📄 মৃত্যু থেকে কিয়ামত
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 প্রশ্নোত্তর পর্বে মুমিনের শান্তি
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ
“যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন; আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।”
(সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
(১) বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, নবি বলেন,
الْمُؤْمِنُ إِذَا شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَعَرَفَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَبْرِهِ فَذُلِكَ قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
“মুমিন যখন কবরে সাক্ষ্য দেবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ-কে চিনতে পারবে, সেটিই হবে নিম্নোক্ত আয়াতের প্রতিফলন- “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।”
(সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [খ]
[২] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন,
إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا سُبِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذُلِكَ قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“মুসলিমকে কবরে প্রশ্ন করা হলে, সে সাক্ষ্য দেবে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সেটিই হলো আল্লাহ তাআলার এ কথার তাৎপর্য— “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
[৩] আল্লাহ তাআলা বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي صلے الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন; আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
এই আয়াত প্রসঙ্গে বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, إِذَا جَاءَ الْمَلَكُ الرَّجُلَ فِي الْقَبْرِ حِيْنَ يُدْفَنُ فَقَالَ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَقَالَ رَبِّيَ اللهُ فَقَالَ وَمَادِيْنُكَ قَالَ دِيْنِي الْإِسْلَامُ وَقَالَ لَهُ مَنْ نَبِيُّكَ قَالَ نَبِيِّيْ مُحَمَّدٌ فَذَلِكَ التَّثْبِيْتُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
“দাফন করার পর, কবরে-থাকা লোকটির কাছে ফেরেশতা এসে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার রব কে?' সে বলবে, 'আমার রব আল্লাহ।' তারপর জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলবে, 'আমার দ্বীন ইসলাম।' এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার নবি কে?' সে বলবে, 'আমার নবি মুহাম্মাদ []।' সেটিই হলো দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগানো।” [১]
[৪] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ذَكَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ ثُمَّ ذَكَرَ أَشْيَاءَ لَمْ أَحْفَظْهَا فَقَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا سُبِلَ فِي قَبْرِهِ قَالَ رَبِّيَ اللَّهُ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
"নবি মুমিন ও কাফির সম্পর্কে আলোচনা করার পর কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন, যা আমি মুখস্থ রাখতে পারিনি। এরপর তিনি বলেন, 'মুমিনকে যখন [তার রব সম্পর্কে] কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে বলবে— 'আমার রব আল্লাহ।' সেটিই হলো আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত কথার তাৎপর্য— “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)"[য
[৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ فَقَالَ ذَلِكَ إِذَا قِيلَ لَهُ فِي الْقَبْرِ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ اللَّهُ رَبِّي وَالْإِسْلَامُ دِينِي وَمُحَمَّدٌ نَبِي جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ فَيُقَالُ صَدَقْتَ عَلَى هَذَا حَيِيتَ وعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ 'আল্লাহর রাসূল এই আয়াতটি পাঠ করেন: “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
এরপর তিনি বলেন, 'এটি ওই সময়ের জন্য প্রযোজ্য, যখন তাকে কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে-“তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” তখন সে বলবে-“আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন, আর মুহাম্মাদ আমার নবি; তিনি আল্লাহর কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; তাঁর কথা সত্য বলে মেনে নিয়েছি।" তখন তাকে বলা হবে, "তোমার উত্তর সঠিক। এ কথার উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর-ইন শা আল্লাহ-এরই উপর তোমাকে [কিয়ামাতের দিন] ওঠানো হবে।''" [১]
[৬] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন,
إِذَا حَدَّثْنَاكُمْ بِحَدِيثٍ آتَيْنَاكُمْ بِتَصْدِيقِ ذَلِكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ فَقِيلَ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ يَعْنِي وَمَنْ نَبِيُّكَ قَالَ فَيُثَبِّتُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ وَنَبِي مُحَمَّدُ قَالَ فَيُوسَعُ لَهُ قَبْرُهُ وَيَرُوحُ لَهُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا الْآيَةُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ فَقِيلَ لَهُ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ وَيُعَذِّبُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
'আমরা যখন তোমাদের কোনও কথা বলি, তখন এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে প্রমাণ নিয়ে আসি। [মৃত্যুর পর] একজন মুসলিম কবরে প্রবেশ করলে, তাকে সেখানে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” তখন আল্লাহ তাআলা তাকে শক্তি যোগান। ফলে সে বলে- “আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম, আর আমার নবি মুহাম্মাদ।” তখন তার জন্য কবরটিকে প্রশস্ত করে সুখকর বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।” এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন- "যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
"আর একজন কাফির যখন কবরে প্রবেশ করে, তখন তাকে সেখানে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” সে বলে, 'আমি জানি না।' তখন তার কবরটি সংকীর্ণ করে দিয়ে সেখানে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।” তারপর আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) পাঠ করেন- 'আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন; আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।' (ত্ব-হা ২০:১২৪) [১]
[৭] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا قَالَ الْمُخَاطَبَةُ فِي الْقَبْرِ يَقُولُ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ وَفِي الْآخِرَةِ مِثْلُ ذلِكَ
'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
-এই আয়াতটি কবরের কথোপকথন প্রসঙ্গে। [ফেরেশতা] জিজ্ঞাসা করবে-'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?' আখিরাতেও অনুরূপ [প্রশ্ন করা হবে]।”
টিকাঃ
[১] শক্তি যোগানো কিংবা না যোগানোর বিষয়টি হয়ে থাকে দুনিয়াতে মানুষের অবস্থা অনুযায়ী; সে মুমিন হলে, তাকে শক্তি যোগানো হবে, আর কাফির হলে, আল্লাহ তাকে পথহারা করে দেবেন, ফলে সে সঠিক জবাব খুঁজে পাবে না। তার কারণ হলো, [পরকালীন জীবনে] কেবল সেই আমলই গ্রহণযোগ্য, যা দুনিয়াতে করা হয়েছে। মৃত্যু-পরবর্তী সময়কাল প্রতিদানের জন্য, কাজের জন্য নয়। [ড. শারাফ মাহমূদ]
[২] বুখারি, সহীহ, ১৩৬৯, ৪৬৯৯; বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৭, ১০৮; মুসলিম, সহীহ, ২৮৭১ (৭৩); নাসাঈ, ৪/১০১, ১০২; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৯১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ১৩৬৪, ১৩৭৮; আবূ দাউদ, ৪৭৫০; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১৫২০; তাবারি, ১৪/১৪২; তিরমিযি, ৩১২০। তিরমিযি বলেন, 'হাদীসটি হাসান সহীহ।'
[১] আবূ দাঊদ, সুনান, ২/৫৩৯; বুখারি, সহীহ, ৪৬৯৯।
[১] ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৩/৩৭৭。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৯。
[১] তাবারি, তাফসীর, মাহমূদ শাকির (সম্পা.), ২০৭৬৯; ইবনু কাসীর, তাফসীর, ২/৫৩৪; সুয়ূতি, আদ-দুরুল মানসূর, ৪/৮১。
[১] তাবারি, তাফসীর, ২০৭৭১。
[২] নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আশরাফ, ৫৫১২; তাবারি, তাফসীর, ৩০৭৭৪。
📄 অাধ্যের জন্য কবরের আযাব
[৮] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি বলেছেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ قَالَ نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ يُقَالُ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَنَبِي مُحَمَّدٌ فَذَلِكَ قَوْلُهُ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) এই আয়াত কবরের শাস্তি প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে। (কবরবাসীকে) জিজ্ঞাসা করা হবে, 'তোমার রব কে?' (মুমিন) বলবে, 'আমার রব আল্লাহ। আর আমার নবি মুহাম্মাদ।' আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত কথার তাৎপর্য এটিই: 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)' "[১]
[৯] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ قَالَ نَزَلَتْ فِي عَذَابِ الْقَبْرِ 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) (এ আয়াত সম্পর্কে) তিনি বলেন, 'আয়াতটি কবরের শাস্তি প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে।'খি
[১০] ইকরিমা ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ الشَّهَادَةُ يُسْأَلُونَ عَنْهَا فِي قُبُورِهِمْ bَعْدَ مَوْتِهِمْ قَالَ قُلْتُ لِعِكْرِمَةَ مَا هُوَ قَالَ يُسْأَلُونَ عَنْ إِيمَانِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَمْرِ التَّوْحِيدِ قَالَ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ قَالَ تِلْكَ الشَّهَادَةُ فَلَا يَهْتَدُونَ أَبَدًا
“যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
(এই আয়াতে) ওই সাক্ষ্যের কথা (বলা হয়েছে), যার সম্পর্কে মানুষের মৃত্যুর পর কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে। (বর্ণনাকারী) বলেন, 'আমি ইকরিমাকে জিজ্ঞাসা করি-কী সেটি? তিনি বলেন, 'মুহাম্মাদ -এর প্রতি ঈমান ও তাওহীদ (একত্ববাদ)-এর বিষয়ে তাদের জিজ্ঞাসা করা হবে। 'আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।'-এর মানে হলো, ওই সাক্ষ্য তারা কখনও সঠিকভাবে দিতে পারবে না।"
[১১] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'আল্লাহর রাসূল বলেছেন-
بِي يُفْتَتَنُ أَهْلُ الْقُبُورِ وَفِي نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
“আমাকে দিয়ে কবরবাসীদের পরীক্ষা করা হবে। আর আমার ব্যাপারেই এই আয়াত নাযিল হয়েছে- 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)”
[১২] মুজাহিদ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي عَذَابِ الْقَبْرِ “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
-এ আয়াত কবরের আযাব সম্পর্কে।”
টিকাঃ
[১] বুখারি, সহীহ, ১৩৬৯; মুসলিম, সহীহ, ২৮৭১; নাসাঈ, ৪/১০১; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৯。
[২] মুসলিম, সহীহ, ২৮৭১; নাসাঈ, ৪/১০১; আবদুল্লাহ ইবনু আহমাদ, আস্- সুন্নাহ, ১৩৫৮。
📄 মুমিন ও কাফির উভয়েই প্রশ্নের মুখোমুখি
[১৩] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ فَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ يَعْنِي مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ فِي النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا
"বান্দাকে যখন কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসে, তখন সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। এরপর তার কাছে দু'জন ফেরেশতা এসে বলে, 'এ ব্যক্তি (অর্থাৎ, মুহাম্মাদ) সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও; ওই আসনটির বদলে, আল্লাহ তোমার জন্য জান্নাতে একটি আসন দিয়েছেন।' সে দু'টিই দেখতে পাবে।”[১]
[১৪] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ نَخْلًا لِبَنِي النَّجَّارِ فَسَمِعَ صَوْتًا فَفَزِعَ فَقَالَ مَنْ أَصْحَابُ هَذِهِ الْقُبُورِ قَالُوا يَا نَبِيَّ اللَّهِ نَاسُ مَاتُوا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ وَعَذَابِ النَّارِ وَفِتْنَةِ الدَّجَّالِ قَالُوا وَمَا ذَاكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ
إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا وَإِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكُ فَيَقُولُ لَهُ مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَإِنِ اللَّهُ هَدَاهُ وَفِي رِوَايَةِ الْقَطَّانِ فَإِنْ هَدَاهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَقُولُ كُنْتُ أَعْبُدُ اللَّهَ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ هُوَ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ فَمَا سُئِلَ عَنْ شَيْءٍ غَيْرَهَا فَيُنْطَلَقُ بِهِ إِلَى بَيْتٍ كَانَ لَهُ فِي النَّارِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا بَيْتِكَ كَانَ فِي النَّارِ وَلَكِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَصَمَكَ وَرَحِمَكَ فَأَبْدَلَكَ بِهِ بَيْتًا فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ دَعُونِي حَتَّى أَذْهَبَ فَأُبَشِّرَ أَهْلِي فَيُقَالُ لَهُ اسْكُنْ
وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ أَتَاهُ مَلَكُ فَيَنْهَرُهُ فَيَقُولُ مَا كُنْتَ تَعْبُدُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيَقُولُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ فَيَقُولُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا الْخَلْقُ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
'আল্লাহর নবি বানুন নাজ্জারের একটি খেজুর বাগানে ঢুকে একটি আওয়াজ শুনতে পান। ফলে তিনি আতঙ্কিত হয়ে জিজ্ঞাসা করেন, 'এসব কবরে কারা শুয়ে আছে?' তারা বললেন, 'হে আল্লাহর নবি, (এরা হলেন) জাহিলি যুগে মারা যাওয়া কিছু লোক।' এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, 'কবরের আযাব, জাহান্নামের আযাব ও দাজ্জালের পরীক্ষা থেকে আমরা আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।' তারা বলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল, এর মানে কী?' তিনি বলেন,
'এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষা করা হবে। মুমিনকে কবরে রাখা হলে, একজন ফেরেশতা এসে তাকে জিজ্ঞাসা করবে—তুমি (দুনিয়ার জীবনে) কীসের গোলামি করতে? আল্লাহ যেহেতু তাকে হিদায়াত দিয়েছিলেন—কাত্তানের বর্ণনায় বলা হয়েছে, আল্লাহ তাকে হিদায়াত দিয়ে থাকলে—সে বলবে, 'আমি আল্লাহর গোলামি করতাম।' তখন তাকে বলা হবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তারপর তাকে একটি ঘরের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে, যা ছিল জাহান্নামের ভেতর তার জন্য নির্ধারিত। তাকে বলা হবে, 'এটা তোমার ঘর, যা জাহান্নামে ছিল; কিন্তু আল্লাহ তাআলা তোমাকে সুরক্ষা দিয়েছেন এবং তোমার প্রতি দয়া দেখিয়ে তোমার জন্য জান্নাতে একটি ঘর প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন!' সে বলবে, 'আমাকে ছেড়ে দাও! আমি গিয়ে আমার পরিবারকে (এই) সুসংবাদ দিই।' তাকে বলা হবে, 'শান্ত হও!'
আর কাফিরকে কবরে রাখা হলে, তার কাছে একজন ফেরেশতা এসে ধমকের সুরে জিজ্ঞাসা করবে, 'তুমি (দুনিয়ার জীবনে) কীসের গোলামি করতে?' সে বলবে, 'আমি জানি না।' (ফেরেশতা) বলবে, 'তুমি (দুনিয়াতে থাকাকালে) অনুধাবন করোনি! তুমি (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি!' তারপর জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'লোকজন যা বলত, আমিও তা-ই বলতাম।' এ উত্তর শুনে, ফেরেশতা একটি লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দু কানের মাঝখানে আঘাত করবে। তাতে সে এমন চিৎকার দেবে, যার আওয়াজ মানুষ ও জিন ছাড়া অন্য সকল সৃষ্টি শুনতে পাবে।[১]
[১৫] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, 'নবি বলেছেন, إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ يَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ قَالَ فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا فِي الْجَنَّةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرَاهُمَا كِلَاهُمَا أَوْ قَالَ جَمِيعًا “বান্দাকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। অতঃপর জিজ্ঞাসা করে, 'এ ব্যক্তি, অর্থাৎ মুহাম্মাদ, সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তখন তাকে বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও। আল্লাহ এটিকে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন।' সে উভয়টিই দেখতে পাবে।"
কাতাদা বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছে—তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং কিয়ামাত পর্যন্ত (সময়ের জন্য) তা সবুজে ভরপুর করে দেওয়া হবে।' তারপর তিনি আনাস-এর হাদীসে ফিরে আসেন। তিনি বলেন, وَأَمَّا الْكَافِرُ أَوِ الْمُنَافِقُ فَيُقَالُ لَهُ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَاقٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةٌ بَيْنَ أُذُنَيْهِ فَيَصِيحُ صَيْحَةٌ يَسْمَعُهَا مِنْ يَلِيهِ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
'আর কাফির কিংবা মুনাফিককে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' সে বলবে, 'আমি জানি না; লোকজন যা বলত আমিও তা-ই বলতাম।' তখন তাকে বলা হবে, 'তুমি (দুনিয়াতে থাকাকালে) অনুধাবন করোনি! তুমি (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি!' তারপর একটি লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার দু' কানের মাঝখানে আঘাত করা হবে। তাতে সে এমন চিৎকার দেবে, যার আওয়াজ মানুষ ও জিন বাদে তার আশেপাশের সবাই শুনবে।[১]
[১৬] আনাস ইবনু মালিক থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'নবি ﷺ বলেছেন,
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ وَتَوَلَّى عَنْهُ أَصْحَابُهُ إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ قَالَ يَأْتِيهِ مَلَكَانِ فَيُقْعِدَانِهِ فَيَقُولَانِ مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ فَيُقَالُ انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ قَدْ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الْجَنَّةِ قَالَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَيُرَاهُمَا جَمِيعًا
“বান্দাকে কবরে রেখে তার সঙ্গীরা চলে আসার সময়, সে তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তার কাছে দুজন ফেরেশতা এসে তাকে বসায়। অতঃপর জিজ্ঞাসা করে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?' মুমিন বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, তিনি আল্লাহর গোলাম ও তাঁর রাসূল।' তখন বলা হবে, 'জাহান্নামে তোমার আসনটির দিকে তাকাও। আল্লাহ এটিকে জান্নাতে প্রতিস্থাপন করে দিয়েছেন।' আল্লাহর নবি ﷺ বলেছেন, "সে উভয়টিই দেখতে পাবে।" [২]
[১৭] শাইবান ইবনু আব্দির রহমান আমাদের নিকট যে হাদীস বর্ণনা করেছেন, তার শেষের দিকে এটুকু বাড়তি বিবরণী রয়েছে-কাতাদা বলেন, 'তার কবরটিকে সত্তর হাত প্রশস্ত করে দেওয়া হবে এবং তা কিয়ামাত পর্যন্ত (সময়ের জন্য) সবুজে ভরপুর করে দেওয়া হবে।[৩]
[১৮] আসমা বিন্তু আবী বাকর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
أَتَيْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ خَسَفَتِ الشَّمْسُ فَإِذَا النَّاسُ قِيَامٌ يُصَلُّونَ وَإِذَا هِيَ قَائِمَةٌ تُصَلَّى قَالَتْ فَقُلْتُ مَا لِلنَّاسِ فَأَشَارَتْ بِيَدِهَا إِلَى السَّمَاءِ وَقَالَتْ سُبْحَانَ اللهِ فَقُلْتُ آيَةً فَأَشَارَتْ أَنْ نَعَمْ فَقُمْتُ حَتَّى تَجَلَّانِي الْغَشْيُ فَجَعَلْتُ أَصْبُّ فَوْقَ رَأْسِيَ الْمَاءَ فَلَمَّا انْصَرَفَ حَمِدَ اللَّهَ رَسُولُ اللَّهِ وَأَثْنَى عَلَيْهِ ثُمَّ قَالَ
مَا مِنْ شَيْءٍ كُنْتُ لَمْ أَرَهُ إِلَّا وَقَدْ رَأَيْتُهُ فِي مَقَامِي هَذَا حَتَّى الْجَنَّةَ وَالنَّارَ وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَى أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقُبُورِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ أَوِ الْمُوقِنُ لَا أَدْرِى أَى ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ فَيَقُولُ هُوَ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَآمَنَّا وَاتَّبَعْنَا فَيُقَالُ لَهُ نَمْ صَالِحًا قَدْ عَلِمْنَا إِنْ كُنْتَ لَمُؤْمِنًا
وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ لَا أَدْرِي أَيَّ ذَلِكَ قَالَتْ أَسْمَاءُ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ
'আমি নবি ﷺ-এর স্ত্রী আয়িশার কাছে আসি। তখন সূর্যগ্রহণ চলছে। এসে দেখি, লোকজন দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছে। আয়িশাও সালাতে দাঁড়ানো। আমি জিজ্ঞাসা করি, 'লোকজনের হয়েছে কী?' সে তার হাত দিয়ে আকাশের দিকে ইশারা করে বলে, 'সুবহানাল্লাহ/ আল্লাহ পবিত্র।' আমি বলি, '(এটি কি কোনও) নিদর্শন?' সে ইশারায় বলে, 'হ্যাঁ!' তখন আমিও (সালাতে) দাঁড়িয়ে যাই। একপর্যায়ে আমার মাথা ঘুরাতে থাকলে, মাথায় পানি ঢালতে থাকি। এরপর আল্লাহর রাসূল ﷺ সালাত শেষ করে আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা করে বলেন,
'ইতঃপূর্বে আমি যা দেখিনি, আমার এ অবস্থান থেকে আমি তা-ই দেখেছি, এমনকি জান্নাত-জাহান্নামও। আমার কাছে এ মর্মে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়-অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ের-পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। অতঃপর ঈমানদার, কিংবা দৃঢ় ঈমানের অধিকারী (বর্ণনাকারী বলেন, আসমা এ দুটি শব্দের কোনটি বলেছিলেন-তা মনে করতে পারছি না), বলবে-'তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা (তাঁর ডাকে) সাড়া দিয়ে ঈমান এনেছি এবং (তাঁর নির্দেশাবলির) অনুসরণ করেছি।' তখন তাকে বলা হবে, 'সুখনিদ্রায় চলে যাও। আমরা ভালোভাবেই জানি, তুমি ঈমানদার ছিলে।'
আর মুনাফিক, কিংবা সংশয়বাদী (বর্ণনাকারী বলেন, আসমা এ দুটি শব্দের কোনটি বলেছিলেন—তা মনে করতে পারছি না), বলবে— 'আমি জানি না। লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছি, আর আমিও তা-ই বলেছি।' "[১]
[১৯] হিশাম ইবনু উরওয়া নিজের সূত্রে যে বর্ণনা পেশ করেছেন, তার শেষে বলা হয়েছে, (নবি বলেন)
وَإِنَّهُ قَدْ أُوحِيَ إِلَيَّ أَنَّكُمْ تُفْتَنُونَ فِي الْقَبْرِ مِثْلَ أَوْ قَرِيبًا مِنْ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ يُؤْتَى أَحَدُكُمْ فَيَقُولُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُحَمَّدُ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ وَالْهُدَى فَأَجَبْنَا وَاتَّبَعْنَا فَيُقَالُ لَهُ نَمْ صَالِحًا إِنْ كُنَّا لَنَعْلَمُ إِنْ كُنْتَ لَتُؤْمِنُ بِهِ وَأَمَّا الْمُنَافِقُ أَوِ الْمُرْتَابُ فَيَقُولُ مَا أَدْرِى سَمِعْتُ النَّاسَ قَالُوا شَيْئًا فَقُلْتُ كَمَا قَالُوا فَيُعَذِّبُ فِي قَبْرِهِ
“আর আমার কাছে এ মর্মে ওহি প্রেরণ করা হয়েছে যে, কবরে তোমাদেরকে মাসীহ্ (ত্রাণকর্তা!) দাজ্জালের পরীক্ষার ন্যায়—অথবা তার কাছাকাছি পর্যায়ের—পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। ফেরেশতা এসে তোমাদের কাছে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে?'
মুমিন বলবে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ ; তিনি আমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছিলেন। অতঃপর আমরা (তাঁর ডাকে) সাড়া দিয়েছি এবং (তাঁর নির্দেশাবলির) অনুসরণ করেছি।' তখন তাকে বলা হবে, ‘সুখনিদ্রায় চলে যাও। আমরা ভালোভাবেই জানি, তুমি তাঁর প্রতি ঈমান এনেছিলে।'
আর মুনাফিক কিংবা সংশয়বাদী বলবে, 'আমি জানি না। লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছিলাম। তারা যা বলেছিল, আমিও তা-ই বলেছিলাম।' অতঃপর তাকে তার কবরে শাস্তি দেওয়া হবে।" [১]
[২০] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جِنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ فَجَلَسَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَجَلَسْنَا حَوْلَهُ كَأَنَّمَا عَلَى رُءُوسِنَا الطَّيْرُ فَجَعَلَ يَرْفَعُ بَصَرَهُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ وَيَخْفِضُ بَصَرَهُ وَيَنْظُرُ إِلَى الْأَرْضِ ثُمَّ قَالَ أَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالَهَا مِرَارًا ثُمَّ قَالَ إِنَّ الْعَبْدَ الْمُؤْمِنَ إِذَا كَانَ فِي قِبَلٍ مِنَ الْآخِرَةِ وَانْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكُ فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَيَقُولُ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْمُطْمَئِنَّةُ إِلَى مَغْفِرَةٍ مِنَ اللَّهِ وَرِضْوَانٍ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ فَتَسِيلُ كَمَا يَسِيلُ قَطْرُ السَّمَاءِ قَالَ عَمْرُو فِي حَدِيثِهِ لَمْ يَقُلْهُ أَبُو عَوَانَةَ وَإِنْ كُنْتُمْ تَرَوْنَ غَيْرَ ذَلِكَ وَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ مِنَ الْجَنَّةِ بِيضُ الْوُجُوهِ كَأَنَّ وُجُوهَهُمُ الشَّمْسُ مَعَهُمْ أَكْفَانُ مِنْ أَكْفَانِ الْجَنَّةِ وَحَنُوطٌ مِنْ حَنُوطِهَا فَيَجْلِسُونَ مِنْهُ مَدَّ الْبَصَرِ فَإِذَا قَبَضَهَا لَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ قَالَ فَتَخْرُجُ نَفْسُهُ كَأَطْيَبِ رِيحٍ وُجِدَتْ فَتَعْرُجُ بِهِ الْمَلَائِكَةُ فَلَا يَأْتُونَ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ فَيُقَالُ فُلَانٌ بِأَحْسَنِ أَسْمَابِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى أَبْوَابِ سَمَاءِ الدُّنْيَا فَيُفْتَحَ لَهُ وَتُشَيّعَهُ مِنْ كُلِّ سَمَاءٍ مُقَرَّبُوهَا حَتَّى يُنْتَهَى بِهِ إِلَى السَّمَاءِ السَّابِعَةِ فَيُقَالُ اكْتُبُوا كِتَابَهُ فِي عِلَيِّينَ ثُمَّ يُقَالُ رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ فَإِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي مِنْهَا خَلَقْنَاكُمْ وَفِيهَا نُعِيدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرَى
قَالَ فَيُرَدُّ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ رُوحُهُ فِي جَسَدِهِ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدًا الانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ فَيَقُولَانِ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَيَقُولُ هُوَ رَسُولُ اللَّهِ فَيَقُولَانِ وَمَا يُدْرِيكَ فَيَقُولُ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ رَبِّنَا فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ قَالَ وَذَلِكَ قَوْلُهُ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِهِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
ثُمَّ قَالَ وَيُنَادِي مُنَادٍ مِنَ السَّمَاءِ أَنْ قَدْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَلْبِسُوهُ مِنَ الْجَنَّةِ وَافْرُشُوهُ مِنْهَا وَأَرُوهُ مَنْزِلَهُ فِيهَا فَيَلْبِسُ مِنَ الْجَنَّةَ وَيُفْرَشُ مِنْهَا وَيَرَى مَنْزِلَهُ فِيهَا وَيُفْسَحُ لَهُ مَدَّ بَصَرِهِ
وَيَمْثُلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ حَسَنِ الْوَجْهِ طَيِّبِ الرِّيحِ حَسَنِ القِيَابِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِمَا أَعَدَّ اللهُ لَكَ أَبْشِرْ بِرِضْوَانٍ مِنَ اللَّهِ وَجَنَّاتٍ فِيهَا نَعِيمُ مُقِيمٌ فَيَقُولُ بَشَرَكَ اللَّهُ بِخَيْرٍ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالْخَيْرِ فَيَقُولُ هَذَا يَوْمُكَ الَّذِي كُنْتَ تُوعَدُ أَنَا عَمَلُكَ الصَّالِحُ فَوَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ سَرِيعًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ بَطِيئًا فِي مَعْصِيَتِهِ فَجَزَاكَ اللَّهُ خَيْرًا فَيَقُولُ يَا رَبِّ أَقِمِ السَّاعَةَ كَيْ أَرْجِعَ إِلَى أَهْلِي وَمَالِي قَالَ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا فَاجِرًا وَكَانَ فِي قِبَل مِنَ الْآخِرَةِ وَانْقِطَاعِ مِنَ الدُّنْيَا جَاءَهُ مَلَكُ فَجَلَسَ عِنْدَ رَأْسِهِ فَقَالَ اخْرُجِي أَيَّتُهَا النَّفْسُ الْخَبِيثَةُ أَبْشِرِي بِسَخَطِ اللَّهِ وَغَضَبِهِ فَتَنْزِلُ مَلَائِكَةٌ سُودُ الْوُجُوهِ مَعَهُمْ مُسُوحٌ فَإِذَا قَبَضَهَا الْمَلَكُ قَامُوا فَلَمْ يَدَعُوهَا فِي يَدِهِ طَرْفَةَ عَيْنٍ قَالَ فَتَفَرَّقُ فِي جَسَدِهِ فَيَسْتَخْرِجُهَا تُقْطَعُ مَعَهَا الْعُرُوقُ وَالْعَصْبُ كَالسَّفُودِ الْكَثِيرِ الشُّعَبِ فِي الصُّوفِ الْمَبْلُولِ فَتُؤْخَذُ مِنَ الْمَلَكِ فَتَخْرُجُ كَأَنْتَنِ رِيحٍ وُجِدَتْ فَلَا تَمُرُّ عَلَى جُنْدٍ فِيمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ إِلَّا قَالُوا مَا هَذِهِ الرُّوحُ الْخَبِيثَةُ فَيَقُولُونَ هَذَا فُلَانٌ بِأَسْوَإِ أَسْمَابِهِ حَتَّى يَنْتَهُوا بِهِ إِلَى السَّمَاءِ الدُّنْيَا فَلَا يُفْتَحُ لَهُ فَيَقُولُ رُدُّوهُ إِلَى الْأَرْضِ إِنِّي وَعَدْتُهُمْ أَنِّي مِنْهَا خَلَقْتُهُمْ وَفِيهَا نُعِيدُهُمْ وَمِنْهَا تُخْرِجُهُمْ تَارَةً أُخْرَى قَالَ فَيُرْمَى مِنَ السَّمَاءِ فَتَلَا هَذِهِ الْآيَةَ
وَمَنْ يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَكَأَنَّمَا خَرَّ مِنَ السَّمَاءِ فَتَخْطَفُهُ الطَّيْرُ أَوْ تَهْوِي بِهِ الرِّيحُ فِي مَكَانٍ سَحِيقٍ
قَالَ فَيُعَادُ إِلَى الْأَرْضِ وَتُعَادُ فِيهِ رُوحُهُ وَيَأْتِيهِ مَلَكَانِ شَدِيدًا الانْتِهَارِ فَيَنْتَهِرَانِهِ وَيُجْلِسَانِهِ فَيَقُولَانِ فَمَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ الَّذِي بُعِثَ فِيكُمْ فَلَا يَهْتَدِي لِاسْمِهِ وَيُقَالُ مُحَمَّدٌ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ ذَلِكَ فَيُقَالُ لَا دَرَيْتَ فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ حَتَّى تَخْتَلِفَ أَضْلَاعُهُ
وَيَتَمَثَّلُ لَهُ عَمَلُهُ فِي صُورَةِ رَجُلٍ قَبِيحِ الْوَجْهِ مُنْتِنِ الرِّيحِ قَبِيحِ الثَّيَابِ فَيَقُولُ أَبْشِرْ بِعَذَابِ اللَّهِ وَسَخَطِهِ فَيَقُولُ مَنْ أَنْتَ فَوَجْهُكَ الْوَجْهُ الَّذِي جَاءَنَا بِالشَّرِ فَيَقُولُ أَنَا عَمَلُكَ الْخَبِيثُ وَاللَّهِ مَا عَلِمْتُكَ إِلَّا كُنْتَ بَطِيئًا فِي طَاعَةِ اللَّهِ سَرِيعًا فِي مَعْصِيَتِهِ
فَيُقَيَّضُ لَهُ أَصَمُّ أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ لَوْ ضُرِبَ بِهَا فِيلٌ صَارَ تُرَابًا أَوْ قَالَ رَمِيمًا فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةٌ تَسْمَعُهَا الْخَلَائِقُ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ فَيَضْرِبُهُ ضَرْبَةً أُخْرَى
'আমরা আল্লাহর রাসূল ﷺ-এর সঙ্গে এক আনসার সাহাবির জানাযার উদ্দেশে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবর খননের কাজ চলছে। এ অবস্থা দেখে আল্লাহর রাসূল ﷺ বসেন। আমরাও তাঁর পাশে এমনভাবে বসে পড়ি, যেন আমাদের মাথার উপর পাখি বসে আছে। তিনি দৃষ্টি উঁচিয়ে আকাশের দিকে তাকাতে থাকেন, তারপর দৃষ্টি নামিয়ে মাটির দিকে তাকান। তারপর বলেন, “কবরের শাস্তি থেকে আমি আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই।” এ কথাটি কয়েকবার বলার পর তিনি বলেন,
“মুমিন বান্দা যখন দুনিয়ার জীবন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আখিরাতের দিকে (রওয়ানা) হয়, তখন একজন ফেরেশতা এসে তার মাথার কাছে বসে বলেন, 'ওহে স্থির আত্মা, বেরিয়ে আসো আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির দিকে।' তখন তার আত্মা এমন (মসৃণ) ভাবে বেরিয়ে যায়, যেভাবে আকাশ থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হয়; যদিও তোমরা ভিন্ন চিত্র দেখতে পাও। (তখন) জান্নাত থেকে শুভ্র-চেহারার ফেরেশতারা নেমে আসেন। তাদের চেহারা সূর্যের ন্যায় (উজ্জ্বল)। সঙ্গে থাকে জান্নাতের বস্ত্র ও সুগন্ধি। তার দৃষ্টিসীমার মধ্যে তারা বসেন। জান কবয করার সময় তারা তা এক মুহূর্তের জন্যও ছাড় দেন না। এ কথাটিই এ আয়াতে বলা হয়েছে, “আমার দূতবর্গ তার মৃত্যু ঘটায়; কোনও অবহেলা করে না।” (সূরা আল-আনআম ৬:৬১)
সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধির ন্যায় তার আত্মা (দেহ থেকে) বেরিয়ে যায়।
তারপর ফেরেশতারা সেটি নিয়ে উপরে উঠেন। আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে তারা যেসব দলের পাশ দিয়ে যান, তাদের প্রত্যেকেই বলে-এ রূহটি কী? বলা হয়, (এটি) অমুক। তারা তাকে সর্বোত্তম নামে উল্লেখ করেন। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খুলে দেওয়া হয় এবং প্রত্যেক আকাশের নৈকট্যশীল ফেরেশতারা তাকে সঙ্গ দেন। এভাবে তাকে সপ্তম আকাশে নিয়ে যাওয়া হলে, বলা হয়-তার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিপিবদ্ধ করে রাখো। তারপর বলা হয়, তাকে পৃথিবীতে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের এই বলে ওয়াদা দিয়েছিলাম- “তোমাদেরকে এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে আমি তোমাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তোমাদের আরেকবার বের করব।” (সূরা ত্ব-হা ২০:৫৫)
তাকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে এনে তার দেহে পুনরায় আত্মা প্রবেশ করানো হয়। অত্যন্ত কর্কশ স্বভাবের দুজন ফেরেশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসান। অতঃপর তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? আর তোমার দ্বীন কী?' সে বলে, 'আমার রব আল্লাহ। আর আমার দ্বীন ইসলাম।' তারপর তারা বলেন, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বল, যাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করা হয়েছিল?' সে বলে, 'তিনি আল্লাহর রাসূল।' তারা জিজ্ঞাসা করেন, 'তুমি কীভাবে জানো?' সে বলে, 'তিনি আমাদের কাছে আমাদের রবের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে এসেছিলেন। আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছি এবং তাঁকে সত্যায়ন করেছি।' আর এটিই হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্য: 'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
(তখন) আসমান থেকে একজন ঘোষণাকারী এভাবে ঘোষণা করেন, 'আমার গোলাম সত্য বলেছে। তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও; তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, আর সেখানে তার আবাসস্থলটি দেখিয়ে দাও।' অতঃপর তাকে জান্নাতের পোশাক পরানো হয়, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছানো হয় এবং সেখানে তার আবাসস্থলটি তাকে দেখিয়ে দেওয়া হয়। তার দৃষ্টি যতদূর প্রসারিত হয়, (কবরটি) তার জন্য ততদূর প্রশস্ত করে দেওয়া হয়।
তার আমল তার সামনে একজন সুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার (পরিধেয়) বস্ত্র সুন্দর ও যার কাছ থেকে সুঘ্রাণ আসতে থাকে। সে বলে, 'আল্লাহ তোমার জন্য যা তৈরি করে রেখেছেন, তার সুসংবাদ নাও। সুসংবাদ নাও আল্লাহর সন্তুষ্টি ও স্থায়ী নিয়ামতবিশিষ্ট জান্নাতের।' সে (অর্থাৎ মুমিন) বলে, 'আল্লাহ তোমাকে কল্যাণের সুসংবাদ দিন! কে তুমি? তুমি তো আমাদের জন্য কল্যাণ নিয়ে এসেছ!' সে বলে, 'আজ সেই দিন, যার প্রতিশ্রুতি তোমাকে দেওয়া হয়েছিল। আমি তোমার সৎকর্ম। শপথ আল্লাহর, তোমার ব্যাপারে আমি কেবল এটুকুই জানি যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে তুমি ছিলে সদা তৎপর, আর তাঁর অবাধ্যতায় তুমি ছিলে অত্যন্ত ধীরগতির। যার ফলে আল্লাহ তোমাকে কল্যাণ দান করেছেন।' সে বলে, 'হে রব, কিয়ামাত ঘটাও, যাতে আমি আমার পরিবার ও ধন-সম্পদের নিকট ফিরে যেতে পারি।'
আর অবাধ্য ও পাপিষ্ঠ ব্যক্তির ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে পরপারে পাড়ি জমানোর সময় এলে, একজন ফেরেশতা এসে তার মাথার পাশে বসেন, এবং তাকে বলেন, 'ওহে নোংরা আত্মা, বেরিয়ে আসো। আল্লাহর রাগ ও ক্রোধের সুসংবাদ লও।' (তখন) কালো চেহারাবিশিষ্ট ফেরেশতারা নেমে আসেন। তাদের সঙ্গে থাকে একখণ্ড খসখসে কাপড়। ফেরেশতা তার জান কবয করার সময় তারা উঠে দাঁড়ান; এক মুহূর্তের জন্যও তারা তাকে তার ছাড় দেন না। আত্মাটি তার দেহে ইতস্তত ছোটাছুটি করতে থাকে। ফেরেশতা তা টেনে বের করেন। এর ফলে তার শিরা-উপশিরা ও স্নায়ু ছিঁড়ে যায়; অনেক শাখাবিশিষ্ট লৌহশলাকা দিয়ে ভেজা তুলার মধ্যে মোচড়ানো হলে যে অবস্থা হয়, অনেকটা সে রকম। অতঃপর ফেরেশতার কাছ থেকে তা গ্রহণ করা হয়। তা থেকে সবচেয়ে বাজে গন্ধ বেরিয়ে আসে।
আকাশ ও পৃথিবীর মাঝখানে তারা যেসব দলের পাশ দিয়ে যায়, তাদের প্রত্যেকেই বলে-এ নোংরা রূহটি কী? বলা হয়, (এটি) অমুক। তারা তাকে সর্বনিকৃষ্ট নামে উল্লেখ করেন। নিকটতম আকাশের দরজাসমূহে পৌঁছার পর, তার জন্য (দরজা) খোলা হয় না। (আল্লাহ) বলেন, 'তাকে পৃথিবীতে নিয়ে যাও, কারণ আমি তাদের এই বলে ওয়াদা দিয়েছিলাম যে, আমি তাদের এখান থেকে সৃষ্টি করেছি, এখানে তাদের ফিরিয়ে দেবো, আর এখান থেকে তাদের আরেকবার বের করব।' তখন তাকে আকাশ থেকে নিক্ষেপ করা হয়। এ কথা বলে তিনি এ আয়াতটি পাঠ করেন, 'যে-ব্যক্তি আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে, সে যেন আকাশ থেকে পড়ে গেল। এখন হয় তাকে পাখি ছোঁ মেরে নিয়ে যাবে অথবা বাতাস তাকে এমন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ছুড়ে ফেলবে, যেখানে সে ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে।' (সূরা আল-হাজ্জ ২২:৩১)
অতঃপর তাকে পৃথিবীতে আনা হয়। তার দেহে পুনরায় রূহ প্রবেশ করানো হয়। অত্যন্ত কর্কশ স্বভাবের দু'জন ফেরেশতা এসে তাকে ধমক দিয়ে বসান। এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো, যাকে তোমাদের কাছে পাঠানো হয়েছিল?' সে তাঁর নামের কোনও দিশা পায় না। বলা হয়, '(ইনি কি) মুহাম্মাদ?' সে বলে, 'আমি জানি না। লোকদের এরূপ বলতে শুনেছি।' তখন বলা হবে, 'তুমি (দুনিয়ায় থাকতে) অনুধাবন করোনি।' অতঃপর তার কবরটি এত সংকীর্ণ করে দেওয়া হয় যে, এর চাপে তার পাঁজরের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে যায়।
তার আমল তার সামনে একজন কুশ্রী মানুষের সুরতে হাজির হয়, যার (পরিধেয়) বস্ত্র নোংরা ও যার কাছ থেকে দুর্গন্ধ আসতে থাকে। সে বলে, 'সুসংবাদ লও আল্লাহর শাস্তি ও ক্রোধের।' সে (অর্থাৎ কাফির) বলে, 'কে তুমি? তুমি তো আমাদের জন্য অনিষ্ট নিয়ে এসেছ।' সে বলে, 'আমি তোমার নোংরা কর্ম। শপথ আল্লাহর, তোমার ব্যাপারে আমি কেবল এতটুকুই জানি যে, আল্লাহর নির্দেশ পালনে তুমি ছিলে অত্যন্ত ধীরগতির, আর তাঁর অবাধ্যতায় তুমি ছিলে সদা তৎপর।’
অতঃপর তাঁর জন্য একজন বধির ও বোবা (কেরেশতা) নিযুক্ত করা হয়। তার সঙ্গে থাকে একটি প্রকাণ্ড লৌহদণ্ড, যা দিয়ে হাতিকে আঘাত করা হলে তা ধুলোয় পরিণত হতো কিংবা (তিনি বলেছেন) ক্ষয়ে যেতো। ফেরেশতা তাকে (ওই লৌহদণ্ড দিয়ে) এমন একটি আঘাত করে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ বাদে সকল সৃষ্টি শুনতে পায়। তার দেহে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হয়, তারপর সে তাকে আরেকটি আঘাত করে।’”১
[২১] যারা ইবনু আবিয়া (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جَنَازَةِ رَجُلٍ مِنَ الأَنْصَارِ فَانْتَهَيْنَا إِلَى الْقَبْرِ وَلَمَّا يُلْحَدْ
‘আমরা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে এক আনসার সাহাবির জানাযার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। কবরের কাছে পৌঁছে দেখি, কবর খনন করা হচ্ছে।’ তারপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা পেশ করেন। (এ ব্যাপারে) আবূ আওয়ানার বর্ণনায় অধিকতর পূর্ণাঙ্গ। আবূ দাউদ (রহঃ) মুমিনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন,
زَادَ فِي رِوَايَةِ جَرِيرٍ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
‘জারীরের বর্ণনায় আরও বাড়তি উল্লেখ রয়েছে যে, এটি হলো নিম্নোক্ত আয়াতের তাৎপর্যঃ
‘যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
আর কাফিরের কথা উল্লেখ করে বলেন,
زَادَ فِي حَدِيثِ جَرِيرٍ قَالَ ثُمَّ يُقَيَّضُ لَهُ أَعْمَى أَبْكَمُ مَعَهُ مِرْزَيَّةٌ مِنْ حَدِيدٍ لَوْ ضُرِبَ بِهَا جَبَلُ لَصَارَ تُرَابًا قَالَ فَيَضْرِبُهُ بِهَا بِضَرْبَةٍ يَسْمَعُهَا مَا بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ فَيَصِيرُ تُرَابًا قَالَ ثُمَّ تُعَادُ فِيهِ الرُّوحُ
'জারীরের বর্ণনায় আরও বাড়তি উল্লেখ রয়েছে—তিনি বলেন, “অতঃপর তার জন্য একজন অন্ধ ও বধির'১' (ফেরেশতা) নিযুক্ত করা হয়। তার সঙ্গে থাকে একটি প্রকাণ্ড লৌহদণ্ড, যা দিয়ে পাহাড়ে আঘাত করা হলে তা ধুলায় পরিণত হবে। ফেরেশতা তাকে (ওই লৌহদণ্ড দিয়ে) এমন একটি আঘাত করে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ বাদে প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সবকিছুই শুনতে পায়। এর ফলে সে ধুলায় পরিণত হয়। তারপর তার দেহে আবার প্রাণ ফিরিয়ে আনা হয়।" [২৯]
[২২] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত। তিনিও বারা ইবনু আযিব এর ন্যায় বর্ণনা পেশ করেছেন। তবে সেখানে উল্লেখ আছে,
قَالَ ارْقُدْ رَقْدَةَ الْمُتَّقِينَ الْمُؤْمِنِينَ وَيُقَالُ لِلْفَاجِرِ ارْقُدْ مَنْهُوشًا قَالَ فَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَلَهَا فِي جَسَدِهِ نَصِيبٌ “তিনি (মুমিনের উদ্দেশে) বলেন, 'আল্লাহ-ভীরু ও বিশ্বাসীর ঘুম ঘুমাও।' আর পাপিষ্ঠকে বলা হয়, 'কষ্টের ঘুম ঘুমাও।' তার দেহে সকল প্রাণীর জন্য অংশ থাকে।”[৩]
[২৩] আয়িশা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَخَلَتْ عَلَى يَهُودِيَّةٌ فَقَالَتْ أَطْعِمِينِي أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ قَالَتْ فَلَمْ أَزَلْ أَحْبِسُهَا حَتَّى جَاءَ النَّبِيُّ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا تَقُولُ هَذِهِ الْيَهُودِيَّةُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا تَقُولُ قُلْتُ تَقُولُ أَعَاذَكِ اللَّهُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ فَرَفَعَ يَدَيْهِ مَدًّا يَسْتَعِيذُ مِنْ فِتْنَةِ الدَّجَّالِ وَفِتْنَةِ الْقَبْرِ ثُمَّ قَالَ
فَأَمَّا الدَّجَّالُ فَإِنَّهُ لَمْ يَكُنْ نَبِيُّ إِلَّا قَدْ حَذَرَ أُمَّتَهُ وَسَأُحَذِّرُكُمُوهُ تَحْذِيرًا لَمْ يُحَذِّرْهُ نَبِيُّ أُمَّتَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ اللَّهَ لَيْسَ بِأَعْوَرَ مَكْتُوبُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرُ يَقْرَأُهُ كُلُّ مُؤْمِنٍ وَأَمَّا فِتْنَةُ الْقَبْرِ فَبِي تُفْتَنُونَ وَعَنِّي تُسْأَلُونَ
فَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ الصَّالِحُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ غَيْرَ فَزِعٍ وَلَا مَشْعُوفٍ فَيُقَالُ لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ فِي الْإِسْلَامِ فَيُقَالُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَآمَنَّا وَصَدَّقْنَا فَيُقَالُ لَهُ هَلْ رَأَيْتَ اللَّهَ فَيَقُولُ مَا يَنْبَغِي لِأَحَدٍ أَنْ يَرَى اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ فَيُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ إِلَى مَا وَقَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى مَا فِيهَا مِنْ زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ هَا هُنَا مَقْعَدُكَ وَيُقَالُ عَلَى الْيَقِينِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مُتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
وَإِذَا كَانَ الرَّجُلُ السُّوءُ أُجْلِسَ فِي قَبْرِهِ فَزِعًا مَشْعُوفًا فَيُقَالُ لَهُ فِيمَ كُنْتَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيُقَالُ مَا هَذَا الرَّجُلُ فَيَقُولُ سَمِعْنَا النَّاسَ يَقُولُونَ فَيُفْرَجُ فُرْجَةٌ قِبَلَ الْجَنَّةِ فَيَنْظُرُ إِلَى زَهْرَتِهَا وَمَا فِيهَا فَيُقَالُ لَهُ انْظُرْ مَا صَرَفَ اللَّهُ عَنْكَ وَيُفَرَّجُ لَهُ فُرْجَةٌ قِبَلَ النَّارِ فَيَنْظُرُ إِلَيْهَا يَحْطِمُ بَعْضُهَا بَعْضًا فَيُقَالُ هَذَا مَقْعَدُكَ ثُمَّ يُقَالُ عَلَى الشَّكِ كُنْتَ وَعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ يُعَذِّبُ
'আমার কাছে এক ইয়াহুদি মহিলা এসে বলে, 'আমাকে কিছু খাবার দিন। আল্লাহ আপনাকে দাজ্জাল ও কবরের পরীক্ষার ব্যাপারে আশ্রয় দেবেন!' নবি ﷺ-এর আগমন পর্যন্ত আমি তাকে আটকে রাখি। তারপর আমি বলি, 'হে আল্লাহর রাসূল! এই ইয়াহুদি মহিলা (এসব) কী বলছে?' আল্লাহর রাসূল বলেন, 'সে কী বলে?' আমি বলি, 'সে বলে—'আল্লাহ আপনাকে দাজ্জাল ও কবরের পরীক্ষা থেকে নিরাপদ রাখুন!' আল্লাহর রাসূল ﷺ দাঁড়িয়ে যান। তারপর দু'হাত উপরে তুলে প্রসারিত করেন, এবং দাজ্জাল ও কবরের শাস্তির ব্যাপারে (আল্লাহর নিকট) আশ্রয় চান। এরপর বলেন, 'এমন কোনও নবি নেই, যিনি দাজ্জালের ব্যাপারে তার উম্মাহকে সতর্ক করেননি। আমি অচিরেই দাজ্জালের ব্যাপারে তোমাদের এমনভাবে সতর্ক করব, যেভাবে কোনও নবি তার উম্মাহকে সতর্ক করেননি। সে একচোখা; আর আল্লাহ কিন্তু একচোখা নন! তার দু' চোখের মাঝখানে লেখা আছে 'কাফির' (খোদাদ্রোহী); প্রত্যেক মুমিন তা পড়তে পারবে। আর কবরের পরীক্ষার বিষয়টি হলো-আমাকে দিয়ে তোমাদের পরীক্ষা করা হবে; আমার সম্পর্কে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে।
ব্যক্তি সৎ হলে তাকে কবরে বসানো হবে। তার মধ্যে কোনও ভয়- ভীতি ও উন্মাদনা থাকবে না। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'কীসের মধ্যে জীবন কাটিয়েছ?' সে বলবে, 'আল্লাহর আনুগত্যে।' জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এই ব্যক্তি কে?' সে বলবে, 'আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ। তিনি আল্লাহর নিকট থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা তাঁর উপর ঈমান এনেছি; তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছি।' তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'আল্লাহকে দেখেছিলে?' সে বলবে, 'আল্লাহ তাআলাকে দেখা কারও পক্ষে সম্ভব নয়।' অতঃপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে দেখবে, জাহান্নামের একটি অংশ অপর অংশকে চুরমার করে ফেলছে। তাকে বলা হবে, 'দেখো, আল্লাহ তোমাকে কী থেকে সুরক্ষা দিয়েছেন!' অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও অন্যান্য অনুগ্রহ দেখতে পাবে। তাকে বলা হবে, 'এখানেই তোমার অবস্থান।' এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি সংশয়মুক্ত জীবনযাপন করেছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর ইন শা আল্লাহ এরই উপর তোমাকে পুনরায় ওঠানো হবে।'
আর খারাপ ব্যক্তিকে কবরে বসানো হবে। সে থাকবে ভীত-সন্ত্রস্ত ও উন্মাদের ন্যায়। তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে, 'কীসের মধ্যে জীবন কাটিয়েছ?' সে বলবে, 'আমি জানি না।' জিজ্ঞাসা করা হবে, 'এই ব্যক্তি কে?' সে বলবে, 'লোকজনকে (কিছু একটা) বলতে শুনেছিলাম।' তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে জান্নাতের সৌন্দর্য ও অন্যান্য অনুগ্রহ দেখতে পাবে। তাকে বলা হবে, 'দেখো, আল্লাহ তোমার কাছ থেকে কী সরিয়ে নিলেন!' এরপর তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি ছিদ্র বা সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সেদিকে তাকালে সে দেখবে, জাহান্নামের একটি অংশ অপর অংশকে চুরমার করে ফেলছে। তাকে বলা হবে, 'এখানেই তোমার অবস্থান।' এরপর তাকে বলা হবে, 'তুমি সংশয়ের মধ্যে জীবনযাপন করেছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর ইন শা আল্লাহ এরই উপর তোমাকে পুনরায় ওঠানো হবে।' তারপর তাকে শাস্তি দেওয়া হবে।' [১]
[২৪] আবূ সাঈদ খুদরি থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
شَهِدْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جِنَازَةً فَقَالَ
يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ هَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَإِذَا الْإِنْسَانُ دُفِنَ فَتَفَرَّقَ عَنْهُ أَصْحَابُهُ جَاءَهُ مَلَكُ فِي يَدِهِ مِطْرَاقٌ فَأَقْعَدَهُ فَقَالَ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَإِنْ كَانَ مُؤْمِنًا قَالَ أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ فَيَقُولُ لَهُ صَدَقْتَ ثُمَّ يُفْرَجُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ فَيَقُولُ هَذَا كَانَ مَنْزِلُكَ لَوْ كَفَرْتَ بِرَبِّكَ فَأَمَّا إِذْ آمَنْتَ بِهِ فَهَذَا مَنْزِلُكَ فَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ فَيُرِيدُ أَنْ يَنْهَضَ إِلَيْهِ فَيَقُولُ لَهُ اسْكُنْ وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ
وَإِنْ كَانَ كَافِرًا أَوْ مُنَافِقًا يَقُولُ لَهُ مَا تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي سَمِعْتُ النَّاسَ يَقُولُونَ شَيْئًا فَقُلْتُ فَيَقُولُ لَا دَرَيْتَ وَلَا تَلَيْتَ وَلَا هُدِيتَ ثُمَّ يُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ هَذَا لَكَ لَوْ آمَنْتَ بِرَبِّكَ فَأَمَّا إِذْ كَفَرْتَ بِهِ فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ أَبْدَلَكَ بِهِ هَذَا وَيُفْتَحُ لَهُ بَابٌ إِلَى النَّارِ ثُمَّ يَقْمَعُهُ بِالْمِطْرَاقِ يَسْمَعُهَا خَلْقُ اللَّهِ كُلُهُنَّ غَيْرَ الثَّقَلَيْنِ
فَقَالَ بَعْضُ الْقَوْمِ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ يَقُومُ عَلَيْهِ مَلَكُ فِي يَدِهِ مِطْرَقَةٌ إِلَّا هِيلَ عِنْدَ ذَلِكَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِيْنَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ
'আমরা আল্লাহর রাসূল -এর সঙ্গে একটি জানাযায় উপস্থিত ছিলাম। তিনি বলেন,
"লোকসকল! এ উম্মাহকে তাদের কবরে পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে। মানুষকে দাফনের পর তার সঙ্গী-সাথীরা চলে এলে, একজন ফেরেশতা তার কাছে আসবে। হাতে থাকবে একটি হাতুড়ি। ফেরেশতা তাকে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো?' মুমিন হলে সে বলবে, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, আর মুহাম্মাদ তাঁর গোলাম ও রাসূল।' সে তাকে বলবে, 'তুমি সত্য বলেছ।' তখন তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। ফেরেশতা বলবে, 'তোমার রবের অবাধ্য হলে, এটি ছিল তোমার ঠিকানা। তুমি যেহেতু তাঁর উপর ঈমান এনেছিলে, তাই তোমার ঠিকানা হলো এটি।' এরপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি সুরঙ্গ সৃষ্টি করা হবে। সে সেখানে দৌড়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। ফেরেশতা তাকে বলবে, 'শান্ত হও।' (তখন) তার জন্য কবরকে প্রশস্ত করে দেওয়া হবে।
আর যদি (কবরবাসী) কাফির বা মুনাফিক হয়, তখন ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলো?' সে বলবে, 'আমি জানি না; লোকদের একটা কিছু বলতে শুনেছি, আর আমিও (তাই) বলেছি।' ফেরেশতা বলবে, 'তুমি (দুনিয়ায় থাকতে) অনুধাবন করোনি এবং (আসমানি কিতাব) পাঠ করোনি, ফলে সঠিক পথের দিশা পাওনি। অতঃপর তার জন্য জান্নাতের দিকে একটি সুরঙ্গ তৈরি করা হবে, এবং তাকে বলা হবে— তোমার রবের প্রতি ঈমান আনলে, এটি তোমার হতো! তুমি যেহেতু আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হয়েছ, তাই তিনি তোমার জন্য এটির বদলে এটি দিয়েছেন। (এ কথা বলে) তার জন্য জাহান্নামের দিকে একটি সুরঙ্গ তৈরি করা হবে। তারপর হাতুড়িটি দিয়ে ফেরেশতা তাকে আঘাত করবে, যার আওয়াজ জিন ও মানুষ ছাড়া আল্লাহর সৃষ্টিকুলের সবাই শুনবে।
এ কথা শুনে কিছু লোক বলে উঠল, 'হে আল্লাহর রাসূল, যে-কোনও ব্যক্তির সামনে একজন ফেরেশতা হাতুড়ি হাতে নিয়ে দাঁড়ালে তো সে তাতে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে! আল্লাহর রাসূল বলেন,
'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
টিকাঃ
[১] বুখারি, ১৩৩৮, ১৩৭৪; মুসলিম, সহীহ, ২৮৭০; নাসাঈ, ৪/৯৭; আবূ দাউদ, ৩২৩১, ৪৭৫২; আহমাদ, ৩/২৩৩。
[১] আবূ দাউদ, ২/৫৩৯; আহমাদ ইবনু হাম্বাল, আল-মুসনাদ, ৩/২৩৩。
[১] বুখারি, ১৩৭৪; মুসলিম, ২৮৭০; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১১১。
[২] মুসলিম, ২৮৭০。
[৩] মুসলিম, ২৮৭০。
[১] বুখারি, ১০৫৩; মুসলিম, ৩/৩২; তানবীরুল হাওয়ালিক, ১/১৯৬; আল-ফাতহুর রব্বানি, ৬/২২১。
[১] মালিক, মুওয়াত্তা, ১/১৮৮(৪); বুখারি, ৮৬, ৯২২; মুসলিম, ৫০৯; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১১৩৮。
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল-ফাতহুর রব্বানী, ৭/৭৪; মাজমাউজ যাওয়ায়েদ, ৩/৪৮৯; আবূ দাউদ, ২/৫৪০১
[২] আবূ দাউদ, সুনান, ২/৫৮১
[১] ফলে সে কবরবাসীর শাস্তি দেখতেও পায় না, শুনতেও পায় না। (অনুবাদক)
[২] আবূ দাউদ তায়ালিসি, মুসনাদ, ৭৪৩; আবূ দাউদ, সুনান, ৪৭৫৩; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৮১。
[৩] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৮。
[১] আক্ষরিক অনুবাদ: 'কীসের মধ্যে ছিলে?'
[১] আহমাদ, আল-মুসনাদ, আল-ফাতহুর রব্বানি, ৮/১১২; সনদটি বিশুদ্ধ। ইবনু মাজাহ, ৪২৬৮; মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৮。
[১] মাজমাউয যাওয়াইদ, ৩/৪৭। তিনি বলেন, 'হাদীসটি আহমাদ ও বায্যার বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাকারীগণ বুখারি ও মুসলিমেও হাদীস বর্ণনা করেছেন।' আল- ফাতহুর রব্বানি, ৮/১০৮。