📄 প্রশ্নোত্তর শেষে সকাল-সন্ধ্যায় গন্তব্য উপস্থাপন
প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে মৃতব্যক্তিকে সকাল-সন্ধ্যায় তার (চূড়ান্ত) গন্তব্য দেখানো হয়। এই সংক্রান্ত দলীল-প্রমাণ নিচে উল্লেখ করা হলো: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ "আর ফিরআউনের সাঙ্গপাঙ্গরাই জঘন্য আযাবের চক্রে পড়ে গিয়েছে। দোযখের আগুন, যে আগুনের সামনে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। কিয়ামত সংঘটিত হলে নিদের্শ দেওয়া হবে, ফিরআউনের অনুসারীদের কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।” (সূরা আল-মুমিন/ গাফির ৪০:৪৫-৪৬)
মুজাহিদ বলেন, “দোযখের আগুনের সামনে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়।”-এর মানে হলো যতদিন দুনিয়া থাকবে, ততদিন এ অবস্থা চলতে থাকবে।' তিনি আরও বলেন, 'ভর্ৎসনা, তাচ্ছিল্য ও শাস্তির সুরে তাদের বলা হয়, “ওহে ফিরআউনের লোকজন! এই হলো তোমাদের গন্তব্যস্থল।”'
[৩৮] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ إِلَيْهِ “তোমাদের কেউ মারা গেলে, সকাল-সন্ধ্যায় তাকে তার (ভবিষ্যৎ) আবাসস্থলের সামনে হাজির করা হয়; জান্নাতবাসীকে জান্নাতের সামনে, আর জাহান্নামবাসীকে জাহান্নামের সামনে। (তখন) বলা হয়, 'এটি তোমার আবাসস্থল; যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করছেন।' [১]
[৩৯] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا مَاتَ الرَّجُلُ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَالْجَنَّةُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَالنَّارُ
“ব্যক্তি মারা গেলে, তার সামনে সকাল-সন্ধ্যায় তার গন্তব্যস্থল হাজির করা হয়; জান্নাতবাসী হলে জান্নাত, আর জাহান্নামবাসী হলে জাহান্নাম (হাজির করা হয়)।"
হাদীসটিতে (বর্ণনাকারী) আব্দুর রায্যাককে জিজ্ঞাসা করা হলো, '(তাকে) কি এভাবে বলা হয়: কিয়ামাতের দিন তোমাকে পুনরুত্থিত করে ওখানে নিয়ে যাওয়া হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ!'[১]
[৪০] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
الْقَبْرُ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ جَهَنَّمَ أَوْ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ
“কবর হলো জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য থেকে একটি গর্ত, কিংবা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগান।”
[৪১] মাইমূন ইবনু মাইসারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَتْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ صَرْخَتَانِ فِي كُلِّ يَوْمٍ غُدْوَةٌ وَعَشِيَّةٌ كَانَ يَقُولُ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ ذَهَبَ اللَّيْلُ وَعُرِضَ آلُ فِرْعَوْنَ عَلَى النَّارِ فَلَا يَسْمَعُ صَوْتَهُ أَحَدٌ إِلَّا اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ وَإِذَا كَانَ الْعَشِيُّ قَالَ ذَهَبَ النَّهَارُ وَجَاءَ اللَّيْلُ وَعُرِضَ آلُ فِرْعَوْنَ عَلَى النَّارِ فَلَا يَسْمَعُ صَوْتَهُ أَحَدٌ إِلَّا اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ
"আবূ হুরায়রা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় দু'বার জোরে চিৎকার করতেন। দিনের শুরুতে তিনি বলতেন, 'রাত তো শেষ হয়ে গেল। ফিরআউনের দলবলকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়েছে।' তারপর কেউ তাঁর আওয়াজ শুনতে পেত না; কেবল এটুকু (শোনা যেত) যে, তিনি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন। সন্ধ্যাবেলা বলতেন, 'দিন শেষ হয়ে রাত চলে এল! ফিরআউনের দলবলকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়েছে।' তারপর কেউ তাঁর আওয়াজ শুনতে পেত না; কেবল এটুকু (শোনা যেত) যে, তিনি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন।”
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩৭৯; ইবনু মাজাহ, ৪২৭০; মুসলিম, ২৮৬৬; তিরমিযি, ৩/৩৮৪。
[১] মুসলিম, ২৮৬৬。
[২] তিরমিযি, ২৫৭৮। তিরমিযি বলেন, 'এটি একটি গরীব হাদীস।' তিরমিযির সনদে কিছুটা দুর্বলতা আছে। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬。
📄 মুনাফিকদের শাস্তি দু’বার
মুনাফিকরা জাহান্নামের শাস্তি পাওয়ার আগে কবরে শাস্তি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمِمَّنْ حَوْلَكُمْ مِنَ الْأَعْرَابِ مُنَافِقُونَ وَمِنْ أَهْلِ الْمَدِينَةِ مَرَدُوا عَلَى النِّفَاقِ لَا تَعْلَمُهُمْ نَحْنُ نَعْلَمُهُمْ سَنُعَذِّبُهُمْ مَرَّتَيْنِ ثُمَّ يُرَدُّونَ إِلَى عَذَابٍ عَظِيمٍ
"তোমাদের আশেপাশে যেসব বেদুইন থাকে, তাদের মধ্যে অনেক মুনাফিক আছে। অনুরূপভাবে মদীনাবাসীদের মধ্যেও আছে এমন কিছু মুনাফিক, যারা মুনাফিকিতে পাকাপোক্ত হয়ে গিয়েছে। তোমরা তাদের চিনো না, আমি তাদের চিনি। শীঘ্রই আমি তাদের দু'বার শাস্তি দেবো। তারপর আরও বড় শাস্তির জন্য তাদের ফিরিয়ে আনা হবে।” (সূরা আত-তাওবাহ ৯:১০১)
"শীঘ্রই আমি তাদের দু'বার শাস্তি দেবো।”-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কাতাদা বলেন, 'একটি শাস্তি হলো কবরে, আর অপরটি জাহান্নামে।'
[৪২] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, كَانَ مِنَّا رَجُلٌ مِنْ بَنِي النَّجَّارِ قَدْ قَرَأَ سُورَةَ الْبَقَرَةِ وَآلِ عِمْرَانَ وَكَانَ يَكْتُبُ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَانْطَلَقَ هَارِبًا حَتَّى لَحِقَ بِأَهْلِ الْكِتَابِ قَالَ فَرَفَعُوهُ قَالُوا هَذَا كَانَ يَكْتُبُ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَأُعْجِبُوا بِهِ فَمَا لَبِثَ أَنْ قَصَمَ اللَّهُ عُنُقَهُ فِيهِمْ فَحَفَرُوا لَهُ فَوَارَوْهُ فَأَصْبَحَتِ الْأَرْضُ قَدْ نَبَذَتْهُ عَلَى وَجْهِهِ فَتَرَكُوهُ مَنْبُوذًا
“আমাদের মধ্যে এক লোক ছিল বানুন নাজ্জার গোত্রের। সে সূরা আল- বাকারাহ ও আ-ল ইমরান পড়েছিল। সে আল্লাহর রাসূল -এর (ওহি)- লেখকের কাজ করত। এরপর সে পালিয়ে গিয়ে আহলুল কিতাব (ইয়াহুদি ও খৃষ্টান)-দের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা এ কথা বলে তাকে উচ্চ পদমর্যাদা প্রদান করে, 'এই লোক মুহাম্মাদ -এর (ওহি)-লেখক ছিলেন!' তাকে পেয়ে তারা অত্যন্ত মুগ্ধ হয়। কিছুদিন যেতে না যেতেই, আল্লাহ তার মৃত্যু ঘটান। তারা একটি গর্ত করে সেখানে তাকে দাফন করে। কিন্তু ভূ-গর্ভ তাকে বাইরে ছুঁড়ে ফেলে। (তারা তাকে পুনরায় দাফন করে। কিন্তু একই ঘটনা তিনবার ঘটার পর) তারা তাকে (আর দাফন না করে) সেভাবেই ফেলে রাখে।”[১]
[৪৩] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَنَّ رَجُلًا كَانَ يَكْتُبُ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَكَانَ قَدْ قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ وَكَانَ الرَّجُلُ إِذَا قَرَأَ الْبَقَرَةَ وَآلَ عِمْرَانَ جَلَّ فِينَا وَكَانَ النَّبِيُّ يُمْلِي عَلَيْهِ غَفُورًا رَحِيمًا فَيَقُولُ أَكْتُبُ عَلِيمًا حَكِيمًا فَيَقُولُ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اكْتُبْ كَيْفَ شِئْتَ وَيُمْلِي عَلَيْهِ عَلِيمًا حَكِيمًا فَيَقُولُ أَكْتُبُ سَمِيعًا بَصِيرًا فَيَقُولُ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اكْتُبْ كَيْفَ شِئْتَ قَالَ فَارْتَدَّ ذَلِكَ الرَّجُلُ عَنِ الْإِسْلَامِ وَلَحِقَ بِالْمُشْرِكِينَ وَقَالَ أَنَا أَعْلَمُكُمْ بِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنِّي كُنْتُ لَأَكْتُبُ كَيْفَ شِئْتُ فَمَاتَ ذَلِكَ الرَّجُلُ فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم إِنَّ الْأَرْضَ لَا تَقْبَلُهُ
قَالَ أَنَسٌ فَحَدَّثَنِي أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهُ أَتَى الْأَرْضَ الَّتِي مَاتَ فِيهَا فَوَجَدَهُ مَنْبُوذًا فَقَالَ أَبُو طَلْحَةَ مَا شَأْنُ هَذَا الرَّجُلِ قَالُوا قَدْ دَفَنَّاهُ مِرَارًا فَلَمْ تَقْبَلْهُ الْأَرْضُ
"এক ব্যক্তি নবি -এর (ওহি) লেখকের কাজ করত। ইতোমধ্যে সে সূরা আল-বাকারাহ ও আ-ল ইমরান পড়ে নিয়েছিল। আমাদের মধ্যে সে চমৎকারভাবে আল-বাকারাহ ও আ-ল ইমরান পড়তে পারত। নবি তাকে লিখতে বলতেন, غَفُورًا رَحِيمًا )সূরা আন-নিসা ৪:২৩); সে বলত, 'আমি লিখতাম عَلِيمًا حَكِيمًا (সূরা আন-নিসা ৪:১১)। তখন নবি বলতেন, 'তুমি যেভাবে চাও, লিখো।' তিনি তাকে লিখতে বলতেন, عَلِيمًا حَكِيمًا (সূরা আন-নিসা ৪:১১); সে বলত, 'আমি লিখতাম سَمِيعًا بَصِيرًا (সূরা আন-নিসা ৪:৫৮)। নবি তাকে বলতেন, 'তুমি যেভাবে চাও, লিখো।'
পরবর্তীকালে ওই লোকটি মুরতাদ (ইসলামত্যাগী) হয়ে মুশরিকদের সঙ্গে যোগ দেয়। সে (তাদের) বলে, 'তোমাদের মধ্যে আমিই মুহাম্মাদ সম্পর্কে অধিক জানি। আমি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই (ওহি) লিখতাম!'
অতঃপর লোকটি মারা যায়। তখন নবি বলেন, 'ভূমি তাকে গ্রহণ করবে না।'"
আনাস বলেন, "আবূ তালহা আমাকে বলেছেন যে, ওই লোকটি যেখানে মারা গিয়েছিল, তিনি সেখানে গিয়ে দেখেন—তার লাশ (মাটির উপরে) পড়ে আছে। আবূ তালহা জিজ্ঞাসা করেন, 'এই লোকের এ অবস্থা কেন?' তারা বলে, 'আমরা তাকে কয়েকবার দাফন করেছিলাম, কিন্তু ভূমি তাকে গ্রহণ করেনি।' [১]
[৪৪] ইবনু হান্তাব মাখযূমি থেকে বর্ণিত,
أَنَّهُ بَلَغَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ يَسِيرُ عَلَى بَغْلَةٍ لَهُ بَيْضَاءَ فِي الْمَقَابِرِ بِبَقِيعِ الْغَرْقَدِ فَحَادَتْ بِهِ بَغْلَتُهُ حَيْدَةً فَوَثَبَ إِلَيْهَا رِجَالٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ لِيَأْخُذُوا بِلِجَامِهَا فَقَالَ لَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعُوهَا فَإِنَّهَا سَمِعَتْ عَذَابَ سَعْدِ بْنِ زُرَارَةَ يُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ وَكَانَ رَجُلًا مُنَافِقًا
'তাঁর কাছে এ মর্মে সংবাদ পৌঁছেছে যে, আল্লাহর রাসূল তাঁর একটি সাদা খচ্চরে চড়ে বাকীউল গারকাদ-এর কবরগুলোর পাশ দিয়ে গেলেন। হঠাৎ তাঁর খচ্চরটি রাস্তা থেকে সরে অন্যদিকে চলে যায়। এর লাগام ধরার জন্য মুসলিমদের কয়েকজন দৌড়ে যান। তখন আল্লাহর রাসূল বলেন, “এটিকে ছেড়ে দাও! সা'দ ইবনু যুরারা-কে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে; আর খচ্চরটি তা শুনতে পেয়েছে।” সা'দ ইবনু যুরারা ছিল একজন মুনাফিক।'
[৪৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا قُبِرَ أَحَدُكُمْ أَوِ الْإِنْسَانُ أَتَاهُ مَلَكَانِ أَسْوَدَانِ أَزْرَقَانِ يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا مُنْكَرُ وَلِلْآخَرِ نَكِيرُ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَهُوَ قَابِلُ مَا كَانَ يَقُولُ إِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ وَيَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ قَالَ فَيَقُولَانِ إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا فِي سَبْعِينَ ذِرَاعًا وَيُنَوَّرُ لَهُ فِيهِ ثُمَّ يُقَالُ لَهُ نَمْ فَيَقُولُ دَعُونِي أَرْجِعْ إِلَى أَهْلِي أُخْبِرُهُمْ فَيُقَالُ لَهُ نَمْ كَنَوْمَةِ الْعَرُوسِ الَّذِي لَا يُوقِظُهُ إِلَّا أَحَبُّ أَهْلِهِ إِلَيْهِ حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ
وَإِنْ كَانَ مُنَافِقًا قَالَ لَا أَدْرِى كُنْتُ أَسْمَعُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَلِكَ فَكُنْتُ أَقُولُهُ فَيَقُولَانِ إِنَّا كُنَّا لَنَعْلَمُ أَنَّكَ تَقُولُ ذَلِكَ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ الْتَبِمِي عَلَيْهِ فَتَلْتَهِمُ عَلَيْهِ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ فَلَا يَزَالُ فِيهَا مُعَذِّبًا حَتَّى يَبْعَثَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ مِنْ مَضْجَعِهِ ذَلِكَ
“যখন তোমাদের কাউকে-অথবা কোনও মানুষকে কবর দেওয়া হয়, তখন তার কাছে কালো ও নীল (চক্ষুবিশিষ্ট) দু'জন ফেরেশতা আসে; তাঁদের একজনকে বলা হয় মুনকার, অপরজনকে নাকীর। তারা জিজ্ঞাসা করে, 'এই ব্যক্তি, অর্থাৎ মুহাম্মাদ , সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে (দুনিয়াতে) যা বলত, (কবরেও) তা-ই বলবে।
মুমিন হলে সে বলবে, 'তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' এবং সে সাক্ষ্য দেবে, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ তাঁর গোলাম ও রাসূল। ফেরেশতা দু'জন বলবে, 'আমরা জানতাম, তুমি ওই কথা বলবে।' এরপর তার কবরকে দৈর্ঘ্যে সত্তর হাত ও প্রস্থে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তার জন্য কবরটিকে আলোকিত করে তোলা হবে। তারপর তাকে বলা হবে, 'ঘুমাও!' সে বলবে, 'আমাকে ছেড়ে দাও, আমি আমার পরিবারের কাছে ফিরে গিয়ে তাদের (এই) খবর দিই।' তখন তাকে বলা হবে, 'নব-বিবাহিতের ন্যায় ঘুম দাও! যার ঘুম তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ছাড়া অন্য কেউ ভাঙায় না।' (সে ঘুমাতে থাকবে) যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে ওই শয্যা থেকে ওঠাবেন।
আর (কবরবাসী) মুনাফিক হলে বলবে, 'আমি জানি না। লোকদের ওটা বলতে শুনেছিলাম। আর আমিও সেটা বলতাম।' ফেরেশতা দু'জন বলবে, 'আমরা জানতাম, তুমি ওই কথা বলবে।' তারপর ভূগর্ভকে বলা হবে, 'তাকে চাপ দাও।' (মাটি) তাকে এত জোরে চাপ দেবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে। তারপর তাকে সেখানে শাস্তি দেওয়া হতে থাকবে, যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে ওই শয্যা থেকে ওঠাবেন।”[১]
টিকাঃ
[১] মুসলিম, ২৭৮১。
[১] বুখারি, ৩৬১৭。
[১] তিরমিযি, ১০৭৭。
📄 যারা আল্লাহর স্মরণ এড়িয়ে চলে
যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার স্মরণ এড়িয়ে চলে, সে কিয়ামাতের দিন শান্তি পাওয়ার আগে কবরে শাস্তি পাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
"আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণকে এড়িয়ে চলে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।” (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
[৪৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا
' "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন।" (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)”[১] -এ প্রসঙ্গে নবি বলেছেন, 'এর অর্থ হলো কবরের শাস্তি।''
[৪৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
الْمَعِيشَةُ الضَّنْكُ عَذَابُ الْقَبْرِ "সংকীর্ণ জীবন মানে কবরের শাস্তি।”'
[৪৮] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
مَعِيشَةً ضَنْكًا عَذَابُ الْقَبْرِ “ 'সংকীর্ণ জীবন' (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪) মানে কবরের শাস্তি।” [
[৪৯] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, ''সংকীর্ণ জীবন' (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪) প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ فِيهِ "তার জন্য তার কবরকে এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।”
[৫০] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمَعِيشَةَ الضَّنْكَ أَنْ يُسَلَّطَ عَلَيْهِ تِسْعٌ وَتِسْعُونَ تِنِّينًا يَنْهَشْنَهُ فِي الْقَبْرِ 'সংকীর্ণ জীবন মানে—কবরে তার উপর নিরানব্বইটি সরীসৃপ লেলিয়ে দেওয়া হবে, যেগুলো তাকে দংশন করে ছিন্নভিন্ন করে ফেলবে।'[১]
[৫১] আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ থেকে বর্ণিত, “مَعِيشَةً ضَنْكًا সংকীর্ণ জীবন (সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)”-এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, 'এর অর্থ হলো কবরের শাস্তি।’
[৫২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ خَفْقَ نِعَالِهِمْ حِينَ يُوَلَّوْنَ عَنْهُ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا كَانَتِ الصَّلَاةُ عِنْدَ رَأْسِهِ وَكَانَ الصِّيَامُ عَنْ يَمِينِهِ وَكَانَتِ الزَّكَاةُ عَنْ يَسَارِهِ وَكَانَ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ عِنْدَ رِجْلَيْهِ فَيُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَتَقُولُ الصَّلَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَمِينِهِ فَيَقُولُ الصِّيَامُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى عَنْ يَسَارِهِ فَتَقُولُ الزَّكَاةُ مَا قِبَلِي مَدْخَلٌ ثُمَّ يُؤْتَى مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَتَقُولُ فِعْلُ الْخَيْرَاتِ مِنَ الصَّدَقَةِ وَالصَّلَةِ وَالْمَعْرُوفِ وَالْإِحْسَانِ إِلَى النَّاسِ مَا قِبَلِي مَدْخَلُ
فَيُقَالُ لَهُ اجْلِسْ فَيَجْلِسُ قَدْ مُثَلَتْ لَهُ الشَّمْسُ قَدْ دَنَتْ لِلْغُرُوبِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا مَا تَقُولُ فِيهِ فَيَقُولُ دَعُونِي أُصَلَّى قَالَ فَيَقُولَانِ إِنَّكَ سَتَفْعَلُ هَذَا فَأَخْبِرْنَا عَمَّا نَسْأَلُكَ عَنْهُ قَالَ عَمَّا تَسْأَلُونِي قَالَ مَاذَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي فِيكُمْ وَبِمَ تَشْهَدُ عَلَيْهِ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَ بِالْحَقِّ مِنْ عِندِ اللَّهِ فَيُقَالُ لَهُ عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مُتَّ وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ انْظُرُ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنْهَا وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لَكَ فِيهَا فَيَزْدَادُ غِبْطَةً وَسُرُورًا ثُمَّ يُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ سَبْعُونَ ذِرَاعًا وَيُنَوَّرُ لَهُ وَيُعَادُ الْجَسَدُ كَمَا بَدَا وَتُجْعَلُ نَسْمَتُهُ مِنَ النَّسِيمِ الطَّيِّبِ وَهُوَ طَائِرٌ يَعْلُقُ فِي شَجَرِ الْجَنَّةِ وَهُوَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَمِينِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ عَنْ يَسَارِهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ ثُمَّ أُتِيَ مِنْ قِبَلِ رِجْلَيْهِ فَلَمْ يُوجَدْ شَيْءٌ فَيُقَالُ لَهُ اجْلِسْ فَيَجْلِسُ خَائِفًا مَرْعُوبًا فَيُقَالُ لَهُ أَرَأَيْتَ هَذَا الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ أَيُّ رَجُلٍ هُوَ مَاذَا تَشْهَدُ فِيهِ وَمَاذَا تَشْهَدُ بِهِ عَلَيْهِ فَيَقُولُ أَيُّ رَجُلٍ فَيُقَالُ الَّذِي كَانَ فِيكُمْ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ حَتَّى يُقَالَ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ مَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا قَوْلًا فَقُلْتُ كَمَا قَالَ النَّاسُ فَيُقَالُ لَهُ عَلَى ذَلِكَ حَيِيتَ وَعَلَى ذَلِكَ مُتَّ وَعَلَى ذَلِكَ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ ذَلِكَ مَقْعَدُكَ مِنَ النَّارِ وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا مَقْعَدُكَ مِنَ الْجَنَّةِ وَمَا أَعَدَّ اللَّهُ لَكَ فِيهَا لَوْ أَطَعْتَهُ فَيَزْدَادُ حَسْرَةً وَثُبُورًا ثُمَّ يُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ فِيهِ أَضْلَاعُهُ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
“মৃত ব্যক্তিকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়।”
সে মুমিন হলে, সালাত তার মাথার কাছে অবস্থান নেয়, সিয়াম থাকে তার ডানে, যাকাত থাকে বামে, আর দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ থাকে তার দু'পায়ের কাছে। (ফেরেশতাকে) তার মাথার দিক দিয়ে আনা হলে, সালাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। ডানদিক দিয়ে আনা হলে, সিয়াম বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। বাম দিক দিয়ে আনা হলে, যাকাত বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই। দু'পায়ের দিক দিয়ে আনা হলে, দান-সদাকাহ্, সম্পর্ক রক্ষা, ভালো কাজ ও মানুষের সঙ্গে উত্তম আচরণ সংক্রান্ত কল্যাণজনক কাজসমূহ বলবে—আমার এদিক দিয়ে ঢুকার জায়গা নেই।
তখন তাকে বলা হবে, 'বসো।' সে বসবে। ইতোমধ্যে তার সামনে এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে, যেন কিছুক্ষণের মধ্যে সূর্য অস্ত যাবে। অতঃপর তাকে বলা হবে, 'এই যে! তাঁর ব্যাপারে তুমি কী বলো?' সে বলবে, 'ছেড়ে দিন আমাকে! আমি সালাত আদায় করব।' তারা বলবে, 'কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি তা করতে পারবে। আমরা তোমাকে যে বিষয়ে প্রশ্ন করছি, (আগে) তার উত্তর দাও।' সে বলবে, 'আপনারা কী বিষয়ে জিজ্ঞাসা করছেন?' ফেরেশতা বলবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো, যাকে তোমাদের মধ্যে পাঠানো হয়েছিল? তাঁর ব্যাপারে তোমার সাক্ষ্য কী?' তখন সে বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর রাসূল ﷺ। তিনি আল্লাহর কাছ থেকে সত্য নিয়ে এসেছিলেন।' তাকে বলা হবে, 'এরই উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর এরই উপর—ইন শা আল্লাহ—তোমাকে ওঠানো হবে।'
তারপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে বলা হবে, 'এর ভেতর তোমার আসনটির দিকে তাকিয়ে দেখো, আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন!' এতে তার সুখ ও আনন্দ বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে তার জন্য আলোকিত করে দেওয়া হবে। তার দেহটি শুরুর অবস্থায় ফিরে আসবে। সেখানে মৃদুমন্দ সমীরণের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। আর সে (জান্নাতে) উড়ে বেড়াবে এবং জান্নাতের বৃক্ষ থেকে আহার করবে।
(বর্ণনাকারী) মুহাম্মাদ বলেন, 'আমি উমার ইবনুল হাকাম ইবনি সাউবান-কে বলতে শুনেছি—সে নব-বিবাহিতের ন্যায় ঘুম দেবে, যার ঘুম তার পরিবারের সবচেয়ে প্রিয়জন ছাড়া অন্য কেউ ভাঙায় না। (সে ঘুমাতে থাকবে) যতক্ষণ না আল্লাহ তাআলা তাকে ওই শয্যা থেকে ওঠাবেন।' তারপর তিনি আবূ হুরায়রার হাদীসে ফিরে আসেন—
আর এটিই হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্য:
“যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন, আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন। তিনি যা চান, তা-ই করবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
আর (মৃত ব্যক্তি) কাফির হলে, (ফেরেশতাকে) তার ডান, বাম ও দু'পায়ের দিক দিয়ে আনা হবে; কিন্তু তার কোনও দিকে কিছুই পাওয়া যাবে না। এরপর তাকে বলা হবে, 'বসো।' সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে বসবে। তাকে বলা হবে, 'আচ্ছা, এই যে লোকটি তোমাদের মধ্যে ছিলেন, ইনি কে? তাঁর ব্যাপারে তুমি কী বলো। তাঁর ব্যাপারে তোমার সাক্ষ্যই বা কী?' সে বলবে, 'কোন লোক?' বলা হবে, 'যিনি তোমাদের মধ্যে ছিলেন।' সে তাঁর নামের কোনও দিশা খুঁজে পাবে না। একপর্যায়ে (তাকে) বলা হবে, '(ইনি) মুহাম্মাদ!' সে বলবে, 'আমি জানি না। (তবে) লোকদের কিছু একটা বলতে শুনেছিলাম, আর আমিও তা-ই বলেছি।' অতঃপর তাকে বলা হবে, 'এরই উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর এরই উপর—ইন শা আল্লাহ—তোমাকে ওঠানো হবে।'
তারপর তার জন্য জাহান্নামের একটি দরজা খুলে বলা হবে, 'জাহান্নামের ভেতর ওইটি তোমার আসন। (দেখো,) আল্লাহ সেখানে তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছেন।' এতে তার পরিতাপ ও বিধ্বস্ত-ভাব (আরও) বেড়ে যাবে। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দিয়ে বলা হবে, 'তুমি যদি আল্লাহর আনুগত্য করতে, তাহলে এটি হতো তোমার আসন! (দেখো,) আল্লাহ সেখানে তোমার জন্য কত কিছু প্রস্তুত করে রেখেছিলেন!' এতে তার পরিতাপ ও বিধ্বস্ত-ভাব (আরও) বেড়ে যাবে। তারপর তার কবরকে এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হবে যে, তাতে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যাবে।'
আবূ হুরায়রা বলেন, এটিই হলো আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত কথার তাৎপর্য- "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।"
(সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
[৫৩] আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেন, الْمُؤْمِنُ فِي قَبْرِهِ فِي رَوْضَةٍ خَضْرَاءَ وَيَرْحُبُ قَبْرَهُ سَبْعِينَ ذِرَاعًا وَيُنَوَّرُ لَهُ كَالْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ أَتَدْرُونَ فِيمَا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى أَتَدْرُونَ مَا الْمَعِيشَةُ الضَّنْكُ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ عَذَابُ الْكَافِرِ فِي قَبْرِهِ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهُ لَيُسَلَّطُ عَلَيْهِ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ تِنِينًا أَتَدْرُونَ مَا التِّنِينُ تِسْعَةٌ وَتِسْعُونَ حَيَّةً لِكُلِّ حَيَّةٍ تِسْعَةُ رُءُوسِ يَنْفُخُونَ فِي جِسْمِهِ وَيَلْسَعُونَهُ وَيَخْدِشُونَهُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ
“মুমিন কবরে থাকবে সবুজ উদ্যানের মধ্যে। তার কবরটি সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে। সেটি তার জন্য পূর্ণিমার রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল করে দেওয়া হবে। তোমরা কি জানো, এই আয়াত কাদের প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে?- "তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন, এবং কিয়ামাতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।”
(সূরা ত্ব-হা ২০:১২৪)
তোমরা কি জানো, সংকীর্ণ জীবন কী?” তাঁরা বলেন, 'আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।' তিনি বলেন,
"কাফিরের কবরে শাস্তি (প্রসঙ্গে)। শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তার উপর নিরানব্বইটি 'তিন্নীন' লেলিয়ে দেওয়া হবে। তোমরা কি জানো, 'তিন্নীন' কী? (তা হলো) নিরানব্বইটি সাপ। প্রত্যেকটি সাপের রয়েছে নয়টি মাথা। সেগুলো তার দেহে নিঃশ্বাস ছাড়বে, তাকে দংশন করবে এবং আঁচড় দেবে। কিয়ামাত পর্যন্ত এ অবস্থা চলতে থাকবে।" [১]
[৫৪] যাজান এর বরাতে সুফইয়ান বলেন,
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ
"আর সেদিনটি আসার আগেও জালিমদের জন্য একটা আযাব আছে।"
(সূর আত-তূর ৫২:৪৭)
-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '(সেটি হলো) কবরের আযাব।'
[৫৫] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত,
وَإِنَّ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا عَذَابًا دُونَ ذَلِكَ
"আর সেদিনটি আসার আগেও জালিমদের জন্য একটা আযাব আছে।"
(সূরা আত-তূর ৫২:৪৭)
-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '(সেটি হলো) কিয়ামাত দিবসের আযাবের আগে কবরের আযাব।'
টিকাঃ
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮১। তিনি বলেন, 'হাদীসটি মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহীহ।' যাহাবি তাঁর সাথে একমত。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮১。
[১] অনুরূপ অর্থবিশিষ্ট হাদীসের জন্য দেখুন: ইবনু হিব্বান, সহীহ, ৭৮২, ৭৮৩; হাদীসটি 'হাসান'। দ্রষ্টব্য: মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৫。
[২] 'সংকীর্ণ জীবন'-এর ব্যাখ্যায় মুজাহিদ বলেন, 'কবর তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে যাবে।'
[১] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭৯; ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যাম্আন, ৭৮১; তাবারানি, আল-মু'জামুল আওসাত, বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৮ (এর ইসনাদটি হাসান)। দেখুন: মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫১。
[১] ইবনু হিব্বান, সহীহ, দ্রষ্টব্য: মাওয়ারিদুয যামুআন, ৭৮২, ৭৮৩; হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৫৫。
📄 বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে শাস্তির সম্ভাব্যতা
বিচ্ছিন্ন অঙ্গে প্রাণ থাকা সম্ভব। (পূর্ণাঙ্গ) দেহকাঠামো প্রাণের জন্য শর্ত নয়; যেমন শর্ত নয় প্রাণীর জন্য। আর এখান থেকে বুঝা যায়, বিচ্ছিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে শাস্তি দেওয়া সম্ভব।
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَيَخْتَارُ “তোমার রব যা চান, সৃষ্টি করেন এবং নির্বাচিত করে নেন।” (সূরা আল-কাসাস ২৮:৬৮)
তিনি বলেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন, আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন। তিনি যা চান, তা-ই করবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
তিনি আরও বলেন,
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ “আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোনও ইলাহ নেই। (তিনি) চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী।” (সূরা আল-বাকারাহ ২:২৫৫)
তিনি বলেন,
لَيْسَ كَمِثْلِهِ شَيْءٌ وَهُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ “কোনও কিছুই তাঁর সদৃশ নয়। তিনি সবকিছু শোনেন ও দেখেন।” (সূরা আশ-শূরা ৪২:১১)
[৫৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত,
أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم تَرَكَ قَتْلَى بَدْرٍ ثَلَاثًا ثُمَّ أَتَاهُمْ فَقَامَ عَلَيْهِمْ فَقَالَ يَا أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ يَا أُمَيَّةُ بْنَ خَلَفٍ يَا عُتْبَةُ بْنَ رَبِيعَةً يَا شَيْبَةُ بْنَ رَبِيعَةَ أَلَيْسَ قَدْ وَجَدْتُمْ مَا وَعَدَكُمْ رَبُّكُمْ حَقًّا فَإِنِّي وَجَدْتُ مَا وَعَدَنِي رَبِّي حَقًّا
فَسَمِعَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَوْلَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ يَسْمَعُونَ وَأَنَّى يُجِيبُونَ وَقَدْ جَيَّفُوا فَقَالَ
وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا أَنْتُمْ بِأَسْمَعَ لِمَا أَقُوْلُ مِنْهُمْ وَلَكِنَّهُمْ لَا يَقْدِرُونَ أَنْ يُجِيبُوا
ثُمَّ أَمَرَ بِهِمْ فَسُحِبُوا فَأُلْقُوا فِي قَلِيبِ بَدْرٍ
قَالَ قَتَادَةُ أَحْيَاهُمُ اللَّهُ بَأَعْيَانِهِمْ حَتَّى يَسْمَعُوا قَوْلَهُ تَوْبِيخًا وَصَغَارًا وَنِقْمَةٌ وَنَدَامَةً
'আল্লাহর রাসূল ﷺ বদরে নিহত (কাফির)-দের লাশ তিনদিন ফেলে রেখেছিলেন। তারপর তিনি এসে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বলেন,
'ওহে আবূ জাহল ইবনু হিশাম, ওহে উমাইয়া ইবনু খালাফ, ওহে উতবা ইবনু রবীআ, ওহে শাইবা ইবনু রবীআ! তোমাদের রব তোমাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা তোমরা সত্য পেয়েছ? আমার রব আমাকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, আমি কিন্তু তা সত্য পেয়েছি!'
উমার রা. নবি ﷺ-এর বক্তব্য শুনে বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, ওরা কীভাবে শুনবে, আর কীভাবেই বা উত্তর দেবে? ওদের লাশ তো (পচে) দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে!' তিনি বলেন,
“শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ! তারা আমার কথা যত স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছে, ওর চেয়ে বেশি স্পষ্টভাবে তোমরা শুনতে পাও না। কিন্তু তারা জবাব দেওয়ার ক্ষমতা রাখে না।”
তারপর তাঁর নির্দেশ মোতাবেক তাদের টেনে হ্যাঁচড়ে নিয়ে বদরের কুয়োয় নিক্ষেপ করা হয়।[১]
কাতাদা র. বলেন, 'আল্লাহ সেসব নেতাকে জীবিত করে দিয়েছিলেন, যাতে তারা তাঁর কথা শুনতে পায়। তাদেরকে ভর্ৎসনা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, প্রতিশোধ ও অনুশোচনার মুখোমুখি করার উদ্দেশে এ ব্যবস্থা করা হয়েছিল।'
(মৃত্যুর পর) তাদের মধ্যে এতটুকু প্রাণসঞ্চার করা হয়েছে যে, তারা নবি -এর কথা শুনতে পেয়েছে। এখান থেকে বুঝা গেল, তাদের (শারীরিক) অবস্থার পরিবর্তন (মৃত্যুর পর) প্রাণসঞ্চারণে বাধা সৃষ্টি করেনি। লাশ ধূলিসাৎ হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
[৫৭] খলাফ ইবনু খলীফা তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন,
شَهِدْتُ مَقْتَلَ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ فَلَمَّا بَانَ رَأْسُهُ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ ثُمَّ قَالَهَا الثَّالِثَةَ وَلَمْ يُتْمِمْهَا
'সাঈদ ইবনু জুবাইরের নিহত হওয়ার সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তাঁর মাথা (দেহ থেকে) বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার পরও তিনি বলেছেন, “আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই।” তৃতীয়বার বলতে গিয়ে তিনি তা সম্পূর্ণ বলতে পারেননি।'[১]
টিকাঃ
[১] মুসলিম, সহীহ, ২৮৭৪。
[১] এর সনদটি শক্তিশালী নয়। (ড. শারাফ মাহমুদ)