📘 মুহাম্মাদ ﷺ ই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল > 📄 ইবরাহীম (আঃ)-এর বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ

📄 ইবরাহীম (আঃ)-এর বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ


একদা এক লোক মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বলল, হে সৃষ্টির সেরা মানুষ! তখন রাসূল (ছাঃ) বললেন, সে তো ইবরাহীম। তথা সৃষ্টির সেরা মানুষ ইবরাহীম (আঃ)।
ব্যাখ্যা:
প্রথমতঃ যারা রাসূলগণের মাঝে শ্রেষ্ঠত্ব-কে অস্বীকার করেন, তাদেরকে আগে এই হাদীছের জবাব দিতে হবে। কেননা এই হাদীছে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) তাঁর উপর এবং সকল নবীর উপর ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রাধান্যকে মেনে নিচ্ছেন এবং এই হাদীছ একটা বড় দলীল যে, রাসূলগণের মাঝে শ্রেষ্ঠত্বের দিক দিয়ে কমবেশী আছে।
দ্বিতীয়তঃ অত্র হাদীছে ইবরাহীম (আঃ)-কে 'খাইরুল বারিয়‍্যা' বলা হয়েছে, তেমনি অন্য হাদীছে মুহাম্মাদ (ছাঃ) স্বয়ং নিজেকে 'খাইরুল বারিয়‍্যা' বা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি বলেছেন,
عن عبد الله بن مسعود قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يخرج في آخر الزمان قوم أحداث الأسنان سفهاء الأحلام يقرءون القرآن لا يجاوز تراقيهم يقولون من قول خير البرية يمرقون من الدين كما يمرق السهم من الرمية
অর্থাৎ আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, শেষ যামানায় কিছু মানুষ বের হবে যারা হবে অল্প বয়সি বোকা। তাঁরা কুরআন পাঠ করবে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালি অতিক্রম করবেনা। তাঁরা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টির কথা থেকে কথা বলবে তথা মুহাম্মাদ (ছাঃ) এর হাদীছ শুনাবে। তাঁরা দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে যেমন তীর বের হয়ে যায় ধনুক থেকে।
এই হাদীছ থেকে স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) 'খাইরুল বারিয়্যা' তথা সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি।
তৃতীয়তঃ সালাফে ছালেহীন এই হাদীছের দুইভাবে জবাব দিয়েছেন।
১. মানসুখ ২. ভদ্রতা ও সম্মানের জন্য।
মানসুখ: রাসূল (ছাঃ) আগে জানতেন না যে, মহান আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে যেভাবে খলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন, তাকেও সেইভাবে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এটাও জানতেন না যে, তিনি সকল আদম সন্তানের সরদার এবং ইবরাহীম (আঃ) ক্বিয়ামতের মাঠে তাঁর ঝাণ্ডার নীচে হবেন। এও জানতেন না যে, মহান আল্লাহ তাঁর আগের ও পিছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন। এগুলো না জানার কারণে তিনি এই কথা বলেছিলেন। যখন জানতে পারলেন যে, তিনিই শ্রেষ্ঠ, তখন আবার ঐ সমস্ত হাদীছ বলেন যা তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে।
যেমন বিংশ শতাব্দীর মহান মুহাদ্দিস নাছিরুদ্দীন আলবানী (রহঃ) বলেন, وأجاب العلماء عن هذا بأن النبي صلى الله عليه وسلم قال ذلك تواضعاً وهضماً لنفسه، أو أنه قال ذلك قبل أن يوحى إليه بأن الله تعالى اتخذه خليلاً كما اتخذ إبراهيم خليلاً، وأنه سيد الناس يوم القيامة، آدم فمن دونه تحت لوائه - صلى الله عليه وسلم - ، كما جاء في الأحاديث الصحيحة
অর্থাৎ 'আলেমগণ এই হাদীছের দুইভাবে জবাব দিয়েছেন। হয় তিনি এটা সম্মান ও ভদ্রতার খাতিরে বলেছেন বা তিনি এই খবর জানার আগে বলেছেন যে, মহান আল্লাহ ইবরাহীম (আঃ)-কে যেভাবে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছেন তাঁকেও সেভাবেই বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং তিনি ক্বিয়ামতের মাঠে আদম সন্তানের সরদার হবেন এবং আদম (আঃ) সহ সকলেই তাঁর ঝাণ্ডার নীচে হবেন। অনুরূপই ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত।
মানসূখ হওয়ার দলীল হতে পারে এই যে, এই হাদীছ আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন এবং আদম সন্তানের সরদার হওয়ার হাদীছ আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। আর আবু হুরায়রা (রাঃ) অনেক পরে ইসলাম নিয়ে এসেছেন তিনি ৭ম হিজরিতে ইসলাম গ্রহণ করেন। তথা তাঁর বর্ণিত হাদীছগুলো শেষের দিকের হাদীছ।
রাসূল (ছাঃ) আসলে ভদ্রতার কারণে অন্য কাউকে তাঁর সামনে তাঁর প্রশংসা করতে দিতেন না। এই জন্যই তিনি যখনই তাঁর সম্মানের কথা জনগণের সামনে জানিয়েছেন তখনই বলেছেন, 'ওলা ফাখরা' তথা আমি এই কথা গর্ব করতে বলছি না। বরং তোমাদেরকে দ্বীনের একটা বিষয় জানানোর জন্য বলছি, যেন তোমরা তার উপর ঈমান আন।
অবশ্য এই হাদীছ মানসূখ হলেও এই হাদীছই দলীল যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর পরে সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল ও মানব হচ্ছেন ইবরাহীম (আঃ)। যেমন শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহঃ) বলেন,
فَإِبْرَاهِيمُ أَفْضَلُ الْخَلْقِ bعْدَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থাৎ 'ইবরাহিম (আঃ) মুহাম্মাদ (ছাঃ) এর পর সৃষ্টির সেরা'।
উল্লেখ্য যে, ইবরাহীম (আঃ)-এর শানে বর্ণিত অত্র হাদীছ ছাড়া আর যত হাদীছ বিভিন্ন নবী ও মানুষের ক্ষেত্রে বর্ণিত হয়েছে, যেমন আলী (রাঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ মানব সেগুলো সবই শী'আ ও বাতিল ফিরকাগুলোর বানোয়াট হাদীছ।

টিকাঃ
৭৯. দেখুন মুসলিম, 'ইবরাহীম (আঃ)-এর ফযীলত' অধ্যায়।
৮০. দেখুন, বুখারী 'আলামাতে نবুয়াত' অধ্যায়, হা/৩৪১৫, তিরমিযী হা/২১৮৮।
৮১. সিলসিলা ছহীহাহ হা/৩৩৪৪।
৮২. দেখুন মাজমুউ ফাতাওয়া ১৭/৪৮৩।

📘 মুহাম্মাদ ﷺ ই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল > 📄 সতর্কীকরণ

📄 সতর্কীকরণ


রাসূল (ছাঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। কিন্তু তিনি মানবতার উর্ধ্বে নন। তিনি নূরের তৈরি নন এবং তিনি গায়েবের খবর জানতেন না। তাঁর কাছে প্রার্থনা করা শিরক।

রাসূল (ছাঃ) সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ। কিন্তু তিনি মানবতার উর্ধ্বে নন। তিনি নূরের তৈরি নন এবং তিনি গায়েবের খবর জানতেন না। তাঁর কাছে প্রার্থনা করা শিরক।

📘 মুহাম্মাদ ﷺ ই সর্বশ্রেষ্ঠ রাসূল > 📄 উপসংহার

📄 উপসংহার


পরিশেষে বলতে চাই যে, সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও হাদীছ না বুঝলে যে মানুষ পথভ্রষ্ট হতে বাধ্য তাঁর একটা জ্বলন্ত উদাহরণ এই মাসআলা। অতএব আসুন আমরা আমাদের শ্লোগান পাল্টাই। আসুন! পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন গড়ি অথবা আসুন! পবিত্র কুরআন ও হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি অথবা আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি ইত্যাদি সব আহব্বানেই কিছুটা হলেও ত্রুটি আছে। সঠিক ও সত্যের আহ্বান হচ্ছে আসুন! আমরা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সালাফে ছালেহীন-এর বুঝ অনুযায়ী মানি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!!
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
সমাপ্ত

পরিশেষে বলতে চাই যে, সালাফে ছালেহীনের বুঝ অনুযায়ী কুরআন ও হাদীছ না বুঝলে যে মানুষ পথভ্রষ্ট হতে বাধ্য তাঁর একটা জ্বলন্ত উদাহরণ এই মাসআলা। অতএব আসুন আমরা আমাদের শ্লোগান পাল্টাই। আসুন! পবিত্র কুরআনের আলোকে জীবন গড়ি অথবা আসুন! পবিত্র কুরআন ও হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি অথবা আসুন! পবিত্র কুরআন ও ছহীহ হাদীছের আলোকে জীবন গড়ি ইত্যাদি সব আহব্বানেই কিছুটা হলেও ত্রুটি আছে। সঠিক ও সত্যের আহ্বান হচ্ছে আসুন! আমরা কুরআন ও ছহীহ হাদীছ সালাফে ছালেহীন-এর বুঝ অনুযায়ী মানি। আল্লাহ আমাদের তাওফীক্ব দান করুন- আমীন!!
سُبْحَانَكَ اللَّهُمَّ وَبِحَمْدِكَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.
সমাপ্ত

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00