📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 কবরের ভীতি-প্রদর্শন

📄 কবরের ভীতি-প্রদর্শন


কবরের শাস্তির ব্যাপারে ঈমানদারদের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-কে বলেন,
وَلَوْلَا أَنْ تَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرَكْنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا "আর যদি আমি তোমাকে মজবুত না রাখতাম তাহলে তোমার পক্ষে তাদের দিকে কিছু-না-কিছু ঝুঁকে পড়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল না। কিন্তু যদি তুমি এমনটি করতে, তাহলে আমি তোমাকে দ্বিগুণ জীবন ও দ্বিগুণ মৃত্যুর মজা টের পাইয়ে দিতাম, তারপর আমার মোকাবিলায় তুমি কোনও সাহায্যকারী পেতে না।” (সূরা আল-ইসরা/ বানী ইসরাঈল ১৭:৭৪-৭৫)
(আয়াতে উল্লিখিত) “দ্বিগুণ মৃত্যু”-এর ব্যাখ্যায় হাসান ইবনু আবিল হাসান বসরি বলেন, 'এর মানে হলো কবরের শাস্তি।'
[৭৯] উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন, أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدِي امْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَهِيَ تَقُولُ هَلْ شَعُرْتِ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ فَارْتَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِنَّمَا يُفْتَنُ يَهُودُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَلَبِثْنَا لَيَالِيَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَعَرْتِ أَنَّهُ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আয়িশা বলেন, "আল্লাহর রাসূল আমার কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন আমার কাছে ছিল এক ইয়াহুদি মহিলা। সে বলছিল, 'তুমি কি জানো-কবরে তোমাদের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে?' তখন সন্ত্রস্ত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল বলেন, 'ইয়াহুদিদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।' আয়িশা বলেন, 'কিছুদিন যেতে না যেতেই আল্লাহর রাসূল বলেন, "তুমি কি জানো, আমার কাছে এ মর্মে ওহি পাঠানো হয়েছে-তোমাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে?" আয়িশা বলেন, 'তারপর আমি আল্লাহর রাসূল-কে কবরের শাস্তির ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।''১।
[৮০] উরওয়া ইবনুউয যুবাইর বলেন, তিনি আসমা বিন্তু আবী বাকর -কে বলতে শুনেছেন, قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا فَذَكَرَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ الَّتِي يُفْتَنُ فِيهَا الْمَرْءُ فِي قَبْرِهِ فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَّ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةً حَالَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَنْ أَفْهَمَ آخِرَ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا سَكَنَتْ ضَجَّتُهُمْ قُلْتُ لِرَجُلٍ قَرِيبٍ مِنِّي أَيْ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ قَوْلِهِ قَالَ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
'ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশে নবি উঠে দাঁড়ান। এরপর কবরে মানুষ যে পরীক্ষার মুখোমুখি হয়, তিনি কবরের ওই পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। ওই আলোচনার সময় মুসলিমগণ এমন এক চিৎকার দেন, যার ফলে আমি আল্লাহর রাসূল-এর শেষ কথাটি বুঝতে পারিনি। তাঁদের চিৎকারধ্বনি থেমে গেলে, আমি আমার পাশের লোকটিকে বলি, "আল্লাহ আপনার (কাজের) মধ্যে বরকত দিন! আল্লাহর রাসূল তাঁর কথার শেষের দিকে কী বললেন?" তিনি বলেন, '(আল্লাহর রাসূল বলেছেন,) "আমার কাছে এ মর্মে ওহি পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে, যা অনেকটা দাজ্জালের পরীক্ষার অনুরূপ।”২।
[৮১] আতা ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا عُمَرُ كَيْفَ بِكَ إِذَا أَنْتَ أُعِدَّ لَكَ مِنَ الْأَرْضِ ثَلَاثُ أَذْرُعٍ وَشِبْرُ فِي عَرْضِ ذِرَاعٍ وَشِبْرٍ ثُمَّ قَامَ إِلَيْكَ أَهْلُوكَ فَغَسَلُوكَ وَكَفَّنُوكَ وَحَنَّطُوكَ ثُمَّ احْتَمَلُوكَ حَتَّى يُغَيِّبُوكَ ثُمَّ يَهِيلُوا عَلَيْكَ التَّرَابَ ثُمَّ انْصَرَفُوا عَنْكَ فَأَتَاكَ فَتَانَا الْقَبْرِ مُنْكَرُ وَنَكِيرُ أَصْوَاتُهُمَا مِثْلُ الرَّعْدِ الْقَاصِفِ وَأَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ قَدْ سَدَلَا شُعُورَهُمَا فَتَلْتَلَاكَ وَتَوَهَّلَاكَ وَقَالَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَيَكُونُ مَعِي قَلْبِي الَّذِي مَعِي الْيَوْمُ قَالَ نَعَمْ قَالَ إِذًا أَكْفِيكَهُمَا بِاللَّهِ تَعَالَى
'আল্লাহর রাসূল ﷺ উমার ইবনুল খাত্তাব -কে বলেন, "উমার! (সেদিনটি) কেমন হবে, যখন তোমার জন্য সোয়া তিন হাত (দীর্ঘ) ও সোয়া এক হাত প্রস্থ জমি প্রস্তুত করা হবে! এরপর তোমার পরিবারের লোকজন এসে তোমাকে গোসল দেবে, কাফন পরিয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে দেবে, তারপর তোমাকে (কবর পর্যন্ত) বয়ে নিয়ে যাবে। তোমাকে ঢেকে দিয়ে তোমার উপর মাটি চাপিয়ে দেবে। তারপর তারা তোমার কাছ থেকে চলে আসবে। এরপর তোমার কাছে আসবে দু'জন মহাপরীক্ষক-মুনকার ও নাকীর। তাদের আওয়াজ অন্তর্ভেদী বজ্রের ন্যায়; আর দৃষ্টি যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক; উভয়ের চুল থাকবে খোলামেলা ও ঝুলন্ত। তারা তোমাকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী?' উমার বলেন, 'হে আল্লাহর নবি ﷺ! আজ আমার দেহে যে হৃদয় আছে, সেদিন কি এই অন্তঃকরণ থাকবে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'তাহলে ইন শা আল্লাহ, তাদের জন্য আমিই যথেষ্ট।' " [১]
[৮২] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
كَيْفَ أَنْتَ يَا عُمَرُ إِذَا انْتُهِيَ بِكَ إِلَى الْأَرْضِ فَحُفِرَ لَكَ ثَلَاثَةُ أَذْرُعٍ وَشِبْرُ ثُمَّ أَتَاكَ مُنْكَرُ وَنَكِيرُ أَسْوَدَانِ يَجُرَّانِ أَشْعَارَهُمَا كَأَنَّ أَصْوَاتَهُمَا الرَّعْدُ الْقَاصِفُ وَكَأَنَّ أَعْيُنَهُمَا الْبَرْقُ الْخَاطِفُ يَحْفِرَانِ الْأَرْضَ بِأَنْيَا بِهِمَا فَأَجْلَسَاكَ فَزِعًا فَتَلْتَلَاكَ وَتَوَهَّلَاكَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ عَلَى مَا أَنَا عَلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَكْفِيكَهُمَا بِإِذْنِ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ
"উমার! (সেদিন) তোমার অবস্থা কেমন হবে, যখন তোমার পার্থিব সময় শেষ হয়ে তুমি কবরমুখী হবে! তোমার জন্য সোয়া তিন হাত গর্ত খনন করা হবে!
অতঃপর তোমার কাছে মুনকার ও নাকীর (ফেরেশতাদ্বয়) আসবে। দুজনই কালো; চুল থাকবে ঝুলন্ত; তাদের আওয়াজ হবে অন্তর্ভেদী বজ্রের ন্যায়; আর চোখ যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক; তারা মাটি খনন করে দাঁত দিয়ে। তারা তোমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলে বসাবে। তারপর প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে প্রকম্পিত করবে।" উমার বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমি যেভাবে আছি, সেদিন কি এভাবে থাকব?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে, আল্লাহর অনুমতিতে, তাদের জন্য আমিই যথেষ্ট।'"'
[৮৩] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
يَا عُمَرُ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي أَرْبَعٍ مِنَ الْأَرْضِ فِي ذِرَاعَيْنِ فَرَأَيْتَ مُنْكَرًا وَنَكِيرًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا مُنْكَرُ وَنَكِيرُ قَالَ فَتَانَا الْقَبْرِ أَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ وَأَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ الْقَاصِفِ مَعَهُمَا مِرْزَيَّةً لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا أَهْلُ مِنِّي مَا اسْتَطَاعُوا رَفْعَهَا هِيَ أَهْوَنُ عَلَيْهَمَا مِنْ عَصَايَ هَذِهِ فَامْتَحَنَاكَ فَإِنْ تَعَايَيْتَ أَوْ تَلَوَّيْتَ ضَرَبَاكَ بِهَا ضَرْبَةً تَصِيرُ بِهَا رَمَادًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنِّي عَلَى حَالَتِي هَذِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَرْجُو أَكْفِيكَهُمَا
"উমার! (সেদিন) তোমার কী হবে, যখন তুমি দু' হাতের মাটির ঘরে থাকবে! সেখানে তুমি মুনকার ও নাকীরকে দেখতে পাবে।' তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, মুনকার ও নাকীর কী?' নবি বলেন, 'কবরের দু'জন মহাপরীক্ষক; তাদের চোখ যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক, আর আওয়াজ যেন অন্তর্ভেদী বজ্র। তাদের সাথে থাকবে একটি লৌহদণ্ড; মিনাবাসী সবাই মিলে যা ওঠাতে পারবে না, অথচ তাদের জন্য সেটি এই লাঠির চেয়েও নগণ্য। তারা তোমার পরীক্ষা নেবে। সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে, কিংবা উলটো-পালটা উত্তর দিলে, তারা তোমাকে ওই দণ্ড দিয়ে আঘাত করবে; এর ফলে তুমি ছাইয়ে পরিণত হবে।' তিনি জিজ্ঞাসা করেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, তখন কি আমার অবস্থা বর্তমান সময়ের ন্যায় থাকবে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'তাহলে আশা করি, তাদের জন্য আমি যথেষ্ট হব।' '[১]
[৮৪] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ لِلْقَبْرِ ضَغْطَةٌ لَوْ نَجَا أَحَدٌ مِنْهَا لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "কবরে চাপ/ উৎকণ্ঠা আছে; তা থেকে একজনও যদি রেহাই পেত, তাহলে সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত।" [১]
[৮৫] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ أَنَّ أَحَدًا نَجَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ ثُمَّ قَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ فَجَمَعَهَا كَأَنَّهُ يُقَلِّلُهَا ثُمَّ قَالَ لَقَدْ ضُغِطَ ثُمَّ عُونِي
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "একজনও যদি কবরের আযাব থেকে রেহাই পেত, তাহলে সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত।" তারপর তিনি নিজের আঙুল তিনটিকে একত্রিত করে যেন সংখ্যাটিকে কমিয়ে আনলেন। তারপর বলেন, "তাকে চাপ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" [২]
[৮৬] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا الْعَبْدُ الصَّالِحُ الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشُ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةَ لَمْ يَهْبِطُوا إِلَى الْأَرْضِ قَبْلَ ذَلِكَ وَلَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةٌ ثُمَّ أُفْرِجَ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "এই সৎ বান্দা (অর্থাৎ, সাদ ইবনু মুআয); যার জন্য আরশ কেঁপে উঠেছে, আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যাকে সত্তর হাজার ফেরেশতা সঙ্গ দিয়েছে; ওই ফেরেশতারা এর আগে (কখনও) পৃথিবীতে নামেনি। তাকে (কবরে) একবার চাপ দেওয়া হয়েছে, তারপর নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছে।" [৩]
[৮৭] নবি -এর স্ত্রী আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ يَهُودِيَّةٌ فَحَدَّثَتْنِي
وَذَكَرَ الْحَدِيثَ فِي قِصَّةِ الْيَهُودِيَّةِ وَإِخْبَارِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهَا قَالَتْ
فَلَمْ يُرْجِعُ إِلَى شَيْئًا فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قَالَ يَا عَائِشَةُ تَعَوَّذِي بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَإِنَّهُ لَوْ نَجَا مِنْهَا أَحَدٌ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ وَلَكِنَّهُ لَمْ يَزِدْ عَلَى ضَمِّهِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা [আমার কক্ষে] ঢুকে আমার সাথে আলাপ করেন।' ওই ইয়াহুদি নারীর ঘটনা এবং তার কথার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল -এর নিকট আয়িশা -এর জিজ্ঞাসা-এসব বিষয় ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়িশা বলেন,
'নবি আমার কথার কোনও জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, "আয়িশা, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও! কারণ, তা থেকে কেউ রেহাই পেলে, সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত; অবশ্য কবর তাকে একটির বেশি চাপ দেয়নি।"'[১]
[৮৮] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْرَهُ يَعْنِي قَبْرَ سَعْدٍ فَاحْتُبِسَ فَلَمَّا خَرَجَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَبَسَكَ قَالَ ضُمَّ سَعْدُ فِي الْقَبْرِ ضَمَّةً فَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يَكْشِفَهُ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল সাদ (ইবনু মুআয )-এর কবরে ঢুকে আটকে থাকেন। তারপর (কবর থেকে) বের হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করা হয়: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে কীসে আটকে রাখল?' তিনি বলেন, "সাদ-কে কবরে একটি চাপ দেওয়া হয়েছে। তাই আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন তার কাছ থেকে এটি সরিয়ে দেন।"'[২]
[৮৯] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَعَدَ عَلَى قَبْرِ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ ثُمَّ اسْتَرْجَعَ فَقَالَ لَوْ نَجَا أَحَدٌ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ أَوْ لَمِهِ أَوْ ضَمِهِ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ لَقَدْ ضَمَّهُ ضَمَّةً ثُمَّ رُبِّيَ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল সাদ ইবনু মুআয-এর কবরের পাশে বসেন। তারপর তিনি পড়েন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন/ আমরা তো আল্লাহরই, আর আমাদের তো তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।' এরপর বলেন, "কবরের পরীক্ষা বা দুর্যোগ কিংবা চাপ থেকে কেউ রেহাই পেলে, সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত। কবর তাকে একটি চাপ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।" [১]
[৯০] জাবির ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَمَّا وُضِعَ سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ فِي حُفْرَتِهِ سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَبَّحَ النَّاسُ مَعَهُ وَكَبَّرَ وَكَبَّرَ الْقَوْمُ مَعَهُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ سَبَّحْتَ فَقَالَ هَذَا الْعَبْدُ الصَّالِحُ لَقَدْ تَضَايَقَ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى فَرَّجَهُ اللَّهُ عَنْهُ
'সাদ ইবনু মুআয-কে কবরে রাখার পর, আল্লাহর রাসূল বলেন উঠেন 'সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র!' লোকজনও তাঁর সাথে সুবহানাল্লাহ বলে উঠেন। এরপর তিনি বলেন, 'আল্লাহু আকবার/ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।' লোকজনও তাঁর সাথে বলে উঠেন 'আল্লাহু আকবার'। জিজ্ঞাসা করা হয়: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনার 'সুবহানাল্লাহ' বলার কারণ কী?' তিনি বলেন, 'এই সৎ বান্দার জন্য কবর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, পরিশেষে আল্লাহ তার কাছ থেকে ওই সংকীর্ণতা সরিয়ে দিয়েছেন।" [২]
[১১] উমাইয়া ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত,
أَنَّهُ سَأَلَ بَعْضَ أَهْلِ سَعْدٍ مَا بَلَغَكُمْ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فِي هَذَا فَقَالُوا ذُكِرَ لَنَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سُبِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ كَانَ يُقَصِّرُ فِي بَعْضِ الظُّهُورِ مِنَ الْبَوْلِ
'তিনি সাদ ইবনু মুআয-এর পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, '(তাঁকে যে কবরে চাপ দেওয়া হলো)-এর কারণ কী? এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল কী বলেছেন, যা আপনাদের কাছে পৌঁছেছে?' তারা বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেছেন-"প্রস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কিছুটা কমতি ছিল।" '
[৯২] হুযাইফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جِنَازَةٍ فَلَمَّا بَلَغَ الْقَبْرَ جَعَلَ يَنْظُرُ فِيهِ فَقَالَ عَجِبْتُ مِنْهُ يُضْغَطُ الْمُؤْمِنُ فِيهِ ضَغْطَةً تَزُولُ مِنْهَا حَمَابِلُهُ وَيُمْلَأُ عَلَى الْكَافِرِ نَارًا
'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর সাথে একটি জানাযায় ছিলাম। কবরের কাছে পৌঁছে তিনি এর ভেতরে তাকাতে থাকেন। তারপর বলেন, "এটি দেখে আমি চমকে উঠেছি: মুমিনকে এর ভেতর এমন এক চাপ দেওয়া হয়, যার ফলে তার পাঁজরের হাড়সমূহ স্থানচ্যুত হয়ে যায়; আর কাফিরের উপর ভরপুর করে দেওয়া হয় আগুন!" '[১]
[৯৩] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিত, أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ مُنْذُ يَوْمٍ حَدَّثْتَنِي بِصَوْتِ مُنْكَرٍ وَنَكِيرِ وَضَغْطَةِ الْقَبْرِ لَيْسَ يَنْفَعُنِي شَيْءٌ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ أَصْوَاتَ مُنْكَرٍ وَنَكِيرٍ فِي أَسْمَاعِ الْمُؤْمِنِينَ كَالْإِثْمِدِ فِي الْعَيْنِ وَإِنَّ ضَغْطَةَ الْقَبْرِ عَلَى الْمُؤْمِنِ كَالْأُمِّ الشَّفِيقَةِ يَشْكُو إِلَيْهَا ابْنُهَا الصُّدَاعَ فَتَغْمِرُ رَأْسَهُ غَمْرًا رَفِيقًا وَلَكِنْ يَا عَائِشَةُ وَيْلٌ لِلشَّاكِينَ فِي اللَّهِ كَيْفَ يُضْغَطُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَضَغْطَةِ الْبَيْضَةِ عَلَى الصَّخْرَةِ
'আয়িশা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল , একদিন যাবৎ আপনি আমার কাছে মুনকার ও নাকীরের আওয়াজ এবং কবরের চাপ প্রসঙ্গে কথা বলছেন; বিষয়টি আমার কিছুই বুঝে আসছে না।' তিনি বলেন, "আয়িশা, মুমিনদের কানে মুনকার ও নাকীরের আওয়াজ মনে হবে যেন চোখে-লাগা সুরমা; আর মুমিনের উপর কবরের চাপ মনে হবে যেন এক মমতাময়ী মা—তার কাছে তার ছেলে এসে নিজের মাথা ব্যাথার অভিযোগ করছে, আর মা তার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন! তবে, আয়িশা, দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা আল্লাহতে সংশয় পোষণ করে; প্রস্তরখণ্ডের উপর ডিম রেখে চাপ দেওয়ার ন্যায়, কবরের ভেতর তাদের চাপ দেওয়া হবে!" '[১]

টিকাঃ
[১] মুসলিম, ৫৮৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ, দ্রষ্টব্য: আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১২১。
[২] বুখারি, ১৩৭৩。
[১] ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যামআন, ৭৮০; আল-মাতালিবুল আলিয়াহ, ৪/৩৬৩, হাদীস নং ৪৬০৩। তিনি বলেন, 'এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।'
[১] বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৯; কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৪১。
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, দ্রষ্টব্য: আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১৩৪। এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬。
[২] মুশকিলুল আসার, ১/১০৮。
[৩] নাসাঈ, ৪/১০০。
[১] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'হাদীসটি তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর একজন বর্ণনাকারী হলেন ইবনু লুহাইআ। তাকে নিয়ে কিছু কথা আছে।'
[২] ইবনু আবী শাইবা, মুসনাদ। দ্রষ্টব্য: আল-মাতালিবুল আলিয়াহ, ৪/৯৮, হাদীস নং ৪০৬০। বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত。
[১] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'হাদীসটি তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল কাবীর ও আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।' ইয়াকূব ইবনু সুফইয়ান, আল-মা'রিফাহ্ ওয়াত তারীখ, ১/২৪৭。
[২] নাসাঈ, ৪/১০০। হাইসামি বলেন, 'হাদীসটি আহমাদ ও তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারীদের একজন হলেন মাহমুদ ইবনু আবদির রহমান, যার হাদীস পরিত্যাজ্য।' মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬
[১] আহমাদ, ৫/৪০৭। ইরাকি'র মতে, এর সনদ দুর্বল। দ্রষ্টব্য: ইহইয়া উলুমিদ দ্বীন, ৪/৫০৩। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'আহমাদ হাদীসটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।'
[১] এই সনদটি দুর্বল। (ড. শারাফ মাহমূদ)

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 প্রস্রাবে অসতর্কতা ও কুৎসা রটনার দরুন কবরে শাস্তি

📄 প্রস্রাবে অসতর্কতা ও কুৎসা রটনার দরুন কবরে শাস্তি


[৯৪] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ وَمَا يُعَذِّبَانِ فِي كَبِيرٍ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ وَأَمَّا الْآخَرُ فَكَانَ لَا يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ قَالَ وَكِيعٌ لَا يَتَوَقَّاهُ قَالَ فَدَعَا بِعَسِيبٍ رَطْبٍ فَشَقَّهُ اثْنَتَيْنِ ثُمَّ غَرَسَ عَلَى هَذَا وَاحِدًا وَعَلَى هَذَا وَاحِدًا ثُمَّ قَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا لَمْ يَيْبَسَا
'আল্লাহর রাসূল দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বলেন, "এদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। বড় কোনও কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, তা কিন্তু নয়; বরং এদের একজন কুৎসা রটাত, আর আরেকজন প্রস্রাব থেকে নিজেকে আড়াল করত না [বা সুরক্ষিত রাখত না]।” এরপর তিনি খেজুর গাছের তাজা ডাল আনার নির্দেশ দেন। [ডাল আনা হলে] তিনি সেটিকে দু' টুকরো করে প্রত্যেক কবরে একটি করে ডাল গুঁজে দিয়ে বলেন, "হতে পারে, এগুলো না শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি লাঘব করে দেওয়া হবে।" [১]
[৯৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ أَكْثَرُ عَذَابِ الْقَبْرِ فِي الْبَوْلِ
'নবি বলেন, "কবরের বেশিরভাগ শাস্তি হয় প্রস্রাবে (অসতর্কতার) দরুন।" '[২]
[৯৬] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ عَامَّةَ عَذَابِ الْقَبْرِ مِنَ الْبَوْلِ فَتَنَزَّهُوا مِنَ الْبَوْلِ
'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "কবরের বেশিরভাগ শাস্তি মূলত প্রস্রাবের দরুন; সুতরাং তোমরা প্রস্রাব থেকে ভালোভাবে পরিচ্ছন্ন হও।" [১]
[৯৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত,
عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ مَرَّ بِقَبْرَيْنِ فَأَخَذَ سَعَفَةً أَوْ جَرِيدَةً فَشَقَّهَا فَجَعَلَ إِحْدَاهُمَا عَلَى أَحَدِ الْقَبْرَيْنِ وَالشَّقَةُ الْأُخْرَى عَلَى الْقَبْرِ الْآخَرِ قَالَ ابْنُ وَهْبٍ أَرَى سُبِلَ عَنْ فِعْلَتِهِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَجُلٌ كَانَ لَا يَتَّقِي مِنَ الْبَوْلِ وَامْرَأَةً كَانَتْ تَمْشِي بَيْنَ النَّاسِ بِالنَّمِيمَةِ فَانْتَظَرَ بِهِمَا الْعَذَابُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
'আল্লাহর রাসূল দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় খেজুরের একটি পাতা নিয়ে দু' টুকরো করেন। তারপর এক টুকরো একটি কবরের উপর, আর অপর টুকরো আরেক কবরের উপর রাখেন। (বর্ণনাকারী) ইবনু ওহাব বলেন, আমি দেখি তাঁকে এ কাজের কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলো। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন, "(এদের) একজন পুরুষ, যে প্রস্রাবের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকত না, আর অপরজন মহিলা, যে মানুষের মধ্যে কুৎসা রটাত। এদের আযাব কিয়ামাত পর্যন্ত সময়ের জন্য থেমে গেল।" "
[৯৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَلَى قَبْرٍ فَوَقَفَ فَقَالَ إِيتُونِي بِجَرِيدَتَيْنِ فَجَعَلَ إِحْدَاهُمَا عِنْدَ رَأْسِهِ وَالْأُخْرَى عِنْدَ رِجْلَيْهِ فَقُلْنَا لَهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَيَنْفَعُهُ ذَلِكَ قَالَ لَنْ يَزَالَ يُخَفَّفُ عَنْهُ بَعْضُ عَذَابِ الْقَبْرِ مَا دَامَ فِيهِمَا نُدُو
'আল্লাহর রাসূল একটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে থেমে বলেন, "আমার কাছে দু'টি খেজুরপাতা নিয়ে আসো।" (পাতা আনা হলে) তিনি একটি পাতা তার মাথার কাছে, আর আরেকটি পাতা তার দু' পায়ের কাছে রাখেন। আমরা তাঁকে বলি, 'হে আল্লাহর রাসূল, এটি কি তার কোনও উপকারে আসবে।' তিনি বলেন, "পাতা দুটির মধ্যে যতক্ষণ আর্দ্রতা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার কবরের কিছু শাস্তি লাঘব হতে থাকবে।" [১]
[৯৯] আবূ বাকরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بَيْنَمَا أَنَا أَمْشِي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَمَعِيَ رَجُلٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَمْشِي بَيْنَنَا إِذْ أَتَى عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ صَاحِبَيْ هَذَيْنِ الْقَبْرَيْنِ لَيُعَذِّبَانِ الْآنَ فِي قُبُورِهِمَا فَأَيُّكُمْ يَأْتِينِي مِنْ هَذَا النَّخْلِ بِعَسِيبٍ فَاسْتَبَقْتُ أَنَا وَصَاحِبِي فَسَبَقْتُهُ وَكَسَرْتُ مِنَ النَّخْلِ عَسِيبًا فَأَتَيْتُ بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَشَقَّهُ نِصْفَيْنِ مِنْ أَعْلَاهُ فَوَضَعَ عَلَى أَحَدِهِمَا نِصْفًا وَعَلَى الْآخَرِ نِصْفًا وَقَالَ إِنَّهُ يُهَوَّنُ عَلَيْهِمَا مَا دَامَ فِيهِمَا مِنْ بُلُولَتِهِمَا شَيْءٌ إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ فِي الْغِيبَةِ وَالْبَوْلِ
'একদিন আমি আল্লাহর রাসূল -এর সাথে হাঁটছি। আমার সাথে ছিল আরেকজন। আল্লাহর রাসূল হাঁটছেন আমাদের মাঝখান দিয়ে। দুটি কবরের কাছে এসে আল্লাহর রাসূল বলেন, "এ দু'টি কবরের বাসিন্দাকে এখন তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তোমাদের মধ্যে কে এই খেজুর গাছ থেকে একটি তাজা ডাল নিয়ে আসবে?" এ কথা শুনে আমি ও আমার সঙ্গী প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। আমি তার আগে গিয়ে খেজুর গাছ থেকে একটি তাজা ডাল ভেঙে নবি -এর কাছে নিয়ে আসি। তিনি সেটিকে উপর থেকে চিরে দু' টুকরো করেন। তারপর অর্ধেক ডাল রাখেন একটি কবরের উপর, আর অপর অর্ধেক রাখেন অন্য কবরের উপর। তারপর তিনি বলেন, "যতক্ষণ পর্যন্ত ডাল দু'টির মধ্যে কিছুটা আর্দ্রতা থাকবে, ততক্ষণ তাদের শাস্তি লাঘব হবে। এদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে গীবত ও প্রস্রাব (থেকে অসতর্কতা)-এর দরুন।" 'খি
[১০০] আবূ বাকরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بَيْنَا النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بَيْنِي وَبَيْنَ رَجُلٍ آخَرَ إِذْ أَتَى عَلَى قَبْرَيْنِ فَقَالَ إِنَّ صَاحِبَيْ هَذَيْنِ الْقَبْرَيْنِ يُعَذِّبَانِ فَأُتِيَانِي بِجَرِيدَةٍ قَالَ أَبُو بَكْرَةً فَاسْتَبَقْتُ أَنَا وَصَاحِبِي فَسَبَقْتُهُ فَأَتَيْتُهُ بِجَرِيدَةٍ فَشَقَّهَا بِنِصْفَيْنِ فَوَضَعَ فِي هَذَا الْقَبْرِ وَاحِدَةً وَفِي ذَا وَاحِدَةً وَقَالَ لَعَلَّهُ أَنْ يُخَفَّفَ عَنْهُمَا مَا دَامَتَا رَطْبَتَيْنِ أَمَا إِنَّهُمَا لَيُعَذِّبَانِ بِلَا كَبِيرِ الْغِيبَةِ وَالْبَوْلِ
'একদিন আল্লাহর রাসূল আমার ও অন্য আরেক ব্যক্তির মাঝখানে ছিলেন। দু'টি কবরের কাছে এসে তিনি বলেন, "এ দু'টি কবরের বাসিন্দাকে এখন তাদের কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে; তোমরা গিয়ে একটি খেজুরপাতা নিয়ে আসো।" এ কথা শুনে আমি ও আমার সঙ্গী প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ি। আমি তার আগে গিয়ে একটি খেজুরপাতা নিয়ে আসি। তিনি সেটিকে চিরে দু'টুকরো করেন। তারপর একটি এই কবরে, আর আরেকটি আরেক কবরে গুঁজে দিয়ে বলেন "হতে পারে, যতক্ষণ পর্যন্ত ডাল দুটি আর্দ্র থাকবে, ততক্ষণ তাদের শাস্তি লাঘব হবে। এরা কিন্তু বড় রকমের গোনাহ ছাড়াই শাস্তি পাচ্ছে; এদের শাস্তির কারণ হলো গীবত (কারও অনুপস্থিতিতে তার নিন্দাবাদ) ও প্রস্রাব (সংক্রান্ত অসতর্কতা)।" '[১]
[১০১] ইয়া'লা ইবনু সিয়াবাহ থেকে বর্ণিত,
أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَرَّ بِقَبْرٍ يُعَذِّبُ فِي غَيْرِ كَبِيرٍ ثُمَّ دَعَا بِجَرِيدَةٍ فَوَضَعَهَا عَلَى قَبْرِهِ فَقَالَ لَعَلَّهُ يُخَفِّفُ عَنْهُ مَا كَانَتْ رَطْبَةٌ
'নবি একটি কবরের পাশ দিয়ে যান। কবরবাসীকে বড় কোনও গোনাহ ছাড়াই শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর তিনি খেজুরপাতা আনার নির্দেশ দেন। (পাতা আনা হলে) তিনি তা কবরের উপর রেখে বলেন, "হতে পারে, এ পাতা যতক্ষণ আর্দ্র থাকবে, ততক্ষণ তার শাস্তি লাঘব থাকবে।”'
[১০২] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ لِبَنِي النَّجَّارِ وَهُمَا يُعَذِّبَانِ بِالنَّمِيمَةِ وَالْبَوْلِ فَأَخَذَ سَعَفَةٌ فَشَقَّهَا بِاثْنَيْنِ فَوَضَعَ عَلَى هَذَا الْقَبْرِ شُقَّةٌ وَعَلَى هَذَا الْقَبْرِ شُقَةٌ وَقَالَ يُخَفَّفُ عَنْهُمَا مَا زَالَتَا رَطْبَتَيْنِ
'আল্লাহর রাসূল বানুন নাজ্জারের দু'টি কবরের পাশ দিয়ে যান। তখন কুৎসা রটনা ও প্রস্রাব (সংক্রান্ত অসতর্কতা)-এর দরুন কবরবাসীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। এরপর তিনি একটি খেজুরপাতা নিয়ে চিরে দু'টুকরো করেন। তারপর এক কবরে এক টুকরো, আর আরেক কবরে আরেক টুকরো রেখে বলেন, "পাতা দুটি যতক্ষণ আর্দ্র থাকবে, ততক্ষণ তাদের শাস্তি লাঘব থাকবে।”[১]
[১০৩] আনাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِرَجُلٍ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ مِنَ النَّمِيمَةِ
'আল্লাহর রাসূল এক ব্যক্তির কবরের পাশ দিয়ে যান, যাকে কুৎসা রটনার দরুন তার কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল।[২]
[১০৪] মুহাম্মাদ ইবনু ইয়াযীদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرٍ فَنَفَرَتْ بَغْلَتُهُ الشَّهْبَاءُ فَأَخَذَ الْقَوْمُ بِلِجَامِهَا فَقَالَ خَلُّوا عَنْهَا فَإِنَّ صَاحِبَ الْقَبْرِ يُعَذِّبُ فَإِنَّهُ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ الْبَوْلِ
'আল্লাহর রাসূল একটি কবরের পাশ দিয়ে যান। তখন তাঁর ধূসর রঙের খচ্চরটি আচমকা দৌড় দেয়। লোকজন তার লাগام ধরে ফেললে, তিনি বলেন, "এটিকে ছেড়ে দাও; কারণ, (এই) কবরের বাসিন্দাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে; লোকটি প্রস্রাব থেকে ভালোভাবে পরিচ্ছন্নতা লাভ করত না।”'
[১০৫] আবদুর রহমান ইবনু হাসানাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كُنْتُ أَنَا وَعَمْرُو بْنُ الْعَاصِ جَالِسَيْنِ فَخَرَجَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَفِي يَدِهِ دَرَقَةٌ فَبَالَ وَهُوَ جَالِسٌ فَتَكَلَّمْنَا بَيْنَنَا فَقُلْنَا يَبُولُ كَمَا تَبُولُ الْمَرْأَةُ فَأَتَانَا فَقَالَ أَمَا تَدْرُونَ مَا لَقِيَ صَاحِبُ بَنِي إِسْرَابِيلَ كَانَ إِذَا أَصَابَهُمْ بَوْلُ قَرَضُوهُ فَنَهَاهُمْ فَتَرَكُوهُ فَعُذِّبَ فِي قَبْرِهِ
'আমি ও আমর ইবনুল আস বসে আছি। এমন সময় আল্লাহর রাসূল আমাদের কাছে আসেন। তাঁর হাতে ছিল একটি ঢাল। অতঃপর তিনি (এক জায়গায়) বসে প্রস্রাব করেন। তখন আমরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করি— তিনি মহিলাদের মত (বসে) প্রস্রাব করেন! এ কথা শুনে তিনি আমাদের কাছে এসে বলেন, "তোমরা জানো—বানু ইসরাঈলের এক ব্যক্তির কী অবস্থা হয়েছিল? (তাদের নিয়ম ছিল) তাদের (কাপড়ে) প্রস্রাব লাগলে, তারা তা কেটে ফেলত। ওই ব্যক্তি তাদেরকে তা করতে নিষেধ করলে, তারা ওই নিয়ম পরিত্যাগ করে। ফলে তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।" [১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩৬১; মুসলিম, ২৯২; আবূ দাঊদ, সুনান, ১/৫。
[২] ইবনু মাজাহ, সুনান, ৩৪৮; আহমাদ, আল-মুসনাদ, দ্রষ্টব্য: আল-ফাতহুর রব্বানি, ১/২৮৭。
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/১৮৩; তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর; বায্যার, দ্রষ্টব্য: হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/২০৭。
[২] আলি মুত্তাকি, কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৪৩; জামউল জাওয়ামি', ২/৬৯৩。
[১] মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৭; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ২/৪৪১。
[২] ইবনু মাজাহ (সংক্ষেপে); আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৫/৩৯。
[১] ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ১/১২২; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/২০৭。
[১] আহমাদ; তাবারানি, দ্রষ্টব্য: হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/২০৮。
[২] তাবারানি, দ্রষ্টব্য: হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ১/২০৭。
[১] আবূ দাউদ, ১/৫; ইবনু হিব্বান, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যামুআন, ১৩৯; ইবনু মাজাহ, ৩৪৬; বাইহাকি, ১/১০৪; ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ১২২; ইয়াকূব ইবনু সুফইয়ান, আল-মারিফাহ ওয়াত তারীখ, ১/২৮৪。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 বিলাপের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা, কখন?

📄 বিলাপের দরুন কবরে শাস্তির আশঙ্কা, কখন?


বিদ্বানদের কেউ কেউ বলেছেন, বিলাপের দরুন মৃতব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়, যদি সে বিলাপ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে থাকে।
[১০৬] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত,
عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَّهُ قَالَ إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ بِالنِّيَاحَةِ
'নবি বলেছেন, "বিলাপের দরুন মৃতব্যক্তিকে কবরে শাস্তি দেওয়া হয়।”[১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ১২৯২; মুসলিম, ৯২৭; বাইহাকি, সুনান, ৪/৭১。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 আত্মহত্যার দরুন কবরে শাস্তি

📄 আত্মহত্যার দরুন কবরে শাস্তি


[১০৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى خَيْبَرَ فَلَمْ نَغْنَمْ ذَهَبًا وَلَا فِضَّةٌ إِنَّمَا غَنِمْنَا الْمَتَاعَ وَالْأَمْوَالَ ثُمَّ انْصَرَفْنَا نَحْوَ وَادِي الْقُرَى وَمَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَبْدُ لَهُ وَهَبَهُ إِيَّاهُ رِفَاعَةُ بْنُ زَيْدٍ رَجُلٌ مِنْ بَنِي ضَبِيبٍ فَبَيْنَمَا هُوَ يَحُطُ رَحْلَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ أَتَاهُ سَهُمْ عَاثِرُ فَأَصَابَهُ فَمَاتَ فَقَالَ لَهُ النَّاسُ هَنِيئًا لَهُ الْجَنَّةُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلَّا وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ الشَّمْلَةَ الَّتِي غَلَّهَا يَوْمَ خَيْبَرَ مِنَ الْمَغَانِمِ لَمْ تُصِبْهَا الْمَقَاسِمُ لَتَشْتَعِلُ عَلَيْهِ نَارًا فَجَاءَ رَجُلٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِشِرَاكَ أَوْ شِرَاكَيْنِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ شِرَاكَ أَوْ شِرَاكَانِ مِنْ نَارٍ
'আমরা আল্লাহর রাসূল -এর সাথে খায়বার অভিযানে বের হই। (সেখানে) যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে আমরা কোনও সোনা-রুপা পাইনি; পাই কেবল কিছু জিনিসপত্র ও ধন-সম্পদ। তারপর আমরা আল-কুরা উপত্যকার দিকে রওয়ানা হই। আল্লাহর রাসূল -এর সাথে ছিল তাঁর এক দাস, যা রিফাআ ইবনু যাইদ নামে বানু দাবীব গোত্রের এক লোক তাঁকে উপহার দিয়েছিল। সে আল্লাহর রাসূল -এর বাহনের পিঠ থেকে জিনিসপত্র নামাচ্ছে; এমন সময় এক অজ্ঞাতনামা তিরন্দাজের ছোঁড়া একটি তির এসে তার গায়ে বিদ্ধ হয়। এতে সে মারা যায়। তাকে উদ্দেশ্য করে লোকেরা বলে উঠে, 'অভিনন্দন! তার জন্য জান্নাত (অবধারিত)!' এ কথা শুনে আল্লাহর রাসূল বলেন, "কিছুতেই নয়! শপথ সেই সত্তার, যার হাতে আমার প্রাণ! খায়বার (জয়ের) দিন যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বণ্টনের আগে সেখান থেকে সে যে (জুতা বাঁধার) চামড়ার ফিতাটি আত্মসাৎ করেছে, সেটি তার উপর আগুনের শিখা হয়ে জ্বলে উঠবেই।" এরপর এক ব্যক্তি একটি বা দু'টি (জুতা বাঁধার) চামড়ার ফিতা নিয়ে আল্লাহর রাসূল -এর কাছে আসে। তা দেখে আল্লাহর রাসূল বলেন, "(এই) ফিতা বা ফিতা দু'টি হলো আগুনের।" [১]
[১০৯] আবু রাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى الْعَصْرَ ذَهَبَ إِلَى بَنِي عَبْدِ الْأَشْهَلِ فَيَتَحَدَّثُ عِنْدَهُمْ حَتَّى يَنْحَدِرَ إِلَى الْمَغْرِبِ قَالَ وَذَكَرَ الْحَدِيثَ وَفِيهِ قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَلَكِنْ هَذَا فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بَعَثْتُهُ سَاعِيًا عَلَى بَنِي فُلَانٍ فَغَلَّ نَمِرَةٌ فَدُرِعَ الْآنَ مِثْلَهَا مِنْ نَارٍ
'আসরের সালাত আদায় করে আল্লাহর রাসূল বানু আব্দিল আসহাল গোত্রের লোকদের কাছে যেতেন; তাদের সাথে কথা বলতেন। তারপর মাগরিবের জন্য দ্রুত চলে আসতেন।' এরপর তিনি যে হাদীস উল্লেখ করেছেন, তাতে রয়েছে-'নবি বলেন, "কিন্তু, এই যে অমুকের ছেলে অমুক; আমি তাকে অমুক গোত্রে পাঠালাম। সে একটি চাদর আত্মসাৎ করল। এর ফলে এখন তাকে তদনুরূপ একটি আগুনের বর্ম পরানো হলো।" "যে

টিকাঃ
[১] বুখারি, ৪২৩৪; আবূ দাউদ, ২/৬২; মুসলিম, ১১৫; তানবীরুল হাওয়ালিক, ২/১৫。
[২] নাসাঈ, ২/৮৯; ইবনু খুযাইমা, সহীহ, ৪/৫২; আহমাদ, ৬/৩৯২。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00