📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 ঋণের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা

📄 ঋণের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা


[১১০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزَالُ نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ
'নবি বলেন, "মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা হয়।" [১]
[১১১] সামুরা ইবনু জুনদুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ هَاهُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلَانٍ فَنَادَى ثَلَاثًا لَا يُجِيبُهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي مَاتَ مِنْكُمْ قَدِ احْتُبِسَ عَنِ الْجَنَّةِ مِنْ أَجْلِ الدَّيْنِ الَّذِي عَلَيْهِ فَإِنْ شِئْتُمْ فَاقْدُوهُ وَإِنْ شِئْتُمْ فَأَسْلِمُوهُ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ
'আল্লাহর রাসূল একদিন সালাত আদায় শেষে বলেন, "অমুক গোত্রের কেউ আছো এখানে?" এভাবে তিনি তিনবার ডাকেন। (কিন্তু) কেউ সাড়া দেয়নি। তারপর তিনি বলেন, "তোমাদের যে লোকটি মারা গেল, তাকে তার ঋণের দরুন জান্নাত থেকে আটকে রাখা হয়েছে; তার ঋণটি এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তোমরা চাইলে (তার ঋণ পরিশোধ করে) তাকে মুক্ত কর, আর চাইলে তাকে আল্লাহর শাস্তির কাছে ন্যস্ত কর।" '[২]
[১১২] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَغَسَلْنَاهُ وَحَنَّطْنَاهُ وَكَفَّنَّاهُ ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُصَلِّي عَلَيْهِ فَخَطَّ خَطَّا ثُمَّ قَالَ هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَيْنُهُ عَلَى فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم هُمَا عَلَيْكَ حَقُّ الْغَرِيمِ وَبُرْءُ الْمَيِّتِ قَالَ نَعَمْ فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ لَقِيَهُ فِي الْغَدِ فَقَالَ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا مَاتَ أَمْسِ ثُمَّ لَقِيَهُ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ قَضَيْتُهُمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جِلْدُهُ
'এক ব্যক্তি মারা গেলে আমরা তাকে গোসল দিয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে দিই এবং কাফন পরাই। তারপর তাকে নিয়ে নবি ﷺ-এর নিকট আসি; যাতে তিনি তার জানাযা পড়ান। এক পা অগ্রসর হয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?" আমরা বলি, 'হ্যাঁ।' তিনি বলেন, "তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযা পড়ে ফেল।" আবু কাতাদা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিলাম।' নবি ﷺ বলেন, "তোমার উপর কিন্তু দু'টি দায়: ঋণদাতার অধিকার এবং মৃতব্যক্তির দায়মুক্তি।" তিনি বলেন, 'জি, আচ্ছা।' তারপর নবি ﷺ তার জানাযা পড়ান। পরদিন তার সাথে দেখা হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "দীনার দু'টির কী হলো? (অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ করেছ?)" তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, সে তো (মাত্র) গতকাল মারা গেল!' পরদিন আবার দেখা। তিনি জানতে চান, "দীনার দু'টির কী হলো?" তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি দু'টি দায়ই শোধ করে দিয়েছি।' পরিশেষে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "এতক্ষণে তার চামড়া ঠাণ্ডা হলো!" "[১]

টিকাঃ
[১] তিরমিযি, ১০৮৪; হাকিম, ২/২৬, ২৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৪৪0। ইবনু হিব্বান, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যাম্আন, ১১৫৮。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/২৫; ইয়াকূব ইবনু সুইয়ান, আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারীখ, ৩/১২৭; মুসলিম, ১৮৮৬。
[১] আবূ দাউদ, ২/২২১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/৩২০। আহমাদের সনদটি হাসান。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 আল্লাহর আনুগত্য: কবরের শাস্তির বিপরীতে রক্ষাকবচ

📄 আল্লাহর আনুগত্য: কবরের শাস্তির বিপরীতে রক্ষাকবচ


কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার উপায় হলো আল্লাহ তাআলার বিধি-নিষেধের আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَنْ كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُ وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِأَنفُسِهِمْ يَمْهَدُونَ
"যে অবাধ্য হচ্ছে, তার অবাধ্যতার শাস্তি সেই ভোগ করবে। আর যারা সৎকাজ করছে, তারা নিজেদেরই জন্য সুখশয্যা প্রস্তুত করছে।” (আর রূম ৩০:88)
মুজাহিদ বলেন, '(এই আয়াতে 'সুখশয্যা প্রস্তুত করা' বলতে) কবরের কথা বুঝানো হয়েছে।'
[১১৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلَّوْنَ عَنْهُ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ يَسَارِهِ وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَتَقُولُ الصَّلَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ فَتَقُولُ الزَّكَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَتَقُولُ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ مَا قِبَلِي مَدْخَلُ
“মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। সে মুমিন হলে, সালাত তার মাথার কাছে অবস্থান নেয়, সিয়াম থাকে তার ডানে, যাকাত থাকে বামে, আর দান-সদাকাহ, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ থাকে তার দু'পায়ের কাছে। (ফেরেশতাকে) তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলে, সালাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। ডানদিক দিয়ে আনা হলে, সিয়াম বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। বাম দিক দিয়ে আনা হলে, যাকাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। দু' পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে, দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই।[১]
এভাবে তিনি হাদীসটির এক দীর্ঘ বিবরণী পেশ করেন (যার পূর্ণরূপ এ গ্রন্থের ৫২ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে)।

টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭৯; ইবনু হিব্বান, ৮৭১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৩/৫১; বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৮。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা: কবরে নিরাপদ থাকার উপায়

📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা: কবরে নিরাপদ থাকার উপায়


রিবাত বা 'ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরার দায়িত্ব পালন' করলে কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার প্রত্যাশা করা যায়।
[১১৪] সালমান ফারিসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ كَصِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ فَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ الرِّبَاطُ وَيُؤَمِّنُ مِنَ الْفَتَانِ وَيُقْطَعُ لَهُ رِزْقُ فِي الْجَنَّةِ
'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি, "এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার ন্যায়। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার উপর রিবাত (-এর সুবিধা) চলতে থাকবে; মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ, আর তার জন্য জান্নাতে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে।”
[১১৫] হিশাম ইবনু আব্দিল মালিক নিজের সনদে একই অর্থবোধক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে বলা হয়েছে, নবি বলেন- خَيْرٌ مِنْ صِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ أُجْرِيَ عَلَيْهِ عَمَلُهُ أَوْ جَرَى عَلَيْهِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَأَمِنَ الْفَتَانَ
"এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার চেয়ে অধিক উত্তম। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার আমল চলতে থাকবে, অথবা সে যা করত তা চলতে থাকবে, এবং মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ।” [১]
[১১৬] ফাদালাহ ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الْمُرَابِطَ فَإِنَّهُ يَنْمُو لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤْمِنُ مِنْ فَتَّانِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমলনামা বন্ধ করে দেওয়া হয়; তবে যে ব্যক্তি রিবাত-এর দায়িত্ব পালন করে, তার বিষয়টি ব্যতিক্রম, কারণ কিয়ামাত পর্যন্ত তার আমলের পরিমাণ বাড়তে থাকে; কবরের মহাপরীক্ষক থেকেও সে থাকে নিরাপদ।”

টিকাঃ
[১] মুসলিম, ১৯১৩; নাসাঈ, ৬/৩৯。
[১] আবূ দাউদ, ২/৯; তিরমিযি, ১৬৭১; হাকিম, ২/১৪৪; দারিমি, ২/১৩১。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় শহীদ হওয়া

📄 কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার উপায় শহীদ হওয়া


আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হলে, কবরে আল্লাহর শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার আশা করা যায়।
[১১৭] আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَعَا النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى الَّذِينَ قَتَلُوا أَصْحَابَ بِئْرِ مَعُونَةٍ ثَلَاثِينَ غَدَاةً عَلَى رِعْلٍ وَذَكْوَانَ وَلِحْيَانَ وَعُصَيَّةَ عَصَتِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ قَالَ أَنَسُ أَنْزَلَ اللَّهُ فِي الَّذِينَ قُتِلُوا قُرْآنًا ثُمَّ نُسِخَ بَعْدُ بَلَغُوا قَوْمَنَا أَنْ قَدْ لَقِينَا رَبَّنَا فَرَضِيَ عَنَّا وَرَضِينَا عَنْهُ
'বিরে মাউনা'র ঘটনায় যারা সাহাবিদের হত্যা করেছিল, নবি তাদের বিরুদ্ধে একমাস পর্যন্ত ফাজরের সময় বদ-দুআ করেন। (এই বদ-দুআ ছিল) রি'ল, যাকওয়ান, লিহইয়ান ও উসাইয়া গোত্রের বিরুদ্ধে, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্যতায় মেতে উঠেছিল। শহীদদের প্রসঙ্গে আল্লাহ কুরআনে আয়াত নাযিল করেছিলেন, যা পরে রহিত করে দেওয়া হয়। (ওই আয়াতটিতে বলা হয়েছিল:) "আমাদের জাতিকে জানিয়ে দাও—আমরা আমাদের রবের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি; তিনি আমাদের উপর সন্তুষ্ট, আমরাও তাঁর উপর সন্তুষ্ট।” [১]
[১১৮] আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَمَّا أُصِيبَ إِخْوَانُكُمْ بِأُحُدٍ جَعَلَ اللَّهُ أَرْوَاحَهُمْ فِي جَوْفِ طَيْرٍ خُضْرٍ تَرِدُ أَنْهَارَ الْجَنَّةِ وَتَأْكُلُ مِنْ ثِمَارِهَا وَتَأْوِى إِلَى قَنَادِيلَ مِنْ ذَهَبٍ مُعَلَّقَةٍ فِي ظِلِّ الْعَرْشِ فَلَمَّا وَجَدُوا طِيبَ مَأْكَلِهِمْ وَمَشْرَبِهِمْ وَمَقِيلِهِمْ قَالُوا مَنْ يُبَلِّغُ إِخْوَانَنَا عَنَّا أَنَّا أَحْيَاءٌ فِي الْجَنَّةِ نُرْزَقُ لِئَلَّا يَزْهَدُوا فِي الْجِهَادِ وَلَا يَنْكُلُوا فِي الْحَرْبِ فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى أَنَا أُبَلِّغُهُمْ عَنْكُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ * يَسْتَبْشِرُونَ بِنِعْمَةٍ مِّنَ اللَّهِ وَفَضْلٍ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يُضِيعُ أَجْرَ الْمُؤْمِنِينَ *
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "তোমাদের ভাইয়েরা যখন উহুদ যুদ্ধে বিপর্যস্ত হয়, তখন আল্লাহ তাদের আত্মাগুলোকে সবুজ পাখির মধ্যে ঢুকিয়ে দেন। তারা জান্নাতের ঝর্ণাসমূহে ঘুরে বেড়ায়, সেখান থেকে ফল খায় এবং (শেষে) আরশের ছায়ায় ঝুলন্ত সোনালি প্রদীপসমূহে আশ্রয় নেয়। নিজেদের খাবার, পানীয় ও বিশ্রামের মিষ্টতা অনুভব করার পর তারা বলে, 'কে আমাদের ভাইদের এ সংবাদ পৌঁছে দেবে—আমরা জান্নাতে জীবিত; আমাদের জীবিকা সরবরাহ করা হচ্ছে!' যাতে তারা জিহাদ-বিমুখ না হয় এবং যুদ্ধে অনীহা প্রকাশ না করে।” এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ বলেন, "আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত। নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। এবং যেসব ঈমানদার লোক তাদের পরে এ দুনিয়ায় রয়ে গেছে এবং এখনও সেখানে পৌঁছয়নি, তাদের জন্যও কোনও ভয় ও দুঃখের কারণ নেই, একথা জেনে তারা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে। তারা আল্লাহর পুরস্কার ও অনুগ্রহ লাভে আনন্দিত ও উল্লসিত এবং তারা জানতে পেরেছে যে, আল্লাহ মুমিনদের প্রতিদান নষ্ট করেন না।”' (সূরা আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭১) [১]
এ বিষয়ে আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ-এর একটি হাদীস ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। [২]
[১১৯] কাইস জুযামি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لِلْقَتِيلِ عِنْدَ اللَّهِ سِتَّ خِصَالٍ تُغْفَرُ لَهُ خَطِيئَتُهُ فِي أَوَّلِ دَفْقَةٍ مِنْ دَمِهِ وَيُجَارُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَيُحَلَّى حُلَّةَ الْكَرَامَةِ وَيَرَى مَقْعَدَهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَيُؤَمَنُ مِنَ الْفَزَعِ الْأَكْبَرِ وَيُزَوَّجُ مِنَ الْحُورِ الْعَيْنِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "আল্লাহর কাছে শহীদদের ছয়টি বিশেষত্ব রয়েছে:
* তার রক্তের প্রথম প্রবাহের সাথে সাথে তার গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়; * কবরের শাস্তি থেকে তাকে সুরক্ষিত রাখা হয়; * তাকে মর্যাদার পোশাক পরানো হয়; * জান্নাতে সে তার অবস্থান দেখতে পায়; * মহা আতঙ্ক (কিয়ামাত) থেকে তাকে নিরাপদ রাখা হবে; এবং * ডাগর চক্ষুবিশিষ্ট হুরের সাথে তাকে বিয়ে দেওয়া হবে।” [১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ৪০৯০-৪০৯৫; মুসলিম, ৬৭৭。
[১] আবূ দাউদ, ২/১৪; হাকিম, ২/৮৮。
[২] এ গ্রন্থের ৫৮ নং হাদীস দ্রষ্টব্য。
[১] তিরমিযি, ১৭১২; ইবনু মাজাহ, ২৭৯৯。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00