📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 আত্মহত্যার দরুন কবরে শাস্তি

📄 আত্মহত্যার দরুন কবরে শাস্তি


[১০৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى خَيْبَرَ فَلَمْ نَغْنَمْ ذَهَبًا وَلَا فِضَّةٌ إِنَّمَا غَنِمْنَا الْمَتَاعَ وَالْأَمْوَالَ ثُمَّ انْصَرَفْنَا نَحْوَ وَادِي الْقُرَى وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدُ لَهُ وَهَبَهُ إِيَّاهُ رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي ضَبِيبٍ فَبَيْنَمَا هُوَ يَحُطُ رَحْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَاهُ سَهُمْ عَاثِرُ فَأَصَابَهُ فَمَاتَ فَقَالَ لَهُ النَّاسُ هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي غَلَّهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَانِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَشْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِرَاكَ أَوْ شِرَاكَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِرَاكَ أَوْ شِرَاكَانِ مِنْ نَارٍ
'আমরা আল্লাহর রাসূল -এর সাথে খায়বার অভিযানে বের হই। (সেখানে) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে আমরা কোনও সোনা-রুপা পাইনি; পাই কেবল কিছু জিনিসপত্র ও ধন-সম্পদ। তারপর আমরা আল-কুরা উপত্যকার দিকে রওয়ানা হই। আল্লাহর রাসূল -এর সাথে ছিল তাঁর এক দাস, যা রিফাআ ইবনু যাইদ নামে বানু দাবীব গোত্রের এক লোক তাঁকে উপহার দিয়েছিল। সে আল্লাহর রাসূল -এর বাহনের পিঠ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছে; এমন সময় এক অজ্ঞাতনামা তিরন্দাজের ছোঁড়া একটি তির এসে তার গায়ে বিদ্ধ হয়। এতে সে মারা যায়। তাকে উদ্দেশ্য করে লোকেরা বলে উঠে, 'অভিনন্দন! তার জন্য জান্নাত (অবধারিত)!' এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল বলেন, "কিছুতেই নয়! শপথ সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! খায়বার (জয়ের) দিন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের আগে সেখান থেকে সে যে (জুতা বাঁধার) চামড়ার ফিতাটি আত্মসাৎ করেছে, সেটি তার উপর আগুনের শিখা হয়ে জ্বলে উঠবেই।" এরপর এক ব্যক্তি একটি বা দু'টি (জুতা বাঁধার) চামড়ার ফিতা নিয়ে আল্লাহর রাসূল -এর কাছে আসে। তা দেখে আল্লাহর রাসূল বলেন, "(এই) ফিতা বা ফিতা দু'টি হলো আগুনের।" [১]
[১০৯] আবু রাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ فَيَتَحَدَّثُ عِنْدَهُمْ حَتَّى يَنْحَدِرَ إِلَى الْمَغْرِبِ قَالَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ هَذَا فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بَعَثْتُهُ سَاعِيًا عَلَى بَنِي فُلَانٍ فَغَلَّ نَمِرَةٌ فَدُرِعَ الْآنَ مِثْلَهَا مِنْ نَارٍ
'আসরের সালাত আদায় করে আল্লাহর রাসূল বানু আব্দিল আসহাল গোত্রের লোকদের কাছে যেতেন; তাদের সাথে কথা বলতেন। তারপর মাগরিবের জন্য দ্রুত চলে আসতেন।' এরপর তিনি যে হাদীস উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে-'নবি বলেন, "কিন্তু, এই যে অমুকের ছেলে অমুক; আমি তাকে অমুক গোত্রে পাঠালাম। সে একটি চাদর আত্মসাৎ করল। এর ফলে এখন তাকে তদনুরূপ একটি আগুনের বর্ম পরানো হলো।" "যে

টিকাঃ
[১] বুখারি, ৪২৩৪; আবূ দাউদ, ২/৬২; মুসলিম, ১১৫; তানবীরুল হাওয়ালিক, ২/১৫。
[২] নাসাঈ, ২/৮৯; ইবনু খুযাইমা, সহীহ, ৪/৫২; আহমাদ, ৬/৩৯২。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 ঋণের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা

📄 ঋণের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা


[১১০] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لَا تَزَالُ نَفْسُ الْمُؤْمِنِ مُعَلَّقَةٌ بِدَيْنِهِ حَتَّى يُقْضَى عَنْهُ
'নবি বলেন, "মুমিনের আত্মা তার ঋণের সাথে ঝুলে থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে তা পরিশোধ করা হয়।" [১]
[১১১] সামুরা ইবনু জুনদুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ذَاتَ يَوْمٍ فَقَالَ هَاهُنَا أَحَدٌ مِنْ بَنِي فُلَانٍ فَنَادَى ثَلَاثًا لَا يُجِيبُهُ أَحَدٌ ثُمَّ قَالَ إِنَّ الرَّجُلَ الَّذِي مَاتَ مِنْكُمْ قَدِ احْتُبِسَ عَنِ الْجَنَّةِ مِنْ أَجْلِ الدَّيْنِ الَّذِي عَلَيْهِ فَإِنْ شِئْتُمْ فَاقْدُوهُ وَإِنْ شِئْتُمْ فَأَسْلِمُوهُ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ
'আল্লাহর রাসূল একদিন সালাত আদায় শেষে বলেন, "অমুক গোত্রের কেউ আছো এখানে?" এভাবে তিনি তিনবার ডাকেন। (কিন্তু) কেউ সাড়া দেয়নি। তারপর তিনি বলেন, "তোমাদের যে লোকটি মারা গেল, তাকে তার ঋণের দরুন জান্নাত থেকে আটকে রাখা হয়েছে; তার ঋণটি এখনও পরিশোধ করা হয়নি। তোমরা চাইলে (তার ঋণ পরিশোধ করে) তাকে মুক্ত কর, আর চাইলে তাকে আল্লাহর শাস্তির কাছে ন্যস্ত কর।" '[২]
[১১২] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
تُوُفِّيَ رَجُلٌ فَغَسَلْنَاهُ وَحَنَّطْنَاهُ وَكَفَّنَّاهُ ثُمَّ أَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِيُصَلِّي عَلَيْهِ فَخَطَّ خَطَّا ثُمَّ قَالَ هَلْ عَلَيْهِ دَيْنٌ قُلْنَا نَعَمْ قَالَ صَلُّوا عَلَى صَاحِبِكُمْ فَقَالَ أَبُو قَتَادَةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ دَيْنُهُ عَلَى فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم هُمَا عَلَيْكَ حَقُّ الْغَرِيمِ وَبُرْءُ الْمَيِّتِ قَالَ نَعَمْ فَصَلَّى عَلَيْهِ ثُمَّ لَقِيَهُ فِي الْغَدِ فَقَالَ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا مَاتَ أَمْسِ ثُمَّ لَقِيَهُ مِنَ الْغَدِ فَقَالَ مَا فَعَلَ الدِّينَارَانِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَدْ قَضَيْتُهُمَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْآنَ بَرَدَتْ عَلَيْهِ جِلْدُهُ
'এক ব্যক্তি মারা গেলে আমরা তাকে গোসল দিয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে দিই এবং কাফন পরাই। তারপর তাকে নিয়ে নবি ﷺ-এর নিকট আসি; যাতে তিনি তার জানাযা পড়ান। এক পা অগ্রসর হয়ে তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "তার কি কোনও ঋণ আছে?" আমরা বলি, 'হ্যাঁ।' তিনি বলেন, "তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জানাযা পড়ে ফেল।" আবু কাতাদা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি তার ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব নিলাম।' নবি ﷺ বলেন, "তোমার উপর কিন্তু দু'টি দায়: ঋণদাতার অধিকার এবং মৃতব্যক্তির দায়মুক্তি।" তিনি বলেন, 'জি, আচ্ছা।' তারপর নবি ﷺ তার জানাযা পড়ান। পরদিন তার সাথে দেখা হলে, তিনি জিজ্ঞাসা করেন, "দীনার দু'টির কী হলো? (অর্থাৎ ঋণ পরিশোধ করেছ?)" তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, সে তো (মাত্র) গতকাল মারা গেল!' পরদিন আবার দেখা। তিনি জানতে চান, "দীনার দু'টির কী হলো?" তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, আমি দু'টি দায়ই শোধ করে দিয়েছি।' পরিশেষে আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন, "এতক্ষণে তার চামড়া ঠাণ্ডা হলো!" "[১]

টিকাঃ
[১] তিরমিযি, ১০৮৪; হাকিম, ২/২৬, ২৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৪৪0। ইবনু হিব্বান, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যাম্আন, ১১৫৮。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/২৫; ইয়াকূব ইবনু সুইয়ান, আল-মা'রিফাহ ওয়াত তারীখ, ৩/১২৭; মুসলিম, ১৮৮৬。
[১] আবূ দাউদ, ২/২২১; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/৩২০। আহমাদের সনদটি হাসান。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 আল্লাহর আনুগত্য: কবরের শাস্তির বিপরীতে রক্ষাকবচ

📄 আল্লাহর আনুগত্য: কবরের শাস্তির বিপরীতে রক্ষাকবচ


কবরের শাস্তি থেকে নিরাপদ থাকার উপায় হলো আল্লাহ তাআলার বিধি-নিষেধের আনুগত্য করা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
مَنْ كَفَرَ فَعَلَيْهِ كُفْرُهُ وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا فَلِأَنفُسِهِمْ يَمْهَدُونَ
"যে অবাধ্য হচ্ছে, তার অবাধ্যতার শাস্তি সেই ভোগ করবে। আর যারা সৎকাজ করছে, তারা নিজেদেরই জন্য সুখশয্যা প্রস্তুত করছে।” (আর রূম ৩০:88)
মুজাহিদ বলেন, '(এই আয়াতে 'সুখশয্যা প্রস্তুত করা' বলতে) কবরের কথা বুঝানো হয়েছে।'
[১১৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلَّوْنَ عَنْهُ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ يَسَارِهِ وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَتَقُولُ الصَّلَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ فَتَقُولُ الزَّكَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَتَقُولُ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ مَا قِبَلِي مَدْخَلُ
“মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। সে মুমিন হলে, সালাত তার মাথার কাছে অবস্থান নেয়, সিয়াম থাকে তার ডানে, যাকাত থাকে বামে, আর দান-সদাকাহ, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ থাকে তার দু'পায়ের কাছে। (ফেরেশতাকে) তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলে, সালাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। ডানদিক দিয়ে আনা হলে, সিয়াম বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। বাম দিক দিয়ে আনা হলে, যাকাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। দু' পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে, দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই।[১]
এভাবে তিনি হাদীসটির এক দীর্ঘ বিবরণী পেশ করেন (যার পূর্ণরূপ এ গ্রন্থের ৫২ নং হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে)।

টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭৯; ইবনু হিব্বান, ৮৭১; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৩/৫১; বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৮。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা: কবরে নিরাপদ থাকার উপায়

📄 ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরা: কবরে নিরাপদ থাকার উপায়


রিবাত বা 'ইসলামি রাষ্ট্রের সীমান্ত প্রহরার দায়িত্ব পালন' করলে কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ থাকার প্রত্যাশা করা যায়।
[১১৪] সালমান ফারিসি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ رِبَاطُ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ كَصِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ فَإِنْ مَاتَ جَرَى عَلَيْهِ الرِّبَاطُ وَيُؤَمِّنُ مِنَ الْفَتَانِ وَيُقْطَعُ لَهُ رِزْقُ فِي الْجَنَّةِ
'আমি নবি -কে বলতে শুনেছি, "এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার ন্যায়। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার উপর রিবাত (-এর সুবিধা) চলতে থাকবে; মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ, আর তার জন্য জান্নাতে জীবিকার ব্যবস্থা করা হবে।”
[১১৫] হিশাম ইবনু আব্দিল মালিক নিজের সনদে একই অর্থবোধক একটি হাদীস বর্ণনা করেছেন; তবে সেখানে বলা হয়েছে, নবি বলেন- خَيْرٌ مِنْ صِيَامٍ شَهْرٍ وَقِيَامِهِ وَإِنْ مَاتَ أُجْرِيَ عَلَيْهِ عَمَلُهُ أَوْ جَرَى عَلَيْهِ مَا كَانَ يَعْمَلُ وَأَمِنَ الْفَتَانَ
"এক দিন বা এক রাতের 'রিবাত' এক মাস সিয়াম পালন ও পুরো মাস রাতে সালাত আদায় করার চেয়ে অধিক উত্তম। (রিবাত পালনকালে) সে মারা গেলে, তার আমল চলতে থাকবে, অথবা সে যা করত তা চলতে থাকবে, এবং মহাপরীক্ষক থেকে সে থাকবে নিরাপদ।” [১]
[১১৬] ফাদালাহ ইবনু উবাইদ থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ كُلُّ مَيِّتٍ يُخْتَمُ عَلَى عَمَلِهِ إِلَّا الْمُرَابِطَ فَإِنَّهُ يَنْمُو لَهُ عَمَلُهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَيُؤْمِنُ مِنْ فَتَّانِ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "প্রত্যেক মৃত ব্যক্তির আমলনামা বন্ধ করে দেওয়া হয়; তবে যে ব্যক্তি রিবাত-এর দায়িত্ব পালন করে, তার বিষয়টি ব্যতিক্রম, কারণ কিয়ামাত পর্যন্ত তার আমলের পরিমাণ বাড়তে থাকে; কবরের মহাপরীক্ষক থেকেও সে থাকে নিরাপদ।”

টিকাঃ
[১] মুসলিম, ১৯১৩; নাসাঈ, ৬/৩৯。
[১] আবূ দাউদ, ২/৯; তিরমিযি, ১৬৭১; হাকিম, ২/১৪৪; দারিমি, ২/১৩১。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00