📄 আবদুল মুত্তালিবের আশ্রয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ
রাসূলুল্লাহ এর পিতা আবদুল্লাহ ছিলেন দাদা আবদুল মুত্তালিবের সবচেয়ে প্রিয় পুত্র। রাসূলুল্লাহ এর জন্মের পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ফলে আবদুল মুত্তালিব শিশু মুহাম্মাদ এর প্রতি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েন। তারপর যখন মাতা আমিনাও মৃত্যুবরণ করেন, তখন তিনি তাঁকে (মুহাম্মাদকে) নিজের আশ্রয়ে নিয়ে নেন। এদিকে তিনি ইয়াতীম হয়ে পড়ায় তাঁর প্রতি আবদুল মুত্তালিবের ভালোবাসা আরো বৃদ্ধি পায়। তিনি শিশু মুহাম্মাদ-কে সবসময় নিজের কাছাকাছি রাখতেন এবং সকল বিপদাপদে তিনি তাঁকে আড়াল করে রাখতেন।
📄 দাদা আবদুল মুত্তালিবের মৃত্যু
রাসূলুল্লাহ যখন ৮ বছর ২ মাস ১০ দিন বয়সে পদার্পণ করলেন তখন তাঁর দাদা আবদুল মুত্তালিবও ইন্তেকাল করেন। ফলে তিনি আবার একা হয়ে যান এবং শোক যন্ত্রণা ও ব্যথা-বেদনা অনুভব করতে শুরু করেন। মৃত্যুকালে আবদুল মুত্তালিবের বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
📄 চাচা আবু তালিবের আশ্রয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ
রাসূলুল্লাহ দাদাকেও হারালেন তখনই চাচা আবু তালিব তাঁর সাহায্যে এগিয়ে এলেন। তিনি তাঁর লালন পালনের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। তাছাড়া আবদুল মুত্তালিব মৃত্যুর পূর্বক্ষণে আবু তালিবকে সেই উপদেশই দিয়ে গিয়েছিলেন। ফলে আবদুল মুttaliber মতো তিনিও রাসূলুল্লাহ -কে সবসময় আগলে রাখতেন এবং নিজের পুত্র থেকে তাঁকে বেশি স্নেহ করতেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ এরপরে চাচা আবু তালিবের সাথে দিন অতিবাহিত করতে থাকেন।
📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সিরিয়া গমন
রাসূলুল্লাহ এর বয়স যখন ১২ বছর তখন তিনি ব্যবসার উদ্দেশ্যে আবু তালিবের সাথে সিরিয়া গমন করেন। সে সময় সিরিয়া 'শাম' নামে পরিচিত ছিল। সফরের এক পর্যায়ে তারা বসরায় গিয়ে উপস্থিত হন। সে সময় বসরা ছিল শাম রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত।
সেখানে একজন খ্রিস্টান ধর্মযাজক (রাহেব) বসবাস করত। তাঁর উপাধি ছিল বুহায়রা। তিনি কখনো কোন কাফেলার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য গীর্জা থেকে বের হতেন না। কিন্তু যখন এ কাফেলাটি সেখানে গিয়ে শিবির স্থাপন করল, তখন তিনি গীর্জা থেকে বের হয়ে এলেন এবং তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলেন। তারপর বালক মুহাম্মাদ এর হাত ধরে বললেন, ইনি হচ্ছেন বিশ্বজাহানের সরদার। অচিরেই আল্লাহ্ তা'আলা তাঁকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ রাসূল হিসেবে মনোনীত করবেন। এ কথা শুনে আবু তালিব বললেন, আপনি কীভাবে জানলেন যে, ইনিই হচ্ছেন শেষ নবী? তখন তিনি বললেন, গিরিপথের ঐ প্রান্ত থেকে তোমাদের আগমন যখন ধীরে ধীরে আমার দৃষ্টিগোচর হয়ে আসছিল তখন আমি প্রত্যক্ষ করলাম যে, সেখানে এমন কোন বৃক্ষ কিংবা পাথর ছিল না- যা তাঁকে সিজদা করেনি।' এসব জিনিস নবী-রাসূল ছাড়া সৃষ্টিকুলের মধ্যে অন্য কাউকে কখনই সিজদা করে না। উপরন্তু মোহরে নবুওয়াত দেখেও আমি তাঁকে চিনতে পেরেছি। তাঁর স্কন্দদেশের নিচে কড়ি হাড্ডির পাশে 'সেব' ফলের আকৃতিবিশিষ্ট একটি দাগ রয়েছে। সেটাই হচ্ছে মোহরে নবুওয়াত। আর এগুলো আমি বাইবেল থেকে অবগত হয়েছি। তারপর তিনি আবু তালিবকে বললেন, আপনি একে সাথে নিয়ে আর বিদেশে ভ্রমণ করবেন না; বরং যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশে ফিরে যান। কেননা ইয়াহুদিরা এর পরিচয় জানতে পারলে একে হত্যা করে ফেলতে পারে। ফলে আবু তালিব খুব শীঘ্রই তাঁকে মক্কায় ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
টিকাঃ
* সীরাতে ইবনে হিশাম, ১/১৮০-৮৩; তিরমিযী, হা/৩৬২০।