📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 দ্রুত জানাযা দেওয়া

📄 দ্রুত জানাযা দেওয়া


[৩৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ فَإِنْ تَكُنْ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُنْ سِوَى ذَلِكَ فَشَرُّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
"তোমরা দ্রুত জানাযার ব্যবস্থা কোরো; কারণ মৃতব্যক্তি সৎ হলে তো, তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে দিচ্ছো, আর সৎ ছাড়া অন্য কিছু হলে, তোমরা কেবল তোমাদের ঘাড় থেকে একটি অনিষ্ট নামিয়ে দিচ্ছো।”[১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৫; মুসলিম, ৯৪৪; আবূ দাউদ, ২/১৮৩; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 বাস্তবতা দেখে মৃতব্যক্তি যা বলে

📄 বাস্তবতা দেখে মৃতব্যক্তি যা বলে


[৩৪] আবূ সাঈদ খুদ্রি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا وُضِعَتِ الْجِنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ قَدِّمُونِي قَدِّمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ
“যখন মৃতব্যক্তিকে (খাটিয়ায়) রেখে, লোকজন তা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলে, 'আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো!' আর অসৎ হলে বলে, 'হায় দুর্ভোগ! তোমরা এটি কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?' তার আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবকিছুই শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে, অজ্ঞান হয়ে পড়ত।”[১]

টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৪; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 মৃত্যুর পর দেহে রূহ ফিরে আসার দলীল

📄 মৃত্যুর পর দেহে রূহ ফিরে আসার দলীল


মৃতব্যক্তির দেহে রূহ ফিরে আসে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়; মুমিনকে পুরস্কার ও কাফিরকে শাস্তি দেওয়া হয়-এ মর্মে দলিল-প্রমাণ:
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءُ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ *
“যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত। নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। আর যেসব ঈমানদার লোক তাদের পরে এ দুনিয়ায় রয়ে গেছে এবং এখনও সেখানে পৌঁছায়নি, তাদের জন্যও কোনও ভয় ও দুঃখের কারণ নেই, একথা জেনে তারা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে।” (আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭০)
কাফিরদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ مَقْتِكُمْ أَنْفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى الْإِيمَانِ فَتَكْفُرُونَ قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِنْ سَبِيلٍ
"কিয়ামতের দিন তাঁদের ডেকে বলা হবে, "আজ তোমরা নিজেদের ওপর যতটা ক্রোধান্বিত হচ্ছো, আল্লাহ তোমাদের ওপর তার চেয়েও অধিক ক্রোধান্বিত হতেন তখন, যখন তোমাদের ঈমানের দিকে আহ্বান জানানো হতো আর তোমরা উল্টো কুফরি করতে।” তারা বলবে: হে আমাদের রব, প্রকৃতই তুমি আমাদের দু'বার মৃত্যু দিয়েছ এবং দু'বার জীবন দান করেছ। এখন আমরা অপরাধ স্বীকার করছি। এখন এখান থেকে বের হওয়ার কোনও উপায় আছে কি?" (আল-মুমিন/ গাফির ৪০:১০-১১)
[৩৫] মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি-এর ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি বলেন, 'এটি কাফিরদের বক্তব্য। কাফিরের (একটি) মৃত্যু হলো তার পার্থিব জীবনে কুফরির উপর (অটল) থাকা, আর দ্বিতীয়টি হলো তার (স্বাভাবিক) মৃত্যু। এ হলো দুটি মৃত্যু। আর দু' জীবনের একটি হলো তার মৃত্যুর পর কবরের জীবন, আর দ্বিতীয়টি হলো পুনরুত্থানের জন্য জীবনলাভ।'
মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'কাফিরের দেহ জীবিত, কিন্তু তার অন্তঃকরণ মৃত। এটিই হলো আল্লাহর এ কথার তাৎপর্য:
أَوَ مَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ “যে ব্যক্তি (প্রথমে) মৃত ছিল, পরে আমি তাকে জীবন দিয়েছি।” (সূরা আল-আনআম ৬:১২২)
তিনি বলেন, '(এ আয়াতের অর্থ হলো) যে কাফির ছিল, আর আমি তাকে হিদায়াত বা পথনির্দেশনা দিয়েছি। সুতরাং কাফিরের মৃত্যু ও জীবন দ্বারা মূলত ওই মৃত্যু ও জীবনকে বুঝানো হয়, যা সে তার (স্বাভাবিক) মৃত্যুর পর লাভ করে, যে মৃত্যুর পর সে পানাহার করে না; তারপর সে পুনরুত্থানের জন্য জীবন লাভ করে।'
অন্য আরেকজনের ব্যাপারে উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেন, 'দু'টি মৃত্যুর একটি হলো ওই মৃত্যু, যা সে দুনিয়ার জীবন শেষে লাভ করে, আর অপর মৃত্যুটি সে পাবে যখন শিঙ্গায় প্রথমবার ফু দেওয়া হবে। দু'টি জীবনের একটি হলো তার মৃত্যুর (অব্যবহিত) পরের জীবন, যা সে লাভ করে দু'জন ফেরেশতার প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া ও শাস্তি উপলব্ধির জন্য, আর অপর জীবনটি হলো পুনরুত্থানের জন্য।' অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। 'আল্লাহর রাসূল -এর সুন্নাহতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, এ উদ্দেশে (মৃত্যুর পর) তার দেহে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রমাণস্বরূপ নিচের হাদীসসমূহ দেখুন:
[৩৬] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدُ قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرَ وَفِي يَدِهِ عُودُ يَنْكُتُ بِهِ قَالَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ
اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَإِنَّ الرَّجُلَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةُ بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ عَلَى وُجُوهِهِمُ الشَّمْسَ مَعَهُمْ حَنُوطُ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ وَكَفَنُ مِنْ كَفَنِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ قَالَ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ فَتَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السَّقَاءِ فَأَخَذَهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ رِيحِ مِسْكٍ وُجِدَتْ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ فَلَا يَمُرُّونَ بِمَلَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ فَيَقُولُونَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُفْتَحُ لَهُ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا أُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى
فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ فَيَقُولَانِ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ دِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَيَقُولَانِ مَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ قَرَأْتُ كِتَابَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِى فَافْرُشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا مِنَ الْجَنَّةِ فَيَأْتِيهِ مِنْ رُوحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ طَيِّبُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ فَهَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الوَجْهُ الَّذِي يَجِيءُ بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكُ الصَّالِحُ فَيَقُولُ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي
قَالَ وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةُ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمُ الْمُسُوحُ حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَأْتِيهِ مَلَكُ الْمَوْتِ فَيَجْلِسُ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِي إِلَى سَخَطٍ مِنَ اللَّهِ وَغَضَبٍ قَالَ فَتَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهَا فَيَنْتَزِعُونَهَا وَمَعَهَا الْعَصْبُ وَالْعُرُوقُ كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُودُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ فَيَأْخُذُونَهَا فَيَجْعَلُونَهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ قَالَ وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَنْتَنِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ
فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ الْخَبِيثَةُ قَالَ فَيَقُولُونَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَقْبَحِ أَسْمَابِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ فَلَا يُفْتَحُ لَهُ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ
إِلَى آخِرِ الْآيَةِ قَالَ فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الْأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا نُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا تُخْرِجُهُمْ تَارَةٌ أُخْرَى قَالَ فَتُطْرَحُ رُوحُهُ طَرْحًا ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
قَالَ ثُمَّ تُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيَقُولَانِ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ عَبْدِى فَافْرُشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا مِنَ النَّارِ وَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ
قَالَ وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ مُنْتِنُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُوكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ وَمَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الوَجْهُ الَّذِي يَجِيءُ بِالشَّرِ قَالَ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ قَالَ فَيَقُولُ رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ
'আমরা এক আনসার ব্যক্তির জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবরের খননকাজ চলছে। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল বসেন। আমরাও তাঁর পাশে এমনভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তাঁর হাতে একটি কাঠি। তা দিয়ে তিনি মাটিতে দাগ কাটছেন। তারপর মাথা উত্তোলন করে বলেন,
"তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। কারণ, মুমিন বান্দা যখন দুনিয়ার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আখিরাতের দিকে (রওয়ানা) হয়, তখন শুভ্র-চেহারার ফেরেশতারা আকাশ থেকে নেমে তার কাছে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের ন্যায় (উজ্জ্বল)। সঙ্গে থাকে জান্নাতের বস্ত্র ও সুগন্ধি। একজন ফেরেশতা তার মাথার কাছে বসে বলেন, 'ওহে স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।' তখন তার আত্মা এমন (মসৃণ) ভাবে বেরিয়ে যায়, যেভাবে চামড়ার মঙ্কের মুখ থেকে পানি বেরিয়ে আসে।
তারা আত্মাটি গ্রহণ করেন; জান কবয করার সময় তারা তা এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেন না। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে ওই বস্ত্র ও সুগন্ধির মধ্যে রাখেন। অতঃপর তা থেকে বেরিয়ে আসে দুনিয়ার সর্বোৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি-মেল্ক। তারা ফেরেশতাদের যেসব দলের পাশ দিয়ে যান, তাদের প্রত্যেকেই বলেন-এ পবিত্র রূহটি কী? তারা বলেন, (এটি) অমুকের ছেলে অমুক; দুনিয়ায় তাকে যেসব নামে ডাকা হতো, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর নাম সহকারে তার পরিচয় দেওয়া হয়। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক আকাশের নৈকট্যশীল ফেরেশতারা তাকে পরবর্তী আকাশ পর্যন্ত সঙ্গ দেয়। এভাবে তাকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হলে, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমার বান্দার আমলনামা সপ্তম আকাশের ইল্লিয়‍্যীনে লিপিবদ্ধ করে রাখো। আর তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নাও, কারণ আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' (সূরা ত্ব-হা ২০:৫৫)
তারপর তার দেহে পুনরায় আত্মা প্রবেশ করানো হয়। তারপর দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে বসান। এরপর জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'আমার দ্বীন ইসলাম।' তারপর তারা বলেন, 'এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল ।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কীভাবে জানো?' সে বলে, 'আমি আল্লাহ তাআলার কিতাব পাঠ করেছি। তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং (তাকে) সত্যায়ন করেছি।' তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও, তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।' তারপর জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুবাতাস তার নিকট আসতে থাকে। দৃষ্টি যতদূর প্রসারিত হয়, (তার কবরটি) তার জন্য ততদূর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
তার আমল তার সামনে একজন সুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার কাছ থেকে সুঘ্রাণ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও এমন কিছুর যা তোমাকে খুশি করে দেবে। এটি হলো তোমার দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।' সে (অর্থাৎ মুমিন) বলে, 'কে তুমি? তুমি তো কল্যাণ নিয়ে এসেছ!' সে বলে, 'আমি তোমার সৎকর্ম।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত ঘটাও! হে রব, কিয়ামাত ঘটাও! যাতে আমি আমার পরিবার ও ধন-সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি।'
আর অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে পরপারে পাড়ি জমানোর সময় এলে, আকাশ থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা নেমে তার কাছে আসে। সঙ্গে থাকে খসখসে কাপড়। তারা এসে তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে বসে। তারপর মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসে বলে, 'ওহে নোংরা আত্মা, আল্লাহর রাগ ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে আসো।' আত্মাটি তার দেহে ইতস্তত ছোটাছুটি করতে থাকে। ফেরেশতা তা টেনে-হিঁচড়ে বের করে। এর ফলে তার শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায়; অনেক শাখাবিশিষ্ট লৌহশলাকা দিয়ে ভেজা তুলার মধ্যে মোচড়ানো হলে যে অবস্থা হয়, অনেকটা সে রকম। অতঃপর ফেরেশতারা তা নিয়ে ওই খসখসে কাপড়ের মধ্যে রাখে। তা থেকে লাশের সবচেয়ে বাজে গন্ধ বেরিয়ে আসে।
তারা ওই আত্মাটি নিয়ে ফেরেশতাদের যেসব দলের পাশ দিয়ে যায়, তাদের প্রত্যেকেই বলে—এ নোংরা রূহটি কী? তারা বলে, (এটি) অমুকের ছেলে অমুক। দুনিয়ায় তাকে যেসব নামে ডাকা হতো, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বিশ্রী নাম সহকারে তার পরিচয় দেওয়া হয়। নিকটতম আকাশে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলতে বলা হয়; কিন্তু তার জন্য (দরজা) খোলা হয় না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ﷺ পাঠ করে শোনান, "তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭:৪০)
এ আয়াতটির শেষ পর্যন্ত তিনি পাঠ করে শোনান। তখন বরকতময় আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তার আমলনামা সপ্তম পৃথিবীর নিচে অবস্থিত সিজ্জীনে লিখে রাখো। আর তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নাও, কারণ আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' তখন তাকে আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল ﷺ এ আয়াত পাঠ করেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। এখন হয় তাকে পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, অথবা বাতাস তাকে নিয়ে এমন জায়গায় ছুড়ে ফেলবে, যেখানে সে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।' (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩১)
অতঃপর তার দেহে পুনরায় রূহ প্রবেশ করানো হয়। তারপর দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'তোমার রব কে?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তারপর তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তারপর তারা তাকে বলেন, 'এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।' এরপর জাহান্নামের উত্তাপ ও গরম বাতাস তার কাছে আসতে থাকে। আর তার কবরটি এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, (এর চাপে) তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যায়।
তার সামনে একজন কুশ্রী মানুষ হাজির হয়, যার কাছ থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও এমন কিছুর যা তোমাকে অখুশি করে দেবে। এটি হলো তোমার দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।' সে বলে, 'কে তুমি? তুমি তো অকল্যাণ নিয়ে আসছ।' সে বলে, 'আমি তোমার নোংরা কর্ম।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত সংঘটিত কোরো না! হে রব, কিয়ামাত সংঘটিত কোরো না!' "[১]
[৩৭] হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
الروح بِيَدِ الْمَلَكِ وَالْجَسَدُ يُقَلَّبُ فَإِذَا حَمَلُوهُ تَبِعَهُمْ فَإِذَا وُضِعَ فِي الْقَبْرِ بَثَّهُ فِيهِ
'(মানুষের মৃত্যুর অব্যবহিত পর) রূহ থাকে ফেরেশতার হাতে, আর (এদিকে) দেহের অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তারপর লোকজন যখন তাকে বহন করে নিয়ে চলে, তখন ফেরেশতা তাদের পেছনে পেছনে যায়। অতঃপর দেহটি কবরে রাখা হলে, ফেরেশতা ওই আত্মাটি এর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।[২৯]

টিকাঃ
[১] আবূ দাউদ, সুনান, ২/৫৪০ (এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন); মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল- ফাতহুর রব্বানি, ৭/৭৪。
[২] সুয়ূতি, জাল জাওয়ামি', ২/৩৬৫ (হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি); কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৪২。

📘 মৃত্যু থেকে কিয়ামাত > 📄 প্রশ্নোত্তর শেষে সকাল-সন্ধ্যায় গন্তব্য উপস্থাপন

📄 প্রশ্নোত্তর শেষে সকাল-সন্ধ্যায় গন্তব্য উপস্থাপন


প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে মৃতব্যক্তিকে সকাল-সন্ধ্যায় তার (চূড়ান্ত) গন্তব্য দেখানো হয়। এই সংক্রান্ত দলীল-প্রমাণ নিচে উল্লেখ করা হলো: আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ "আর ফিরআউনের সাঙ্গপাঙ্গরাই জঘন্য আযাবের চক্রে পড়ে গিয়েছে। দোযখের আগুন, যে আগুনের সামনে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়। কিয়ামত সংঘটিত হলে নিদের্শ দেওয়া হবে, ফিরআউনের অনুসারীদের কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।” (সূরা আল-মুমিন/ গাফির ৪০:৪৫-৪৬)
মুজাহিদ বলেন, “দোযখের আগুনের সামনে তাদের সকাল-সন্ধ্যায় পেশ করা হয়।”-এর মানে হলো যতদিন দুনিয়া থাকবে, ততদিন এ অবস্থা চলতে থাকবে।' তিনি আরও বলেন, 'ভর্ৎসনা, তাচ্ছিল্য ও শাস্তির সুরে তাদের বলা হয়, “ওহে ফিরআউনের লোকজন! এই হলো তোমাদের গন্তব্যস্থল।”'
[৩৮] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضَ عَلَى مَقْعَدِهِ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَمِنْ أَهْلِ النَّارِ يُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللَّهُ إِلَيْهِ “তোমাদের কেউ মারা গেলে, সকাল-সন্ধ্যায় তাকে তার (ভবিষ্যৎ) আবাসস্থলের সামনে হাজির করা হয়; জান্নাতবাসীকে জান্নাতের সামনে, আর জাহান্নামবাসীকে জাহান্নামের সামনে। (তখন) বলা হয়, 'এটি তোমার আবাসস্থল; যতক্ষণ না আল্লাহ তোমাকে পুনরুত্থিত করছেন।' [১]
[৩৯] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا مَاتَ الرَّجُلُ عُرِضَ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَالْجَنَّةُ وَإِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ فَالنَّارُ
“ব্যক্তি মারা গেলে, তার সামনে সকাল-সন্ধ্যায় তার গন্তব্যস্থল হাজির করা হয়; জান্নাতবাসী হলে জান্নাত, আর জাহান্নামবাসী হলে জাহান্নাম (হাজির করা হয়)।"
হাদীসটিতে (বর্ণনাকারী) আব্দুর রায্যাককে জিজ্ঞাসা করা হলো, '(তাকে) কি এভাবে বলা হয়: কিয়ামাতের দিন তোমাকে পুনরুত্থিত করে ওখানে নিয়ে যাওয়া হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ!'[১]
[৪০] ইবনু উমার থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
الْقَبْرُ حُفْرَةٌ مِنْ حُفَرِ جَهَنَّمَ أَوْ رَوْضَةٌ مِنْ رِيَاضِ الْجَنَّةِ
“কবর হলো জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য থেকে একটি গর্ত, কিংবা জান্নাতের বাগানসমূহের মধ্য থেকে একটি বাগান।”
[৪১] মাইমূন ইবনু মাইসারা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَتْ لِأَبِي هُرَيْرَةَ صَرْخَتَانِ فِي كُلِّ يَوْمٍ غُدْوَةٌ وَعَشِيَّةٌ كَانَ يَقُولُ فِي أَوَّلِ النَّهَارِ ذَهَبَ اللَّيْلُ وَعُرِضَ آلُ فِرْعَوْنَ عَلَى النَّارِ فَلَا يَسْمَعُ صَوْتَهُ أَحَدٌ إِلَّا اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ وَإِذَا كَانَ الْعَشِيُّ قَالَ ذَهَبَ النَّهَارُ وَجَاءَ اللَّيْلُ وَعُرِضَ آلُ فِرْعَوْنَ عَلَى النَّارِ فَلَا يَسْمَعُ صَوْتَهُ أَحَدٌ إِلَّا اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ مِنَ النَّارِ
"আবূ হুরায়রা প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় দু'বার জোরে চিৎকার করতেন। দিনের শুরুতে তিনি বলতেন, 'রাত তো শেষ হয়ে গেল। ফিরআউনের দলবলকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়েছে।' তারপর কেউ তাঁর আওয়াজ শুনতে পেত না; কেবল এটুকু (শোনা যেত) যে, তিনি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন। সন্ধ্যাবেলা বলতেন, 'দিন শেষ হয়ে রাত চলে এল! ফিরআউনের দলবলকে জাহান্নামের সামনে হাজির করা হয়েছে।' তারপর কেউ তাঁর আওয়াজ শুনতে পেত না; কেবল এটুকু (শোনা যেত) যে, তিনি আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাচ্ছেন।”

টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩৭৯; ইবনু মাজাহ, ৪২৭০; মুসলিম, ২৮৬৬; তিরমিযি, ৩/৩৮৪。
[১] মুসলিম, ২৮৬৬。
[২] তিরমিযি, ২৫৭৮। তিরমিযি বলেন, 'এটি একটি গরীব হাদীস।' তিরমিযির সনদে কিছুটা দুর্বলতা আছে। হাইসামি, মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৬。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00