📄 লেখক পরিচিতি
ইমাম বাইহাকি। যে ক'জন মহান বিদ্বান হাদীস ও ফিক্হ (ইসলামি আইন)- উভয় শাস্ত্রে সমান পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন, তিনি তাঁদের একজন。
পুরো নাম আবূ বাকর আহমাদ ইবনুল হুসাইন ইবনি আলি ইবনি মূসা আল-খুসরাওজিব্দি। জন্ম ৩৮৪ হিজরি/৯৯৪ খৃষ্টাব্দে। জন্মস্থান বাইহাক অঞ্চলের খুসরাওজিব্দ গ্রাম; খোরাসান অঞ্চলের তৎকালীন জেলা নিশাপুর থেকে একটু পশ্চিমে。
জ্ঞানার্জনের উদ্দেশে বহু দেশ সফর করেছেন। শিক্ষকের সংখ্যা শতাধিক। প্রসিদ্ধ শিক্ষকবৃন্দের একজন হলেন 'আল-মুস্তাদ্রাক আলাস্ সহীহাইন' গ্রন্থের লেখক হাকিম নিশাপুরি。
তাঁর লিখিত বই-পুস্তকের সংখ্যা অনেক; খণ্ড সংখ্যা প্রায় এক হাজার। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলির মধ্যে রয়েছে:
* 'আস-সুনানুল কুবরা', ২৪ খণ্ডে সমাপ্ত। এটি তাঁর সেরা কীর্তি। হাদীসের এই বিশদ সংকলন প্রসঙ্গে তাজুদ্দীন সুবকি লিখেছেন, হাদীস শাস্ত্রে এত উৎকৃষ্ট মানের গ্রন্থ আর লেখা হয়নি。
* 'আল-মাদখাল ইলা কিতাবিস সুনান', ২ খণ্ড। 'আস-সুনানুল কুবরা'- এর ভূমিকা। এ গ্রন্থে তিনি জ্ঞান ও জ্ঞানী ব্যক্তিবর্গ সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন。
* 'মা'রিফাতুন সুনান ওয়াল আসার'। শাফিয়ি মাযহাবের আইনগত মতামতের পেছনে যেসব হাদীস রয়েছে, সেসবের সংকলন。
* 'দালাইলুন নুবুওয়াহ', ৭ খণ্ড। নবি ﷺ-এর নুবুওয়াতের প্রমাণাদি সহ সীরাত গ্রন্থ。
* 'শু'আবুল ঈমান', ৯ খণ্ড। ঈমানের বিভিন্ন শাখার বিশদ বিবরণ。
* 'কিতাবুদ দা'ওয়াত আল-কাবীর'। নবি ﷺ-এর দুআসমূহের সংকলন。
* 'ইসবাতু আযাবিল কবর'। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি এরই বাংলা অনুবাদ。
* 'আল-বা'ছ ওয়ান নুশুর'। পুনরুত্থান ও বিচারের বিবরণ。
* 'আহকামুল কুরআন'।
* 'আল-ই'তিকাদ'।
৪৫৮ হিজরিতে/ ১০৬৬ খৃষ্টাব্দে ৭৪ বছর বয়সে নিশাপুরে ইন্তেকাল করেন。
খুসরাওজিব্দ গ্রামে তাঁকে দাফন করা হয়।
📄 বহুলব্যবহৃত চিহ্ন
'সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম'। আল্লাহ তাঁর উপর করুণা ও শান্তি বর্ষণ করুন! (মুহাম্মদ -এর নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'আলাইহিস সালাম'। তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক! (সাধারণত নবিদের নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'আলাইহাস সালাম'/ তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক! (মহীয়সী নারীর নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'আলাইহিমাস সালাম'। উভয়ের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! (দুজন নবির নাম একসাথে এলে, শেষোক্ত নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'আলাইহিমুস সালাম'/ তাঁদের উপর শান্তি বর্ষিত হোক! (দুইয়ের অধিক নবির নাম একসাথে এলে, শেষোক্ত নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'রদিয়াল্লাহু আনহু'/ আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন! (সাহাবির নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'রদিয়াল্লাহু আনহা'/ আল্লাহ তাঁর উপর সন্তুষ্ট হোন! (মহিলা সাহাবির নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'রদিয়াল্লাহু আনহুমা'/ আল্লাহ উভয়ের উপর সন্তুষ্ট হোন! (দুজন সাহাবির নাম একসাথে এলে, শেষোক্ত নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'রদিয়াল্লাহু আনহুম’/ আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন! (দুইয়ের অধিক সাহাবির নাম একসাথে এলে, শেষোক্ত নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
'রদিয়াল্লাহু আনহুন্না'/ আল্লাহ তাঁদের উপর সন্তুষ্ট হোন! (দুইয়ের অধিক মহিলা সাহাবির নাম একসাথে এলে, শেষোক্ত নামের পর ব্যবহৃত হয়।)
📄 মৃত্যু থেকে কিয়ামত
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 প্রশ্নোত্তর পর্বে মুমিনের শান্তি
আল্লাহ তাআলা বলেন,
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ
“যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন; আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।”
(সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
(১) বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, নবি বলেন,
الْمُؤْمِنُ إِذَا شَهِدَ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَعَرَفَ مُحَمَّدًا صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي قَبْرِهِ فَذُلِكَ قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
“মুমিন যখন কবরে সাক্ষ্য দেবে-আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ্ নেই, এবং মুহাম্মাদ-কে চিনতে পারবে, সেটিই হবে নিম্নোক্ত আয়াতের প্রতিফলন- “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।”
(সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [খ]
[২] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল বলেন,
إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا سُبِلَ فِي الْقَبْرِ يَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذُلِكَ قَوْلُ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
“মুসলিমকে কবরে প্রশ্ন করা হলে, সে সাক্ষ্য দেবে—আল্লাহ ছাড়া কোনও ইলাহ নেই, এবং মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল। সেটিই হলো আল্লাহ তাআলার এ কথার তাৎপর্য— “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭) [১]
[৩] আল্লাহ তাআলা বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي صلے الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন; আর যারা জুলুম করে, আল্লাহ তাদের পথহারা করে দেবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
এই আয়াত প্রসঙ্গে বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, إِذَا جَاءَ الْمَلَكُ الرَّجُلَ فِي الْقَبْرِ حِيْنَ يُدْفَنُ فَقَالَ لَهُ مَنْ رَبُّكَ فَقَالَ رَبِّيَ اللهُ فَقَالَ وَمَادِيْنُكَ قَالَ دِيْنِي الْإِسْلَامُ وَقَالَ لَهُ مَنْ نَبِيُّكَ قَالَ نَبِيِّيْ مُحَمَّدٌ فَذَلِكَ التَّثْبِيْتُ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا
“দাফন করার পর, কবরে-থাকা লোকটির কাছে ফেরেশতা এসে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার রব কে?' সে বলবে, 'আমার রব আল্লাহ।' তারপর জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার দ্বীন কী?' সে বলবে, 'আমার দ্বীন ইসলাম।' এরপর তাকে জিজ্ঞাসা করবে, 'তোমার নবি কে?' সে বলবে, 'আমার নবি মুহাম্মাদ []।' সেটিই হলো দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগানো।” [১]
[৪] বারা ইবনু আযিব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ذَكَرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمُؤْمِنَ وَالْكَافِرَ ثُمَّ ذَكَرَ أَشْيَاءَ لَمْ أَحْفَظْهَا فَقَالَ إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا سُبِلَ فِي قَبْرِهِ قَالَ رَبِّيَ اللَّهُ فَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ
"নবি মুমিন ও কাফির সম্পর্কে আলোচনা করার পর কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেন, যা আমি মুখস্থ রাখতে পারিনি। এরপর তিনি বলেন, 'মুমিনকে যখন [তার রব সম্পর্কে] কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে, সে বলবে— 'আমার রব আল্লাহ।' সেটিই হলো আল্লাহ তাআলার নিম্নোক্ত কথার তাৎপর্য— “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)"[য
[৫] আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, تَلَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ فَقَالَ ذَلِكَ إِذَا قِيلَ لَهُ فِي الْقَبْرِ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ اللَّهُ رَبِّي وَالْإِسْلَامُ دِينِي وَمُحَمَّدٌ نَبِي جَاءَنَا بِالْبَيِّنَاتِ مِنْ عِنْدِ اللَّهِ فَآمَنْتُ بِهِ وَصَدَّقْتُهُ فَيُقَالُ صَدَقْتَ عَلَى هَذَا حَيِيتَ وعَلَيْهِ مِتَّ وَعَلَيْهِ تُبْعَثُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ 'আল্লাহর রাসূল এই আয়াতটি পাঠ করেন: “যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদেরকে মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে ও পরকালে শক্তি যোগাবেন।” (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
এরপর তিনি বলেন, 'এটি ওই সময়ের জন্য প্রযোজ্য, যখন তাকে কবরে জিজ্ঞাসা করা হবে-“তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” তখন সে বলবে-“আল্লাহ আমার রব, ইসলাম আমার দ্বীন, আর মুহাম্মাদ আমার নবি; তিনি আল্লাহর কাছ থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণাদি নিয়ে আমাদের কাছে এসেছিলেন। আমরা তাঁর উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছি; তাঁর কথা সত্য বলে মেনে নিয়েছি।" তখন তাকে বলা হবে, "তোমার উত্তর সঠিক। এ কথার উপর তুমি জীবন কাটিয়েছ, এরই উপর তোমার মৃত্যু হয়েছে, আর-ইন শা আল্লাহ-এরই উপর তোমাকে [কিয়ামাতের দিন] ওঠানো হবে।''" [১]
[৬] আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন,
إِذَا حَدَّثْنَاكُمْ بِحَدِيثٍ آتَيْنَاكُمْ بِتَصْدِيقِ ذَلِكَ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ إِنَّ الْمُسْلِمَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ فَقِيلَ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ يَعْنِي وَمَنْ نَبِيُّكَ قَالَ فَيُثَبِّتُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَيَقُولُ رَبِّيَ اللَّهُ وَدِينِيَ الْإِسْلَامُ وَنَبِي مُحَمَّدُ قَالَ فَيُوسَعُ لَهُ قَبْرُهُ وَيَرُوحُ لَهُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا الْآيَةُ وَإِنَّ الْكَافِرَ إِذَا دَخَلَ قَبْرَهُ أُجْلِسَ فِيهِ فَقِيلَ لَهُ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ فَيَقُولُ لَا أَدْرِي فَيَضِيقُ عَلَيْهِ قَبْرُهُ وَيُعَذِّبُ فِيهِ ثُمَّ قَرَأَ عَبْدُ اللَّهِ وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَعْمَى
'আমরা যখন তোমাদের কোনও কথা বলি, তখন এর সমর্থনে আল্লাহ তাআলার কিতাব থেকে প্রমাণ নিয়ে আসি। [মৃত্যুর পর] একজন মুসলিম কবরে প্রবেশ করলে, তাকে সেখানে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” তখন আল্লাহ তাআলা তাকে শক্তি যোগান। ফলে সে বলে- “আমার রব আল্লাহ, আমার দ্বীন ইসলাম, আর আমার নবি মুহাম্মাদ।” তখন তার জন্য কবরটিকে প্রশস্ত করে সুখকর বায়ুপ্রবাহের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।” এরপর তিনি এই আয়াতটি পাঠ করেন- "যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।" (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
"আর একজন কাফির যখন কবরে প্রবেশ করে, তখন তাকে সেখানে বসিয়ে জিজ্ঞাসা করা হয় "তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?” সে বলে, 'আমি জানি না।' তখন তার কবরটি সংকীর্ণ করে দিয়ে সেখানে শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।” তারপর আব্দুল্লাহ (ইবনু মাসউদ) পাঠ করেন- 'আর যে ব্যক্তি আমার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে, তার জন্য হবে সংকীর্ণ জীবন; আর কিয়ামতের দিন আমি তাকে ওঠাবো অন্ধ করে।' (ত্ব-হা ২০:১২৪) [১]
[৭] ইবনু আব্বাস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا قَالَ الْمُخَاطَبَةُ فِي الْقَبْرِ يَقُولُ مَنْ رَبُّكَ وَمَا دِينُكَ وَمَنْ نَبِيُّكَ وَفِي الْآخِرَةِ مِثْلُ ذلِكَ
'যারা ঈমান আনে, আল্লাহ তাঁদের মজবুত কথা দিয়ে দুনিয়ার জীবনে শক্তি যোগাবেন।' (সূরা ইব্রাহীম ১৪:২৭)
-এই আয়াতটি কবরের কথোপকথন প্রসঙ্গে। [ফেরেশতা] জিজ্ঞাসা করবে-'তোমার রব কে? তোমার দ্বীন কী? আর তোমার নবি কে?' আখিরাতেও অনুরূপ [প্রশ্ন করা হবে]।”
টিকাঃ
[১] শক্তি যোগানো কিংবা না যোগানোর বিষয়টি হয়ে থাকে দুনিয়াতে মানুষের অবস্থা অনুযায়ী; সে মুমিন হলে, তাকে শক্তি যোগানো হবে, আর কাফির হলে, আল্লাহ তাকে পথহারা করে দেবেন, ফলে সে সঠিক জবাব খুঁজে পাবে না। তার কারণ হলো, [পরকালীন জীবনে] কেবল সেই আমলই গ্রহণযোগ্য, যা দুনিয়াতে করা হয়েছে। মৃত্যু-পরবর্তী সময়কাল প্রতিদানের জন্য, কাজের জন্য নয়। [ড. শারাফ মাহমূদ]
[২] বুখারি, সহীহ, ১৩৬৯, ৪৬৯৯; বাইহাকি, আল-ই'তিকাদ, ১০৭, ১০৮; মুসলিম, সহীহ, ২৮৭১ (৭৩); নাসাঈ, ৪/১০১, ১০২; ইবনু মাজাহ, ৪২৬৯; আহমাদ, আল-মুসনাদ, ৪/২৯১; আব্দুল্লাহ ইবনু আহমাদ, আস-সুন্নাহ, ১৩৬৪, ১৩৭৮; আবূ দাউদ, ৪৭৫০; বাগাবি, শারহুস সুন্নাহ, ১৫২০; তাবারি, ১৪/১৪২; তিরমিযি, ৩১২০। তিরমিযি বলেন, 'হাদীসটি হাসান সহীহ।'
[১] আবূ দাঊদ, সুনান, ২/৫৩৯; বুখারি, সহীহ, ৪৬৯৯।
[১] ইবনু আবী শাইবা, আল-মুসান্নাফ, ৩/৩৭৭。
[২] হাকিম, আল-মুস্তাদ্রাক, ১/৩৯。
[১] তাবারি, তাফসীর, মাহমূদ শাকির (সম্পা.), ২০৭৬৯; ইবনু কাসীর, তাফসীর, ২/৫৩৪; সুয়ূতি, আদ-দুরুল মানসূর, ৪/৮১。
[১] তাবারি, তাফসীর, ২০৭৭১。
[২] নাসাঈর বরাতে তুহফাতুল আশরাফ, ৫৫১২; তাবারি, তাফসীর, ৩০৭৭৪。