📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ

📄 কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ


নবি কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চেয়েছেন, এবং (উম্মাহ-কে) এর নির্দেশ (ও) দিয়েছেনঃ
[১৪৩] মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ يَهُودِيَّةٌ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقَالَتْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَذْكُرُ شَيْئًا فِي عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا لَا وَمَا عَذَابُ الْقَبْرِ قَالَتْ فَسَلِيهِ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَتْهُ عَائِشَةُ رَضِيَ اللهُ عَنْهَا عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ فَمَا صَلَّى بَعْدَ ذَلِكَ صَلَاةً إِلَّا سَمِعْتُهُ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা আয়িশা -এর কাছে এসে জিজ্ঞাসা করেন, 'আপনি কি আল্লাহর রাসূল -কে কবরের শাস্তি সম্পর্কে কিছু বলতে শুনেছেন?' আয়িশা বলেন, 'না; কবরের শাস্তি কী?' ইয়াহুদি মহিলা বলেন, 'তাহলে তাঁকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন।' এরপর নবি এলে, আয়িশা তাঁকে কবরের শাস্তি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল বলেন, "কবরের শাস্তি সত্য।" এরপর প্রত্যেক সালাতের পর আমি তাঁকে কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।'[১]
[১৪৪] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ عَجُوزَانِ مِنْ عَجَابِرٍ يَهُودِ الْمَدِينَةِ فَقَالَتَا إِنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذِّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ فَدَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ عَجُوزَيْنِ دَخَلَتَا عَلَى فَزَعَمَتَا أَنَّ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذِّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ فَقَالَ صَدَقَتَا إِنَّهُمْ يُعَذِّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ عَذَابًا يَسْمَعُهُ الْبَهَابِمُ فَمَا رَأَيْتُهُ بَعْدُ فِي صَلَاةٍ إِلَّا تَعَوَّذَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'মদীনার ইয়াহুদিদের দু' বৃদ্ধা মহিলা (আমার কাছে এসে) বলেন, কবরবাসীদের কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। এরপর আল্লাহর রাসূল আমার কাছে এলে, আমি বলি-হে আল্লাহর রাসূল, দু' বৃদ্ধা মহিলা আমার কাছে এসেছিল। তাদের ধারণা, কবরবাসীদের কবরে শাস্তি দেওয়া হয়। এ কথা শুনে তিনি বলেন, "তাদের কথা সত্য। কবরবাসীদের কবরে এমন শাস্তি দেওয়া হয়, যা জন্তু-জানোয়াররা শুনতে পায়।" এর পর আমি দেখেছি, প্রত্যেক সালাতে তিনি কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাচ্ছেন।[১]
[১৪৫] মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
جَاءَتْ يَهُودِيَّةٌ إِلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَسْأَلُهَا فَقَالَتْ لِعَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَجَاءَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَتْهُ عَائِشَةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَذَابُ الْقَبْرِ حَقٌّ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَمَا سَمِعْتُهُ يُصَلَّى بَعْدُ صَلَاةً إِلَّا وَتَعَوَّذَ فِيْهَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা আয়িশা-এর কক্ষে প্রবেশ করে তাঁর কাছে কিছু চান এবং বলেন, 'আল্লাহ আপনাকে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় দিন!' নবি এলে, আয়িশা তাঁকে (এ বিষয়ে) জিজ্ঞাসা করেন। অতঃপর আল্লাহর রাসূল বলেন, "কবরের শাস্তি সত্য।" তার পর প্রত্যেক সালাতে আমি তাঁকে কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।[২]
[১৪৬] আয়িশা থেকে বর্ণিত,
أَنَّ يَهُودِيَّةٌ جَاءَتْ تَسْأَلُهَا فَقَالَتْ لَهَا أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَسَأَلَتْ عَائِشَةُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَيُعَذِّبُ النَّاسُ فِي قُبُورِهِمْ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَائِذًا مِنْ ذَلِكَ ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم ذَاتَ غَدَاةٍ مَرْكَبًا فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فِي صَلَاةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَالَتْ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا شَاءَ اللَّهُ أَنْ يَقُولَ ثُمَّ أَمَرَهُمْ أَنْ يَسْتَعِيذُوا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা এসে তাঁর কাছে কিছু একটা চায়। তারপর সে তাঁকে বলে, 'আল্লাহ আপনাকে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় দিন!' পরে আয়িশা আল্লাহর রাসূল -কে জিজ্ঞাসা করেন, 'মানুষকে কি কবরে শাস্তি দেওয়া হয়?' জবাবে আল্লাহর রাসূল (কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট) আশ্রয় চান। তারপর একদিন কোথাও যাওয়ার উদ্দেশে বাহনে উঠেন। এরপর সূর্যগ্রহণ হয়। (বর্ণনাকারী এখানে নবি -এর সালাতের বিবরণী তুলে ধরেন।) তারপর তিনি (সাহাবিদের দিকে) মুখ ফিরিয়ে কিছু কথা বলেন। পরিশেষে নির্দেশ দেন, তাঁরা যেন কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় কামনা করেন।[১]
[১৪৭] 'আমরা থেকে বর্ণিত
أَنَّ يَهُودِيَّةً أَتَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَسْأَلُهَا فَقَالَتْ أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ فَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ يُعَذِّبُ النَّاسُ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ عَمْرَةُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَابِنًا بِاللَّهِ ثُمَّ رَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ غَدَاةٍ مَرْكَبًا فَخَسَفَتِ الشَّمْسُ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ فِي صَلَاةِ الْخُسُوفِ فَقَالَتْ فَقَالَ إِنِّي قَدْ رَأَيْتُكُمْ تُفْتَنُونَ فِي قُبُورِكُمْ كَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ قَالَتْ عَمْرَةُ فَسَمِعْتُ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا تَقُولُ فَكُنْتُ أَسْمَعُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدَ ذَلِكَ يَتَعَوَّذُ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা আয়িশা -এর কাছে এসে কিছু চায়। তারপর বলে, 'আল্লাহ আপনাকে জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় দিন।' আয়িশা বলেন, আমি বলি, 'হে আল্লাহর রাসূল, মানুষকে কি কবরে শাস্তি দেওয়া হয়?' (জবাবে) আল্লাহর রাসূল (কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট) আশ্রয় চান। তারপর একদিন কোথাও যাওয়ার উদ্দেশে বাহনে উঠেন। এরপর সূর্যগ্রহণ হয়। (বর্ণনাকারী এখানে নবি -এর সূর্যগ্রহণ সংক্রান্ত সালাতের বিবরণী তুলে ধরেন।) তারপর তিনি বলেন, "আমি দেখেছি, কবরে তোমাদেরকে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায় কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে।" আমি আয়িশা -কে বলতে শুনেছি, 'এরপর আমি প্রত্যেক সালাতের পর আল্লাহর রাসূল -কে জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।' '[১]
[১৪৮] উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন, নবি -এর স্ত্রী আয়িশা তাঁকে জানিয়েছেন যে,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو فِي الصَّلَاةِ اللَّهُمَّ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْمَأْثَمِ وَالْمَغْرَمِ قَالَتْ فَقَالَ لَهُ قَابِلُ مَا أَكْثَرَ مَا تَسْتَعِيذُ مِنَ الْمَغْرَمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ إِنَّ الرَّجُلَ إِذَا غَرِمَ حَدَّثَ فَكَذَبَ وَوَعَدَ فَأَخْلَفَ
'নবি সালাতের মধ্যে এই দুআ করতেন, "হে আল্লাহ, * আমি তোমার কাছে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই, * তোমার কাছে আশ্রয় চাই মসীহ্ [ত্রাণকর্তা(!)] দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে, আর * তোমার কাছে আশ্রয় চাই গোনাহ ও ঋণের বোঝা থেকে।" এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনি ঋণের বোঝা থেকে আল্লাহর কাছে এত বেশি বেশি আশ্রয় চান কেন?' জবাবে তিনি বলেন, "মানুষ যখন ঋণগ্রস্ত হয়, তখন সে কথা বললে মিথ্যা বলে, আর ওয়াদা দিলে ওয়াদা ভঙ্গ করে।” ‘[২]
[১৪৯] আয়িশা থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ النَّارِ وَعَذَابِ النَّارِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْفَقْرِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْغِنَى وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ اللَّهُمَّ نَقِ قَلْبِي مِنْ خَطِيئَتِي كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الْأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَسِ وَبَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطِيئَتِي كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْمَغْرَمِ وَالْمَأْثَمِ
'নবি বলতেন, "হে আল্লাহ, * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই জাহান্নামের পরীক্ষা ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে; * তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি থেকে; * তোমার কাছে আশ্রয় চাই দারিদ্র্যের পরীক্ষার অনিষ্ট ও প্রাচুর্যের পরীক্ষার অনিষ্ট থেকে; * তোমার কাছে আশ্রয় চাই মসীহ্ [ত্রাণকর্তা(!)] দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে。
হে আল্লাহ, * আমার অন্তরকে আমার ভুলত্রুটি থেকে সেভাবে পরিচ্ছন্ন করে দাও, যেভাবে তুমি সাদা কাপড়কে ময়লা থেকে পরিচ্ছন্ন করো; * আমার ও আমার ভুলত্রুটির মধ্যে এতটা দূরত্ব সৃষ্টি করো, যতটা দূরত্ব সৃষ্টি করেছ পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যে。
হে আল্লাহ, * আমি অলসতা, জরাগ্রস্ততা বা বার্ধক্য, ঋণ ও গোনাহ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।” [১]
[১৫০] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, فَمَا رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم صَلَّى صَلَاةٌ إِلَّا قَالَ فِي دُبُرِهَا اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَابِيلَ وَإِسْرَافِيلَ أَعِذْنِي مِنْ حَرِّ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ 'আমি দেখেছি, আল্লাহর রাসূল প্রত্যেক সালাতের পর বলেছেন, "হে আল্লাহ-জিব্রীল, মীকাঈল ও ইস্রাফীলের রব! আমাকে জাহান্নামের উত্তাপ ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় দাও।” 'খি
[১৫১] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُمَّ رَبَّ جِبْرِيلَ وَمِيكَابِيلَ وَإِسْرَافِيلَ أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ النَّارِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ 'আল্লাহর রাসূল বলেন, "হে আল্লাহ—জিবরীল, মীকাঈল ও ইস্রাফীলের রব! আমি তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই।”[১]
[১৫২] মুসআব ইবনু সাদ তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন, أَنَّهُ كَانَ يَأْمُرُ بِالْخَمْسِ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَأْمُرُ بِهِنَّ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'তিনি পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়ে বলতেন, "আল্লাহর রাসূল এসব বিষয়ের নির্দেশ দিতেন: 'হে আল্লাহ, * আমি তোমার কাছে কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাই; * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা থেকে; * আমি তোমার কাছে নিকৃষ্ট বয়সে (অর্থাৎ জরাগ্রস্ত ও শক্তিহীন বার্ধক্যে) উপনীত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই; * আমি তোমার কাছে দুনিয়ার পরীক্ষা থেকে আশ্রয় চাই; আর * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে।' "[২]
[১৫৩] আমর ইবনু মাইমূন বলেন, كَانَ سَعْدٌ يُعَلِّمُ بَنِيهِ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ كَمَا يُعَلِّمُ الْمُعَلِّمُ الْغِلْمَانَ وَيَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِهِنَّ دُبُرَ الصَّلَاةِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ أَنْ أُرَدَّ إِلَى أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'সাদ তাঁর ছেলেদের এসব বাক্য এমনভাবে শেখাতেন, যেভাবে শিক্ষক ছোটো ছোটো ছেলেদের শেখান। তিনি বলতেন, 'আল্লাহর রাসূল সালাতের পর এসব বিষয়ে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতেন: 'হে আল্লাহ, * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা থেকে; * আমি তোমার কাছে নিকৃষ্ট বয়সে (অর্থাৎ জরাগ্রস্ত ও শক্তিহীন বার্ধক্যে) উপনীত হওয়া থেকে আশ্রয় চাই;
* আমি তোমার কাছে দুনিয়ার পরীক্ষা থেকে আশ্রয় চাই; আর * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে।' "[১]
[১৫৪] আমীরুল মুমিনীন উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَوْقَ الْمِنْبَرِ وَهُوَ يَتَعَوَّذُ مِنْ خَمْسٍ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ سُوءِ الْعُمُرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الصَّدْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আমি আল্লাহর রাসূল -কে মিম্বারে থাকাবস্থায় পাঁচটি বিষয়ে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি, "হে আল্লাহ,
* আমি তোমার কাছে কাপুরুষতা ও কৃপণতা থেকে আশ্রয় চাই; * তোমার কাছে আশ্রয় চাই নিকৃষ্ট বয়স (জরাগ্রস্ত ও শক্তিহীন বার্ধক্য) থেকে; * তোমার কাছে আশ্রয় চাই বক্ষের পরীক্ষা থেকে; আর * আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে।” [২]
[১৫৫] আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا أَمْسَى قَالَ أَمْسَيْنَا وَأَمْسَى الْمُلْكُ لِلَّهِ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ خَيْرٍ هَذِهِ اللَّيْلَةِ وَخَيْرِ مَا فِيهَا وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّهَا وَشَرِّ مَا فِيهَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَسُوءِ الْكِبَرِ وَفِتْنَةِ الدُّنْيَا وَعَذَابِ الْقَبْرِ
'সন্ধ্যা নেমে এলে আল্লাহর রাসূল বলতেন, "আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হলাম; আল্লাহর উদ্দেশে সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছে (পুরো) রাজত্ব। প্রশংসা সবই আল্লাহর। আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই। তিনি একক; তাঁর (সার্বভৌমত্বে) কোনও অংশীদার নেই। হে আল্লাহ,
* আমি তোমার কাছে এই রাতের কল্যাণ ও রাতের ভেতরকার বিষয়াদির কল্যাণ চাই;
* তোমার কাছে আশ্রয় চাই এর অনিষ্ট ও এর ভেতরকার বিষয়াদির অনিষ্ট থেকে;
* হে আল্লাহ! অলসতা, জরাগ্রস্ততা, নিকৃষ্ট বার্ধক্য, দুনিয়ার পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি থেকে আমি তোমার কাছে আশ্রয় চাই।” [১]
[১৫৬] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِنْتُ أَبِي سُفْيَانَ اللَّهُمَّ أَمْتِعْنِي بِزَوْجِي رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِأَبِى أَبِي سُفْيَانَ وَبِأَخِي مُعَاوِيَةَ فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّكِ دَعَوْتِ اللهَ لِآجَالٍ مَعْلُومَةٍ وَأَرْزَاقٍ مَقْسُومَةٍ وَآثَارٍ مَبْلُوغَةٍ لَا يُعَجَّلُ شَيْءٍ مِنْهَا قَبْلَ حِلِّهَا وَلَا يُؤَخَرُ شَيْءٍ مِنْهَا بَعْدَ حِلِّهَا فَلَوْ دَعَوْتِ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُعَافِيَكِ وَسَأَلْتِ اللَّهَ أَنْ يُعِيذَكِ مِنْ عَذَابٍ فِي النَّارِ أَوْ عَذَابٍ فِي الْقَبْرِ لَكَانَ خَيْرًا أَوْ لَكَانَ أَفْضَلَ
'উম্মু হাবীবা বিন্তু আবী সুফইয়ান বলেন, 'হে আল্লাহ! আমার স্বামী রাসূলুল্লাহ , আমার পিতা আবূ সুফইয়ান ও আমার ভাই মুআবিয়া—তাঁদের দ্বারা আমাকে সারাজীবন উপকৃত হওয়ার সুযোগ দাও!' এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল বলেন, "তুমি আল্লাহর কাছে যা চেয়েছ, তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ, এসব রিক ইতোমধ্যে বণ্টিত হয়ে আছে, আর তা হলো অতিক্রান্ত পদচিহ্নমাত্র;[২] এসবের জন্য যে সময় নির্ধারিত হয়ে আছে, তা থেকে একটু আগেও কোনও কিছু আসবে না; নির্ধারিত সময়ের পরেও সেসব সংঘটিত হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। সুতরাং তুমি যদি আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করতে তিনি যেন তোমাকে ক্ষমা করে দেন, এবং আল্লাহর কাছে চাইতে তিনি যেন জাহান্নামের শাস্তি ও কবরের শাস্তি থেকে তোমাকে আশ্রয় দেন, তাহলে তা হতো সর্বোত্তম।” [৩]
[১৫৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَدْعُو اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
'নবি এ দুআ করতেন, "হে আল্লাহ, আমি কবরের শাস্তি, জাহান্নামের শাস্তি, জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা এবং ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।” [১]
[১৫৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ عَذَابِ اللَّهِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ عَذَابِ الْقَبْرِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ عُوذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
"তোমরা আল্লাহর শাস্তির পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও; কবরের শাস্তির পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে, আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও ত্রাণকর্তা(!) দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে।” [২]
[১৫৯] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا فَرَغَ أَحَدُكُمْ مِنَ التَّشَهُدِ فَلْيَتَعَوَّذْ بِاللَّهِ مِنْ أَرْبَعٍ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَفِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "তোমাদের কেউ (সালাতের মধ্যে) তাশাহহুদ শেষ করলে, সে যেন চারটি বিষয় থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায়: * জাহান্নামের শাস্তি, * কবরের শাস্তি, * জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা, ও * ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের অনিষ্ট।” '[৩]
[১৬০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আমি আল্লাহর রাসূল -কে কবরের শাস্তি থেকে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।[১]
[১৬১] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ جَهَنَّمَ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ
'আল্লাহর রাসূল কবরের শাস্তি, জাহান্নামের শাস্তি ও দাজ্জালের পরীক্ষা-এসব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাইতেন।[২]
[১৬২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ جَهَنَّمَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "তোমরা আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাও; আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও কবরের শাস্তি থেকে; আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও ত্রাণকর্তা(!) দাজ্জাল থেকে; আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে।” '
[১৬৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَتَعَوَّذُ بِاللَّهِ مِنْ شَرِّ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ شَرِّ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
'নবি আল্লাহর কাছে জীবন ও মৃত্যুর অনিষ্ট, কবরের শাস্তি ও ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।'
[১৬৪] আনাস থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
নবি বলেন, "তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।”
[১৬৫] সুলাইমান বলেন,
سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
'আমি আনাস ইবনু মালিক -কে বলতে শুনেছি, "হে আল্লাহ, আমি বার্ধক্য, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা ও জরাগ্রস্ততা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই; তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে; আর আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে।” [১]
[১৬৬] আনাস থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يَقُولُ فِي دُعَابِهِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
'নবি তাঁর দুআয় বলতেন, "হে আল্লাহ, আমি বার্ধক্য, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা, জরাগ্রস্ততা ও কবরের শাস্তি থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই; আর আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে।” 'খি
[১৬৭] হুমাইদ বলেন,
حُمَيْدُ قَالَ سُبِلَ أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ عَنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَنِ الدَّجَّالِ فَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْهَرَمِ وَالْجُبْنِ وَالْبُخْلِ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
'আনাস ইবনু মালিক -কে কবরের শাস্তি ও দাজ্জাল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলতেন, "হে আল্লাহ, আমি অলসতা, জরাগ্রস্ততা, ভীরুতা, কৃপণতা, দাজ্জালের পরীক্ষা ও কবরের শাস্তি থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।”'
[১৬৮] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ هَذَا الدُّعَاءَ كَمَا يُعَلِّمُهُمُ السُّورَةَ مِنَ الْقُرْآنِ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
'নবি ﷺ তাঁদেরকে কুরআনের সূরা শেখানোর ন্যায় এই দুআ শেখাতেন। তিনি বলতেন: "হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই; তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে; আশ্রয় চাই ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে, আর আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে।”'[১]
[১৬৯] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ بَعْدَ التَّشَهُدِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ الْأَعْوَرِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ
'নবি ﷺ তাশাহহুদের পর বলতেন, "হে আল্লাহ আমি তোমার কাছে জাহান্নামের শাস্তি থেকে আশ্রয় চাই; তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে; তোমার কাছে আশ্রয় চাই একচোখা দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে; আর তোমার কাছে আশ্রয় চাই জীবন ও মৃত্যুর পরীক্ষা থেকে।”'
[১৭০] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَمِنَ الْمَغْرَمِ وَمِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الصَّدْرِ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বলতেন, "হে আল্লাহ, আমি কুফর (অবাধ্যতা), ঋণের বোঝা, কবরের শাস্তি ও বক্ষের পরীক্ষা থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।”'
[১৭১] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
ثَنَا زَيْدُ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي حَابِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ وَنَحْنُ مَعَهُ فَحَادَتْ بِهِ فَكَادَتْ تُلْقِيهِ وَإِذَا أَقْبُرُ سِتَّةٌ أَوْ خَمْسَةً أَوْ أَرْبَعَةً فَقَالَ مَنْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الْأَقْبُرِ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا فَقَالَ مَتَى مَاتَ هَؤُلَاءِ فَقَالَ مَاتُوا فِي الْإِشْرَاكِ فَقَالَ إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعَنِي ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قُلْنَا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهْرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قُلْنَا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهْرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ قُلْنَا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
'যাইদ ইবনু সাবিত আমাদের বলেছেন-'একদিন আল্লাহর রাসূল তাঁর একটি খচ্চরে চড়ে বানুন নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে যান। সাথে ছিলাম আমরা। খচ্চরটি তাঁকে নিয়ে আচমকা দৌড় দিয়ে তাঁকে প্রায় ফেলেই দিচ্ছিল। তখন দেখি, সেখানে চার-পাঁচ কিংবা ছয়টি কবর। তিনি বলেন, "এসব কবরের বাসিন্দাদের কে চিনে?" এক-ব্যক্তি বলে, 'আমি চিনি।' তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "এরা কবে মারা গিয়েছে?" সে জানায়, 'তারা মুশরিক অবস্থায় মারা গিয়েছে।' তখন নবি বলেন, "এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। তোমরা একে এপরকে দাফন করবে না-এ আশঙ্কা না থাকলে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি যেন কবরের শাস্তির কিয়দংশ তোমাদের শোনান, যা তিনি আমাকে শোনালেন।” তারপর তিনি আমাদের দিকে মুখ করে বলেন, "তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” আমরা বলি, 'আমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।' তিনি বলেন, "তোমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” আমরা বলি, 'আমরা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।' তিনি বলেন, "তোমরা দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।” আমরা বলি, 'আমরা দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।' '[১]
[১৭২] জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَابِطًا لِبَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَهُمْ يُعَذِّبُونَ فِي فُبُورِهِمْ فَخَرَجَ مَذْعُورًا يَقُولُ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বানুন নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে ঢুকে শুনতে পান, কিছু লোককে তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তা শুনে তিনি ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বেরিয়ে আসেন, আর বলতে থাকেন-"কবরের শাস্তি থেকে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।”'
[১৭৩] উবাই ইবনু কাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَقَالَ فِيهِ فَتَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ দাজ্জালের আলোচনা করেন। [তারপর তিনি (এ সংক্রান্ত) হাদীসটি উল্লেখ করেন।] এর মধ্যে তিনি বলেন, "সুতরাং তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।”'
[১৭৪] মুসলিম ইবনু আবী বাকরা বলেন,
أَنَّهُ مَرَّ بِوَالِدِهِ وَهُوَ يَدْعُو يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ فَأَخَذْتُهُنَّ عَنْهُ فَكُنْتُ أَدْعُو بِهِنَّ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ فَمَرَّ بِي وَأَنَا أَدْعُو بِهِنَّ فَقَالَ يَا بُنَيَّ أَنَّى عَلِمْتَ هَؤُلَاءِ الْكَلِمَاتِ قُلْتُ يَا أَبَتَاهُ سَمِعْتُكَ تَدْعُو بِهِنَّ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ فَأَخَذْتُهُنَّ عَنْكَ قَالَ فَالْزَمْهُنَّ يَا بُنَيَّ فَإِنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَانَ يَدْعُو بِهِنَّ فِي دُبُرِ الصَّلَاةِ
'তিনি তাঁর পিতার পাশ দিয়ে যান। তখন তিনি দুআয় বলছেন, 'হে আল্লাহ, আমি কুফর (অবাধ্যতা), দারিদ্র্য ও কবরের শাস্তি থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।' আমি তাঁর কাছ থেকে কথাগুলো শিখে নিয়ে, সালাতের পর সেসব দুআ পড়তে থাকি। এরপর তিনি আমার পাশ দিয়ে যান; আমি তখন সেসব দুআ পড়ছি। শুনে তিনি বলেন, 'ছেলে আমার, এসব কথা তুমি কোত্থেকে শিখেছ?' আমি বলি, 'আব্বা, আমি আপনাকে সালাতের পর এসব দুআ পড়তে শুনেছি। আপনার কাছ থেকে আমি এগুলো নিয়েছি।' তিনি বলেন, 'তাহলে, ছেলে আমার, এগুলো আঁকড়ে ধরো; কারণ, আল্লাহর নবি ﷺ সালাতের পর এসব দুআ পড়তেন।' '[১]
[১৭৫] যাইদ ইবনু আরকাম -এর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস বলেন,
فُلْنَا عَلَّمْنَا أَوْ حَدِّثْنَا قَالَ لَا أُعَلِّمُكُمْ إِلَّا مَا كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُعَلِّمُنَا اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْعَجْزِ وَالْكَسَلِ وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ وَالْهَرَمِ وَعَذَابِ الْقَبْرِ
'আমরা (তাঁকে) বলি, "আমাদের কিছু শেখান, কিংবা কিছু বলুন।" তিনি বলেন, "আমি তোমাদের কেবল তা-ই শেখাব, যা আল্লাহর রাসূল আমাদের শিখিয়েছেন, (আর তা হলো) 'হে আল্লাহ! আমি বার্ধক্য, অলসতা, কৃপণতা, ভীরুতা, জরাগ্রস্ততা ও কবরের শাস্তি থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই।'"'
[১৭৬] আমর ইবনু শুআইব তাঁর পিতা থেকে দাদার সূত্রে বর্ণনা করেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْكَسَلِ وَالْمَغْرَمِ وَالْمَأْثَمِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابٍ الْقَبْرِ
'আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি, "হে আল্লাহ! আমি অলসতা, ঋণের বোঝা ও গোনাহ থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাই; তোমার কাছে আশ্রয় চাই ত্রাণকর্তা (!) দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে; আর তোমার কাছে আশ্রয় চাই কবরের শাস্তি থেকে।” [১]
[১৭৭] নবি -এর আযাদকৃত দাসী মাইমূনা থেকে বর্ণিত,
قَالَ لَهَا يَا مَيْمُونَهُ تَعَوَّذِى بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ لَحِقُ قَالَ نَعَمْ وَإِنَّ مِنْ أَشَدِّ عَذَابِ الْقَبْرِ الْغِيبَةَ وَالْبَوْلَ
'নবি তাঁকে বলেন, "মাইমূনা, কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও।" তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, কবরে কি আযাব হবে?' নবি বলেন, "হ্যাঁ। কবরে সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে গীবত (পরনিন্দা) ও প্রস্রাব (জনিত অসতর্কতা)-এর দরুন।” [২]

টিকাঃ
[১] মুসলিম, ৫৮৪, ৫৮৫。
[১] বুখারি, ৬৩৬৬; মুসলিম, ৫৮৬。
[২] মুসলিম, ৫৮৪, ৫৮৫。
[১] বুখারি, ১০৫০。
[১] মুসলিম, ৯০৩。
[২] বুখারি, ৮৩২; মুসলিম, ৫৮৯; আবূ দাউদ, সুনান, ১/২০৩。
[১] বুখারি, ৬৩৭৭; মুসলিম, ২৭০৫; ইবনু মাজাহ, সুনান, ৩৮৩৮。
[২] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১০/১১০。
[১] সুয়ূতি, আল-জামিউস সগীর, ১/৬১。
[২] বুখারি, ৬৩৭০, ৬৩৬১。
[১] বুখারি, ২৮২২。
[২] ইবনু মাজাহ, সুনান, ৩৮৪৪。
[১] মুসলিম, ২৭২৩。
[২] সম্ভবত এর অর্থ হতে পারে, এগুলো অভিনব কিছু নয়; ইতঃপূর্বে বহু মানুষ এ ধরনের পার্থিব অনুগ্রহ পেয়েছে। তবে আল্লাহই ভালো জানেন। [অনুবাদক]
[৩] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/৩৮১; বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ৭৯; মুসলিম, ২৬৬৩。
[১] বুখারি, ১৩৭৭; মুসলিম, ৫৮৮。
[২] মুসলিম, ৫৮৮。
[৩] বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১১০; মুসলিম, ৫৮৮。
[১] মুসলিম, ৫৮৭。
[২] মুসলিম, ৫৮৮。
[১] বুখারি, ৬৩৬৭; মুসলিম, ২৭০৬。
[২] বুখারি, ৬৩৬৭; মুসলিম, ২৭০৬。
[১] মুসলিম, ৫৯; ইবনু মাজাহ, ৩৮৪; তানবীরুল হাওয়ালিক, ১/২১৬。
[১] মুসলিম, ২৮৬৭১。
[১] আল-ফাতহুর রব্বানি, ৪/৬৪。
[১] সুয়ূতি, আল-জামিউস সগীর, ১/৬২。
[২] কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৩৮。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 দাফন শেষে মুমিনের জন্য দুআ করার নির্দেশ

📄 দাফন শেষে মুমিনের জন্য দুআ করার নির্দেশ


দাফন শেষে মুমিনের জন্য দুআ করা, যেন আল্লাহ তাকে (প্রশ্নোত্তর পর্বে) শক্তি যোগান:
[১৭৮] উসমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِذَا فَرَغَ مِنْ دَفْنِ الْمَيِّتِ قَالَ اسْتَغْفِرُوا لِمَيِّتِكُمْ وَاسْأَلُوا لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
'মৃতব্যক্তিকে দাফন শেষে নবি বলতেন, "তোমাদের মৃতব্যক্তির জন্য (আল্লাহর কাছে) ক্ষমাপ্রার্থনা করো, এবং তাঁর কাছে চাও তিনি যেন (প্রশ্নোত্তর পর্বে) তাকে শক্তি যোগান; কারণ, এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে।” '[১]

টিকাঃ
[১] আবূ দাউদ, ২/১৯২; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭০。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 কবরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তির আকৃতি

📄 কবরের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ব্যক্তির আকৃতি


যাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়, তার মনে আকাঙ্ক্ষা জাগে—আল্লাহ তাকে কী দিয়ে সম্মানিত করেছেন, সে তা নিজ জাতিকে জানিয়ে দেবে। আল্লাহ তাআলা যাকে ক্ষমার পুরস্কারে ভূষিত করেন, তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, صلے قِيلَ ادْخُلِ الْجَنَّةَ قَالَ يَا لَيْتَ قَوْمِي يَعْلَمُونَ بِمَا غَفَرَ لِي رَبِّي وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُكْرَمِينَ
(শেষ পর্যন্ত তারা তাকে হত্যা করে ফেলল এবং) সে ব্যক্তিকে বলে দেওয়া হলো, "প্রবেশ করো জান্নাতে"। সে বলল, "হায়! যদি আমার সম্প্রদায় জানত আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমাকে ক্ষমা করেছেন এবং আমাকে মর্যাদাশালী লোকদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন!” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:২৬-২৭)
মুজাহিদ বলেন, 'নিজের প্রতিদান দেখে, সে এ কথা বলবে।' অন্যরা বলেন, “হায়! যদি আমার সম্প্রদায় জানত আমার রব কোন জিনিসের বদৌলতে আমাকে ক্ষমা করেছেন।” (ইয়াসীন ৩৬:২৬-২৭)-এর মানে হলো 'আমার রবের প্রতি আমি যে ঈমান এনেছি এবং তাকে যেভাবে সত্য বলে মেনে নিয়েছি'-এর ফলে (আল্লাহ আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন)। (এ কথা জানতে পারলে) তারাও ঈমান এনে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে, যেভাবে আমি জান্নাতে প্রবেশ করেছি।
[১৭৯] আনাস থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثَ خَالَهُ حَرَامَ بْنَ عُثْمَانَ أَخَا أُمَ سُلَيْمٍ فِي سَبْعِينَ رَجُلًا إِلَى بَنِي عَامِرٍ فَلَمَّا قَدِمُوا قَالَ لَهُمْ خَالُهُ أَتَقَدَّمُكُمْ فَإِنْ أَمَنُونِي حَتَّى أُبَلِّغَهُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِلَّا كُنْتُمْ قَرِيبًا فَتَقَدَّمَ فَبَيْنَمَا هُوَ يُحَدِّثُهُمْ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَوْمَؤُوا إِلَى رَجُلٍ مِنْهُمْ فَطَعَنَهُ فَأَنْفَذَهُ فَقَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ فُرْتُ وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ثُمَّ مَالُوا عَلَى بَقِيَّةِ أَصْحَابِهِ فَقَتَلُوهُمْ إِلَّا رَجُلٌ أَعْرَجُ كَانَ فِيهِمْ فَصَعِدَ الْجَبَلَ قَالَ فَحَدَّثَنَا أَنَسُ أَنَّ جِبْرِيلَ أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَأَخْبَرْهُ أَنَّهُمْ لَقُوا رَبَّهُمْ فَرَضِيَ عَنْهُمْ وَأَرْضَاهُمْ قَالَ أَنَسٌ فَكَانَ فِيمَا يُقْرَأْ مِنَ الْقُرْآنِ بَلِّغُوا قَوْمَنَا أَنَّا قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَأَرْضَانَا قَالَ ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ فَدَعَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْهِمْ أَرْبَعِينَ صَبَاحًا عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَعُصَيَّةَ الَّذِينَ عَصَوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বানূ আ'মির গোত্রের উদ্দেশে যে সত্তর জন ব্যক্তিকে পাঠিয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন তাঁর মামা হারাম ইবনু উসমান -যিনি ছিলেন উম্মু সুলাইম -এর ভাই। তাঁরা সেখানে আসার পর তার মামা তাঁদের উদ্দেশে বলেন, 'আমি তোমাদের আগে যাই; তারা যদি আমাকে নিরাপত্তা দেয়, যাতে আমি তাদের কাছে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর বার্তা পৌঁছে দিতে পারি (তাহলে তো ভালোই)। অন্যথায়, তোমরা কাছাকাছি থেকো।' এ কথা বলে তিনি এগিয়ে যান। তিনি তাদের সাথে আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর প্রসঙ্গে কথা বলছেন, এমন সময় তারা নিজেদের একজনকে ইশারা দেয়। সে পেছনে গিয়ে তাঁকে বল্লম দিয়ে আঘাত করে। তিনি বলে উঠেন, 'আল্লাহু আকবার/ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ! কা'বার রবের শপথ! আমি সফল হয়ে গিয়েছি!' তারপর তারা তাঁর সঙ্গীদের দিকে এগিয়ে আসে এবং তাঁদের হত্যা করে; তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন পঙ্গু, কেবল তিনিই পাহাড়ের উপর উঠে বেঁচে যান।'
আনাস বলেন, 'জিবরীল নবী ﷺ-এর কাছে এসে তাঁকে জানিয়ে দেন, "তাঁরা তাঁদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন; তিনি তাঁদের উপর খুশি হয়েছেন, এবং তাঁদের খুশি করে দিয়েছেন।”
আনাস বলেন, '(তাঁদের প্রসঙ্গে) কুরআনের যে আয়াতটি তিলাওয়াত করা হতো সেটি হলো, "(তাঁরা বলে,) আমাদের লোকদের জানিয়ে দাও, আমাদের রবের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয়েছে; তিনি আমাদের উপর খুশি, এবং তিনি আমাদের খুশি করে দিয়েছেন।” পরবর্তীকালে আয়াতটি মানসূখ (রহিত) হয়ে যায়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল ﷺ চল্লিশ দিন যাবৎ ভোরবেলা রি'ল, যাকওয়ান ও উসাইয়া গোত্রের বিরুদ্ধে বদদুআ করেন, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হয়েছিল।[১]
[১৮০] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَمَّا أُصِيبَ مَنْ أُصِيبَ وَرَأَوْا مَا أَعَدَّ اللهُ لَهُمْ مِنَ الرِّزْقِ قَالُوا لَيْتَ إِخْوَانَنَا يَعْلَمُونَ فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ
'(বি'রে মাউনার ঘটনায়) হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর তাঁরা দেখতে পান, আল্লাহ তাঁদের জন্য কী কী জীবনোপকরণ প্রস্তুত করে রেখেছেন! তখন তাঁরা বলেন, 'হায়! আমাদের ভাইয়েরা যদি (তা) জানতে পারত।' এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা নাযিল করেন:
"আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত; নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। এবং যেসব ঈমানদার লোক তাদের পরে এ দুনিয়ায় রয়ে গেছে এবং এখনও সেখানে পৌঁছুয়নি, তাদের জন্যও কোনও ভয় ও দুঃখের কারণ নেই, একথা জেনে তারা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে। তারা আল্লাহর পুরস্কার ও অনুগ্রহ লাভে আনন্দিত ও উল্লসিত এবং তারা জানতে পেরেছে যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।” '
(আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭১)
[১৮১] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا دَخَلَ الْمُؤْمِنُ قَبْرَهُ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَزَبَرَاهُ فَيَقُومُ يَهَابُ الْفَتَانَ قَالَ فَيَسْأَلَا نِهِ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ اللَّهُ رَبِّي وَالْإِسْلَامُ دِينِي وَمُحَمَّدٌ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم نَبِي فَيَقُولَانِ لَهُ صَدَقْتَ كَذَلِكَ كُنْتَ فَيُقَالُ افْرُشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَاكْسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ فَيَقُولُ دَعُونِي حَتَّى أُخْبِرَ أَهْلِي فَيَقُولَانِ لَهُ اسْكُنْ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "মুমিন কবরে প্রবেশ করলে, তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় ধমক দেবে। ফলে সে মহাপরীক্ষকের ভয়ে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে উঠবে। ফেরেশতা দু'জন তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?' সে বলবে, 'আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন, আর মুহাম্মাদ আমার নবি।' তারা তাকে বলবে, 'তোমার উত্তর সঠিক। তুমি তো এ উত্তরের উপরেই জীবন কাটিয়েছ।' তখন বলা হবে, 'তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, আর তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও।' সে বলবে, 'আমাকে ছেড়ে দাও, আমার পরিবার-পরিজনদের এ সংবাদ দিয়ে আসি।' তারা তাকে বলবে, 'শান্ত হও!' "[১]
[১৮২] আবুয যুবাইর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَأَلْتُ جَابِرًا عَنِ الْقَبْرِ فَقَالَ جَابِرٌ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَإِذَا دَخَلَ الْمُؤْمِنُ قَبْرَهُ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ جَاءَهُ مَلَكُ شَدِيدُ الانْتِهَارِ فَيَقُولُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ كُنْتُ أَقُولُ إِنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَعَبْدُهُ فَيَقُولُ لَهُ الْمَلَكُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ الَّذِي كُنْتَ تَرَى مِنَ النَّارِ يَعْنِي قَدْ أُبْدِلَ مَكَانَهُ مَقْعَدُكَ الَّذِي تَرَى مِنَ الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا كِلَاهُمَا فَيَقُولُ الْمُؤْمِنُ دَعُونِي أُبَشِّرُ أَهْلِي فَيُقَالُ لَهُ اسْكُنْ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ فَيَقْعُدُ إِذَا تَوَلَّى عَنْهُ أَهْلُهُ فَيُقَالُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِى أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَهُ لَا دَرَيْتَ هَذَا مَقْعَدُكَ الَّذِي كَانَ لَكَ مِنَ الْجَنَّةِ قَدْ أُبْدِلَ مَكَانَهُ مَقْعَدُكَ مِنَ النَّارِ
'আমি জাবির -কে কবর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। জাবির বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি, "এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। মুমিন তার কবরে প্রবেশ করার পর তার সঙ্গী-সাথীরা চলে এলে, তীব্র ভর্ৎস্নাকারী এক ফেরেশতা তার কাছে এসে তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি বলতাম—তিনি আল্লাহর রাসূল।' তখন ফেরেশতা তাকে বলবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও; অর্থাৎ তোমার আসনটিকে ইতোমধ্যে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। উভয়টি দেখে মুমিন বলবে, 'আমাকে ছেড়ে দাও, আমার পরিবারকে (এই) সুসংবাদ দিয়ে আসি।' তখন তাকে বলা হবে, 'শান্ত হও!'
আর মুনাফিকের পরিবারের লোকজন চলে আসার পর, সে বসবে। তখন তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'আমি জানি না; মানুষ যা বলে, আমিও তাই বলি।' তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি তো তোমার অনুধাবন-শক্তি কাজে লাগাওনি। (দেখো,) তোমার এ আসনটি ছিল জান্নাতে, কিন্তু ইতোমধ্যে এটি বদলে জাহান্নামে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।'"'
[১৮৩] জাবির বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ يُبْعَثُ كُلُّ عَبْدٍ عَلَى مَا مَاتَ الْمُؤْمِنُ عَلَى إِيمَانِهِ وَالْمُنَافِقُ عَلَى نِفَاقِهِ
'আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি, "প্রত্যেক মানুষকে ওই অবস্থায় ওঠানো হবে, যে অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে; মুমিনকে ওঠানো হবে তার ঈমানের অবস্থায়, আর মুনাফিককে তার মুনাফিকির অবস্থায়।” [১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ৪০৮৮-৪০৯১; মুসলিম, ৬৭৭。
[১] এটি এই গ্রন্থের ১৪ ও ৪৫ নং হাদীসের অংশবিশেষ。
[১] মুসলিম, ২৮৭৮。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 পুনরুত্থాన్ পর্বের প্রাথমিক চিত্র

📄 পুনরুত্থాన్ পর্বের প্রাথমিক চিত্র


আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَيَقُولُونَ مَتَى هَذَا الْوَعْدُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ مَا يَنظُرُونَ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً تَأْخُذُهُمْ وَهُمْ يَخْصِمُونَ فَلَا يَسْتَطِيعُونَ تَوْصِيَةً وَلَا إِلَى أَهْلِهِمْ يَرْجِعُونَ * وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَإِذَا هُم مِّنَ الْأَجْدَاثِ إِلَى رَبِّهِمْ يَنسِلُونَ قَالُوا يَا وَيْلَنَا مَن بَعَثَنَا مِن مَّرْقَدِنَا هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ * إِن كَانَتْ إِلَّا صَيْحَةً وَاحِدَةً فَإِذَا هُمْ جَمِيعُ لَّدَيْنَا مُحْضَرُونَ * فَالْيَوْمَ لَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَلَا تُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ *
'আর এরা বলে, “কিয়ামাতের এ হুমকি কবে পুরা হবে? (বলো,) যদি তোমরা সত্যবাদী হও। আসলে এরা যে জিনিসের দিকে তাকিয়ে আছে, তা তো একটি বিস্ফোরণের শব্দ, যা সহসা এদের ঠিক এমন অবস্থায় ধরে ফেলবে, যখন এরা (নিজেদের পার্থিব ব্যাপারে) বিবাদ করতে থাকবে এবং সে সময় এরা কোন অসিয়তও করতে পারবে না এবং নিজেদের গৃহেও ফিরতে পারবে না। তারপর একটি শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাজির হওয়ার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হয়ে পড়বে। ভীত হয়ে বলবে, "আরে, কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?" এটা সে জিনিস, যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলদের কথা সত্য ছিল। একটিমাত্র প্রচণ্ড আওয়াজ হবে এবং সবকিছু আমার সামনে হাজির করে দেওয়া হবে। আজ কারও প্রতি তিলমাত্র জুলুম করা হবে না এবং যেমন কাজ তোমরা করে এসেছ ঠিক তারই প্রতিদান তোমাদের দেওয়া হবে।' (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৪৮-৫৪)
"আর একটি শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে এবং সহসা তারা নিজেদের রবের সামনে হাজির হওয়ার জন্য নিজেদের কবর থেকে বের হয়ে পড়বে। ভীত হয়ে বলবে, "আরে, কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?"
(সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫১-৫২)-আল্লাহ তাআলার এ কথার ব্যাখ্যায় ইবনু আব্বাস বলেন, 'তারা এ কথা বলবে, কারণ শিঙায় দু'বার ফুঁ দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে আল্লাহ তাদের উপর থেকে শাস্তি উঠিয়ে নেবেন; ফলে তারা শাস্তি ভুলে গিয়ে মনে করবে—এতক্ষণ তারা ঘুমিয়ে ছিল, কবর থেকে বের হয়ে বলবে, "আরে! কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?" (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২) ফেরেশতারা তাদের বলবে, "এটা সে জিনিস, যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ দিয়েছিলেন এবং রাসূলদের কথা সত্য ছিল।” (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২) কাতাদাহ বলেন, 'তাদের শাস্তি চল্লিশ বছরের জন্য লাঘব করে দেওয়া হবে।'
[১৮৪] কুরআনের ব্যাখ্যাকার তাবিয়িদের বরাতে মুকাতিল ইবনু সুলাইমান থেকে বর্ণিত,
فِي قَوْلِهِ يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا يس وَذَلِكَ أَنَّ أَرْوَاحَ الْكُفَّارِ كَانُوا يُعْرَضُونَ عَلَى مَنَازِلِهِمْ مِنَ النَّارِ طَرَفِي النَّهَارِ فَلَمَّا كَانَ بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ رُفِعَ عَنْهُمُ الْعَذَابُ فَرَقَدَتْ تِلْكَ الْأَرْوَاحُ بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ فَلَمَّا بُعِثُوا فِي النَّفْخَةِ الْأُخْرَى وَعَايَنُوا فِي يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَا كَانُوا يُكَذِّبُونَ بِهِ فِي الدُّنْيَا مِنَ الْبَعْثِ وَالْحِسَابِ دَعَوْا بِالْوَيْلِ فَقَالُوا يَا وَيْلَنَا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا يَس وَفِي قِرَاءَةِ ابْنِ مَسْعُودٍ مِنْ مَبِيتِنَا
قَالَتْ لَهُمْ حَفَظَتُهُمْ مِنَ الْمَلَائِكَةِ هَذَا مَا وَعَدَ الرَّحْمَنُ يَس عَلَى أَلْسِنَةِ الرُّسُلِ أَنَّهُ يَبْعَثُكُمْ بَعْدَ الْمَوْتِ فَكَذَّبْتُمْ بِهِ وَصَدَقَ الْمُرْسَلُونَ يَس بِأَنَّ الْبَعْثَ حَقٌّ وَقَالَ فِي قَوْلِهِ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ الزمر وَهُوَ الْقَرْنُ فَصَعِقَ الزمر يَعْنِي فَمَاتَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ مِنَ الْحَيَوَانِ مِنْ شِدَّةِ الْخَوْفِ وَالْفَزَعِ ثُمَّ اسْتَثْنَى إِلَّا مَنْ شَاءَ اللهُ النمل فَاسْتَثْنَى جِبْرِيلَ وَمِيكَابِيلَ وَإِسْرَافِيلَ وَمَلَكَ الْمَوْتِ ثُمَّ يَأْمُرُ مَلَكَ الْمَوْتِ أَنْ يَقْبِضَ رُوحَ مِيكَابِيلَ ثُمَّ رُوحَ جِبْرِيلَ ثُمَّ رُوحَ إِسْرَافِيلَ ثُمَّ يَأْمُرُ مَلَكَ الْمَوْتِ فَيَمُوتُ ثُمَّ يَلْبَثُ الْخَلْقُ بَعْدَ النَّفْخَةِ الْأُولَى فِي الْبَرْزَخِ أَرْبَعِينَ سَنَةٌ
ثُمَّ تَكُونُ النَّفْخَةُ الْأُخْرَى فَيُحْيِي اللَّهُ إِسْرَافِيلَ فَيَأْمُرُهُ أَنْ يَنْفُخَ الثَّانِيَةَ فَذَلِكَ قَوْلُهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامُ يَنْظُرُونَ الزمر عَلَى أَرْجُلِهِمْ يَنْظُرُونَ إِلَى الْبَعْثِ الَّذِي كَذَّبُوا بِهِ فِي الدُّنْيَا
وَذَكَرَ بَعْضُ أَهْلِ الْمَعَانِي أَنَّ الْكُفَّارَ إِذَا عَايَنُوا جَهَنَّمَ وَأَنْوَاعَ عَذَابِهَا صَارَ مَا عُذِّبُوا بِهِ فِي الْقُبُورِ فِي جَنْبِهَا كَالنَّوْمِ فَقَالُوا مَنْ بَعَثَنَا مِنْ مَرْقَدِنَا يَس قَالَ الشَّيْخُ رَحِمَهُ اللهُ قُلْتُ أَنَا وَفِي التَّنْزِيلِ مِنْ قَوْلِهِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ غَافِرِ ثُمَّ فِي الْأَخْبَارِ الصَّحِيحَةِ مَا دَلَّ عَلَى صِحَّةِ مَا قَالَ أَهْلُ التَّفْسِيرِ فِي تَأْوِيلِ هَذِهِ الْآيَةِ مِنْهَا مَا مَضَى وَصْفُهَا
"হায় দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?" (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২)-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'কাফিররা জাহান্নামের যেসব স্থানে থাকবে, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় তাদের আত্মাগুলোকে সেখানে হাজির করা হবে। এরপর শিঙায় দু'বার ফুঁ দেওয়ার মধ্যবর্তী সময়ে তাদের উপর থেকে শাস্তি উঠিয়ে নেওয়া হবে। ওই অন্তর্বর্তী সময়ে সেসব আত্মা ঘুমিয়ে থাকবে। তারপর দ্বিতীয় ফুঁয়ের সময় তাদের ওঠানো হবে। কিয়ামতের দিন তারা সেসব বিষয় স্বচক্ষে দেখতে পাবে, যা তারা দুনিয়ায় থাকাকালে মিথ্যে মনে করেছিল, যেমন পুনরুত্থান ও হিসেবের মুখোমুখি হওয়া ইত্যাদি। তখন তারা আক্ষেপ করে বলবে, "হায় দুর্ভোগ! কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?" (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২)
যেসব ফেরেশতা তাদের তত্ত্বাবধানের দায়িত্বে থাকবে, তারা বলবে, "এটা সে জিনিস, যার প্রতিশ্রুতি দয়াময় আল্লাহ (রাসূলদের মুখ দিয়ে) দিয়েছিলেন (যে, তিনি তোমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় উঠাবেন, কিন্তু তোমরা তো তা মিথ্যে মনে করেছিলে) এবং রাসূলদের কথা সত্য ছিল (যে পুনরুত্থান সত্য)।" (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২)
"আর শিঙায় ফুঁ দেওয়া হবে; তখন (প্রচণ্ড ভীতি ও ত্রাসের ফলে) পৃথিবী ও আকাশসমূহে যারা আছে, তারা সবাই অচেতন হয়ে পড়বে” (সূরা আয-যুমার ৩৯:৬৮) "তবে আল্লাহ যাদের চাইবেন, তাদের বাদে।" (সূরা আন-নামল ২৭:৮৭) এই ব্যতিক্রমের মধ্যে রয়েছেন জিব্রীল, মীকাঈল, ইসরাফিল ও মৃত্যুর ফেরেশতা। এরপর তিনি মৃত্যুর ফেরেশতাকে নির্দেশ দেবেন প্রথমে মীকাইলের আত্মা, তারপর জিব্রীলের আত্মা, তারপর ইসরাফীলের আত্মা বের করার জন্য। পরিশেষে তিনি মৃত্যুর ফেরেশতাকে নির্দেশ দেবেন, ফলে তিনি মারা যাবেন। তারপর (এই) প্রথম ফুঁয়ের পর সকল সৃষ্টি বারযাখে থাকবে চল্লিশ বছর।
তারপর আরেকটি ফুঁ দেওয়া হবে। এরপর আল্লাহ ইসরাফীল -কে জীবিত করে দ্বিতীয় ফুঁ দেওয়ার জন্য তাঁকে নির্দেশ দেবেন। এটিই এ আয়াতে বলা হয়েছে: "তার মধ্যে আরেকটি ফুঁ দেওয়া হবে; আর অমনি তারা (নিজেদের পায়ের উপর) দাঁড়িয়ে (পুনরুত্থান) দেখবে (যা তারা দুনিয়ায় থাকাকালে মিথ্যে মনে করেছিল)।" (সূরা আয-যুমার ৩৯:৬৮)
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, 'জাহান্নাম ও তার রকমারি শাস্তি স্বচক্ষে দেখার পর কাফিরদের মনে হবে, কবরে তাদের যেসব শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা ছিল ঘুমের মতো। ফলে তারা বলবে, "কে আমাদেরকে আমাদের নিদমহল থেকে উঠিয়ে দাঁড় করালো?" (সূরা ইয়াসীন ৩৬:৫২)
আমার বক্তব্য হলো, 'কুরআনে আল্লাহ বলেন, "তাদেরকে সকাল-সন্ধ্যায় জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়; আর কিয়ামাতের দিন (বলা হবে) ফিরআউনের দলবলকে কঠিনতম শান্তির ভেতর ঢুকাও!" (সূরা গাফির/আল-মু'মিন ৪০:৪৬) তারপর বিশুদ্ধ হাদীসে (ও) এমন অনেক বর্ণনা আছে, যা এ আয়াতের ব্যাখ্যায় মুফাস্সিরগণ যা বলেছেন, তার বিশুদ্ধতার ইঙ্গিত বহন করে; যা ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে।'
[১৮৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ بَيْنَ النَّفْخَتَيْنِ أَرْبَعُونَ قَالُوا يَا أَبَا هُرَيْرَةَ أَرْبَعُونَ يَوْمًا قَالَ أَبَيْتُ قَالُوا أَرْبَعُونَ شَهْرًا قَالَ أَبَيْتُ قَالَ ثُمَّ يُنْزِلُ اللَّهُ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَيَنْبُتُونَ كَمَا يَنْبُتُ الْبَقْلُ قَالَ وَلَيْسَ مِنَ الْإِنْسَانِ شَيْءٍ إِلَّا يَبْلَى إِلَّا عَظْمًا وَاحِدًا وَهُوَ عَجْبُ الذَّنَبِ وَفِيهِ يُرَكَّبُ الْخَلْقُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "(শিঙায়) দুই ফুয়ের মাঝখানের সময় চল্লিশ।” তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'আবূ হুরায়রা, চল্লিশ দিন?' তিনি বলেন, 'আমি উত্তর দিলাম না।' তারা বলেন, 'চল্লিশ মাস?' তিনি বলেন, 'আমি উত্তর দিলাম না।' তিনি বলেন, 'তারপর আল্লাহ আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন; এরপর লোকজন এমনভাবে গজিয়ে উঠবে, যেভাবে তৃণলতা গজায়। মানুষের এমন কোনও অংশ নেই, যা নিঃশেষ হবে না; তবে মেরুদণ্ডের প্রান্তভাগের একটি হাড্ডি বাদে, তা থেকে কিয়ামাতের দিন তাকে পুনর্গঠিত করা হবে।[১]
[১৮৬] আবূ মুআবিয়া-এর বর্ণনায় এটুকু বাড়তি বিবরণী রয়েছে: قَالُوا أَرْبَعِينَ سَنَةً قَالَ أَبَيْتُ وَكَأَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ لَمْ يَحْفَظْ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا أَرَادَ بِالْأَرْبَعِينَ وَأَهْلُ التَّفْسِيرِ يَقُولُونَ هِيَ أَرْبَعُونَ سَنَةً
'তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'চল্লিশ বছর?' তিনি বলেন, 'আমি উত্তর দিলাম না।[২] (উত্তর না দেওয়ার কারণ,) নবি চল্লিশ দ্বারা কী বুঝিয়েছিলেন, তা সম্ভবত আবূ হুয়ায়রা মনে রাখতে পারেননি। কুরআন ব্যখ্যাকারীগণ বলেন, 'সেটি হলো চল্লিশ বছর।'
[১৮৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, بَيْنَمَا يَهُودِيٌّ يَعْرِضُ سِلْعَةً فَأُعْطِيَ بِهَا شَيْئًا كَرِهَهُ أَوْ لَمْ يَرْضَهُ شَكٍّ عَبْدُ الْعَزِيزِ فَقَالَ لَا وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ فَسَمِعَهُ رَجُلٌ مِنَ الْأَنْصَارِ فَلَطَمَ وَجْهَهُ قَالَ تَقُولُ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَالَ فَذَهَبَ الْيَهُودِيُّ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا أَبَا الْقَاسِمِ إِنَّ لِي ذِمَّةٌ وَعَهْدًا فَمَا بَالُ فُلَانٍ لَطَمَ وَجْهِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِمَ لَطَمْتَ وَجْهَهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ وَالَّذِي اصْطَفَى مُوسَى عَلَى الْبَشَرِ وَأَنْتَ بَيْنَ أَظْهُرِنَا قَالَ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ حَتَّى عُرِفَ الْغَضَبُ فِي وَجْهِهِ ثُمَّ قَالَ لَا تُفَضِّلُوا بَيْنَ أَنْبِيَاءِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَاوَاتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نُفِخَ فِيهِ أُخْرَى فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ بُعِثَ أَوْ فِي أَوَّلِ مَنْ بُعِثَ فَإِذَا مُوسَى آخِذُ بِالْعَرْشِ فَلَا أَدْرِى أَحُوسِبَ بِصَعْقَةِ الطُّورِ أَوْ بُعِثَ قَبْلِي وَلَا أَقُولُ إِنَّ أَحَدًا أَفْضَلُ مِنْ
'এক ইয়াহূদি কিছু পণ্য বিক্রি করছে। বিনিময় হিসেবে তাকে যা দেওয়া হলো, তা তার অপছন্দ, কিংবা সে তাতে রাজি নয়। ('অপছন্দ' নাকি 'অসন্তুষ্ট', এ নিয়ে বর্ণনাকারী আব্দুল আযীযের মনে সংশয় রয়েছে।) ইয়াহুদি বলে উঠে, 'না, শপথ ওই সত্তার, যিনি মূসাকে মানবজাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।'
এক আনসার সাহাবি এ কথা শুনে, তার চেহারায় ঘুষি মেরে বলে, 'আল্লাহর রাসূল আমাদের মাঝে থাকতেই তুমি বলছ- 'শ শপথ ওই সত্তার, যিনি মূসা-কে মানবজাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন!' ইয়াহুদি আল্লাহর রাসূল -এর কাছে গিয়ে বলে, 'ওহে আবুল কাসিম, আমি তো নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ও চুক্তিবদ্ধ এক ব্যক্তি। অমুক কেমন করে আমার চেহারায় ঘুষি মারে?' আল্লাহর রাসূল বলেন, 'তুমি তার চেহারায় ঘুষি মেরেছ কেন?' তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, সে বলে, 'শপথ ওই সত্তার, যিনি মূসা-কে মানবজাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন'। অথচ আপনি এখনও আমাদের মাঝে বিদ্যমান!' এ জবাব শুনে আল্লাহর রাসূল রেগে যান। রাগের চিহ্ন তাঁর চেহারায় স্পষ্ট হয়ে উঠে। তারপর তিনি বলেন, "তোমরা আল্লাহর নবিদের মধ্যে একজনকে অপরজনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিও না। কারণ, শিঙায় ফুঁ দেওয়া হলে, আকাশ ও পৃথিবীর সবাই অচেতন হয়ে পড়বে, আল্লাহ যাদের চাইবেন তাদের বাদে। তারপর শিঙায় আরেকবার ফুঁ দেওয়া হলে, পুনরুত্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আমি হব প্রথম ব্যক্তি, (কিংবা তিনি বলেছেন) পুনরুত্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে আমি থাকব প্রথম দিকে। তখন দেখব, মূসা আরশ ধরে রেখেছেন। আমি জানব না, তূর পাহাড়ে তিনি যে অচেতনতার মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা-ই তাঁর জন্য যথেষ্ট ছিল, নাকি তাঁকে আমার পূর্বে পুনরুত্থিত করা হয়েছে। আর আমি (এটিও) বলি না যে, কেউ (নবি) ইউনুস ইবনু মাত্তা'র চেয়ে উত্তম।” [১]

টিকাঃ
[১] ইবনু মাজাহ, ৪২৬৬ (সংক্ষেপে); তানবীরুল হাওয়ালিক, ১/২০৮。
[২] বুখারি, ৪৪১৪; মুসলিম, ২৫৫১。
[১] মুসলিম, ২৩৭৩; ইবনু মাজাহ, ৪২৭৪; বুখারি, ৩৪১৪。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00