📄 মৃত্যুর সময় ফেরেশতার আগমন
মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা অবতরণ করেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন মুমিনের জন্য সুসংবাদ, আর কাফিরের জন্য (শাস্তির) হুমকি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ "যারা ঘোষণা করেছে, আল্লাহ আমাদের রব, অতপর তার ওপরে দৃঢ় ও স্থির থেকেছে, নিশ্চিত তাদের কাছে ফেরেশতারা আসে (এবং তাদের বলে), ভীত হয়ো না, দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনে খুশি হও যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছে।” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০)
তিনি বলেন,
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي “হে স্থির আত্মা! ফিরে আসো তোমার রবের দিকে, (নিজের শুভ পরিণতিতে) সন্তুষ্ট এবং (তোমার রবের) সন্তোষভাজন হয়ে। শামিল হয়ে যাও আমার (নেক) বান্দাদের মধ্যে এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।" (সূরা আল-ফাজর ৮৯:২৭-৩০)
তিনি আরও বলেন,
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ “তুমি যদি জালেমদের সে অবস্থায় দেখতে পেতে, যখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও! তোমরা আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে যেসব অন্যায় ও অসত্য কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতের বিরুদ্ধে যে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তারি শাস্তি স্বরূপ আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।” (সূরা আল-আনআম ৬:৯৩)
[২৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا قَالَ حَمَّادٌ فَذَكَرَ مِنْ طِيبٍ رِيحِهَا وَذَكَرَ الْمِسْكَ قَالَ وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدِ مَنْ تَعْمُرِينَهُ فَيَنْطَلِقُ بِهِ إِلَى رَبِّهِ ثُمَّ يَقُولُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ قَالَ حَمَّادٌ ذَكَرَ مِنْ نَتْنِهَا وَذَكَرَ لَعْنًا وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ خَبِيثَةٌ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ قَالَ وَيُقَالُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ رَيْطَةً كَانَتْ عَلَيْهِ عَلَى أَنْفِهِ هَكَذَا
'মুমিনের রূহ (দেহ থেকে) বের হলে, দুজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করে এবং তা নিয়ে উপরে উঠে।' (বর্ণনাকারী) হাম্মাদ বলেন, এ কথা বলার পর আবূ হুরায়রা ওই আত্মার সুগন্ধ ও মেশকের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, 'আকাশবাসীরা বলে, '(এ তো) পবিত্র আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে। আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন এবং রহম করুন ওই দেহের উপর যাকে তুমি (এতদিন) আবাদ রেখেছিলে!' অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিয়ে তার রবের দিকে যায়। তারপর তিনি বলেন, 'তাকে নিয়ে সময়ের প্রান্তসীমায় চলে যাও।'
আর কাফিরের রূহ (দেহ থেকে) বের হলে...' (বর্ণনাকারী) হাম্মাদ বলেন, এ কথা বলার পর আবূ হুরায়রা ওই আত্মার দুর্গন্ধ ও অভিসম্পাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন, 'আর আকাশবাসীরা বলে, '(এ তো) নোংরা আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' বলা হয়, 'তাকে নিয়ে সময়ের প্রান্তসীমায় চলে যাও।' এ কথা বলে (অর্থাৎ কাফিরের দুর্গন্ধযুক্ত আত্মার কথা উল্লেখ করার পর), আল্লাহর রাসূল তাঁর (শরীরের) উপর থাকা একটি রুমাল তাঁর নাকের এভাবে রাখলেন।[১]
[২৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا احْتُضِرَ حَضَرَهُ مَلَكَانِ يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي حَرِيرَةٍ فَيَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ رُوحُ طَيِّبَةُ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَصْعَدَانِ بِهِ فَيُقَالُ أَبْشِرْ بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلَيْنِ وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي مِسَحَ ثُمَّ يَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ فَتَأْخُذُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَنْفِهَا وَيَقُولُونَ رِيحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَصْعَدَانِ بِهِ فَيُقَالُ أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَهَوَانِهِ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ أَوِ الْأَجَلَيْنِ
'মুমিনের (মৃত্যুর সময়ক্ষণ) ঘনিয়ে এলে, তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে উপস্থিত হয়। তারা তার রূহ কবয করে একটি রেশমি রুমালের উপর রাখে। তারপর তাকে নিয়ে আকাশের দিকে আরোহণ করে। ফেরেশতারা বলতে থাকে, '(এ তো) পবিত্র আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' তখন বলা হয়, 'সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের!' তারপর বলা হয়, 'তাকে দু'সময়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দাও।'
আর কাফির হলে, দু'জন ফেরেশতা তার রূহ কবয করে একটি খসখসে কাপড়ের উপর রাখে। অতঃপর তাকে নিয়ে আকাশের দিকে আরোহণ করে। ফেরেশতারা নিজেদের নাক চেপে বলতে থাকে, '(এ তো) নোংরা আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' অতঃপর তাকে নিয়ে তারা (আরও) উপরে আরোহণ করে। তখন বলা হয়, 'সুসংবাদ লও আল্লাহর শাস্তি ও তাচ্ছিল্যের!' তারপর বলা হয়, 'তাকে সময়ের অথবা দু'সময়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দাও।' [১]
[২৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ قَالُوا اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ اخْرُجِي حَمِيدَةٌ وَأَبْشِرِى بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَمَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَعْرُجَ بِهَا حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُسْتَفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ فَيُقَالُ مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ ادْخُلِي حَمِيدَةٌ وَأَبْشِرِى بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ أَظُنُّهُ أَرَادَ السَّمَاءَ السَّابِعَةَ قَالَ
وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالُوا اخْرُجِى أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِى بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرَ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجُ فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَنْتَهِي بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُقَالُ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ فَيُقَالُ لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهُ لَا تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَتُرْسَلُ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ
'মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে ফেরেশতারা এসে হাজির হয়। লোকটি সৎ হলে, তারা বলে, 'ওহে দেহের ভেতরে থাকা স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো। প্রশংসিত অবস্থায় বেরিয়ে আসো, আর সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের।' আত্মা বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকে। অতঃপর আত্মা বেরিয়ে এলে, তাকে নিয়ে উপরে ওঠা হয়। আকাশে পৌঁছে তার জন্য (দরজা) খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, 'এই ব্যক্তি কে?' বলা হয়, 'অমুকের ছেলে অমুক।' প্রত্যুত্তরে বলা হয়, 'পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম, যা পবিত্র দেহে ছিল! প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো, আর সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের।' (...) আকাশে পৌঁছা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকবে।' (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তিনি (আকাশ বলতে) সপ্তম আকাশের কথা বুঝিয়েছিলেন।
আর লোকটি মন্দ হলে, তারা বলে, 'ওহে নোংরা দেহের ভেতরে থাকা নোংরা আত্মা, ধিকৃত হয়ে বেরিয়ে আসো। আর সুসংবাদ লও ফুটন্ত পানি, পুঁজ ও এ ধরনের অন্যান্য তিক্ততার।' আত্মা বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকে। অতঃপর আত্মা বেরিয়ে এলে, তাকে নিয়ে আকাশের দিকে ওঠা হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, 'এই ব্যক্তি কে?' বলা হয়, 'অমুকের ছেলে অমুক।' প্রত্যুত্তরে বলা হয়, 'নোংরা আত্মাকে কোনও স্বাগত জানানো হবে না। এটি নোংরা দেহে ছিল! ধিকৃত হয়ে ফিরে যাও; তোমার জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না।' এরপর তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তারপর সে কবরে যাবে।[১]
[২৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حُضِرَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ فَيَقُولُونَ اخْرُجِي رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً عَنْكِ إِلَى رَوْحِ اللَّهِ وَرَيْحَانٍ وَرَبَّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحٍ مِسْكٍ حَتَّى إِنَّهُ لَيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا يَشُمُّونَهُ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ بَابَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ مَا أَطْيَبَ هَذِهِ الرِّيحَ جَاءَتْكُمْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ فَكُلَّمَا أَتَوْا سَمَاءً قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَفْرَحُ بِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِغَائِبِهِ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِ وَيَسْأَلُونَهُ مَا فَعَلَ فُلَانٌ فَيَقُولُونَ دَعْهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا فَإِذَا قَالَ لَهُمْ أَمَا أَتَاكُمْ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ يَقُولُونَ ذَهَبَ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ
وَأَمَّا الْكَافِرُ فَإِنَّ مَلَائِكَةَ الْعَذَابِ تَأْتِيهِ بِمِسْحٍ فَيَقُولُونَ اخْرُجِي سَاخِطَةٌ مَسْخُوطَةً عَلَيْكِ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى بَابِ الْأَرْضِ فَيَقُولُونَ مَا أَنْتَنُ هَذِهِ الرِّيحَ كُلَّمَا أَتَوْا عَلَى أَرْضٍ قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى أَرْوَاحِ الْكُفَّارِ
“মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ক্ষণ ঘনিয়ে এলে, তার কাছে রহমতের ফেরেশতারা একটি সাদা রেশমি রুমাল নিয়ে হাজির হয়। অতঃপর তারা বলে, 'সন্তুষ্ট অবস্থায় ও (রবের) সন্তোষভাজন হয়ে বেরিয়ে আসো। (বেরিয়ে আসো) আল্লাহর সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের দিকে।' অতঃপর সর্বোৎকৃষ্ট মানের মেশ্কের ঘ্রাণের ন্যায় আত্মাটি বেরিয়ে আসে। ফেরেশতারা সেটি হাতে নিয়ে একে অপরকে দেয় এবং তার ঘ্রাণ নেয়। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে আকাশের দরজায় উপনীত হয়। তখন (আকাশের) ফেরেশতারা বলে, 'এর ঘ্রাণ কতই না উত্তম! এটি পৃথিবীর দিক থেকে তোমাদের কাছে এসেছে।' প্রত্যেক আকাশে উপনীত হলে তারা এ কথা বলে। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে মুমিনদের আত্মাসমূহের নিকট হাজির হয়। দীর্ঘদিন-অনুপস্থিত- ছিল এমন কেউ তোমাদের কারও কাছে এলে, সে যতটা খুশি হয়, মুমিনরা ওই আত্মাটি পেয়ে তার চেয়ে বেশি খুশি হয়। তারা তার কাছে জানতে চায়, 'অমুকের কী হয়েছে? অমুকের কী হয়েছে?' তখন তারা বলে, 'তাকে ছেড়ে দাও, কিছুটা বিশ্রাম নিক, কারণ সে (এতদিন) দুনিয়ার দুঃখ-কষ্টের মধ্যে ছিল।' তারপর সে যখন জিজ্ঞাসা করে, 'সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? সে তো ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে!' তারা বলে, '(তাহলে) সে জাহান্নামে গিয়েছে।'
আর কাফিরের (মৃত্যুর) বেলায় শাস্তির ফেরেশতারা একটি খসখসে কাপড় নিয়ে তার কাছে আসে। অতঃপর বলে, 'অসন্তুষ্ট অবস্থায় ও (রবের) অসন্তোষ নিয়ে বেরিয়ে আসো। (বেরিয়ে আসো) আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের দিকে। অতঃপর তা লাশের সবচেয়ে বাজে গন্ধের ন্যায় বেরিয়ে আসে। তারা সেটি নিয়ে পৃথিবীর দরজায় চলে যায়, আর বলতে থাকে—ছিঃ! কী বাজে গন্ধ! প্রত্যেক ভূখণ্ডে উপনীত হলে তারা এ মন্তব্য করে। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে নিয়ে কাফিরদের আত্মাসমূহের কাছে হাজির হয়।" [১]
[২৯] উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি বলেছেন,
مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَاللَّهُ أَحَبَّ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ لَهُ مِمَّا أَمَامَهُ فَكَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ فَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ
“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে পছন্দ করে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎকে পছন্দ করেন, আর যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করেন।"
আয়িশা অথবা নবি এর কোনও এক স্ত্রী বললেন, 'আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি।' তিনি বললেন, "বিষয়টি এমন নয়। বরং মুমিনের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে, তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সম্মানের সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার সামনে যা পেশ করা হয়, তার চেয়ে অধিক পছন্দের আর কিছুই থাকে না। তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ তার জন্য প্রিয় হয়ে উঠে, আর তার সাক্ষাৎও আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়। আর কাফিরের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে, তাকে আল্লাহর শাস্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার সামনে যা পেশ করা হয়, তার চেয়ে অধিক অপছন্দের আর কিছুই থাকে না। তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ তার জন্য অপ্রিয় হয়ে উঠে, আর তার সাক্ষাৎও আল্লাহর কাছে অপ্রিয় হয়ে যায়।" [১]
[৩০] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا
“তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না, কারণ তারা অগ্রিম যা পাঠিয়েছে, সেই গন্তব্যে তারা পৌঁছে গিয়েছে।”[২]
[৩১] উসমান এর আযাদকৃত দাস হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلُّ لِحْيَتُهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَمَنْظَرُ الْقَبْرِ أَفْضَعُ مِنْهُ
'উসমান কোনও কবরের সামনে দাঁড়ালে এত বেশি কাঁদতেন যে, তাতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, 'আপনার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করা হয়, তখন আপনি কাঁদেন না, আর এতে কাঁদছেন!' তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। এখানে মুক্তি পেলে, পরের ধাপগুলো এর চেয়ে সহজ; আর এখানে মুক্তি না পেলে, পরের ধাপগুলো এর চেয়ে নিকৃষ্ট।” তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (আরও) বলেছেন, "আমি যেসব দৃশ্য দেখেছি, তার মধ্যে কবরের দৃশ্য সবচেয়ে ভয়ংকর।" [১]
[৩২] উসমান এর আযাদকৃত গোলাম হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِجِنَازَةٍ عِنْدَ قَبْرٍ وَصَاحِبُهُ يُدْفَنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اسْتَغْفِرُوا لِصَاحِبِكُمْ وَسَلُوا اللَّهَ لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
'আমি উসমান ইবনু আফ্ফান-কে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহর রাসূল একটি কবরের নিকট লাশের পাশ দিয়ে যান। তাকে তখন দাফন করা হচ্ছিল। আল্লাহর রাসূল বলেন, “তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো, এবং আল্লাহর নিকট চাও-তিনি যেন তাকে শক্তি যোগান, কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে।”' [২৯]
টিকাঃ
[১] মুসলিম, ২৮৭২。
[১] মুসলিম, ২৮৭২。
[১] আহমাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৭/৭১; ইবনু মাজাহ, ৪২৬২। সনদটি সহীহ。
[১] নাসাঈ, সুনান, ৪/৮。
[১] নাসাঈ, সুনান, ৪/৯; ইবনু মাজাহ, সুনান, ৪২৬৪; বুখারি, ৬৫০৭; মুসলিম, ২৬৮৪; দারিমি, সুনান, ২/২২০১。
[২] নাসাঈ, ৪/৫৩; দারিমি, সুনান, ২/১৫৬; বুখারি, ১৩৯৩。
[১] তিরমিযি, সুনান, ২৪১০; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৭; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭১; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১০৬。
[২] আবূ দাউদ, ২/১৯৪; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭০ (হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইমাম যাহাবি হাকিমের সাথে একমত); বাইহাকি, সুনান, ৪/৫৬。
📄 দ্রুত জানাযা দেওয়া
[৩৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ فَإِنْ تَكُنْ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُنْ سِوَى ذَلِكَ فَشَرُّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
"তোমরা দ্রুত জানাযার ব্যবস্থা কোরো; কারণ মৃতব্যক্তি সৎ হলে তো, তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে দিচ্ছো, আর সৎ ছাড়া অন্য কিছু হলে, তোমরা কেবল তোমাদের ঘাড় থেকে একটি অনিষ্ট নামিয়ে দিচ্ছো।”[১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৫; মুসলিম, ৯৪৪; আবূ দাউদ, ২/১৮৩; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。
📄 বাস্তবতা দেখে মৃতব্যক্তি যা বলে
[৩৪] আবূ সাঈদ খুদ্রি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا وُضِعَتِ الْجِنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ قَدِّمُونِي قَدِّمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ
“যখন মৃতব্যক্তিকে (খাটিয়ায়) রেখে, লোকজন তা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলে, 'আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো!' আর অসৎ হলে বলে, 'হায় দুর্ভোগ! তোমরা এটি কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?' তার আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবকিছুই শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে, অজ্ঞান হয়ে পড়ত।”[১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৪; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。
📄 মৃত্যুর পর দেহে রূহ ফিরে আসার দলীল
মৃতব্যক্তির দেহে রূহ ফিরে আসে। তারপর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়; মুমিনকে পুরস্কার ও কাফিরকে শাস্তি দেওয়া হয়-এ মর্মে দলিল-প্রমাণ:
আল্লাহ তাআলা বলেন, وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ قُتِلُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءُ عِندَ رَبِّهِمْ يُرْزَقُونَ فَرِحِينَ بِمَا آتَاهُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَيَسْتَبْشِرُونَ بِالَّذِينَ لَمْ يَلْحَقُوا بِهِم مِّنْ خَلْفِهِمْ أَلَّا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ *
“যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদের মৃত মনে কোরো না। তারা আসলে জীবিত। নিজেদের রবের কাছ থেকে তারা জীবিকা লাভ করছে। আল্লাহ নিজের অনুগ্রহ থেকে তাদের যা কিছু দিয়েছেন, তাতেই তারা আনন্দিত ও পরিতৃপ্ত। আর যেসব ঈমানদার লোক তাদের পরে এ দুনিয়ায় রয়ে গেছে এবং এখনও সেখানে পৌঁছায়নি, তাদের জন্যও কোনও ভয় ও দুঃখের কারণ নেই, একথা জেনে তারা নিশ্চিন্ত হতে পেরেছে।” (আ-ল ইমরান ৩:১৬৯-১৭০)
কাফিরদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِنْ مَقْتِكُمْ أَنْفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى الْإِيمَانِ فَتَكْفُرُونَ قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَى خُرُوجٍ مِنْ سَبِيلٍ
"কিয়ামতের দিন তাঁদের ডেকে বলা হবে, "আজ তোমরা নিজেদের ওপর যতটা ক্রোধান্বিত হচ্ছো, আল্লাহ তোমাদের ওপর তার চেয়েও অধিক ক্রোধান্বিত হতেন তখন, যখন তোমাদের ঈমানের দিকে আহ্বান জানানো হতো আর তোমরা উল্টো কুফরি করতে।” তারা বলবে: হে আমাদের রব, প্রকৃতই তুমি আমাদের দু'বার মৃত্যু দিয়েছ এবং দু'বার জীবন দান করেছ। এখন আমরা অপরাধ স্বীকার করছি। এখন এখান থেকে বের হওয়ার কোনও উপায় আছে কি?" (আল-মুমিন/ গাফির ৪০:১০-১১)
[৩৫] মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি-এর ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি বলেন, 'এটি কাফিরদের বক্তব্য। কাফিরের (একটি) মৃত্যু হলো তার পার্থিব জীবনে কুফরির উপর (অটল) থাকা, আর দ্বিতীয়টি হলো তার (স্বাভাবিক) মৃত্যু। এ হলো দুটি মৃত্যু। আর দু' জীবনের একটি হলো তার মৃত্যুর পর কবরের জীবন, আর দ্বিতীয়টি হলো পুনরুত্থানের জন্য জীবনলাভ।'
মুহাম্মাদ ইবনু কা'ব কুরাযি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'কাফিরের দেহ জীবিত, কিন্তু তার অন্তঃকরণ মৃত। এটিই হলো আল্লাহর এ কথার তাৎপর্য:
أَوَ مَنْ كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ “যে ব্যক্তি (প্রথমে) মৃত ছিল, পরে আমি তাকে জীবন দিয়েছি।” (সূরা আল-আনআম ৬:১২২)
তিনি বলেন, '(এ আয়াতের অর্থ হলো) যে কাফির ছিল, আর আমি তাকে হিদায়াত বা পথনির্দেশনা দিয়েছি। সুতরাং কাফিরের মৃত্যু ও জীবন দ্বারা মূলত ওই মৃত্যু ও জীবনকে বুঝানো হয়, যা সে তার (স্বাভাবিক) মৃত্যুর পর লাভ করে, যে মৃত্যুর পর সে পানাহার করে না; তারপর সে পুনরুত্থানের জন্য জীবন লাভ করে।'
অন্য আরেকজনের ব্যাপারে উল্লেখ আছে যে, তিনি বলেন, 'দু'টি মৃত্যুর একটি হলো ওই মৃত্যু, যা সে দুনিয়ার জীবন শেষে লাভ করে, আর অপর মৃত্যুটি সে পাবে যখন শিঙ্গায় প্রথমবার ফু দেওয়া হবে। দু'টি জীবনের একটি হলো তার মৃত্যুর (অব্যবহিত) পরের জীবন, যা সে লাভ করে দু'জন ফেরেশতার প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া ও শাস্তি উপলব্ধির জন্য, আর অপর জীবনটি হলো পুনরুত্থানের জন্য।' অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন মতও রয়েছে। 'আল্লাহর রাসূল -এর সুন্নাহতে স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে, এ উদ্দেশে (মৃত্যুর পর) তার দেহে তার রূহ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। প্রমাণস্বরূপ নিচের হাদীসসমূহ দেখুন:
[৩৬] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدُ قَالَ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّ عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرَ وَفِي يَدِهِ عُودُ يَنْكُتُ بِهِ قَالَ فَرَفَعَ رَأْسَهُ وَقَالَ
اسْتَعِيذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ فَإِنَّ الرَّجُلَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةُ بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ عَلَى وُجُوهِهِمُ الشَّمْسَ مَعَهُمْ حَنُوطُ مِنْ حَنُوطِ الْجَنَّةِ وَكَفَنُ مِنْ كَفَنِ الْجَنَّةِ حَتَّى يَجْلِسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ اخْرُجِي إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ قَالَ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ فَتَسِيلُ كَمَا تَسِيلُ الْقَطْرَةُ مِنْ فِي السَّقَاءِ فَأَخَذَهَا فَإِذَا أَخَذَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ حَتَّى يَأْخُذُوهَا فَيَجْعَلُوهَا فِي ذَلِكَ الْكَفَنِ وَفِي ذَلِكَ الْحَنُوطِ ثُمَّ يَخْرُجُ مِنْهَا كَأَطْيَبِ نَفْحَةِ رِيحِ مِسْكٍ وُجِدَتْ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ فَلَا يَمُرُّونَ بِمَلَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرِّيحُ الطَّيِّبَةُ فَيَقُولُونَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَحْسَنِ أَسْمَائِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُفْتَحُ لَهُ فَيُشَيِّعُهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا إِلَى السَّمَاءِ الَّتِي تَلِيهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهَا إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَيَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ اكْتُبُوا كِتَابَ عَبْدِي فِي عِلِّيِّينَ فِي السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا أُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا أُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى
فَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ فَيَقُولَانِ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ دِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم فَيَقُولَانِ مَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ قَرَأْتُ كِتَابَ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُ قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِى فَافْرُشُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا مِنَ الْجَنَّةِ فَيَأْتِيهِ مِنْ رُوحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ حَسَنُ الْوَجْهِ طَيِّبُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُرُّكَ فَهَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الوَجْهُ الَّذِي يَجِيءُ بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكُ الصَّالِحُ فَيَقُولُ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ حَتَّى أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي
قَالَ وَإِنَّ الْعَبْدَ الْكَافِرَ إِذَا كَانَ فِي انْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا وَإِقْبَالٍ مِنَ الْآخِرَةِ نَزَلَ إِلَيْهِ مِنَ السَّمَاءِ مَلَائِكَةُ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمُ الْمُسُوحُ حَتَّى يَجْلِسُوا مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ ثُمَّ يَأْتِيهِ مَلَكُ الْمَوْتِ فَيَجْلِسُ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ اخْرُجِي إِلَى سَخَطٍ مِنَ اللَّهِ وَغَضَبٍ قَالَ فَتَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهَا فَيَنْتَزِعُونَهَا وَمَعَهَا الْعَصْبُ وَالْعُرُوقُ كَمَا يُنْتَزَعُ السَّفُودُ مِنَ الصُّوفِ الْمَبْلُولِ فَيَأْخُذُونَهَا فَيَجْعَلُونَهَا فِي تِلْكَ الْمُسُوحِ قَالَ وَيَخْرُجُ مِنْهَا كَأَنْتَنِ جِيفَةٍ وُجِدَتْ عَلَى ظَهْرِ الْأَرْضِ
فَلَا يَمُرُّونَ بِهَا عَلَى مَلَا مِنَ الْمَلَائِكَةِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ الْخَبِيثَةُ قَالَ فَيَقُولُونَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ بِأَقْبَحِ أَسْمَابِهِ الَّتِي كَانَ يُسَمَّى بِهَا فِي الدُّنْيَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَيُسْتَفْتَحُ لَهُ فَلَا يُفْتَحُ لَهُ ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ
إِلَى آخِرِ الْآيَةِ قَالَ فَيَقُولُ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي سِجِّينٍ فِي الْأَرْضِ السَّابِعَةِ السُّفْلَى وَأَعِيدُوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا نُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا تُخْرِجُهُمْ تَارَةٌ أُخْرَى قَالَ فَتُطْرَحُ رُوحُهُ طَرْحًا ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
قَالَ ثُمَّ تُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيَقُولَانِ مَا دِينُكَ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيَقُولَانِ لَهُ مَا هَذَا الرَّجُلُ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هَاهُ هَاهُ لَا أَدْرِي قَالَ فَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ كَذَبَ عَبْدِى فَافْرُشُوهُ مِنَ النَّارِ وَأَلْبِسُوهُ مِنَ النَّارِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا مِنَ النَّارِ وَيَأْتِيهِ مِنْ حَرِّهَا وَسَمُومِهَا وَيُضَيَّقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ
قَالَ وَيَأْتِيهِ رَجُلٌ قَبِيحُ الْوَجْهِ مُنْتِنُ الرِّيحِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِالَّذِي يَسُوءُوكَ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ فَيَقُولُ وَمَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الوَجْهُ الَّذِي يَجِيءُ بِالشَّرِ قَالَ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ قَالَ فَيَقُولُ رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ رَبِّ لَا تُقِمِ السَّاعَةَ
'আমরা এক আনসার ব্যক্তির জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবরের খননকাজ চলছে। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল বসেন। আমরাও তাঁর পাশে এমনভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তাঁর হাতে একটি কাঠি। তা দিয়ে তিনি মাটিতে দাগ কাটছেন। তারপর মাথা উত্তোলন করে বলেন,
"তোমরা কবরের শাস্তি থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। কারণ, মুমিন বান্দা যখন দুনিয়ার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আখিরাতের দিকে (রওয়ানা) হয়, তখন শুভ্র-চেহারার ফেরেশতারা আকাশ থেকে নেমে তার কাছে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের ন্যায় (উজ্জ্বল)। সঙ্গে থাকে জান্নাতের বস্ত্র ও সুগন্ধি। একজন ফেরেশতা তার মাথার কাছে বসে বলেন, 'ওহে স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।' তখন তার আত্মা এমন (মসৃণ) ভাবে বেরিয়ে যায়, যেভাবে চামড়ার মঙ্কের মুখ থেকে পানি বেরিয়ে আসে।
তারা আত্মাটি গ্রহণ করেন; জান কবয করার সময় তারা তা এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেন না। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে ওই বস্ত্র ও সুগন্ধির মধ্যে রাখেন। অতঃপর তা থেকে বেরিয়ে আসে দুনিয়ার সর্বোৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি-মেল্ক। তারা ফেরেশতাদের যেসব দলের পাশ দিয়ে যান, তাদের প্রত্যেকেই বলেন-এ পবিত্র রূহটি কী? তারা বলেন, (এটি) অমুকের ছেলে অমুক; দুনিয়ায় তাকে যেসব নামে ডাকা হতো, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর নাম সহকারে তার পরিচয় দেওয়া হয়। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক আকাশের নৈকট্যশীল ফেরেশতারা তাকে পরবর্তী আকাশ পর্যন্ত সঙ্গ দেয়। এভাবে তাকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হলে, আল্লাহ তাআলা বলেন, 'আমার বান্দার আমলনামা সপ্তম আকাশের ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করে রাখো। আর তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নাও, কারণ আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' (সূরা ত্ব-হা ২০:৫৫)
তারপর তার দেহে পুনরায় আত্মা প্রবেশ করানো হয়। তারপর দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে বসান। এরপর জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'আমার দ্বীন ইসলাম।' তারপর তারা বলেন, 'এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল ।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কীভাবে জানো?' সে বলে, 'আমি আল্লাহ তাআলার কিতাব পাঠ করেছি। তার প্রতি ঈমান এনেছি এবং (তাকে) সত্যায়ন করেছি।' তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম সত্য বলেছে। তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও, তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।' তারপর জান্নাতের সুঘ্রাণ ও সুবাতাস তার নিকট আসতে থাকে। দৃষ্টি যতদূর প্রসারিত হয়, (তার কবরটি) তার জন্য ততদূর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
তার আমল তার সামনে একজন সুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার কাছ থেকে সুঘ্রাণ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও এমন কিছুর যা তোমাকে খুশি করে দেবে। এটি হলো তোমার দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।' সে (অর্থাৎ মুমিন) বলে, 'কে তুমি? তুমি তো কল্যাণ নিয়ে এসেছ!' সে বলে, 'আমি তোমার সৎকর্ম।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত ঘটাও! হে রব, কিয়ামাত ঘটাও! যাতে আমি আমার পরিবার ও ধন-সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি।'
আর অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে পরপারে পাড়ি জমানোর সময় এলে, আকাশ থেকে কালো চেহারার ফেরেশতারা নেমে তার কাছে আসে। সঙ্গে থাকে খসখসে কাপড়। তারা এসে তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে বসে। তারপর মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসে বলে, 'ওহে নোংরা আত্মা, আল্লাহর রাগ ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে আসো।' আত্মাটি তার দেহে ইতস্তত ছোটাছুটি করতে থাকে। ফেরেশতা তা টেনে-হিঁচড়ে বের করে। এর ফলে তার শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায়; অনেক শাখাবিশিষ্ট লৌহশলাকা দিয়ে ভেজা তুলার মধ্যে মোচড়ানো হলে যে অবস্থা হয়, অনেকটা সে রকম। অতঃপর ফেরেশতারা তা নিয়ে ওই খসখসে কাপড়ের মধ্যে রাখে। তা থেকে লাশের সবচেয়ে বাজে গন্ধ বেরিয়ে আসে।
তারা ওই আত্মাটি নিয়ে ফেরেশতাদের যেসব দলের পাশ দিয়ে যায়, তাদের প্রত্যেকেই বলে—এ নোংরা রূহটি কী? তারা বলে, (এটি) অমুকের ছেলে অমুক। দুনিয়ায় তাকে যেসব নামে ডাকা হতো, সেসবের মধ্যে সবচেয়ে বিশ্রী নাম সহকারে তার পরিচয় দেওয়া হয়। নিকটতম আকাশে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলতে বলা হয়; কিন্তু তার জন্য (দরজা) খোলা হয় না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল ﷺ পাঠ করে শোনান, "তাদের জন্য আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না।” (সূরা আল-আ'রাফ ৭:৪০)
এ আয়াতটির শেষ পর্যন্ত তিনি পাঠ করে শোনান। তখন বরকতময় আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তার আমলনামা সপ্তম পৃথিবীর নিচে অবস্থিত সিজ্জীনে লিখে রাখো। আর তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে নাও, কারণ আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' তখন তাকে আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল ﷺ এ আয়াত পাঠ করেন, 'যে ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। এখন হয় তাকে পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে, অথবা বাতাস তাকে নিয়ে এমন জায়গায় ছুড়ে ফেলবে, যেখানে সে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।' (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩১)
অতঃপর তার দেহে পুনরায় রূহ প্রবেশ করানো হয়। তারপর দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করে, 'তোমার রব কে?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তারপর তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তারপর তারা তাকে বলেন, 'এ ব্যক্তি কে, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'হায়! হায়! আমি তো জানি না।' তখন আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম মিথ্যা বলেছে। তার জন্য জাহান্নামের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জাহান্নামের পোশাক পরিয়ে দাও, তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি দরজা খুলে দাও।' এরপর জাহান্নামের উত্তাপ ও গরম বাতাস তার কাছে আসতে থাকে। আর তার কবরটি এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, (এর চাপে) তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যায়।
তার সামনে একজন কুশ্রী মানুষ হাজির হয়, যার কাছ থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও এমন কিছুর যা তোমাকে অখুশি করে দেবে। এটি হলো তোমার দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল।' সে বলে, 'কে তুমি? তুমি তো অকল্যাণ নিয়ে আসছ।' সে বলে, 'আমি তোমার নোংরা কর্ম।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত সংঘটিত কোরো না! হে রব, কিয়ামাত সংঘটিত কোরো না!' "[১]
[৩৭] হুযাইফা ইবনুল ইয়ামান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
الروح بِيَدِ الْمَلَكِ وَالْجَسَدُ يُقَلَّبُ فَإِذَا حَمَلُوهُ تَبِعَهُمْ فَإِذَا وُضِعَ فِي الْقَبْرِ بَثَّهُ فِيهِ
'(মানুষের মৃত্যুর অব্যবহিত পর) রূহ থাকে ফেরেশতার হাতে, আর (এদিকে) দেহের অবস্থার পরিবর্তন হতে থাকে। তারপর লোকজন যখন তাকে বহন করে নিয়ে চলে, তখন ফেরেশতা তাদের পেছনে পেছনে যায়। অতঃপর দেহটি কবরে রাখা হলে, ফেরেশতা ওই আত্মাটি এর মধ্যে ছড়িয়ে দেয়।[২৯]
টিকাঃ
[১] আবূ দাউদ, সুনান, ২/৫৪০ (এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন); মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল- ফাতহুর রব্বানি, ৭/৭৪。
[২] সুয়ূতি, জাল জাওয়ামি', ২/৩৬৫ (হস্তলিখিত পাণ্ডুলিপি); কানযুল উম্মাল, ১৫/৭৪২。