📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্ম ও বংশ

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্ম ও বংশ


রাসূলুল্লাহ ছিলেন ইবরাহীম (আঃ) এর পুত্র ইসমাঈল (আঃ) এর বংশধর। ইবরাহীম (আঃ) এর দু'জন পুত্র ছিল। একজন হলেন ইসহাক (আঃ) এবং অপরজন হলেন ইসমাঈল (আঃ)। ইসহাক (আঃ) এর বংশে অনেক নবীর আগমন হলেও ইসমাঈল (আঃ) এর বংশে কেবল শেষ নবী মুহাম্মাদ এর আগমন হয়েছিল। তিনি মক্কার বিখ্যাত বনু হাশেম গোত্রে ৯ রবিউল আউয়াল সোমবার দিবাগত রাতে সুবহে সাদিকের সময় জন্মগ্রহণ করেন। ইংরেজি পঞ্জীকা অনুযায়ী তারিখটি ছিল ২০/২২ এপ্রিল ৫৭১ খ্রিস্টাব্দ। তাঁর পিতার নাম ছিল আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম ছিল আমিনা এবং তাঁর দাদার নাম ছিল আবদুল মুত্তালিব। তাঁর জন্মের পরপরই মাতা আমিনা আবদুল মুত্তালিবের নিকট এ সুসংবাদটি প্রদান করেন। তখন তিনি খুবই আনন্দের সাথে তাঁকে কোলে তুলে নিয়ে কাবাঘরে চলে আসেন। সেখানে তিনি তাঁর মঙ্গলের জন্য আল্লাহর কাছে দু'আ করেন। অতঃপর তিনি তাঁর নাম রাখেন মুহাম্মাদ। ইতিপূর্বে আরবের মধ্যে এ নামে আর কারও নামকরণ করা হয়নি।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্ণ বংশ পরিচয়

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পূর্ণ বংশ পরিচয়


রাসূলুল্লাহ এর পূর্ণ বংশ পরিচয়টি হলো : মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ বিন আবদুল মুত্তালিব (শায়বা) বিন হাশেম (আমর) বিন আবদে মানাফ (মুগীরাহ) বিন কুসাই (যায়েদ) বিন কিলাব বিন মুররাহ বিন কা'ব বিন লুওয়াই বিন গালিব বিন ফিহর (তার উপাধি ছিল কুরাইশ এবং উক্ত সূত্রেই কুরাইশ বংশের উদ্ভব) বিন মালেক বিন নাযর (কায়েস) বিন কেনানা বিন খুযায়মা বিন মুদরেকা (আমের) বিন ইলিয়াস বিন মুযার বিন নিযার বিন মা'দ বিন আদনান বিন আদ বিন হামিসায়া বিন সালমান বিন আউস বিন বুয বিন কামওয়াল বিন উবাই বিন আওয়াম বিন নাশিদ বিন হেযা বিন বালদাস বিন ইয়াদলাফ বিন তারিখ বিন জাহিম বিন নাহিস বিন মাখী বিন আইস বিন আবকার বিন উবাইদ বিন আদদোয়া বিন হামদান বিন সুনবর বিন ইয়াসরাবী বিন ইয়াহযুন বিন ইয়ালহান বিন আরআওয়া বিন আইয বিন যীশান বিন আইসার বিন আফনাদ বিন আইহাম বিন মুকশির বিন নাহিস বিন যারেহ বিন সুমাই বিন মুযী বিন অওয়াহ বিন এরাম বিন কাইদার বিন ইসমাঈল (আঃ) বিন ইবরাহীম (আঃ) বিন তাবেহ (আযর) বিন নাহুর বিন সারুহ (অথবা সারুগ) বিন রাউ বিন ফালেখ বিন আবের বিন শালেখ বিন আরফাখশাদ বিন শাম বিন নূহ (আঃ) বিন লামেক বিন মাতুশলখ বিন আখনুখ (কথিত আছে যে, এই নাম ছিল ইদরীস (আঃ) এর} বিন ইয়াদ বিন মহালায়েল বিন কায়নান বিন আনুশ বিন শীশ বিন আদম (আঃ)।

টিকাঃ
৩২ সহীহ বুখারী, 'সাহাবীদের মার্যাদা' অধ্যায় ৫৭ নং অনুচ্ছেদ 'নবী এর আগমন'।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর লালন পালন

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর লালন পালন


রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্মের কিছুদিন পূর্বে তাঁর পিতা মারা যান। সুতরাং তিনি জন্মগ্রহণের পর থেকেই ইয়াতীম অবস্থায় লালিত পালিত হন। তাঁর জন্ম গ্রহণের পর সর্বপ্রথম তাঁকে দুধ পান করান মাতা আমিনা, তারপর আবু লাহাবের দাসী সুওয়ায়বা।
তারপর তখনকার আরবদের নিয়ম অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ-কে সুস্থ-সবল ও সুস্পষ্টভাষী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দাদা আবদুল মুত্তালিব ধাত্রী মা হালিমা বিনতে যুবায়েরের নিকট সমর্পণ করেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ শিশুকালে সেখানেই লালিত পালিত হতে থাকেন। তারপর যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ এর লালন পালন করার জন্য চুক্তির দুই বছর পূর্ণ হয়ে যায়, তখন হালিমা বিনতে যুবায়ের রাসূলুল্লাহ-কে মাতা আমিনার কাছে ফেরত দিতে যান। তখন হালিমা শিশু মুহাম্মাদ-কে আরো কিছুদিন নিজেদের কাছে রাখার জন্য আবেদন করেন। এতে মাতা আমিনা রাজি হয়ে যান। ফলে মা হালিমা শিশু মুহাম্মাদ-কে ফেরত না দিয়ে আরো কিছুদিন নিজের কাছে রাখার জন্য সাথে করে নিয়ে আসেন।

টিকাঃ
** আর রাহীকুল মাখতুম, পৃঃ ৮৮।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বক্ষবিদারণ

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বক্ষবিদারণ


রাসূলুল্লাহ ﷺ এর বক্ষবিদারণের ঘটনাটি ছিল একটি অলৌকিক ঘটনা। এটি ঘটেছিল হালিমা যখন রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়ে আসেন তার পর। তখন তাঁর বয়স ছিল চার অথবা পাঁচ বছর। এ ঘটনাটির বর্ণনায় হাদীসে এসেছে,
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ أَتَاهُ جِبْرِيلُ وَهُوَ يَلْعَبُ مَعَ الْغِلْمَانِ فَأَخَذَهُ فَصَرَعَهُ فَشَقَّ عَنْ قَلْبِهِ فَاسْتَخْرَجَ الْقَلْبَ فَاسْتَخْرَجَ مِنْهُ عَلَقَةً فَقَالَ هَذَا حَظِّ الشَّيْطَانِ مِنْكَ . ثُمَّ غَسَلَهُ فِي طَسْتٍ مِنْ ذَهَبٍ بِمَاءِ زَمْزَمَ ثُمَّ لَأَمَهُ ثُمَّ أَعَادَهُ فِي مَكَانِهِ وَجَاءَ الْغِلْمَانُ يَسْعَوْنَ إِلَى أُمِّهِ يَعْنِي كِثْرَهُ فَقَالُوا إِنَّ مُحَمَّⴷًا قَدْ قُتِلَ فَاسْتَقْبَلُوهُ وَهُوَ مُنْتَقَعُ اللَّوْنِ . قَالَ أَنَسٌ وَقَدْ كُنْتُ أَرَى أَثَرَ ذَلِكَ الْمِخْيَطِ فِي صَدْرِهِ
আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত। একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নিকট জিবরাঈল (আঃ) আগমন করলেন। তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। অতঃপর তিনি তাঁকে ধরে শুয়ে দিলেন এবং বুক চিরে তাঁর হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তা থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করলেন এবং বললেন, এ অংশটি হলো শয়তানের। এরপর হৃদপিণ্ডটিকে একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন এবং তা যথাস্থানে স্থাপন করলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তাঁর দুধ মায়ের (হালীমা এর) কাছে গেল এবং বলল, মুহাম্মাদ -কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল যে, তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বুকে সেই সেলাই এর চিহ্ন দেখেছি।

টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম, হা/৪৩১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১২৫২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা, হা/৩৭৭১২; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হা/২৫৭; মিশকাত, হা/৫৮৫২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00