📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ‘হাযির-নাযির’ মনে করা যাবে কি না

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে ‘হাযির-নাযির’ মনে করা যাবে কি না


حَاضِرٌ )হাযির) শব্দের অর্থ হচ্ছে- মওজুদ, বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর نَاظِ (নাযির) শব্দের অর্থ হচ্ছে, দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ সত্তা, যার দৃষ্টি বিশেষ স্থানে সীমাবদ্ধ নয়। বরং তার দৃষ্টি একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সকল অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে। অর্থাৎ যিনি সর্বস্থানে সর্বময় উপস্থিত থাকেন ও সবকিছু প্রত্যক্ষ করেন। রাসূলুল্লাহ সর্বস্থানে হাযির-নাযির নন। বরং তিনি জীবদ্দশায় নির্দিষ্ট স্থানেই ছিলেন। ইন্তেকালের পরও তিনি নির্দিষ্ট স্থানেই রয়েছেন। নিম্নে এ সম্পর্কে প্রমাণ উপস্থাপন করা হলো :
১. হাউজে কাউসারের নিকট উম্মতের সাথে রাসূলুল্লাহ এর সাক্ষাৎ : সাহল বিন সাদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের পূর্বেই হাউজে কাউসারের নিকট উপস্থিত হব। যে ব্যক্তি আমার নিকট দিয়ে অতিক্রম করবে সে হাউজে কাউসারের পানি পান করবে। আর যে ব্যক্তি হাউজে কাউসারের পানি পান করবে সে কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এমতাবস্থায় কিছু লোক আমার কাছে আসবে, আমি তাদেরকে চিনব; আর তারাও আমাকে চিনবে। এরপর আমার ও তাদের মাঝে অন্তরায় সৃষ্টি হয়ে যাবে। তখন আমি বলব, নিশ্চয় তারা আমার উম্মত। তখন বলা হবে, আপনি জানেন না আপনার (ইন্তেকালের) পর এরা কী নব আবিষ্কার করেছে। রাসূলুল্লাহ বলেন, তখন আমি বলব,
سُحْقًا سُحْقًا لِمَنْ غَيَّرَ بَعْدِي
অর্থাৎ দূর হও! দূর হও! যারা আমার পর আমার দ্বীনের পরিবর্তন করেছো।১৩ রাসূলুল্লাহ যদি সব জায়গায় হাযির-নাযির হতেন, তাহলে উক্ত সময় ফেরেশতাদেরকে জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজন হত না। বরং তিনি যাদেরকে বিদআত করতে দেখতেন, তাদেরকে হাউজে কাউসারের পানি পান করতে দিতেন না এবং বাকি সবাইকে পানি পান করতে দিতেন।
২. ফেরেশতাগণ কর্তৃক রাসূলুল্লাহ এর কাছে দরূদ প্রেরণ : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ তা'আলার একদল ফেরেশতা এমন রয়েছে, যারা সারা পৃথিবী ঘুরে ঘুরে আমার উম্মতের সালাম আমার নিকট পৌঁছিয়ে দেন।১৪ রাসূলুল্লাহ যদি সব জায়গায় হাযির-নাযির হতেন, তাহলে ফেরেশতাগণের মাধ্যমে তার কবরে দরূদ প্রেরণের কোন প্রয়োজন ছিল না।
৩. রাসূলুল্লাহ কবরে শায়িত ব্যক্তিদেরকে চিনতেন না : যায়েদ ইবনে ছাবেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বনু নাজ্জারের বাগানে একটি গাধার উপর আরোহিত অবস্থায় ছিলেন। তখন আমরাও তাঁর সাথে ছিলাম। হঠাৎ গাধাটি রাসূলুল্লাহ-কে নিয়ে লাফিয়ে উঠল। এতে রাসূলুল্লাহ পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন। তখন আমরা জানতে পারলাম যে, এখানে চার বা পাঁচ বা ছয়টি কবর রয়েছে। রাসূলুল্লাহ জিজ্ঞেস করলেন, এই কবরগুলোতে শায়িত ব্যক্তিদেরকে কেউ চিন? এক ব্যক্তি উত্তর দিলেন, আমি চিনি। রাসূলুল্লাহ বললেন, কবে মারা গেছে? জবাব দেয়া হলো, জাহেলিয়াতের যুগে। তখন রাসূলুল্লাহ বললেন, কবরে এ উম্মতের পরীক্ষা হয়।"
রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি সর্বত্র হাযির-নাযির হতেন, তাহলে উক্ত কবরে শায়িত ব্যক্তিদেরকে চিনতে পারতেন। কিন্তু তিনি চিনতে পারেননি বিধায় তাদের ব্যাপারে সাহাবীগণের কাছে জিজ্ঞেস করে নিলেন।
৪. কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ ﷺ উম্মতদেরকে আলামত ছাড়া চিনতে পারবেন না : আবু দারদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, কিয়ামতের ময়দানে সর্বপ্রথম আমাকে সিজদার অনুমতি দেয়া হবে। আর আমাকেই সর্বপ্রথম সিজদা থেকে মাথা উঠানোর অনুমতি দেয়া হবে। এরপর আমি আমার সামনের দিকে তাকাব। আমার সামনে উপস্থিত সমস্ত উম্মতের মাঝে আমার উম্মতকে চিনতে পারব, তখন এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ -কে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! (কিয়ামতের ময়দানে) নূহ (আঃ) থেকে আপনার উম্মত পর্যন্ত সমস্ত উম্মতের মাঝে আপনার উম্মতকে কীভাবে চিনবেন? রাসূলুল্লাহ উত্তর দিলেন, অযুর কারণে সেদিন তাদের হাত, মুখ ও পা উজ্জ্বল হবে, অন্য উম্মতের তা হবে না। ১৬
রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি সর্বত্র হাযির-নাযির হতেন, তাহলে তো তিনি সমস্ত উম্মতকে কোন আলামত ছাড়াই চিনতে পারতেন। অথচ সেদিন তিনি অযুর আলামত ছাড়া তাদেরকে চিনতে পারবেন না।
৫. রাসূলুল্লাহ ﷺ সাক্ষীর ভিত্তিতে বিচার-ফায়সালা করতেন : উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা (রাঃ) নবী ﷺ থেকে বর্ণনা করেন, একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর ঘরের দরজায় ঝগড়ার আওয়াজ শুনতে পেয়ে তাদের নিকট গেলেন। তখন তিনি বললেন, আমি একজন মানুষ, আমার কাছে ঝগড়াকারীরা আসে। তাদের মধ্যে হয়তো কেউ অন্যের চেয়ে বেশি বাকপটু। তখন আমি মনে করি সে সত্য বলছে, তাই তার পক্ষে রায় দেই। সুতরাং বিচারে যদি আমি ভুলবশত অপর কোন মুসলিমের হক তাকে দিয়ে দেই, তবে তা জাহান্নামের টুকরা। সুতরাং সে ইচ্ছা করলে তা গ্রহণ করতে পারে অথবা ইচ্ছা করলে পরিত্যাগও করতে পারে।১৭
এই হাদীসটি পরিষ্কার বলে দিচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ মানুষ; তিনি অন্য জাতি নন। তিনি হাযির-নাযির নন। যদি তিনি সর্বস্থানে হাযির-নাযির হতেন, তাহলে কোন সময় তিনি জাহেরী দলীলের উপর নির্ভর করে ঘটনার বিপরীতে রায় দিতেন না এবং ঘটনার বিপরীত রায় গ্রহণ করতে নিষেধও করতেন না।
৬. সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ-কে হাযির-নাযির বিশ্বাস করতেন না : ৪র্থ হিজরীতে সফর মাসে আজল ও কাররাহ গোত্রের লোকদের আবেদনে রাসূলুল্লাহ তাদের জন্য দশজন সাহাবীকে আছিম বিন ছাবিতের নেতৃত্বে শিক্ষক হিসেবে প্রেরণ করেন। তারা 'রাজি' নামক স্থানে পৌঁছলে ঐ দুই গোত্রের লোকেরা তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে এবং বনু লেহইয়ানকে তাদের প্রতি হামলা করার ইঙ্গিত দিলে তারা দুইশত লোক নিয়ে তাদের প্রতি আক্রমণ চালায়। এদিকে শত্রুরা আসিম (রাঃ)-কে তার সঙ্গীদের নিয়ে আত্মসমর্পণ করতে বললে তিনি অসম্মতি জানান। এমতাবস্থায় তিনি আল্লাহর নিকট দু'আ করে বলেছিলেন, হে আল্লাহ! আপনার নবীকে আমাদের অবস্থা জানিয়ে দিন।
এ ঘটনা থেকে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, সাহাবীগণও রাসূলুল্লাহ এর সর্বত্র হাযির-নাযির থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করতেন না। যদি তারা বিশ্বাস করতেন, তাহলে তারা রাসূলুল্লাহ-কে তাদের অবস্থা জানানোর জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করতেন না।
রাসূলুল্লাহ-কে হাযির-নাযির মনে করা শিরক : উপরোক্ত আলোচনা থেকে এ কথা স্পষ্ট যে, শারীরিকভাবে কারো পক্ষে সর্বত্র হাযির-নাযির থাকা সম্ভব নয়। এমনকি গুণগত দিক থেকেও কোন সৃষ্টির পক্ষে সর্বত্র হাযির-নাযির থাকা সম্ভব নয়। একমাত্র আল্লাহ তা'আলা তাঁর ইলম দ্বারা সবকিছুকে বেষ্টন করে আছেন। তিনি বলেন,
أَنَّ اللَّهَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ وَأَنَّ اللَّهَ قَدْ أَحَاطَ بِكُلِّ شَيْءٍ عِلْمًا
আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান এবং আল্লাহ তাঁর জ্ঞান দ্বারা সবকিছুই পরিবেষ্টন করে রেখেছেন। (সূরা তালাক- ১২)

টিকাঃ
১০ সহীহ বুখারী, হা/৬৫৮৩; ইবনে মাজাহ, হা/৪৩0৬; মিশকাত ২/৪৮৮।
১৪ নাসাঈ, হা/১২৮২; সুনানে দারেমী, হা/২৮৩০; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬৬৬।
১* সহীহ মুসলিম, হা/৭৩৯২; সহীহ ইবনে হিব্বان, হা/১০০০।
১৬ সহীহ মুসলিম, হা/৬০৭; মুসনাদে আহমাদ, হা/৭৯৯৩।
১৭ সহীহ বুখারী, হা/২৪৫৮; সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৭০; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬৬১৮; মিশকাত, হা/৩৭৬১।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 মীলাদ ও কিয়াম জায়েয না বিদআত

📄 মীলাদ ও কিয়াম জায়েয না বিদআত


(مِیْلَادٌ )মীলাদ) এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে জন্মবৃত্তান্ত। আর পারিভাষিক অর্থে মীলাদ বলা হয়, রাসূলুল্লাহ এর জন্ম ও জীবনী নিয়ে আলোচনা করা। কিন্তু আমাদের দেশে মীলাদ মাহফিল বলতে ঐসব অনুষ্ঠানকে বুঝানো হয়, যেখানে রাসূলুল্লাহ এর প্রশংসামূলক উর্দু, ফারসী, আরবি ও বাংলা ভাষায় বিভিন্ন কবিতা পাঠ করা হয় এবং সমস্বরে দরূদ পাঠ করা হয়।
আর قيام )কিয়াম) এর শাব্দিক অর্থ হচ্ছে, দাঁড়ানো বা দণ্ডায়মান হওয়া। আর পারিভাষিক অর্থে রাসূলুল্লাহ এর উপস্থিতির কারণে সম্মান প্রদর্শনের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াকেই কিয়াম বলা হয়। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ এর নামে মীলাদ পাঠ করার পর পরই কিয়াম করা হয়ে থাকে।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 প্রচলিত মীলাদ ও কিয়ামের ভ্রান্তিসমূহ

📄 প্রচলিত মীলাদ ও কিয়ামের ভ্রান্তিসমূহ


বর্তমান সমাজে মীলাদ মাহফিল ও কিয়ামের নামে যেসব অনুষ্ঠান পালন করা হয়, সেগুলোতে অনেক ধরনের ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়। যেমন-
১. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জন্মদিন পালন করা:
মূলত মীলাদ মাহফিলের উৎপত্তি রাসূলুল্লাহ এর জন্মদিনকে কেন্দ্র করেই। রাসূলুল্লাহ যে দিন জন্ম গ্রহণ করেছেন, সে দিনটিকে বিশেষভাবে নানা ধরনের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পালন করা হয়। অথচ এ ধরনের অনুষ্ঠানের কোন অনুমোদন ইসলামে নেই। এরূপ কোন দিবস পালনের রীতি সাহাবী, তাবেঈ, তাবেতাবেঈগণের যুগে ছিল না। অথচ তাদের ব্যাপারে হাদীসে এসেছে, عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ مَسْعُودٍ له قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : خَيْرُ أُمَّتِي الْقَرْنُ الَّذِينَ يَلُوْنِي ثُمَّ الَّذِينَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ الَّذِينَ يَلُوْنَهُمْ ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِيْنَهُ وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ
আবদুল্লাহ ইবনে মাস'উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, আমার উম্মতের মাঝে সর্বাধিক উত্তম তারাই, যারা আমার যুগের সাথে সংশ্লিষ্ট (অর্থাৎ সাহাবীগণ)। তারপর তাদের সন্নিকটবর্তী সংযুক্ত যুগের লোক (অর্থাৎ তাবেঈগণ)। তারপর তাদের সংযুক্ত যুগ (অর্থাৎ তাবে তাবেঈগণ)। অতঃপর এমন এক সম্প্রদায়ের উদ্ভব হবে, যারা শপথের পূর্বে সাক্ষ্য প্রদান করবে এবং সাক্ষ্য প্রদানের পূর্বে শপথ করবে। সুতরাং সওয়াবের আশায় রাসূলুল্লাহ সহ যে কারো জন্মদিন পালন করাই বিদআত। কেননা দিবস পালনের এ বিষয়টি উপরোক্ত সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সালফদের যুগে ছিল না।
২. বিদআতী দরূদ পাঠ করা: মীলাদকে কেন্দ্র করে আরো একটি মারাত্মক বিদআত বর্তমান সমাজে প্রচলিত রয়েছে। আর সেটা হলো, বিদআতী দরূদ পাঠ করা অর্থাৎ সেসব অনুষ্ঠানগুলোতে রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদেরকে যেভাবে দরূদ শিক্ষা দিয়েছেন এবং সহীহ হাদীসসমূহে যেসব দরূদ পাওয়া যায়, সেগুলো পাঠ করা হয় না। বরং নিজেদের মনগড়া নানা প্রকার দরূদ পাঠ করা হয়।
৩. কিয়ামের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ উপস্থিত হন বলে মনে করা : এসব মীলাদ অনুষ্ঠান পালনের অন্যতম একটি অংশ হচ্ছে কিয়াম করা অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ ﷺ এর নামে দরূদ পাঠ করার সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ নাকি সামনে উপস্থিত হন, ফলে তাঁর সম্মানে দাঁড়ানো হয়। অথচ এ ধরনের কোন রীতিনীতি ইসলামের মর্যাদাপূর্ণ তিন যুগেও ছিল না। তাছাড়া রাসূলুল্লাহ ﷺ এর উপস্থিত হওয়ার বিষয়টিও একেবারেই ভ্রান্ত।

টিকাঃ
১৮ সহীহ বুখারী, হা/২৬৫২; সহীহ মুসলিম, হা/৬৬৩২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৯৬৩; মিশকাত, হা/৩৭৬৭।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 মীলাদ মাহফিলের হুকুম

📄 মীলাদ মাহফিলের হুকুম


প্রকৃতপক্ষে মীলাদ মাহফিল বলতে যা বুঝায় তথা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে আলোচনা করা একটি উত্তম কাজ। ফলে এর জন্য আল্লাহর কাছে পুরস্কারের আশা করা যায়। কিন্তু প্রচলিত নিয়মে যেভাবে মীলাদ মাহফিল পালন করা হয়, সেটা সম্পূর্ণ হারাম। কেননা এটা অনেক প্রকার বিদআত ও শিরকী কর্মকাণ্ডের দ্বারা পরিপূর্ণ। যেমন- বিশেষ নিয়মে নানা ধরনের দরূদ পাঠ করা, কবিতা পাঠ করা, কিয়াম করা ইত্যাদি।
১। রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জীবনবৃত্তান্ত আলোচনা করা, যিকির-আযকার করার মাঝে সওয়াব রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে জীবনবৃত্তান্ত আলোচনার জন্য সুন্নত গর্হিত যে নিয়ম-নীতি অবলম্বন করা হয়, এই নিয়ম সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন এবং তাবে তাবেঈনদের কোন যুগেই ছিল না। এর দ্বারা সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে।
২। মীলাদ মাহফিল সাহাবায়ে কেরামের যুগ, তাবেঈনদের যুগ ও তাবে তাবেঈনদের যুগ- মর্যাদাপূর্ণ এই তিন যুগে ছিল না বিধায় তা বিদআত ও গর্হিত কাজ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00