📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নূরের তৈরি মনে করা বাড়াবাড়ি

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে নূরের তৈরি মনে করা বাড়াবাড়ি


ঈসা (আঃ) এর উম্মতগণের মধ্যে যারা অতিভক্ত ছিল, তারা ঈসা (আঃ)-কে আল্লাহর পুত্র বলে আখ্যায়িত করল। যারা বেআদব ছিল, তারা ঈসা (আঃ)-কে জারজ সন্তান বলে ঘোষণা দিল। এদের মধ্যে যারা অতিভক্ত ছিল, তারাও - গোমরাহ। যারা তাঁর সাথে বেআদবী করেছে তারাও গোমরাহ।
ঠিক তেমনি উম্মতে মুহাম্মাদীর মাঝে যারা অতিভক্ত, তারা রাসূলুল্লাহ এর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ -কে আল্লাহর জাতি নূরের সৃষ্টি বলে বিশ্বাস করে। এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত আকীদা । । এ কারণে রাসূলুল্লাহ এর মুহাব্বতের ক্ষেত্রেও মধ্যমপন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক। মধ্যমপন্থা অবলম্বন করে তাকে সর্বোত্তম ও সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে বিশ্বাস করাই ন্যায়সঙ্গত।
তাছাড়া রাসূলুল্লাহ-কে নূরের তৈরি মনে করার আকীদা খ্রিস্টানদের একটি শিরকী আকীদার সাথে সাদৃশ্য রাখে। যেমন- তারা বলে থাকে যে, ঈসা (আঃ)-ই আল্লাহ। তিনি মানুষ রূপে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন। অথচ এ আকীদা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত। কারণ সৃষ্টি আর স্রষ্টা কখনো এক হতে পারে না। সুতরাং রাসূলুল্লাহ -কে আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে যদি দাবি করা হয়, তাহলে এক অর্থে তাকে আল্লাহ বলেই দাবি করা হয়। উম্মত কর্তৃক এ ধরনের বাড়াবাড়ির আশংকা ছিল বিধায় রাসূলুল্লাহ জীবদ্দশাতেই এ ব্যাপারে উম্মতকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন। হাদীসে এসেছে, সাল্লাল্লাহ আাসাল্লাম عَنْ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ لَا تُطَرُونِي كَمَا أَطْرَتِ النَّصَارَى عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ عَلَيْهِ السَّلَامِ فَإِنَّمَا أَنَا عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَقُولُوا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ
উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ বলেন, তোমরা আমার প্রশংসায় এতটা বাড়াবাড়ি করো না যেমনটা খ্রিস্টানরা ঈসা (আঃ) এর ব্যাপারে করেছিল। নিশ্চয় আমি শুধুমাত্র আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর প্রেরিত রাসূল। সুতরাং তোমরা আমাকে আল্লাহর বান্দা এবং রাসূলই বলবে।

টিকাঃ
* সহীহ বুখারী, হা/৩২৬১; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৫৪; সুনানে দারেমী, হা/২৮৪০; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬২৩৯।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গায়েব জানা সম্পর্কে ভুল ধারণা

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ এর গায়েব জানা সম্পর্কে ভুল ধারণা


পৃথিবীর সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হচ্ছেন, বিশ্বনবী মুহাম্মাদ। তিনি ছিলেন বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ। আল্লাহ তা'আলা তাঁর বিশেষ রহমতে তাকে মানবজাতির জন্য নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছিলেন এবং অনেক গায়েবী বিষয় অবহিত করেছিলেন। তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে গায়েবী বিষয় কেবল ততটুকুই জানতে পারতেন, যতটুকু তিনি (আল্লাহ তা'আলা) ওহীর মাধ্যমে তাকে অবহিত করতেন। এর বাহিরে তিনি কিছুই জানতে পারতেন না। রাসূলুল্লাহ এর সাহাবী, তাবেঈ, তাবে তাবেঈগণসহ যুগে যুগে সালফে সালেহীনগণও সর্বদা এরূপ আকীদাই পোষণ করতেন। কিন্তু বর্তমান যুগে পথভ্রষ্ট কতিপয় আলেমের উদ্ভব হয়েছে, যারা কুরআন ও সহীহ হাদীসের স্পষ্ট দলীলকে বিকৃত করে দাবি করে যাচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ গায়েব সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। নিম্নে কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে তাদের এসব মতবাদের ভ্রষ্টতা প্রমাণ করা হলো:

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 ইলমে গায়েবের অধিকারী কে

📄 ইলমে গায়েবের অধিকারী কে


ইলমে গায়েব এর সংজ্ঞা: الْعِلْمُ শব্দের অর্থ হচ্ছে জ্ঞান। আর اَلْغَيْبُ শব্দের শাব্দিক অর্থ হচ্ছে অদৃশ্য, গুপ্তজ্ঞান, অজানা রহস্য, কোন জিনিস গোপন থাকা ইত্যাদি। সুতরাং الْعِلْمُ الْغَيْبُ অর্থ হচ্ছে অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞান।
ইসলামী পরিভাষায় الْعِلْمُ الْغَيْبَ বলা হয়- إِنَّ الْغَيْبَ مَا غَابَ عَنِ الْحَوَاسِ وَالْعِلْمِ الضَّرُورِيِّ وَالْعِلْمِ الْاِسْتِدْ لَا لِي দলীল ব্যতীত পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা সাধারণভাবে যা জানা যায় না, তাকে গায়েব বলা হয়।
ইলমে গায়েবের অধিকারী কে আল্লাহ তা'আলা হচ্ছেন জ্ঞানের আধার এবং একমাত্র তিনিই হচ্ছেন সকল জ্ঞানের উৎস। তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে নিজ জ্ঞান থেকে সামান্য কিছু দান করে অনুগ্রহ করে থাকেন। তিনি সৃষ্টির সবধরনের খবরাখবর রাখেন। বিশেষ করে যেসব বিষয় বান্দাদের থেকে অদৃশ্য রয়েছে, সে সম্পর্কেও খবর রাখেন। তিনি বলেন, قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللهُ وَمَا يَشْعُرُونَ أَيَّانَ يُبْعَثُونَ বলো, আল্লাহ ব্যতীত আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে কেউ অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না এবং তারা জানে না যে, তারা কখন উত্থিত হবে। (সূরা নামল- ৬৫) অপর আয়াতে এসেছে, أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ﴾ (তারা কি জানত না যে) আল্লাহ তাদের অন্তরের গোপন কথা ও তাদের গোপন পরামর্শ সম্পর্কেও অবগত আছেন এবং যা অদৃশ্য তাও তিনি বিশেষভাবে জানেন? (সূরা তওবা- ৭৮) এভাবে কুরআন মাজীদের আরো অনেক আয়াত দ্বারা গায়েবের জ্ঞান সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলার একক অধিকারের কথা প্রমাণ পাওয়া যায়।

📘 মুহাম্মদ সা সম্পর্কে ভুল ধারনা ও তার জীবনী > 📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব জানতেন না- এর দলীল

📄 রাসূলুল্লাহ ﷺ গায়েব জানতেন না- এর দলীল


ইতিপূর্বেই বলা হয়েছে যে, গায়েবের খবর একমাত্র আল্লাহ তা'আলাই জানেন এবং তিনি ছাড়া অন্য কেউ এ ব্যাপারে অবগত নয়। সুতরাং রাসূলুল্লাহ -ও এ বিষয়ে অবহিত নন। এ বিষয়টিও কুরআন মাজীদের আয়াত দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। যেমন-
﴿وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِنْدِي خَزَائِنُ اللهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَنْ يُؤْتِيَهُمُ اللهُ خَيْرَانِ اللهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنْفُسِهِمْ إِنِّي إِذًا لَمِنَ الظَّالِمِينَ ﴾
আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার নিকট আল্লাহর ধনভাণ্ডার আছে। আর আমি অদৃশ্য বিষয় সম্বন্ধেও অবগত নই। আমি এটাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। যারা তোমাদের দৃষ্টিতে হেয় প্রতিপন্ন হয় তাদের সম্বন্ধে আমি বলি না যে, আল্লাহ তাদেরকে কখনই মঙ্গল দান করবেন না; তাদের অন্তরে যা আছে সে সম্পর্কে আল্লাহ সম্যক অবগত। নতুবা আমি অবশ্যই যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হব। (সূরা হুদ- ৩১)
﴿وَلَوْ كُنْتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ ﴾
(বলো) আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম, তবে তো আমি প্রকৃতপক্ষে কল্যাণই লাভ করতাম এবং কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। আমি তো কেবল মুমিন সম্প্রদায়ের জন্য সতর্ককারী ও সুসংবাদদাতা। (সূরা আ'রাফ- ১৮৮) তাছাড়া হাদীসেও এ বিষয়টি আরো স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যেমন-
عَنْ عَائِشَةَ ....... قَالَتْ وَمَنْ زَعَمَ أَنَّهُ يُخْبِرُ بِمَا يَكُونُ فِي غَدٍ فَقَدْ أَعْظَمَ عَلَى اللَّهِ الْفِرْيَةَ وَاللَّهُ يَقُوْلُ ﴿قُلْ لَّا يَعْلَمُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ الْغَيْبَ إِلَّا اللَّهُ ﴾
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এ কথা বলে যে, রাসূলুল্লাহ আল্লাহর ওহী ব্যতীত আগামীকাল কী হবে- তা অবহিত করতে পারেন, সে আল্লাহর উপর ভীষণ অপবাদ দেয়। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেন, “বলো, আসমান ও যমীনে আল্লাহ ব্যতীত গায়েব সম্পর্কে কেউ জানে না”- (সূরা নাম্ল- ৬৫)।
عَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : مِفْتَاحُ الْغَيْبِ خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ لَا يَعْلَمُ أَحَدٌ مَا يَكُونُ فِي غَدٍ وَلَا يَعْلَمُ أَحَدٌ مَا يَكُونُ فِي الْأَرْحَامِ وَلَا تَعْلَمُ نَفْسٌ مَاذَا تَكْسِبُ غَدًا وَمَا تَدْرِي نَفْسٌ بِأَيِّ أَرْضٍ تَمُوتُ وَمَا يَدْرِي أَحَدٌ مَتَى يَجِيءُ الْمَطَرُ
আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, গায়েবের চাবি হলো পাঁচটি, যে পাঁচটি বিষয় আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না- (১) কেউ জানে না আগামীকাল কী ঘটবে (২) কেউ জানে না মায়েদের গর্ভে কী সন্তান রয়েছে, (৩) কেউ জানে না সে আগামীকাল কী উপার্জন করবে, (৪) কেউ জানে না সে কোন্ জায়গায় মৃত্যু বরণ করবে, (৫) কেউ জানে না বৃষ্টি কখন হবে।'১০
উপরোক্ত আয়াত ও হাদীস ছাড়াও রাসূলুল্লাহ এর জীবনে সংঘটিত অসংখ্য ঘটনার দ্বারা এ কথা প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ গায়েব সম্পর্কে কোনোকিছু অবগত ছিলেন না। বরং আল্লাহ তা'আলা তাঁকে গায়েবের বিষয়ে যা কিছু জানাতেন, তিনি কেবল তা-ই জানতে পারতেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلَى غَيْبِهِ أَحَدًا - إِلَّا مَنِ ارْتَضَى مِنْ رَّسُوْلٍ فَإِنَّهُ يَسْلُكُ مِنْ بَيْنِ يَدَيْهِ وَمِنْ خَلْفِهِ رَصَدًا
তিনি অদৃশ্য জ্ঞানের অধিকারী, তিনি তাঁর অদৃশ্যের জ্ঞান কারো নিকট প্রকাশ করেন না। তবে তাঁর মনোনীত রাসূল ব্যতীত। নিশ্চয় তিনি তার সামনে এবং পেছনে প্রহরী নিয়োজিত করে রেখেছেন। (সূরা জিন- ২৬, ২৭) উপরোক্ত প্রমাণাদি ছাড়াও আরো অনেক আয়াত ও হাদীস দ্বারা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ গায়েব জানতেন না। নিম্নে এর স্বপক্ষে রাসূলুল্লাহ এর জীবনী থেকে কয়েকটি উদাহরণ পেশ করা হলো :
১. তায়েফের ঘটনা : রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরাইশদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে দাওয়াত প্রদানের উদ্দেশ্যে তায়েফ গমনের ইচ্ছা করলেন এ আশায় যে, তায়েফবাসীরা হেদায়াত প্রাপ্ত হয়ে ইসলাম গ্রহণ করবে। কিন্তু যখন তিনি তাদের নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করলেন, তখন তারা সকলেই তাঁর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাঁকে অপমানের সহিত তায়েফ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। এমনকি তারা তাঁর পেছনে দুষ্ট ছেলেদেরকে লেলিয়ে দিয়েছিল এবং তাঁর প্রতি পাথর নিক্ষেপ করে তাঁকে রক্তাক্ত করে দিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েবের জ্ঞান রাখতেন, তাহলে অবশ্যই তিনি তায়েফবাসীদের দ্বারা এ ধরনের অপমানের মুখোমুখি হতেন না। বরং তিনি আগেই সতর্ক হয়ে যেতেন।
২. উহুদের বিপর্যয় : উহুদ যুদ্ধ ছিল ইসলামের দ্বিতীয় যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলিমগণ ব্যাপক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছিলেন। অনেক সাহাবী হতাহত হয়েছিলেন। এমনকি একটি আঘাতে রাসূলুল্লাহ এর দাঁত ভেঙ্গে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে মুসলিমগণ এরকম বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতেন না; বরং রাসূলুল্লাহ মুসলিমদেরকে এরকম বিপর্যয় থেকে রক্ষা করার জন্য সাথে সাথেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন।
৩. খন্দকের যুদ্ধে গোয়েন্দা প্রেরণ: খন্দকের যুদ্ধে কাফিররা যখন খন্দকের মাধ্যমে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে মদিনায় মুসলিমদের অবরোধ করে রেখেছিল, এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ কাফিরদের অবস্থা জানার জন্য হুযায়ফা (রাঃ)-কে গোয়েন্দা হিসেবে প্রেরণ করেন। রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে হুযায়ফা (রাঃ)-কে কাফিরদের অবস্থা জানার জন্য কখনই প্রেরণ করতেন না। বরং কাফিরদের যাবতীয় অবস্থা এমনিতেই তাঁর জানা থাকত এবং তিনি সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারতেন।
৪. হুদায়বিয়া সন্ধির সময় উসমান (রাঃ) এর মৃত্যুর গুজব : ৬ষ্ঠ হিজরীতে মুসলিমগণ যখন হজ্জ করার উদ্দেশ্যে মক্কায় প্রবেশ করতে চাইলেন, তখন তারা হুদায়বিয়া নামক স্থানে এসে বাধাপ্রাপ্ত হন। ফলে তারা সেখানেই শিবির স্থাপন করেন এবং রাসূলুল্লাহ উসমান (রাঃ)-কে মক্কায় প্রেরণ করেন। যাতে তিনি তাঁর আগমনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে কুরাইশদেরকে অবহিত করেন। কিন্তু উসমান (রাঃ) এর ফিরে আসতে বিলম্ব হওয়ায় এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ল যে, কুরাইশরা উসমান (রাঃ)-কে শহীদ করে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ যখন এ সংবাদ শুনলেন তখন তিনি এ মিথ্যা গুজবকে বিশ্বাস করে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য কুরাইশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হলেন এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকেও যুদ্ধের বাই'আত গ্রহণ করলেন।
রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে এ ধরনের গুজব শুনে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া তো দূরের কথা, বিশ্বাসই করতেন না।
৫. হাউজে কাউসারের ঘটনা : আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি তোমাদের পূর্বে হাউজে কাওসারে উপস্থিত হব। তখন কিছু লোক আমার সামনে আসবে। এরপর তাদেরকে অন্যদিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে। তখন আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! তারা তো আমার উম্মত। তখন আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাকে বলা হবে, হে রাসূল! আপনি জানেন না যে, তারা আপনার পর কী পাপ কাজ করেছে?”
রাসূলুল্লাহ যদি গায়েব জানতেন, তাহলে ঐসব উম্মতের অপরাধের ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলার কাছে কোন ধরনের প্রশ্ন করারই প্রয়োজন হতো না।
৬. এক বালিকার কবিতা আবৃত্তি : একদা মদিনায় এক বিবাহ অনুষ্ঠানে রাসূলুল্লাহ উপস্থিত হলে একজন বালিকা কবিতা আবৃত্তি করে বলছিল, আমাদের মাঝে এমন একজন নবী রয়েছেন, যিনি আগামীকাল কী হবে তা জানেন। তখন রাসূলুল্লাহ তার কথার প্রতিবাদ করে বললেন, একথা ছেড়ে আগে যা বলেছিলে তাই বলো। (আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না যে, আগামীকাল কী ঘটবে)।”

টিকাঃ
* সহীহ মুসলিম, হা/৪৫৭।
১০ সহীহ বুখারী, হা/১০৩৯।
১১ সহীহ বুখারী, হা/৬৫৮৩।
১২ সহীহ বুখারী, হা/৫১৪৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00