📄 মুমিন ও কাফির উভয়েই প্রশ্নের মুখোমুখি
[১৩] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ يَعْنِي مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ فِي النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا
"বান্দাকে যখন কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসে, তখন সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এরপর তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে বলে, 'এ ব্যক্তি (অর্থাৎ, মুহাম্মাদ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও; ওই আসনটির বদলে, আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাতে একটি আসন দিয়েছেন।' সে দু'টিই দেখতে পাবে।”[১]
[১৪] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ نَخْلًا لِبَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَ صَوْتًا فَفَزِعَ فَقَالَ مَنْ أَصْحَابُ هَذِهِ الْقُبُورِ قَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ نَاسُ مَاتُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ قَالُوا وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ
إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكُ فَيَقُولُ لَهُ مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَإِنِ اللَّهُ هَدَاهُ وَفِي رِوَايَةِ الْقَطَّانِ فَإِنْ هَدَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَقُولُ كُنْتُ أَعْبُدُ اللَّهَ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ غَيْرَهَا فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى بَيْتٍ كَانَ لَهُ فِي النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا بَيْتِكَ كَانَ فِي النَّارِ وَلَكِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَصَمَكَ وَرَحِمَكَ فَأَبْدَلَكَ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ دَعُونِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأُبَشِّرَ أَهْلِي فَيُقَالُ لَهُ اسْكُنْ
وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكُ فَيَنْهَرُهُ فَيَقُولُ مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيَقُولُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ فَيَقُولُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا الْخَلْقُ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
'আল্লাহর নবি বানুন নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে ঢুকে একটি আওয়াজ শুনতে পান। ফলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, 'এসব কবরে কারা শুয়ে আছে?' তারা বললেন, 'হে আল্লাহর নবি, (এরা হলেন) জাহিলি যুগে মারা যাওয়া কিছু লোক।' এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব ও দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।' তারা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, এর মানে কী?' তিনি বলেন,
'এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। মুমিনকে কবরে রাখা হলে, একজন ফেরেশতা এসে তাকে জিজ্ঞাসা করবে—তুমি (দুনিয়ার জীবনে) কীসের গোলামি করতে? আল্লাহ যেহেতু তাকে হিদায়াত দিয়েছিলেন—কাত্তানের বর্ণনায় বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিয়ে থাকলে—সে বলবে, 'আমি আল্লাহর গোলামি করতাম।' তখন তাকে বলা হবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তারপর তাকে একটি ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, যা ছিল জাহান্নামের ভেতর তার জন্য নির্ধারিত। তাকে বলা হবে, 'এটা তোমার ঘর, যা জাহান্নামে ছিল; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তোমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন এবং তোমার প্রতি দয়া দেখিয়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটি ঘর প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন!' সে বলবে, 'আমাকে ছেড়ে দাও! আমি গিয়ে আমার পরিবারকে (এই) সুসংবাদ দিই।' তাকে বলা হবে, 'শান্ত হও!'
আর কাফিরকে কবরে রাখা হলে, তার কাছে একজন ফেরেশতা এসে ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করবে, 'তুমি (দুনিয়ার জীবনে) কীসের গোলামি করতে?' সে বলবে, 'আমি জানি না।' (ফেরেশতা) বলবে, 'তুমি (দুনিয়াতে থাকাকালে) অনুধাবন করোনি! তুমি (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি!' তারপর জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'লোকজন যা বলত, আমিও তা-ই বলতাম।' এ উত্তর শুনে, ফেরেশতা একটি লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দু কানের মাঝখানে আঘাত করবে। তাতে সে এমন চিৎকার দেবে, যার আওয়াজ মানুষ ও জিন ছাড়া অন্য সকল সৃষ্টি শুনতে পাবে।[১]
[১৫] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ يَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرَاهُمَا كِلَاهُمَا أَوْ قَالَ جَمِيعًا “বান্দাকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। অতঃপর জিজ্ঞাসা করে, 'এ ব্যক্তি, অর্থাৎ মুহাম্মাদ, সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও। আল্লাহ এটিকে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন।' সে উভয়টিই দেখতে পাবে।"
কাতাদা বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছে—তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং কিয়ামাত পর্যন্ত (সময়ের জন্য) তা সবুজে ভরপুর করে দেওয়া হবে।' তারপর তিনি আনাস-এর হাদীসে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوِ الْمُنَافِقُ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةٌ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةٌ يَسْمَعُهَا مِنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
'আর কাফির কিংবা মুনাফিককে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'আমি জানি না; লোকজন যা বলত আমিও তা-ই বলতাম।' তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি (দুনিয়াতে থাকাকালে) অনুধাবন করোনি! তুমি (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি!' তারপর একটি লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দু' কানের মাঝখানে আঘাত করা হবে। তাতে সে এমন চিৎকার দেবে, যার আওয়াজ মানুষ ও জিন বাদে তার আশেপাশের সবাই শুনবে।[১]
[১৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি ﷺ বলেছেন,
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ قَالَ يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُرَاهُمَا جَمِيعًا
“বান্দাকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। অতঃপর জিজ্ঞাসা করে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তখন বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও। আল্লাহ এটিকে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন।' আল্লাহর নবি ﷺ বলেছেন, "সে উভয়টিই দেখতে পাবে।" [২]
[১৭] শাইবান ইবনু আব্দির রহমান আমাদের নিকট যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার শেষের দিকে এটুকু বাড়তি বিবরণী রয়েছে-কাতাদা বলেন, 'তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তা কিয়ামাত পর্যন্ত (সময়ের জন্য) সবুজে ভরপুর করে দেওয়া হবে।[৩]
[১৮] আসমা বিন্তু আবী বাকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلَّى قَالَتْ فَقُلْتُ مَا لِلنَّاسِ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَتْ سُبْحَانَ اللهِ فَقُلْتُ آيَةً فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الْغَشْيُ فَجَعَلْتُ أَصْبُّ فَوْقَ رَأْسِيَ الْمَاءَ فَلَمَّا انْصَرَفَ حَمِدَ اللَّهَ رَسُولُ اللَّهِ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ
مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ لَا أَدْرِى أَى ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ فَيَقُولُ هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا فَيُقَالُ لَهُ نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا
وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ
'আমি নবি ﷺ-এর স্ত্রী আয়িশার কাছে আসি। তখন সূর্যগ্রহণ চলছে। এসে দেখি, লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। আয়িশাও সালাতে দাঁড়ানো। আমি জিজ্ঞাসা করি, 'লোকজনের হয়েছে কী?' সে তার হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলে, 'সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র।' আমি বলি, '(এটি কি কোনও) নিদর্শন?' সে ইশারায় বলে, 'হ্যাঁ!' তখন আমিও (সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। একপর্যায়ে আমার মাথা ঘুরাতে থাকলে, মাথায় পানি ঢালতে থাকি। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাত শেষ করে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে বলেন,
'ইতঃপূর্বে আমি যা দেখিনি, আমার এ অবস্থান থেকে আমি তা-ই দেখেছি, এমনকি জান্নাত-জাহান্নামও। আমার কাছে এ মর্মে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়-অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ের-পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। অতঃপর ঈমানদার, কিংবা দৃঢ় ঈমানের অধিকারী (বর্ণনাকারী বলেন, আসমা এ দুটি শব্দের কোনটি বলেছিলেন-তা মনে করতে পারছি না), বলবে-'তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা (তাঁর ডাকে) সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি এবং (তাঁর নির্দেশাবলির) অনুসরণ করেছি।' তখন তাকে বলা হবে, 'সুখনিদ্রায় চলে যাও। আমরা ভালোভাবেই জানি, তুমি ঈমানদার ছিলে।'
আর মুনাফিক, কিংবা সংশয়বাদী (বর্ণনাকারী বলেন, আসমা এ দুটি শব্দের কোনটি বলেছিলেন—তা মনে করতে পারছি না), বলবে— 'আমি জানি না। লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছি, আর আমিও তা-ই বলেছি।' "[১]
[১৯] হিশাম ইবনু উরওয়া নিজের সূত্রে যে বর্ণনা পেশ করেছেন, তার শেষে বলা হয়েছে, (নবি বলেন)
وَإِنَّهُ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقَبْرِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ يُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيَقُولُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحَمَّدُ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعْنَا فَيُقَالُ لَهُ نَمْ صَالِحًا إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ إِنْ كُنْتَ لَتُؤْمِنُ بِهِ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ فَيَقُولُ مَا أَدْرِى سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا شَيْئًا فَقُلْتُ كَمَا قَالُوا فَيُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ
“আর আমার কাছে এ মর্মে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে মাসীহ্ (ত্রাণকর্তা!) দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়—অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ের—পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। ফেরেশতা এসে তোমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?'
মুমিন বলবে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা (তাঁর ডাকে) সাড়া দিয়েছি এবং (তাঁর নির্দেশাবলির) অনুসরণ করেছি।' তখন তাকে বলা হবে, ‘সুখনিদ্রায় চলে যাও। আমরা ভালোভাবেই জানি, তুমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলে।'
আর মুনাফিক কিংবা সংশয়বাদী বলবে, 'আমি জানি না। লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছিলাম। তারা যা বলেছিল, আমিও তা-ই বলেছিলাম।' অতঃপর তাকে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হবে।" [১]
[২০] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ فَجَعَلَ يَرْفَعُ بَصَرَهُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ وَيَخْفِضُ بَصَرَهُ وَيَنْظُرُ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالَهَا مِرَارًا ثُمَّ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي قِبَلٍ مِنَ الْآخِرَةِ وَانْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكُ فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ فَتَسِيلُ كَمَا يَسِيلُ قَطْرُ السَّمَاءِ قَالَ عَمْرُو فِي حَدِيثِهِ لَمْ يَقُلْهُ أَبُو عَوَانَةَ وَإِنْ كُنْتُمْ تَرَوْنَ غَيْرَ ذَلِكَ وَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ مِنَ الْجَنَّةِ بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ مَعَهُمْ أَكْفَانُ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِهَا فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ فَإِذَا قَبَضَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ قَالَ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ كَأَطْيَبِ رِيحٍ وُجِدَتْ فَتَعْرُجُ بِهِ الْمَلَائِكَةُ فَلَا يَأْتُونَ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ فَيُقَالُ فُلَانٌ بِأَحْسَنِ أَسْمَابِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى أَبْوَابِ سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيُفْتَحَ لَهُ وَتُشَيّعَهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَيُقَالُ اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي عِلَيِّينَ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى
قَالَ فَيُرَدُّ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدًا الانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ فَيَقُولَانِ وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّنَا فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ قَالَ وَذَلِكَ قَوْلُهُ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِهِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
ثُمَّ قَالَ وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْرُشُوهُ مِنْهَا وَأَرُوهُ مَنْزِلَهُ فِيهَا فَيَلْبِسُ مِنَ الْجَنَّةَ وَيُفْرَشُ مِنْهَا وَيَرَى مَنْزِلَهُ فِيهَا وَيُفْسَحُ لَهُ مَدَّ بَصَرِهِ
وَيَمْثُلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ حَسَنِ الْوَجْهِ طَيِّبِ الرِّيحِ حَسَنِ القِيَابِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِمَا أَعَدَّ اللهُ لَكَ أَبْشِرْ بِرِضْوَانٍ مِنَ اللَّهِ وَجَنَّاتٍ فِيهَا نَعِيمُ مُقِيمٌ فَيَقُولُ بَشَرَكَ اللَّهُ بِخَيْرٍ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ سَرِيعًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ بَطِيئًا فِي مَعْصِيَتِهِ فَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ كَيْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي قَالَ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا فَاجِرًا وَكَانَ فِي قِبَل مِنَ الْآخِرَةِ وَانْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكُ فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ أَبْشِرِي بِسَخَطِ اللَّهِ وَغَضَبِهِ فَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمْ مُسُوحٌ فَإِذَا قَبَضَهَا الْمَلَكُ قَامُوا فَلَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ قَالَ فَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ فَيَسْتَخْرِجُهَا تُقْطَعُ مَعَهَا الْعُرُوقُ وَالْعَصْبُ كَالسَّفُودِ الْكَثِيرِ الشُّعَبِ فِي الصُّوفِ الْمَبْلُولِ فَتُؤْخَذُ مِنَ الْمَلَكِ فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحٍ وُجِدَتْ فَلَا تَمُرُّ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ الْخَبِيثَةُ فَيَقُولُونَ هَذَا فُلَانٌ بِأَسْوَإِ أَسْمَابِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَلَا يُفْتَحُ لَهُ فَيَقُولُ رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ إِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا نُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا تُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى قَالَ فَيُرْمَى مِنَ السَّمَاءِ فَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
قَالَ فَيُعَادُ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ فِيهِ رُوحُهُ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدًا الانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ فَمَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ وَيُقَالُ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَلِكَ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ
وَيَتَمَثَّلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ قَبِيحِ الْوَجْهِ مُنْتِنِ الرِّيحِ قَبِيحِ الثَّيَابِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ فَيَقُولُ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالشَّرِ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ بَطِيئًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ سَرِيعًا فِي مَعْصِيَتِهِ
فَيُقَيَّضُ لَهُ أَصَمُّ أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ لَوْ ضُرِبَ بِهَا فِيلٌ صَارَ تُرَابًا أَوْ قَالَ رَمِيمًا فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةٌ تَسْمَعُهَا الْخَلَائِقُ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةً أُخْرَى
'আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে এক আনসার সাহাবির জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবর খননের কাজ চলছে। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল ﷺ বসেন। আমরাও তাঁর পাশে এমনভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তিনি দৃষ্টি উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকাতে থাকেন, তারপর দৃষ্টি নামিয়ে মাটির দিকে তাকান। তারপর বলেন, “কবরের শাস্তি থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।” এ কথাটি কয়েকবার বলার পর তিনি বলেন,
“মুমিন বান্দা যখন দুনিয়ার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আখিরাতের দিকে (রওয়ানা) হয়, তখন একজন ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসে বলেন, 'ওহে স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।' তখন তার আত্মা এমন (মসৃণ) ভাবে বেরিয়ে যায়, যেভাবে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়; যদিও তোমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাও। (তখন) জান্নাত থেকে শুভ্র-চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের ন্যায় (উজ্জ্বল)। সঙ্গে থাকে জান্নাতের বস্ত্র ও সুগন্ধি। তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে তারা বসেন। জান কবয করার সময় তারা তা এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেন না। এ কথাটিই এ আয়াতে বলা হয়েছে, “আমার দূতবর্গ তার মৃত্যু ঘটায়; কোনও অবহেলা করে না।” (সূরা আল-আনআম ৬:৬১)
সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির ন্যায় তার আত্মা (দেহ থেকে) বেরিয়ে যায়।
তারপর ফেরেশতারা সেটি নিয়ে উপরে উঠেন। আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে তারা যেসব দলের পাশ দিয়ে যান, তাদের প্রত্যেকেই বলে-এ রূহটি কী? বলা হয়, (এটি) অমুক। তারা তাকে সর্বোত্তম নামে উল্লেখ করেন। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক আকাশের নৈকট্যশীল ফেরেশতারা তাকে সঙ্গ দেন। এভাবে তাকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হলে, বলা হয়-তার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করে রাখো। তারপর বলা হয়, তাকে পৃথিবীতে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের এই বলে ওয়াদা দিয়েছিলাম- “তোমাদেরকে এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তোমাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তোমাদের আরেকবার বের করব।” (সূরা ত্ব-হা ২০:৫৫)
তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে তার দেহে পুনরায় আত্মা প্রবেশ করানো হয়। অত্যন্ত কর্কশ স্বভাবের দুজন ফেরেশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসান। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ। আর আমার দ্বীন ইসলাম।' তারপর তারা বলেন, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বল, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কীভাবে জানো?' সে বলে, 'তিনি আমাদের কাছে আমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাঁকে সত্যায়ন করেছি।' আর এটিই হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্য: 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
(তখন) আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও; তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, আর সেখানে তার আবাসস্থলটি দেখিয়ে দাও।' অতঃপর তাকে জান্নাতের পোশাক পরানো হয়, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছানো হয় এবং সেখানে তার আবাসস্থলটি তাকে দেখিয়ে দেওয়া হয়। তার দৃষ্টি যতদূর প্রসারিত হয়, (কবরটি) তার জন্য ততদূর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
তার আমল তার সামনে একজন সুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার (পরিধেয়) বস্ত্র সুন্দর ও যার কাছ থেকে সুঘ্রাণ আসতে থাকে। সে বলে, 'আল্লাহ তোমার জন্য যা তৈরি করে রেখেছেন, তার সুসংবাদ নাও। সুসংবাদ নাও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও স্থায়ী নিয়ামতবিশিষ্ট জান্নাতের।' সে (অর্থাৎ মুমিন) বলে, 'আল্লাহ তোমাকে কল্যাণের সুসংবাদ দিন! কে তুমি? তুমি তো আমাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে এসেছ!' সে বলে, 'আজ সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি তোমার সৎকর্ম। শপথ আল্লাহর, তোমার ব্যাপারে আমি কেবল এটুকুই জানি যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে তুমি ছিলে সদা তৎপর, আর তাঁর অবাধ্যতায় তুমি ছিলে অত্যন্ত ধীরগতির। যার ফলে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করেছেন।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত ঘটাও, যাতে আমি আমার পরিবার ও ধন-সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি।'
আর অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে পরপারে পাড়ি জমানোর সময় এলে, একজন ফেরেশতা এসে তার মাথার পাশে বসেন, এবং তাকে বলেন, 'ওহে নোংরা আত্মা, বেরিয়ে আসো। আল্লাহর রাগ ও ক্রোধের সুসংবাদ লও।' (তখন) কালো চেহারাবিশিষ্ট ফেরেশতারা নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে থাকে একখণ্ড খসখসে কাপড়। ফেরেশতা তার জান কবয করার সময় তারা উঠে দাঁড়ান; এক মুহূর্তের জন্যও তারা তাকে তার ছাড় দেন না। আত্মাটি তার দেহে ইতস্তত ছোটাছুটি করতে থাকে। ফেরেশতা তা টেনে বের করেন। এর ফলে তার শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায়; অনেক শাখাবিশিষ্ট লৌহশলাকা দিয়ে ভেজা তুলার মধ্যে মোচড়ানো হলে যে অবস্থা হয়, অনেকটা সে রকম। অতঃপর ফেরেশতার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তা থেকে সবচেয়ে বাজে গন্ধ বেরিয়ে আসে।
আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে তারা যেসব দলের পাশ দিয়ে যায়, তাদের প্রত্যেকেই বলে-এ নোংরা রূহটি কী? বলা হয়, (এটি) অমুক। তারা তাকে সর্বনিকৃষ্ট নামে উল্লেখ করেন। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খোলা হয় না। (আল্লাহ) বলেন, 'তাকে পৃথিবীতে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের এই বলে ওয়াদা দিয়েছিলাম যে, আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' তখন তাকে আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এ কথা বলে তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন, 'যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। এখন হয় তাকে পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে অথবা বাতাস তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ছুড়ে ফেলবে, যেখানে সে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।' (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩১)
অতঃপর তাকে পৃথিবীতে আনা হয়। তার দেহে পুনরায় রূহ প্রবেশ করানো হয়। অত্যন্ত কর্কশ স্বভাবের দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসান। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল?' সে তাঁর নামের কোনও দিশা পায় না। বলা হয়, '(ইনি কি) মুহাম্মাদ?' সে বলে, 'আমি জানি না। লোকদের এরূপ বলতে শুনেছি।' তখন বলা হবে, 'তুমি (দুনিয়ায় থাকতে) অনুধাবন করোনি।' অতঃপর তার কবরটি এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, এর চাপে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যায়।
তার আমল তার সামনে একজন কুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার (পরিধেয়) বস্ত্র নোংরা ও যার কাছ থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের।' সে (অর্থাৎ কাফির) বলে, 'কে তুমি? তুমি তো আমাদের জন্য অনিষ্ট নিয়ে এসেছ।' সে বলে, 'আমি তোমার নোংরা কর্ম। শপথ আল্লাহর, তোমার ব্যাপারে আমি কেবল এতটুকুই জানি যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে তুমি ছিলে অত্যন্ত ধীরগতির, আর তাঁর অবাধ্যতায় তুমি ছিলে সদা তৎপর।’
অতঃপর তাঁর জন্য একজন বধির ও বোবা (কেরেশতা) নিযুক্ত করা হয়। তার সঙ্গে থাকে একটি প্রকাণ্ড লৌহদণ্ড, যা দিয়ে হাতিকে আঘাত করা হলে তা ধুলোয় পরিণত হতো কিংবা (তিনি বলেছেন) ক্ষয়ে যেতো। ফেরেশতা তাকে (ওই লৌহদণ্ড দিয়ে) এমন একটি আঘাত করে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ বাদে সকল সৃষ্টি শুনতে পায়। তার দেহে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হয়, তারপর সে তাকে আরেকটি আঘাত করে।’”১
[২১] যারা ইবনু আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ
‘আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এক আনসার সাহাবির জানাযার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবর খনন করা হচ্ছে।’ তারপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা পেশ করেন। (এ ব্যাপারে) আবূ আওয়ানার বর্ণনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। আবূ দাউদ (রহঃ) মুমিনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,
زَادَ فِي رِوَايَةِ جَرِيرٍ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
‘জারীরের বর্ণনায় আরও বাড়তি উল্লেখ রয়েছে যে, এটি হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্যঃ
‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
আর কাফিরের কথা উল্লেখ করে বলেন,
زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلُ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِهَا بِضَرْبَةٍ يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا قَالَ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ
'জারীরের বর্ণনায় আরও বাড়তি উল্লেখ রয়েছে—তিনি বলেন, “অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বধির'১' (ফেরেশতা) নিযুক্ত করা হয়। তার সঙ্গে থাকে একটি প্রকাণ্ড লৌহদণ্ড, যা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করা হলে তা ধুলায় পরিণত হবে। ফেরেশতা তাকে (ওই লৌহদণ্ড দিয়ে) এমন একটি আঘাত করে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ বাদে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সবকিছুই শুনতে পায়। এর ফলে সে ধুলায় পরিণত হয়। তারপর তার দেহে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হয়।" [২৯]
[২২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনিও বারা ইবনু আযিব এর ন্যায় বর্ণনা পেশ করেছেন। তবে সেখানে উল্লেখ আছে,
قَالَ ارْقُدْ رَقْدَةَ الْمُتَّقِينَ الْمُؤْمِنِينَ وَيُقَالُ لِلْفَاجِرِ ارْقُدْ مَنْهُوشًا قَالَ فَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَلَهَا فِي جَسَدِهِ نَصِيبٌ “তিনি (মুমিনের উদ্দেশে) বলেন, 'আল্লাহ-ভীরু ও বিশ্বাসীর ঘুম ঘুমাও।' আর পাপিষ্ঠকে বলা হয়, 'কষ্টের ঘুম ঘুমাও।' তার দেহে সকল প্রাণীর জন্য অংশ থাকে।”[৩]
[২৩] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ عَلَى يَهُودِيَّةٌ فَقَالَتْ أَطْعِمِينِي أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ قَالَتْ فَلَمْ أَزَلْ أَحْبِسُهَا حَتَّى جَاءَ النَّبِيُّ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَقُولُ هَذِهِ الْيَهُودِيَّةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَقُولُ قُلْتُ تَقُولُ أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا يَسْتَعِيذُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ ثُمَّ قَالَ
فَأَمَّا الدَّجَّالُ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ إِلَّا قَدْ حَذَرَ أُمَّتَهُ وَسَأُحَذِّرُكُمُوهُ تَحْذِيرًا لَمْ يُحَذِّرْهُ نَبِيُّ أُمَّتَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ مَكْتُوبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَأَمَّا فِتْنَةُ الْقَبْرِ فَبِي تُفْتَنُونَ وَعَنِّي تُسْأَلُونَ
فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ غَيْرَ فَزِعٍ وَلَا مَشْعُوفٍ فَيُقَالُ لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ فِي الْإِسْلَامِ فَيُقَالُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَآمَنَّا وَصَدَّقْنَا فَيُقَالُ لَهُ هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ فَيَقُولُ مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى مَا فِيهَا مِنْ زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ هَا هُنَا مَقْعَدُكَ وَيُقَالُ عَلَى الْيَقِينِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مُتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ فَزِعًا مَشْعُوفًا فَيُقَالُ لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيُقَالُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ سَمِعْنَا النَّاسَ يَقُولُونَ فَيُفْرَجُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ مَا صَرَفَ اللَّهُ عَنْكَ وَيُفَرَّجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ ثُمَّ يُقَالُ عَلَى الشَّكِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُعَذِّبُ
'আমার কাছে এক ইয়াহুদি মহিলা এসে বলে, 'আমাকে কিছু খাবার দিন। আল্লাহ আপনাকে দাজ্জাল ও কবরের পরীক্ষার ব্যাপারে আশ্রয় দেবেন!' নবি ﷺ-এর আগমন পর্যন্ত আমি তাকে আটকে রাখি। তারপর আমি বলি, 'হে আল্লাহর রাসূল! এই ইয়াহুদি মহিলা (এসব) কী বলছে?' আল্লাহর রাসূল বলেন, 'সে কী বলে?' আমি বলি, 'সে বলে—'আল্লাহ আপনাকে দাজ্জাল ও কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ রাখুন!' আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে যান। তারপর দু'হাত উপরে তুলে প্রসারিত করেন, এবং দাজ্জাল ও কবরের শাস্তির ব্যাপারে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় চান। এরপর বলেন, 'এমন কোনও নবি নেই, যিনি দাজ্জালের ব্যাপারে তার উম্মাহকে সতর্ক করেননি। আমি অচিরেই দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের এমনভাবে সতর্ক করব, যেভাবে কোনও নবি তার উম্মাহকে সতর্ক করেননি। সে একচোখা; আর আল্লাহ কিন্তু একচোখা নন! তার দু' চোখের মাঝখানে লেখা আছে 'কাফির' (খোদাদ্রোহী); প্রত্যেক মুমিন তা পড়তে পারবে। আর কবরের পরীক্ষার বিষয়টি হলো-আমাকে দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে; আমার সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।
ব্যক্তি সৎ হলে তাকে কবরে বসানো হবে। তার মধ্যে কোনও ভয়- ভীতি ও উন্মাদনা থাকবে না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'কীসের মধ্যে জীবন কাটিয়েছ?' সে বলবে, 'আল্লাহর আনুগত্যে।' জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এই ব্যক্তি কে?' সে বলবে, 'আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ। তিনি আল্লাহর নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি; তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'আল্লাহকে দেখেছিলে?' সে বলবে, 'আল্লাহ তাআলাকে দেখা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।' অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে দেখবে, জাহান্নামের একটি অংশ অপর অংশকে চুরমার করে ফেলছে। তাকে বলা হবে, 'দেখো, আল্লাহ তোমাকে কী থেকে সুরক্ষা দিয়েছেন!' অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও অন্যান্য অনুগ্রহ দেখতে পাবে। তাকে বলা হবে, 'এখানেই তোমার অবস্থান।' এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি সংশয়মুক্ত জীবনযাপন করেছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর ইন শা আল্লাহ এরই উপর তোমাকে পুনরায় ওঠানো হবে।'
আর খারাপ ব্যক্তিকে কবরে বসানো হবে। সে থাকবে ভীত-সন্ত্রস্ত ও উন্মাদের ন্যায়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'কীসের মধ্যে জীবন কাটিয়েছ?' সে বলবে, 'আমি জানি না।' জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এই ব্যক্তি কে?' সে বলবে, 'লোকজনকে (কিছু একটা) বলতে শুনেছিলাম।' তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও অন্যান্য অনুগ্রহ দেখতে পাবে। তাকে বলা হবে, 'দেখো, আল্লাহ তোমার কাছ থেকে কী সরিয়ে নিলেন!' এরপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে দেখবে, জাহান্নামের একটি অংশ অপর অংশকে চুরমার করে ফেলছে। তাকে বলা হবে, 'এখানেই তোমার অবস্থান।' এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি সংশয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর ইন শা আল্লাহ এরই উপর তোমাকে পুনরায় ওঠানো হবে।' তারপর তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।' [১]
[২৪] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِنَازَةً فَقَالَ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَإِذَا الْإِنْسَانُ دُفِنَ فَتَفَرَّقَ عَنْهُ أَصْحَابُهُ جَاءَهُ مَلَكُ فِي يَدِهِ مِطْرَاقٌ فَأَقْعَدَهُ فَقَالَ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ لَهُ صَدَقْتَ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ فَيَقُولُ هَذَا كَانَ مَنْزِلُكَ لَوْ كَفَرْتَ بِرَبِّكَ فَأَمَّا إِذْ آمَنْتَ بِهِ فَهَذَا مَنْزِلُكَ فَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ فَيُرِيدُ أَنْ يَنْهَضَ إِلَيْهِ فَيَقُولُ لَهُ اسْكُنْ وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا أَوْ مُنَافِقًا يَقُولُ لَهُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ فَيَقُولُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ وَلَا هُدِيتَ ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا لَكَ لَوْ آمَنْتَ بِرَبِّكَ فَأَمَّا إِذْ كَفَرْتَ بِهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَبْدَلَكَ بِهِ هَذَا وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ ثُمَّ يَقْمَعُهُ بِالْمِطْرَاقِ يَسْمَعُهَا خَلْقُ اللَّهِ كُلُهُنَّ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ يَقُومُ عَلَيْهِ مَلَكُ فِي يَدِهِ مِطْرَقَةٌ إِلَّا هِيلَ عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِيْنَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
'আমরা আল্লাহর রাসূল -এর সঙ্গে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন,
"লোকসকল! এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। মানুষকে দাফনের পর তার সঙ্গী-সাথীরা চলে এলে, একজন ফেরেশতা তার কাছে আসবে। হাতে থাকবে একটি হাতুড়ি। ফেরেশতা তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো?' মুমিন হলে সে বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর গোলাম ও রাসূল।' সে তাকে বলবে, 'তুমি সত্য বলেছ।' তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। ফেরেশতা বলবে, 'তোমার রবের অবাধ্য হলে, এটি ছিল তোমার ঠিকানা। তুমি যেহেতু তাঁর উপর ঈমান এনেছিলে, তাই তোমার ঠিকানা হলো এটি।' এরপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সে সেখানে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ফেরেশতা তাকে বলবে, 'শান্ত হও।' (তখন) তার জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।
আর যদি (কবরবাসী) কাফির বা মুনাফিক হয়, তখন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো?' সে বলবে, 'আমি জানি না; লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছি, আর আমিও (তাই) বলেছি।' ফেরেশতা বলবে, 'তুমি (দুনিয়ায় থাকতে) অনুধাবন করোনি এবং (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি, ফলে সঠিক পথের দিশা পাওনি। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি সুরঙ্গ তৈরি করা হবে, এবং তাকে বলা হবে— তোমার রবের প্রতি ঈমান আনলে, এটি তোমার হতো! তুমি যেহেতু আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়েছ, তাই তিনি তোমার জন্য এটির বদলে এটি দিয়েছেন। (এ কথা বলে) তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুরঙ্গ তৈরি করা হবে। তারপর হাতুড়িটি দিয়ে ফেরেশতা তাকে আঘাত করবে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ ছাড়া আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সবাই শুনবে।
এ কথা শুনে কিছু লোক বলে উঠল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যে-কোনও ব্যক্তির সামনে একজন ফেরেশতা হাতুড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়ালে তো সে তাতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে! আল্লাহর রাসূল বলেন,
'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩৩৮, ১৩৭৪; মুসলিম, সহীহ, ২৮৭০; নাসাঈ, ৪/৯৭; আবূ দাউদ, ৩২৩১, ৪৭৫২; আহমাদ, ৩/২৩৩。
[১] আবূ দাউদ, ২/৫৩৯; আহমাদ ইবনু হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৩/২৩৩。
[১] বুখারি, ১৩৭৪; মুসলিম, ২৮৭০; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১১১。
[২] মুসলিম, ২৮৭০。
[৩] মুসলিম, ২৮৭০。
[১] বুখারি, ১০৫৩; মুসলিম, ৩/৩২; তানবীরুল হাওয়ালিক, ১/১৯৬; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৬/২২১。
[১] মালিক, মুওয়াত্তা, ১/১৮৮(৪); বুখারি, ৮৬, ৯২২; মুসলিম, ৫০৯; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১১৩৮。
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল-ফাতহুর রব্বানী, ৭/৭৪; মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, ৩/৪৮৯; আবূ দাউদ, ২/৫৪০১
[২] আবূ দাউদ, সুনান, ২/৫৮১
[১] ফলে সে কবরবাসীর শাস্তি দেখতেও পায় না, শুনতেও পায় না। (অনুবাদক)
[২] আবূ দাউদ তায়ালিসি, মুসনাদ, ৭৪৩; আবূ দাউদ, সুনান, ৪৭৫৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৮১。
[৩] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮。
[১] আক্ষরিক অনুবাদ: 'কীসের মধ্যে ছিলে?'
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১১২; সনদটি বিশুদ্ধ। ইবনু মাজাহ, ৪২৬৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৮。
[১] মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৭। তিনি বলেন, 'হাদীসটি আহমাদ ও বায্যার বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।' আল- ফাতহুর রব্বানি, ৮/১০৮。
📄 মৃত্যুর সময় ফেরেশতার আগমন
মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা অবতরণ করেন। সঙ্গে নিয়ে আসেন মুমিনের জন্য সুসংবাদ, আর কাফিরের জন্য (শাস্তির) হুমকি। আল্লাহ তাআলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ "যারা ঘোষণা করেছে, আল্লাহ আমাদের রব, অতপর তার ওপরে দৃঢ় ও স্থির থেকেছে, নিশ্চিত তাদের কাছে ফেরেশতারা আসে (এবং তাদের বলে), ভীত হয়ো না, দুঃখ করো না এবং সেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনে খুশি হও যার প্রতিশ্রুতি তোমাদের দেওয়া হয়েছে।” (সূরা ফুসসিলাত ৪১:৩০)
তিনি বলেন,
يَا أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ ارْجِعِي إِلَى رَبِّكِ رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً فَادْخُلِي فِي عِبَادِي وَادْخُلِي جَنَّتِي “হে স্থির আত্মা! ফিরে আসো তোমার রবের দিকে, (নিজের শুভ পরিণতিতে) সন্তুষ্ট এবং (তোমার রবের) সন্তোষভাজন হয়ে। শামিল হয়ে যাও আমার (নেক) বান্দাদের মধ্যে এবং প্রবেশ করো আমার জান্নাতে।" (সূরা আল-ফাজর ৮৯:২৭-৩০)
তিনি আরও বলেন,
وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ “তুমি যদি জালেমদের সে অবস্থায় দেখতে পেতে, যখন তারা মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাতে থাকবে এবং ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলতে থাকবে, তোমাদের প্রাণ বের করে দাও! তোমরা আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করে যেসব অন্যায় ও অসত্য কথা বলতে এবং তাঁর আয়াতের বিরুদ্ধে যে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করতে, তারি শাস্তি স্বরূপ আজ তোমাদের অবমাননাকর শাস্তি দেওয়া হবে।” (সূরা আল-আনআম ৬:৯৩)
[২৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِذَا خَرَجَتْ رُوحُ الْمُؤْمِنِ تَلَقَّاهَا مَلَكَانِ يُصْعِدَانِهَا قَالَ حَمَّادٌ فَذَكَرَ مِنْ طِيبٍ رِيحِهَا وَذَكَرَ الْمِسْكَ قَالَ وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ طَيِّبَةٌ جَاءَتْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْكِ وَعَلَى جَسَدِ مَنْ تَعْمُرِينَهُ فَيَنْطَلِقُ بِهِ إِلَى رَبِّهِ ثُمَّ يَقُولُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا خَرَجَتْ رُوحُهُ قَالَ حَمَّادٌ ذَكَرَ مِنْ نَتْنِهَا وَذَكَرَ لَعْنًا وَيَقُولُ أَهْلُ السَّمَاءِ رُوحٌ خَبِيثَةٌ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ قَالَ وَيُقَالُ انْطَلِقُوا بِهِ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَرَدَّ رَسُولُ اللَّهِ رَيْطَةً كَانَتْ عَلَيْهِ عَلَى أَنْفِهِ هَكَذَا
'মুমিনের রূহ (দেহ থেকে) বের হলে, দুজন ফেরেশতা তা গ্রহণ করে এবং তা নিয়ে উপরে উঠে।' (বর্ণনাকারী) হাম্মাদ বলেন, এ কথা বলার পর আবূ হুরায়রা ওই আত্মার সুগন্ধ ও মেশকের বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, 'আকাশবাসীরা বলে, '(এ তো) পবিত্র আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে। আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন এবং রহম করুন ওই দেহের উপর যাকে তুমি (এতদিন) আবাদ রেখেছিলে!' অতঃপর ফেরেশতা তাকে নিয়ে তার রবের দিকে যায়। তারপর তিনি বলেন, 'তাকে নিয়ে সময়ের প্রান্তসীমায় চলে যাও।'
আর কাফিরের রূহ (দেহ থেকে) বের হলে...' (বর্ণনাকারী) হাম্মাদ বলেন, এ কথা বলার পর আবূ হুরায়রা ওই আত্মার দুর্গন্ধ ও অভিসম্পাতের বিষয়টি উল্লেখ করেন, 'আর আকাশবাসীরা বলে, '(এ তো) নোংরা আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' বলা হয়, 'তাকে নিয়ে সময়ের প্রান্তসীমায় চলে যাও।' এ কথা বলে (অর্থাৎ কাফিরের দুর্গন্ধযুক্ত আত্মার কথা উল্লেখ করার পর), আল্লাহর রাসূল তাঁর (শরীরের) উপর থাকা একটি রুমাল তাঁর নাকের এভাবে রাখলেন।[১]
[২৬] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا احْتُضِرَ حَضَرَهُ مَلَكَانِ يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي حَرِيرَةٍ فَيَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ فَتَقُولُ الْمَلَائِكَةُ رُوحُ طَيِّبَةُ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَصْعَدَانِ بِهِ فَيُقَالُ أَبْشِرْ بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلَيْنِ وَإِنْ كَانَ كَافِرًا يَقْبِضَانِ رُوحَهُ فِي مِسَحَ ثُمَّ يَصْعَدَانِ بِهِ إِلَى السَّمَاءِ فَتَأْخُذُ الْمَلَائِكَةُ عَلَى أَنْفِهَا وَيَقُولُونَ رِيحٌ خَبِيثَةٌ جَاءَتْ مِنَ الْأَرْضِ فَيَصْعَدَانِ بِهِ فَيُقَالُ أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَهَوَانِهِ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى آخِرِ الْأَجَلِ أَوِ الْأَجَلَيْنِ
'মুমিনের (মৃত্যুর সময়ক্ষণ) ঘনিয়ে এলে, তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে উপস্থিত হয়। তারা তার রূহ কবয করে একটি রেশমি রুমালের উপর রাখে। তারপর তাকে নিয়ে আকাশের দিকে আরোহণ করে। ফেরেশতারা বলতে থাকে, '(এ তো) পবিত্র আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' তখন বলা হয়, 'সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের!' তারপর বলা হয়, 'তাকে দু'সময়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দাও।'
আর কাফির হলে, দু'জন ফেরেশতা তার রূহ কবয করে একটি খসখসে কাপড়ের উপর রাখে। অতঃপর তাকে নিয়ে আকাশের দিকে আরোহণ করে। ফেরেশতারা নিজেদের নাক চেপে বলতে থাকে, '(এ তো) নোংরা আত্মা! পৃথিবীর দিক থেকে এসেছে।' অতঃপর তাকে নিয়ে তারা (আরও) উপরে আরোহণ করে। তখন বলা হয়, 'সুসংবাদ লও আল্লাহর শাস্তি ও তাচ্ছিল্যের!' তারপর বলা হয়, 'তাকে সময়ের অথবা দু'সময়ের প্রান্তসীমায় পৌঁছে দাও।' [১]
[২৭] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
إِنَّ الْمَيِّتَ تَحْضُرُهُ الْمَلَائِكَةُ فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ قَالُوا اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ اخْرُجِي حَمِيدَةٌ وَأَبْشِرِى بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَمَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَعْرُجَ بِهَا حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُسْتَفْتَحَ لَهَا فَيُقَالُ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ فَيُقَالُ مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الطَّيِّبَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الطَّيِّبِ ادْخُلِي حَمِيدَةٌ وَأَبْشِرِى بِرَوْجٍ وَرَيْحَانٍ وَرَبِّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهَا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهِيَ بِهَا إِلَى السَّمَاءِ أَظُنُّهُ أَرَادَ السَّمَاءَ السَّابِعَةَ قَالَ
وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ قَالُوا اخْرُجِى أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ذَمِيمَةً وَأَبْشِرِى بِحَمِيمٍ وَغَسَّاقٍ وَآخَرَ مِنْ شَكْلِهِ أَزْوَاجُ فَلَا يَزَالُ يُقَالُ لَهُ ذَلِكَ حَتَّى تَخْرُجَ فَيَنْتَهِي بِهَا إِلَى السَّمَاءِ فَيُقَالُ مَنْ هَذَا فَيُقَالُ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ فَيُقَالُ لَا مَرْحَبًا بِالنَّفْسِ الْخَبِيثَةِ كَانَتْ فِي الْجَسَدِ الْخَبِيثِ ارْجِعِي ذَمِيمَةً فَإِنَّهُ لَا تُفْتَحُ لَكِ أَبْوَابُ السَّمَاءِ فَتُرْسَلُ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ تَصِيرُ إِلَى الْقَبْرِ
'মুমূর্ষু ব্যক্তির কাছে ফেরেশতারা এসে হাজির হয়। লোকটি সৎ হলে, তারা বলে, 'ওহে দেহের ভেতরে থাকা স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো। প্রশংসিত অবস্থায় বেরিয়ে আসো, আর সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের।' আত্মা বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকে। অতঃপর আত্মা বেরিয়ে এলে, তাকে নিয়ে উপরে ওঠা হয়। আকাশে পৌঁছে তার জন্য (দরজা) খুলতে বলা হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, 'এই ব্যক্তি কে?' বলা হয়, 'অমুকের ছেলে অমুক।' প্রত্যুত্তরে বলা হয়, 'পবিত্র আত্মাকে স্বাগতম, যা পবিত্র দেহে ছিল! প্রশংসিত অবস্থায় প্রবেশ করো, আর সুসংবাদ লও (আল্লাহর) সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের।' (...) আকাশে পৌঁছা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকবে।' (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয়, তিনি (আকাশ বলতে) সপ্তম আকাশের কথা বুঝিয়েছিলেন।
আর লোকটি মন্দ হলে, তারা বলে, 'ওহে নোংরা দেহের ভেতরে থাকা নোংরা আত্মা, ধিকৃত হয়ে বেরিয়ে আসো। আর সুসংবাদ লও ফুটন্ত পানি, পুঁজ ও এ ধরনের অন্যান্য তিক্ততার।' আত্মা বেরিয়ে আসা পর্যন্ত তাকে এসব বলা হতে থাকে। অতঃপর আত্মা বেরিয়ে এলে, তাকে নিয়ে আকাশের দিকে ওঠা হয়। তখন জিজ্ঞাসা করা হয়, 'এই ব্যক্তি কে?' বলা হয়, 'অমুকের ছেলে অমুক।' প্রত্যুত্তরে বলা হয়, 'নোংরা আত্মাকে কোনও স্বাগত জানানো হবে না। এটি নোংরা দেহে ছিল! ধিকৃত হয়ে ফিরে যাও; তোমার জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না।' এরপর তাকে পৃথিবীতে পাঠানো হয়। তারপর সে কবরে যাবে।[১]
[২৮] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حُضِرَ أَتَتْهُ مَلَائِكَةُ الرَّحْمَةِ بِحَرِيرَةٍ بَيْضَاءَ فَيَقُولُونَ اخْرُجِي رَاضِيَةً مَرْضِيَّةً عَنْكِ إِلَى رَوْحِ اللَّهِ وَرَيْحَانٍ وَرَبَّ غَيْرِ غَضْبَانَ فَتَخْرُجُ كَأَطْيَبِ رِيحٍ مِسْكٍ حَتَّى إِنَّهُ لَيُنَاوِلُهُ بَعْضُهُمْ بَعْضًا يَشُمُّونَهُ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ بَابَ السَّمَاءِ فَيَقُولُونَ مَا أَطْيَبَ هَذِهِ الرِّيحَ جَاءَتْكُمْ مِنْ قِبَلِ الْأَرْضِ فَكُلَّمَا أَتَوْا سَمَاءً قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَأْتُوا بِهِ أَرْوَاحَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَهُمْ أَفْرَحُ بِهِ مِنْ أَحَدِكُمْ بِغَائِبِهِ إِذَا قَدِمَ عَلَيْهِ وَيَسْأَلُونَهُ مَا فَعَلَ فُلَانٌ فَيَقُولُونَ دَعْهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ فَإِنَّهُ كَانَ فِي غَمِّ الدُّنْيَا فَإِذَا قَالَ لَهُمْ أَمَا أَتَاكُمْ فَإِنَّهُ قَدْ مَاتَ يَقُولُونَ ذَهَبَ إِلَى أُمِّهِ الْهَاوِيَةِ
وَأَمَّا الْكَافِرُ فَإِنَّ مَلَائِكَةَ الْعَذَابِ تَأْتِيهِ بِمِسْحٍ فَيَقُولُونَ اخْرُجِي سَاخِطَةٌ مَسْخُوطَةً عَلَيْكِ إِلَى عَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحِ جِيفَةٍ فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى بَابِ الْأَرْضِ فَيَقُولُونَ مَا أَنْتَنُ هَذِهِ الرِّيحَ كُلَّمَا أَتَوْا عَلَى أَرْضٍ قَالُوا ذَلِكَ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى أَرْوَاحِ الْكُفَّارِ
“মুমিন ব্যক্তির মৃত্যুর সময়ক্ষণ ঘনিয়ে এলে, তার কাছে রহমতের ফেরেশতারা একটি সাদা রেশমি রুমাল নিয়ে হাজির হয়। অতঃপর তারা বলে, 'সন্তুষ্ট অবস্থায় ও (রবের) সন্তোষভাজন হয়ে বেরিয়ে আসো। (বেরিয়ে আসো) আল্লাহর সন্তুষ্টি, উৎকৃষ্ট মানের সুগন্ধি ও ক্রোধবিহীন রবের দিকে।' অতঃপর সর্বোৎকৃষ্ট মানের মেশ্কের ঘ্রাণের ন্যায় আত্মাটি বেরিয়ে আসে। ফেরেশতারা সেটি হাতে নিয়ে একে অপরকে দেয় এবং তার ঘ্রাণ নেয়। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে আকাশের দরজায় উপনীত হয়। তখন (আকাশের) ফেরেশতারা বলে, 'এর ঘ্রাণ কতই না উত্তম! এটি পৃথিবীর দিক থেকে তোমাদের কাছে এসেছে।' প্রত্যেক আকাশে উপনীত হলে তারা এ কথা বলে। একপর্যায়ে তারা সেটি নিয়ে মুমিনদের আত্মাসমূহের নিকট হাজির হয়। দীর্ঘদিন-অনুপস্থিত- ছিল এমন কেউ তোমাদের কারও কাছে এলে, সে যতটা খুশি হয়, মুমিনরা ওই আত্মাটি পেয়ে তার চেয়ে বেশি খুশি হয়। তারা তার কাছে জানতে চায়, 'অমুকের কী হয়েছে? অমুকের কী হয়েছে?' তখন তারা বলে, 'তাকে ছেড়ে দাও, কিছুটা বিশ্রাম নিক, কারণ সে (এতদিন) দুনিয়ার দুঃখ-কষ্টের মধ্যে ছিল।' তারপর সে যখন জিজ্ঞাসা করে, 'সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? সে তো ইতোমধ্যে মারা গিয়েছে!' তারা বলে, '(তাহলে) সে জাহান্নামে গিয়েছে।'
আর কাফিরের (মৃত্যুর) বেলায় শাস্তির ফেরেশতারা একটি খসখসে কাপড় নিয়ে তার কাছে আসে। অতঃপর বলে, 'অসন্তুষ্ট অবস্থায় ও (রবের) অসন্তোষ নিয়ে বেরিয়ে আসো। (বেরিয়ে আসো) আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের দিকে। অতঃপর তা লাশের সবচেয়ে বাজে গন্ধের ন্যায় বেরিয়ে আসে। তারা সেটি নিয়ে পৃথিবীর দরজায় চলে যায়, আর বলতে থাকে—ছিঃ! কী বাজে গন্ধ! প্রত্যেক ভূখণ্ডে উপনীত হলে তারা এ মন্তব্য করে। শেষ পর্যন্ত তারা তাকে নিয়ে কাফিরদের আত্মাসমূহের কাছে হাজির হয়।" [১]
[২৯] উবাদা ইবনুস সামিত থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি বলেছেন,
مَنْ أَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ أَحَبَّ اللَّهُ لِقَاءَهُ وَمَنْ كَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ كَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا أَوْ بَعْضُ أَزْوَاجِهِ إِنَّا لَنَكْرَهُ الْمَوْتَ قَالَ لَيْسَ ذَلِكَ وَلَكِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِرِضْوَانِ اللَّهِ وَكَرَامَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَحَبَّ إِلَيْهِ مِمَّا أَمَامَهُ فَأَحَبَّ لِقَاءَ اللَّهِ وَاللَّهُ أَحَبَّ لِقَاءَهُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا حَضَرَهُ الْمَوْتُ بُشِّرَ بِعَذَابِ اللَّهِ وَعُقُوبَتِهِ فَلَيْسَ شَيْءٌ أَكْرَهَ لَهُ مِمَّا أَمَامَهُ فَكَرِهَ لِقَاءَ اللَّهِ فَكَرِهَ اللَّهُ لِقَاءَهُ
“যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে পছন্দ করে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎকে পছন্দ করেন, আর যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সঙ্গে সাক্ষাৎকে অপছন্দ করেন।"
আয়িশা অথবা নবি এর কোনও এক স্ত্রী বললেন, 'আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি।' তিনি বললেন, "বিষয়টি এমন নয়। বরং মুমিনের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে, তাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সম্মানের সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার সামনে যা পেশ করা হয়, তার চেয়ে অধিক পছন্দের আর কিছুই থাকে না। তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ তার জন্য প্রিয় হয়ে উঠে, আর তার সাক্ষাৎও আল্লাহর কাছে প্রিয় হয়ে যায়। আর কাফিরের মৃত্যু ঘনিয়ে এলে, তাকে আল্লাহর শাস্তির সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার সামনে যা পেশ করা হয়, তার চেয়ে অধিক অপছন্দের আর কিছুই থাকে না। তখন আল্লাহর সাক্ষাৎ তার জন্য অপ্রিয় হয়ে উঠে, আর তার সাক্ষাৎও আল্লাহর কাছে অপ্রিয় হয়ে যায়।" [১]
[৩০] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
لَا تَسُبُّوا الْأَمْوَاتَ فَإِنَّهُمْ قَدْ أَفْضَوْا إِلَى مَا قَدَّمُوا
“তোমরা মৃতদেরকে গালি দিও না, কারণ তারা অগ্রিম যা পাঠিয়েছে, সেই গন্তব্যে তারা পৌঁছে গিয়েছে।”[২]
[৩১] উসমান এর আযাদকৃত দাস হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
كَانَ عُثْمَانُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ إِذَا وَقَفَ عَلَى قَبْرٍ بَكَى حَتَّى يَبُلُّ لِحْيَتُهُ فَقِيلَ لَهُ تُذْكَرُ الْجَنَّةُ وَالنَّارُ فَلَا تَبْكِي وَتَبْكِي مِنْ هَذَا قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِنَّ الْقَبْرَ أَوَّلُ مَنَازِلِ الْآخِرَةِ فَإِنْ نَجَا مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ أَيْسَرُ مِنْهُ وَإِنْ لَمْ يَنْجُ مِنْهُ فَمَا بَعْدَهُ شَرٌّ مِنْهُ قَالَ وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم مَا رَأَيْتُ مَنْظَرًا قَطُّ إِلَّا وَمَنْظَرُ الْقَبْرِ أَفْضَعُ مِنْهُ
'উসমান কোনও কবরের সামনে দাঁড়ালে এত বেশি কাঁদতেন যে, তাতে তাঁর দাড়ি ভিজে যেত। তাঁকে বলা হলো, 'আপনার সামনে জান্নাত ও জাহান্নামের আলোচনা করা হয়, তখন আপনি কাঁদেন না, আর এতে কাঁদছেন!' তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন, "কবর হলো আখিরাতের প্রথম ধাপ। এখানে মুক্তি পেলে, পরের ধাপগুলো এর চেয়ে সহজ; আর এখানে মুক্তি না পেলে, পরের ধাপগুলো এর চেয়ে নিকৃষ্ট।” তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (আরও) বলেছেন, "আমি যেসব দৃশ্য দেখেছি, তার মধ্যে কবরের দৃশ্য সবচেয়ে ভয়ংকর।" [১]
[৩২] উসমান এর আযাদকৃত গোলাম হানি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ عُثْمَانَ بْنَ عَفَّانَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ يَقُولُ مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم بِجِنَازَةٍ عِنْدَ قَبْرٍ وَصَاحِبُهُ يُدْفَنُ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم اسْتَغْفِرُوا لِصَاحِبِكُمْ وَسَلُوا اللَّهَ لَهُ التَّثْبِيتَ فَإِنَّهُ الْآنَ يُسْأَلُ
'আমি উসমান ইবনু আফ্ফান-কে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহর রাসূল একটি কবরের নিকট লাশের পাশ দিয়ে যান। তাকে তখন দাফন করা হচ্ছিল। আল্লাহর রাসূল বলেন, “তোমরা তোমাদের সঙ্গীর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করো, এবং আল্লাহর নিকট চাও-তিনি যেন তাকে শক্তি যোগান, কারণ এখন তাকে প্রশ্ন করা হবে।”' [২৯]
টিকাঃ
[১] মুসলিম, ২৮৭২。
[১] মুসলিম, ২৮৭২。
[১] আহমাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৭/৭১; ইবনু মাজাহ, ৪২৬২। সনদটি সহীহ。
[১] নাসাঈ, সুনান, ৪/৮。
[১] নাসাঈ, সুনান, ৪/৯; ইবনু মাজাহ, সুনান, ৪২৬৪; বুখারি, ৬৫০৭; মুসলিম, ২৬৮৪; দারিমি, সুনান, ২/২২০১。
[২] নাসাঈ, ৪/৫৩; দারিমি, সুনান, ২/১৫৬; বুখারি, ১৩৯৩。
[১] তিরমিযি, সুনান, ২৪১০; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৭; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭১; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১০৬。
[২] আবূ দাউদ, ২/১৯৪; হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৭০ (হাদীসটির বিশুদ্ধতার ব্যাপারে ইমাম যাহাবি হাকিমের সাথে একমত); বাইহাকি, সুনান, ৪/৫৬。
📄 দ্রুত জানাযা দেওয়া
[৩৩] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন,
أَسْرِعُوا بِالْجِنَازَةِ فَإِنْ تَكُنْ صَالِحَةٌ فَخَيْرٌ تُقَدِّمُونَهَا إِلَيْهِ وَإِنْ تَكُنْ سِوَى ذَلِكَ فَشَرُّ تَضَعُونَهُ عَنْ رِقَابِكُمْ
"তোমরা দ্রুত জানাযার ব্যবস্থা কোরো; কারণ মৃতব্যক্তি সৎ হলে তো, তোমরা তাকে কল্যাণের দিকে এগিয়ে দিচ্ছো, আর সৎ ছাড়া অন্য কিছু হলে, তোমরা কেবল তোমাদের ঘাড় থেকে একটি অনিষ্ট নামিয়ে দিচ্ছো।”[১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৫; মুসলিম, ৯৪৪; আবূ দাউদ, ২/১৮৩; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。
📄 বাস্তবতা দেখে মৃতব্যক্তি যা বলে
[৩৪] আবূ সাঈদ খুদ্রি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন,
إِذَا وُضِعَتِ الْجِنَازَةُ وَاحْتَمَلَهَا الرِّجَالُ عَلَى أَعْنَاقِهِمْ فَإِنْ كَانَتْ صَالِحَةً قَالَتْ قَدِّمُونِي قَدِّمُونِي وَإِنْ كَانَتْ غَيْرَ صَالِحَةٍ قَالَتْ يَا وَيْلَهَا أَيْنَ تَذْهَبُونَ بِهَا يَسْمَعُ صَوْتَهَا كُلُّ شَيْءٍ إِلَّا الْإِنْسَانَ وَلَوْ سَمِعَهَا الْإِنْسَانُ لَصَعِقَ
“যখন মৃতব্যক্তিকে (খাটিয়ায়) রেখে, লোকজন তা নিজেদের কাঁধে তুলে নেয়, তখন সে সৎ হলে বলে, 'আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো, আমাকে এগিয়ে নিয়ে চলো!' আর অসৎ হলে বলে, 'হায় দুর্ভোগ! তোমরা এটি কোথায় নিয়ে যাচ্ছো?' তার আওয়াজ মানুষ ছাড়া সবকিছুই শুনতে পায়। মানুষ তা শুনলে, অজ্ঞান হয়ে পড়ত।”[১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩১৪; বাইহাকি, সুনান, ৪/২১。