📄 দাদা আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যু
রাসূলুল্লাহ যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সে পদার্পণ করলেন তখন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবও ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি আবার একা হয়ে যান এবং শোক যন্ত্রণা ও ব্যথা-বেদনা অনুভব করতে শুরু করেন। মৃত্যুকালে আবদুল মুত্তালিবের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
📄 চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ
রাসূলুল্লাহ দাদাকেও হারালেন তখনই চাচা আবু তালিব তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলেন। তিনি তাঁর লালন পালনের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। তাছাড়া আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আবু তালিবকে সেই উপদেশই দিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে আবদুল মুttaliber মতো তিনিও রাসূলুল্লাহ -কে সবসময় আগলে রাখতেন এবং নিজের পুত্র থেকে তাঁকে বেশি স্নেহ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ এরপরে চাচা আবু তালিবের সাথে দিন অতিবাহিত করতে থাকেন।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিরিয়া গমন
রাসূলুল্লাহ এর বয়স যখন ১২ বছর তখন তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে আবু তালিবের সাথে সিরিয়া গমন করেন। সে সময় সিরিয়া 'শাম' নামে পরিচিত ছিল। সফরের এক পর্যায়ে তারা বসরায় গিয়ে উপস্থিত হন। সে সময় বসরা ছিল শাম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
সেখানে একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক (রাহেব) বসবাস করত। তাঁর উপাধি ছিল বুহায়রা। তিনি কখনো কোন কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য গীর্জা থেকে বের হতেন না। কিন্তু যখন এ কাফেলাটি সেখানে গিয়ে শিবির স্থাপন করল, তখন তিনি গীর্জা থেকে বের হয়ে এলেন এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। তারপর বালক মুহাম্মাদ এর হাত ধরে বললেন, ইনি হচ্ছেন বিশ্বজাহানের সরদার। অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ রাসূল হিসেবে মনোনীত করবেন। এ কথা শুনে আবু তালিব বললেন, আপনি কীভাবে জানলেন যে, ইনিই হচ্ছেন শেষ নবী? তখন তিনি বললেন, গিরিপথের ঐ প্রান্ত থেকে তোমাদের আগমন যখন ধীরে ধীরে আমার দৃষ্টিগোচর হয়ে আসছিল তখন আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে, সেখানে এমন কোন বৃক্ষ কিংবা পাথর ছিল না- যা তাঁকে সিজদা করেনি।' এসব জিনিস নবী-রাসূল ছাড়া সৃষ্টিকুলের মধ্যে অন্য কাউকে কখনই সিজদা করে না। উপরন্তু মোহরে নবুওয়াত দেখেও আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি। তাঁর স্কন্দদেশের নিচে কড়ি হাড্ডির পাশে 'সেব' ফলের আকৃতিবিশিষ্ট একটি দাগ রয়েছে। সেটাই হচ্ছে মোহরে নবুওয়াত। আর এগুলো আমি বাইবেল থেকে অবগত হয়েছি। তারপর তিনি আবু তালিবকে বললেন, আপনি একে সাথে নিয়ে আর বিদেশে ভ্রমণ করবেন না; বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যান। কেননা ইয়াহুদিরা এর পরিচয় জানতে পারলে একে হত্যা করে ফেলতে পারে। ফলে আবু তালিব খুব শীঘ্রই তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
টিকাঃ
* সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৮০-৮৩; তিরমিযী, হা/৩৬২০।
📄 হিলফুল ফুযূল প্রতিষ্ঠা
ফুজ্জার যুদ্ধের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হিংস্রতা দেখে রাসূলুল্লাহ খুবই ব্যথিত হন। এ যুদ্ধের বিভিন্ন দিক চিন্তা করে তিনি মানুষের সেবা-যত্ন করার জন্য একটি সংঘঠন প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করেন। তাই তিনি চাচা যুবায়ের ইবনে আবদুল মুত্তালিবের নিকট এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব পেশ করেন। ফলে যুবায়ের ইবনে আবদুল মুttalib এতে সম্মতি জ্ঞাপন করেন। তারপর তাদের উভয়ের ঐকান্তিক প্রচেষ্টাতেই ধীরে ধীরে এর সমর্থক সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অবশেষে আবদুল্লাহ ইবনে জুদ'আনের ঘরে বিভিন্ন গোত্রপতির উপস্থিতি ও সম্মতি সাপেক্ষে এ মর্মে একটি অঙ্গীকারনামা সম্পাদিত হয় যে,
১. দেশের অশান্তি দূর করার জন্য আমরা সর্বদাই সচেষ্ট থাকব।
২. বিদেশি লোকদের ধনসম্পদ ও মানসম্মান রক্ষা করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।
৩. দরিদ্র, দুর্বল ও অসহায় লোকদের সহায়তাদানে আমরা কখনই কুণ্ঠাবোধ করব না।
৪. অত্যাচারীর অত্যাচার থেকে দুর্বল লোকদেরকে রক্ষা করতে প্রাণপণ চেষ্টা করব।
এ অঙ্গীকারনামা সম্পাদনের সময় উপস্থিত ছিলেন বনু হাশেম, বনু মুত্তালিব, বনু আসাদ বিন আবদুল উযযা, বনু যোহরা বিন কিলাব এবং বনু তামীম বিন মুররাহ প্রমুখ গোত্রের প্রধানগণ।
যেহেতু এ অঙ্গীকারনামাটি ছিল অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য, তাই এ সংগঠনের নাম দেয়া হয় 'হিলফুল ফুযূল' বা শান্তি সংঘ। এ সংগঠনটি প্রতিষ্ঠার পর থেকে আরব গোত্রগুলোর মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়তে থাকে। কিন্তু ইসলাম আগমনের মধ্য দিয়ে এর কার্যকারিতা স্তিমিত হয়ে যায়।