📄 মুহাম্মদ ﷺ নূরের তৈরি না মাটির তৈরি
অতি দুঃখের বিষয় এই যে, নূর শব্দের স্পষ্ট ব্যাখ্যা থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক এ ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ির আশ্রয় নিয়েছে এবং পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। রাসূলুল্লাহ নূর শব্দকে যখন যেসব ক্ষেত্রে ব্যবহার করেছেন এবং সাহাবীগণও যেভাবে বুঝেছেন, তারা এর বিকৃতি ঘটিয়ে উল্টো অর্থ গ্রহণ করে থাকে এবং সে অনুযায়ী আকীদা পোষণ করে থাকে। যেমন- তারা বলে যে,
১. রাসূলুল্লাহ মানুষ নন।
২. তিনি নূরের তৈরি।
৩. তাঁকে আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে।
৪. যেহেতু তিনি আল্লাহর নূর থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, সুতরাং তিনিই আল্লাহ।
৫. রাসূলুল্লাহ-কে মানুষ বলা যাবে না।
৬. রাসূলুল্লাহ এর নূর থেকে সবকিছু সৃষ্টি করা হয়েছে।
৭. রাসূলুল্লাহ এর ছায়া ছিল না ইত্যাদি।
এ কথা স্পষ্ট যে, রাসূলুল্লাহ সম্পর্কে এরূপ ধারণা করা একেবারেই অবান্তর এবং স্পষ্ট ভ্রষ্টতার নামান্তর। নিম্নে এ সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :
নূর বলতে কী বুঝায় : نُوْرٌ )নূর) শব্দের অর্থ হচ্ছে, আলো বা জ্যোতি। সাধারণ অর্থে নূর বলতে দৃশ্যমান আলোকেই বুঝানো হয়ে থাকে। তবে ইসলামী পরিভাষায় নূর বলতে আলো, হেদায়াত, জ্ঞান ইত্যাদিকে বুঝানো হয়ে থাকে। কুরআন-হাদীসে এসব অর্থেই এর ব্যবহার পাওয়া যায়। যেমন- আল্লাহ তা'আলা বলেন, هُوَ الَّذِي جَعَلَ الشَّمْسَ ضِيَاءٌ وَالْقَمَرَ نُورًا
তিনিই সূর্যকে দীপ্তিমান ও চন্দ্রকে আলোকময় করেছেন। (সূরা ইউনুস- ৫) এখানে নূর বলতে সাধারণ অর্থে আলো বা জ্যোতিকেই বুঝানো হয়েছে।
📄 মুহাম্মদ ﷺ মাটির তৈরি হওয়ার দলীল
সকল মানুষের ন্যায় মুহাম্মাদ ﷺ-ও মাটি থেকে তৈরি একজন মানুষ ছিলেন। এর কারণ ও প্রমাণসমূহ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. মানবজাতিকে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে: আল্লাহ তা'আলা বিভিন্ন জাতিকে ভিন্ন ভিন্ন উৎস থেকে সৃষ্টি করেছেন। জিনজাতিকে সৃষ্টি করেছেন আগুন থেকে, ফেরেশতাদেরকে সৃষ্টি করেছেন নূর থেকে এবং মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন মাটি থেকে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
(وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّنْ طِينٍ)
(স্মরণ করো) যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন, আমি মাটি দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করব। (সূরা সোয়াদ- ৭১) অপর আয়াতে তিনি বলেন, (هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ مِنْ نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلًا ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخًا)
তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন মাটি হতে; তারপর শুক্রবিন্দু হতে; তারপর জমাটবাধা রক্তপিণ্ড হতে; তারপর বের করে আনেন শিশুরূপে। অতঃপর যেন তোমরা উপনীত হতে পার যৌবনে, তারপর উপনীত হতে পার বার্ধক্যে। (সূরা মু'মিন- ৬৭) (مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى)
আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি মাটি হতে। অতঃপর তাতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেব এবং তোমাদেরকে সেখান থেকেই পুনরায় বের করে আনব। (সূরা ত্বা-হা- ৫৫)
২. রাসূলুল্লাহ নিজেকে মানুষ হিসেবেই দাবি করতেন: রাসূলুল্লাহ সর্বদা আল্লাহর আদেশকে যথাযথভাবে পালন করতেন এবং এতে তিনি কোন কিছুর পরোয়া করতেন না। সুতরাং স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা যখন নবী -কে মানুষ বলে পরিচয় দিতে আদেশ করেছেন, তখন তিনি সে আদেশও যথাযথভাবে পালন করেছেন। তিনি বলেছেন,
إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ।'
অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ বলেন, أَلَّا يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ يُوْشِكُ أَنْ يَأْتِيَنِي رَسُولُ رَبِّي عَزَّ وَجَلَّ সাবধান, হে মানব সকল! নিশ্চয় আমি একজন মানুষ। অচিরেই আমার নিকট আমার পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলার বিশেষ দূত (মালাকুল মাওত) আসবেন।
৩. মানব প্রকৃতির সকল বৈশিষ্ট্যই রাসূলুল্লাহ এর মধ্যে ছিল: আল্লাহ তা'আলা একেক জাতিকে তাদের সৃষ্টির উৎস অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্য দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। এ অনুযায়ী মানবজাতির প্রধান প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো,
১. এরা পিতার ঔরসে মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করে।
২. এরা মায়ের বুকের দুধ পান করে।
৩. এরা ধীরে ধীরে ছোট থেকে বড় হয়।
৪. এরা মাটি থেকে উৎপাদিত খাদ্য থেকে আহার করে।
৫. এরা পান করে।
৬. এরা নিদ্রা যায়।
৭. এরা প্রস্রাব-পায়খানা করে।
৮. এরা বিয়ে করে।
৯. এদের থেকে সন্তান-সন্ততি জন্মগ্রহণ করে থাকে।
১০. এরা সমাজবদ্ধভাবে বসবাস করে।
১১. এরা রোগে-শোকে-দুঃখে প্রতিক্রিয়াশীল হয়।
১২. এরা মৃত্যুবরণ করে।
এসব মানবীয় বৈশিষ্ট্যের প্রত্যেকটিই রাসূলুল্লাহ এর মধ্যে ছিল। এসব বৈশিষ্ট্যের দিকে লক্ষ্য করলে নিঃসন্দেহে এ কথা বলা যায় যে, তিনি একজন মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন।
৪. রাসূলুল্লাহ মানুষের মতোই জন্মগ্রহণ করেছেন : মানুষ যেভাবে জন্মগ্রহণ করে থাকে, রাসূলুল্লাহ -ও ঠিক সেভাবেই জন্মগ্রহণ করেছেন। তার পিতার নাম ছিল আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম ছিল আমিনা।
৫. সকল মানুষের মতো রাসূলুল্লাহ এর বংশ পরিচয় ছিল : মানবজাতির অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বংশ পরিচয়। তারা যুগ যুগ ধরে এ পরিচয় নিয়েই পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। সে অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ এরও একটি বংশ পরিচয় রয়েছে, যা রাসূলুল্লাহ-কে মানুষ হিসেবেই সাব্যস্ত করে। হাদীসে এসেছে, عَنْ أَبِي عَمَّارٍ شَدَّادٍ أَنَّهُ سَمِعَ وَائِلَةَ بْنَ الْأَسْقَعِ يَقُوْلُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُوْلُ : إِنَّ اللهَ اصْطَفَى كِنَانَةَ مِنْ وَلَدِ إِسْمَاعِيلَ وَاصْطَفَى قُرَيْشًا مِنْ كِنَانَةَ وَاصْطَفَى مِنْ قُرَيْشٍ بَنِي هَاشِمٍ وَاصْطَفَانِي مِنْ بَنِي هَاشِمٍ
আবু আম্মার শাদ্দাদ (রহ.) হতে বর্ণিত। তিনি ওয়াসিলা ইবনে আসকা' (রহ.)-কে বলতে শুনেছেন যে, রাসূলুল্লাহ বলতেন, আল্লাহ তা'আলা ইসমাঈল (আঃ) এর বংশধর থেকে কিনানাকে মনোনীত করেছেন। আর কিনানার বংশধর থেকে কুরাইশকে, কুরাইশ বংশ থেকে বনু হাশিমকে; আর বনু হাশিম থেকে আমাকে মনোনীত করেছেন।
৬. রাসূলুল্লাহ এর সন্তানাদিও মাটির তৈরি মানুষ ছিলেন : জন্মগ্রহণের দিক থেকে একটি নিয়ম হচ্ছে, যে যে জাতির মধ্যে জন্মগ্রহণ করবে, সে সে জাতির লোক হিসেবে পরিচয় লাভ করবে। সুতরাং জিন ও ফেরেশতারা কখনো মানুষ হিসেবে এবং মানুষ কখনো জিন অথবা ফেরেশতা হিসেবে পরিচয় লাভ করতে পারবে না এবং তাদের বংশধারাও হঠাৎ করে মানুষ থেকে ফেরেশতা অথবা ফেরেশতা থেকে মানুষে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে না। যার কারণে রাসূলুল্লাহ এর ঔরসে জন্মগ্রহণকারী কাউকে নূরের তৈরি বলা হয় না। এমনকি যারা রাসূলুল্লাহ-কে নূরের তৈরি বলে দাবি করে, তারাও রাসূলুল্লাহ এর বংশধরকে নূরের তৈরি বলে না। সুতরাং তাদের এ দাবিটি যুক্তির দিক থেকেও ভিত্তিহীন।
৭. আল্লাহ তা'আলা মুহাম্মাদ-কে মানুষ থেকেই নির্বাচন করেছেন : আল্লাহ তা'আলা পৃথিবীতে যত নবী ও রাসূল প্রেরণ করেছেন, সকলেই জন্মগতভাবে মানুষ ছিলেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা যখন তাদেরকে নবী ও রাসূল হিসেবে নির্বাচিত করেছেন, তখন থেকে তাঁরা নবী অথবা রাসূল হিসেবে পরিচয় লাভ করেছেন। শেষ নবী মুহাম্মাদ এর ক্ষেত্রেও এমনটি ঘটেছিল। কুরআন মাজীদে তাঁর চরিত্র বর্ণনা করে বলা হয়েছে, لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنْفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُمْ بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ)
অবশ্যই তোমাদের মধ্য হতে তোমাদের নিকট একজন রাসূল এসেছে। তোমাদেরকে যা কষ্ট দেয়, তা তার নিকট কষ্টদায়ক। সে তোমাদের মঙ্গলকামী এবং মুমিনদের প্রতি সে দয়ার্দ্র ও পরম দয়ালু। (সূরা তওবা- ১২৮)
৮. কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ মানবজাতির নেতা হবেন : দুনিয়াতে এমন কিছু বিষয় রয়েছে, যা মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে। কিন্তু কিয়ামতের দিন তা আর গোপন থাকবে না। কেননা সেদিন সকল গোপন বিষয়ই স্পষ্ট হয়ে যাবে। তখন সকলেই তাদের নিজ নিজ ভুলগুলো বুঝতে পারবে। সুতরাং রাসূলুল্লাহ যদি মানুষ না হয়ে মানুষের রূপ ধারণ করে থাকেন, তাহলে সেটাও কিয়ামতের দিন প্রকাশ পেয়ে যাবে। হাদীসে বলা হয়েছে,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ : أَنَا سَيِّدُ وَلَدِ آدَمَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ বলেছেন, আমি কিয়ামতের দিন আদম সন্তানের নেতা হব।
সুতরাং এ কথা স্পষ্ট যে, যিনি কিয়ামতের দিন মাটির তৈরি আদম সন্তানদের নেতা হবেন, তিনি অবশ্যই আদম সন্তানদের মধ্য থেকেই একজন এবং তিনি অবশ্যই মানুষ ছাড়া অন্য কিছু নন।
৯. রাসূলুল্লাহ মানুষের মতোই ভুলে যেতেন : মানুষ শব্দের আরবি প্রতিশব্দ হচ্ছে اَلاِنْسَانُ )ইনসান)। যার অর্থ হচ্ছে, ভুলে যাওয়া। আর কোন কিছু ভুলে যাওয়াটাই মানুষের অন্যতম একটি স্বভাব। অথচ রাসূলুল্লাহ প্রায়ই ভুলে যেতেন। নামাযের রাক'আত ভুলে যাওয়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে রাসূলুল্লাহ বলেন,
إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ أَنْسَى كَمَا تَنْسَوْنَ فَإِذَا نَسِيْتُ فَذَكِّرُونِي আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। তোমরা যেমন ভুলে যাও, আমিও তেমনি ভুলে যাই। অতএব আমি যখন ভুলে যাই, তখন তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিও।
আয়েশা (রাঃ) এর অভিমত : রাসূলুল্লাহ এর পরিচয় সম্পর্কে আয়েশা (রাঃ) এর মন্তব্য রয়েছে। হাদীসে এসেছে,
عَنْ عَائِشَةَ وَقَدْ قِيلَ لَهَا : مَا كَانَ رَسُولُ اللهِ يَعْمَلُ فِي الْ الْبَيْتِ ؟ قَالَتْ كَانَ بَشَرًا مِنَ الْبَشَرِ يَفْلِي ثَوْبَهُ وَيَحْلُبُ شَاتَهُ وَيَخْدُمُ نَفْسَهُ
আয়েশা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, রাসূলুল্লাহ বাড়িতে থাকাকালীন অবস্থায় কী কাজ করতেন? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ ছিলেন মানবজাতির মধ্যে একজন মানব। তিনি তাঁর কাপড় সেলাই করতেন, বকরি দোহন করতেন এবং ব্যক্তিগত কাজ সমাধা করতেন।'
টিকাঃ
১ সহীহ বুখারী, হা/৬৩১৬; সহীহ মুসলিম, হা/১৮২৪; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩১৯৪; মিশকাত, হা/১১৯৫।
সহীহ বুখারী, হা/৪০১; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬০২; মিশকাত, হা/১০১৬।
মুসনাদে আহমাদ, হা/১৯২৬৫; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩০১৭।
* সহীহ মুসলিম, হা/৬০৭৭; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৬৪৭৫; তিরমিযী, হা/৩৬০৬; মুসনাদে আহমাদ, হা/১৬৯৮৭; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হা/১৩৪৫৪; মিশকাত, হা/৫৭৪০।
'সহীহ মুসলিম, হা/৬০৭৯; সহীহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৩৫৪৩; তিরমিযী, হা/৩৬১৫; মুসনাদে আহমাদ, হা/২৩২৯৬; মিশকাত, হা/৫৭৪১।
* সহীহ বুখারী, হা/৪০১; সহীহ মুসলিম, হা/১৩০২; মুসনাদে আহমাদ, হা/৩৬০২; মিশকাত, হা/১০১৬।
* মুসনাদে আহমাদ, হা/২৬১৯৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হা/৫৬৭৫; মিশকাত, হা/৫৮২২।
📄 সাধারণ মানুষ থেকে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর পার্থক্য
রাসূলুল্লাহ ছিলেন অন্যান্য মানুষের মতোই একজন মানুষ। তবে অন্যান্য মানুষ থেকে যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্য তাঁর মধ্যে ছিল সেটি হচ্ছে, তাঁর উপর ওহী নাযিল হতো। এ বৈশিষ্ট্যটি আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাজীদে বর্ণনা করে দিয়েছেন। তিনি বলেন,
قُلْ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ مِثْلُكُمْ يُوحَى إِلَيَّ أَنَّمَا الْهُكُمْ إِلهُ وَاحِدٌ
বলো, আমি তো তোমাদের মতোই একজন মানুষ। আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয়েছে যে, তোমাদের মাবুদ হচ্ছেন একজন। (সূরা কাহফ- ১১০) উল্লেখ্য যে, এ পার্থক্যটি রাসূলুল্লাহ-কে মানুষ হওয়া থেকে পৃথক করে দেয় না; বরং তিনি যে একজন মানুষ- এটাই সাব্যস্ত করে।
📄 ফেরেশতারা নূরের তৈরি
আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা তৈরি করেছেন। তবে তাদের মধ্য থেকে কোন নবী বা রাসূল প্রেরণ করেননি; বরং তিনি কেবল মানবজাতি থেকেই রাসূল প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ لَوْ كَانَ فِي الْأَرْضِ مَلَائِكَةٌ يَمْشُونَ مُطْمَئِنِينَ لَنَزَّلْنَا عَلَيْهِمْ مِنَ السَّمَاءِ مَلَكًا رَسُولًا
বলো, যদি পৃথিবীতে ফেরেশতারা স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করত, তবে আমি আসমান থেকে কোন ফেরেশতাকেই তাদের নিকট রাসূল হিসেবে প্রেরণ করতাম। (সূরা বনী ইসরাঈল- ৯৫) এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতাদেরকে নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেননি। বরং মানবজাতির হেদায়াতের জন্য মানুষকেই নবী ও রাসূল হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আদম (আঃ) থেকে নিয়ে সর্বশেষ নবী মুহাম্মাদ পর্যন্ত সকল নবী ও রাসূল মানুষ ছিলেন। সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন ও আম্বিয়ায়ে কেরামসহ সকল উলামায়ে কেরামের আকীদা-বিশ্বাস এটাই। একথাও সকলে এক বাক্যে স্বীকার করেন যে, নবীকূলের সর্দার মুহাম্মাদ সকল মানবজাতির শ্রেষ্ঠ এবং তার সাথে অন্য কোন মানুষের তুলনা হয় না। তিনি গুণগতভাবে সকল মানবজাতির হেদায়াতের আলো ও সরল পথের দিশারী।