📄 সূরা আল-মূলক: কবরে শাস্তি-প্রতিরোধক
সূরা আল-মুল্ক পাঠ করলে, তা কবরের শাস্তি প্রতিরোধ করবে-এই মর্মে আশা করা যায়।
[১২০] আবদুল্লাহ বলেন, تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَأُتِيَ مِنْ جَوَانِبِ قَبْرِهِ فَجَعَلَتْ سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ تُجَادِلُ عَنْهُ حَتَّى مَنَعَتْهُ قَالَ فَنَظَرْتُ أَنَا وَمَسْرُوقُ فَإِذَا هِيَ سُورَةُ الْمُلْكِ
'এক ব্যক্তি মারা গেলে, তাকে তার কবরের বিভিন্ন দিক দিয়ে (কবরে) আনা হয়। তখন কুরআনের একটি সূরা তার পক্ষে তর্ক করে তাকে সুরক্ষা দেয়। আমি ও মাসরূক তাকিয়ে দেখি, তা হলো সূরা আল-মুল্ক।'
[১২১] মাসরূক থেকে বর্ণিত, 'আবদুল্লাহ বলেন, جَادَلَتْ سُورَةُ تَبَارَكَ عَنْ صَاحِبِهَا حَتَّى أَدْخَلَتْهُ الْجَنَّةَ
'সূরা আল-মুল্ক তার তিলাওয়াতকারীর পক্ষে তর্ক করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে।'
[১২২] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سُورَةُ تَبَارَكَ هِيَ الْمَانِعَةُ تَمْنَعُ بِإِذْنِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ أُتِيَ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَقَالَتْ لَهُ لَا سَبِيلَ لَكَ عَلَى هَذَا إِنَّهُ كَانَ قَدْ دَعَا فِي سُورَةٍ الْمُلْكِ وَأُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَقَالَتْ رِجْلَاهُ لَا سَبِيلَ لَكُمْ عَلَى هَذَا إِنَّهُ كَانَ يَقُومُ بِي بِسُورَةِ الْمُلْكِ فَمَنَعَتْهُ بِإِذْنِ اللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَهِيَ فِي التَّوْرَاةِ سُورَةُ الْمُلْكِ مَنْ قَرَأَهَا فِي لَيْلَةٍ فَقَدْ أَكْثَرَ وَأَطَابَ
'সূরা আল-মুল্ক হলো প্রতিরোধক; আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে এই সূরা কবরের শাস্তি প্রতিরোধ করবে। এক ব্যক্তিকে তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলো। মাথা বলল, তোমার জন্য এর কাছে আসার কোনও জায়গা নেই, সে সূরা আল-মুল্ক পাঠ করে (আল্লাহকে) ডেকেছে; তার দু' পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে পা দু'টি বলল, তোমাদের জন্য এর কাছে আসার কোনও জায়গা নেই, সে আমাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে (সালাতে) সূরা আল-মুল্ক পাঠ করত। এভাবে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে, এটি তার পাঠকারীকে কবরের শাস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখল। তাওরাতে আছে: সূরা আল-মূলক (এমন এক সূরা), যে-ব্যক্তি রাতে তা পাঠ করে, সে উত্তম কাজ করে এবং বিপুল কল্যাণ লাভ করে।'
[১২৩] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, صَوَّبَ بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ خِبَاءَهُ عَلَى قَبْرٍ وَهُوَ لَا يَحْسَبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانُ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ حَتَّى خَتَمَهَا فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ضَرَبْتُ حِبَابِي عَلَى قَبْرٍ وَأَنَا لَا أَحْسَبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانُ يَقْرَأُ سُورَةَ الْمُلْكِ حَتَّى خَتَمَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْجِيَةُ تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল -এর কোনও এক সাহাবি একটি কবরের উপর তাঁবু টানান। তিনি জানতেন না যে, এটি একটি কবর। তিনি আচমকা খেয়াল করেন, এর ভেতর এক ব্যক্তি সূরা আল-মুল্ক পাঠ করছে। পাঠ শেষ হলে, তিনি আল্লাহর রাসূল -এর কাছে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি একটি কবরের উপর তাঁবু টানিয়েছিলাম; বুঝতে পারিনি যে, সেটি একটি কবর। আচমকা খেয়াল করি যে, এর ভেতর এক ব্যক্তি সূরা আল-মুল্ক পাঠ করছে। সে পুরো সূরাটি পাঠ করেছে।' আল্লাহর রাসূল বলেন, "এটি প্রতিরোধক; এটি সুরক্ষাদাতা-পাঠকারীকে কবরের শাস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখে।”
[১২৪] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْقُرْآنِ سُورَةٌ ثَلَاثُونَ آيَةٌ شَفَعَتْ لِصَاحِبِهَا حَتَّى غُفِرَ لَهُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ 'নবি বলেন, "কুরআনে তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো (সূরা আল-মুল্ক, যার শুরু হয়েছে এ আয়াত দিয়ে:) 'বরকতময় সেই সত্তা, যার হাতে (সবকিছুর) রাজত্ব; আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [১]
টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ২/৪৯৮। যাহাবি এটিকে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন。
[২] তিরমিযি, ২০৫৩। ইসনাদের একজন বর্ণনাকারী দুর্বল। (ইমাম বাইহাকি)
[১] তিরমিযি, ৩০৫৩; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/৪৯৭。
📄 অভ্যন্তরীণ পীড়ায় মৃত্যু: কবরে নিরাপত্তা লাভের সম্ভাবনা
পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, তার কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
[১২৫] আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَخَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ فَذَكَرَا رَجُلًا مَاتَ فِي بَطْنِهِ فَأَحَبًّا أَنْ يَحْضُرَا جِنَازَتَهُ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ أَوَ لَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الَّذِي يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ لَنْ يُعَذِّبَ فِي قَبْرِهِ قَالَ بَلَى
'আমি তখন সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও খালিদ ইবনু উরফুতা -এর কাছে বসা। তারা এক লোকের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এক লোক পেটের পীড়ায় মারা গিয়েছে। তারা দু'জনই তার জানাযায় হাজির হতে চান। তখন তাদের একজন অপরজনকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শোননি-"পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, কবরে তাকে কখনও শাস্তি দেওয়া হবে না?" অপরজন বলেন, 'অবশ্যই শুনেছি।'[১]
[১২৬] আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াসার জুহানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
جَلَسْتُ إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَخَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ فَقَالَ سُلَيْمَانُ لِلَّهِ أَبُوكَ أَمَا كُنْتَ تُؤْذِنُنَا بِذَاكَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ نَشْهَدُ جِنَازَتَهُ فَقَالَ كُنَّا مُحِيِّينَ وَكَانَ مَبْطُونًا فَبَادَرْنَاهُ فَأَقْبَلَ سُلَيْمَانُ عَلَى خَالِدٍ فَقَالَ أَمَا سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ لَمْ يُعَذِّبْ فِي قَبْرِهِ قَالَ نَعَمْ
'আমি সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও খালিদ ইবনু উরফুতা -এর কাছে বসে ছিলাম। তখন সুলাইমান বলেন, 'তোমার পিতা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হোক! তুমি কি ওই সৎ লোকটির ব্যাপারে আমাদের অবহিত করতে না? আমরা তার জানাযায় যাব।' তিনি বলেন, 'আমরা আঁচ করতে পেরেছিলাম, সে অভ্যন্তরীণ পীড়ায় ভুগছে।' এরপর আমরা তার (জানাযার) উদ্দেশে রওয়ানা হই। তখন খালিদের সামনে এসে সুলাইমান বলেন, 'তুমি কি নবি -কে বলতে শোননি-"পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, কবরে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না?" তিনি বলেন, 'হ্যাঁ! (শুনেছি)। [১]
[১২৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ مَرِيضًا مَاتَ شَهِيدًا أَوْ وُقِيَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ زَادَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَأَبُو سَعِيدٍ فِي رِوَايَتِهِمَا وَغُدِى وَرِيحَ عَلَيْهِ بِرِزْقٍ مِنَ الْجَنَّةِ
'নবি বলেন, "যে-ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়, সে শহীদ অবস্থায় মারা যায়, অথবা কবরের শাস্তি থেকে তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়।”'
আবূ আবদিল্লাহ ও আবূ সাঈদ এ-এর বর্ণনায় আরও বাড়তি বলা হয়েছে, "সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে জান্নাতের জীবনোপকরণ হাজির করা হয়।”
টিকাঃ
[১] নাসাঈ, ৪/৯৮; আহমাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১৩৩。
[১] তিরমিযি, ১০৭০। অনুরূপ অর্থবিশিষ্ট আরেকটি হাদীসের জন্য দেখুন: নাসাঈ, ৪/৯৮。
📄 শুক্রবারে মৃত্যু: কবরের পরীক্ষা থেকে নিষ্কৃতির সম্ভাবনা
শুক্রবার রাতে মৃত্যু হলে কবরের পরীক্ষা থেকে মুক্তি পাওয়ার আশা করা যায়:
[১২৮] আবূ আবদির রহমান ইবনি মুহরিম বলেন,
أَنَّ ابْنَا لِعِيَاضِ بْنِ عُقْبَةَ تُوُفِّيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ فَاشْتَدَّ وَجْدُهُ عَلَيْهِ فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ مِنَ الصِّدَفِ يَا أَبَا يَحْيَى أَلَا أُبَشِّرُكَ بِشَيْءٍ سَمِعْتُهُ مِنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ سَمِعْتُهُ يَقُولُ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَمُوتُ فِي لَيْلَةِ الْجُمُعَةِ إِلَّا بَرِئَ مِنَ فِتْنَةِ الْقَبْرِ
'ইয়াদ ইবনু উকবা'র এক ছেলে শুক্রবার রাতে মারা যায়। পুত্র-বিয়োগের শোক তার জন্য অত্যন্ত ভারী হয়ে উঠলে, সিদাফ এলাকার এক লোক তাকে বলেন, "আবূ ইয়াহইয়া, আমি কি তোমাকে এমন একটি বিষয়ের সুসংবাদ দেবো না, যা আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস -এর কাছ থেকে শুনেছি? আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, 'যে কোনও অনুগত বান্দা (মুসলিম) শুক্রবার রাতে মারা গেলে, সে কবরের পরীক্ষা থেকে মুক্ত থাকবে।' "[১]
[১২৯] আবূ কাবীল মিশরি বলেন,
سَمِعْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ مَاتَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وُقِيَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ
'আমি আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস -কে বলতে শুনেছি, আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "শুক্রবার রাতে কিংবা দিনে কোনও ব্যক্তি মারা গেলে, তাকে কবরের পরীক্ষা থেকে বাঁচিয়ে দেওয়া হবে।”'
[১৩০] সিনান ইবনু আবদির রহমান সিদাফি বলেন,
أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ كَانَ يَقُولُ مَنْ تُوُفِّيَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ وُقِيَ الْفَتَانَ
'আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনিল আস বলতেন, "যে-ব্যক্তি শুক্রবার রাতে কিংবা দিনে মারা যায়, তাকে মহাপরীক্ষক থেকে বাচিয়ে দেওয়া হয়।”'
[১৩১] ইকরিমা ইবনু খালিদ মাখযূমি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, مَنْ مَاتَ يَوْمَ الْجُمُعَةِ أَوْ لَيْلَةَ الْجُمُعَةِ خُتِمَ بِخَاتَمِ الْإِيْمَانِ وَوُقِيَ عَذَابَ الْقَبْرِ
'যে-ব্যক্তি শুক্রবার দিনে কিংবা রাতে মারা যায়, তার উপর ঈমানের সীলমোহর লাগিয়ে দেওয়া হয় এবং তাকে কবরের শাস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়।'
টিকাঃ
[১] তিরমিযি, ১০৮০; ত্বহাবি, মুশকিলুল আসার, ১/১০৮; আল-মাতালিবুল আলিয়াহ, ২/২৩০, হাদীস নং ৮০৮。
📄 কবরের পরীক্ষা থেকে সুরক্ষা পাওয়ার দুআ
জানাযার সালাতে নবি দুআ করেছেন, যেন কবরবাসীর জন্য কবরটিকে প্রশস্ত করে দেওয়া হয় এবং তাকে কবরের পরীক্ষা থেকে সুরক্ষিত রাখা হয়।
[১৩২] আউফ ইবনু মালিক আব্জায়ী থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَصَلَّى عَلَى جِنَازَةٍ يَقُولُ اللَّهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ وَاعْفُ عَنْهُ وَعَافِهِ وَأَكْرِمْ نُزُلَهُ وَأَوْسِعْ مُدْخَلَهُ وَاغْسِلْهُ بِمَاءٍ وَثَلْجِ وَبَرَدٍ وَنَقِهِ مِنَ الْخَطَايَا كَمَا يُنَقَّى الثَّوْبُ الْأَبْيَضُ مِنَ الدَّنَسِ وَأَبْدِلْهُ دَارًا خَيْرًا مِنْ دَارِهِ وَأَهْلًا خَيْرًا مِنْ أَهْلِهِ وَزَوْجًا خَيْرًا مِنْ زَوْجِهِ وَقِهِ فِتْنَةَ الْقَبْرِ وَعَذَابَ النَّارِ قَالَ عَوْفٌ فَتَمَنَّيْتُ أَنْ لَوْ كُنْتُ أَنَا ذَاكَ الْمَيِّتَ لِدُعَاءِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِذَلِكَ الْمَيِّتِ
'আল্লাহর রাসূল একটি জানাযা পড়ান। (তখন) আমি তাঁকে বলতে শুনি, "হে আল্লাহ, তুমি
* তাকে ক্ষমা করো, তার প্রতি দয়া দেখাও; * তার ভুলত্রুটি মার্জনা করো; * তাকে (বিপদ-মুসিবত থেকে) মুক্তি দাও; * তাকে সম্মানজনক বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দাও; * তার প্রবেশগৃহ (কবর) প্রশস্ত করে দাও; * পানি, বরফ ও শীতল (বস্তু) দিয়ে তাকে ধুয়ে দাও; * তার ভুলত্রুটিগুলো থেকে তাকে পরিচ্ছন্ন করো, যেভাবে সাদা কাপড় ময়লামুক্ত করা হয়; * তার (বর্তমান) আবাস, পরিবার ও জোড়ার চেয়ে উত্তম আবাস, পরিবার ও জোড়া দান করো; এবং * তাকে কবরের পরীক্ষা ও জাহান্নামের শাস্তি থেকে বাঁচাও!"
আউফ বলেন, আল্লাহর রাসূল ওই মৃতব্যক্তির জন্য যে (আবেগময়) দুআ করলেন, তা দেখে আমার মধ্যে ঈর্ষা জাগে—ইশ, ওই মৃতব্যক্তিটি যদি আমি হতাম!'[১]
[১৩৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَّى عَلَى الْمَنْفُوسِ ثُمَّ قَالَ اللَّهُمَّ أَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'নবি প্রচুর রক্তক্ষরণে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির জানাযা পড়ান। তারপর তিনি বলেন, "হে আল্লাহ, তুমি তাকে কবরের শাস্তি থেকে আশ্রয় দাও!"
টিকাঃ
[১] মুসলিম, ৯৬৩。
[১] সুয়ূতি, জামউল জাওয়ামি', ২/৬৯৪, ৬৯৯。