📄 উম্মতের জন্য শিক্ষণীয় বিষয়
রাসূলুল্লাহ যখন থেকে মানুষকে ইসলামের দাওয়াত দিতে শুরু করেন, তখন থেকেই তারা তাঁর ব্যাপারে নানা ধরনের ভুল ধারণায় লিপ্ত ছিল। ফলে তারা তাঁর সাথে নানা প্রকার খারাপ আচরণ করত। বর্তমান সময়ে যারা নবী এর আদর্শ বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করবে তাদের উপরও একই ধরনের দোষারোপ ও যুলুম নির্যাতন আসবে। যারা দোষারোপ ও যুলুম নির্যাতনের স্বীকার হন না, তারা মুখে যদিও বলে থাকে যে, আমরা হকের দাওয়াত দিচ্ছি, কিন্তু আসলে সেটা হকের দাওয়াত হতে পারে না। কারণ যারা সত্যিকারার্থে নবী এর দ্বীন প্রচার করবে তাদের ক্ষেত্রে ঠিক তাই ঘটে, যা নবী -এর ক্ষেত্রে ঘটেছিল। এর ব্যতিক্রম কিছু হবে না। এজন্য যারা সত্যিকারার্থে দ্বীনের কাজ করেন, তাদের জন্য কতিপয় সান্ত্বনার বাণী আল্লাহ তা'আলা নবী-কে দিয়েছিলেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَإِنْ كَذَّبُوكَ فَقَدْ كُذِّبَ رُسُلٌ مِنْ قَبْلِكَ جَاءُوا بِالْبَيِّنَاتِ وَالزُّبُرِ وَالْكِتَابِ الْمُنِيرِ
তারা যদি তোমার প্রতি মিথ্যারোপ করে, তবে (জেনে রেখো) তোমার পূর্বেও রাসূলগণকে মিথ্যারোপ করা হয়েছিল, যারা প্রকাশ্য নিদর্শনাবলি ও অনেক সহীফা এবং উজ্জ্বল গ্রন্থসহ আগমন করেছিল। (সূরা আলে ইমরান- ১৮৪)
وَكَذَلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِي عَدُوًّا مِنَ الْمُجْرِمِينَ * وَكَفَى بِرَبِّكَ هَادِيًا وَنَصِيرًا﴾
এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রত্যেক নবীর শত্রু হিসেবে মনোনীত করেছিলাম। তবে পথপ্রদর্শক ও সাহায্যকারী হিসেবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট ছিল। (সূরা ফুরক্বান- ৩১)
وَإِنْ يُرِيدُوا أَنْ يَخْدَعُوكَ فَإِنَّ حَسْبَكَ اللَّهُ هُوَ الَّذِي أَيَّدَكَ بِنَصْرِهِ وَبِالْمُؤْمِنِينَ﴾
যদি তারা তোমাকে প্রতারিত করতে চায়, তবে তোমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তিনি তোমাকে স্বীয় সাহায্য ও মুমিনদের দ্বারা শক্তিশালী করেছেন। (সূরা আনফাল- ৬২)
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ)
হে নবী! তোমার জন্য ও তোমার অনুসারী মুমিনদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা আনফাল- ৬৪)
ইসলামের দুষমনদের কাছে দুর্বলতা প্রকাশ করা যাবে না: শত্রুরা যেন মুসলিমদেরকে এমন দুর্বল অবস্থায় না পায় যে, তাদের মিথ্যাচার দেখে তাঁরা সাহস হারিয়ে ফেলে অথবা তাদের হুমকি ও নির্যাতনে ভীত হয়ে পড়ে। বরং তারা যেন মুসলিমদেরকে ঈমানী চেতনায় ও সুপথ হাসিলের উদ্দেশ্যে এত বেশি মজবুত পায় যে, তাদেরকে কোন প্রকার ভয়ে ভীত করা সম্ভব নয়, কোন প্রতারণার জালে আবদ্ধ করে ও নির্যাতন চালিয়ে সুপথ থেকে সরানোও সম্ভব নয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন
﴿فَاصْبِرْ إِنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَا يَسْتَخِفَنَّكَ الَّذِينَ لَا يُوقِنُونَ ﴾ অতএব তুমি ধৈর্যধারণ করো। নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য। যারা দৃঢ় বিশ্বাসী নয় তারা যেন তোমাকে বিচলিত করতে না পারে। (সূরা রূম- ৬০)
﴿لَا يَغُرَّنَّكَ تَقَلُّبُ الَّذِينَ كَفَرُوا فِي الْبِلَادِ﴾ শহরসমূহে কাফিরদের চালচলন যেন তোমাকে প্রতারিত না করে। (সূরা আলে ইমরান- ১৯৬) আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে যেমন শক্তিশালী ও গুরুত্ববহ দেখতে চাচ্ছিলেন, তিনি ঠিক তেমনটিই হতে পেরেছিলেন। তাঁর সাথে যে ব্যক্তিই যে ময়দানে শক্তি পরীক্ষা করেছে, সে-ই হেরে গেছে। শেষ পর্যন্ত এ মহান ব্যক্তিত্ব এমন বিপ্লব সৃষ্টি করেন, যাঁর পথ রোধ করার জন্য আরবের কাফির ও মুশরিকসমাজ নিজেদের সর্বশক্তি ও কৌশল প্রয়োগ করেও ব্যর্থ হয়ে গেছে। ধৈর্যধারণ করতে হবে :
﴿وَاصْبِرْ لِحُكْمِ رَبِّكَ فَإِنَّكَ بِأَعْيُنِنَا﴾ তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্যধারণ করো; কেননা তুমি আমার চোখের সামনেই রয়েছ। (সূরা তূর- ৪৮) যারা তাগুতকে প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য নিজেদের সকল প্রকার প্রচেষ্টা প্রয়োগ করে, তারা নৈতিকতার সকল বাঁধন মুক্ত হয়ে নবী এর বিরুদ্ধে সবরকমের নিকৃষ্ট চক্রান্ত চালাচ্ছিল। তারা অশ্লীলতা, প্রতারণা, জালিয়াতি ও মিথ্যার অস্ত্র ব্যবহার করে এমন এক নিষ্কলুষ ব্যক্তির কার্যক্রমকে পরাস্ত করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছিল, যিনি নিঃস্বার্থভাবে সাধারণ মানুষের মঙ্গলের জন্য দিন-রাত সংগ্রাম করে যাচ্ছিলেন। তাদের এ তৎপরতা দেখে নবী মনে মনে অত্যন্ত কষ্ট অনুভব করতেন। তাই আল্লাহ তা'আলা বলেন,
﴿فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَاتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ﴾ অতএব তুমি তাদের জন্য অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করে দেবে না। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা জানেন। (সূরা ফাতির- ৮) নবী -কে এ মর্মে সান্ত্বনা দেয়া হয়েছে যে, এদের ঈমান না আনার দায়-দায়িত্ব তোমার ওপর বর্তায় না। কাজেই তুমি কেন অনর্থক নিজেকে দুঃখে ও শোকে দগ্ধীভূত করছ? তোমার কাজ শুধুমাত্র সুখবর দেয়া ও ভয় দেখানো। কাজেই তুমি কেবল নিজের প্রচারের দায়িত্ব পালন করে যাও। যে মেনে নেবে তাকে সুখবর দেবে এবং যে মেনে নেবে না তাকে তার অশুভ পরিণাম সম্পর্কে সতর্ক করে দেবে।
নবী-কে যে দুঃখটি ভেতরে ভেতরে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিল সেটি ছিল এই যে, তিনি নিজের জাতিকে নৈতিক অধঃপতন ও ভ্রষ্টতা থেকে বের করে আনতে চাচ্ছিলেন। কিন্তু তারা কোনক্রমেই এ পথে পা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছিল না। আর এ ভ্রষ্টতার অনিবার্য ফল ধ্বংস ও আল্লাহর আযাব। তাই তিনি তাদেরকে এ পরিণতি থেকে রক্ষা করার জন্য দিন-রাত প্রাণপণ পরিশ্রম করে যাচ্ছিলেন।
নবী আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই তাঁর এ মানসিক অবস্থাকে একটি হাদীসে এভাবে বর্ণনা করেছেন, আমার ও তোমাদের দৃষ্টান্ত এমন এক ব্যক্তির মতো, যে আলোর জন্য আগুন জ্বালাল। আর পতঙ্গরা পুড়ে মরার জন্য তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে শুরু করল। সে এদেরকে যে কোনক্রমে আগুন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে, কিন্তু এ পতঙ্গরা তার কোন প্রচেষ্টাকেই ফলপ্রসূ করতে দেয় না। আমার অবস্থাও অনুরূপ। আমি তোমাদের হাত ধরে টানছি; কিন্তু তোমরা আগুনে লাফিয়ে পড়ছ।
টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, হা/৩৪২৬; সহীহ মুসলিম, হা/৬০৯৭: মুসনাদে আহমাদ, হা/১০৯৬৩; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৪০৮।
📄 মুহাম্মদ ﷺ-কে আল্লাহ যে উদ্দেশ্যে প্রেরণ করেছিলেন
অনেক মানুষের ধারণা মুহাম্মাদ কেবল একজন নবী এবং ধর্মীয় নেতা ছিলেন। এর বেশি কিছু তারা চিন্তা করতে পারে না। কিন্তু আসল ব্যাপার হচ্ছে, তাঁর পরিচয় শুধু একজন ধর্মীয় নেতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তিনি ছিলেন মানুষের ব্যক্তিজীবন থেকে নিয়ে রাষ্ট্রীয়জীবন পর্যন্ত সর্বক্ষেত্রে একজন পথপ্রদর্শক ও শিক্ষক। তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল মানবজাতিকে ইসলামের শিক্ষা প্রদান করা এবং ইসলামকে সকল ধর্মের উপর বিজয়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। নবী -কে প্রেরণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদের স্পষ্টভাবে আলোচনা করেছেন। যেমন-
১. মানুষের অভিযোগ খণ্ডন করা:
যখন নবীদের দেয়া শিক্ষা বিলুপ্ত হয়ে যায় অথবা মানুষ গোমরাহীর মধ্যে এমনভাবে জড়িয়ে যায় যে, সেখান থেকে হেদায়াত লাভের কোন উপায় থাকে না; তখন লোকদের জন্য এ ওজর পেশ করার সুযোগ সৃষ্টি হয়ে যায় যে, আমাদেরকে হক ও বাতিলের পার্থক্য সম্পর্কে সচেতন করার ও সঠিক পথ দেখানোর জন্য কোন ব্যবস্থাই ছিল না। এ ধরনের অজুহাত দেখানোর পথ বন্ধ করার জন্য আল্লাহ তা'আলা নবীদেরকে পাঠিয়ে থাকেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَى فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَنْ تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِنْ بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ فَقَدْ جَاءَكُمْ بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ)
হে আহলে কিতাব! রাসূল প্রেরণের (দীর্ঘ) বিরতির পর আমার রাসূল তোমাদের নিকট এসেছে। সে তোমাদের নিকট স্পষ্ট ব্যাখ্যা করছে; যাতে তোমরা বলতে না পার যে, আমাদের নিকট তো কোন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আসেনি। সুতরাং (এখন তো) তোমাদের নিকট একজন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসেছে। আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান। (সূরা মায়েদা- ১৯)
২. সুসংবাদ দেয়া ও ভয় দেখানো: পৃথিবীর মানুষ কেউ ভালো কাজ করে আবার কেউ খারাপ কাজ করে। যারা ভালো কাজ করে নবীগণ তাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। আর যারা পাপকাজ করে তাদেরকে জাহান্নামের শান্তির ভয় দেখান। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا ﴾ আমিই আপনাকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে সত্যসহ প্রেরণ করেছি। (সূরা ফাতির- ২৪)
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَمُبَشِّرًا وَنَذِيرًا হে নবী! আমি আপনাকে সাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। (সূরা আহযাব- ৪৫)
৩. আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে শোনানো:
كَذلِكَ أَرْسَلْنَاكَ فِي أُمَّةٍ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهَا أُمَمٌ لِتَتْلُو عَلَيْهِمُ الَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ) এভাবে আমি তোমাকে এমন এক জাতির নিকট পাঠিয়েছি, যার পূর্বে বহু জাতি গত হয়েছে। এজন্য যে, যা আমি তোমার প্রতি ওহী করেছি তা তাদেরকে পাঠ করে শোনাবে। (সূরা রা'দ- ৩০)
৪. জাতিকে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে আনা:
رَسُوْلًا يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِ اللهِ مُبَيِّنَاتٍ لِيُخْرِجَ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ مِنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ (আল্লাহ প্রেরণ করেছেন) এমন এক রাসূল, যিনি তোমাদের নিকট আল্লাহর সুস্পষ্ট আয়াতসমূহ আবৃত্তি করেন। যাতে করে তিনি মুমিন ও সৎকর্মপরায়ণদেরকে অন্ধকার হতে আলোর দিকে নিয়ে আসতে পারেন। (সূরা তালাক- ১১)
৪. পথভ্রষ্ট জাতিকে দ্বীনের প্রশিক্ষণ দেয়া :
هُوَ الَّذِي بَعَثَ فِي الْأُمِّيِّينَ رَسُولًا مِنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيْهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ - وَأَخَرِيْنَ مِنْهُمْ لَمَّا يَلْحَقُوا بِهِمْ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ﴾
তিনিই সেই সত্তা, যিনি নিরক্ষর জাতির মধ্যে তাদেরই একজনকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়েছেন, যিনি তাদের নিকট তাঁর আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তাদেরকে পবিত্র করেন এবং কিতাব ও হেকমত (সুন্নত) শিক্ষা দেন; যদিও তারা ইতিপূর্বে স্পষ্ট গোমরাহীতে লিপ্ত ছিল। আর তাদের মধ্য হতে অন্যান্য এমন লোকদের জন্যও (তাঁকে রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন) যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি। আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী ও প্রজ্ঞাবান। (সূরা জুমু'আ- ২, ৩)
৫. মানুষের জীবন পরিশুদ্ধ করা : كَمَا أَرْسَلْنَا فِيكُمْ رَسُولًا مِنْكُمْ يَتْلُو عَلَيْكُمْ آيَاتِنَا وَيُزَكِّيْكُمْ وَيُعَلِّمُكُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ আমি তোমাদের মধ্য হতে এমন এক রাসূল প্রেরণ করেছি, যিনি তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ পাঠ করেন, তোমাদেরকে পবিত্র করেন এবং তোমাদেরকে কিতাব ও বিজ্ঞান শিক্ষা দেন। (সূরা বাক্বারা- ১৫১)
জীবন পরিশুদ্ধ করে সুসজ্জিত করা বলতে চিন্তা-ভাবনা, আচার-আচরণ, নীতি-নৈতিকতা, সমাজ-সংস্কৃতি, রাজনীতি ইত্যাদি সবকিছুকেই সুসজ্জিত করা বুঝায়। ইসলাম মানুষের জীবনকে সুন্দর, পরিপাটি ও সুবিন্যস্ত করেছে। তাদের নৈতিক চরিত্র, রীতিনীতি, লেনদেন ও জীবনাচরণকে সবরকমের কলুষতা থেকে পবিত্র করেছে এবং উন্নতমানের নৈতিক মর্যাদায় ভূষিত করেছে। আর তাই ইসলাম কেবল আয়াতসমূহ পড়ে শোনানোকেই যথেষ্ট মনে করে না, বরং মানুষকে আল্লাহর কিতাবের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ বুঝানো এবং মানুষের জীবন পরিশুদ্ধ করার প্রতিও গুরুত্বারোপ করে।
৬. আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করা : আল্লাহ তা'আলা রাসূল -কে যে সত্য দ্বীন ও হেদায়াত দিয়ে পাঠিয়েছেন তা শুধু দ্বীন প্রচার করার জন্যই নয়, বরং পৃথিবীর অন্যান্য সকল জীবনাদর্শের উপর ইসলামকে বিজয়ী করাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। আল্লাহর দ্বীন মানবরচিত বিধানের অধীনে কোন রকমে টিকে থাকার জন্য পাঠানো হয়নি; বরং জীবনের সমস্ত দিক ও বিভাগের উপর এ দ্বীনই হবে বিজয়ী জীবনাদর্শ। আল্লাহ তা'আলা বলেন, هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدًى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا তিনিই ঐ সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তাকে (ঐ দ্বীনকে) অন্যসব দ্বীনের উপর বিজয়ী করা হয়। আর এ বিষয়ে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহই যথেষ্ট। (সূরা ফাতহ- ২৮)
هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدًى وَدِيْنِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ﴾
তিনিই ঐ সত্তা, যিনি তাঁর রাসূলকে হেদায়াত ও সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করেছেন, যাতে তাকে (ঐ দ্বীনকে) অন্যসব দ্বীনের উপর বিজয়ী করা হয়; যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। (সূরা তাওবা- ৩৩; সূরা সাফ- ৯)
📄 কেমন ছিল মুহাম্মদ ﷺ এর চরিত্র
মুহাম্মাদ ﷺ ছিলেন সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী একজন মহামানব। তাঁর চরিত্রের সাথে আর কারো চরিত্রের তুলনা করা যায় না। কারণ আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে তাঁকে উত্তম চরিত্রের ভূষণ হিসেবে উপাধি দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ
নিশ্চয় তুমি মহান চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছ। (সূরা ক্বালাম- ৪)
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَحِيمٌ
অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে। তোমাদেরকে যা কষ্ট দেয়, তা তার নিকট কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী এবং মুমিনদের প্রতি দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। (সূরা তাওবা- ১২৮) রাসূলুল্লাহ ছিলেন অধিক ধৈর্যশীল। কোন ব্যতিক্রম ঘটলে বা ক্ষতি হয়ে গেলে তিনি মাথা গরম করতেন না। তিনি ছিলেন খুবই সাহসী ও বীর। আল্লাহ ছাড়া কাউকে তিনি ভয় করতেন না। তিনি ছিলেন মানুষের মধ্যে ন্যায়-ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী। কোন ব্যাপারে তিনি পক্ষপাতিত্ব করতেন না। আপন-পর, ধনী-গরীব সবার সাথে তিনি সমান ব্যবহার করতেন। তিনি ছিলেন ক্ষমাশীল, কেউ অন্যায় করলে তাকে ক্ষমা করে দিতেন। মহিলাদের মধ্যে মুহরিমাত, নিজ দাসী ও স্ত্রীদের ছাড়া অন্য কোন মহিলার হাত স্পর্শ করেননি। তিনি নিজের জুতা নিজেই সেলাই করতেন। কাপড়ে তালি লাগাতেন। ঘরে থাকলে স্ত্রীদের সাথে কাজে শরীক হতেন। নামাযের সময় উপস্থিত হলে মসজিদে চলে যেতেন। তিনি বড়ই লজ্জাশীল ছিলেন। স্বাধীন অথবা ক্রীতদাস সকলের দাওয়াত তিনি কবুল করতেন। সামান্য গোশত বা এক ঢোক দুধও কেউ হাদিয়া দিলে তিনি তা স্বাদরে গ্রহণ করতেন। তিনি যাকাতের মাল খেতেন না। নিজের কোন স্বার্থের জন্য কারও উপর রাগ করতেন না। তবে দ্বীনের ব্যাপারে কেউ আঘাত হানলে রাগ করতেন। সামনে যা উপস্থিত পেতেন তাই খেতেন। কোন খাবার ফেরত দিতেন না। হালাল কোন জিনিস পরিত্যাগ করতেন না। তিনি হেলান দিয়ে খেতেন না এবং টেবিলের উপরে রেখেও খেতেন না। মৃত্যু পর্যন্ত একাধারে তিনদিন পেটভরে আহার করেননি। এটা দারিদ্রতার কারণে নয় বরং আল্লাহর নৈকট্য লাভের জন্য।
তিনি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নরম স্বভাবের ছিলেন, তাঁর মধ্যে কোন অহংকার ছিল না। তিনি খুবই সুন্দর ছিলেন। দুনিয়ার কোন ব্যাপারে তাঁকে কেউ ভয় দেখাতে পারত না।
তিনি সুগন্ধি ভালবাসতেন এবং দুর্গন্ধযুক্ত জিনিসকে অপছন্দ করতেন। মিসকীনদের সঙ্গে খাবার খেতেন, সম্মানিত লোকদেরকে তিনি সম্মান করতেন। মর্যাদাবান লোকদের সাথেও তিনি বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন এবং তাদের সাথে সদাচরণ করতেন। সকল আত্মীয়কে সমানভাবে দেখতেন ও তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতেন। কারও উপর কঠোরতা আরোপ করতেন না, কেউ কোন দোষ করে ওজর পেশ করলে তিনি ক্ষমা করে দিতেন। কোন কোন সময় সত্য কথা দ্বারা কৌতুক করতেন। তিনি যা খেতেন ও পরতেন দাস-দাসীদেরকেও তাই দিতেন। তাদেরকে কাজের জন্য কোন সময় নির্ধারণ করতেন না। তবে আল্লাহর ইবাদাতের জন্য বা নিজের বিশেষ প্রয়োজনে সময় নির্ধারণ করতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বাগানে যাতায়াত করতেন। তিনি কোন মিসকীনকে হেয় প্রতিপন্ন করতেন না। আবার কোন বাদশাকে তার বাদশাহীর কারণে ভয়ও করতেন না। সকলকে সমানভাবে আল্লাহর দিকে ডাকতেন।
রাসূলুল্লাহ কোন মুমিনকে কখনো গালি দেননি। কোন স্ত্রীকে বা খাদেমকে তিরস্কার বা লানত করেননি। আল্লাহর পথে জিহাদ ছাড়া তিনি কোনদিন কাউকে প্রহার করেননি। আল্লাহর হক ছাড়া তিনি কারও কাছ থেকে প্রতিশোধ নেননি। দু'টি কাজের মধ্যে ইখতিয়ার দেয়া হলে তিনি সহজটি গ্রহণ করতেন। গুনাহর কাজ থেকে তিনি দূরে থাকতেন। স্বাধীন বা দাস তাঁর কাছে যে-ই আসত তার প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য তিনি নিজেই শরীক হতেন।
আনাস বিন মালিক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ এর খাদেম ছিলেন। তিনি বলেন, ঐ সত্তার কসম! যিনি রাসূলুল্লাহ-কে সত্য বিধানসহ পাঠিয়েছেন, আমার কোন কাজ রাসূলুল্লাহ এর নিকট অপছন্দনীয় হলে তিনি কোনদিন আমাকে বলেননি এটা কেন করেছ বা এটা করনি কেন?
রাসূলুল্লাহ-কে পাঠানোর আগে আল্লাহ তা'আলা তাওরাত কিতাবে তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করেছেন যে, মুহাম্মাদ আমার মনোনীত বান্দা। সে কর্কষভাষী নয়, কঠোর হৃদয়ের অধিকারী নয় এবং সে বাজারে গোলমালকারীও নয়। সে মন্দের বদলা মন্দ দিয়ে দেয় না বরং ক্ষমা করে দেয়। তার জন্ম হবে মক্কায় এবং হিজরত হবে মদিনায়। যারা তার সঙ্গী হবে তারাই হবে কুরআন ও ইলমের ধারক-বাহক।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কারো সাথে সাক্ষাৎ করলে প্রথমে তাকে সালাম দিতেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের সাথে সাক্ষাৎ করলে মুসাফাহার জন্য নিজে হাত বাড়িয়ে দিতেন। তিনি যখনই কোথাও বসতেন বা উঠতেন তখনই আল্লাহর যিকির করতেন। নামাযে থাকাকালীন কেউ আসলে তিনি নামায সংক্ষিপ্ত করে তার সাথে সাক্ষাৎ করতেন। লোক চলে যাওয়ার পর, আবার নামায পড়তে শুরু করতেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর মাঝে সকল উত্তম গুণাবলি একত্র করে দিয়েছেন। অথচ তিনি নিজে লেখাপড়া জানতেন না। জন্মগ্রহণ করেছেন ইয়াতীম অবস্থায়, বাল্যকাল কাটিয়েছেন ছাগল চরিয়ে।
টিকাঃ
২৬ সহীহ বুখারী, হা/৬০৩৮।
📄 মুহাম্মদ ﷺ এর আদর্শ মানতে হবে
নবী ﷺ এর আনুগত্য করার নির্দেশ :
وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ فَإِنْ تَوَلَّيْتُمْ فَإِنَّمَا عَلَى رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং তার রাসূলের আনুগত্য করো, যদি তোমরা মুখ ফিরিয়ে নাও তবে আমার রাসূলের দায়িত্ব শুধু স্পষ্টভাবে প্রচার করা। (সূরা তাগাবুন- ১২)
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَلَا تَوَلَّوْا عَنْهُ وَأَنْتُمْ تَسْمَعُونَ হে মুমিনগণ! আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো। যখন তোমরা তার কথা শ্রবণ কর তখন তা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (সূরা আনফাল- ২০)
মুহাম্মাদ এর আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য :
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ ، وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করল সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল এবং যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিল তবে (মনে রেখো) তোমাকে তাদের ওপর তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রেরণ করিনি। (সূরা নিসা- ৮০)
নবী এর ফায়সালা মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক :
وَمَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَلَا مُؤْمِنَةٍ إِذَا قَضَى اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَمْرًا أَنْ يَكُونَ لَهُمُ الْخِيَرَةُ مِنْ أَمْرِهِمْ - وَمَنْ يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا مُبِينًا কোন মুমিন पुरुष কিংবা মুমিন নারীর জন্য এ অবকাশ নেই যে, আল্লাহ ও তার রাসূল যখন কোন কাজের নির্দেশ দেন, তখন সে কাজে তাদের কোন নিজস্ব সিদ্ধান্তের অধিকার থাকবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে অমান্য করে সে তো প্রকাশ্য পথভ্রষ্টতায় নিপতিত হয়। (সূরা আহযাব- ৩৬)
নবী ﷺ এর ফায়সালা না মানলে মুমিন হওয়া যায় না:
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا
কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ! ততক্ষণ পর্যন্ত তারা মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের নিজেদের ঝগড়া-বিবাদের বিচারভার তোমার উপর অর্পণ না করে। অতঃপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং তা মেনে না নেয়। (সূরা নিসা- ৬৫) এ নির্দেশটি কেবল রাসূল এর জীবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয় বরং এটি কিয়ামত পর্যন্ত কার্যকর হবে। নবী আল্লাহর কাছ থেকে যা কিছু এনেছেন এবং আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে কাজ করেছেন, তা চিরস্থায়ীভাবে মুসলিমদের জন্য চূড়ান্ত ফায়সালাকারী সনদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এ সনদটি মানা ও না মানার উপরই কোন ব্যক্তির মুমিন হওয়া না হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে। যে ব্যক্তি এ সনদটি যতটুকু পালন করবে তার ঈমানের পরিমাণটাও ততটুকুই নির্ধারিত হবে।
যে বিষয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোন হুকুম প্রমাণিত হয়, সে বিষয়ে কোন মুসলিম ব্যক্তি, জাতি, প্রতিষ্ঠান, আদালত, পার্লামেন্ট বা রাষ্ট্রের নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকে না। মুসলিম হওয়ার অর্থই হচ্ছে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে নিজের স্বাধীনতাকে বিসর্জন দেয়া। যে ব্যক্তি মুসলিম হিসেবে বেঁচে থাকতে চায় তাকে অবশ্যই আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সামনে আনুগত্যের শির নত করতে হবে। আর যে নত করতে চায় না, সে মুসলিম নয়। যে ব্যক্তি তার কামনা-বাসনাকে রাসূল ﷺ এর আনীত দ্বীনের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে না পারবে, সে কখনই ঈমানদার হতে পারবে না। এটা ঈমানের প্রাথমিক ও মৌলিক দাবি। যে ব্যক্তি আল্লাহকে তার রব এবং আল্লাহর রাসূলকে তার পথপ্রদর্শনকারী হিসেবে মানে, সে নিজের মতামত ও ধ্যান-ধারণাকে কখনো আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সিদ্ধান্তের উপর অগ্রাধিকার দিতে পারে না, সে বিভিন্ন ব্যাপারে স্বাধীন মতামত পোষণ করে না এবং ঐসব ব্যাপারে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে না। বরং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ঐসব ব্যাপারে কোন দিকনির্দেশনা দিয়েছেন কি না এবং দিয়ে থাকলে কী দিয়েছেন সে বিষয়ে আগে জানার চেষ্টা করবে। এ নির্দেশটি শুধু মুসলিমদের ব্যক্তিগত বিষয়সমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাদের পুরো সামাজিক ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য। মুসলিমদের সরকার, বিচারালয় এবং পার্লামেন্ট কোনকিছুই এ আইনের বাহিরে নয়।
নবী ﷺ এর আদেশ-নিষেধ মেনে চলা জরুরি:
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
রাসূল তোমাদেরকে যা দেয় তা তোমরা গ্রহণ করো এবং যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করে তা হতে বিরত থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো; নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে খুবই কঠোর। (সূরা হাশর- ৭) মুসলিমগণ সবসময় সব ব্যাপারেই রাসূল এর আনুগত্য করবে। রাসূল বলেছেন, “আমি কোন বিষয়ে তোমাদের নির্দেশ দিলে তা যথাসাধ্য পালন করো। আর যে বিষয়ে বিরত থাকতে বলি তা থেকে দূরে থাকো।” আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) একবার বক্তৃতাকালে বললেন, “আল্লাহ তা'আলা অমুক অমুক ফ্যাশনকারিণী মহিলাকে লানত করেছেন।” এটা শুনে এক মহিলা বলল, এ কথা আপনি কোথায় পেয়েছেন? তিনি বললেন, তুমি আল্লাহর কিতাব পড়ে থাকলে এ কথা অবশ্যই পেতে। তুমি কি এ আয়াত পড়েছ?
وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا অর্থাৎ রাসূল তোমাদের নিকট যা কিছু নিয়ে আসে, তোমরা তা গ্রহণ করো। আর তিনি তোমাদেরকে যা থেকে নিষেধ করেন, তা থেকে বিরত থাকো। (সূরা হাশর- ৭) তখন সে বলল, হ্যাঁ- এ আয়াত তো আমি পড়েছি। তিনি বললেন, রাসূল এ কাজ করতে নিষেধ করেছেন এবং জানিয়ে দিয়েছেন যে, এরূপ কাজে লিপ্ত নারীদের ওপর আল্লাহ তা'আলা লানত করেছেন। তখন মহিলাটি বলল, এখন আমি বুঝতে পারলাম।