📄 রাসূল (ছাঃ)-এর নামে কসম
মহান আল্লাহ দুনিয়ার কোন মানুষের নামে কসম খাননি একমাত্র আমাদের রাসূল ব্যতীত। তিনি বলেন,
لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ .
অর্থ্যাৎ 'আপনার জীবনের কসম! নিশ্চয় তারা আনন্দ উল্লাসে মত্ত রয়েছে'। এই আয়াতের তাফসীরে ইমাম ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,
أقسم تعالى بحياة نبيه صلوات الله وسلامه عليه، وفي هذا تشريف عظيم، ومقام رفيع وجاه عريض.
অর্থাৎ 'আল্লাহ তাঁর নবীর জীবনের কসম করেছেন। আর এই কসমের মধ্যে রয়েছে মহান সম্মান, উঁচু স্থান এবং অসামান্য খ্যাতি'।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قال عمرو بن مالك التكري عن أبي الجوزاء، عن ابن عباس، أنه قال: ما خلق الله وما ذرأ وما برأ نفسًا أكرم عليه من محمد صلى الله عليه وسلم، وما سمعت الله أقسم بحياة أحد غيره، قال الله تعالى: { لَعَمْرُكَ إِنَّهُمْ لَفِي سَكْرَتِهِمْ يَعْمَهُونَ.
অর্থাৎ 'আল্লাহ এমন কিছু সৃষ্টি করেননি, যা মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ। আর আমি আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস মহান আল্লাহকে আর কারো হায়াত নিয়ে [কুরআনে] কসম খেতে শুনিনি একমাত্র মুহাম্মাদ (ছাঃ) ব্যতীত। যেমন মহান আল্লাহ বলেন, 'আপনার জীবনের কসম! তারা আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে'।
আবুবকর আদ-দিনোয়ারী (রহঃ) তার المجالسة وجواهر العلم বইয়ে এই সানাদকে 'হাসান' বলেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ)-এর এই কথা প্রমাণ করে যে, মহান আল্লাহ্র মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নামে শপথ করা তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ হওয়ার দলীল। সাথে সাথে ছাহাবীগণ যে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে আল্লাহর শ্রেষ্ঠ মাখলুক হিসাবে বিশ্বাস করতেন তাও প্রমাণিত হয়।
টিকাঃ
১২. সূরা হিজর, আয়াত নং-৭২।
১৩. তাফসীর ইবনু কাছীর, সূরা হিজর-এর ৭২ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।
১৪. দেখুন: আল'মুজালাসাতু ও জাওয়াহিরুল ইলম, দারু ইবনু হাজাম ১/৫৪৩ পৃঃ, হা/২৫২৭।
📄 সকল নবীর নিকট শপথ গ্রহণ
মহান আল্লাহ বলেন,
إِذْ أَخَذَ الله مِيثَاقَ النَّبِيِّينَ لَمَا آتَيْتُكُمْ مِنْ kjit وَحِكْمَةٍ ثُمَّ جَاءَكُمْ رَسُولُ مُصَدِّقُ لِمَا مَعَكُمْ لَتُؤْمِنُنَّ بِهِ وَلَتَنْصُرَنَّهُ قَالَ أَأَقْرَرْتُمْ وَأَخَذْتُمْ عَلَى ذَلِكُمْ إِصْرِي قَالُوا أَقْرَرْنَا قَالَ فَاشْهَدُوا وَأَنَا مَعَكُمْ مِنَ الشَّاهِدِينَ .
অর্থাৎ 'আর যখন মহান আল্লাহ সকল নবীর শপথ নিলেন, আমি তোমাদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি। অতঃপর যখন আমার পক্ষ থেকে তোমাদের নিকটে রাসূল আসবেন। তোমাদের কাছে যা আছে তার সত্যায়ন করবেন। তখন অবশ্যই তোমরা তার উপর ঈমান আনবে এবং তাকে সাহায্য করবে। আল্লাহ নবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেন, তোমরা কি স্বীকৃতি দিলে এবং এই কথা মানার অঙ্গীকার করলে? তখন সকল নবী বললেন, আমরা স্বীকৃতি দিলাম। আল্লাহ বললেন, তোমরা সাক্ষী থাক এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষী থাকলাম' (আলে ইমরান ৩/৮১)।
ইবনু কাছীর (রহঃ) অত্র আয়াতের তাফসীরে বলেন,
فالرسول محمد خاتم الأنبياء صلوات الله وسلامه عليه، دائما إلى يوم الدين، وهو الإمام الأعظم الذي لو وجد في أي عصر وجد لكان هو الواجب الطاعة المقدم على الأنبياء كلهم؛ ولهذا كان إمامهم ليلة الإسراء لما اجتمعوا ببيت المقدس، وكذلك هو الشفيع في يوم الحشر في إتيان الرب لفصل القضاء، وهو المقام المحمود الذي لا يليق إلا له
'আর মুহাম্মাদ তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক ক্বিয়মাত পর্যন্ত। তিনিই হচ্ছেন মহান ইমাম। যদি তাঁকে কোন যুগে পাওয়া যায়, তাহলে সকল নবীর উপর তাঁর আনুগত্য করা যরূরী হবে। এই জন্য তিনিই তো মে'রাজের রাত্রে তাদের ইমাম ছিলেন, যখন তারা বায়তুল মাক্বদিসে একত্রিত হয়েছিলেন। অনুরূপ তিনিই হাশরের ময়দানে আল্লাহ্র নিকট বিচার শুরু করার সুফারিশ করবেন। আর এটাই মাক্বামাম মাহমূদ, যা তিনি ব্যতীত কারো জন্য শোভা পায় না।
সুতরাং এই আয়াত স্পষ্ট প্রমাণ করছে যে, মুহম্মাদ (ছাঃ)-এর উপর ঈমান নিয়ে আসার জন্য সকল রাসূলের শপথ নেয়াটা মুহম্মাদ (ছাঃ)-এর সকল রাসূলের উপর শ্রেষ্ঠ হওয়ার প্রমাণ বহন করে।
টিকাঃ
১৫. দেখুন : তাফসীরে ইবনু কাছীর, সূরা আলে ইমরান ৮১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।