাওদা (রাঃ) মক্কায় ফিরে এসে ইদ্দত পালন শেষে রাসূলুল্লাহ এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00