📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 যারা আল্লাহর স্মরণ এড়িয়ে চলে

📄 যারা আল্লাহর স্মরণ এড়িয়ে চলে


যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার স্মরণ এড়িয়ে চলে, সে কিয়ামাতের দিন শান্তি পাওয়ার আগে কবরে শাস্তি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
"আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণকে এড়িয়ে চলে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।” (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
[৪৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا
' "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন।" (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)”[১] -এ প্রসঙ্গে নবি বলেছেন, 'এর অর্থ হলো কবরের শাস্তি।''
[৪৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
الْمَعِيشَةُ الضَّنْكُ عَذَابُ الْقَبْرِ "সংকীর্ণ জীবন মানে কবরের শাস্তি।”'
[৪৮] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
مَعِيشَةً ضَنْكًا عَذَابُ الْقَبْرِ “ 'সংকীর্ণ জীবন' (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪) মানে কবরের শাস্তি।” [
[৪৯] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, ''সংকীর্ণ জীবন' (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪) প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ فِيهِ "তার জন্য তার কবরকে এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।”
[৫০] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمَعِيشَةَ الضَّنْكَ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَيْهِ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا يَنْهَشْنَهُ فِي الْقَبْرِ 'সংকীর্ণ জীবন মানে—কবরে তার উপর নিরানব্বইটি সরীসৃপ লেলিয়ে দেওয়া হবে, যেগুলো তাকে দংশন করে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে।'[১]
[৫১] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, “مَعِيشَةً ضَنْكًا সংকীর্ণ জীবন (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)”-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'এর অর্থ হলো কবরের শাস্তি।’
[৫২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلَّوْنَ عَنْهُ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ يَسَارِهِ وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَتَقُولُ الصَّلَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ فَتَقُولُ الزَّكَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَتَقُولُ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ مَا قِبَلِي مَدْخَلُ
فَيُقَالُ لَهُ اجْلِسْ فَيَجْلِسُ قَدْ مُثَلَتْ لَهُ الشَّمْسُ قَدْ دَنَتْ لِلْغُرُوبِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا مَا تَقُولُ فِيهِ فَيَقُولُ دَعُونِي أُصَلَّى قَالَ فَيَقُولَانِ إِنَّكَ سَتَفْعَلُ هَذَا فَأَخْبِرْنَا عَمَّا نَسْأَلُكَ عَنْهُ قَالَ عَمَّا تَسْأَلُونِي قَالَ مَاذَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي فِيكُمْ وَبِمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ بِالْحَقِّ مِنْ عِندِ اللَّهِ فَيُقَالُ لَهُ عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مُتَّ وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ انْظُرُ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنْهَا وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ فِيهَا فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا وَيُنَوَّرُ لَهُ وَيُعَادُ الْجَسَدُ كَمَا بَدَا وَتُجْعَلُ نَسْمَتُهُ مِنَ النَّسِيمِ الطَّيِّبِ وَهُوَ طَائِرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَمِينِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَسَارِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ فَيُقَالُ لَهُ اجْلِسْ فَيَجْلِسُ خَائِفًا مَرْعُوبًا فَيُقَالُ لَهُ أَرَأَيْتَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ أَيُّ رَجُلٍ هُوَ مَاذَا تَشْهَدُ فِيهِ وَمَاذَا تَشْهَدُ بِهِ عَلَيْهِ فَيَقُولُ أَيُّ رَجُلٍ فَيُقَالُ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ حَتَّى يُقَالَ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ مَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا قَوْلًا فَقُلْتُ كَمَا قَالَ النَّاسُ فَيُقَالُ لَهُ عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مُتَّ وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ ذَلِكَ مَقْعَدُكَ مِنَ النَّارِ وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا مَقْعَدُكَ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا لَوْ أَطَعْتَهُ فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا ثُمَّ يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
“মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়।”
সে মুমিন হলে, সালাত তার মাথার কাছে অবস্থান নেয়, সিয়াম থাকে তার ডানে, যাকাত থাকে বামে, আর দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ থাকে তার দু'পায়ের কাছে। (ফেরেশতাকে) তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলে, সালাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। ডানদিক দিয়ে আনা হলে, সিয়াম বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। বাম দিক দিয়ে আনা হলে, যাকাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। দু'পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে, দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই।
তখন তাকে বলা হবে, 'বসো।' সে বসবে। ইতোমধ্যে তার সামনে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যেন কিছুক্ষণের মধ্যে সূর্য অস্ত যাবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, 'এই যে! তাঁর ব্যাপারে তুমি কী বলো?' সে বলবে, 'ছেড়ে দিন আমাকে! আমি সালাত আদায় করব।' তারা বলবে, 'কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তা করতে পারবে। আমরা তোমাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করছি, (আগে) তার উত্তর দাও।' সে বলবে, 'আপনারা কী বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন?' ফেরেশতা বলবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো, যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? তাঁর ব্যাপারে তোমার সাক্ষ্য কী?' তখন সে বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে সত্য নিয়ে এসেছিলেন।' তাকে বলা হবে, 'এরই উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর এরই উপর—ইন শা আল্লাহ—তোমাকে ওঠানো হবে।'
তারপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে বলা হবে, 'এর ভেতর তোমার আসনটির দিকে তাকিয়ে দেখো, আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন!' এতে তার সুখ ও আনন্দ বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে তার জন্য আলোকিত করে দেওয়া হবে। তার দেহটি শুরুর অবস্থায় ফিরে আসবে। সেখানে মৃদুমন্দ সমীরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। আর সে (জান্নাতে) উড়ে বেড়াবে এবং জান্নাতের বৃক্ষ থেকে আহার করবে।
(বর্ণনাকারী) মুহাম্মাদ বলেন, 'আমি উমার ইবনুল হাকাম ইবনি সাউবান-কে বলতে শুনেছি—সে নব-বিবাহিতের ন্যায় ঘুম দেবে, যার ঘুম তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ছাড়া অন্য কেউ ভাঙায় না। (সে ঘুমাতে থাকবে) যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে ওই শয্যা থেকে ওঠাবেন।' তারপর তিনি আবূ হুরায়রার হাদীসে ফিরে আসেন—
আর এটিই হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্য:
“যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন, আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন। তিনি যা চান, তা-ই করবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
আর (মৃত ব্যক্তি) কাফির হলে, (ফেরেশতাকে) তার ডান, বাম ও দু'পায়ের দিক দিয়ে আনা হবে; কিন্তু তার কোনও দিকে কিছুই পাওয়া যাবে না। এরপর তাকে বলা হবে, 'বসো।' সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বসবে। তাকে বলা হবে, 'আচ্ছা, এই যে লোকটি তোমাদের মধ্যে ছিলেন, ইনি কে? তাঁর ব্যাপারে তুমি কী বলো। তাঁর ব্যাপারে তোমার সাক্ষ্যই বা কী?' সে বলবে, 'কোন লোক?' বলা হবে, 'যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন।' সে তাঁর নামের কোনও দিশা খুঁজে পাবে না। একপর্যায়ে (তাকে) বলা হবে, '(ইনি) মুহাম্মাদ!' সে বলবে, 'আমি জানি না। (তবে) লোকদের কিছু একটা বলতে শুনেছিলাম, আর আমিও তা-ই বলেছি।' অতঃপর তাকে বলা হবে, 'এরই উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর এরই উপর—ইন শা আল্লাহ—তোমাকে ওঠানো হবে।'
তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে বলা হবে, 'জাহান্নামের ভেতর ওইটি তোমার আসন। (দেখো,) আল্লাহ সেখানে তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন।' এতে তার পরিতাপ ও বিধ্বস্ত-ভাব (আরও) বেড়ে যাবে। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দিয়ে বলা হবে, 'তুমি যদি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তাহলে এটি হতো তোমার আসন! (দেখো,) আল্লাহ সেখানে তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছিলেন!' এতে তার পরিতাপ ও বিধ্বস্ত-ভাব (আরও) বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।'
আবূ হুরায়রা বলেন, এটিই হলো আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত কথার তাৎপর্য- "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।"
(সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
[৫৩] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন, الْمُؤْمِنُ فِي قَبْرِهِ فِي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ وَيَرْحُبُ قَبْرَهُ سَبْعِينَ ذِرَاعًا وَيُنَوَّرُ لَهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ أَتَدْرُونَ فِيمَا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى أَتَدْرُونَ مَا الْمَعِيشَةُ الضَّنْكُ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ عَذَابُ الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيُسَلَّطُ عَلَيْهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِينًا أَتَدْرُونَ مَا التِّنِينُ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ حَيَّةً لِكُلِّ حَيَّةٍ تِسْعَةُ رُءُوسِ يَنْفُخُونَ فِي جِسْمِهِ وَيَلْسَعُونَهُ وَيَخْدِشُونَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“মুমিন কবরে থাকবে সবুজ উদ্যানের মধ্যে। তার কবরটি সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। সেটি তার জন্য পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল করে দেওয়া হবে। তোমরা কি জানো, এই আয়াত কাদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে?- "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।”
(সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
তোমরা কি জানো, সংকীর্ণ জীবন কী?” তাঁরা বলেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' তিনি বলেন,
"কাফিরের কবরে শাস্তি (প্রসঙ্গে)। শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তার উপর নিরানব্বইটি 'তিন্নীন' লেলিয়ে দেওয়া হবে। তোমরা কি জানো, 'তিন্নীন' কী? (তা হলো) নিরানব্বইটি সাপ। প্রত্যেকটি সাপের রয়েছে নয়টি মাথা। সেগুলো তার দেহে নিঃশ্বাস ছাড়বে, তাকে দংশন করবে এবং আঁচড় দেবে। কিয়ামাত পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকবে।" [১]
[৫৪] যাজান এর বরাতে সুফইয়ান বলেন,
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ
"আর সেদিনটি আসার আগেও জালিমদের জন্য একটা আযাব আছে।"
(সূর আত-তূর ৫২:৪৭)
-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '(সেটি হলো) কবরের আযাব।'
[৫৫] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ
"আর সেদিনটি আসার আগেও জালিমদের জন্য একটা আযাব আছে।"
(সূরা আত-তূর ৫২:৪৭)
-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '(সেটি হলো) কিয়ামাত দিবসের আযাবের আগে কবরের আযাব।'

টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮১। তিনি বলেন, 'হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।' যাহাবি তাঁর সাথে একমত。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮১。
[১] অনুরূপ অর্থবিশিষ্ট হাদীসের জন্য দেখুন: ইবনু হিব্বান, সহীহ, ৭৮২, ৭৮৩; হাদীসটি 'হাসান'। দ্রষ্টব্য: মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৫。
[২] 'সংকীর্ণ জীবন'-এর ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, 'কবর তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যাবে।'
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭৯; ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যাম্আন, ৭৮১; তাবারানি, আল-মু'জামুল আওসাত, বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৮ (এর ইসনাদটি হাসান)। দেখুন: মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫১。
[১] ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যামুআন, ৭৮২, ৭৮৩; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৫。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে শাস্তির সম্ভাব্যতা

📄 বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে শাস্তির সম্ভাব্যতা


বিচ্ছিন্ন অঙ্গে প্রাণ থাকা সম্ভব। (পূর্ণাঙ্গ) দেহকাঠামো প্রাণের জন্য শর্ত নয়; যেমন শর্ত নয় প্রাণীর জন্য। আর এখান থেকে বুঝা যায়, বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ “তোমার রব যা চান, সৃষ্টি করেন এবং নির্বাচিত করে নেন।” (সূরা আল-কাসাস ২৮:৬৮)
তিনি বলেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন, আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন। তিনি যা চান, তা-ই করবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
তিনি আরও বলেন,
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ “আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই। (তিনি) চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।” (সূরা আল-বাকারাহ ২:২৫৫)
তিনি বলেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ “কোনও কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন।” (সূরা আশ-শূরা ৪২:১১)
[৫৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَرَكَ قَتْلَى بَدْرٍ ثَلَاثًا ثُمَّ أَتَاهُمْ فَقَامَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ يَا أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ يَا أُمَيَّةُ بْنَ خَلَفٍ يَا عُتْبَةُ بْنَ رَبِيعَةً يَا شَيْبَةُ بْنَ رَبِيعَةَ أَلَيْسَ قَدْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمْ رَبُّكُمْ حَقًّا فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي رَبِّي حَقًّا
فَسَمِعَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَوْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَسْمَعُونَ وَأَنَّى يُجِيبُونَ وَقَدْ جَيَّفُوا فَقَالَ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُوْلُ مِنْهُمْ وَلَكِنَّهُمْ لَا يَقْدِرُونَ أَنْ يُجِيبُوا
ثُمَّ أَمَرَ بِهِمْ فَسُحِبُوا فَأُلْقُوا فِي قَلِيبِ بَدْرٍ
قَالَ قَتَادَةُ أَحْيَاهُمُ اللَّهُ بَأَعْيَانِهِمْ حَتَّى يَسْمَعُوا قَوْلَهُ تَوْبِيخًا وَصَغَارًا وَنِقْمَةٌ وَنَدَامَةً
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বদরে নিহত (কাফির)-দের লাশ তিনদিন ফেলে রেখেছিলেন। তারপর তিনি এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন,
'ওহে আবূ জাহল ইবনু হিশাম, ওহে উমাইয়া ইবনু খালাফ, ওহে উতবা ইবনু রবীআ, ওহে শাইবা ইবনু রবীআ! তোমাদের রব তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তোমরা সত্য পেয়েছ? আমার রব আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমি কিন্তু তা সত্য পেয়েছি!'
উমার রা. নবি ﷺ-এর বক্তব্য শুনে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, ওরা কীভাবে শুনবে, আর কীভাবেই বা উত্তর দেবে? ওদের লাশ তো (পচে) দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে!' তিনি বলেন,
“শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তারা আমার কথা যত স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, ওর চেয়ে বেশি স্পষ্টভাবে তোমরা শুনতে পাও না। কিন্তু তারা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।”
তারপর তাঁর নির্দেশ মোতাবেক তাদের টেনে হ্যাঁচড়ে নিয়ে বদরের কুয়োয় নিক্ষেপ করা হয়।[১]
কাতাদা র. বলেন, 'আল্লাহ সেসব নেতাকে জীবিত করে দিয়েছিলেন, যাতে তারা তাঁর কথা শুনতে পায়। তাদেরকে ভর্ৎসনা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, প্রতিশোধ ও অনুশোচনার মুখোমুখি করার উদ্দেশে এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।'
(মৃত্যুর পর) তাদের মধ্যে এতটুকু প্রাণসঞ্চার করা হয়েছে যে, তারা নবি -এর কথা শুনতে পেয়েছে। এখান থেকে বুঝা গেল, তাদের (শারীরিক) অবস্থার পরিবর্তন (মৃত্যুর পর) প্রাণসঞ্চারণে বাধা সৃষ্টি করেনি। লাশ ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
[৫৭] খলাফ ইবনু খলীফা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
شَهِدْتُ مَقْتَلَ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ فَلَمَّا بَانَ رَأْسُهُ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ وَلَمْ يُتْمِمْهَا
'সাঈদ ইবনু জুবাইরের নিহত হওয়ার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর মাথা (দেহ থেকে) বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরও তিনি বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।” তৃতীয়বার বলতে গিয়ে তিনি তা সম্পূর্ণ বলতে পারেননি।'[১]

টিকাঃ
[১] মুসলিম, সহীহ, ২৮৭৪。
[১] এর সনদটি শক্তিশালী নয়। (ড. শারাফ মাহমুদ)

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 মৃত ব্যক্তির জীবন

📄 মৃত ব্যক্তির জীবন


যারা দুনিয়া ছেড়ে চলে যায়, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন অবস্থা সৃষ্টি করেন, যা আমরা দেখি না, অনুধাবনও করতে পারি না। সেখানে একদল থাকে রকমারি অনুগ্রহের মধ্যে, আর অপর দল থাকে নানা কষ্টে। এ সংক্রান্ত দলীলপ্রমাণ নিচে উল্লেখ করা হলো:
মহামহিম আল্লাহ যাদের ঈমান ও দৃঢ়তা দান করেছেন, তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ
“(যারা ঘোষণা করেছে—আল্লাহ আমাদের রব, এরপর তার উপরে স্থির থেকেছে,) তাদের কাছে ফেরেশতারা আসে (এবং বলে), ভীত হয়ো না, দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনে খুশি হও, যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হয়েছে।” (সূরা ফুসসিলাত/হা-মীম আস-সাজদাহ ৪১:৩০)
মুজাহিদ বলেন, 'এটি মৃত্যুর সময় ঘটে থাকে।'
সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ ৪১:৩০-এর ব্যাখ্যায় সুফইয়ান বলেন, তাদের কাছে মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা আসে (এবং বলে), তোমাদের সামনে কী আছে—তা ভেবে ভীত হয়ো না, পেছনে ফেলে আসা সহায়-সম্পদের জন্য দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনে খুশি হও, যার ওয়াদা তোমাদের দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, (মুমিনকে) তিনটি সুসংবাদ দেওয়া হবে: মৃত্যুর সময়, কবর থেকে বের হওয়ার সময়, আর যখন সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে।
(ফেরেশতারা তাকে অভয় দিয়ে বলবে)
نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“আমরা দুনিয়ার জীবনেও তোমাদের বন্ধু এবং আখিরাতেও।” (সূরা হা-মীম আস-সাজদাহ ৪১:৩০)
আল্লাহ যাদের শহীদ হওয়ার সৌভাগ্য দিয়েছেন, তাদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
"যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত; নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত।” (সূরা আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭০)
অতএব, তাদের ব্যাপারে দ্ব্যর্থহীন সিদ্ধান্ত হলো—তারা জীবিত, যদিও পৃথিবীতে দেখা যায়, তাদের দেহ রক্তে রঞ্জিত, কোনো কোনোটি পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সেগুলো হিংস্র পাখি ও বন্য জীবজন্তু খাচ্ছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য এমন অবস্থা সৃষ্টি করেন, যেখানে তারা (বিভিন্ন বিষয়) উপভোগ করতে পারে। যদিও আমরা তা অনুধাবন করতে পারি না।
[৫৮] মাসরূক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَأَلْنَا عَبْدَ اللَّهِ يَعْنِي ابْنَ مَسْعُودٍ عَنْ هَذِهِ الْآيَةِ وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ قَالَ أَمَا إِنَّا قَدْ سَأَلْنَا عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ أَرْوَاحُهُمْ كَطَيْرٍ خُضْرٍ تَسْرَحُ فِي الْجَنَّةِ فِي أَيْهَا شَاءَتْ ثُمَّ تَأْوِي إِلَى قَنَادِيلَ مُعَلَّقَةٍ بِالْعَرْشِ قَالَ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ اطَّلَعَ عَلَيْهِمْ رَبُّكَ اطَّلَاعَةٌ فَقَالَ سَلُونِي مَا شِئْتُمْ فَقَالُوا يَا رَبَّنَا مَا نَسْأَلُكَ وَنَحْنُ نَسْرَحُ فِي الْجَنَّةِ فِي أَيُّهَا شِئْنَا فَلَمَّا رَأَوْا أَنَّهُمْ لَا يُتْرَكُونَ مِنْ أَنْ يَسْأَلُوا قَالُوا نَسْأَلُكَ أَنْ تَرُدَّ أَرْوَاحَنَا إِلَى أَجْسَادِنَا فِي الدُّنْيَا تُقْتَلُ فِي سَبِيلِكَ قَالَ فَلَمَّا رَأَى أَنَّهُمْ لَا يَسْأَلُونَ إِلَّا هَذَا تُرِكُوا
'আমরা আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ -কে নিম্নোক্ত আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি:
“যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত; নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে।"
(সূরা আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭০)
(জবাবে) তিনি বলেন, 'আমরাও (আল্লাহর রাসূল -কে) এ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেছিলেন,
"তাদের আত্মাসমূহ সবুজ পাখির ন্যায় জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরে বেড়ায়। তারপর তারা আরশের সঙ্গে ঝুলন্ত প্রদীপসমূহে আশ্রয় নেয়। তখন তাদের রব তাদের দিকে তাকিয়ে বলেন, 'তোমাদের যা ইচ্ছা, আমার কাছে চাও।' তারা বলে, 'হে আমাদের রব, আমরা তো জান্নাতের যেখানে ইচ্ছা সেখানে ঘুরে বেড়াচ্ছি। আপনার কাছে আর কী চাইব?' তারা যখন দেখে, কোনও কিছু না চাওয়া পর্যন্ত তাদের ছাড়া হচ্ছে না, তখন তারা বলে, 'আমরা চাই—আমাদের আত্মাসমূহ আমাদের দুনিয়ার দেহে ফেরত পাঠান। এ দেহগুলোকে আপনার রাস্তায় (লড়াই করার দরুন) হত্যা করা হোক!' আল্লাহ যখন দেখেন, এটি ছাড়া তারা আর কিছুই চায় না, তখন তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।" [১]
[৫৯] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
الشُّهَدَاءُ عَلَى بَارِقِ نَهْرٍ بِبَابِ الْجَنَّةِ فِي قُبَّةٍ خَضْرَاءَ يَخْرُجُ عَلَيْهِمْ رِزْقُهُمْ بُكْرَةٌ وَعَشِيًّا
“শহীদগণ থাকেন জান্নাতের দরজার কাছে বারিক নামক একটি ঝর্ণার পাশে; একটি সবুজ গম্বুজে। সেখানে তাদের সামনে সকাল-সন্ধ্যায় রিস্ক পরিবেশন করা হয়।”[২] শাইখ বলেন,
الْحَدِيثُ الْأَوَّلُ أَصَحُّ مِنْ هَذَا وَرُوِيَ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مَسْعُودٍ فَإِنْ صَحَّ هَذَا فَكَأَنَّهُ فِي قَوْمٍ مِنْهُمْ وَالْحَدِيثُ الْأَوَّلُ فِي آخَرِينَ وَلِأَهْلِ الْجَنَّةِ مَنَازِلُ وَدَرَجَاتٌ وَكَذَلِكَ أَهْلُ النَّارِ أَحْوَالُهُمْ فِيمَا يُعَذِّبُونَ بِهِ مُخْتَلِفَاتٌ وَعَلَى ذَلِكَ يُحْمَلُ مَا رُوِيْنَا فِي أَنْوَاعِ الثَّوَابِ وَالْعِقَابِ فَيُصْنَعُ بِقَوْمٍ هَكَذَا وَبِقَوْمٍ كَذَلِكَ لَا أَنَّ شَيْئًا مِنْ هَذِهِ الْأَخْبَارِ يُخَالِفُ صَاحِبَهَا خِلَافَ تَنَاقُضِ وَلَكِنَّ أَحْوَالَهُمْ تَخْتَلِفُ فِي أَنْوَاعِ مَا يُجْزَوْنَ بِهِ مِنَ الثَّوَابِ وَالْعِقَابِ
'প্রথম হাদীসটি এর তুলনায় বিশুদ্ধতর। ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত হাদীসটির অনুরূপ একটি হাদীস ইবনু আব্বাস থেকেও বর্ণিত হয়েছে। এটি বিশুদ্ধ হলে, তা সেসবের সমগোত্রীয় বলে বিবেচিত হবে। প্রথম হাদীসের মূলভাব শেষের দুটি হাদীসে বিদ্যমান। জান্নাতবাসীদের যেমন ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান ও পদমর্যাদা রয়েছে, জাহান্নামবাসীদের অবস্থাও তদনুরূপ। তাদের শাস্তিও নানা রকমের। রকমারি প্রতিদান ও শাস্তি সংক্রান্ত যেসব বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে, সেগুলোকে এ নীতির ভিত্তিতে মূল্যায়ণ করা যায়। অর্থাৎ, এক দলের সঙ্গে আচরণ হবে এই রকম, আর অপর দলের সঙ্গে আচরণ হবে ওই রকম। বিষয়টি এমন নয় যে, এসব বর্ণনার মধ্যে মীমাংসার-অযোগ্য বৈপরীত্য রয়েছে; বরং তাদের যেসব কাজের প্রতিদান ও শাস্তি দেওয়া হবে, সেসব কাজের রকমফেরের ভিত্তিতে তাদের অবস্থা বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।'
[৬০] মুহাম্মাদ ইবনুল মুনকাদির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ কে বলতে শুনেছি,
لَمَّا قُتِلَ أَبِي يَوْمَ أُحُدٍ جَعَلْتُ أَبْكِي وَأَكْشِفُ الثَّوْبَ عَنْ وَجْهِهِ وَجَعَلَ أَصْحَابُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَنْهَوْنِي عَنْ ذَلِكَ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يَنْهَانِي عَنْ ذَلِكَ وَجَعَلَتْ عَيْنَى تَبْكِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَبْكِ أَوْ مَا يُبْكِيكَ مَا زَالَتِ الْمَلَائِكَةُ تُظِلُّهُ بِأَجْنِحَتِهَا حَتَّى رَفَعْتُمُوهُ
“উহুদ যুদ্ধের দিন আমার পিতা নিহত হওয়ায় আমি কাঁদতে থাকি এবং তাঁর চেহারা থেকে কাপড় সরিয়ে নিতে যাই। নবি -এর সাহাবিগণ আমাকে এ কাজ করতে নিষেধ করছেন; কিন্তু, নবি আমাকে তা করতে নিষেধ করছেন না। আমার দু' চোখ দিয়ে অশ্রু ঝরছে। তা দেখে আল্লাহর রাসূল বলেন, 'কেঁদো না!' কিংবা 'কাঁদছো কেন? ফেরেশতারা নিজেদের ডানা দিয়ে তাঁকে ছায়া দিয়ে যাচ্ছে, যতক্ষণ না তোমরা তাকে (দাফনের জন্য) উত্তোলন করছ।' "[১]
[৬১] আদি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি বারা ইবনু আযিব-কে বলতে শুনেছি,
لَمَّا تُوُفِّيَ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجَنَّةِ
"(নবি -এর শিশুপুত্র) ইব্রাহীম মারা গেলে আল্লাহর রাসূল বলেন, 'জান্নাতে তার জন্য একজন ধাত্রী আছে।' "[২]
فَحَكَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَلَى ابْنِهِ إِبْرَاهِيمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِأَنَّ لَهُ مُرْضِعًا فِي الْجَنَّةِ وَهُوَ مَدْفُونُ بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فِي مَقْبَرَةِ الْمَدِينَةِ وَأَخْبَرَ عَنْ إِطْلَالِ الْمَلَائِكَةِ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ حَرَامٍ وَإِنْ كَانَ أَصْحَابُهُ لَا يَقِفُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ ذَلِكَ مُعَايَنَةٌ
وَفِي كُلِّ ذَلِكَ وَفِيمَا رُوِيَ مِنْ أَمْثَالِهِ تَرَكْنَاهُ لِأَجْلِ التَّخْفِيفِ وَتَرْكِ التَّطْوِيلِ دَلَالَةٌ عَلَى مَا قَصَدْنَاهُ مِنْ جَوَازِ حُدُوثِ هَذِهِ الْأَحْوَالِ عَلَى مَنْ فَارَقَ الدُّنْيَا وَإِنْ كُنَّا لَا نُشَاهِدُهَا وَلَا نَقِفُ عَلَيْهَا وَوَجَبَ إِسْنَادُهَا عِنْدَ وُرُودِ الْخَبَرِ الصَّحِيحِ بِهَا
আল্লাহর রাসূল তাঁর ছেলে ইবরাহীম-এর ব্যাপারে জানিয়েছেন যে, জান্নাতে তার জন্য একজন ধাত্রী আছে। তাঁকে মদীনার কবরস্থান বাকীউল গারকাদে দাফন করা হয়েছে। তিনি এ মর্মে সংবাদ দিয়েছেন যে, ফেরেশতারা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর ইবনি হারাম-কে ছায়া দিয়েছেন; যদিও তাঁর সঙ্গী-সাথীগণ তার কিছুই দেখতে ও বুঝতে পারেননি।
এর প্রত্যেকটি ঘটনা ও তদনুরূপ যেসব বর্ণনা আমাদের কাছে পৌঁছেছে— সহজে উপস্থাপন ও দীর্ঘসূত্রিতা এড়ানোর স্বার্থে যা আমরা (এখানে উল্লেখ করা থেকে) বাদ দিয়েছি—তা থেকে প্রমাণিত হয়, আমরা যা বলার চেষ্টা করেছি তা হওয়া সম্ভব; অর্থাৎ যারা দুনিয়া থেকে বিদায় নেন, তাদের ক্ষেত্রে এসব অবস্থার সৃষ্টি হওয়ার সুযোগ রয়েছে; যদিও তা আমরা দেখতে ও বুঝতে পারি না। এ ব্যাপারে বিশুদ্ধ বর্ণনা থাকায়, এর উপর নির্ভর করা আবশ্যক।
যাদের শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাদের প্রসঙ্গে মহামহিম আল্লাহ বলেন, وَلَوْ تَرَى إِذْ يَتَوَفَّى الَّذِينَ كَفَرُوا الْمَلَائِكَةُ يَضْرِبُونَ وُجُوهَهُمْ وَأَدْبَارَهُمْ وَذُوقُوا عَذَابَ الْحَرِيقِ ذَلِكَ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيكُمْ وَأَنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِظَلَّامٍ لِلْعَبِيدِ
“হায়, যদি তোমরা সেই অবস্থা দেখতে পেতে, যখন ফেরেশতারা নিহত কাফিরদের রূহ কবয করেছিল। তারা তাদের চেহারায় ও পিঠে আঘাত করছিল এবং বলে চলছিল—নাও এখন জ্বালাপোড়ার শাস্তি ভোগ করো। এ হচ্ছে সেই অপকর্মের প্রতিফল যা তোমরা আগেই করে এসেছ। নয়তো আল্লাহ তার বান্দাদের ওপর জুলুমকারী নন।” (সূরা আল-আনফাল ৮:৫০-৫১)
তিনি (আরও) বলেন, وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُوا أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ
“তুমি যদি জালেমদের সে অবস্থায় দেখতে পেতে যখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে, নাও, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও। তোমরা আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে যেসব অন্যায় ও অসত্য কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতের বিরুদ্ধে যে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তারি শাস্তিস্বরূপ আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।” (সূরা আল-আনআম ৬:৯৩)
ফিরআউনের দলবলের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
"জাহান্নামের আগুন, যে আগুনের সামনে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। কিয়ামত সংঘটিত হলে নিদের্শ দেওয়া হবে, ফিরআউনের অনুসারীদের কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।” (সূরা গাফির/ আল-মুমিন ৪০:৪৬)
তিনি সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন যে, ফেরেশতারা যখন ওইসব লোকের মৃত্যু ঘটায়, তখন তাদের মুখমণ্ডল ও পশ্চাদ্দেশে আঘাত করে, যদিও আমরা তা দেখি না। তাদের মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা নিজেদের হাত প্রসারিত করে তাদের কিছু বলে, যদিও আমরা তা শুনতে পাই না। ফিরআউনের দলবলকে সকাল- সন্ধ্যায় জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়। দুনিয়া যতদিন থাকবে, ততদিন এ অবস্থা চলতে থাকবে। যদিও আমরা তা অনুধাবন করি না। এ সবগুলোই আমাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে।
[৬২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল -কে বলতে শুনেছি,
رَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الْخُزَاعِيَّ يَجُرُّ قُصَبَهُ فِي النَّارِ كَانَ أَوَّلَ مِنْ سَيَّبَ السَّابِبَةَ "আমি আমর ইবনু আমির খুযাঈ-কে দেখেছি, সে জাহান্নামের ভেতর নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করছে। সে-ই প্রথম 'সা-ইবা' (উস্ট্রীকে দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রথা) চালু করেছিল।”[১]
[৬৩] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, خَسَفَتِ الشَّمْسُ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْحَدِيثُ قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ جَهَنَّمَ يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا حِينَ رَأَيْتُمُونِي أَتَأَخَّرُ وَرَأَيْتُ عَمْرَو بْنَ لُحَيَ يَجُرُّ قُصَبَهُ فِي النَّارِ وَهُوَ أَوَّلُ مَنْ سَيِّبَ السَّوَابِبَ '(একবার) সূর্যগ্রহণ হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহর রাসূল দাঁড়িয়ে যান।' তারপর তিনি বিস্তারিত বিবরণ দেন। 'তিনি বলেন, “আমি দেখতে পাই, জাহান্নামের একটি অংশ অপর অংশকে খেয়ে ফেলছে। এটি ঘটেছে যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে দেখেছিলে। আর আমি দেখি, আমর ইবনু লুহাই জাহান্নামের ভেতর নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করছে। সে-ই প্রথম 'সা- ইবা' (উস্ট্রীকে দেবতার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়ার প্রথা) চালু করেছে।”
[৬৪] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ وَجَعَلَ يَتَقَدَّمُ وَيَتَأَخَّرُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ إِنَّهُ عُرِضَتْ عَلَى الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَقُرِبْتُ مِنَ الْجَنَّةِ حَتَّى لَوْ تَنَاوَلْتُ مِنْهَا قِطْفًا قُصِرَتْ يَدِي عَنْهُ أَوْ قَالَ نِلْتُهُ شَكٍّ هِشَامُ وَعُرِضَتْ عَلَى النَّارُ فَجَعَلْتُ أَتَأَخَّرُ رَهْبَةٌ أَنْ تَغْشَاكُمْ وَرَأَيْتُ امْرَأَةٌ حِمْيَرِيَّةٌ سَوْدَاءَ طَوِيلَةٌ تُعَذِّبُ فِي هِرَّةٍ لَهَا رَبَطَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا وَلَمْ تَدَعْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ وَرَأَيْتُ فِيهَا أَبَا ثُمَامَةَ عَمْرَو بْنَ مَالِكٍ يَجُرُّ قُصْبَهُ في النَّارِ
'একবার আল্লাহর রাসূল -এর সময় সূর্যগ্রহণ হয়।' তারপর তিনি সম্পূর্ণ হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, 'নবি সামনে-পেছনে যেতে থাকেন। তারপর তিনি তাঁর সাহাবিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বলেন,
"আমার সামনে জান্নাত ও জাহান্নাম পেশ করা হয়েছিল। আমাকে জান্নাতের এত নিকটে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল যে, আমি চাইলে সেখান থেকে আঙুরের একটি থোকা নিতে পারতাম।"
অথবা তিনি বলেছিলেন, "আমি সেখানকার আঙুরের একটি থোকা ধরতে চেয়েছিলাম, কিন্তু হাতে নাগাল পাইনি।"
এ দু'টির মধ্যে তিনি কোনটি বলেছিলেন—এ নিয়ে বর্ণনাকারী হিশামের মনে সংশয় রয়েছে।
"আমার সামনে জাহান্নাম উপস্থাপন করা হয়েছিল, ফলে আমি পিছু হটতে থাকি, পাছে তা তোমাদের আচ্ছাদিত করে নেয় কিনা! আর আমি দেখি, এক দীর্ঘদেহী কালো হিমইয়ারি মহিলাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে; কারণ সে তার একটি বিড়ালকে বেঁধে রেখেছিল, তাকে খাবার দেয়নি, আবার তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে ভূপৃষ্ঠের জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ খেয়ে বাঁচতে পারে। আর আবূ সুমামা আমর ইবনু মালিককে দেখলাম, সে জাহান্নামের ভেতর নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করছে।" [১]
[৬৫] জাবির ইবনু আব্দিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَذَكَرَ الْحَدِيثَ إِلَى أَنْ قَالَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا رَأَيْتُمْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ فَصَلُّوا حَتَّى يَنْجَلِى فَإِنَّهُ لَيْسَ مِنْ شَيْءٍ تُوعَدُونَهُ إِلَّا قَدْ رَأَيْتُهُ فِي صَلَاتِي هَذِهِ حَتَّى لَقَدْ جِيءَ بِالنَّارِ فَذَلِكَ حِينَ رَأَيْتُمُونِي تَأَخَرْتُ مَخَافَةً أَنْ يُصِيبَنِي مِنْ لَفْحِهَا قُلْتُ أَى رَبِّ وَأَنَا فِيهِمْ حَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَ الْمِحْجَنِ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ كَانَ يَسْرِقُ الْحَاجَ بِمِحْجَنِهِ فَإِذَا فُطِنَ لَهُ قَالَ إِنَّمَا تَعَلَّقَ بِمِحْجَنِي وَإِنْ غُفِلَ عَنْهُ ذَهَبَ بِهِ حَتَّى رَأَيْتُ فِيهَا صَاحِبَةَ الْهِرَّةِ الَّتِي رَبَطَتْهَا فَلَمْ تُطْعِمْهَا وَلَمْ تَسْقِهَا وَلَمْ تَتْرُكْهَا تَأْكُلُ مِنْ خَشَاشِ الْأَرْضِ حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا
'একবার আল্লাহর রাসূল -এর সময় সূর্যগ্রহণ হয়।'
তারপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসটি উল্লেখ করে বলেন, 'নবি বলেন,
“অতঃপর তোমরা যদি সূর্যগ্রহণের কোনও আলামত দেখতে পাও, তাহলে সালাত আদায় করতে থেকো, যতক্ষণ না তা শেষ হচ্ছে। তোমাদেরকে (ইতোমধ্যে) যেসব বিষয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার এমন একটি বিষয়ও অবশিষ্ট নেই, যা আমি এই সালাতের মধ্যে দেখিনি। এমনকি আমার কাছে জাহান্নামকেও আনা হয়েছে। এটি ঘটেছে যখন তোমরা আমাকে পিছু হটতে দেখেছিলে; আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এর অগ্নিশিখা আমাকে স্পর্শ করে কিনা। (তখন) আমি বলি, 'হে আমার রব, আমি কি তাদের অন্তর্ভুক্ত?'
একপর্যায়ে সেখানে এক বাঁকা-লাঠিওয়ালাকে দেখলাম, সে জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করছে। সে ওই বাঁকা লাঠি দিয়ে হাজিদের জিনিসপত্র চুরি করত। তাকে (ওই কাজ করতে) কেউ দেখে ফেললে, সে বলত—আমার লাঠির আঁকড়ায় ওটি আটকে গিয়েছিল! আর কেউ খেয়াল না করলে, সে তা নিয়ে চলে যেত। একসময় দেখলাম, সেখানে এক মহিলা। তার একটি বিড়াল ছিল। সেটিকে সে বেঁধে রেখেছিল, কিন্তু তাকে খাবার ও পানীয় দেয়নি, আবার তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে ভূপৃষ্ঠের জীবজন্তু ও কীটপতঙ্গ "খেয়ে বাঁচতে পারে। একপর্যায়ে ক্ষুধার্ত অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়।”[১]
[৬৬] আবূ আইয়ূব আনসারি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم خَرَجَ حِينَ وَجَبَتِ الشَّمْسُ فَقَالَ هَذِهِ أَصْوَاتُ يَهُودٍ تُعَذِّبُ فِي قُبُورِهَا
'আল্লাহর রাসূল সূর্যাস্তের পর বের হয়ে (একটি বিকট আওয়াজ শুনতে পান)। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "এটি ইয়াহুদিদের আওয়াজ। তাদেরকে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”[২]
[৬৭] 'আমরা বিন্তু আব্দির রহমান থেকে বর্ণিত,
أَنَّهَا سَمِعَتْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا وَذَكَرَتْ لَهَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا يَقُولُ إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذِّبُ بِبُكَاءِ الْحَي فَقَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَمَا إِنَّهُ لَمْ يَكْذِبْ وَلَكِنَّهُ أَخْطَأَ أَوْ نَسِيَ إِنَّمَا مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم عَلَى يَهُودِيَّةٍ وَهِيَ يَبْكِي عَلَيْهَا أَهْلُهَا فَقَالَ إِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ عَلَيْهَا وَإِنَّهَا لَتُعَذِّبُ فِي قَبْرِهَا
'তিনি আয়িশা থেকে শুনেছেন। তাঁর সামনে আব্দুল্লাহ ইবনু উমার -এর কথা উল্লেখ করা হলো যে, তিনি বলেন, "জীবিত ব্যক্তির কান্নার দরুন মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেওয়া হয়।” এ কথা শুনে আয়িশা বলেন,
'সাবধান! তিনি মিথ্যা বলেন না; তবে (মাঝেমধ্যে) ভুল করেন কিংবা ভুলে যান। (আসল ঘটনা ছিল এ রকম:) আল্লাহর রাসূল এক (মৃত) ইয়াহুদি মহিলার পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন। তখন তার পরিবারের লোকজন তার জন্য কান্নাকাটি করছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, “এরা তো ওর জন্য কান্নাকাটি করছে, অথচ (ওদিকে) ওর কবরে ওকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে!"[৩]
[৬৮] যাইদ ইবনু সাবিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم حَابِطًا لِبَنِي النَّجَّارِ وَهُوَ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ فَمَرَّتْ عَلَى قُبُورِ خَمْسَةٍ أَوْ سِتَّةٍ فَحَادَتْ بِهِ الْبَغْلَةُ فَقَالَ أَيُّكُمْ يَعْرِفُ أَصْحَابَ هَذِهِ الْقُبُورِ فَقَالَ رَجُلٌ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ مَا هُمْ قَالَ مَاتُوا فِي الْإِشْرَاكِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا وَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ يَعْنِي الَّذِي هُمْ فِيهِ ثُمَّ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ ثُمَّ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنَ الْفِتَنِ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ ثُمَّ قَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ তাঁর একটি খচ্চরে চড়ে বানুন নাজ্জারের এক বাগানে ঢুকেন। তারপর পাঁচ-ছয়টি কবর অতিক্রম করতেই, খচ্চরটি তাঁকে নিয়ে আচমকা রাস্তা বদলে ফেলে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেন, “তোমাদের মধ্যে কে এসব কবরের বাসিন্দাদের চিনো?” এক ব্যক্তি বলে, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমি (চিনি)।' তিনি জানতে চান, “এরা কারা?” সে বলে, 'এরা শির্কে লিপ্ত থাকাবস্থায় মারা গিয়েছে।' তখন আল্লাহর রাসূল ﷺ বলেন,
“এই উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়। তোমরা একে অপরকে দাফন করবে না[১] - এই আশঙ্কা না থাকলে, আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাবের কিয়দংশ শুনতে দেন।” অর্থাৎ তারা যেসব শাস্তিতে নিপতিত আছে। তারপর তিনি বলেন, "তোমরা কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও! আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও জাহান্নামের শাস্তি থেকে!” তারপর বলেন, “তোমরা প্রকাশ্য ও গোপন পরীক্ষাসমূহ থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও! আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে!”[২]
[৬৯] আনাস থেকে বর্ণিত, أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم كَانَ عَلَى بَغْلَةٍ شَهْبَاءَ فَمَرَّ عَلَى حَابِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ فَإِذَا هُوَ بِقَبْرٍ يُعَذِّبُ صَاحِبُهُ فَحَاصَتِ الْبَغْلَةُ فَقَالَ لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ
'আল্লাহর রাসূল ﷺ ধূসর রঙের একটি খচ্চরে আরোহণ করে বানুন নাজ্জারের একটি বাগানের পাশ দিয়ে যান। ওই সময় তিনি এমন এক কবরের কাছে উপনীত হন, যার বাসিন্দাকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। তখন খচ্চরটি আচমকা দৌড় দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, "তোমরা একে অপরকে দাফন করবে না—এই আশঙ্কা না থাকলে, আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনতে দেন।" [১]
[৭০] দীর্ঘদেহী হুমাইদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سَمِعَ صَوْتًا مِنْ قَبْرٍ فَقَالَ مَتَى مَاتَ هَذَا قَالُوا مَاتَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَكَأَنَّهُ أَعْجَبَهُ ذَلِكَ فَقَالَ لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا أَوْ كَمَا قَالَ لَدَعَوْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ
'আমি আনাস ইবনু মালিক -কে বলতে শুনেছি, “আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি কবর থেকে আওয়াজ শুনতে পেয়ে বলেন, 'এই লোক কবে মারা গিয়েছে?' তাঁরা জানান, 'সে জাহিলি যুগে মারা গিয়েছে।' মনে হলো, এ কথা শুনে তিনি চমকে গিয়েছেন। এরপর তিনি বলেন, 'তোমরা একে অপরকে দাফন করবে না—এই আশঙ্কা না থাকলে,'— অথবা তিনি অনুরূপ কিছু একটা বলেছিলেন—'আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনতে দেন।' [খ]
[৭১] আনাস থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন, لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ عَذَابَ الْقَبْرِ
“তোমরা একে অপরকে দাফন করবে না—এই আশঙ্কা না থাকলে, আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি যেন তোমাদেরকে কবরের আযাব শুনতে দেন।"[১]
[৭২] আনাস থেকে বর্ণিত,
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرِبًا لِبَنِي النَّجَّارِ كَأَنَّهُ يَقْضِي حَاجَةً فَخَرَجَ وَهُوَ مَدْعُورُ فَقَالَ لَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ مَا أَسْمَعَنِي
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বানুন নাজ্জারের একটি ধ্বংসস্তূপে প্রবেশ করেন। সম্ভবত প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তারপর ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায় সেখান থেকে বেরিয়ে এসে বলেন, “তোমরা একে অপরকে দাফন করবে না—এই আশঙ্কা না থাকলে, আমি আল্লাহর কাছে দুআ করতাম, তিনি আমাকে কবরের যে আযাব শুনিয়েছেন, তা যেন তোমাদের শুনতে দেন।”'
[৭৩] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بَيْنَمَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي نَخْلٍ لَنَا نَخْلِ أَبِي طَلْحَةَ فَمَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرٍ فَقَامَ حَتَّى مَرَّ إِلَيْهِ بِلَالٌ فَقَالَ وَيْحَكَ يَا بِلَالُ هَلْ تَسْمَعُ مَا أَسْمَعُ فَقَالَ صَاحِبُ الْقَبْرِ يُعَذِّبُ قَالَ فَسَأَلَ عَنْهُ فَوَجَدَهُ يَهُودِيًّا
'আল্লাহর রাসূল ছিলেন আবূ তালহার খেজুর বাগানে। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ একটি কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় দাঁড়িয়ে যান। একপর্যায়ে বিলাল তাঁর কাছে যান। তিনি বলেন, “বিলাল! আমি যা শুনছি, তুমি তা শুনছ?” এরপর তিনি বলেন, “(এই) কবরবাসীকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।” পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, কবরবাসী একজন ইয়াহুদি।[২]
[৭৪] উম্মু মুবাশির-এর সূত্রে জাবির থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَأَنَا فِي حَابِطٍ لِبَنِي النَّجَّارِ فِيهِ قُبُورُ مِنْهُمْ وَهُوَ يَقُولُ اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِلْقَبْرِ عَذَابٌ فَقَالَ إِنَّهُمْ لَيُعَذِّبُونَ فِي قُبُورِهِمْ عَذَابًا تَسْمَعُهُ الْبَهَابِمُ
'আমার কাছে আল্লাহর রাসূল আসেন। আমি তখন বানুন নাজ্জারের একটি বাগানে। সেখানে তাদের কিছু লোকের কবর ছিল। তিনি বলতে থাকেন, “তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও।” আমি বলি, 'হে আল্লাহর রাসূল, কবরে কি শাস্তি হয়?' তিনি বলেন, "তাদের কবরে এমন শাস্তি দেওয়া হয়, যা জীবজন্তুরা শুনতে পায়।" [১]
[৭৫] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَبِلَالٌ يَمْشِيَانِ فِي الْبَقِيعِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يَا بِلَالُ هَلْ تَسْمَعُ مَا أَسْمَعُ فَقَالَ لَا وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَسْمَعُ فَقَالَ أَلَا تَسْمَعُ أَهْلَ الْقُبُورِ يُعَذِّبُونَ
'(একবার) আল্লাহর রাসূল ও বিলাল বাকীউল গারকাদ কবরস্থানে হাঁটছেন। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন, 'বিলাল! আমি যা শুনছি, তুমি কি তা শুনতে পাচ্ছ?” তিনি বলেন, 'না। শপথ আল্লাহর! হে আল্লাহর রাসূল, আমি শুনতে পাচ্ছি না।' তখন তিনি বলেন, “কবরবাসীদের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। তুমি কি শুনতে পাচ্ছো না?"'
শাইখ বলেন,
وَهَذَا أَيْضًا إِسْنَادُ صَحِيحٌ شَاهِدٌ لَمَّا تَقَدَّمَ وَفِي كُلِّ ذَلِكَ دَلَالَةٌ لِمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى جَوَازِ تَعْذِيبِ مَنِ انْتَقَضَتْ بِنْيَتُهُ فِي رُؤْيَتِنَا أَوْ صَارَ رَمِيمًا فِي أَعْيُنِنَا عَذَابًا يَسْمَعُهُ مَنْ أَرَادَ اللَّهُ سُبْحَانَهُ أَنْ يُسْمِعَهُ دُونَ مَنْ لَمْ يُرِدْهُ وَيُشَاهِدُهُ مِنْ أَرَادَ اللَّهُ تَعَالَى أَنْ يُشَاهِدَهُ دُونَ مَنْ لَمْ يُرِدْ فَقَدْ سَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم أَصْوَاتَ مَنْ يُعَذِّبُ مِنْهُمْ وَلَمْ يَسْمَعْهَا مَنْ كَانَ مَعَهُ مِنْ أَصْحَابِهِ وَرَأَى حِينَ صَلَّى صَلَاةَ الْخُسُوفِ مَنْ يَجُرُّ قُصْبَهُ فِي النَّارِ وَمَنْ يُعَذِّبُ فِي السَّرِقَةِ وَالْمَرْأَةَ الَّتِي كَانَتْ تُعَذِّبُ فِي الْهِرَّةِ وَقَدْ صَارُوا فِي قُبُورِهِمْ رَمِيمًا فِي أَعْيُنِ أَهْلِ زَمَانِهِ وَلَمْ يَرَ مَنْ صَلَّى مَعَهُ مِنْ ذَلِكَ مَا رَأَى وَقَدْ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي خَبَرٍ صَحِيحٍ عَنْهُ فِي مَنَامِهِ وَرُؤْيَا الْأَنْبِيَاءِ صَلَوَاتُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَحْى جَمَاعَةً يُعَذِّبُونَ فِي مَوَاضِعَ مُتَفَرِّقَةٍ فِي جَرَابِمَ مُخْتَلِفَةٍ وَلَعَلَّهُمْ صَارُوا رَمِيمًا فِي قُبُورِهِمْ فِي أَعْيُنِنَا
'এটিও একটি বিশুদ্ধ দলীল, যা আগের বক্তব্যকে সমর্থন করে। আল্লাহ ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ -এর উপর যারা ঈমান পোষণ করে, তারা এ (ধরনের) প্রত্যেকটি বর্ণনা থেকে প্রমাণ পায় যে, আমাদের দৃষ্টিতে যাদের শরীরের ভৌতকাঠামো বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে কিংবা পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে-তাদের শাস্তি দেওয়ার সুযোগ আছে। ওই শাস্তি কেবল তারাই শুনে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা শোনাতে চান; যাদের তিনি (שোনাতে) চান না, তাদের বাদে। ওই শাস্তি কেবল তারাই দেখে, যাদেরকে আল্লাহ তাআলা দেখাতে চান; যাদের তিনি (দেখাতে) চান না, তাদের বাদে। যেমন-আল্লাহর রাসূল কবরবাসীর শাস্তি [র আওয়াজ] শুনেছেন, অথচ তাঁর সঙ্গে- থাকা সাহাবিগণ তা শুনতে পাননি। তিনি সূর্যগ্রহণের সালাত আদায়কালে দেখেছেন-এক ব্যক্তি জাহান্নামের মধ্যে নিজের নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করছে, আরেকজন চুরির অপরাধে শাস্তি ভোগ করছে, এবং বিড়ালের (সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণের) জন্য এক মহিলা শাস্তি পাচ্ছে। অথচ সমকালীন লোকদের চোখে তাদের দেহকাঠামো কবরের ভেতর পচে-গলে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তিনি যা দেখেছেন, তা তাঁর সঙ্গে সালাত-আদায়-করা কেউ দেখতে পাননি।
বিশুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসূল স্বপ্নে দেখেছেন-আর নবিগণের স্বপ্ন ওহির অন্তর্ভুক্ত-একদল লোককে বিভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধের দায়ে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। অথচ আমাদের চোখে সম্ভবত তাদের দেহকাঠামো কবরের ভেতর পচে গলে গিয়েছে।'
[৭৬] সামুরা ইবনু জুন্দুব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ مَنْ رَأَى مِنْكُمُ اللَّيْلَةَ رُؤْيَا قَالَ فَإِنْ رَأَى أَحَدٌ قَصَّهَا فَيَقُولُ مَا شَاءَ اللَّهُ فَسَأَلَنَا يَوْمًا فَقَالَ هَلْ رَأَى أَحَدٌ مِنْكُمْ رُؤْيَا قُلْنَا لَا قَالَ
لَكِن رَأَيْتُ اللَّيْلَةَ رَجُلَيْنِ أَتَيَانِي فَأَخَذَا بِيَدِي فَأَخْرَجَانِي إِلَى أَرْضٍ مُقَدَّسَةٍ فَإِذَا رَجُلٌ جَالِسٌ وَرَجُلٌ قَائِمٌ بِيَدِهِ كَلُوبٌ مِنْ حَدِيدٍ يُدْخِلُهُ فِي شِدْقِهِ حَتَّى يَبْلُغَ قَفَاهُ ثُمَّ يَفْعَلُ بِشِدْقِهِ الْآخَرِ مِثْلَ ذَلِكَ وَيَلْتَهِمُ شِدْقُهُ هَذَا فَيَعُودُ فَيَضَعُ الْكَلُوبَ مِثْلَهُ قُلْتُ مَا هَذَا قَالَا انْطَلِقِ انْطَلِقُ
فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى رَجُلٍ مُضْطَجِعٍ عَلَى قَفَاهُ وَرَجُلٍ قَابِمٍ عَلَى رَأْسِهِ بِفِهْرٍ أَوْ صَخْرَةٍ فَيَشْدَخُ بِهِ رَأْسَهُ فَإِذَا ضَرَبَهُ تَدَهْدَهَ الْحَجَرُ فَانْطَلَقَ إِلَيْهِ لِيَأْخُذَهُ فَلَا يَرْجِعُ إِلَى هَذَا حَتَّى يَلْتَهِمَ رَأْسُهُ وَعَادَ رَأْسُهُ كَمَا كَانَ فَعَادَ إِلَيْهِ فَضَرَبَهُ قُلْتُ مَنْ هَذَا قَالَا انْطَلِقِ انْطَلِقْ
فَانْطَلَقْنَا إِلَى بَيْتٍ مِثْلِ التَّنُّورِ أَعْلَاهُ ضَيِّقُ وَأَسْفَلُهُ وَاسِعُ يَتَوَقَّدُ تَحْتَهُ نَارًا فَإِذَا اقْتَرَبَتْ ارْتَفَعُوا حَتَّى كَادُوا أَنْ يَخْرُجُوا فَإِذَا خَمَدَتْ رَجَعُوا فِيهَا وَفِيهَا رِجَالٌ وَنِسَاءً عُرَاةً فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالَا انْطَلِقِ انْطَلِقُ
فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى نَهَرٍ مِنْ دَمٍ فِيهِ رَجُلٌ قَائِمٌ عَلَى شَاطِئِ النَّهَرِ وَرَجُلٌ بَيْنَ يَدَيْهِ حِجَارَةٌ فَأَقْبَلَ الرَّجُلُ الَّذِي فِي النَّهَرِ فَأَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ فَرَمَى الرَّجُلَ بِحَجَرٍ فِي فِيهِ فَرَدَّهُ حَيْثُ كَانَ فَجَعَلَ كُلَّمَا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ رَمَى فِي فِيهِ بِحَجَرٍ فَيَرْجِعُ كَمَا كَانَ فَقُلْتُ مَا هَذَا قَالَا انْطَلِقُ
فَانْطَلَقْنَا حَتَّى أَتَيْنَا إِلَى رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ فِيهَا شَجَرَةٌ عَظِيمَةً وَفِي أَصْلِهَا شَيْخٌ وَصِبْيَانُ وَإِذَا رَجُلٌ قَرِيبٌ مِنَ الشَّجَرَةِ بَيْنَ يَدَيْهِ نَارُ يُوقِدُهَا فَصَعِدُوا بِيَ إِلَى الشَّجَرَةِ وَأَدْخَلَانِي دَارًا لَمْ أَرَ قَطُّ أَحْسَنَ مِنْهَا فِيهَا رِجَالٌ شُيُوخٌ وَشَبَابٌ وَنِسَاءٌ وَصِبْيَانُ ثُمَّ أَخْرَجَانِي مِنْهَا فَصَعِدَا بِي الشَّجَرَةَ فَأَدْخَلَانِي دَارًا هِيَ أَفْضَلُ وَأَحْسَنُ فِيهَا شُيُوخٌ وَشَبَابٌ
قُلْتُ طَوَّفْتُمَانِي اللَّيْلَةَ فَأَخْبِرَانِي عَمَّا رَأَيْتُ قَالَا نَعَمْ الَّذِي رَأَيْتَهُ يَشُقُ شِدْقَهُ فَكَذَّابٌ يُحَدِّثُ بِالْكَذْبَةِ فَتُحْمَلُ عَنْهُ حَتَّى تَبْلُغَ الْآفَاقَ فَيُصْنَعَ بِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَالَّذِي رَأَيْتَهُ يَشْدَخُ رَأْسَهُ فَرَجُلٌ عَلَّمَهُ اللهُ الْقُرْآنَ فَنَامَ عَنْهُ بِاللَّيْلِ وَلَمْ يَعْمَلْ فِيهِ بِالنَّهَارِ يُفْعَلُ بِهِ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
وَالَّذِي رَأَيْتَهُ فِي التَّقْبِ فَهُمُ الزُّنَاةُ
وَالَّذِي رَأَيْتَهُ فِي النَّهَرِ آكِلُوا الرِّبَا
وَالشَّيْحُ فِي أَصْلِ الشَّجَرَةِ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَالصَّبْيَانُ حَوْلَهُ أَوْلَادُ النَّاسِ وَالَّذِي يُوقِدُ النَّارَ مَالِكَ خَازِنُ النَّارِ وَالدَّارُ الْأُولَى الَّتِي دَخَلْتَ دَارُ عَامَّةِ الْمُؤْمِنِينَ وَأَمَّا هَذِهِ الدَّارُ فَدَارُ الشُّهَدَاءِ وَأَنَا جِبْرِيلُ وَهَذَا مِيكَابِيلُ فَارْفَعْ رَأْسَكَ فَرَفَعْتُ رَأْسِي فَإِذَا فَوْقِي مِثْلُ السَّحَابِ قَالَا ذَاكَ مَنْزِلُكَ قُلْتُ دَعَانِي أَدْخُلْ مَنْزِلِي قَالَا إِنَّهُ بَقِيَ لَكَ عُمُرُ لَمْ تَسْتَكْمِلْهُ فَلَوِ اسْتَكْمَلْتَهُ أَتَيْتَ مَنْزِلَكَ
'নবি ﷺ সালাত আদায় শেষে আমাদের দিকে মুখ করে বলতেন, "আজ রাতে তোমাদের কে কে স্বপ্ন দেখেছ?" কেউ দেখে থাকলে, সে তার বিবরণ দিত। শুনে তিনি বলতেন, "মা শা আল্লাহ/ আল্লাহ যা চান (তা-ই হয়)!" একদিন তিনি আমাদের জিজ্ঞাসা করেন, "তোমাদের কেউ কি (আজ) স্বপ্ন দেখেছ?" আমরা বলি, 'না।' তিনি বলেন,
"তবে আজ রাতে আমি (স্বপ্নে) দেখি: দু'জন লোক এসে আমার হাত ধরে একটি পবিত্র ভূমিতে নিয়ে যায়। সেখানে এক লোক বসে আছে, আর আরেকজন দাঁড়িয়ে আছে লোহার হুক হাতে নিয়ে। সে হুকটি তার চোয়ালে ঢুকিয়ে মাথার পেছন পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছে। তারপর অপর চোয়ালেও একই কাজ করছে। এই (এক চোয়াল) জোড়া লেগে গেলে, সে এসে আগের মতো হুক ঢুকিয়ে দিচ্ছে। জিজ্ঞাসা করি, এটি কী? তারা বলেন, 'চলুন, চলুন।'
তারপর চলতে চলতে এক লোকের কাছে এসে হাজির হই। লোকটি চিৎ হয়ে শুয়ে আছে। আরেকজন তার মাথার কাছে একটি পাথর বা শিলাখণ্ড নিয়ে দাঁড়ানো। সে তা দিয়ে তার মাথা চূর্ণ করছে। আঘাতের ফলে পাথরটি গড়িয়ে দূরে চলে যাচ্ছে। পাথরটি আনতে গেলে, চূর্ণ হয়ে যাওয়া মাথাটি আগের অবস্থায় ফিরে আসছে। লোকটি ফিরে এসে আবার আঘাত করছে। আমি জিজ্ঞাসা করি, এই লোক কে? তারা বলেন, 'চলুন, চলুন।'
তারপর চলতে চলতে চুল্লি-সদৃশ একটি ঘরের নিকট এসে হাজির হই। ঘরটির উপরিভাগ সংকীর্ণ, আর নিম্নভাগ প্রশস্ত। এর নিচে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগুনের শিখার তেজ বাড়লে, লোকগুলোও উপরে উঠতে থাকে; প্রায় যেন (চুল্লি থেকে) বেরিয়ে যাবে। শিখার তেজ কমলে, তারা নিচে ফিরে আসে। (চুল্লির) ভেতরকার নারী-পুরুষগণ ছিল বিবস্ত্র। আমি জিজ্ঞাসা করি, এটি কী? তারা বলেন, 'চলুন, চলুন।'
এরপর চলতে চলতে একটি রক্তের নদীর নিকট এসে পৌঁছুই। সেখানে এক লোক নদীতে; আর আরেকজন নদীর পাড়ে। তার সামনে একটি পাথর। নদীতে থাকা লোকটি ওঠার চেষ্টা করলে, (তীরে থাকা) লোকটি তার মুখের উপর পাথর ছুড়ে মারছে। ফলে লোকটি আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে। লোকটি যখনই ওঠার চেষ্টা করছে, তখনই সে তার মুখ বরাবর পাথর ছুড়ে মারছে। ফলে সে আগের জায়গায় ফিরে যাচ্ছে। আমি জিজ্ঞাসা করি, এটি কী? তারা বলেন, '(সামনে) চলুন।'
তারপর চলতে চলতে একটি সবুজ উদ্যানে এসে পৌঁছুই। সেখানে একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষ। বৃক্ষের গোড়ায় এক বৃদ্ধ ও অনেক শিশু। তারপর নজরে পড়ে, গাছের কাছেই এক লোক। তার সামনে আগুন, যা সে প্রজ্জ্বলিত করে রাখছে। এরপর তারা আমাকে নিয়ে গাছের উপরে উঠে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দেন। ওর চেয়ে সুন্দর ঘর আমি কখনও দেখিনি। সেখানে আছে পুরুষ, বয়োবৃদ্ধ, যুবক, নারী ও শিশু। তারপর তারা আমাকে সেখান থেকে বের করে আনেন। আমাকে নিয়ে গাছের আরও উপরে উঠে একটি ঘরে ঢুকিয়ে দেন। এটি ছিল আরও উত্তম, আরও সুন্দর! সেখানে ছিল কয়েকজন বৃদ্ধ ও যুবক।
আমি বলি, 'তোমরা তো আমাকে সারা রাত ঘুরালে। যা দেখলাম, এখন তার ব্যাখ্যা দাও।' তারা বলেন, 'ঠিক আছে। (শুনুন তাহলে।)'
'যার গাল চিরতে দেখলেন, সে হলো চরম মিথ্যুক। সে মিথ্যা কথা রটায়। আর তার বরাতে ওই মিথ্যা দিদিগন্তে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে, কিয়ামাত পর্যন্ত তার সঙ্গে এ আচরণ চলতে থাকবে。
যার মাথা চূর্ণ হতে দেখলেন, সে হলো ওই লোক যাকে আল্লাহ কুরআন শিখিয়েছেন। কিন্তু সে রাত কাটিয়ে দিয়েছে ঘুমে; আর দিনেও ওই অনুযায়ী কাজ করেনি। তার সঙ্গে ওই আচরণ চলবে কিয়ামাত পর্যন্ত。
চুল্লি-সদৃশ গর্তে যাদের দেখলেন, তারা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী。
যাকে (রক্তের) নদীতে দেখলেন, সে হলো সুদখোর。
গাছের নিচের বৃদ্ধ হলেন ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। তাঁর চারপাশের শিশুগুলো হলো (বিভিন্ন) মানুষের সন্তান।[১] অগ্নিপ্রজ্জ্বলনকারী হলেন জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক (ফেরেশতা) মালিক।
প্রথম যে ঘরটিতে প্রবেশ করেছিলেন, সেটি সাধারণ মুমিনদের বাসস্থান। আর এটি শহীদদের বাসস্থান। আমি জিবরীল, আর ইনি মীকাঈল। এবার আপনার মাথা ওঠান!'
মাথা উপরের দিকে ওঠাতেই দেখি, আমার উপর মেঘসদৃশ একটি বস্তু। তারা বলেন, 'এটি আপনার বাসস্থান।' বলি, 'আমাকে ছেড়ে দাও! আমি আমার ঘরে ঢুকি।' তারা বলেন, 'আপনার আয়ুষ্কাল এখনও বাকি! (আপনার) পার্থিব জীবন এখনও শেষ হয়নি। শেষ হলে আপনি আপনার বাসস্থানে চলে আসবেন।' " '[২]
[৭৭] আবূ উমামা বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -কে বলতে শুনেছি, بَيْنَا أَنَا نَائِمُ إِذْ أَتَانِي رَجُلَانِ فَأَخَذَا بِضَبْعَى وَأَتَيَا بِي جَبَلًا فَقَالَا لِي اصْعَدْ فَقُلْتُ إِنِّي لَا أُطِيقُهُ فَقَالَا إِنَّا سَنُسَهِلُهُ لَكَ قَالَ فَصَعِدْتُ حَتَّى إِذَا كُنْتُ فِي سَوَاءِ الْجَبَلِ إِذَا أَنَا بِأَصْوَاتٍ شَدِيدَةٍ فَقُلْتُ مَا هَذِهِ الْأَصْوَاتُ قَالَ هَذَا عُوَاءُ أَهْلِ النَّارِ ثُمَّ انْطَلَقَ بِي فَإِذَا بِقَوْمٍ مُعَلَّقِينَ بِعَرَاقِيبِهِمْ مُنْشَقِةٌ أَشْدَاقُهُمْ تَسِيلُ أَشْدَاقُهُمْ دَمًا قَالَ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هُمُ الَّذِينَ يُفْطِرُونَ قَبْلَ تَحِلَّةِ صَوْمِهِمْ فَقَالَ أَبُو أُمَامَةَ خَابَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى فَقَالَ سُلَيْمٌ لَا أَدْرِى أَشَيْئًا سَمِعَهُ أَبُو أُمَامَةَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَمْ شَيْئًا مِنْ رَأْيِهِ ثُمَّ انْطَلَقَ بِي فَإِذَا أَنَا بِقَوْمٍ أَشَدٍ شَيْءٍ انْتِفَاحًا وَأَنْتَنِهِ رِيحًا وَأَسْوَبِهِ مَنْظَرًا قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ قَتْلَى الْكُفَّارِ ثُمَّ انْطَلَقَ بِي فَإِذَا أَنَا بِقَوْمٍ أَشَدِّ شَيْءٍ انْتِفَافًا وَأَنْتَنِهِ رِيحًا وَأَسْوَبِهِ مَنْظَرًا كَأَنَّ رِيحَهُمُ الْمَرَاحِيضُ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ الزَّانُونَ وَالزَّوَانِي ثُمَّ انْطَلَقَ بِي فَإِذَا بِنِسَاءٍ يَنْهَشَنَّ ثَدْيَهُنَّ الْحَيَّاتُ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ اللَّاتِي يَمْنَعْنَ أَوْلَادُهُنَّ أَلْبَانَهُنَّ ثُمَّ انْطَلَقَ بِي فَإِذَا بِغِلْمَانٍ يَلْعَبُونَ بَيْنَ نَهَرَيْنِ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَؤُلَاءِ ذَرَارِيُّ الْمُؤْمِنِينَ ثُمَّ شَرَفَ بِي شَرَفًا فَإِذَا بِنَفَرٍ ثَلَاثَةٍ يَشْرَبُونَ مِنْ خَمْرٍ لَهُمْ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَذَا جَعْفَرُ وَزَيْدُ وَابْنُ رَوَاحَةَ ثُمَّ شَرَفَ بِي شَرَفًا آخَرَ فَإِذَا بِنَفَرٍ ثَلَاثَةٍ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ قَالَ هَذَا إِبْرَاهِيمُ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَهُمْ يَنْتَظِرُونَكَ
"আমি তখন ঘুমে। দু'জন লোক এসে আমার দু' হাত ধরে একটি পাহাড়ের কাছে নিয়ে যান। তারপর আমাকে বলেন, 'আরোহণ করুন!' আমি বলি, 'আমি তো পারব না।' তারা বলেন, 'আমরা আপনার জন্য বিষয়টি সহজ করে দেবো।' এরপর আমি সেখানে উঠি। পাহাড়ের মাঝামাঝি এলাকায় ওঠার পর তীব্র আওয়াজ শুনতে পাই। জিজ্ঞাসা করি, 'এটি কীসের আওয়াজ?' তিনি বলেন, 'এটি জাহান্নামবাসীদের চিৎকার।' তারপর তিনি আমাকে নিয়ে একদল লোকের কাছে উপস্থিত হন। তাদেরকে নিজেদের হাঁটুর পেছনের পেশিতন্তুর সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে; চোয়াল ভেঙে দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে রক্ত ঝরছে। জানতে চাই, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা ওইসব লোক যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই সিয়াম ভেঙে ফেলে।' "
এরপর আবূ উমামা বলেন, 'ইয়াহুদি ও খৃষ্টানরা ব্যর্থ হোক!' বর্ণনাকারী সুলাইম বলেন, 'আমি জানি না-এ বাক্যটি আবূ উমামা রাসূল -এর মুখ থেকে শুনেছিলেন, নাকি নিজে থেকে মন্তব্য করেছেন।'
"তারপর তিনি আমাকে একদল লোকের কাছে নিয়ে যান। এদের দেহ অস্বাভাবিক রকমের ফুলে গিয়েছে; সেখান থেকে অত্যন্ত বিশ্রী দুর্গন্ধ আসছে; আর তাদের দৃশ্যও ছিল খুবই বিদঘুটে। জিজ্ঞাসা করি, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো কাফিরদের ওই দল যারা (যুদ্ধে) নিহত হয়েছে।' তারপর তিনি আমাকে অস্বাভাবিক রকমের ফুলে যাওয়া (আরও) একদল লোকের কাছে নিয়ে যান, যাদের কাছ থেকে অত্যন্ত বিশ্রী দুর্গন্ধ আসছিল, আর যাদের দেখতেও লাগছিল চরম বিদঘুটে। তাদের দুর্গন্ধ ছিল শৌচাগারের দুর্গন্ধের ন্যায়। জিজ্ঞাসা করি, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী।' তারপর তিনি আমাকে কয়েকজন মহিলার কাছে নিয়ে যান, যাদের স্তনে সাপ দংশন করছে। জিজ্ঞাসা করি, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো ওইসব নারী, যারা (সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও) নিজেদের সন্তানদের বুকের দুধ থেকে বঞ্চিত করে।' তারপর তিনি আমাকে একদল শিশুর কাছে নিয়ে যান, যারা দু' ঝর্ণার মাঝখানে খেলাধুলা করছে। জিজ্ঞাসা করি, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলো মুমিনদের শিশুসন্তান।' তারপর তিনি আমাকে নিয়ে তিনজনের একটি দলের সামনে হাজির হন, যারা (নেশামুক্ত) মদ পান করছেন। জিজ্ঞাসা করি, 'এরা কারা?' তিনি বলেন, 'এরা হলেন জাফর [ইবনু আবী তালিব], যাইদ [ইবনু হারিসা] ও ইবনু রাওয়াহা []। তারপর তিনি আমাকে তিনজনের একটি দলের কাছে নিয়ে যান। জিজ্ঞাসা করি, 'তাঁরা কারা?' তিনি বলেন, 'তাঁরা হলেন ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা ইবনু মারইয়াম । তাঁরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছেন।' "[২]
[৭৮] আবূ রাফি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
بَيْنَا أَنَا فِي بَقِيعِ الْغَرْقَدِ مَعَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا أَمْشِي خَلْفَهُ إِذْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا هُدِيْتَ وَلَا اهْتَدَيْتَ ثَلَاثَ مَرَّاتٍ فَقَالَ أَبُو رَافِعٍ تَبَّا لِي يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ لَسْتُ إِيَّاكَ أُرِيدُ أُرِيدُ صَاحِبَ هَذَا الْقَبْرِ يُسْتَلُ عَنِّي غَيْرَ أَنَّهُ لَا يَعْرِفُنِي وَإِذَا قَبْرٌ رُشَّ عَلَيْهِ مَاءً حِينَ دُفِنَ صَاحِبُهُ
'বাকীউল গারকাদ (কবরস্থান)-এ আমি ছিলাম নবি -এর সাথে। আমি তাঁর পেছনে হাঁটছি। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন, 'না তোমাকে সঠিক রাস্তা দেখানো হলো, আর না তুমি নিজে সঠিক রাস্তা খুঁজলে!' কথাটি তিনি তিনবার বলেন। তাতে আবূ রাফি বলেন, 'ধ্বংস আমার, হে আল্লাহর রাসূল!' তিনি বলেন, 'তোমাকে বলছি না, বলছি এই কবরের বাসিন্দাকে। আমার সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে, অথচ সে আমাকে চেনে না।' তাকিয়ে দেখি, একটি কবর। কবরবাসীকে দাফন করার সময় ওই কবরের উপর পানি ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। [১]

টিকাঃ
[১] মুসলিম, সহীহ, ১৮৮৭。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ২/৭৪; ইবনু হিব্বান, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যাম্আন, ১৬১১。
[১] বুখারি, সহীহ, ২৮১৬, ১২৯৩。
[২] বুখারি, সহীহ, ১৩৮২。
[১] বুখারি, ৪৬২৪; মুসলিম, ২৮৫৬。
[২] বুখারি, ৪৬২৪; মুসলিম, ৯০১。
[১] মুসলিম, ১৩১; বাইহাকি, সুনান, ৩/৩২৪。
[১] মুসলিম, ১৩১; বাইহাকি, সুনান, ৩/৩২৬。
[২] বুখারি, ১৩৭৫; মুসলিম, ২৮৬৯。
[৩] বুখারি, ১২৮৯; মুসলিম, ৯৩২。
[১] আরেকটি অনুবাদ হতে পারে, 'তোমরা গোপন রাখতে পারবে না।'
[২] মুসলিম, ২৮৬৭。
[১] মুসলিম, ২৮৬৮; নাসাঈ, সুনান, ৪/১০২。
[২] নাসাঈ, সুনান, ৪/১০২。
[১] মুসলিম, ২৮৬৮。
[২] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৬। তিনি বলেন, 'হাদীসটি ইমাম আহমাদ বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।' আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৩/১৫১。
[১] তাবারানি, আল-মু'জামুল কাবীর। মুনযিরি'র মতে, এর ইসনাদটি হাসান। দ্রষ্টব্য: আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৬/১৫৭。
[১] যারা অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় মারা গিয়েছে। (-অনুবাদক)
[২] বুখারি, ১৩৮৬ ও ৭০৪৭。
[১] তাঁরা তিনজন মুতার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন。
[২] ইবনু হিব্বان, সহীহ, ১৮০০。
[১] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৩। তিনি বলেন, 'হাদীসটি বায্যার ও তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। সনদে একজন আছেন, যিনি আমার কাছে অপরিচিত।'

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 কবরের ভীতি-প্রদর্শন

📄 কবরের ভীতি-প্রদর্শন


কবরের শাস্তির ব্যাপারে ঈমানদারদের ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাঁর নবি-কে বলেন,
وَلَوْلَا أَنْ تَبَّتْنَاكَ لَقَدْ كِدْتَ تَرَكْنُ إِلَيْهِمْ شَيْئًا قَلِيلًا إِذًا لَأَذَقْنَاكَ ضِعْفَ الْحَيَاةِ وَضِعْفَ الْمَمَاتِ ثُمَّ لَا تَجِدُ لَكَ عَلَيْنَا نَصِيرًا "আর যদি আমি তোমাকে মজবুত না রাখতাম তাহলে তোমার পক্ষে তাদের দিকে কিছু-না-কিছু ঝুঁকে পড়া অসম্ভব ব্যাপার ছিল না। কিন্তু যদি তুমি এমনটি করতে, তাহলে আমি তোমাকে দ্বিগুণ জীবন ও দ্বিগুণ মৃত্যুর মজা টের পাইয়ে দিতাম, তারপর আমার মোকাবিলায় তুমি কোনও সাহায্যকারী পেতে না।” (সূরা আল-ইসরা/ বানী ইসরাঈল ১৭:৭৪-৭৫)
(আয়াতে উল্লিখিত) “দ্বিগুণ মৃত্যু”-এর ব্যাখ্যায় হাসান ইবনু আবিল হাসান বসরি বলেন, 'এর মানে হলো কবরের শাস্তি।'
[৭৯] উরওয়া ইবনুয যুবাইর বলেন, أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ دَخَلَ عَلَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَعِنْدِي امْرَأَةٌ مِنَ الْيَهُودِ وَهِيَ تَقُولُ هَلْ شَعُرْتِ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ فَارْتَاعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ إِنَّمَا يُفْتَنُ يَهُودُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا فَلَبِثْنَا لَيَالِيَ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَشَعَرْتِ أَنَّهُ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْدُ يَسْتَعِيذُ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ
'আয়িশা বলেন, "আল্লাহর রাসূল আমার কক্ষে প্রবেশ করেন। তখন আমার কাছে ছিল এক ইয়াহুদি মহিলা। সে বলছিল, 'তুমি কি জানো-কবরে তোমাদের পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে?' তখন সন্ত্রস্ত অবস্থায় আল্লাহর রাসূল বলেন, 'ইয়াহুদিদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়।' আয়িশা বলেন, 'কিছুদিন যেতে না যেতেই আল্লাহর রাসূল বলেন, "তুমি কি জানো, আমার কাছে এ মর্মে ওহি পাঠানো হয়েছে-তোমাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে?" আয়িশা বলেন, 'তারপর আমি আল্লাহর রাসূল-কে কবরের শাস্তির ব্যাপারে (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় চাইতে শুনেছি।''১।
[৮০] উরওয়া ইবনুউয যুবাইর বলেন, তিনি আসমা বিন্তু আবী বাকর -কে বলতে শুনেছেন, قَامَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَطِيبًا فَذَكَرَ فِتْنَةَ الْقَبْرِ الَّتِي يُفْتَنُ فِيهَا الْمَرْءُ فِي قَبْرِهِ فَلَمَّا ذَكَرَ ذَلِكَ ضَجَّ الْمُسْلِمُونَ ضَجَّةً حَالَتْ بَيْنِي وَبَيْنَ أَنْ أَفْهَمَ آخِرَ كَلَامِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا سَكَنَتْ ضَجَّتُهُمْ قُلْتُ لِرَجُلٍ قَرِيبٍ مِنِّي أَيْ بَارَكَ اللَّهُ فِيكَ مَاذَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي آخِرِ قَوْلِهِ قَالَ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ
'ভাষণ দেওয়ার উদ্দেশে নবি উঠে দাঁড়ান। এরপর কবরে মানুষ যে পরীক্ষার মুখোমুখি হয়, তিনি কবরের ওই পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেন। ওই আলোচনার সময় মুসলিমগণ এমন এক চিৎকার দেন, যার ফলে আমি আল্লাহর রাসূল-এর শেষ কথাটি বুঝতে পারিনি। তাঁদের চিৎকারধ্বনি থেমে গেলে, আমি আমার পাশের লোকটিকে বলি, "আল্লাহ আপনার (কাজের) মধ্যে বরকত দিন! আল্লাহর রাসূল তাঁর কথার শেষের দিকে কী বললেন?" তিনি বলেন, '(আল্লাহর রাসূল বলেছেন,) "আমার কাছে এ মর্মে ওহি পাঠানো হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে, যা অনেকটা দাজ্জালের পরীক্ষার অনুরূপ।”২।
[৮১] আতা ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِعُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَا عُمَرُ كَيْفَ بِكَ إِذَا أَنْتَ أُعِدَّ لَكَ مِنَ الْأَرْضِ ثَلَاثُ أَذْرُعٍ وَشِبْرُ فِي عَرْضِ ذِرَاعٍ وَشِبْرٍ ثُمَّ قَامَ إِلَيْكَ أَهْلُوكَ فَغَسَلُوكَ وَكَفَّنُوكَ وَحَنَّطُوكَ ثُمَّ احْتَمَلُوكَ حَتَّى يُغَيِّبُوكَ ثُمَّ يَهِيلُوا عَلَيْكَ التَّرَابَ ثُمَّ انْصَرَفُوا عَنْكَ فَأَتَاكَ فَتَانَا الْقَبْرِ مُنْكَرُ وَنَكِيرُ أَصْوَاتُهُمَا مِثْلُ الرَّعْدِ الْقَاصِفِ وَأَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ قَدْ سَدَلَا شُعُورَهُمَا فَتَلْتَلَاكَ وَتَوَهَّلَاكَ وَقَالَا مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ قَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ وَيَكُونُ مَعِي قَلْبِي الَّذِي مَعِي الْيَوْمُ قَالَ نَعَمْ قَالَ إِذًا أَكْفِيكَهُمَا بِاللَّهِ تَعَالَى
'আল্লাহর রাসূল ﷺ উমার ইবনুল খাত্তাব -কে বলেন, "উমার! (সেদিনটি) কেমন হবে, যখন তোমার জন্য সোয়া তিন হাত (দীর্ঘ) ও সোয়া এক হাত প্রস্থ জমি প্রস্তুত করা হবে! এরপর তোমার পরিবারের লোকজন এসে তোমাকে গোসল দেবে, কাফন পরিয়ে সুগন্ধি লাগিয়ে দেবে, তারপর তোমাকে (কবর পর্যন্ত) বয়ে নিয়ে যাবে। তোমাকে ঢেকে দিয়ে তোমার উপর মাটি চাপিয়ে দেবে। তারপর তারা তোমার কাছ থেকে চলে আসবে। এরপর তোমার কাছে আসবে দু'জন মহাপরীক্ষক-মুনকার ও নাকীর। তাদের আওয়াজ অন্তর্ভেদী বজ্রের ন্যায়; আর দৃষ্টি যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক; উভয়ের চুল থাকবে খোলামেলা ও ঝুলন্ত। তারা তোমাকে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী?' উমার বলেন, 'হে আল্লাহর নবি ﷺ! আজ আমার দেহে যে হৃদয় আছে, সেদিন কি এই অন্তঃকরণ থাকবে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'তাহলে ইন শা আল্লাহ, তাদের জন্য আমিই যথেষ্ট।' " [১]
[৮২] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
كَيْفَ أَنْتَ يَا عُمَرُ إِذَا انْتُهِيَ بِكَ إِلَى الْأَرْضِ فَحُفِرَ لَكَ ثَلَاثَةُ أَذْرُعٍ وَشِبْرُ ثُمَّ أَتَاكَ مُنْكَرُ وَنَكِيرُ أَسْوَدَانِ يَجُرَّانِ أَشْعَارَهُمَا كَأَنَّ أَصْوَاتَهُمَا الرَّعْدُ الْقَاصِفُ وَكَأَنَّ أَعْيُنَهُمَا الْبَرْقُ الْخَاطِفُ يَحْفِرَانِ الْأَرْضَ بِأَنْيَا بِهِمَا فَأَجْلَسَاكَ فَزِعًا فَتَلْتَلَاكَ وَتَوَهَّلَاكَ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَأَنَا يَوْمَئِذٍ عَلَى مَا أَنَا عَلَيْهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَكْفِيكَهُمَا بِإِذْنِ اللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ
"উমার! (সেদিন) তোমার অবস্থা কেমন হবে, যখন তোমার পার্থিব সময় শেষ হয়ে তুমি কবরমুখী হবে! তোমার জন্য সোয়া তিন হাত গর্ত খনন করা হবে!
অতঃপর তোমার কাছে মুনকার ও নাকীর (ফেরেশতাদ্বয়) আসবে। দুজনই কালো; চুল থাকবে ঝুলন্ত; তাদের আওয়াজ হবে অন্তর্ভেদী বজ্রের ন্যায়; আর চোখ যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক; তারা মাটি খনন করে দাঁত দিয়ে। তারা তোমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলে বসাবে। তারপর প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দিয়ে প্রকম্পিত করবে।" উমার বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আজ আমি যেভাবে আছি, সেদিন কি এভাবে থাকব?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে, আল্লাহর অনুমতিতে, তাদের জন্য আমিই যথেষ্ট।'"'
[৮৩] উমার ইবনুল খাত্তাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
يَا عُمَرُ كَيْفَ أَنْتَ إِذَا كُنْتَ فِي أَرْبَعٍ مِنَ الْأَرْضِ فِي ذِرَاعَيْنِ فَرَأَيْتَ مُنْكَرًا وَنَكِيرًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا مُنْكَرُ وَنَكِيرُ قَالَ فَتَانَا الْقَبْرِ أَبْصَارُهُمَا كَالْبَرْقِ الْخَاطِفِ وَأَصْوَاتُهُمَا كَالرَّعْدِ الْقَاصِفِ مَعَهُمَا مِرْزَيَّةً لَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهَا أَهْلُ مِنِّي مَا اسْتَطَاعُوا رَفْعَهَا هِيَ أَهْوَنُ عَلَيْهَمَا مِنْ عَصَايَ هَذِهِ فَامْتَحَنَاكَ فَإِنْ تَعَايَيْتَ أَوْ تَلَوَّيْتَ ضَرَبَاكَ بِهَا ضَرْبَةً تَصِيرُ بِهَا رَمَادًا قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَإِنِّي عَلَى حَالَتِي هَذِهِ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَرْجُو أَكْفِيكَهُمَا
"উমার! (সেদিন) তোমার কী হবে, যখন তুমি দু' হাতের মাটির ঘরে থাকবে! সেখানে তুমি মুনকার ও নাকীরকে দেখতে পাবে।' তিনি বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, মুনকার ও নাকীর কী?' নবি বলেন, 'কবরের দু'জন মহাপরীক্ষক; তাদের চোখ যেন চোখ-ধাঁধানো বিদ্যুৎচমক, আর আওয়াজ যেন অন্তর্ভেদী বজ্র। তাদের সাথে থাকবে একটি লৌহদণ্ড; মিনাবাসী সবাই মিলে যা ওঠাতে পারবে না, অথচ তাদের জন্য সেটি এই লাঠির চেয়েও নগণ্য। তারা তোমার পরীক্ষা নেবে। সঠিক উত্তর দিতে ব্যর্থ হলে, কিংবা উলটো-পালটা উত্তর দিলে, তারা তোমাকে ওই দণ্ড দিয়ে আঘাত করবে; এর ফলে তুমি ছাইয়ে পরিণত হবে।' তিনি জিজ্ঞাসা করেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, তখন কি আমার অবস্থা বর্তমান সময়ের ন্যায় থাকবে?' তিনি বলেন, 'হ্যাঁ!' উমার বলেন, 'তাহলে আশা করি, তাদের জন্য আমি যথেষ্ট হব।' '[১]
[৮৪] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ لِلْقَبْرِ ضَغْطَةٌ لَوْ نَجَا أَحَدٌ مِنْهَا لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "কবরে চাপ/ উৎকণ্ঠা আছে; তা থেকে একজনও যদি রেহাই পেত, তাহলে সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত।" [১]
[৮৫] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَوْ أَنَّ أَحَدًا نَجَا مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ ثُمَّ قَالَ بِأَصَابِعِهِ الثَّلَاثِ فَجَمَعَهَا كَأَنَّهُ يُقَلِّلُهَا ثُمَّ قَالَ لَقَدْ ضُغِطَ ثُمَّ عُونِي
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "একজনও যদি কবরের আযাব থেকে রেহাই পেত, তাহলে সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত।" তারপর তিনি নিজের আঙুল তিনটিকে একত্রিত করে যেন সংখ্যাটিকে কমিয়ে আনলেন। তারপর বলেন, "তাকে চাপ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।" [২]
[৮৬] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَذَا الْعَبْدُ الصَّالِحُ الَّذِي تَحَرَّكَ لَهُ الْعَرْشُ وَفُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَشَهِدَهُ سَبْعُونَ أَلْفًا مِنَ الْمَلَائِكَةَ لَمْ يَهْبِطُوا إِلَى الْأَرْضِ قَبْلَ ذَلِكَ وَلَقَدْ ضُمَّ ضَمَّةٌ ثُمَّ أُفْرِجَ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল বলেন, "এই সৎ বান্দা (অর্থাৎ, সাদ ইবনু মুআয); যার জন্য আরশ কেঁপে উঠেছে, আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে এবং যাকে সত্তর হাজার ফেরেশতা সঙ্গ দিয়েছে; ওই ফেরেশতারা এর আগে (কখনও) পৃথিবীতে নামেনি। তাকে (কবরে) একবার চাপ দেওয়া হয়েছে, তারপর নিষ্কৃতি দেওয়া হয়েছে।" [৩]
[৮৭] নবি -এর স্ত্রী আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ يَهُودِيَّةٌ فَحَدَّثَتْنِي
وَذَكَرَ الْحَدِيثَ فِي قِصَّةِ الْيَهُودِيَّةِ وَإِخْبَارِ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَوْلِهَا قَالَتْ
فَلَمْ يُرْجِعُ إِلَى شَيْئًا فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قَالَ يَا عَائِشَةُ تَعَوَّذِي بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَإِنَّهُ لَوْ نَجَا مِنْهَا أَحَدٌ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ وَلَكِنَّهُ لَمْ يَزِدْ عَلَى ضَمِّهِ
'এক ইয়াহুদি মহিলা [আমার কক্ষে] ঢুকে আমার সাথে আলাপ করেন।' ওই ইয়াহুদি নারীর ঘটনা এবং তার কথার ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল -এর নিকট আয়িশা -এর জিজ্ঞাসা-এসব বিষয় ইতঃপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আয়িশা বলেন,
'নবি আমার কথার কোনও জবাব দেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি বলেন, "আয়িশা, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও! কারণ, তা থেকে কেউ রেহাই পেলে, সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত; অবশ্য কবর তাকে একটির বেশি চাপ দেয়নি।"'[১]
[৮৮] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَبْرَهُ يَعْنِي قَبْرَ سَعْدٍ فَاحْتُبِسَ فَلَمَّا خَرَجَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَبَسَكَ قَالَ ضُمَّ سَعْدُ فِي الْقَبْرِ ضَمَّةً فَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يَكْشِفَهُ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল সাদ (ইবনু মুআয )-এর কবরে ঢুকে আটকে থাকেন। তারপর (কবর থেকে) বের হওয়ার পর জিজ্ঞাসা করা হয়: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনাকে কীসে আটকে রাখল?' তিনি বলেন, "সাদ-কে কবরে একটি চাপ দেওয়া হয়েছে। তাই আমি আল্লাহর কাছে দুআ করি, তিনি যেন তার কাছ থেকে এটি সরিয়ে দেন।"'[২]
[৮৯] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم قَعَدَ عَلَى قَبْرِ سَعْدِ بْنِ مُعَادٍ ثُمَّ اسْتَرْجَعَ فَقَالَ لَوْ نَجَا أَحَدٌ مِنْ فِتْنَةِ الْقَبْرِ أَوْ لَمِهِ أَوْ ضَمِهِ لَنَجَا سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ لَقَدْ ضَمَّهُ ضَمَّةً ثُمَّ رُبِّيَ عَنْهُ
'আল্লাহর রাসূল সাদ ইবনু মুআয-এর কবরের পাশে বসেন। তারপর তিনি পড়েন, 'ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন/ আমরা তো আল্লাহরই, আর আমাদের তো তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে।' এরপর বলেন, "কবরের পরীক্ষা বা দুর্যোগ কিংবা চাপ থেকে কেউ রেহাই পেলে, সাদ ইবনু মুআয রেহাই পেত। কবর তাকে একটি চাপ দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।" [১]
[৯০] জাবির ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَمَّا وُضِعَ سَعْدُ بْنُ مُعَادٍ فِي حُفْرَتِهِ سَبَّحَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَبَّحَ النَّاسُ مَعَهُ وَكَبَّرَ وَكَبَّرَ الْقَوْمُ مَعَهُ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مِمَّ سَبَّحْتَ فَقَالَ هَذَا الْعَبْدُ الصَّالِحُ لَقَدْ تَضَايَقَ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى فَرَّجَهُ اللَّهُ عَنْهُ
'সাদ ইবনু মুআয-কে কবরে রাখার পর, আল্লাহর রাসূল বলেন উঠেন 'সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র!' লোকজনও তাঁর সাথে সুবহানাল্লাহ বলে উঠেন। এরপর তিনি বলেন, 'আল্লাহু আকবার/ আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ।' লোকজনও তাঁর সাথে বলে উঠেন 'আল্লাহু আকবার'। জিজ্ঞাসা করা হয়: 'হে আল্লাহর রাসূল, আপনার 'সুবহানাল্লাহ' বলার কারণ কী?' তিনি বলেন, 'এই সৎ বান্দার জন্য কবর সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছিল, পরিশেষে আল্লাহ তার কাছ থেকে ওই সংকীর্ণতা সরিয়ে দিয়েছেন।" [২]
[১১] উমাইয়া ইবনু আবদিল্লাহ থেকে বর্ণিত,
أَنَّهُ سَأَلَ بَعْضَ أَهْلِ سَعْدٍ مَا بَلَغَكُمْ مِنْ قَوْلِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فِي هَذَا فَقَالُوا ذُكِرَ لَنَا أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم سُبِلَ عَنْ ذَلِكَ فَقَالَ كَانَ يُقَصِّرُ فِي بَعْضِ الظُّهُورِ مِنَ الْبَوْلِ
'তিনি সাদ ইবনু মুআয-এর পরিবারের কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, '(তাঁকে যে কবরে চাপ দেওয়া হলো)-এর কারণ কী? এ ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল কী বলেছেন, যা আপনাদের কাছে পৌঁছেছে?' তারা বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছে, আল্লাহর রাসূল-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেছেন-"প্রস্রাব থেকে পবিত্র হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কিছুটা কমতি ছিল।" '
[৯২] হুযাইফা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كُنَّا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جِنَازَةٍ فَلَمَّا بَلَغَ الْقَبْرَ جَعَلَ يَنْظُرُ فِيهِ فَقَالَ عَجِبْتُ مِنْهُ يُضْغَطُ الْمُؤْمِنُ فِيهِ ضَغْطَةً تَزُولُ مِنْهَا حَمَابِلُهُ وَيُمْلَأُ عَلَى الْكَافِرِ نَارًا
'আমরা আল্লাহর রাসূল-এর সাথে একটি জানাযায় ছিলাম। কবরের কাছে পৌঁছে তিনি এর ভেতরে তাকাতে থাকেন। তারপর বলেন, "এটি দেখে আমি চমকে উঠেছি: মুমিনকে এর ভেতর এমন এক চাপ দেওয়া হয়, যার ফলে তার পাঁজরের হাড়সমূহ স্থানচ্যুত হয়ে যায়; আর কাফিরের উপর ভরপুর করে দেওয়া হয় আগুন!" '[১]
[৯৩] সাঈদ ইবনুল মুসাইয়াব থেকে বর্ণিত, أَنَّ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّكَ مُنْذُ يَوْمٍ حَدَّثْتَنِي بِصَوْتِ مُنْكَرٍ وَنَكِيرِ وَضَغْطَةِ الْقَبْرِ لَيْسَ يَنْفَعُنِي شَيْءٌ قَالَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ أَصْوَاتَ مُنْكَرٍ وَنَكِيرٍ فِي أَسْمَاعِ الْمُؤْمِنِينَ كَالْإِثْمِدِ فِي الْعَيْنِ وَإِنَّ ضَغْطَةَ الْقَبْرِ عَلَى الْمُؤْمِنِ كَالْأُمِّ الشَّفِيقَةِ يَشْكُو إِلَيْهَا ابْنُهَا الصُّدَاعَ فَتَغْمِرُ رَأْسَهُ غَمْرًا رَفِيقًا وَلَكِنْ يَا عَائِشَةُ وَيْلٌ لِلشَّاكِينَ فِي اللَّهِ كَيْفَ يُضْغَطُونَ فِي قُبُورِهِمْ كَضَغْطَةِ الْبَيْضَةِ عَلَى الصَّخْرَةِ
'আয়িশা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল , একদিন যাবৎ আপনি আমার কাছে মুনকার ও নাকীরের আওয়াজ এবং কবরের চাপ প্রসঙ্গে কথা বলছেন; বিষয়টি আমার কিছুই বুঝে আসছে না।' তিনি বলেন, "আয়িশা, মুমিনদের কানে মুনকার ও নাকীরের আওয়াজ মনে হবে যেন চোখে-লাগা সুরমা; আর মুমিনের উপর কবরের চাপ মনে হবে যেন এক মমতাময়ী মা—তার কাছে তার ছেলে এসে নিজের মাথা ব্যাথার অভিযোগ করছে, আর মা তার মাথায় স্নেহের পরশ বুলিয়ে দিচ্ছেন! তবে, আয়িশা, দুর্ভোগ তাদের জন্য যারা আল্লাহতে সংশয় পোষণ করে; প্রস্তরখণ্ডের উপর ডিম রেখে চাপ দেওয়ার ন্যায়, কবরের ভেতর তাদের চাপ দেওয়া হবে!" '[১]

টিকাঃ
[১] মুসলিম, ৫৮৪; আহমাদ, আল-মুসনাদ, দ্রষ্টব্য: আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১২১。
[২] বুখারি, ১৩৭৩。
[১] ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যামআন, ৭৮০; আল-মাতালিবুল আলিয়াহ, ৪/৩৬৩, হাদীস নং ৪৬০৩। তিনি বলেন, 'এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।'
[১] বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৯; কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৪১。
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, দ্রষ্টব্য: আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১৩৪। এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত। মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬。
[২] মুশকিলুল আসার, ১/১০৮。
[৩] নাসাঈ, ৪/১০০。
[১] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়ায়েদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'হাদীসটি তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর একজন বর্ণনাকারী হলেন ইবনু লুহাইআ। তাকে নিয়ে কিছু কথা আছে।'
[২] ইবনু আবী শাইবা, মুসনাদ। দ্রষ্টব্য: আল-মাতালিবুল আলিয়াহ, ৪/৯৮, হাদীস নং ৪০৬০। বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত。
[১] হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'হাদীসটি তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল কাবীর ও আল-মু'জামুল আওসাত গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত।' ইয়াকূব ইবনু সুফইয়ান, আল-মা'রিফাহ্ ওয়াত তারীখ, ১/২৪৭。
[২] নাসাঈ, ৪/১০০। হাইসামি বলেন, 'হাদীসটি আহমাদ ও তাবারানি তাঁর আল-মু'জামুল কাবীর গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন। বর্ণনাকারীদের একজন হলেন মাহমুদ ইবনু আবদির রহমান, যার হাদীস পরিত্যাজ্য।' মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬
[১] আহমাদ, ৫/৪০৭। ইরাকি'র মতে, এর সনদ দুর্বল। দ্রষ্টব্য: ইহইয়া উলুমিদ দ্বীন, ৪/৫০৩। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬। তিনি বলেন, 'আহমাদ হাদীসটি দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন।'
[১] এই সনদটি দুর্বল। (ড. শারাফ মাহমূদ)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00