📄 অন্য ধর্মের প্রতি মনোভাব
অন্যধর্মের প্রতি ইহুদির মনোভাব সবসময়ই উন্নাসিকতাদুষ্ট। কখনো কখনো ধৃষ্টাতাপূর্ণ এবং অত্যন্ত নিষ্ঠুর। ঈশ্বরের সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক, ঈশ্বরে বরপুত্র হিসেবে নিজদের তারা বিশেষ এক শ্রেণিভুক্ত গণ্য করে থাকে। একমাত্র ইহুদি মায়ের গর্ভে জন্মগ্রহণ করলেই সেই শ্রেণিভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করা সম্ভব।
তারা মনে করে 'সকল বস্তুর প্রভুর আমরা প্রশংসা করি, সকল মহত্বের অধিকারী সৃষ্টিকর্তা, যিনি আমাদেরকে সকল দেশের সকল জাতি থেকে পৃথক করেছেন, পৃথিবীর অন্যসব পরিবারের মধ্যে আমাদের স্থাপিত করেননি। কারণ অন্যের ভাগ্যের সাথে আমাদের অংশীদার করেননি এবং আমাদের নিয়তি অন্য জনতার সাথে মিলিয়ে দেননি। কারণ তারা অহমিকা ও নিঃসারতার কাছে মাথা নত করে এবং যে দেবতা তাদের রক্ষা করতে পারে না তার কাছে তারা প্রার্থনা করে। অন্নদিকে, আমরা হাটু বাঁকা করি ও প্রণিপাত করি রাজা, রাজাধিরাজ পবিত্র সত্তা বরণ্যের প্রতি... শুধু মহাপ্রভু ব্যতীত অন্য কোরো প্রতি নয়। আমাদের রাজা সত্য, অন্য কেউ নয়।'
ইহুদিগণ নিজদের মধ্যে অ-ইহুদিকে নিন্দে করে যেসব সর্বনাম ব্যবহার করে তার মধ্যে 'gentile' শব্দটি সবচেয়ে ভদ্রসূচক। gentile শব্দটি Latin শব্দ মবহঃরষব থেকে উৎপত্তি হয়েছে। শব্দটির অর্থ হচ্ছে, pagan বা heathen। সহজ বাংলা কথায় পৌত্তলিক বা বিধর্মী। অ-ইহুদিগণকে gentile নামে আখ্যায়িত করা এতো প্রাচীনকাল থেকে চলে আসছে যে এখন সর্বনামটিকে খ্রিস্টানগণ তেমন অপমানজনক মনে করেন। আরেকটি অবমাননাকর সর্বনাম যা ইহুদিগণ-অ-ইহুদি, বিশেষকরে খ্রিস্টানদের বর্ণনা করতে ব্যবহার করেন তা হচ্ছে Goi, বহু বচনে Goim। পৃথিবীতে বাস করে ইহুদি এবং Goim। সাধারণ অর্থে Goim হচ্ছে জাতি। Goi অর্থ মানুষ নয় তবে পশুও নয়। 'Ye are my flock, the flock of my pasture are men ইহুদিগণ মানুষ, অন্যরা Goim। তালমুদ অনুসারে, The seed if a Goi is worth the same of a beast' অর্থাৎ একজন Goi এর বীজ (বীর্য) একটি পশুর বীজের সমমূল্যের। 'The sexual intercourse of a Goi is like that of a beast.' 'একজন Goi এর যৌন সঙ্গম পশুর সঙ্গমের সমতুল।' অ-ইহুদি, বিশেষ করে খ্রিস্টানগণের ক্ষেত্রে আরেকটি যে সর্বনাম ব্যবহার করা হয় তা আরো মারাত্মক। সেটি হচ্ছে 'shektz' স্ত্রী লিঙ্গ shektz। এটি একটি Hebrew 00 যার অর্থ হচ্ছে 'abomination' বা নিদারুণ ঘৃণ্য বা বিভীষিকাজনক ব্যক্তি বা বস্তু। ইহুদি বাইবেলে shekt ব্যবহার করা হয়েছে kashrut অনুসারে অপরিচ্ছন্ন ও অপবিত্র পশু শুকর এর ক্ষেত্রে। অ-ইহুদিগণকে ইহুদিগণ কতটা তাচ্ছিল্য বা ঘৃনার চোখে দেখতে পারে এ থেকেই তা বুঝা যায়। 'The heathen or Goi, was not considered to be on the same moral or socip cultural level as the Jew, and he was to live an animal-like existence.' নৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে বিধর্মী অথবা Goi -কে ইহুদিদের সমপর্যায়ের গণ্য করা হত না এবং সে পশুর পর্যায়েই জীবনযাপন করত বলে মনে করা হত।'
ইসলামধর্মের ব্যাপারে ইহুদি ধমতত্ত্ববিদদের বিরোধিতা ততটা কঠোর নয়। ইসলামের অনুসারীদের বিরুদ্ধে অন্তত পৌত্তলিকা ও বহু ঈশ্বরবাদের অভিযোগ তাদের নেই। ইসলাম পূর্ববর্তী কালে মক্কার কা'বা ঘর পৌত্তলিকতার আখড়ায় পরিণত হবার পূর্ব পর্যন্ত ইহুদিরা আব্রাহামের সম্মানে তার উত্তরাধিকার বঞ্চিত কিন্তু অশীর্বাদপুষ্ট জ্যেষ্ঠ পুত্র ইসমাইলের জন্য প্রতিষ্ঠিত কাবাকে তাদের অন্যতম পবিত্র স্থান হিসেবেগণ্য করত।
পৌত্তলিকতা ও বহু-ঈশ্বরবাদ বর্জনের কারণে ইহুদি ধর্মতত্ত্ববিদগণ ইসলাম সম্পর্কে তুলনামূলকভাবে নমনীয় মনোভাব পোষণ করে। তালমুদের বিধান অনুসারে, ইহুদিক কোনো পৌত্তলিক উপাসনালয় খ্রিস্টানদের গির্জাসহ অতিক্রমকালে মনে মনে এর আশু ধ্বংস কামনা করতে হয় এবং তার নিজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে, ঐ উপাসনালয়ের উদ্দেশ্য অন্তত তিনবার থু থু নিক্ষেপ করতে হয়। মুসলমানদের মসজিদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য নয় বলে রাবাইগণ রায় দিয়েছে। ইহুদিদের দৈনন্দিন তিনবেলা গণ-প্রার্থনায় মূল প্রার্থনা Shemoneh Esrei এর একটি অংশ ধর্মত্যাগীগণ যারা পৌত্তলিকতা অর্থাৎ খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করছে তাদের আশু ধ্বংস কামনা করে একটি প্রার্থনা খ্রি. ১ম শতাব্দী থেকে প্রচলন করা হয়। রাবাইগণ রায় দিয়েছেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণকারী ইহুদিগণ এই অভিসম্পাতের আওতায় পড়ে না। আঙুর রসের মদের বোতলের ছিপি খোলা অবস্থায় কোনো পুতুল-পূজারির (সকল মতবাদের খ্রিস্টানসহ) হাতের ছোঁয়া লাগলে সেই মদ সম্পূর্ণটা ঢেলে ফেলে দিতে হবে, কিন্তু একজন ইসলাম অনুসারীরা ছোঁয়া লাগলে তা ইহুদি পান করতে পারবে না। তবে, তা ফেলে না দিয়ে বিক্রি করতে পারবে।
ইহুদি আইন ব্যবস্থায় (Halakhan) অ-ইহুদিকে কোনো পরিস্থিতিতেই মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ইহুদি বিচারিক প্রক্রিয়াকোন অ-ইহুদির সাক্ষ্য গ্রহণের সুযোগ নেই। কারণ, ধরে নেওয়া হয়েছে যে, অ-ইহুদিগণ জন্মগতভাবে মিথ্যাবাদী। সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন কোনো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য একমাত্র কোনো অ-ইহুদির সাক্ষ্যের ওপর রাবাই আদালতকে নির্ভর করতে হয়। ইহুদি ধর্মীয় আইন অনুসারে, একজন মহিলাকে তখনই বিধবা ঘোষণা করা যাবে এবং সে পুনরায় বিয়ে করতে পারবে, যদি একজন চাক্ষুষ সাক্ষী সাক্ষ্য দেয় যে সে এই মহিলার স্বামীকে মারা যেতে দেখেছে অথবা মৃতদেহ সে সনাক্ত করেছে। সেই চাক্ষুষ সাক্ষী যদি অ-ইহুদি হয় তাহলে বিচারক সরাসরি তাকে জিজ্ঞাসা করে তথ্য দিতে পারবে না। কারণ ধরে নেওয়া হয় যে অ-ইহাদি মিথ্যা সাক্ষ্য দেবে। অ-ইহুদিদের মধ্যে বিবাহের সম্পর্কে ইহুদি আইনে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। তাই ইহুদির সাথে অ-ইহুদির বিবাহ শুধু স্বীকৃতির অযোগ্যই নয় এটা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ।
ইহুদি আইনে কোনো ইহুদিকে হত্যা করা মৃতুদণ্ডযোগ্য অপরাধ, কোনো ইহুদি যদি অন্য কোনো ইহুদির মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী হয় তাহলে আইন অনুসারে সে ঐশ্বরিক আইনে পাপী সাব্যস্ত হবে। এই জন্য তার শাস্তি ইশ্বর দেবেন, কোনো পার্থিব আদালতে তার শাস্তি হবে না। কোনো ইহুদি যদি একজন অ-ইহদিকে হত্যা করে তা হলে সে অজাগতিক আইনে পাপী সাব্যস্ত হবে এবং তার শাস্তি দিতে পারবে একমাত্র ঈশ্বর। সে যদি একজন অ-ইহুদির মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে দায়ী হয় তাহলে তার কোনো পাপও হবে না।
বিবাহিত ইহুদি মহিলা তার স্বামী ব্যতীত অন্য কোনো পুরুষের সাথে যৌনসঙ্গম করলে উভয় পক্ষের জন্যই নিদিষ্ট শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। কিন্তু অ-ইহুদি মহিলাদের ক্ষেত্রে বিষয় অন্যরকম একজন অ-ইহুদি মহিলা বিবাহিতা কি অবিবাহিতা তা মোটেই বিবেচ্য বিষয় নয়, কারণ ইহুদিগণ বৈবাহিক সম্পর্ককে স্বীকৃতি দেয় না। তাই একজন ইহুদি পুরুষ ও অ-ইহুদি মহিলার মধ্যে ব্যভিচারের প্রশ্ন উঠে না। তারমুদ এই ধরনের যৌনসঙ্গমকে পশু গমনের পাপের সমতুল্য বলে গণ্য করে। উল্লেখ্য তৌরিদ প্রদত্ত বিধান অনুসারে, কোনো ইহুদি পুরুষ যদি পশুগমন করে তাহলে সংশ্লিষ্ট পশুটিকে অবশ্যই হত্রা করতে হবে, আর ইহুদি অপরাধীকে বেত্রাঘাত করতে হবে।
তবে অবশ্য ধরে নেওয়া যাবে না যে, একজন ইহুদি পুরুষ ও একজন অ-ইহুদি মহিলার মধ্যে যৌনসম্পর্ক গ্রহণযোগ্য। তা নয়, তবে এই পরিস্থিতিতে মূল শাস্তি হবে মহিলার তাকে অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। এমনকি যদি সেই মহিলা একজন ইহুদি পুরুষের ধর্ষণের শিকারও হয়। 'যদি কোনো ইহুদি অ- ইহুদি নারীর সাথে যৌনসঙ্গম করে সেই নারী তিন বছরের শিশু হোক বা প্রাপ্তবয়স্কা হোক, বিবাহিতা হোক কি অবিবাহিতা, আর সে (ইহুদি পুরুষ) যদি নয় বছর একদিন বয়সের অপ্রাপ্তবয়স্কও হয়, সে যেহেতু ইচ্ছাকৃতভাবে তার (অ-ইহুদি নারী) সাথে সঙ্গম করেছে তাই তাকে (অ-ইহুদি নারী) অবশ্যই পশুর মতই হত্যা করতে হবে কারণ তার মাধ্যমে একজন ইহুদি ঝামেলা পড়েছে। ঐ ইহুদিকে অবশ্য বেত্রাঘাত করতেই হবে। সে যদি ইহুদি পুরোহিত সম্প্রদায়ভুক্ত হয় তাকে দ্বিগুণ বেত্রাঘাত করতে হবে। কারণ সে দ্বিগুণ অপরাধ করেছে। সকল অ-ইহুদি নারীকেই বেশ্যা হিসেবে ধরে নেওয়া হয়।' এখানে অপরাধ হলো, সে একই সাথে পশু গমন ও বেশ্যা গমনের অপরাধ করেছে। উল্লেখ্য বেশ্যাগমন সাধারণ ইহুদিদের জন্য অপরাধ নয়, কিন্তু একজন Kohen -এর জন্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
অ-ইহুদিগণকে উপহার দেওয়ার বিষয়ে ইহুদিদের ওপর তালমুদের নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত স্পষ্ট। অবশ্য মধ্যযুগীয় রাবাই কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা কিছুটা শিথিল করেছে। কারণ প্রাচীনকাল থেকে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উপহার বিনিময় বহুল প্রচলিত প্রথায় পরিণত হয়েছে। এই ধরনের উপহার প্রকৃতপক্ষে ভবিষ্যতে প্রাপ্তির আশায় বিনিয়োগ বলে বিবেচিত হয় তাই ইহুদি ও অ-ইহুদিদের মধ্যে এই ধরনের উপহার বিনিময়কে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু নিস্বার্থভাবে কোনো অ-ইহুদিকে উপহার দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ রয়েছে। ভিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিধান রয়েছে। ইহুদি ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। তবে অ-ইহুদি ভিক্ষুককে ভিক্ষা না দিলে যদি ইহুদিদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে শান্তি রক্ষার খাতিরে তা দেওয়া যেতে পারে। তবে অ-ইহুদি দরিদ্রগণ যাতে ইহুদি ভিক্ষা পাওয়ায় অভ্যস্ত হয়ে না পরে সেদিকে সতর্ক থাকার জন্য রাবচাই কর্তৃপক্ষের বহু উপদেশ রয়েছে।
যদি কোনো ইহুদি সম্ভাব্য কোনো ইহুদির হারাসোর সম্পত্তি পায় তাহলে তার মালিক খুঁজে বের করার জন্য তাকে বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ যেমন, বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে মর্মে কঠিন নিদের্শ দেওয়া আছে। অপরদিকে, পাওয়া সম্পদের মালিক যদি অ-ইহুদি হয় সেই ক্ষেত্রে তালমুদ ও অন্যান্য রাবাই কর্তৃপক্ষের নির্দেশহল, পাওয়া সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে হবে এবং তা ফিরিয়ে দেওয়া যাবে না। কোনো ইহুদিকে প্রতারণা করা মহাপাপ। অ-ইহুদিদের বেলায় সরাসরি প্রতারণা করা নিষেধ। যদি ইহুদির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে অ-ইহুদির সাথে পরোক্ষ প্রতারণায় অসুবিধা নেই। এই ধরনের প্রকৃষ্ট উদাহরণ হচ্ছে কেনা-বেচার হিসাব করার সময় যদি কোনো ইহুদি নিজেরপক্ষে ভুল করে তাহলে অপর পক্ষের ধর্মীয় কর্তব্য হচ্ছে সেই ভুল ধরিয়ে দেওয়া এবং সঠিক হিসাব অনুসারে লেনদেন করা। কিন্তু অপর পক্ষ যদি অ-ইহুদি হয় তাহলে তার ভুল ধরিয়ে দেওয়া ইহুদির দায়িত্ব নয়। পাছে পরবর্তীকালে ক্ষতিগ্রস্ত অ-ইহুদি তার ভুল বুঝতে পেরে ইহুদির প্রতি মারমুখি হয় তাই এই পরিস্থিতিতে 'আপনার হিসাবের ওপরই আমি নির্ভর করছি' বলে লেনদেন সমাপ্ত করতে উপদেশ দেওয়া হয়েছে। বেচা-কেনার ক্ষেত্রে কোনো ইহুদির সাথে প্রবঞ্চনা করা মহাপাপ, কারণ তৌরিদে এটা কঠোরভাবে নিষেধ করা আছে। কিন্তু কোনো অ-ইহুদির ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয়।
সহিংসতা ব্যতীত চুরি সকল ক্ষেত্রেই নিষিদ্ধ, এমনকি এর শিকার যদি অ-ইহুদিও হয়। কোনো ইহুদির ওপর ডাকাতি করা (সহিংস) সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ। কিন্তু অ-ইহুদির ওপর সহিংস ডাকাতি করা যাবে কিনা তা নির্ভর করবে ডাকাতির শিকার অ-ইহুদি শাসনাধীন কিনা তার ওপর। তালমুদ অনুসারে, সেই অ-ইহুদি যদি ইহুদি শাসনাধীন হয় তাহলে ডাকাতি করা কোনো অপরাধ নয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাবাই কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিতর্ক আছে। তবে বিতর্ক হচ্ছে ঠিক কি পরিস্থিতিতে অ-ইহুদিকে ডাকাতির শিকার করা যাবে তার খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে, বিশ্বজনীন বিচারের ধারণা এবং মানবিকতার বিবেচনায় এরূপ ডাকাতি কতটুকু অনুমোদনযোগ্য সেই বিষয় নিয়ে নয়।
📄 ইহুদিদের স্বপ্ন
পৃথিবীর প্রধান প্রবীন ধর্মের অনুসারীদের ইহুদি ধর্মের এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের কর্ণধার বিশ্ব জয়ের স্বপ্ন দেখে স্বপ্ন বাস্তবায়নে তারা সবকিছু করতে প্রস্তুত ইউএস ব্যুরো অব সেন্সাসের বিশ্ব জনসংখ্যা ঘড়ি অনুসারে, ২০১২ সালের ৯ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে পৃথিবীর জনসংখ্যা ছিল আনুমানিক ৭০৫ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৩ হাজার ৪৯৮ জন। এর মদ্যে ইহুদি জনসংখ্যা ১ কোটি ৪০ লক্ষ। গণনাকালে অনেকেই আবার নিজের ধর্ম পরিচয় ঘোষণা করতে চান না। ইহুদি জনসংখ্যা পৃথিবীর জনসংখ্যার, ২০ শতাংশ বা প্রতি হাজারে ২ জন। সেই তুলনায় পৃথিবীর মুসলমানের সংখ্যা ১৬০ কোটি।
সংখ্যার দিক থেকে ইহুদিরা পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র ধর্মীয় গোষ্ঠী। কিন্তু ইতিহাস জুড়ে, বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা বিশ্বের ইতিহাসে এই ধর্মের অনুসারীদের বিচিত্র ভূমিকায় উপস্থিতি কখনোই তাদের সংখ্যার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ইউরোপ জুড়ে হিটলারের নেতৃত্বে ইহুদি নিধনযজ্ঞে পরিণত হয় যা ইতিহাসে 'হলোকস্ট' নামে পরিচিতি লাভ করে। হিটলারের পতনের পর ইহুদিগণ যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী ইহুদিগোষ্ঠী ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্রত্যক্ষ সহায়তার অধিকাংশ আরব অধিবাসীদের বহিষ্কার করে প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা করে। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকালেও প্যালেস্টাইনে ইহুদি জনসংখ্যা প্যালেস্টাইনের মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়ায়শ এবং এতদঞ্চলের আরব অধিবাসীদের সংখ্যার এক শতাংশেরও কম ছিল।
ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্ব রাজনৈতিক মঞ্চে ইহুদিদের উত্থান মধ্যপ্রাচ্য তথা ইসলামি জগতে এমন এক উত্তেজক উপাদান সৃষ্টি হয়েছে যা বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ হতে অদ্যাবধি এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতি এবং বহু ক্ষেত্রে বহমান আধুনিক বিশ্বের প্রায় সকল ক্ষেত্র-জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিল্প, সাহত্যি, দর্শন, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রশাসন, সমর-শক্তিতে ইহুদিদের অতুলনীয় অর্জনে। এই অর্জনকে দক্ষতার সাথে প্রয়োগ করে ইহুদিগণ বিশ্বের একমাত্র পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের জাতীয় লক্ষ্য অর্জনে বিশ্বস্ত সহায়ক হিসেবে পাওয়া নিশ্চিত করতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও রাজনীতিতে ইহুদিদের অবস্থানের জরিপ, সে যত ছোট আকারেই হোক, এবং সে অবস্থানের কার্যকরণের কিছু বিশ্লেষণ ব্যতীত বিশ্ব-মঞ্চে ইহুদিদের অতীত ও বর্তমান অবস্থান সম্যক অনুধাবন করা কঠিন। এবং দিনকে দিন তা বেড়েই চলেছে।
১৯০১ সালে নোবেল পুরস্কার শুরু হওয়ার পর থেকে ১১২ বছরে মোট যে ৮৫০ জন এই বিরল সম্মান পেয়েছেন তার মধ্যে ১৭৭টি ইহুদি। নোবেলের ইতিহাসে মোট ৯ জন মুসলিম এই সম্মান পেয়েছেন, হিন্দু পেয়েছেন ৬ জন, খ্রিষ্টান পেয়েছেন ৬৩৭ জন এবং বৌদ্ধ অন্যান্যরা পেয়েছেন ২১ জন।
জনসংখ্যা ও নোবেল প্রাপ্তির সংখ্যার তুলনা করা হলে ইহুদিরা মুসলিমদের ২২২২ গুণ, হিন্দুদের ২০৯৪ গুণ, খ্রিস্টানদের ৫৬৫ গুণ বেশি নোবেল পুরস্কার পেয়েচেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যে এযাবত যতজন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাদের ৪০ শতাংশই ইহুদি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি জনসংখ্যা ইসরায়েল রাষ্ট্রের ইহুদি জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা ৩১.৫ কোটি। এর মধ্যে ইহুদির সংখ্যা আনুমানিক ৫৪ লক্ষ, যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ১.৭ শতাংশ। কিন্তু ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ক্ষেত্রে ইহুদিদের অবস্থান ঈর্ষণীয়। 'ফোর্বস' সাময়িকীর হিসাব অনুসারে, ২০১২ সালে আমেরিকার ৫০ জন সবচেয়ে ধনী মানুষের মধ্যে ২০ জন্য ইহুদি;। দেশের অর্থনীতির নিয়ন্ত্রক বৃহত্তম আর্থিক ও ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের প্রায় একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে। আরেকটি বিষয় হল ইহুদিরা সাধারণ সেসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হয়ে থাকেন যে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ইহুদিদের হাতে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ইহুদি নিয়ন্ত্রণ পরিমাপের তুলনায় গণমাধ্যমে ইহুদি নিয়ন্ত্রণ পরিমাপ করা তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রে রেডিও, টেলিভিশন সম্প্রচার, পত্র-পত্রিকা পরিচালনা ও প্রকাশনা, চলচ্চিত্র নির্মাণ, প্রযোজনা ও বিতরণ এবং পুস্তক ও সাময়িকী প্রকাশনা সংস্থার সংখ্যা ও এসকল সংস্থার মালিকানা কাদের হাতে তা বের করা মোটেই কঠিন নয়। বলা হয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচার ও গণ-বিনোদনের মাধ্যমে পাঁচটি বড় কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। এই কোম্পানিগুলো হল ওয়াল্ট ডিজনি কোম্পানি, টাইম ওয়ার্নার কর্পোরেশন, (ভিডিও এন্ড অডিও কমিউনিকেশনস) কর্পোরেশন, নিউজ কর্পোরেশন, সনি কর্পোরেশন অব আমেরিকা। ওয়াল্ট ডিজনি কর্পোরেশনের পরিধি সর্ববৃহৎ। এই কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন রবার্ট এ, আইগার। ইনি একজন ইহুদি। এই পদে তার পূর্বসূরী ছিলেন মাইকেল আইজনার। তিনিও ছিলেন ইহুদি। এই কর্পোরেশনের অধীন রয়েছে আমেরিকান ব্রডকাস্টিং কোম্পানি (এবিসি)। এবিসি এর ৭টি নিজস্ব টেলিভিশন স্টেশন ও ২২৫টি এফিলিয়েট। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ইহুদিরা যখন যুক্তরাষ্ট্রের বড় অর্থনৈতিক গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয় তখন থেকেই প্রচারমাধ্যমের ওপর ইহুদিদের কর্তৃত্ব বাড়তে থাকে। যে সকল পত্র পত্রিকা প্রথমত-অ ইহুদিরা শুরু করেছিল সেগুলো ক্রয়ের মাধ্যমে ইহুদিরা তাদের নিয়ন্ত্রণের আওতা বাড়াতে থাকে। রেডিও- টেলিভিশনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া চলে। প্রচারমাধ্যমে অ-ইহুদিদের উপস্থিতি কমতে থাকে। মূলত ইহুদি নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা ও রেডিও-টেলিভিশন নেটওয়ার্ক ঠিক করে কোনোটি খবর ও কোনোটি খবর নয়। অন্যরা তা অনুসরণ করে। যারা ইহুদি লাইনের বাইরে অথবা তার বিপরীতে খবর বা মতামত প্রকাশ করতে উৎসাহ দেখায় তারা যেন বেশি দিন টিকে থাকতে না পারে সে ব্যবস্থা করে ইহুদি ব্যবসায়ীরা, যারা বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ করে। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে দূরবর্তী ক্ষুদ্র কমিউনিটি পর্যায়ে খবর-মাধ্যমে একই নিয়ন্ত্রণ কাজ করে। রিপোর্টং, পরিবেশনা ও মতামত প্রকাশে ইহুদি সংবেদনশীলতার দিকে খেয়াল রাখতে বাধ্য থাকে। ছোট ছোট পত্রিকাগুলোর তাদের শহর বা কমিউনিটির বাইরে খবর সংগ্রহের সংগঠন বা আর্থিক সামর্থ থাকে না। তারা বাস্তব কারণে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক খবরের জন্য বৃহৎ পত্রিকা কোম্পানি ও নিউজ এজেন্সির ওপর নির্ভর করে। তাই তারা নামে 'স্বাধীন' হলেও কার্যত ইহুদি নিয়ন্ত্রিত পত্রিকা কোম্পানির লাইন অনুসরণ করে।
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি অভিবাসন ষোড়শ শতাব্দীতে শুরু হয়েছিল। কিন্তু এই দেশটির রাজনীতিতে ইহুদিদের আগ্রহ বৃদ্ধি পায় দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে যখন ব্রিটিশ সরকার প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করে নেয় তখনই ইহুদিরা সিদ্ধান্ত নেয় যে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও সেটাকে টিকিয়ে রাখতে হলে যে কোনো উপায়েই হোক তাদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের জোরালো সমর্থন আদায় করতে হবে এবং সেই সমর্থন অব্যাহত রাখা নিশ্চিত করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ক্ষেত্রে ইহুদিদের প্রাধান্য খুবই দৃশ্যমান। প্রথমটি হচ্ছে গণমাধ্যম ও দ্বিতীয়টি রাজনীতি। এই দুটি ক্ষেত্রে ইহুদিদের প্রাধান্য আপাতদৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য নাগরিকদের যতটা উৎকণ্ঠার কারণ তার চেয়ে বেশি উৎকণ্ঠার কারণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশ বিশেষকরে মুসলিম দেশগুলোর জন্য। মধ্যপ্রাচ্যের তথা মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সবসময় একটি অন্তরায় হিসেবে কাজ করে। ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ সম্পর্ক ইসরায়েলকে তার প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সাথে দুঃসাহসী আচরণে প্ররোচিত করে। বিশ্ব জনমত উপেক্ষা করে প্যালেস্টাইনিদের মৌলিক অধিকার যথেচ্ছ লঙ্ঘন করতে সামান্যতম দ্বিধা অনুভব করে না। আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে অধিকৃত প্যালেস্টাইনে যেখানে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপন করে যাচ্ছে এবং তা থামানোর কার্যকর কোনো আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেই। যখন তখন যে কোনো মুসলিম দেশের ওপর আগ্রাসন চালাতে ইসরায়েলকে অগ্র-পশ্চাৎ ভাবতে হয় না। ১৯৮১ সালে বাগদাদের কাছে ইরাকের ওসিরাক পারমাণবিক চুল্লি চালু করার পূর্বেই ইসরায়েল তা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল এক রাতে বিমান হামলা চালিয়ে। এই হামলা চালাতে আরো দুটি আরব রাষ্ট্র—জর্ডান ও সৌদি আরবের আকাশসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছিল। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর এমন হামলা ও অপর দুটি রাষ্ট্রের আকাশসীমা লঙ্ঘন করার অপরাধে জাতিসংঘ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেটোর কারণে। এই কিছুদিন আগে ইসরায়েল সুদানের একটি গোলা-বারুদ কারখানায় বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করেছে। সুদানের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধাবস্থা নেই। ইহুদি নিয়ন্ত্রিত তথা আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যম এটা নিয়ে কোনো হৈ-হুল্লোড় করেনি। আন্তর্জাতিক সমাজ এটা ধরে নিয়েছে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরায়েল এ আচরণই করবে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ইসরায়েল ধ্বংস করে দেবে এটাই স্বাভাবিক। আন্তর্জাতিক আইনে এর বৈধতা কতটুকু আছে তা দেখার কোনো প্রয়োজন নেই। ইসরায়েল পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভার গড়ে তুলেছে এটা নিয়ে বিশ্ব প্রচারমাধ্যমে কোনো হৈ চৈ নেই। রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের মুখে আমেরিকানরা নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারলেও ইরানের কাল্পনিক পারমাণবিক অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের জীবন-মরণ হুমকি সৃষ্টি করবে এমন অদ্ভুত ধারণা ইহুদি নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যম অধিকাংশ আমেরিকানদের মনে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছে।
অনেকেই মনে করেন, বিশ্বে ইহুদিদের উত্থান স্বাভাবিক সামাজিক বিবর্তনের ফল নয়। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ইহুদিদের গভীর ষড়যন্ত্রের ফসল। উনবিংশ শতাব্দীর শেষের দশকে একটা রহস্যময় পরিবেশে নামে একটি দলিল প্রথমে সীমিত আকারে ও পরে প্রকাশ্যে বই আকারে প্রচারিত হয়। বইটিতে সমগ্র পৃথিবীতে ইহুদিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কথিত নীলনক্সা প্রণয়নের জন্য জায়নবাদী (বিশ্ব ইহুদিবাদী) নেতাদের গোপন বৈঠকগুলোর কার্যবিবরণী হিসেবে প্রকাশ করা হয়। বইটিতে বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বিশ্ব সরকার প্রতিষ্ঠার যে কৌশল অবলম্বনের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে অ-ইহুদি সমাজে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটানো, অর্থনীতি ও গণমাধ্যমে ইহুদি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা, বিশ্ব অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে বিশ্বযুদ্ধের সূচনা করা, সন্ত্রাসী কার্যকলাপের মাধ্যমে সামাজিক যোগসূত্রকে ছিন্ন-ভিন্ন করে ইহুদি মসীহ্ এর নেতৃত্বে বিশ্বা সরকার গঠনের পথ সুগম করা ইত্যাদি। বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে ইউরোপ ও আমেরিকার ইহুদিবিরোধী মনোভাব সৃষ্টিতে বইটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। হিটলার এই বইটিকে ইহুদি ষড়যন্ত্রের প্রধান হিসেবে তুলে ধরে জার্মানদের মধ্যে ইহুদিবিরোধী মনোভাব সৃস্টি করতে সফল হয়েছিলেন। অবশ্য বইটি যে সম্পূর্ণ ভুয়া, জালিয়াতি ও ইহুদিবিরোধীদের ষড়যন্ত্রের ফলস এটা প্রমাণিত হয়েছে।
বিশ্ব নিয়ন্ত্রণে ইহুদি মহা পরিকল্পনা থাকুক কি না থাকুক বিংশ শতাব্দীর ইতিহাসের গতিধারা-প্রথমে মহাযুদ্ধের আগে বিশ্ব-বাণিজ্য ব্যবস্থার অরাজকতা, প্রথম মহাযুদ্ধ, প্রথম মহাযুদ্ধের পর লীগ অব ন্যাশনস প্রতিষ্ঠা, বিশ্ব, মহামন্দা, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ, জাতিসংঘ, বিশ্বব্যাংক, আইএমএফর প্রতিষ্ঠা, ইহুদি রাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রতিষ্ঠা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, নাফটা ওয়ার্লড ট্রেড অর্গানাইজেনশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা গঠন- সচেতন বা অবচেতন 'প্রটোকল-এর মহা পরিকল্পনার' পথে পৃথিবীতে ধাপে ধাপে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও বিশ্ব অর্থ ব্যবস্থার ওপর ইহুদি প্রভাব, যুক্তরাষ্ট্রের তথা বিশ্ব গণমাধ্যমে ইহুদি আধিপত্য এবং বিশ্ব জনতম সৃষ্টিতে তার অভিঘাত এই সত্য প্রতিষ্ঠিত করে যে বিশ্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ইহুদি মাত্রা কোনো পরিমাপেই অবহেলার বিষয় নয়। তারা যে কোনো উপায়ে শ্রেষ্ঠত্বে পরিণত হতে চায়।
📄 জেরুজালেম
আধুনিক জেরুজালেম শহরের অভ্যন্তরে অবস্থিত ০.৯ বর্গ কিমি. (০.৩৫ বর্গ মাইল) আয়তন বিশিষ্ট দেয়ালঘেরা অঞ্চল। ১৮৬০ সালে মিশকেনট শানানিম নামক ইহুদি বসতি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অঞ্চলটি নিয়েই জেরুজালেম শহর গঠিত ছিল। পুরনো শহরটি ধর্মীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থানের অবস্থানস্থল, যেমন মুসলিমদের কাছে ডোম অব দ্য রক ও আল-আকসা মসজিদ, ইহুদিদের কাছে টেম্পল মাউন্ট ও পশ্চিম দেয়াল এবং খ্রিষ্টানদের কাছে চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৮১ সালে এই অঞ্চলটি ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়。
প্রথাগতভাবে পুরনো শহরটি চারটি অসমান অংশে বিভক্ত। তবে বর্তমান অবস্থাটি ১৯ শতক থেকে চালু হয়েছে। বর্তমানে শহরটি মোটামোটিভাবে মুসলিম মহল্লা, খ্রিষ্টান মহল্লা, ইহুদি মহল্লা ও আর্মেনীয় মহল্লা নামক ভাগে বিভক্ত। ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর পুরনো শহরটি জর্ডান কর্তৃক অধিকৃত হয় এবং এর ইহুদি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করা হয়। ১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে টেম্পল মাউন্টের উপর দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি লড়াই হয়। এসময় ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমের বাকি অংশসহ পুরনো শহর দখল করে নেয় এবং পশ্চিম অংশের সাথে একীভূত করে পুরো এলাকাকে ইসরায়েলের অন্তর্গত করে নেয়া হয়। এখনো এ এলাকাটি ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন রয়েছে এবং তারা একে ইসরায়েলের জাতীয় রাজধানী হিসেবে বিবেচনা করে। ২০১০ সালে জেরুজালেমের সর্ব প্রাচীন লেখার নমুনা পুরনো শহরের দেয়ালের বাইরে পাওয়া যায়। ১৯৮০ সালের জেরুজালেম আইন নামক আইন যেটিতে পূর্ব জেরুজালেমকে কার্যকরভাবে ইসরায়েলের অংশ ঘোষণা করা হয় তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ প্রস্তাব ৪৭৮ দ্বারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পূর্ব জেরুজালেমকে অধীকৃত ফিলিস্তিনি অঞ্চলের অংশ হিসেবে গণ্য করে।
[বাইবেল অনুযায়ী, খ্রিষ্টপূর্ব ১১শ শতকে রাজা দাউদের (দাউদ আঃ) জেরুজালেম জয়ের পূর্বে শহরটি জেবুসিয়দের বাসস্থান ছিল। বাইবেলের বর্ণনা মতে এই শহর মজবুত নগর প্রাচীর দ্বারা সুরক্ষিত ছিল। রাজা দাউদ কর্তৃক শাসিত শহর যেটি দাউদের শহর বলে পরিচিত তা পুরনো শহরের দেয়ালের দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত। তাঁর পুত্র রাজা সুলায়মানের (সুলাইমান আঃ) শহরের দেয়াল সম্প্রসারিত করেন। ৪৪০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে পারস্য আমলে নেহেমিয়া ব্যবিলন থেকে ফিরে আসেন ও এর পুনর্নিমাণ করেন। ৪১-৪৪ খ্রিষ্টাব্দে জুডিয়ার রাজা আগ্রিপ্পা "তৃতীয় দেয়াল” নামক নতুন নগর প্রাচীর নির্মাণ করেন।
৭ম শতকে (৬৩৭ সালে) খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাবের শাসনামলে মুসলিমরা জেরুজালেম জয় করে। খলিফা উমর একে মুসলিম সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করে নেন। তিনি শহরের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তিবদ্ধ হন। জেরুজালেম অবরোধের পর সফ্রোনিয়াস খলিফা উমরকে স্বাগতম জানান। কারণ জেরুজালেমের চার্চের কাছে পরিচিত বাইবেলের একটি ভবিষ্যতবাণীতে "একজন দরিদ্র কিন্তু ন্যায়পরায়ণ ও শক্তিশালী ব্যক্তি” জেরুজালেমের খ্রিষ্টানদের রক্ষক ও মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হবেন এমন উল্লেখ ছিল। সফ্রোনিয়াস বিশ্বাস করতেন যে সাদাসিধে জীবনযাপনকারী বীর যোদ্ধা উমর এই ভবিষ্যতবাণীকে পূর্ণ করেছেন। আলেক্সান্দ্রিয়ার পেট্রিয়ার্ক ইউটিকিয়াসের লেখা, উমর চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার পরিদর্শন করেন ও উঠোনে বসেন। নামাজের সময় হলে তিনি চার্চের বাইরে গিয়ে নামাজ আদায় করেন যাতে পরবর্তীতে কেউ তার নামাজের কারণকে ব্যবহার করে পরবর্তীকালে কেউ এই চার্চকে মসজিদে রূপান্তর না করে। তিনি এও উল্লেখ করেন যে উমর একটি আদেশনামা লিখে তা পেট্রিয়ার্ককে হস্তান্তর করে। এতে উক্ত স্থানে মুসলিমদের প্রার্থনা করতে নিষেধ করা হয় বলে ইউটিকিয়াস উল্লেখ করেন। ১০৯৯ সালে প্রথম ক্রুসেডের সময় ইউরোপীয় খ্রিষ্টান সেনাবাহিনী জেরুজালেম দখল করে এবং ১১৮৭ সালের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবী কর্তৃক তা বিজিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এতে তাদের কর্তৃত্ব বহাল ছিল। তিনি ইহুদিদেরকে শহরে বসবাসের অনুমতি দেন। ১২১৯ সালে দামেস্কের সুলতান মুয়াজ্জিম নগরের দেয়াল ধ্বংস করেন। ১২৪৩ সালে মিশরের সাথে চুক্তি অনুযায়ী জেরুজালেম জার্মানির দ্বিতীয় ফ্রেডেরিখের হস্তগত হয়। ১২৩৯ সালে তিনি দেয়াল পুনর্নিমাণ করেন। কিন্তু কেরাকের আমির দাউদ সেগুলোকে ধ্বংস করে দেন। ১২৪৩ সালে জেরুজালেম পুনরায় খ্রিষ্টানদের দখলে আসে এবং দেয়ালগুলো সংস্কার করা হয়। ১২৪৪ সালে খোয়ারিজমিয় তাতাররা শহরটি দখল করে এবং সুলতান মালিক আল-মুয়াত্তাম নগর প্রাচীর ভেঙে ফেলেন। ফলে শহর আবার প্রতিরক্ষাহীন হয়ে পড়ে এবং শহরের মর্যাদা হুমকির মুখে পড়ে।
বর্তমান দেয়ালগুলো ১৫৩৮ সালে উসমানীয় সাম্রাজ্যের সুলতান প্রথম সুলাইমান কর্তৃক নির্মিত হয়। দেয়ালগুলো প্রায় ৪.৫ কিমি. (২.৮ মাইল) দীর্ঘ ও ৫ থেকে ১৫ মিটার (১৬ থেকে ৪৯ ফুট) পর্যন্ত উঁচু এবং ৩ মিটার (১০ ফুট) পুরু)। সব মিলিয়ে পুরনো শহরে মোট ৪৩টি প্রহরা টাওয়ার ও ১১ টি গেট আছে। এদের মধ্যে সাতটি বর্তমানে উন্মুক্ত। শহর ভূখণ্ডটির দৈর্ঘ ১৫০ মাইল ও প্রস্ত ১০০ মাইল। ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর দক্ষিণ-পূর্ব কোনে এর অবস্থান। শীত, গ্রীষ্ম ও বসন্তের আমেজ তীব্রভাবে অনুভূত হয়। খ্রিস্টপূর্ব ৫ হাজার বছর আগে এখানে মানুষের বাস ছিল। জেরুজালেমকে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে বর্ণাঢ্য নগরী। পুরনো শহরটিকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য ১৯৮০ সালে জর্ডান প্রস্তাব করে। ১৯৮১ সালে এটিকে তালিকাভুক্ত করা হয়।
মুসলিম মহল্লা: মুসলিম মহল্লা হল চারটি মহল্লার মধ্যে সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে জনবহুল অংশ। এটি উত্তর পূর্ব কোণে অবস্থিত। পূর্বে সিংহ দরজা থেকে শুরু করে টেম্পল মাউন্টের উত্তর দেয়াল নিয়ে পশ্চিমে দামেস্ক পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। ২০০৫ সালে এখানে ২২,০০০ জন বসবাস করত। অন্য তিনটি মহল্লার মত মুসলিম মহল্লাতেও ১৯২৯ এর দাঙ্গার আগ পর্যন্ত মুসলিমদের পাশাপাশি ইহুদি ও খ্রিষ্টানরা বসবাস করত। বর্তমানে ৬০ টি ইহুদি পরিবার এখানে বসবাস করে এবং এখানে কয়েকটি ইয়েশিভা রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হল আটেরেট কোহানিম।
খ্রিষ্টান মহল্লা: শহরের উত্তর পশ্চিমে অবস্থিত। এটি উত্তরে নতুন গেট থেকে শুরু করে পুরনো শহরের পশ্চিম দেয়াল নিয়ে জাফা গেট সহ দক্ষিণে বিস্তৃত। এর সাথে ইহুদি ও আর্মেনীয় মহল্লার সীমানা রয়েছে। পূর্বে দামেস্ক গেটে মুসলিম মহল্লার সাথে এর সীমানা রয়েছে। এই মহল্লায় খ্রিষ্টানদের পবিত্রতম স্থান চার্চ অব দ্য হলি সেপালচার অবস্থিত।
আর্মেনীয় মহল্লা: চারটি অংশের মধ্যে ক্ষুদ্রতম। আর্মেনীয়রাও ধর্মে খ্রিষ্টান হলেও এটি খ্রিষ্টান মহল্লা থেকে আলাদা। ক্ষুদ্র আকৃতি ও জনসংখ্যা সত্ত্বেও এই অংশে আর্মেনীয় ও তাদের পেট্রিয়ার্কেট স্বাধীনভাবে অবস্থান করছে এবং শহরে সবল অবস্থান ধরে রেখেছে। বর্তমানে ৩,০০০ এরও বেশি আর্মেনীয় জেরুজালেমে বসবাস করে যাদের মধ্যে ৫০০ জন আর্মেনীয় মহল্লায় থাকে। ১৯৭৫ সালে আর্মেনীয় মহল্লায় একটি ধর্মতাত্ত্বিক সেমিনারি স্থাপিত হয়। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর ইসরায়েলী সরকার যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত চার্চ বা যেকোনো ধর্মীয় স্থাপনা সংস্কারের জন্য ক্ষতিপূরণ দেয়।
ইহুদি মহল্লা: শহরের দক্ষিণ পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত। এটি দক্ষিণে জায়ন গেট থেকে পশ্চিমে আর্মেনীয় মহল্লা নিয়ে উত্তরে কারডো এবং পূর্বে পশ্চিম দেয়াল ও টেম্পল মাউন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত। এই মহল্লার সমৃদ্ধ ইতিহাস রয়েছে। খ্রিষ্টপূর্ব অষ্টম শতক থেকে এখানে ইহুদিরা ধারাবাহিকভাবে বসবাস করে আসছে। ১৯৪৮ সালে ২,০০০ ইহুদিকে অবরোধ করা হয় এবং সবাইকে স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। মহল্লাটি সম্পূর্ণরূপে অধীকৃত হয় ও এর প্রাচীন সিনাগগগুলো ধ্বংস করা হয়।
১৯৬৭ সালে ছয়দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলী ছত্রীসেনারা দখল করার আগ পর্যন্ত এটি জর্ডানের অধিকারে ছিল। কয়েকদিন পর পশ্চিম দেয়ালে প্রবেশের রাস্তা উন্মুক্ত করতে ইসরায়েলী কর্তৃপক্ষ পার্শ্ববর্তী মরক্কোন মহল্লা ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দেয়। ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি মহল্লা পুনরায় নির্মাণ করা হয়। এখানে বর্তমানে ২,৩৪৮ জন বাস করে (২০০৪ সালের হিসাবমতে) এবং বহু বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে গড উঠেছে। পুনর্নির্মাণের আগে এখানে যত্নসহকারে খননকার্য চালানো হয়। হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্ত্বিক নাহমান আভিগাদ এই কাজের তত্ত্বাবধান করেন। প্রাপ্ত প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ জাদুঘর ও বাইরের পার্কে প্রদর্শন করা হয়। এজন্য পর্যটকদেরকে বর্তমান শহরের দুই বা তিন তলা পর্যন্ত নিচে নামতে হয়। এই মহল্লায় "কারাইটেস স্ট্রিট" রয়েছে। এখানে প্রাচীন আনান বেন ডেভিড কেনেসা অবস্থিত। পুরনো শহরে একটি ক্ষুদ্র মরোক্কান মহল্লাও ছিল। ছয় দিনের যুদ্ধ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর পশ্চিম দেয়ালে দর্শনার্থীদের বেশি সুবিধা দেয়ার জন্য এটি ধ্বংস করে ফেলা হয়। যে অংশটি ধ্বংস করা হয়নি সেটি বর্তমানে ইহুদি মহল্লার অংশ হিসেবে রয়েছে। এরপর থেকে অমুসলিমরা মাগরিবি ব্রিজ দিয়ে টেম্পল মাউন্টে যেতে পারে। এটি অমুসলিমদের জন্য একমাত্র প্রবেশ পথ।
ক্রুসেডার রাজ্য জেরুজালেমের সময় জেরুজালেমের পুরনো শহরে চারটি ফটক ছিল। এদের প্রত্যেকটি একেক পাশে অবস্থিত ছিল। বর্তমানে অবস্থিত দেয়ালগুলো প্রথম সুলায়মান কর্তৃক নির্মিত হয় ও এর ফটক সংখ্যা এগারোটি। তবে সাতটি উন্মুক্ত রয়েছে। ১৮৮৭ সাল পর্যন্ত ফটকগুলো সূর্যাস্তের আগে বন্ধ করে দেয়া হত ও সূর্যোদয়ের সময় বন্ধ করে দেয়া হত। নিম্নোক্ত চার্ট অনুযায়ী ফটকগুলো বিভিন্ন নামে পরিচিত। বিভিন্ন ঐতিহাসিক সময়কালে ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মাধ্যমে নামগুলো চালু হয়