📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব জানতেন না- এর দলীল

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব জানতেন না- এর দলীল


ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে যে, গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ এ ব্যাপারে অবগত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ -ও এ বিষয়ে অবহিত নন। এ বিষয়টিও কুরআন মাজীদের আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। যেমন-
﴿وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللهُ خَيْرَانِ اللهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنْفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴾
আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে। আর আমি অদৃশ্য বিষয় সম্বন্ধেও অবগত নই। আমি এটাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। যারা তোমাদের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হয় তাদের সম্বন্ধে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কখনই মঙ্গল দান করবেন না; তাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। নতুবা আমি অবশ্যই যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। (সূরা হুদ- ৩১)
﴿وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴾
(বলো) আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম, তবে তো আমি প্রকৃতপক্ষে কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। (সূরা আ'রাফ- ১৮৮) তাছাড়া হাদীসেও এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যেমন-
عَنْ عَائِشَةَ ....... قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يُخْبِرُ بِمَا يَكُونُ فِي غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُوْلُ ﴿قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ﴾
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ আল্লাহর ওহী ব্যতীত আগামীকাল কী হবে- তা অবহিত করতে পারেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, “বলো, আসমান ও যমীনে আল্লাহ ব্যতীত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না”- (সূরা নাম্ল- ৬৫)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مِفْتَاحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ لَا يَعْلَمُ أَحَدٌ مَا يَكُونُ فِي غَدٍ وَلَا يَعْلَمُ أَحَدٌ مَا يَكُونُ فِي الْأَرْحَامِ وَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ وَمَا يَدْرِي أَحَدٌ مَتَى يَجِيءُ الْمَطَرُ
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, গায়েবের চাবি হলো পাঁচটি, যে পাঁচটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না- (১) কেউ জানে না আগামীকাল কী ঘটবে (২) কেউ জানে না মায়েদের গর্ভে কী সন্তান রয়েছে, (৩) কেউ জানে না সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে, (৪) কেউ জানে না সে কোন্ জায়গায় মৃত্যু বরণ করবে, (৫) কেউ জানে না বৃষ্টি কখন হবে।'১০
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস ছাড়াও রাসূলুল্লাহ এর জীবনে সংঘটিত অসংখ্য ঘটনার দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ গায়েব সম্পর্কে কোনোকিছু অবগত ছিলেন না। বরং আল্লাহ তা'আলা তাঁকে গায়েবের বিষয়ে যা কিছু জানাতেন, তিনি কেবল তা-ই জানতে পারতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا - إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَّسُوْلٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا
তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি তার সামনে এবং পেছনে প্রহরী নিয়োজিত করে রেখেছেন। (সূরা জিন- ২৬, ২৭) উপরোক্ত প্রমাণাদি ছাড়াও আরো অনেক আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ গায়েব জানতেন না। নিম্নে এর স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ এর জীবনী থেকে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা হলো :
১. তায়েফের ঘটনা : রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে তায়েফ গমনের ইচ্ছা করলেন এ আশায় যে, তায়েফবাসীরা হেদায়াত প্রাপ্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু যখন তিনি তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন, তখন তারা সকলেই তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁকে অপমানের সহিত তায়েফ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি তারা তাঁর পেছনে দুষ্ট ছেলেদেরকে লেলিয়ে দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েবের জ্ঞান রাখতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি তায়েফবাসীদের দ্বারা এ ধরনের অপমানের মুখোমুখি হতেন না। বরং তিনি আগেই সতর্ক হয়ে যেতেন।
২. উহুদের বিপর্যয় : উহুদ যুদ্ধ ছিল ইসলামের দ্বিতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলিমগণ ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। অনেক সাহাবী হতাহত হয়েছিলেন। এমনকি একটি আঘাতে রাসূলুল্লাহ এর দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে মুসলিমগণ এরকম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতেন না; বরং রাসূলুল্লাহ মুসলিমদেরকে এরকম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
৩. খন্দকের যুদ্ধে গোয়েন্দা প্রেরণ: খন্দকের যুদ্ধে কাফিররা যখন খন্দকের মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মদিনায় মুসলিমদের অবরোধ করে রেখেছিল, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ কাফিরদের অবস্থা জানার জন্য হুযায়ফা (রাঃ)-কে গোয়েন্দা হিসেবে প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে হুযায়ফা (রাঃ)-কে কাফিরদের অবস্থা জানার জন্য কখনই প্রেরণ করতেন না। বরং কাফিরদের যাবতীয় অবস্থা এমনিতেই তাঁর জানা থাকত এবং তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন।
৪. হুদায়বিয়া সন্ধির সময় উসমান (রাঃ) এর মৃত্যুর গুজব : ৬ষ্ঠ হিজরীতে মুসলিমগণ যখন হজ্জ করার উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন তারা হুদায়বিয়া নামক স্থানে এসে বাধাপ্রাপ্ত হন। ফলে তারা সেখানেই শিবির স্থাপন করেন এবং রাসূলুল্লাহ উসমান (রাঃ)-কে মক্কায় প্রেরণ করেন। যাতে তিনি তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুরাইশদেরকে অবহিত করেন। কিন্তু উসমান (রাঃ) এর ফিরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে, কুরাইশরা উসমান (রাঃ)-কে শহীদ করে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ যখন এ সংবাদ শুনলেন তখন তিনি এ মিথ্যা গুজবকে বিশ্বাস করে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকেও যুদ্ধের বাই'আত গ্রহণ করলেন।
রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে এ ধরনের গুজব শুনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া তো দূরের কথা, বিশ্বাসই করতেন না।
৫. হাউজে কাউসারের ঘটনা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের পূর্বে হাউজে কাওসারে উপস্থিত হব। তখন কিছু লোক আমার সামনে আসবে। এরপর তাদেরকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! তারা তো আমার উম্মত। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে বলা হবে, হে রাসূল! আপনি জানেন না যে, তারা আপনার পর কী পাপ কাজ করেছে?”
রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে ঐসব উম্মতের অপরাধের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার কাছে কোন ধরনের প্রশ্ন করারই প্রয়োজন হতো না।
৬. এক বালিকার কবিতা আবৃত্তি : একদা মদিনায় এক বিবাহ অনুষ্ঠানে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত হলে একজন বালিকা কবিতা আবৃত্তি করে বলছিল, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী রয়েছেন, যিনি আগামীকাল কী হবে তা জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ তার কথার প্রতিবাদ করে বললেন, একথা ছেড়ে আগে যা বলেছিলে তাই বলো। (আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে)।”

টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৭।
১০ সহীহ বুখারী, হা/১০৩৯।
১১ সহীহ বুখারী, হা/৬৫৮৩।
১২ সহীহ বুখারী, হা/৫১৪৭।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জ্ঞানের উৎস হলো একমাত্র ওহী

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জ্ঞানের উৎস হলো একমাত্র ওহী


রাসূলুল্লাহ ﷺ ছিলেন একজন নিরক্ষর নবী। তিনি কেবল নবুওয়াত লাভ করার পরই স্বয়ং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে শিক্ষা লাভ করেছিলেন। আর এ শিক্ষা অর্জন করতেন কেবলমাত্র ওহীর মাধ্যমে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ذلِكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيْهِ إِلَيْكَ এসব গায়েবের সংবাদ ওহীর মাধ্যমে আমি তোমাকে জানিয়ে দিয়েছি। (সূরা আলে ইমরান- ৪৪)
অপর আয়াতে বলেন,
تِلْكَ مِنْ أَنْبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ ، مَا كُنْتَ تَعْلَمُهَا أَنْتَ وَلَا قَوْمُكَ مِنْ قَبْلِ هَذَا * فَاصْبِرْ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ﴾ এ সমস্ত অদৃশ্যের সংবাদ আমি তোমাকে ওহীর মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছি, যা এর পূর্বে তুমি ও তোমার সম্প্রদায় কেউ জানতে না। সুতরাং ধৈর্যধারণ করো, নিশ্চয় শুভ পরিণাম মুত্তাক্বীদের জন্য। (সূরা হুদ-৪৯)
অতএব রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জ্ঞানের একমাত্র উৎস ছিল ওহী। রাসূলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে ওহীর মাধ্যমে কোন বিষয়ে জ্ঞান লাভ করার পূর্বে তিনি ঐ বিষয়ের ভালো-মন্দ কোন কিছুই জানতেন না। নিম্নে এর কিছু নমুনা বর্ণনা করা হলো :
১. ইয়াহুদি মহিলার চক্রান্ত : একদা এক ইয়াহুদি মহিলা রাসূলুল্লাহ ﷺ -কে দাওয়াত প্রদান করলে তিনি তা গ্রহণ করেন। অতঃপর সে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর সামনে খাবার পেশ করার পূর্বে তাতে বিষ মিশ্রিত করে দেয়। এরপর রাসূলুল্লাহ ﷺ ওহীর মাধ্যমে জানতে পেরে উক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
যদি তিনি গায়েব সম্পর্কে জানতেন, তাহলে দাওয়াত গ্রহণের পূর্বেই এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
২. ইফকের ঘটনা : ইফকের ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল হিজরী ৫ম বর্ষে। রাসূলুল্লাহ ﷺ যখন সাহাবীদেরকে নিয়ে বনু মুস্তালিক যুদ্ধ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন পথিমধ্যে তারা ঘটনাক্রমে আয়েশা (রাঃ)-কে একাকী রেখে চলে যান। অতঃপর তিনি সাফওয়ান ইবনে মুয়াত্তাল নামক এক সাহাবীর সাথে পরে এসে কাফেলায় মিলিত হন। এতে মুনাফিকরা তাদের উপর যিনার অপবাদ আরোপ করে। যার কারণে রাসূলুল্লাহ ﷺ অত্যন্ত মনঃক্ষুণ্ণ হন এবং এক মাস পর্যন্ত এ অবস্থায় অতিবাহিত করেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ-কে সবকিছু জানিয়ে দেন এবং আয়েশা (রাঃ) এর পবিত্রতা ঘোষণা করেন। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে আয়েশা (রাঃ) এর উপর এ ধরনের নিকৃষ্ট অপবাদ আরোপ করার কোন সুযোগই হতো না এবং রাসূলুল্লাহ-ও তার প্রতি কোন ধরনের মনঃক্ষুণ্ণ হতেন না। বরং তিনি সাথে সাথে এর প্রতিবাদ করতেন এবং এজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
৩. মুনাফিকদের প্রস্থানের ঘটনা : রাসূলুল্লাহ যখন সাহাবীদেরকে নিয়ে তাবুক অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন, তখন মুনাফিকরা মিথ্যা ওজর দেখিয়ে রাসূলুল্লাহ এর নিকট থেকে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি প্রার্থনা করল। ফলে রাসূলুল্লাহ তাদেরকে অনুমতি দিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে আল্লাহ তা'আলা ওহীর মাধ্যমে মুনাফিকদের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে বলে দিলেন। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে মুনাফিকরা মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি পেত না এবং তাদের প্রকৃত অবস্থা জানার জন্য ওহীর প্রয়োজন হতো না।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জ্ঞান সীমিত

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর জ্ঞান সীমিত


গায়েবী জ্ঞানের অধিকারী কেবল তিনিই হতে পারেন, যিনি পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত যাবতীয় বিষয়ে সম্যক অবগত। সুতরাং সীমিত জ্ঞানের অধিকারী কোন সত্তার পক্ষে গায়েবী জ্ঞানের অধিকারী হওয়া অসম্ভব। অথচ রাসূলুল্লাহ ছিলেন সীমিত জ্ঞানের অধিকারী। যেমন- কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে এ জ্ঞান রাসূলুল্লাহ এর ছিল না। আল্লাহ তা'আলা বলেন, يَسْأَلُكَ النَّاسُ عَنِ السَّاعَةِ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللهِ وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ السَّاعَةَ تَكُونُ قَرِيبًا)
তারা তোমাকে কিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে (তা কবে সংঘটিত হবে)। বলো, এর জ্ঞান আল্লাহ তা'আলার কাছেই সীমিত। আপনি কি করে জানবেন যে, হয়ত কিয়ামত শীঘ্রই সংঘটিত হবে । (সূরা আহযাব- ৬৩) ইতিপূর্বে যেসব নবী-রাসূল গত হয়ে গিয়েছেন রাসূলুল্লাহ তাদের সবার ব্যাপারে সবকিছু জানতেন না। বরং আল্লাহ তা'আলা তাদের জীবনী থেকে যেসব অংশ জানাতেন, তিনি কেবল সেটুকুই জানতে পারতেন । আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا رُسُلًا مِّنْ قَبْلِكَ مِنْهُمْ مَنْ قَصَصْنَا عَلَيْكَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَّمْ نَقْصُصْ عَلَيْكَ )
আমি তো তোমার পূর্বে অনেক রাসূল প্রেরণ করেছিলাম, তাদের কারো কথা তোমার নিকট বর্ণনা করেছি এবং কারো কথা তোমার নিকট বর্ণনা করিনি। (সূরা মু'মিন- ৭৮)

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব সম্পর্কে জানতেন এটা দাবি করা শিরক

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব সম্পর্কে জানতেন এটা দাবি করা শিরক


ইসলামী পরিভাষায়, আল্লাহ তা'আলার সত্তা, নাম, সিফাত ও ইবাদাতের মধ্যে কাউকে অংশীদার স্থাপন করাকেই শিরক বলে। আল্লাহ তা'আলা এ ধরনের গুনাহ একনিষ্ঠ তওবা ছাড়া মাফ করেন না এবং তওবা ছাড়া মৃত্যুবরণ করলে পরকালেও তাকে ক্ষমা করেন না। তিনি বলেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَنْ يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَلِكَ لِمَن يَشَاءُ
নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক স্থাপন করার অপরাধ ক্ষমা করবেন না। এটা ব্যতীত অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেবেন। (সূরা নিসা- ৪৮) গায়েবের বিষয়টি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার সিফাতের সাথে সম্পর্কিত। যার কারণে তার একটি সিফাতী নাম হচ্ছে 'আলিমুল গায়েব' তথা অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী। সুতরাং আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে 'আলিমুল গায়েব' বলে দাবি করাটা স্পষ্ট শিরক- চাই তা যে কোন রাসূলের জন্যও হোক। যারা রাসূলুল্লাহ এর ব্যাপারে এ ধরনের দাবি করবে, তাদেরকে জীবিত থাকা অবস্থাতেই একনিষ্ঠ তওবা করতে হবে। তাহলেই আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমার আশা করা যাবে। অন্যথায় এ গুনাহের কারণে পরকালে জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে হবে। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকে সকল প্রকার শিরকী গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক দান করুন। আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00