📄 বিশ্বযুদ্ধ
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপরই বেন গুরিয়ন হাগানাকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে শুরু করে। কোনো কারন ছাড়াই ইহুদিরা জেরুজালেমে দাঙ্গা বাধায়। ২ জুন জেরুজালেমের জাফা গেইটের বাইরে বাজারে ইরগুন বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমা হামলায় ৯জন আরব নিহত এবং বহু অহত হয়। ৮ জুন রাতে জেরুজালেমের উপর্যুপরি বোমা হামলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিপর্যস্ত হয়। ইউরোপে যুদ্ধ শুরু হয়ে গেলে বেন গুরিয়ন প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ-বিরোধী সব তৎপরতা বন্ধ করে। এমনকি ইরগুনও তাদের ব্রিটিশবিরোধী অভিযান বন্ধ রাখে। জুইশ এজেন্সির তৎকালীন সভাপতি বেন গুরিয়ন সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ এ ঘোষণা করে, 'আমরা হিটলারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব এমনভাবে যেন শ্বেতপত্র (১৯৩৯ এর) নেই আর শ্বেতপত্রের এমনিভাবে বিরোধিতা করব যেন (হিটলারের বিরুদ্ধে) যুদ্ধ নেই।' এজেন্সিটি সকল ইহুদিকে যুদ্ধ পরিচালনায় ব্রিটিশদের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানায়। যদিও ১৯৩৯ এর শ্বেতপত্র সরাসরি ইহুদিদের স্বার্থবিরোধী ছিল এবং ব্রিটিশদের দীর্ঘদিনের ইহুদি আশা আকাঙ্ক্ষার লালন ও পৃষ্ঠপোষকতার অবসান সূচনা করেছিল। ইহুদিরা সঠিকভাবে অনুধাবন করেছিল যে জার্মানির বিরুদ্ধে মিত্রপক্ষের বিজয় ব্যতীত বিশ্বে ইহুদি অস্তিত্ব বজায় রাখা অসম্ভব না হলেও অত্যন্ত কঠিন হবে।
ব্রিটিশদের যুদ্ধ প্রয়াসে সমর্থন ও সহযোগিতা করা ইহুদিদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়ে পরিণত হয়। ফলে প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ সহায়ক বাহিনীতে ২৭,০০০ ইহুদি যোগ দেয় অথচ আরবদের মধ্যথেকে মাত্র ১২০০০ এইবাহিনীতে যোগ দিয়েছিল। ব্রিটিশ বাহিনীতে একটি ইহুদি ডিভিশন গঠন করার প্রশ্ন বেশ কিছুকাল বিবেচনাধীন ছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর ১৯৪৪ একটি ইহুদি ব্রিগেড গঠন করা হয়েছিল। ব্রিটিশরা ইহুদি কমান্ডো ইউনিটকে প্রশিক্ষণ দেয় যা পরে বিখ্যাত ইহুদি অভিঘাত বাহিনী (Shock troops) Palmach এর মূল্যধারের ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও ইহুদি স্বেচ্ছাসেবকদের নাশকতা, বিধ্বংসী কৌশল ও শত্রুর দখলকৃত এলাকায় সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের ওপর নিবিড় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ভাগ্যের পরিহাস এই যে, এই প্রশিক্ষণ পরবর্তীকালে ব্রিটিশ শক্তিকে প্যালেস্টাইন থেকে উৎখাত করতে ইহুদিরা অত্যন্ত কার্যকরভাবে প্রয়োগ করে।
১৯৪০ সালের মে মাসে উইনস্টন চার্চিল ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ইহুদিদের প্রতি চার্চালের সহানুভূতি ও সমর্থন ছিল সর্বজনবিদিত তাই তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয় যে অচিরেই হয়তো ১৯৩৯ এর শ্বেতপত্র বাতিল করা হবে। কিন্তু একই মাসে ইটালি জার্মানির পক্ষে যুদ্ধে যোগ দিলে যুদ্ধক্ষেত্র মধ্যপ্রাচ্যের কাছাকাছি চলে আসে। চার্চিল বুঝতে পারেন যে, শ্বেতপত্রের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। অন্যথায়, আরব সহযোগিতা পাওয়া দুষ্কর হবে। তাই ব্রিটিশরা এমন এক সময় প্যালেস্টাইনে অভিবাসন কোটা বলবৎ করে যখন ইউরোপীয় ইহুদিরা জার্মান নির্যাতন থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্যালেস্টাইনে পা রাখতে মরিয়া হয়ে উঠে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এবং ইহুদিদের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমান্বয়ে তীব্র আকার ধারণ সত্ত্বেও হাজার হাজার ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক ব্রিটিশ বাহিনীতে যোগ দেয়।
তারা অনুধাবন করে যে, চার্চিল ক্ষমতায় আসা সত্ত্বেও তারা প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় ব্রিটিশদের সহায়তার ওপর আর নির্ভর করতে পারবে না। তারা আরো বুঝতে পারে যে, তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে যুক্তরাষ্ট্রেই ইহুদি রাজনৈতিক প্রভাব প্রয়োগ করার সময় এসেছে। আমেরিকান ইহুদি অর্গানাইজেশন নিউইয়র্ক সিটির বিল্টমোর হোটেলে ইহুদিদের এক সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলন ১৯৪২ সালের মে অনুষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইহুদি অর্গানাইজেশনের সভাপতি খাইম ওয়াইজম্যান, জুইশ এজেন্সির কার্যনির্বাহী সভাপতি বেন গুরিয়ন এবং নির্বাহী সদস্য নাহাম গোল্ডম্যান।
সম্মেলনে ৮টি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ঐ প্রস্তাবগুলি ইতিহাসে 'বিল্টমোর প্রোগ্রাম' নামে পরিচিত। প্রস্তাবে ১৯৩৯ সালের শ্বেতপত্র সমূলে প্রত্যাখ্যান করে। বালফোর ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য ও ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়। এই প্রথমবার প্যালেস্টাইনে ইহুদি কমনওয়েলথ' প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। বালফোর ঘোষণার প্যালেস্টাইনে 'ইহুদি কমনওয়েলথ' বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কোনো উল্লেখ ছিল না। ছিল না ইহুদিদের আবাসভূমি স্থাপনও কথা। ১৯২২ সালের শ্বেতপত্রে প্যালেস্টাইন নয় বরং প্যালেস্টাইনের একটি অংশে ইহুদি জাতির আবাসভূমি স্থাপনের কথা বলা হয়েছিল।
বিল্টমোর প্রোগ্রামের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি রাজ্যের আইনসভায় প্রস্তাব পাশ করা হয়। এমনকি প্রেসিডেন্ট রুজভেল্টকে দিয়ে এই প্রোগ্রামের সমর্থনে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়। তখন থেকে যুক্তরাষ্ট্রকেই জাইঅনবাদী কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধান সহায়ক বহিঃশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার তৎপরতা শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিদের কবজায় থাকা বিপুল অর্থনৈতিক শক্তি ও প্রচার মাধ্যমের নিয়ন্ত্রণকে কাজে লাগিয়ে রাজনীতিতে দ্রুত তাদের প্রভাব বলয় সৃস্টি করতে সক্ষম হয়। এই প্রভাব বলয়কে ক্রমাগতভাবে বিস্তৃত করে ইহুদিদের লক্ষ্যকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির মূলধারায় নিয়ে আসা শুরু হয়।
প্যালেস্টাইনে ইহুদি পাচার তৎপরতায় আরো অনেক ইহুদির সলিল সমাধি হয়েছিল। এর মধ্যে ১৯৪০ এর ২৫ নভেম্বরের Patria বিপর্যয় উল্লেখযোগ্য। অবৈধভাবে প্যালেস্টাইনে অভিবাসনের উদ্দেশ্যে আগত ১৮০০ ইহুদি হাইফা বন্দরে পৌঁছলে তাদেরকে মরিসাসের ডিটেনশন কেন্দ্রে পাঠানোর জন্য Patria নামের একটি জাহাজে উঠানো হয়। জাহাজটি যখন মরিশাস যাওয়ার অপেক্ষা করছিল তখন তাদেরকে প্যালেস্টাইনে থাকার অনুমতি দেওয়ার জন্য ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছিল। সাধারণ ধর্মঘট করে হাইফা বন্দর অচল করেও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বদলাতে না পেরে জাহাজটি যাতে বন্দর ত্যাগ না করতে পারে সেই উদ্দেশ্যে হাগনার এজেন্টরা জাহাজটিকে অকেজো করার জন্য বোমা পেতে রাখে। হাগানার পোঁতা বোমার বিস্ফোরণ ক্ষমতার হিসাব ভুল করায় বোমাটি বিস্ফোরণের পরে মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে জাহাজটি সম্পূর্ণরূপেড নিমজ্জিত হয়ে যায়। জাহাজের খোলে আটকে পড়া যাত্রীদের সকলকে এতেঠ অল্প সময়ে উদ্ধার করা যায়নি। এই ঘটনায় ২৬০জন ইহুদির মুত্যু ঘটে।
১৯৪২ এর অক্টোবরে জেনারেল মন্টগোমারী আল-আলামিনে জার্মানদের পরাজিত করে। এর মাধ্যমে জার্মানদের মিশর দখল অভিযান ব্যর্থ হয়। এরপর জার্মান ও ইটালিয়ানদের উভয় আফ্রিকা অভিযানও সমাপ্তি ঘটে যখন ১৯৪৩ সালে ১৩ জার্মান আফ্রিকার মিত্রবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। প্যালেস্টাইন হিটলার বাহিনীর হুমকিমুক্ত হয়। ইতিমধ্যে হিটলারের ইহুদি নিধন কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ হতে থাকে। হিটলারের ইহুদি নিধন কেন্দ্রসমূহের বিরুদ্ধে মিত্রশক্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থতার মধ্যে দৃঢ় বিশ্বাস সৃষ্টি করে যে প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে ইহুদিদের নিজ বাহু বলের ওপরই নির্ভর করতে হবে। কোনো বৃহৎ শক্তি ইহুদি রাষ্ট্র সাজিয়ে ইহুদিদের উপহার দেবে না।
জুইশ এজেন্সির নিয়ন্ত্রণে প্যালস্টাইনে ছিল সবচেয়ে বড় ইহুদি বেসামরিক বাহিনী হাগানা। সেখানে ছিল ২০০০০০ সৈন্যসহ বিশেষ বাহিনী পালমাখ এবং ব্রিটিশদের দ্বারা প্রশিক্ষিত প্রায় ২৫,০০০ আধা সামরিক বাহিনী। জুইশ এজেন্সির নেতা বেন গুরিয়ন ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত তার বাহিনীকে ব্রিটিশদের সহায়তায় নিয়োজিত রেখেছিল। কিন্তু সন্ত্রাসী দল ইরগুন এবং এই দল থেকে বেরিয়ে আসা স্টার্ন গ্যাং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে কিছুটা নিম্ন মাত্রার যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। ইরগুন কমান্ডার জাবতনিস্কি ১৯৪০ সালে হৃদরোগে মৃত্যুবরণ করেন এবং স্ট্যার্ন গ্যাং নেতা আব্রাহামকে ব্রিটিশ বাহিনী হত্যা করে ১৯৪২ সালে।
বেগিনের জন্মগ্রহণ পোল্যান্ডের ব্রেস্ট লিটভস্কে এবং প্রথম জীবনে জাবতনিস্কির সংশোনবাদীতে দীক্ষা নেয়। সোভিয়েত বাহিনী পোল্যান্ড দখল করার পর বেগিনকে ব্রিটিশ গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। ১৯৪১ সালে স্ট্যালিনের সাথে পোলিশ জেনারেল সিকরস্কির সমঝোতা হবার পর বেগিন কারামুক্ত হয়ে পোলিশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়। পরবর্তীকালে জাবতনিস্কির ব্রিটিশ-ঘেষা নীতিকে যথেষ্ট আক্রমণাত্মক নয় বিবেচনা করে নিজস্ব মুক্তিযুদ্ধের ধারণা নিয়ে ১৯৪২ সালে পারস্য হয়ে প্যালেস্টাইনে আসে। তার মতে আরবরা প্যালেস্টাইনে জবরদখলকারী এবং ব্রিটিশরা তাদের সহযোগী। প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য এই দুই পক্ষের বিরুদ্দে যুগপৎ যুদ্ধ করতে হবে। আরব এবং ব্রিটিশ উভয়কেই প্যালেস্টাইন থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ইসরায়েলের একজন ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী (১৯৭৮-১৯৮৩) মেনাখেম বেগিন ইরুগুন বাহিনীর অধিনায়ক নিযুক্ত হয় ১৯৪৪ সালে।
মেনাখেম বেগিন প্যালেস্টাইনে পৌঁছেই ইরগুন বাহিনীকে সক্রিয় করতে শুরু করে। ইরগুন থেকে বেরিয়ে গিয়ে আব্রাহাম স্টার্ন এর নেতৃত্বে লেহী (ইসরায়েলের স্বাধীনতার পক্ষে যুদ্ধ) গঠিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে ইরগুন ব্রিটিশদের সাথে যোগ দিলেও লেহী বা স্টার্ন গ্যাং ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তাদের নিজস্ব বিদ্রোহ চালিয়ে যাচ্ছিল। বেগিন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের প্রথম চ্যালেঞ্জ করে অক্টোবর ১৯৪৩ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আল- আকসার পশ্চিম দেয়ালের সামনে সোফার ফুঁকিয়ে। ব্রিটিশ পুলিশ আক্রমণ করে তাদেরকে সেখান থেকে বিতাড়িত করে। পরের বছর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের মনোভাব পরীক্ষা করার জন্য বেগিন আবার 'সোফার' ফুৎকারের আদেশ দেয়। এবার ব্রিটিশ পুলিশ সংযত থাকে। বেগিন এটাকে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের দুর্বলতা ভেবে তার বাহিনীকে ব্রিটিশদের ওপর আক্রমণনির্দেশ দেয়। ব্রিটিশ সরকারের ট্যাক্স অফিস, ইমিগ্রেশন অফিস ও পুলিশ স্টেশনের ওপর আক্রমণ শুরু হয়। সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ এ ইরগুন জেরুজামেলের পুলিশ স্টেশনগুলিতে হামলা চালিয়ে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। একজন সিআইডি কর্মকর্তা যখন শহরের রাস্তায় হাঁটছিলেন তখন তাকে হত্যা করে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ বেগিনকে জীবিত বা মৃত ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০,০০০ পাউন্ড পুরস্কার ঘোষণা করে। বেগিন লম্বা দাড়িওয়ালা তালমুদ পণ্ডিতের ছদ্মবেশ ধারণ করে আত্মগোপনে থেকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে আক্রমণ পরিচালনা শুরু করে। ১৯৪৪ সালের শেষের দিকে ইরগুন প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ হাইকমিশনার হ্যারল্ড ম্যাকমাইকেলকে জেরুজালেমের রাস্তায় দুইবার হত্যা প্রচেষ্টা চালায়। ঐ বছরই ইরগুন নভেম্বর কায়রোতে ব্রিটিশ স্টেটমন্ত্রী ও চার্চিলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু লর্ড ময়নীকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে জুইশ এজেন্সি নিন্দা জানিয়েছিল। কিন্তুএর ফলে উইনস্টন চার্চিল যিনি ইহুদিদের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিলেন তিনিও তীব্র সমালোচনা করে।
📄 সন্ত্রাস
সন্ত্রাসের দিক থেকেও ইহুদিরা শ্রেষ্ঠ ১ নভেম্বর ১৯৪৫ ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে হাগানা, ইরগুন ও লেহী তাদের প্রথম সম্মিলিত সন্ত্রাসী আক্রমণ পরিচালনা করে। ঐ রাতে হাগানা ইউনিটসমূহ একই সময়ে সারা দেশের রেল সিস্টেমের ১৫৩টি স্থানে নাশকতা করে এবং হাইফা ও জাফা বন্দরের দুটি টহল লঞ্চ ডুবিয়ে দেয়।, ইরগুন ও লেহীর একটি যৌথ ইউনিট লিড্ডায় প্রধান রেলস্টেশনে হামলা চালায়। এই অভিযানকে আখ্যায়িত করা হয় 'Night of The Trains নামে। জবাবে ব্রিটিশ সরকার হাগানা দমনের নির্দেশ দেয়। বহু ইহুদি নেতাকে আটক করা হয়। বেন গুরিয়ন তখন বিদেশে থাকায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ যখন হাগানা দমনে ব্যস্ত তখন ইরগুন ও লেহী মেনাখেম বেগিনের নেতৃত্বে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে ক্রমাগত সন্ত্রাসী আক্রমণ চালায়। জেরুজালেমের রুশ প্রাঙ্গণের জার আমলে নির্মিত বিশাল হোস্টেলগুলিতে প্যালেস্টাইনের পুলিশ হেড কোয়ার্টার্স স্থাপন করা হয়েছিল। দুর্গসম এই রুশ প্রাঙ্গণ ইরগুন আক্রমণের প্রিয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ২৭ ডিসেম্বর ১৯৪৫ তারা রুশ প্রাঙ্গণে অবস্থিত সিআইডি সদরদপ্তর উড়িয়ে দেয়। ১৯৪৬ সালের জানুয়ারিতে ধ্বংস করে একই প্রাঙ্গণে অবস্থিত জেলখানা।
২৭ জুন ১৯৪৬ সালের হাগানা প্যালেস্টাইন ও প্রতিবেশী দেশগুলির সাথে যোগাযোগের ১১টি সেতুর মধ্যে ১০টি সেতু ধ্বংস করে। ব্রিটিশরা দুই সপ্তাহব্যাপী এক অভিযান শুরু করে। সারা দেশব্যাপী কারফিউ জারি করে ১৭,০০০ সৈন্য নামিয়ে সারাদেশের ইহুদি বসতি, যৌথ খামার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্ত্র ও দলিলাদি উদ্ধার ও নেতাদের গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযান সন্ত্রাসী দলের কোনো বড় অধিনায়ক গ্রেফতার বা অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। ব্রিটিশ প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে ইহুদিদের বেতনভুক্ত গুপ্তচরদের তৎপরতায় হাগানা এই অভিযানের খবর পূর্বাহ্নেই পেয়ে যায়। এর ফলে ব্রিটিশদের এই বিশাল অভিযান ফল লাভে ব্যর্থ হয়। ইহুদিদের সাবাৎ-এর দিন অর্থাৎ শনিবারে শুরু হওয়া ব্রিটিস কর্তৃপক্ষের এই অভিযানকে ইহুদিরা 'ব্ল্যাক সাবাৎ' নামে অভিহিত করে থাকে।
ইরগুনের সবচেয়ে চমকপ্রদ আক্রমণছিল জেরুজালেমের কিং ডেভিড হোটেলের ওপর। কিং ডেভিড হোটেল ছিল জেরুজালেমের প্রথম ও সর্ববৃহৎ বিলাসবহুল হোটেল। ১৯৩৮ সাল থেকে এই হোটেলের দক্ষিণ উইংয়ে প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ বাহিনীর সদরদপ্তরের একটি অংশ ও ম্যান্ডেট সরকারের সচিবালয় অবস্থিত ছিল। মেনাকেম বেগিনের নেতৃত্বাধীন ইরগুন ২২ জুলাই ১৯৪৬ হোটেলে বোম হামলা চালায়। ঐ দিন ভোরে ২০ জন ইহুদিসন্ত্রাসী আরব পোষাক পড়ে একটি লরি থেকে কয়েকটি দুধের বড় ভাও নামিয়ে হোটেলের বেইজমেন্টে রাখে। প্রকৃতপক্ষে এই দুধের ভাণ্ডগুলিতে ৩৫০ কেজি বিস্ফোরক ভর্তি ছিল। কাছে দাঁড়ানো একজন ব্রিটিশ অফিসার মেজর ম্যাকিন্টশ আগন্তুকদের সন্দেহজনক দেখে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে আগন্তুকদের একজন তাকে গুলি করে হত্যা করে। বেইজমেন্ট থেকে বের হওয়ার গেটে আরেক পুলিশ গার্ডও একই ভাগ্য বরণ করে। তখন গার্ড এবং সন্ত্রাসীদের মধ্যে গুলি বিনিময় শুরু হলে কয়েকজন সন্ত্রাসী গুলিবিদ্ধ হয়, কিন্তু সকলেই পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এরই মধ্যে হোটেলের বেইজমেন্টে প্রচণ্ড বিস্ফোরণে হোটেলের দক্ষিণ উইং এর পশ্চিমের অংশ সম্পূর্ণভাবে ধ্বসে পড়ে। আক্রমণে ৯১ জন মৃত্যুবরণ করে এবং ৬০ জন আহত হয়। মৃতদের মধ্যে ২৮ জন ব্রিটিশ, ৪১, জন আরব, ১৭ জন ইহুদি ও অন্যান্য জাতিসত্তার ৫জন।
হোটেলে বোমা হামলা ছিল ব্রিটিশ ম্যান্ডেট সরকারের বিরুদ্দে পরিচালিত সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণহানিকর হামলা। ব্রিটিশ ম্যান্ডেট সরকার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্যালেস্টাইনে যে অভিযান চালিয়েছিল এই হামলা তারই চরম ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করে। অপরদিকে, কিং ডেভিড হোটেলের মতো একটা নিরাপত্তা বেষ্টনি এলাকার অভ্যন্তরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক জড়ো করে তা সাফল্যের সাথে বিস্ফোরণ ঘটানোর মধ্যে ইহুদি সন্ত্রাসী গ্রুপের সাংগঠনিক শক্তি ওসন্ত্রাসী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ক্ষমতার প্রমান ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার পর দায়ী ব্যক্তিদের ধরার জন্য তেলআবিব শহরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। সামরিক কারফিউ, যখন তখন ইহুদিদের দেহ ও বাসস্থান তল্লাশি, রাস্তায় পদ্রপ্রতিবন্ধক স্থাপন এবং গণগ্রেপ্তারের পরও ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করতে পারেনি। অন্যদিকে, ব্রিটিশ নিরাপত্তা বাহিনীর এসকল কার্যক্রমের কারণে সাধারণ ইহুদি সমাজে ম্যান্ডেট সরকারের গ্রহণযোগ্যতা শূন্যের পর্যায়ে চলে যায়, যা ছিল ইরগুণের অন্যতম লক্ষ্য।
সারা বিশ্বে এই ঘটনার প্রতিবাদের ঝড় উঠে। পশ্চিমা জগতে ইহুদিদের বিরুদ্দে নাৎসি বীভৎসতার কারণে যে সহানুভূতির আবহ সৃস্টি হয়েছিল এই হামলায় নির্দোষ সাধারণ মানুষের হত্যাযজ্ঞের কারণে সেই সহানুভূতিতে ভাটা দেখা দেয়। অবস্থা বেগতিক দেখে ইহুদি রাজনৈতিক নেতৃত্ব তীব্র ভাষায় এই আক্রমণের নিন্দা জানায় হাগানা, ইরগুন, ও লেহী গঠিত ০০০ অকার্যকর করে দেওয়া হয় এবং রাজনৈতিক নেতৃত্ব ইরগুন ও লেহীর সাথে তাদের দূরত্ব সৃষ্টির দৃশ্যমান কিছু পদক্ষেপ নেয়। যদিও পরবর্তীকালে এটা প্রমাণিত হয় যে হাগানা সদর থেকে লিখিত নির্দেশ পেয়েই ইরগুন কিং ডেভিড হোটেলে আক্রমণ চালিয়েছিল। অ্যাংলো আমেরিকান কমিটির অন্যতম সদস্য ব্রিটিশ লেবার পার্টির এম. পি. রিচার্ড ক্রসম্যানকে এই ঘটনার কিছুদিন পরে ইহুদি নেতা ও পরবর্তীতে ইসরায়েল রাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ড. খাইম ওয়াইজম্যান বলেছিলেন, 'আমি আমার এই ছেলেদের (ইরগুন) নিয়ে গর্বিত না হয়ে পারি না। এটা (কিং ডেভিড হোটেল) যদি একটা জার্মান সদর হত তাহলে তারা ভিকটোরিয়া ক্রস (যুদ্ধে বীরত্বের জন্য সর্বোচ্চ ব্রিটিশ সামরিক মেডেল)।
এই হামলা ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ও ইহুদিদের মধ্যে সংগাত চরম পর্যায়ে পৌছে দেয়। ব্রিটিশ সেনা ও ইহুদি বেসামরিক ব্যক্তিদের সামাজিক মেলামেশা সীমিত হয়ে যায়। ব্রিটিশদের প্যালস্টাইন ম্যান্ডেট চালিয়ে যাওয়ার স্পৃহা কমিয়ে দেয় এবং তাদের প্যালেস্টাইন ত্যাগ ত্বরান্বিত করে। প্যালেস্টাইনে আসন্ন যুদ্ধের কথা সকলের মুখে মুখে আলোচিত হতে থাকে। জেরুজালেমের সামাজিক জীবনে যেন একটি অদৃশ্য পর্দা নেমে আসে। ইহুদিরা আসন্ন নির্বিচারে হত্যাকাণ্ডের গুজবে আতঙ্কিত দিন কাটাতে থাকে। জেরুজালেম থেকে বিট্রিশ বেসামরিক ব্যক্তিদের অপসারণ করা হয় নিরাপত্তার কারণে। ঘটনার দুই মাসের মধ্যে প্যালেস্টাইন ম্যান্ডেট সরকারের চিফ সেক্রেটারি স্যার জন শ'কে ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগোর হাই কমিশনার পদে বদলি করা হয়। জনকে ত্রিনিদাদে পৌঁছা মাত্রই ইরগুন তাকে পত্র বোমা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তারা অক্টোবরে রোমে ব্রিটিশ দূতাবাসে আক্রমণ চালায়। একজন ইরগুন সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রতিশোধ হিসেবে ইরগুন ১ মার্চ ১৯৪৭ সালে জেরুজালেম গোল্ডস্মিথ অফিসার্স ক্লাব উড়িয়ে দেয়। এতে ১৩ জন নিহত এবং আহত হয় ১৮জন।
ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরগুনের একটি প্রিয় কৌশল ছিল ব্রিটিশ অফিসারদের অপহরণ করে জিম্মি হিসেবে বন্দি রেখে বিভিন্ন দাবি আদায় করা। এই ধরনের প্রথম অপহরণের ঘটনা ঘটে ২৭ জানুয়ারি ১৯৪৫। তেলআবিব আদালত কক্ষ থেকে বিচারক উহন্ডহ্যামনকে অপহরণ করা হয়। ইহুদি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে তাকে ফেরত দেওয়া হয়। একই বছর ১৮ জুন তেলআবিব অফিসার্স ক্লাব থেকে ৫জন ব্রিটিশ কর্মকর্তা ও রয়েল এয়ার ফোর্সের একজন এয়ারম্যাসকে অপহরণ করা হয়। অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে কারাগারে বন্দি দুইজন ইহুদিকে মুক্ত করার বিনিময়ে চার দিন পর দু'জন অফিসারকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকিদের ছাড়া হয় দু'জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ইরগুন সন্ত্রাসীর মৃত্যুদণ্ড শাস্তি কমিয়ে কারাদণ্ড দেওয়ার পরে। ১৬ জুন ১৯৪৭ এক জেলখানা ভেঙে বন্দিদের মুক্ত করার অপরাধে দুজন ইহুদি সন্ত্রাসীকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেয়। ১২ জুলাই ব্রিটিশ ফিল্ড সিকিউরিটির দুজন কর্মকর্তাকে অপহরণ করা হয়। দুই সপ্তাহ অনেক খোঁজাখুঁজির পর এই ২জন কর্মকর্তার কোনো হদিস পাওয়া গেল না। ২ জুলাই দুই ইহুদি বন্দির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দুইদিন পর ৩১ জুলাই অপহৃত দুইজন কর্মকর্তাকে ইরগুন গাছে ঝুলিয়ে হত্যা করে। অফিসার দুজনকে যেখান থেকে অপহরণ করা হয়েছিল গিয়ে দেখা গেল গাছের চারদিকে মাইন পুঁতে রাখা। মৃতদেহের মধ্যেও 'বুবি ট্র্যাপ' ছিল। একটি মৃতদেহের দড়ি কেটে নামানোর পর মৃতদেহের ভিতরে ঢুকানো 'বুবি ট্র্যাপ' বিস্ফোরণ ঘটে। মৃতদেহ উদ্ধারকারী একজন ব্রিটিশ সৈন্য মারাত্মকভাবে আহত হয়।
২৮ জুন ১৯৪৭ ইরগুন হাইফার একটি রেস্টুরেন্টে আক্রমণ চালায়। হাইফার এস্টোরিয়া রেস্টুরেন্টে কতিপয় ব্রিটিশ আর্মি অফিসার নৈশভোজরত ছিলেন। দুজন ইহুদি সন্ত্রাসী রেস্টুরেন্টের বিপরীত দিকে অবস্থান নিয়ে সাবমেশিনগান নিয়ে শুরু করে রেস্টুরেন্টের ওপর গুলিবর্ষণ। ৯ম প্যারাসুট ডিভিশন ক্যাপ্টেন কিসানে তৎক্ষণাৎ নিহত এবং অন্য দুজন অফিসার আহত হন। অন্য অফিসাররা যারা আহত হননি তারা পাল্টা গুলি শুরু করলে ইহুদি সন্ত্রাসীরা পশ্চাদপ্রসারণ করে।
১০০জন ইহুদি যে পরিমাণ সন্ত্রাস না করে ১জন ইহুদি সেই পরিমাণ সন্ত্রাস করে।
📄 ইহুদি রাষ্ট্র
যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের মদদে প্যালেস্টাইনে ইহুদি বাসভূমির ঠিকানার ভিত তৈরি হলেও এক পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হঠাৎ করেই নীতি পরির্তন করে। এতে ইহুদি কূটনীতিকে সংকটে ফেলে দেয়। জুইশ এজেন্সি ও আমেরিকার জাইঅনবাদীরা খাইম ওয়াইজম্যানকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে এই সংকট সমাধানের জন্য জরুরি অনুরোধ জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমত পক্ষে আনার ক্ষেত্রে খাইম ওয়াইজম্যানের বিকল্প ছিল না। ব্রিটিশ সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে তার ব্যক্তিগত সুসম্পর্কের কারণে ব্রিটিশদের সহায়তার প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের নিজস্ব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পদক্ষেপ ব্যাপক হারে ইহুদি অভিবাসন সম্ভব হয়েছিল। ইহুদিরা সেই রাষ্ট্র স্থাপনের দ্বারপ্রান্ত এসে যায়। এখন পরিস্থিতি বদলে যাবার আগেই সর্বোচ্চ কূটনেতিক প্রভাব খাটিয়ে প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা যতটা সম্ভব ত্বরান্বিত করে অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা সৃষ্টি করতে হবে। জাইঅনবাদীরা ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অবসানের বাস্তবতাকে সামনে রেখে প্যালেস্টাইনে যে নীতি অনুসরণ করছিল তা খাইম ওয়াইজম্যানের ভাষায় চমৎকার ফুটে উঠেছে। প্যালেস্টাইনের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে 'আমার কাছে এটা পরিষ্কার ছিল যে পিছু হটা হবে মারাত্মক। আগের মতোই, এখন আমাদের একমাত্র সুযোগ হচ্ছে বাস্তবতা সৃস্টি করা, তা নিয়ে পৃথিবীর মুখোমুখি হওয়া এবং তার ওপর ভিত্তি করে নির্মাণ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।'
খাইম ওয়াইজম্যান প্রথমে ব্রিটেনের এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাবানদের ওপর বেশি প্রভাব খাটাতে সক্ষম হয়েছিলো। মূলত তারই প্রয়াসে ১০০ বছর আগে ১৯১৭ সালে ব্রিটিশ সরকার বালফো ঘোষণা করেছিল, যা ছিল প্যালেস্টাইনে ইহুদি বাসভূমি প্রতিষ্ঠার প্রতি কোনো বিশ্বশক্তির প্রথম আনুষ্ঠানিক অঙ্গীকার। প্রথম মহাযুদ্ধের পর লীগ অব নেশনস প্যালেস্টাইনের ইহুদিদের জন্য আবাসভূমি প্রতিষ্ঠার জন্য ম্যান্ডেটরি কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে মর্মে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাও ছিল যুদ্ধ-পরবর্তী শান্তি আলোচনায় ইহুদি প্রতিনিধিদলের নেতা হিসেবে ওয়াইজম্যানের কূটনৈতিক দক্ষতার ফসল। ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘে 'প্যালেস্টাইন পার্টিশন প্ল্যান' অনুমোদনের পেছনেও ওয়াইজম্যানের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
ওয়াইজম্যান প্রথমবার ১৯২১-১৯৩১ এবং দ্বিতীয়বার ১৯৩৫-১৯৪৬ সাল পর্যন্ত ওয়ার্ল্ড জাইঅনিস্ট অর্গানাইজেশনের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ওয়াইজম্যানের ব্রিটিশঘেঁষা নীতি এবং ব্রিটিশদের বিরুদ্দে সন্ত্রাসী আক্রমণের বিরোধিতা কারণে তিনি ওয়ার্ল্ড জাইঅনিস্ট অর্গানাইজেশনে কোনোঠাসা হয়ে পড়েছিলেন। ১৯৪৬ এর কংগ্রেসে অপ্রত্যাশিতভাবে তিনি প্রেসিডেনেটর পদ হতে বাদ পড়েন এবং বেন গুরিয়নকে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
১৯৪৭ এর ২৯ নভেম্বর জাসিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্যালেস্টাইন পার্টিশন প্ল্যান অনুমোদিত হওয়ার পর ওয়াইজম্যান ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব সমাপ্ত হয়েছে ধারণা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লন্ডনে কিছুদিন অবস্থানের পর প্যালেস্টাইনে তার প্রতিষ্ঠিত ওয়াইজম্যান ইনস্টিটিউটে বৈজ্ঞানিক গবেষণা কাজে নিজেকে নিয়োজিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু ১৯৪৮ এর জানুয়ারি মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদিরা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের প্যালেস্টাইন নীতি তথা প্রস্তাবিত ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি তাদের নীতি পরিবর্তনের আভাস লক্ষ্য করতে থাকে। যুক্তরাষ্ট্র সরকার বিশেষকওের প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান সন্দিহান হয়ে পড়েন যে প্যালেস্টাইনের জাইঅনবাদীরা আরব রাষ্ট্রসমূহের আক্রমণেরমুখে টিকে থাকতে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে ওয়াইজম্যান যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যাবর্তন করেন। যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি ও সকল ধর্মের প্রতি সমহানুভূতিশীল নেতাদের সাথে শলাপরমার্শ শুরু করেন। সিকিউরিটি কাউন্সিলের সদস্য এবং জাতিসংঘের সদস্যদের প্রতিনিধিদের সাথে প্যালেস্টাইনের পার্টিশন বিষয়ে জাতিসংঘের গৃহীত প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। কিন্তু তখনো সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠকে পার্টিশন প্ল্যানের সমর্থনে প্রস্তাব পাশ করা সম্ভব হয়নি। ৪৭ এর ১৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ট্রুম্যান প্যালেস্টাইন পার্টিশনের পক্ষে তার অবস্থানের কথা ওয়াইজম্যানকে জানিয়েছিলেন। ওয়াইজম্যান আমেরিকান প্রেসিডেন্টের এই কথায় আশ্বস্ত হতে পারেননি। তিনি মন্তব্য করেনে, 'যাই হোক আমি সন্দিহান তিনি জোনেন কিনা স্টেট ডিপার্টমেন্ট তারই অধস্তনরা কি পরিমাণে তার নীতি ও উদ্দেশ্যকে বাধ্যগ্রস্ত করছে।'
তখন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি প্রশাসন ছিল খুবই দুর্বল। ঐ বছরই নভেম্বরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সম্ভাব্য ফল সম্ভাব্য সম্পর্কে একটা সাধারণ ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল যে, প্রেসিডেন্ট ট্রুম্যান পুনঃনির্বাচিত হবেন না। তাই রাষ্ট্রপতি ও স্টেট ডিপার্টমেন্টের মধ্যে অনেক বিষয়েই সমন্বয়হীনতা দেখা যাচ্ছিল। প্যালেস্টাইন বিষয়ে রাষ্ট্রপতি ও স্টেট ডির্পাটমেন্টের মতদ্বৈততা প্রকট হয়ে প্রকাশ পাচ্ছিল। ১৯ মার্চ জাসিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সিনেটর অস্টিন প্যালেস্টাইনে বিবদমান পক্ষের মধ্যে সাময়িক যুদ্ধ-বিরতি করা এবং ট্রাস্টিশিপ প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রস্তাব করে যাতে ১৫ মে, ১৯৪৮ ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অবসানের পূর্বেই ওসি পরিষদের অধীনে প্যালেস্টাইনের নতুন সরকার গঠন সম্ভব হয়।
ওয়াইজম্যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনযন্ত্রকে পক্ষে আনতে না পারলেও ইহুদি নিয়ন্ত্রিত প্রচারমাধ্যমে এবং তার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের জনমত প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্র-পত্রিকায় এটা ফলাও করে প্রচারিত হয়েছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্যালেস্টাইনে যে ট্রাস্টিশিপ সরকার ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছে তা বাস্তবায়ন করতে যুক্তরাষ্ট্রকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অন্তত তিন লক্ষ সেনা প্যালেস্টাইনে মোতায়েন করতে হবে। ২য় মহাযুদ্ধ-পরবর্তীকালে আমেরিকান জনগণের নিকট এই সম্ভাবনা মোটেই আকর্ষণীয় ছিল না।
শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুসারে প্যালেস্টাইন বিভাগের প্রস্তাব স্থগিত রেখে অন্তর্বর্তীকালের জন্য সমগ্র ম্যান্ডেট প্যালেস্টাইন ট্রাস্টিশিপ সরকার প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত ট্রাস্টিশিপ প্রস্তাব সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে পেশ করে। সাধারণ পরিষদ প্রস্তাবটি বিবেচনার জন্য ১ম কমিটিতে প্রেরণ করে। ২০ এপ্রিল হতে ১ম কমিটিতে প্রস্তাবটির ওপর বিতর্ক শুরু হয়। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের বক্তব্য হতে প্রতীয়মান হয় যে, প্রস্তাবটি খুব সহজে অনুমোদিত হবে না। বিশেষকরে প্যালেস্টাইনে ইহুদিদের সামরিক অগ্রগতি, লক্ষ লক্ষ আরবদের ঘর-বাড়ি ছেড়ে শরণার্থী হওয়া এবং প্যালেস্টাইনের সার্বিক উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের কো সদস্য রাষ্ট্র প্যালেস্টাইনে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রেরণে আগ্রহ দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় ট্রাস্টিশিপ প্রস্তাবের প্রতি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই সাধারণ পরিষদকে স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছিল যে, ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্র প্যালেস্টাইনে শান্তিরক্ষায় কোনো ভূমিকাই পালন করবে না। এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, জাতিসংঘ ১৫ মে'র আগে কোনোক্রমেই ট্রাস্টিশিপ প্রস্তাবের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে না। সিকিউরিটি কাউন্সিল ১ এপ্রিল, ১৭ এপ্রিল ও ২৩ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানায়। বিবাদমান কোনো পক্ষই যুদ্ধবিরতি' পালনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ওয়াইজম্যান ও জাতিসংঘে তাদের প্রতিনিধিদল নিশ্চিত হয়েছিল যে, জাতিসংঘের ২ নভেম্বর, ১৯৪৭ প্যালেস্টাইন বিভাগের প্রস্তাব রহিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। তারা প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঘোষণার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ফেলে এবং ১৫ মে'র পূর্বেই তা বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাই ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার সাথে সাথেই যাতে যুক্তরাষ্ট্রসহ একাধিক বৃহৎ শক্তি ইহুদি রাষ্ট্রের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বীকৃতি দেয় ওয়াইজম্যান সে বিষয়টি নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার সাথে সাথেই যেন তাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় সেই অনুরোধ জানিয়ে ওয়াইজম্যান ১৩ মে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির নিকট পত্র প্রেরণ করেন। পত্রে উল্লেখ করা হয় যে, ১৫ মে মধ্যরাতে প্যালেস্টাইনে ব্রিটিশ ম্যান্ডেট অবসানের সাথে সাথেই ইহুদি রাষ্ট্রের সরকার সীমানায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, রাষ্ট্রকে বহিঃশত্রুর আক্রমণকে রক্ষা করার সকল ব্যবস্থা করবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বিশ্বের সকল দেশের প্রতি তার দায়িত্ব পালন করবে। 'আমি গভীরভাবে বিশ্বাস করি যে আপনার নেতৃত্বে যে যুক্তরাষ্ট্র একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান বের করার জন্য এতো কিছু করেছে সেই যুক্তরাষ্ট্র নতুন ইহুদি রাষ্ট্রকে অতি দ্রুত স্বীকৃতি দান করবে। আমি মনে করি পৃথিবী এটাই যথাযথ মনে করবে যে সবচেয়ে মহৎ প্রাণবন্ত গণতান্ত্রিক দেশ সবচেয়ে নতুন (গণতান্ত্রিক) দেশকে সর্বপ্রথম জাতিসমূহের পরিবারে বরণ করে নেবে।' প্রেসিডেন্ট ট্রম্যান ওয়াইজম্যানের অনুরোধ রেখেছিলেন। তেলআবিবে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার ১১ মিনিটের মধ্যে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঘোষণা: প্যালেস্টাইনের অধিকাংশ ইহুদির কাছে ইহুদি রাষ্ট্রের শুরু হয়েছিল ২৯ নভেম্বর ১৯৪৭ যখন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্যালেস্টাইন বিভাগের প্রস্তাব অনুমোদন করে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশ্বের স্বীকৃতি লাভ করে। ব্রিটিশদের ম্যান্ডেট অবসানের তারিখ ঘোষণার ফলে ইহুদিদের নিকট এটা ছিল সময়ের ব্যাপার যে সাড়ে পাঁচ মাসের মধ্যে আইনগতভাবে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ব্রিটিশ ম্যান্ডেট কর্তৃপক্ষে ম্যান্ডেট অবসানের তারিখ ঘোষণার পর থেকে তাদের ১ লক্ষ সেনাকে নিরাপদে প্যালেস্টাইন থেকে প্রত্যাহারের জন্য যতটুকু রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্ব প্রয়োগ করা প্রয়োজন শুধু তার মধ্যে সরকারের কার্যক্রম সীমিত রেখেছিল। ইহুদি রাষ্ট্রের জন্য নির্ধারিত এলাকায় রাষ্ট্রের সকল দায়িত্ব শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাসহ সকল রাষ্ট্রীয় পরিষেবা জুইশ এজেন্সি দিয়ে আসছিল।
প্রস্তাবিত ইহুদা রাষ্ট্রের সীমার মধ্যে ইহুদিদের ক্ষমতা সুসংহত করার উদ্দেশ্যে যা যা করণীয় তা সবই তারা করেছিলেন। কিন্তু প্যালেস্টাইন বিভাগের প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রর নীতির হঠাৎ করে 'উল্টো যাত্রা' তাদের নেতৃত্বকে বিচলিত করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা অগ্রাহ্য করে পূর্ব-সিদ্ধান্ত অনুসারে যথাসময়ে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হবে কিনা সে বিষয়ে নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। প্যালেস্টাইন ম্যান্ডেটের শেষের দিকে ব্রিটিশদের ছেড়ে যাওয়া শূন্যতাকে পূরণের কাজ করার জন্য ৩৭ সদস্যের একটি গণপরিষদ গঠন করে। এই পরিষদে সকল দল ও মতের প্রতিনিধি রাখার ব্যবস্থা করা হয়। এটা ইহুদি রাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক আইনসভার দায়িত্ব পালন করছিল। এছাড়া বেন গুয়িরনের নেতৃত্বে ১৩ সদ্যসের জাতীয় প্রশাসন গঠন করা হয়, যা কার্যত মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পালন করেছিল। জাতীয় প্রতিরক্ষার সম্পূর্ণ দায়িত্ব এই প্রশাসনের ওপর ন্যস্ত করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান চাপ উপেক্ষা করে জাতীয় প্রশাসন সৃষ্টি করে কার্যথ ইহুদি রাষ্ট্র জন্ম লাভ করে।
১২ মে জাতীয় প্রশাসনের রাতব্যাপী সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২ দিন পর ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়া হবে কিনা তা নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়। প্যালেস্টাইনের চলমান যুদ্ধের অবস্থা এবং ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার পর আবর রাষ্ট্রসমূহের নিয়মিত বাহিনীর আক্রমণ প্রতিহত করার কৌশল ও ক্ষমতা নিয়ে মতভেদ দেখা দেয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপক্ষো করে রাষ্ট্র ঘোষণা করার পরিণতি শিশু রাষ্ট্রের জন্য কী হতে পারে এটা নিয়েও বিস্তর বিতর্ক হয়। যথাসময়ে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণা না করে হলে প্যালেস্টাইনে ইহুদি অধিবাসীদের ও যোদ্ধাদের মনোবলের ওপর নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হবে বলে যুক্তি তুলে ধরা হয়। এই সভা চলাকালে টেলিফোনে ওয়াইজম্যানের মতামত চাওয়া হলে ওয়াইজম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে উঠেন, What are they waiting for. idiots? 'বোকারা কিসের জন্য অপেক্ষা করছে?' তিনি অবিলম্বে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে মতো জানান। সারা রাত আলোচনার পর জাতীয় প্রশাসন ৬ এবং ৪ ভোটে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
রাষ্ট্রের নাম কী হবে তা নিয়েও সর্বশেষে বিতর্ক হয়। নতুন রাষ্ট্রের নাম Eretz Israel' (ইসরায়েলের দেশ), 'জাইঅন', 'যুদা', 'জাইঅনা,' ইব্রিয়া', (ইব্রাহিমের দেশ) 'হার্জলিয়া' (হার্জেলের দেশ) নাম প্রস্তাব করা হয়। প্রথম চারটি নামের প্রস্তাব নাকচ করা হয় এই কারণে যে, এই নামগুলি ইহুদি রাষ্ট্রের বাস্তবতার সাতে সাম্যঞ্জস্যপূর্ণ নয়। Eretz Israel' এর 'ঐতিহাসিক ধারণাগত' সীমায় প্যালেস্টাইন, ট্র্যান্সজর্ডন, লেবানন, সিরিয়র অংশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। অন্য নাম তিনটি সাধারণ জেরুজালেমের অপর নাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। কিন্তু জেরুজালেমের ইহুদি রাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা নেই।
সর্বশেষ, বেন গুরিয়ন রাষ্ট্রের নাম 'ইসরায়েল' প্রস্তাব করলে তা ভোটে গৃহীত হয়। ইহুদি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিট আগে রাষ্ট্রের নাম নির্ধারণ করা হয়। প্যালেস্টাইনে ইহুদি রাষ্ট্র ঘোষণার করা হবে ১৬ এই মর্মে ঘোষণা ছিল ওয়ার্ল্ড জাইঅনিস্ট অর্গনাইজেশনের। ম্যান্ডেট অবসানের পরের দিন এই ঘোষণা হওয়ার কথা ছিল। প্রকৃতপক্ষে ঘোষণা ওদয়ো হয়, ১৪ই মে বেলা ৪টার। প্যালেস্টাইনের ব্রিটিশ হাইকমিশনার ১৪ মে রাত ১২-০১ মিনিটে হাইফা বন্দর থেকে নোঙর তুলে প্যালেস্টাইন থেকে বিদায় নেন এবং এর সাথেই প্যালেস্টাইনে নব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান হয়। এর আট ঘণ্টা আগে ইসরায়েল রাষ্ট্রের ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েল রাস্ট্র ঘোষণার তারিখ ও সময় গোপন রাখা হয়েছিল গোষণা অনুষ্ঠানের সিরাপত্তার স্বার্থে এবং শত্রুকে ধোঁকা দেয়ার জন্য। আরেকটি বড় কারণ ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের অতি উৎসাহের কারণে জাতিসংঘ প্রস্তাবিত রাষ্ট্র ঘোষণা ব্যহত করার মতো কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগেই ইহুদি উঠেস্ট্রকে বাস্তব সত্য পরিণত করা।
📄 ইহুদি ধর্ম
যা ধারণ করা যায় তাহাই ধর্ম। আজ ধর্মের সংজ্ঞা দেওয়া কঠিন। পৃথিবীতে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রচলিত বহুবিধ আচার-আচরণ, দেব-দেবীর পূজা-অর্চনা, সামাজিক আচরণেরপ নীতিমালা, জীবন-বিধান, ন্যায়-অন্যায় বিধি, পবিত্রতা বিধান ইত্যাদির প্রতি আনুগত্যতাকে ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করা হয়। ধর্মতত্ত্ববিদ ও দার্শনিকগণ বিভিন্ন মাত্রা অবলম্বন করে ধর্মের সংজ্ঞা দিতে চেষ্টা করেছেন। তবে মানবজীবন এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আছে যা পুনঃপুন" ঘটনশীল, অটল এবং অসহনীয় যেগুলি মোকাবিলা করতে ধম, এবং বিশ্বাস আমাদের সাহায্য করে। কেন এবং কিভাবে জগতসংসার সৃষ্টি হয়েছে ধর্ম আমাদের কিছু ধারণা ও তত্ত্ব দিয়ে থাকে যা আমাদের মানসিক ধারণশক্তির সীমাবদ্ধতা উত্তরণের সহায়ক হয়। সংখ্যার দিক থেকে ইহুদি ধর্ম খুব ছোট ধর্ম।
'আধুনিক প্রেক্ষাপটে 'ইহুদি ধর্মকে' একটি ধর্ম হিসেবে গণ্য করার বিষয়ে সনাতন ইহুদিগণের মধ্যে বেশ আপত্তি লক্ষণীয়। তারা মনে করেন, তাহলে ইহুদিধর্মের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়। ইসলাম খ্রিস্ট অথবা বৌদ্ধধর্মের সাথে এক সারিতে একই শ্রেণিীতে ইহুদিধর্মকে বিবেচনা করা তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য নয়।
তৌরিদ অনুসারে, সকল ইসরায়েলিদের উপস্থিতিতে ঈশ্বর সাইনাই পর্বতে নিজের আবির্ভাব ঘটিয়ে মোশী এবং ইসরায়েলিদের সাথে ঈশ্বরের চুক্তি ঘোষণা করেছিলেন এবং এই চুক্তি নির্দিষ্টভাবে শুধু ইসরায়েলিদের ওপর প্রযোজ্য ছিল। তৌরিদ আকারে ঈশ্বর যে বিধান ঘোষহণা করেছিলেন তা পালন করা ও রক্ষা করা একমাত্র ইসরায়েলিদের দায়িত্ব। তাই এটা অনস্বীকার্য যে, ইহুদিধর্মে যে নির্দিষ্টতা রয়েছে তা এই ধর্মের অন্তস্থিত বিশ্বজনীনতাকে ঢেকে রেখেছে। ইহুদিধর্মের ইতিহাসে কোনো কোনো পর্যায়ে পুতুল-পূজারিদের মধ্য থেকে ধর্মান্তরের মাধ্যমে ইহুদি ধর্মে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দৃষ্টান্ত থাকলেও ইহুদিধর্ম সাধারণভাবে এর মধ্যে অনুপ্রবেশ প্রতিরোধের প্রবণতা সবসময় বজায় রেখেছে।
ইহুদি পণ্ডিতগণের মতে, কে অতীতের ঋষিগণ কখনোই একটা ধর্শ বলে মনে করতেন না। যেই অর্থে পৌত্তলিকতাকে ধর্ম হিসেবে গণ্য করা হত সেই অর্থে Judaism কে ধর্ম হিসেবে গণ্য করায় তাদের তীব্র বিরোধিতা ছিল। ইসরায়েলিদের সাথে ঈশ্বরের বিশেষ সম্পর্কের ভিত্তিতে Judaism হচ্ছে একে স্বয়ংসম্পূর্ণ জীনযাপন প্রণালী। প্রকৃতপক্ষে আধুনিক যুগ পর্যন্ত ইহুদি ধর্ম এবং সামাজিক বা রাষ্ট্রীয় ইহজাগতিকতার মধ্যে কোনো পরস্পরবিরোধী দ্বি-বিভাজনত্ব ছিল না। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার বছর যাবৎ ইহুদিরা কোথাও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিষ্ঠিত ছিল না, তাই আধুনিক প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ইহুদি ধর্মীয় বিধানের সাংঘর্ষিকতা পরীক্ষিত হয় নাই। আর ইহুদিরা পৃথিবীর যেখানেই বাস করুক না কেন, উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ পর্যন্ত তারা তাদের পারিপার্শ্বিক সমাজ হতে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিত জীবনযাপন করত। তাই ধর্মীয় বিধান ও ইহজাগতিক বাস্তবতার সংঘর্ষ ইহুদি মননে প্রকট হয়ে ধরা পড়েনি, যা ইসরায়েল রাষ্ট্রে এখন দেখা দিয়েছে।
অনস্বীকার্য যে, বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত ধর্মগুলির মধ্যে ইহুদি ধর্ম একেশ্বরবাদের প্রাচীনতম ধারক ও বাহক। অপর দুটি প্রধান একেশ্বরবাদী ধর্ম, যথা খ্রিস্টধর্ম ও ইসলাম ইহুদিধর্মের বহু ঐতিহ্যের অংশীদার। প্রকৃতপক্ষে খ্রিস্টধর্ম বিশ্বাস করে যে, ইহুদি বাইবেলের কতিপয় বিধান ঈশ্বরই বাতিল করে নব-বিধান বা New Testament বহাল করেছেন। তাসত্ত্বেও ও ইহুদি বাইবেলকে খ্রিস্টানগণ এখনো ঈশ্বরপ্রদত্ত বলে বিশ্বাস করেন এবং তাদের ধর্মগ্রন্থ New Testament এর সম্পূরক বলে বিবেচনা করে। ইসলামি ঐতিহ্য অনুসারে অবশ্য বর্তমানে তৌরিদ বলে প্রচলিত গ্রন্থ ঈশ্বরপ্রদত্ত মূল তৌরিদ গ্রন্থনয়। এটা পরিবর্তন করে তৌরিদের মূল শিক্ষাকে বিকৃত করা হয়েছে। New Testament এর ক্ষেত্রেও ইসলাম অনুরূপ বিশ্বাস পোষণ করে। প্রকৃতপক্ষে ইহুদিধর্মের মূল আচার-পশু-পক্ষী বলিদান, অগ্নি-আহুতি, বিসর্জন, নৈবদ্য, ইত্যাদির প্রচলন সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে গেছে। জেরুজালেমের মহাপবিত্র মন্দিরকেন্দ্রিক আচার-অনুষ্ঠানের পরিবর্তে বিকেন্দ্রিত গণ-প্রার্থনা প্রবর্তিত হয়েছে। ঈশ্বরের সাথে ইসরায়েলিদের তথাকথিত চুক্তির মাধ্যমে পাওয়া বহু ধর্মীয় বিধান ইহুদিরা স্থগিত বা বাতিল করেছে।
ইহুদি ধর্মের কতকগুলি অনন্য বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা হাজার বছর যাবৎ ইহুদিধর্মকে অন্যান্য ধর্ম থেকে পৃথক করে রেখেছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলি ইহুদিধর্মকে শুধু নিজস্ব ভাবমূর্তি দেয়নি, হাজার বছর ধরে এর ইতিহাসের গতি নির্ধারণ করেছে, এই ধর্মের প্রতি বিভিন্ন ধর্ম, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের অধিকারী মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করেছে। এই ধর্মের এমন কতকগুলি বৈশিষ্ট্য আছে যা অ-ইহুদিগণকে এর থেকে দূরে রেখেছে। পশ্চিমা লেখক ও গণমাধ্যম ইহুদিধর্মকে অন্যতম মহান ধর্ম হিসেবে চিহ্নিত করে তাকে। কিন্তু এর অনুসারী সংখ্যা অথবা এর ভৌগোলিক ব্যাপ্তি কোনো বিবেচনায়ই ইহুদিধর্মকে একটি মহান ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। সংখ্যার দিক দিয়ে এই ধর্ম বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র একটি ধর্ম। বহু উপজাতীয় প্রাচীন বিশ্বাসের অনুসারী অথবা ধর্মীয় উপগোষ্ঠীর অনুসারীরর সংখ্যা অনেক ক্ষেত্রেইএর চেয়ে বেশি।
ইহুদিরা মনে করে ইহুদিদের প্রথম পুরুষতান্ত্রিক প্রধান আব্রামকে (আব্রাহাম) ঈশ্বর প্রথম দেখা দিয়ে প্রথম নির্দেশ দিয়েছিলেন তার পিতা-পিতামহের দেশ ত্যাগ করে কানানদের দেশে (বর্তমানে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও প্যালেস্টাইন) চলে যেতে। ঈশ্বর কানানদের বাসভূমি আব্রাহামের বংশধরগণকে চিরকালের জন্য তাদের বাসভূমি হিসেবে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ঈশ্বরের এই প্রতিশ্রুতি আংশিকভাবে বাস্তাব রূপ নিতে সময় লেগেছিল প্রায় ৬০০ বছর। এর মধ্যে আব্রাহাম ও তার অধস্তন দুই পুরুষ যাযাবর হিসেবে জীবন কাটিয়েছে। পরবর্তী ৪৩০ বছর আব্রাহামের বংশধরগণ বাস করেছে মিশরে এবং ৪০ বছর কাটিয়েছে জনহীন প্রান্তরে। আনুমানিক ৯২১ অব্দে রাজা সলোমানের মৃত্যুর পর ইসরাইলের রাজ্য দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে-উত্তরে ইসরায়েল রাজ্য ও দক্ষিণে জুডিয়া (যুদা) রাজ্য। এই দুই রাজ্যের মধ্যে ইসরায়েল রাজ্য আসিরিয়গণ দখল করে নেয় খ্রি. পৃ. ৭৪০ অব্দে এবং জুডিয়া রাজ্যের পতন হচ নেবুখাদনেজার বাহিনীর নিকট খ্রি. পৃ. ৫৮৬ অন্ধে। ঐ বছরই জেরুজালেমের প্রথম মহাপবিত্র মন্দির ধ্বংস করা হয়। ইতোমধ্যে খ্রি. পৃ. ৫৯৭ অব্দে বিপুল সংখ্যক ইহুদিকে বন্দি করে বেবিলনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ইহুদিদের বেবিলনীয় বন্দিত্ব শুরু হয়। প্যালেস্টাইনের একটি অংশে দু'টি ইহুদি রাজ্য ছিল ২৭০ বছর। খ্রি. পৃ. ৫৮৬ অব্দে জুডিয়া রাজ্যের পতনের পর ৭০ খ্রিস্টাব্দে জেরুজালেমের মন্দির দ্বিতীয়বার ধ্বংস হওয়া পর্যন্ত কখনো জেরুজালেমকেন্দ্রিক একটি ক্ষুদ্র ইহুদি রাজ্যের উত্থান বা পতন হয়েছে কিন্তু কখনো তা কানান দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী রাজ্য হয়ে উঠেনি। আধুনিক ইসরালেয় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পূর্ব পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার বছর ইহুদিগণ মূলত নির্বাসন জীবন কাটিয়েছে এবং প্যালেস্টাইনের রাষ্ট্রীয় ক্ষশতা তাদের হাতে ছিল না। সমগ্র প্যালেস্টাইন অথবা বাইবেলীয় তথাকথিত ইসরায়েলের আবাসভূমি কখনো ইসরায়েলিদের অধীন ছিল না এবং এখনো নেই।
কানানীয়দের দেশে ইসরায়েলিদের প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যে পন্থা বেছে নিয়েছিলো তা রীতিমত লোমহর্ষক। কানানীয়দের দেশের পথে জর্ডন নদীর পারে মিদিয়ান রাজাদের ইসরায়েলিরা পরাজিত করে তাদের শহরের সকল পুরুষদের হত্যা করে। তাদের শহরগুলি পুড়িয়ে দেয়, গবাদিপশু ও ধনসম্পদ লুট করে এবং মহিলা ও শিশুদের বন্দي করে ইসরায়েলিদের শিবিরে নিয়ে আসে। কানানীয়দের দেশের যেসকল এলাকা ভবিষ্যত ইসরায়েল রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেসকল এলাকার শহরবাসীদের ভাগ্যের তুলনায় কোনোানীয় কুমারী মেয়েদের ভাগ্য অনেক ভাল ছিল। তারা অন্তত প্রাণে বেঁচে ছিল।