📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 নবী ﷺ এর ধন-সম্পদ না থাকার কারণে অভিযোগ

📄 নবী ﷺ এর ধন-সম্পদ না থাকার কারণে অভিযোগ


নবী সম্পর্কে কাফির-মুশরিকদের আরো একটি ভুল ধারণা ছিল এই যে, যিনি নবী হবেন, তাকে অঢেল ধন-সম্পদের মালিক হতে হবে। অথচ তাদের এই অভিযোগটিও ছিল একেবারেই ভিত্তিহীন। আল্লাহ তা'আলা তাদের এই অভিযোগের বর্ণনা দিয়ে বলেন,
وَقَالُوا لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى تَفْجُرَ لَنَا مِنَ الْأَرْضِ يَنْبُوعًا - أَوْ تَكُونَ لَكَ جَنَّةٌ مِنْ نَّخِيلٍ وَعِنَبٍ فَتُفَجِّرَ الْأَنْهَارَ خِلَالَهَا تَفْجِيرًا - أَوْ تُسْقِطَ السَّمَاءَ كَمَا زَعَمْتَ عَلَيْنَا كِسَفًا أَوْ تَأْتِيَ بِاللهِ وَالْمَلَائِكَةِ قَبِيلًا - أَوْ يَكُونَ لَكَ بَيْتٌ مِنْ زُخْرُفٍ أَوْ تَرْقَى فِي السَّمَاءِ وَلَنْ تُؤْمِنَ لِرُقِيكَ حَتَّى تُنَزِّلَ عَلَيْنَا كِتَابًا نَقْرَؤُهُ قُلْ سُبْحَانَ رَبِّي هَلْ كُنْتُ إِلَّا بَشَرًا رَسُوْلًا)
তারা বলে, আমরা কখনই তোমার প্রতি ঈমান আনব না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তুমি আমাদের জন্য ভূমি হতে একটি নদী প্রবাহিত করবে, অথবা তোমার খেজুরের ও আঙ্গুরের একটি বাগান থাকবে- যার ফাঁকে ফাঁকে অজস্র ধারায় প্রবাহিত করবে নদী-নালা, অথবা তুমি যেমন বলে থাক তদানুযায়ী আকাশকে খণ্ড-বিখণ্ড করে আমাদের ওপর ফেলবে, অথবা আল্লাহ ও ফেরেশতাগণকে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত করবে, অথবা তোমার একটি স্বর্ণ নির্মিত গৃহ হবে, অথবা তুমি আকাশে আরোহণ করবে। কিন্তু তোমার আকাশে আরোহণ করাতেও আমরা কখনো ঈমান আনব না, যতক্ষণ না তুমি আমাদের প্রতি এক কিতাব অবতীর্ণ করবে, যা আমরা পাঠ করব। (হে নবী!) বলো, আমার প্রতিপালক খুবই পবিত্র ও মহান! আমি তো একজন মানুষ ও একজন রাসূল মাত্র। (সূরা বনী ইসরাঈল, ৯০-৯৩)
আল্লাহ তা'আলা নিচের আয়াতের মাধ্যমে তাদের এ ভুল ধারণা ও অভিযোগ খণ্ডন করেছেন-
تَبَارَكَ الَّذِي إِنْ شَاءَ جَعَلَ لَكَ خَيْرًا مِنْ ذَلِكَ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ وَيَجْعَلْ لَّكَ قُصُورًا - بَلْ كَذَّبُوا بِالسَّاعَةِ وَاعْتَدْنَا لِمَنْ كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا)
তিনি কতই না মহান, যিনি ইচ্ছা করলে তোমাকে এর চেয়ে উৎকৃষ্ট বস্তু দিতে পারেন- (যেমন) উদ্যানসমূহ, যার তলদেশ দিয়ে নদী-নালাসমূহ
প্রবাহিত হবে এবং তিনি তোমাকে (আরো) দিতে পারেন প্রাসাদসমূহ। কিন্তু তারা (কাফিররা) কিয়ামতকে অস্বীকার করেছে। আর যারা কিয়ামতকে অস্বীকার করে, তাদের জন্য আমি জ্বলন্ত অগ্নি প্রস্তুত করে রেখেছি। (সূরা ফুরক্বান- ১০, ১১)

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 নবী ﷺ এর মজলিসে গরীব লোকেরা থাকাতে অভিযোগ

📄 নবী ﷺ এর মজলিসে গরীব লোকেরা থাকাতে অভিযোগ


কাফির-মুশরিকদের স্বভাব হলো, তারা সর্বদা আত্মমর্যাদাবোধ বজায় রেখে চলে। তারা গরীবদের সাথে চলাফেরাকে নিজেদের মর্যাদাহানীর কারণ মনে করে। ফলে যখন তারা রাসূলুল্লাহ এর সাথে কোন বিষয়ে আলোচনা করতে আসত, তখন তারা উক্ত বৈঠক থেকে গরীবদেরকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ এর নিকট আবেদন জানাত। অথচ তাদের এ দাবিটি ছিল ইসলাম আগমনের উদ্দেশ্যের বিপরীত। আল্লাহ তা'আলা তাদের এসব অযৌক্তিক দাবির জবাব দিয়ে বলেন,
وَلَا تَطْرُدِ الَّذِيْنَ يَدْعُوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِمْ مِّنْ شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِمْ مِّنْ شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ ﴾
যারা তাদের প্রতিপালককে সকাল-সন্ধ্যায় তাঁর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ডাকে, তুমি তাদেরকে বিতাড়িত করো না। তাদের কর্মের জবাবদিহিতার দায়িত্ব তোমার নয় এবং তোমার কোন কর্মের জবাবদিহিতার দায়িত্বও তাদের নয় যে, তুমি তাদেরকে বিতাড়িত করবে; (যদি কর তবে) তুমি যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে। (সূরা আন'আম- ৫২)

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভুল ধারণা

📄 আল্লাহর আযাব সম্পর্কে ভুল ধারণা


কাফিররা সবসময় এ ধারণা পোষণ করত যে, তাদের উপর আযাব আসবে না। কেননা তারা সৎ পথে আছে। ফলে তারা কখনো আল্লাহর আযাবের ভয় করত না। অথচ তাদের এ ধরনের ধারণাও ছিল অবান্তর। আল্লাহ তা'আলা তাদের এসব ধারণার জবাবে বলেন,
قُلْ إِنِّي عَلَى بَيِّنَةٍ مِنْ رَبِّي وَكَذَّبْتُمْ بِهِ مَا عِنْدِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ يَقُضُ الْحَقَّ وَهُوَ خَيْرٌ الْفَاصِلِينَ - قُلْ لَوْ أَنَّ عِنْدِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ لَقُضِيَ الْأَمْرُ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالظَّالِمِينَ﴾
বলো, অবশ্যই আমি আমার প্রতিপালকের স্পষ্ট প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত; অথচ তোমরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেছ। যা তোমরা খুব তাড়াতাড়ি পেতে চাও (অর্থাৎ আল্লাহর আযাব) তা আমার আয়ত্তে নেই। কর্তৃত্ব তো আল্লাহরই, তিনি সত্য বিবৃত করেন; আর ফায়সালাকারীদের মধ্যে তিনিই
শ্রেষ্ঠ। বলো, তোমরা যা তাড়াতাড়ি চাচ্ছ তা যদি আমার নিকট থাকত, তবে আমার ও তোমাদের মধ্যকার ব্যাপারে তো ফায়সালা হয়েই যেত। তবুও আল্লাহ যালিমদের সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত। (সূরা আন'আম- ৫৭, ৫৮)

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 মুহাম্মদ ﷺ-কে লেজকাটা বলে দোষারোপ করা

📄 মুহাম্মদ ﷺ-কে লেজকাটা বলে দোষারোপ করা


নবী ﷺ এর পুত্র ইবরাহীম মারা গেলে মক্কার মুশরিকরা একে অপরকে বলাবলি করতে লাগল, মুহাম্মাদ লেজকাটা হয়ে গেছে। মুশরিকদের এ সকল অশালীন উক্তির কারণে নবী কষ্ট পেতেন। বিপদের সময় নিজের আত্মীয়-স্বজন পাশে দাঁড়ানোর কথা, কিন্তু তারাই তাঁর কষ্টকে আরো বাড়িয়ে তুলছিল। এ বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতগুলো নাযিল করে নবী-কে সান্ত্বনা দেন,
إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ - فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ - إِنَّ شَانِئَكَ هُوَ الْأَبْتَرُ
(হে নবী!) অবশ্যই আমি তোমাকে কাওসার (নিয়ামতের ভাণ্ডার) দান করেছি। অতএব তুমি (আমাকে স্মরণের জন্য) নামায কায়েম করো এবং (আমারই উদ্দেশ্যে) কুরবানী করো, নিশ্চয় (পরিশেষে) তোমার নিন্দুকেরাই হবে লেজকাটা (অসহায়)। (সূরা কাওসার)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00