📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা: কবরে নিরাপদ থাকার উপায়
রিবাত বা 'ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরার দায়িত্ব পালন' করলে কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার প্রত্যাশা করা যায়।
[১১৪] সালমান ফারিসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ كَصِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ فَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ الرِّبَاطُ وَيُؤَمِّنُ مِنَ الْفَتَانِ وَيُقْطَعُ لَهُ رِزْقُ فِي الْجَنَّةِ
'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি, "এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার ন্যায়। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার উপর রিবাত (-এর সুবিধা) চলতে থাকবে; মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ, আর তার জন্য জান্নাতে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে।”
[১১৫] হিশাম ইবনু আব্দিল মালিক নিজের সনদে একই অর্থবোধক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে বলা হয়েছে, নবি বলেন- خَيْرٌ مِنْ صِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ أُجْرِيَ عَلَيْهِ عَمَلُهُ أَوْ جَرَى عَلَيْهِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَأَمِنَ الْفَتَانَ
"এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার চেয়ে অধিক উত্তম। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার আমল চলতে থাকবে, অথবা সে যা করত তা চলতে থাকবে, এবং মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ।” [১]
[১১৬] ফাদালাহ ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الْمُرَابِطَ فَإِنَّهُ يَنْمُو لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤْمِنُ مِنْ فَتَّانِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমলনামা বন্ধ করে দেওয়া হয়; তবে যে ব্যক্তি রিবাত-এর দায়িত্ব পালন করে, তার বিষয়টি ব্যতিক্রম, কারণ কিয়ামাত পর্যন্ত তার আমলের পরিমাণ বাড়তে থাকে; কবরের মহাপরীক্ষক থেকেও সে থাকে নিরাপদ।”
টিকাঃ
[১] মুসলিম, ১৯১৩; নাসাঈ, ৬/৩৯。
[১] আবূ দাউদ, ২/৯; তিরমিযি, ১৬৭১; হাকিম, ২/১৪৪; দারিমি, ২/১৩১。
📄 কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় শহীদ হওয়া
আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হলে, কবরে আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার আশা করা যায়।
[১১৭] আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الَّذِينَ قَتَلُوا أَصْحَابَ بِئْرِ مَعُونَةٍ ثَلَاثِينَ غَدَاةً عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَلِحْيَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ أَنَسُ أَنْزَلَ اللَّهُ فِي الَّذِينَ قُتِلُوا قُرْآنًا ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ بَلَغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ
'বিরে মাউনা'র ঘটনায় যারা সাহাবিদের হত্যা করেছিল, নবি তাদের বিরুদ্ধে একমাস পর্যন্ত ফাজরের সময় বদ-দুআ করেন। (এই বদ-দুআ ছিল) রি'ল, যাকওয়ান, লিহইয়ান ও উসাইয়া গোত্রের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতায় মেতে উঠেছিল। শহীদদের প্রসঙ্গে আল্লাহ কুরআনে আয়াত নাযিল করেছিলেন, যা পরে রহিত করে দেওয়া হয়। (ওই আয়াতটিতে বলা হয়েছিল:) "আমাদের জাতিকে জানিয়ে দাও—আমরা আমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি; তিনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট, আমরাও তাঁর উপর সন্তুষ্ট।” [১]
[১১৮] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أُصِيبَ إِخْوَانُكُمْ بِأُحُدٍ جَعَلَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ تَرِدُ أَنْهَارَ الْجَنَّةِ وَتَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا وَتَأْوِى إِلَى قَنَادِيلَ مِنْ ذَهَبٍ مُعَلَّقَةٍ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ فَلَمَّا وَجَدُوا طِيبَ مَأْكَلِهِمْ وَمَشْرَبِهِمْ وَمَقِيلِهِمْ قَالُوا مَنْ يُبَلِّغُ إِخْوَانَنَا عَنَّا أَنَّا أَحْيَاءٌ فِي الْجَنَّةِ نُرْزَقُ لِئَلَّا يَزْهَدُوا فِي الْجِهَادِ وَلَا يَنْكُلُوا فِي الْحَرْبِ فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا أُبَلِّغُهُمْ عَنْكُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ *
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "তোমাদের ভাইয়েরা যখন উহুদ যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়, তখন আল্লাহ তাদের আত্মাগুলোকে সবুজ পাখির মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। তারা জান্নাতের ঝর্ণাসমূহে ঘুরে বেড়ায়, সেখান থেকে ফল খায় এবং (শেষে) আরশের ছায়ায় ঝুলন্ত সোনালি প্রদীপসমূহে আশ্রয় নেয়। নিজেদের খাবার, পানীয় ও বিশ্রামের মিষ্টতা অনুভব করার পর তারা বলে, 'কে আমাদের ভাইদের এ সংবাদ পৌঁছে দেবে—আমরা জান্নাতে জীবিত; আমাদের জীবিকা সরবরাহ করা হচ্ছে!' যাতে তারা জিহাদ-বিমুখ না হয় এবং যুদ্ধে অনীহা প্রকাশ না করে।” এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ বলেন, "আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত। নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। এবং যেসব ঈমানদার লোক তাদের পরে এ দুনিয়ায় রয়ে গেছে এবং এখনও সেখানে পৌঁছয়নি, তাদের জন্যও কোনও ভয় ও দুঃখের কারণ নেই, একথা জেনে তারা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে। তারা আল্লাহর পুরস্কার ও অনুগ্রহ লাভে আনন্দিত ও উল্লসিত এবং তারা জানতে পেরেছে যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।”' (সূরা আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭১) [১]
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর একটি হাদীস ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। [২]
[১১৯] কাইস জুযামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلْقَتِيلِ عِنْدَ اللَّهِ سِتَّ خِصَالٍ تُغْفَرُ لَهُ خَطِيئَتُهُ فِي أَوَّلِ دَفْقَةٍ مِنْ دَمِهِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيُحَلَّى حُلَّةَ الْكَرَامَةِ وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُؤَمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ وَيُزَوَّجُ مِنَ الْحُورِ الْعَيْنِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "আল্লাহর কাছে শহীদদের ছয়টি বিশেষত্ব রয়েছে:
* তার রক্তের প্রথম প্রবাহের সাথে সাথে তার গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়; * কবরের শাস্তি থেকে তাকে সুরক্ষিত রাখা হয়; * তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হয়; * জান্নাতে সে তার অবস্থান দেখতে পায়; * মহা আতঙ্ক (কিয়ামাত) থেকে তাকে নিরাপদ রাখা হবে; এবং * ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরের সাথে তাকে বিয়ে দেওয়া হবে।” [১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ৪০৯০-৪০৯৫; মুসলিম, ৬৭৭。
[১] আবূ দাউদ, ২/১৪; হাকিম, ২/৮৮。
[২] এ গ্রন্থের ৫৮ নং হাদীস দ্রষ্টব্য。
[১] তিরমিযি, ১৭১২; ইবনু মাজাহ, ২৭৯৯。
📄 সূরা আল-মূলক: কবরে শাস্তি-প্রতিরোধক
সূরা আল-মুল্ক পাঠ করলে, তা কবরের শাস্তি প্রতিরোধ করবে-এই মর্মে আশা করা যায়।
[১২০] আবদুল্লাহ বলেন, تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَأُتِيَ مِنْ جَوَانِبِ قَبْرِهِ فَجَعَلَتْ سُورَةٌ مِنَ الْقُرْآنِ تُجَادِلُ عَنْهُ حَتَّى مَنَعَتْهُ قَالَ فَنَظَرْتُ أَنَا وَمَسْرُوقُ فَإِذَا هِيَ سُورَةُ الْمُلْكِ
'এক ব্যক্তি মারা গেলে, তাকে তার কবরের বিভিন্ন দিক দিয়ে (কবরে) আনা হয়। তখন কুরআনের একটি সূরা তার পক্ষে তর্ক করে তাকে সুরক্ষা দেয়। আমি ও মাসরূক তাকিয়ে দেখি, তা হলো সূরা আল-মুল্ক।'
[১২১] মাসরূক থেকে বর্ণিত, 'আবদুল্লাহ বলেন, جَادَلَتْ سُورَةُ تَبَارَكَ عَنْ صَاحِبِهَا حَتَّى أَدْخَلَتْهُ الْجَنَّةَ
'সূরা আল-মুল্ক তার তিলাওয়াতকারীর পক্ষে তর্ক করে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়েছে।'
[১২২] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سُورَةُ تَبَارَكَ هِيَ الْمَانِعَةُ تَمْنَعُ بِإِذْنِ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ أُتِيَ رَجُلٌ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَقَالَتْ لَهُ لَا سَبِيلَ لَكَ عَلَى هَذَا إِنَّهُ كَانَ قَدْ دَعَا فِي سُورَةٍ الْمُلْكِ وَأُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَقَالَتْ رِجْلَاهُ لَا سَبِيلَ لَكُمْ عَلَى هَذَا إِنَّهُ كَانَ يَقُومُ بِي بِسُورَةِ الْمُلْكِ فَمَنَعَتْهُ بِإِذْنِ اللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَهِيَ فِي التَّوْرَاةِ سُورَةُ الْمُلْكِ مَنْ قَرَأَهَا فِي لَيْلَةٍ فَقَدْ أَكْثَرَ وَأَطَابَ
'সূরা আল-মুল্ক হলো প্রতিরোধক; আল্লাহ তাআলার অনুমতিক্রমে এই সূরা কবরের শাস্তি প্রতিরোধ করবে। এক ব্যক্তিকে তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলো। মাথা বলল, তোমার জন্য এর কাছে আসার কোনও জায়গা নেই, সে সূরা আল-মুল্ক পাঠ করে (আল্লাহকে) ডেকেছে; তার দু' পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে পা দু'টি বলল, তোমাদের জন্য এর কাছে আসার কোনও জায়গা নেই, সে আমাকে নিয়ে দাঁড়িয়ে (সালাতে) সূরা আল-মুল্ক পাঠ করত। এভাবে, আল্লাহর অনুমতিক্রমে, এটি তার পাঠকারীকে কবরের শাস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখল। তাওরাতে আছে: সূরা আল-মূলক (এমন এক সূরা), যে-ব্যক্তি রাতে তা পাঠ করে, সে উত্তম কাজ করে এবং বিপুল কল্যাণ লাভ করে।'
[১২৩] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, صَوَّبَ بَعْضُ أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ خِبَاءَهُ عَلَى قَبْرٍ وَهُوَ لَا يَحْسَبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانُ يَقْرَأُ سُورَةَ تَبَارَكَ حَتَّى خَتَمَهَا فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي ضَرَبْتُ حِبَابِي عَلَى قَبْرٍ وَأَنَا لَا أَحْسَبُ أَنَّهُ قَبْرٌ فَإِذَا فِيهِ إِنْسَانُ يَقْرَأُ سُورَةَ الْمُلْكِ حَتَّى خَتَمَهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هِيَ الْمَانِعَةُ هِيَ الْمُنْجِيَةُ تُنْجِيهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল -এর কোনও এক সাহাবি একটি কবরের উপর তাঁবু টানান। তিনি জানতেন না যে, এটি একটি কবর। তিনি আচমকা খেয়াল করেন, এর ভেতর এক ব্যক্তি সূরা আল-মুল্ক পাঠ করছে। পাঠ শেষ হলে, তিনি আল্লাহর রাসূল -এর কাছে এসে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি একটি কবরের উপর তাঁবু টানিয়েছিলাম; বুঝতে পারিনি যে, সেটি একটি কবর। আচমকা খেয়াল করি যে, এর ভেতর এক ব্যক্তি সূরা আল-মুল্ক পাঠ করছে। সে পুরো সূরাটি পাঠ করেছে।' আল্লাহর রাসূল বলেন, "এটি প্রতিরোধক; এটি সুরক্ষাদাতা-পাঠকারীকে কবরের শাস্তি থেকে সুরক্ষিত রাখে।”
[১২৪] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي الْقُرْآنِ سُورَةٌ ثَلَاثُونَ آيَةٌ شَفَعَتْ لِصَاحِبِهَا حَتَّى غُفِرَ لَهُ تَبَارَكَ الَّذِي بِيَدِهِ الْمُلْكُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ 'নবি বলেন, "কুরআনে তিরিশ আয়াতবিশিষ্ট একটি সূরা আছে, যা তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সেটি হলো (সূরা আল-মুল্ক, যার শুরু হয়েছে এ আয়াত দিয়ে:) 'বরকতময় সেই সত্তা, যার হাতে (সবকিছুর) রাজত্ব; আর তিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান।” [১]
টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুসতাদরাক, ২/৪৯৮। যাহাবি এটিকে সহীহ্ আখ্যায়িত করেছেন。
[২] তিরমিযি, ২০৫৩। ইসনাদের একজন বর্ণনাকারী দুর্বল। (ইমাম বাইহাকি)
[১] তিরমিযি, ৩০৫৩; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/৪৯৭。
📄 অভ্যন্তরীণ পীড়ায় মৃত্যু: কবরে নিরাপত্তা লাভের সম্ভাবনা
পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, তার কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
[১২৫] আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنْتُ جَالِسًا عِنْدَ سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَخَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ فَذَكَرَا رَجُلًا مَاتَ فِي بَطْنِهِ فَأَحَبًّا أَنْ يَحْضُرَا جِنَازَتَهُ فَقَالَ أَحَدُهُمَا لِلْآخَرِ أَوَ لَمْ تَسْمَعْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ إِنَّ الَّذِي يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ لَنْ يُعَذِّبَ فِي قَبْرِهِ قَالَ بَلَى
'আমি তখন সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও খালিদ ইবনু উরফুতা -এর কাছে বসা। তারা এক লোকের কথা আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এক লোক পেটের পীড়ায় মারা গিয়েছে। তারা দু'জনই তার জানাযায় হাজির হতে চান। তখন তাদের একজন অপরজনকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শোননি-"পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, কবরে তাকে কখনও শাস্তি দেওয়া হবে না?" অপরজন বলেন, 'অবশ্যই শুনেছি।'[১]
[১২৬] আবদুল্লাহ ইবনু ইয়াসার জুহানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
جَلَسْتُ إِلَى سُلَيْمَانَ بْنِ صُرَدٍ وَخَالِدِ بْنِ عُرْفُطَةَ فَقَالَ سُلَيْمَانُ لِلَّهِ أَبُوكَ أَمَا كُنْتَ تُؤْذِنُنَا بِذَاكَ الرَّجُلِ الصَّالِحِ نَشْهَدُ جِنَازَتَهُ فَقَالَ كُنَّا مُحِيِّينَ وَكَانَ مَبْطُونًا فَبَادَرْنَاهُ فَأَقْبَلَ سُلَيْمَانُ عَلَى خَالِدٍ فَقَالَ أَمَا سَمِعْتَ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ مَنْ يَقْتُلُهُ بَطْنُهُ لَمْ يُعَذِّبْ فِي قَبْرِهِ قَالَ نَعَمْ
'আমি সুলাইমান ইবনু সুরাদ ও খালিদ ইবনু উরফুতা -এর কাছে বসে ছিলাম। তখন সুলাইমান বলেন, 'তোমার পিতা আল্লাহর জন্য নিবেদিত হোক! তুমি কি ওই সৎ লোকটির ব্যাপারে আমাদের অবহিত করতে না? আমরা তার জানাযায় যাব।' তিনি বলেন, 'আমরা আঁচ করতে পেরেছিলাম, সে অভ্যন্তরীণ পীড়ায় ভুগছে।' এরপর আমরা তার (জানাযার) উদ্দেশে রওয়ানা হই। তখন খালিদের সামনে এসে সুলাইমান বলেন, 'তুমি কি নবি -কে বলতে শোননি-"পেটের বা দেহের অভ্যন্তরীণ পীড়ায় যার মৃত্যু হয়, কবরে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না?" তিনি বলেন, 'হ্যাঁ! (শুনেছি)। [১]
[১২৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ مَنْ مَاتَ مَرِيضًا مَاتَ شَهِيدًا أَوْ وُقِيَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ زَادَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَأَبُو سَعِيدٍ فِي رِوَايَتِهِمَا وَغُدِى وَرِيحَ عَلَيْهِ بِرِزْقٍ مِنَ الْجَنَّةِ
'নবি বলেন, "যে-ব্যক্তি অসুস্থ অবস্থায় মারা যায়, সে শহীদ অবস্থায় মারা যায়, অথবা কবরের শাস্তি থেকে তাকে বাঁচিয়ে দেওয়া হয়।”'
আবূ আবদিল্লাহ ও আবূ সাঈদ এ-এর বর্ণনায় আরও বাড়তি বলা হয়েছে, "সকাল-সন্ধ্যায় তার সামনে জান্নাতের জীবনোপকরণ হাজির করা হয়।”
টিকাঃ
[১] নাসাঈ, ৪/৯৮; আহমাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১৩৩。
[১] তিরমিযি, ১০৭০। অনুরূপ অর্থবিশিষ্ট আরেকটি হাদীসের জন্য দেখুন: নাসাঈ, ৪/৯৮。