📄 কবর ও কিয়ামাতের ব্যাপারে পূর্বসূরীদের উক্তি
কবরের শাস্তির সত্যতা প্রসঙ্গে পূর্বসূরীগণের-আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন-যেসব বক্তব্য আমার কাছে পৌঁছেছে, এবং তাঁরা কবর ও কিয়ামাতের বিভীষিকাকে যেভাবে ভয় করতেন (তা নিচে তুলে ধরা হলো):
[১৮৮] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلْتُ عَلَى عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ حِينَ طُعِنَ فَقُلْتُ أَبْشِرْ بِالْجَنَّةِ يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَسْلَمْتَ حِينَ كَفَرَ النَّاسُ وَجَاهَدْتَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَذَلَهُ النَّاسُ وَقُبِضَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ عَنْكَ رَاضٍ وَلَمْ يَخْتَلِفُ فِي خِلَافَتِكَ اثْنَانِ وَقُتِلَتْ شَهِيدًا فَقَالَ أَعِدْ عَلَى فَأَعَدْتُ عَلَيْهِ فَقَالَ وَاللَّهِ الَّذِي لَا إِلَهَ غَيْرُهُ لَوْ أَنَّ لِي مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ صَفْرَاءَ وَبَيْضَاءَ لَا فَتَدَيْتُ بِهِ مِنْ هَوْلِ الْمُطَّلَعِ
'ছুরিকাহত হওয়ার পর, আমি উমার ইবনুল খাত্তাব-এর কক্ষে প্রবেশ করে বলি, "সুসংবাদ নিন, হে আমীরুল মুমিনীন! মানুষ যখন কুফরিতে (অবাধ্যতায়) লিপ্ত ছিল, তখন আপনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন; আপনি আল্লাহর রাসূল-এর সঙ্গে থেকে লড়াই করেছেন, লোকজন যখন তাঁকে পরিহার করেছে; আল্লাহর রাসূল এমন সময় ইন্তেকাল করেছেন, যখন তিনি ছিলেন আপনার উপর সন্তুষ্ট; দু'জন ব্যক্তিও আপনার খিলাফাতের বিরোধিতা করেনি; আর (এখন) আপনি শহীদ অবস্থায় ইন্তেকাল করছেন! উমার বলেন, 'আমাকে কথাগুলো পুনরাবৃত্তি করে শোনাও।' আমি তাকে পুনরাবৃত্তি করে শোনাই। এরপর তিনি বলেন, "শপথ ওই সত্তার, যিনি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই! আমি যদি পৃথিবীর সকল হলুদ ও শ্বেত সম্পদের (অর্থাৎ সোনা-রূপার) মালিক হতাম, তাহলে কবর ও কিয়ামাতের বিভীষিকা থেকে বাঁচার জন্য সব দিয়ে দিতাম!"'
[১৮৯] উসমান এর আযাদকৃত দাস হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ عُثْمَانُ بْنُ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلُّ لِحْيَتَهُ فَيُقَالُ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا قَالَ فَقَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَمَنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَمَنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَشَدُّ مِنْهُ قَالَ فَقَالَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ
'উসমান ইবনু আফ্ফান রাদিয়াল্লাহু আনহু কোনও কবরের সামনে দাঁড়ালে এত বেশি কাঁদতেন যে, তাতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, 'আপনার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করা হয়, তখন আপনি কাঁদেন না, আর এতে কাঁদছেন!' তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। এখানে মুক্তি পেলে, পরের ধাপগুলো এর চেয়ে সহজ; আর এখানে মুক্তি না পেলে, পরের ধাপগুলো আরও কঠিন।” উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, “আমি যেসব দৃশ্য দেখেছি, তার মধ্যে কবরের দৃশ্য সবচেয়ে ভয়ংকর" [১]
ثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ ثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْمَدِينِيُّ فَذَكَرَهُ بِإِسْنَادِهِ نَحْوَهُ [১১১০] إِلَّا أَنَّهُ قَالَ فِي آخِرِهِ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَالْقَبْرُ أَفْظَعُ مِنْهُ لَمْ يَذْكُرْهُ عَنْ عُثْمَانَ وَرَوَاهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ عَنْ هِشَامٍ فَذَكَرَهُ فِي قَوْلِ الرَّسُوْلِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
আলি ইবনু আব্দিল্লাহ মাদীনি -এর নিজস্ব সনদের বরাতে আহমাদ ইবনু হাম্বাল অনুরূপ একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি সেখানে শেষের দিকের বাক্য “আমি যেসব দৃশ্য দেখেছি, তার মধ্যে কবরের দৃশ্য সবচেয়ে ভয়ংকর”-কে উসমান রাদিয়াল্লাহু আনহু -এর কথা হিসেবে উল্লেখ করেননি। হিশামের বরাতে ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাতে তিনি সেটিকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কথার মধ্যে উল্লেখ করেছেন। [২]
[১৯১] আলি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَا زِلْنَا نَشُكُ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ حَتَّى نَزَلَتْ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ
أَلْهَاكُمُ التَّكَاثُرُ * حَتَّى زُرْتُمُ الْمَقَابِرَ * كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ * ثُمَّ كَلَّا سَوْفَ تَعْلَمُونَ * كَلَّا لَوْ تَعْلَمُونَ عِلْمَ الْيَقِينِ * لَتَرَوُنَّ الْجَحِيمَ ثُمَّ لَتَرَوُنَّهَا عَيْنَ الْيَقِينِ * ثُمَّ لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ * فَقَدْ رُوِّينَا فِي الثَّابِتِ عَنْ عَلِي عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي دُعَابِهِ عَلَى الْمُشْرِكِينَ يَوْمَ الْأَحْزَابِ بِعَذَابِ الْقَبْرِ
'কবরের শাস্তি সম্পর্কে আমাদের মনে নিরন্তর সংশয় কাজ করছিল। পরিশেষে নাযিল হলো:
পরম করুণাময় ও দয়ালু আল্লাহর নামে "বেশি বেশি, এবং একে অপরের থেকে বেশি, দুনিয়ার স্বার্থ লাভের মোহ তোমাদেরকে গাফলতির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এমনকি (এই চিন্তায় আচ্ছন্ন হয়ে) তোমরা কবর পর্যন্ত পৌঁছে যাও। কখনোই না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। আবার (শুনে নাও) কখনোই না, শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে। কখনোই না, যদি তোমরা নিশ্চিত জ্ঞানের ভিত্তিতে (এই আচরণের পরিণাম) জানতে, (তাহলে তোমরা এ ধরনের কাজ করতে না)। তোমরা জাহান্নাম দেখবেই। আবার (শুনে নাও) তোমরা একেবারে নিশ্চিতভাবে তা দেখবেই। তারপর সেদিন তোমাদের এই নিয়ামতগুলো সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।”
(সূরা আত-তাকাসুর ১০২:১-৮) [১]
'মুশরিকদের কবরে শাস্তি দেওয়ার জন্য নবি আহ্যাব যুদ্ধের দিন (আল্লাহর কাছে) দুআ করেছিলেন।'-এ বিষয়ে আলি-এর বর্ণনা আমরা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করেছি।
[১৯২] ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, إِنَّ أَحَدَكُمْ لِيُجْلَسُ فِي قَبْرِهِ إِجْلَاسًا فَيُقَالُ لَهُ مَا أَنْتَ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ أَنَا عَبْدُ اللَّهِ حَيًّا وَمَيْتًا أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَا شَاءَ اللَّهُ فَيَرَى مَكَانَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُنَزَّلُ عَلَيْهِ كِسْوَةٌ يَلْبَسُهَا مِنَ الْجَنَّةِ
وَأَمَّا الْكَافِرُ فَيُقَالُ لَهُ مَا أَنْتَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِى فَيُقَالُ لَهُ لَا دَرَيْتَ ثَلَاثًا فَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ أَوْ تَتَمَاسَّ أَضْلَاعُهُ وَيُرْسَلُ عَلَيْهِ حَيَّاتٌ مِنْ جَوَانِبِ قَبْرِهِ يَنْهَشْنَهُ وَيَأْكُلْنَهُ فَإِذَا جَزَعَ فَصَاحَ قُمِعَ بِمَقْمَعٍ مِنْ نَارٍ مِنْ حَدِيدٍ
'তোমাদের কেউ (মারা গেলে) তাকে কবরে ভালোভাবে বসানো হবে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'তুমি কী?' মুমিন হলে সে বলবে, 'আমি জীবিত ও মৃত উভয়াবস্থায় আল্লাহর গোলাম। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আমি (আরও) সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ তাঁর গোলাম ও বার্তাবাহক।' তখন তার কবরটিকে আল্লাহ যতটুকু চাইবেন ততটুকু প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। এরপর জান্নাতে সে তার আবাস দেখতে পাবে। তার পরিধানের জন্য জান্নাত থেকে পোশাক আনা হবে।
আর কাফিরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'তুমি কী?' সে বলবে, 'আমি জানি না।' তখন তাকে তিনবার বলা হবে, 'তুমি তো তোমার অনুধাবনশক্তিকে কাজে লাগাওনি!' তারপর তার কবরটিকে তার জন্য এতটা সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে, অথবা একটির সাথে আরেকটি মিলে যাবে। তার কবরের বিভিন্ন দিক থেকে তার উপর অনেকগুলো সাপ লেলিয়ে দেওয়া হবে। সেগুলো তাকে ছোবল মারবে ও কাটবে। ভয়ে জোরে চিৎকার দিলে, তাকে আগুনে উত্তপ্ত লৌহদণ্ড দিয়ে চেপে ধরা হবে।'
[১৯৩] আবূ মূসা আশআরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
'তোমরা আমার কবর গভীর করে খনন কোরো।'
[১৯৪] আবূ মূসা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, أَعْمِقُوا لِي قَبْرِي
تَخْرُجُ نَفْسُ الْمُؤْمِن وَهِيَ أَطْيَبُ رِيحًا مِنَ الْمِسْكِ قَالَ فَتَصْعَدُ بِهَا الْمَلَائِكَةُ الَّذِينَ يَتَوَفَّوْنَهَا فَتَلَقَّاهُمُ الْمَلَائِكَةُ دُونَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ مَنْ هَذَا مَعَكُمْ فَيَقُولُونَ فُلَانٌ وَيَذْكُرُونَهُ بِأَحْسَنِ عَمَلِهِ فَيَقُولُونَ حَيَّاكُمُ اللَّهُ وَحَيَّا مَنْ مَعَكُمْ قَالَ فَتُفْتَحُ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَيُشْرِقُ وَجْهُهُ قَالَ فَيَأْتِي الرَّبَّ تَعَالَى وَوَجْهُهُ بُرْهَانٌ مِثْلُ الشَّمْسِ قَالَ
وَأَمَّا الْآخَرُ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ وَهِيَ أَنْتَنُ مِنَ الْجِيفَةِ فَتَصْعَدُ بِهَا الْمَلَائِكَةُ الَّذِينَ يَتَوَفَّوْنَهَا فَتَلَقَّاهُمْ مَلَائِكَةُ دُونَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ مَنْ هَذَا مَعَكُمْ فَيَقُولُونَ فُلَانٌ وَيَذْكُرُونَهُ بِأَسْوَا عَمَلِهِ قَالَ فَيَقُولُونَ رُدُّوهُ رُدُّوهُ فَمَا ظَلَمَهُ اللَّهُ شَيْئًا فَقَرَأَ أَبُو مُوسَى رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ
إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّى يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ لَهُم مِّن جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِن فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
'(মৃত্যুর সময়) মুমিনের আত্মা (দেহ থেকে) বেরিয়ে যায়। তা থেকে মেশকের চেয়ে উত্তম ঘ্রাণ বেরোয়। মৃত্যু কার্যকরকারী ফেরেশতারা তা নিয়ে উপরে উঠে। আকাশের নিচে তাদের সাথে একদল ফেরেশতার সাক্ষাৎ হয়। তারা বলে, 'তোমাদের সঙ্গে এ ব্যক্তি কে?' তারা বলে, 'অমুক।' তারা তাকে তার কৃত সর্বোত্তম কাজ সহকারে উল্লেখ করে। জবাবে তারা বলে, 'অভিনন্দন তোমাদের! অভিনন্দন তোমাদের সঙ্গে থাকা লোকটিকে!' তার জন্য আকাশের দরজাসমূহ খুলে দেওয়া হয়। তার চেহারা উজ্জ্বল হয়ে উঠে। এরপর সে আল্লাহ তাআলার কাছে হাজির হয়। তখন তার চেহারা থাকে সূর্যের ন্যায় উজ্জ্বল।
আর অপর ব্যক্তির (অর্থাৎ কাফিরের) আত্মা বেরিয়ে যায়; তা থেকে সবচেয়ে বাজে গন্ধ আসতে থাকে। মৃত্যু কার্যকরকারী ফেরেশতারা তা নিয়ে উপরে উঠে। আকাশের নিচে তাদের সাথে একদল ফেরেশতার সাক্ষাৎ হয়। তারা বলে, 'তোমাদের সঙ্গে এ ব্যক্তি কে?' তারা বলে, 'অমুক।' তারা তাকে তার কৃত সর্বনিকৃষ্ট কাজ সহকারে উল্লেখ করে। জবাবে তারা বলে, 'তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও! তাকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও! আল্লাহ তার উপর একটুও যুলুম করেননি (বরং সে নিজেই নিজের উপর জুলুম করেছে)।' এরপর আবূ মূসা পাঠ করেন: "নিশ্চিতভাবে জেনে রেখো, যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছে এবং এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে, তাদের জন্য কখনও আকাশের দরজা খোলা হবে না। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না সুইয়ের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করছে! আর এভাবেই আমি অপরাধীদের বদলা দিয়ে থাকি। তাদের জন্য বিছানাও হবে জাহান্নামের এবং ওপরের আচ্ছাদনও হবে জাহান্নামের। জালিমদের প্রতিফল আমি এভাবেই দিয়ে থাকি।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭:৪০)'
[১৯৫] উমাইর ইবনু সালামা বলেন,
جَاءَ رَجُلٌ إِلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَهُوَ مَرِيضٌ فَقَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنَّكَ قَدْ أَصْبَحْتَ عَلَى جَنَاحٍ فِرَاقِ الدُّنْيَا فَمُرْنِي بِأَمْرٍ يَنْفَعُنِي اللَّهُ بِهِ وَأَذْكُرُكَ بِهِ فَقَالَ إِنَّكَ بَيْنَ أُمَّةٍ مُعَافَاةٍ فَأَقِمِ الصَّلَاةَ وَأَدِ زَكَاةَ مَالِكَ إِنْ كَانَ لَكَ وَصُمْ رَمَضَانَ وَاجْتَنِبِ الْفَوَاحِشَ ثُمَّ أَبْشِرْ
فَأَعَادَ الرَّجُلُ عَلَى أَبِي الدَّرْدَاءِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَقَالَ أَبُو الدَّرْدَاءِ اجْلِسُ ثُمَّ اعْقِلْ مَا أَقُولُ لَكَ أَيْنَ أَنْتَ مِنْ يَوْمٍ لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَرْضِ إِلَّا عَرْضَ ذِرَاعَيْنِ فِي طُولِ أَرْبَعَةِ أَذْرُعٍ أَقْبَلَ بِكَ أَهْلُكَ الَّذِينَ كَانُوا لَا يُحِبُّونَ فِرَاقَكَ وَجُلُسَاؤُكَ وَإِخْوَانُكَ فَأَتْقَنُوا عَلَيْكَ الْبُنْيَانَ ثُمَّ أَكْثَرُوا عَلَيْكَ التَّرَابَ ثُمَّ تَرَكُوكَ ثُمَّ جَاءَكَ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ جَعْدَانِ أَسْمَاؤُهُمَا مُنْكَرُ وَنَكِيرُ فَأَجْلَسَاكَ ثُمَّ سَأَلَاكَ مَا أَنْتَ أَمْ عَلَى مَاذَا كُنْتَ أَمْ مَاذَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَإِنْ قُلْتَ وَاللَّهِ مَا أَدْرِى سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا قَوْلًا فَقُلْتُ قَوْلَ النَّاسِ فَقَدْ وَاللَّهِ رَدِيتَ وَهَوِيتَ فَإِنْ قُلْتَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ أَنْزَلَ عَلَيْهِ كِتَابَهُ فَآمَنْتُ بِهِ وَبِمَا جَاءَ مَعَهُ فَقَدْ وَاللَّهِ نَجَوْتَ وَهُدِيتَ وَلَنْ تَسْتَطِيعَ ذَلِكَ إِلَّا بِتَثْبِيتٍ مِنَ اللَّهِ تَعَالَى مَعَ مَا تَرَى مِنَ الشَّدَّةِ وَالتَّخْوِيفِ
'এক লোক আবুদ দারদা-এর নিকট আসে। তখন তিনি অসুস্থ। লোকটি বলে, 'আবুদ দারদা, আপনি তো দুনিয়া থেকে বিদায় নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছেন। অতএব, আমাকে এমন একটি কাজের নির্দেশ দিন, যার বদৌলতে আল্লাহ আমাকে কল্যাণ দেবেন, এবং যার মাধ্যমে আমি আপনাকে স্মরণ রাখব।' জবাবে তিনি বলেন, 'তুমি এমন এক উম্মাহর অন্তর্ভুক্ত যাদেরকে ক্ষমার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে; ১। সুতরাং সালাত কায়েম কোরো, সম্পদ থাকলে তার যাকাত আদায় কোরো, রমাদান মাসে সিয়াম পালন কোরো এবং যাবতীয় অশ্লীল কাজ পরিহার কোরো; এরপর সুসংবাদ লও!'
লোকটি পুনরায় অনুরোধ করলে আবুদ দারদা বলেন, 'বসো! আমি যা বলি, অনুধাবন করার চেষ্টা করো! ওই দিনের ব্যাপারে তোমার কী প্রস্তুতি, যেদিন দু' হাত প্রস্থ ও চার হাত দীর্ঘ একটু ভূমি ছাড়া তোমার আর কোনও ভূমি থাকবে না? তোমার পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথী ও ভাইয়েরা—যারা কখনও তোমার বিচ্ছেদকে পছন্দ করত না—তোমার দিকে এগিয়ে আসবে; তোমার উপর একটি কাঠামো স্থাপন করবে; তোমার উপর বিপুল পরিমাণ মাটি রাখবে; তারপর তোমাকে ছেড়ে চলে আসবে! তারপর তোমার কাছে আসবে দুজন ফেরেশতা; কালো ও নীল বর্ণের; কোঁকড়ানো চুলবিশিষ্ট; তাদের নাম মুনকার ও নাকীর। তারা তোমাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, 'তুমি কী? তুমি কীসের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলে? এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো?' শপথ আল্লাহর, জবাবে তুমি যদি বলো 'আমি জানি না। লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছিলাম, আর আমিও লোকদের ওই কথাই বলেছি', তাহলে, শপথ আল্লাহর, তোমার পতন ও ধ্বংস অনিবার্য! আর যদি বলো ‘(ইনি হলেন) আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ; আল্লাহ তাঁর উপর কিতাব নাযিল করেছেন; আমি ওই কিতাব এবং এর সাথে তিনি যা যা নিয়ে এসেছেন সেসবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি', তাহলে, শপথ আল্লাহর, তুমি মুক্তি পেয়ে গেলে! তুমি সঠিক পথের দিশা পেয়ে গেলে! পরিস্থিতির কাঠিন্য ও ভয়াবহতা দেখার পর, তুমি ওই (প্রশ্নসমূহের সঠিক) জবাব দিতে পারবে না, যদি না আল্লাহ তাআলা তোমাকে শক্তি যোগান।''
[১৯৬] আবূ হুরায়রা-এর বরাতে সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব থেকে বর্ণিত,
أَنَّهُ صَلَّى عَلَى مَنْفُوسٍ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ إِنِّي أُعِيذُهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'কু-দৃষ্টির ফলে মারা-যাওয়া এক ব্যক্তির জানাযা পড়িয়ে, তিনি বলেন, "হে আল্লাহ, কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদ রাখার জন্য আমি তাকে তোমার আশ্রয়ে দিয়ে দিচ্ছি।” [১]
[১৯৭] আবদুল্লাহ ইবনু আবী মুলাইকা বলেন, سَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ إِنَّ الْكَافِرَ يُسَلَّطُ عَلَيْهِ فِي قَبْرِهِ شُجَاعٌ أَقْرَعُ فَيَأْكُلُ لَحْمَهُ مِنْ رَأْسِهِ إِلَى رِجْلِهِ ثُمَّ يُكْسَى اللَّحْمُ فَيَأْكُلُ مِنْ رِجْلِهِ إِلَى رَأْسِهِ فَهُوَ كَذَالِكَ
'আমি আয়িশা-কে বলতে শুনেছি, "কাফিরের কবরে একটি বিশেষ প্রকৃতির সাপ লেলিয়ে দেওয়া হবে, যা তার মাথা থেকে পা পর্যন্ত মাংসগুলো দংশন করবে, [২] তারপর মাংস দিয়ে আচ্ছাদিত করে দেওয়া হলে, ওই সাপ তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দংশন করবে/ খাবে। অতঃপর সে আবার আগের মত হয়ে যাবে।”'
[১৯৮] আসমা বিন্তু আবী বাকর-এর আযাদকৃত দাসী উম্মু খারিজা থেকে বর্ণিত, أَنَّهَا حَضَرَتِ امْرَأَةً تَمُوتُ فَجَعَلَتْ تَقُولُ لَهَا إِنَّكِ تُسْأَلِينَ عَنْ رَبِّكِ وَعَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَجَعَلَتْ تُثَبِّتُهَا
'আসমা এক মুমূর্ষু নারীর কাছে হাজির হয়ে বলতে থাকেন, "তোমাকে (কবরে) তোমার রব ও নবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।” তারপর তিনি তার মনোবল বাড়াতে থাকেন।'
[১৯৯] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, فِي قَوْلِهِ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ
قَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ شهدته الملايككَةُ يُسَلِّمُونَ عَلَيْهِ وَيُبَشِّرُونَهُ بِالْجَنَّةِ فَإِذَا مَاتَ مَشَوْا مَعَ جِنَازَتِهِ ثُمَّ صَلُّوا عَلَيْهِ مَعَ النَّاسِ فَإِذَا دُفِنَ أَجْلِسَ فِي قَبْرِهِ فَيُقَالُ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللهُ وَيُقَالُ لَهُ مَنْ رَسُولُكَ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُقَالُ لَهُ مَا شَهَادَتُكَ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنْ لَا أَلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيُوسَعُ لَهُ قَبْرُهُ مَدَّ بَصَرِهِ
وَأَمَّا الْكَافِرُ فَتَنْزِلُ الْمَلَائِكَةُ فَيَبْسُطُونَ أَيْدِيهِمْ وَالْبَسْطُ هُوَ الضَّرْبُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ عِنْدَ الْمَوْتِ فَإِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُقْعِدَ فَقِيلَ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَلَمْ يُرْجِعْ إِلَيْهِمْ شَيْئًا وَأَنْسَاهُ اللَّهُ ذِكْرَ ذَلِكَ وَإِذَا قِيلَ لَهُ مَنْ رَسُولُكَ الَّذِي بُعِثَ إِلَيْكَ لَمْ يَهْتَدِ لَهُ وَلَمْ يُرْجِعْ إِلَيْهِمْ شَيْئًا يَقُولُ اللَّهُ كَذَلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ الْكَافِرِينَ
আল্লাহ তাআলা বলেন, "যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন; আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।”
(সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) উপরিউক্ত আয়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'মুমিনের মৃত্যু হাজির হলে, ফেরেশতারা তার কাছে এসে তাকে সালাম ও জান্নাতের সুসংবাদ দেয়। মৃত্যু সংঘটিত হওয়ার পর, তারা তার জানাযার সাথে সাথে যায় এবং লোকদের সাথে জানাযার সালাত আদায় করে। দাফনের পর তাকে তার কবরে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'তোমার রব কে?' সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'তোমার রাসূল কে?' সে বলে, 'মুহাম্মাদ।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'তোমার সাক্ষ্য কী?' সে বলে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর দাস ও বার্তাবাহক।' এরপর দৃষ্টি যতদূর যায়, কবরটি তার জন্য ততদূর পর্যন্ত প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
আর কাফিরের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা নেমে আসে। তারা নিজেদের হাত বাড়িয়ে দেয়। হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অর্থ হলো মারধর করা। (কাফিরদের) মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা তাদের চেহারা ও পশ্চাদদেশে আঘাত করে। কবরে প্রবেশ করার পর তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'তোমার রব কে?' সে তাদের কোনও জবাব দেয় না। আল্লাহ তাকে ওই জবাব ভুলিয়ে দেন। আর যখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, 'তোমার রাসূল কে, যাঁকে তোমার কাছে পাঠানো হয়েছিল', সে সঠিক জবাব খুঁজে পায় না, তাই তাদের কোনও জবাব দেয় না। আল্লাহ বলেন, "আল্লাহ এভাবেই কাফিরদের পথভোলা করে দেন।” (সূরা গাফির/ আল-মুমিন ৪০:৭৪)'
[২০০] আবদুল্লাহ ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, بَيْنَا أَنَا صَادِرٌ عَنْ غَزْوَةِ الْأَبْوَاءِ إِذْ مَرَرْتُ بِقُبُورٍ فَخَرَجَ عَلَى رَجُلٌ مِنْ قَبْرٍ يَلْتَهِبُ نَارًا وَفِي عُنُقِهِ سِلْسِلَةٌ يَجُرُّهَا وَهُوَ يَقُولُ يَا عَبْدُ اللَّهِ اسْقِنِي سَقَاكَ اللَّهُ قَالَ فَوَاللَّهِ مَا أَدْرِي بِاسْمِي يَدْعُونِي أَوْ كَمَا يَقُولُ الرَّجُلُ لِلرَّجُلِ يَا عَبْدَ اللَّهِ إِذْ خَرَجَ عَلَى أَثَرِهِ أَسْوَدُ بِيَدِهِ ضِعْتُ مِنْ شَوْكٍ وَهُوَ يَقُولُ يَا عَبْدَ اللَّهِ لَا تَسْقِهِ فَإِنَّهُ كَافِرُ فَأَدْرَكَهُ فَأَخَذَ بِطَرَفِ السِّلْسِلَةِ ثُمَّ ضَرَبَهُ بِذَلِكَ الضَّغْثِ ثُمَّ اقْتَحَمَا فِي الْقَبْرِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِمَا حَتَّى الْتَأَمَ عَلَيْهِمَا
'আমি গাযওয়াতুল আবওয়া থেকে বেরিয়ে আসছি। কিছু কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময়, একটি কবর থেকে এক লোক বেরিয়ে আসে। তার শরীরে আগুন জ্বলছে। কাঁধে একটি শিকল, যা সে টেনে বেড়াচ্ছে। সে বলে, 'আবদুল্লাহ, আমাকে পানি পান করাও, আল্লাহ তোমাকে পানি পান করাবেন।' শপথ আল্লাহর! সে আমার নাম ধরে ডাকছে, নাকি এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে যেভাবে আবদুল্লাহ বলে ডাকে, ওরকম কিছু একটা-আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। এমন সময় তার পেছনে পেছনে এক কালো ব্যক্তি বেরিয়ে আসে। হাতে তার একগুচ্ছ কাঁটা। সে বলে, 'আবদুল্লাহ, তাকে পানি করাবে না, সে একজন কাফির।' এ কথা বলে সে তাকে ধরে ফেলে। তারপর শিকলের এক প্রান্ত ধরে তাকে ওই কাঁটার গুচ্ছ দিয়ে পেটায়। তারপর আমার চোখের সামনেই দু'জন দ্রুত কবরে ঢুকে পড়ে। পরিশেষে কবর দু'জনকে অন্তরীণ করে নেয়।'
[২০১] আবদুল্লাহ দানাজ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, شَهِدْتَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَقَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا أَبَا حَمْزَةَ إِنَّ قَوْمًا يُكَذِّبُونَ بِعَذَابٍ الْقَبْرِ قَالَ فَلَا تُجَالِسُوا أُولَئِكَ
'আমি আনাস ইবনু মালিক -এর নিকট উপস্থিত হই। (তখন) এক ব্যক্তি তাকে বলেন, 'আবু হামযা, কিছু লোক কবরের শাস্তিকে অস্বীকার করে।' আনাস বলেন, "ওইসব লোকের সাথে ওঠাবসা করবে না।”'
[২০২] ইবনু আবিল হাসান বসরি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ شَهْبَاءَ فَحَادَتْ بِهِ فَقَالَ حَادَتْ وَلَمْ تَجِدْ عَنْ كَبِيرٍ حَادَتْ عَنْ رَجُلٍ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ مِنْ أَجْلِ النَّمِيمَةِ وَآخَرَ يُعَذِّبُ مِنَ الْغِيبَةِ
'আল্লাহর রাসূল ছিলেন তাঁর একটি ধূসর রঙের খচ্চরের পিঠে (বসা)। সেটি আচমকা রাস্তা থেকে সরে দাঁড়ায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "(এই যে) খচ্চরটি সরে দাঁড়াল, এটি কিন্তু বড় কোনও কারণে সরে দাঁড়ায়নি। এর সরে যাওয়ার কারণ হলো, এক ব্যক্তিকে কুৎসা রটানোর দায়ে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, আর আরেকজনকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে গীবত বা পরনিন্দার দরুন।”'
[২০৩] ইবরাহীম নাযি থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَجُلَيْنِ كَانَا يُعَذِّبَانِ فِي قُبُورِهِمَا فَشَكَى ذَلِكَ جِيرَانُهُمَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ خُذُوا كُرْبَتَيْنِ وَاجْعَلُوهُمَا فِي قُبُورِهِمَا يُرَفَّهُ عَنْهُمَا الْعَذَابُ مَا لَمْ يَيْبَسَا قَالَ فَسُئِلَ فِيمَا عُذِّبَا قَالَ فِي النَّمِيمَةِ وَالْبَوْلِ
'দু ব্যক্তিকে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। তাদের প্রতিবেশীরা এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল -এর নিকট অভিযোগ দায়ের করে। তখন তিনি বলেন, "দুটি খেজুর নিয়ে তাদের কবরে রেখে দাও। খেজুর দুটি শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব থাকবে।” তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হলো, 'কী কারণে তাদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে?' তিনি বলেন, 'কুৎসা রটনা ও প্রস্রাব (সংক্রান্ত অসতর্কতা)-এর দরুন।”'
[২০৪] কাতাদাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَذَابُ الْقَبْرِ ثَلَاثَةُ أَثْلَاثٍ ثُلُثٌ مِنَ الْغِيبَةِ وَثُلُثٌ مِنَ النَّمِيمَةِ وَثُلُثٌ مِنَ الْبَوْلِ
'কবরের শাস্তির তিনটি অংশ রয়েছে: এক তৃতীয়াংশের কারণ হলো গীবত বা পরনিন্দা, আরেক তৃতীয়াংশের কারণ কুৎসা রটনা, আর অপর তৃতীয়াংশের কারণ প্রস্রাব (সংক্রান্ত অসতর্কতা)।'
[২০৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ إِنَّ عَذَابَ الْقَبْرِ مِنْ ثَلَاثَةٍ مِنَ الْغِيبَةِ وَالنَّمِيمَةِ وَالْبَوْلِ وَإِيَّاكُمْ وَذَلِكَ
'নবি বলেন, "কবরের শাস্তির কারণ তিনটি: গীবত বা পরনিন্দা, কুৎসা রটনা, ও প্রস্রাব (সংক্রান্ত অসতর্কতা)। এসব থেকে বেঁচে থেকো।” '
[২০৬] ইয়াযীদ ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনিশ্ শিখীর বলেন,
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَسِيرُ فِي أَرْضِ إِذِ انْتَهَى إِلَى قَبْرٍ فَسَمِعَ صَاحِبَهُ يَقُولُ آهِ أَةٍ فَقَامَ عَلَى قَبْرِهِ قَالَ فَضَحَكَ عَمَلُكَ وَافْتُضِحْتَ
'এক ব্যক্তি ভ্রমণে বেরিয়ে একপর্যায়ে একটি কবরের কাছে এসে পৌঁছয়। এরপর সে শুনতে পায়, কবরবাসী আহ্ আহ্ করছে। তখন সে কবরের পাশে দাঁড়িয়ে বলে, 'তোমার আমল (কর্মকাণ্ড) তোমাকে প্রকাশ করে দিয়েছে!' '
সমাপ্ত
টিকাঃ
[১] তিরমিযি, ২৪১০; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৭; হাকিম, ১/৩৭২。
[২] আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/৩০৬。
[১] তিরমিযি, ৩৪১৩。
[১] আক্ষরিক অর্থ: 'তুমি এমন এক উম্মাহ'র সামনে আছো, যাদের ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে।'
[১] সুয়ূতি, জামউল জাওয়ামি', ২/৬৯৪, ৬৯৯。
[২] আক্ষরিক অনুবাদ: 'মাথা থেকে পা পর্যন্ত মাংস খাবে'。