📄 পরিশিষ্ট
আনাস্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَثَلُ أُمَّتِي مَثَلُ الْمَطَرِ؛ لَا يُدْرَى أَوَّلُهُ خَيْرٌ أَمْ آخِرُهُ
"আমার উম্মতের দৃষ্টান্ত হলো বৃষ্টির ন্যায়। যার ব্যাপারে এ কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না যে, তার শুরুর অংশ ভালো না তার শেষাংশ"।
(আহমাদ ১২০৫২ তিরমিযী ২৮৬৯ সিলসিলাতুল-আ'হাদীসিস্ব-স্বা'হী'হাহ্ ২২৮৬)
উক্ত হাদীসে বৃষ্টি শব্দটি মূলতঃ এ উম্মতের মধ্যকার লুক্কায়িত কল্যাণকেই বুঝায়। কারণ, বৃষ্টি তো আল্লাহ্ তা'আলার পক্ষ থেকে তাঁর সৃষ্টির জন্য একটি বিরাট রহমত। যার মাধ্যমে তিনি মৃত জমিনকে জীবন ফিরিয়ে দেন।
আর সর্ব যুগে কল্যাণকামীদের হিম্মত এমনই হয়। তাঁদের কাজকর্ম পরোক্ষভাবে এটাই বুঝায় যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ তা'আলা আমাদেরকে এ দুনিয়ায় তাঁর বান্দাদের মধ্যকার যাকে তিনি চান তাকে মানুষের পূজা থেকে তাদের প্রভুর ইবাদাতের দিকে এবং অন্যান্য ধর্মের যুলুম থেকে ইসলামের ইনসাফের দিকে তেমনিভাবে দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে সম্পূর্ণরূপে বের করে নিয়ে আসার জন্যই পাঠিয়েছেন।
বৃষ্টি তো আসে মানুষের চরম নৈরাশ্য ও কঠিনতার সময়। আর এ উম্মত তো সত্যিকার দানশীল উম্মত। তারা দুনিয়ার ইতিহাসে কখনো নিরাশ, নিস্তেজ ও অবদমিত হয় না। ইসলামের এ দীর্ঘ ইতিহাসে ইসলামী ভূখণ্ডের উপর অনেক ধরনের বালা-মুসীবত ও বিপদাপদ এসেছে। এমনকি বিপদাপদের কঠিন ধাক্কায় তাদের পায়ের নিচের জমিনও বার বার কেঁপে উঠেছে। তারপরও তারা প্রতিটি বড় বড় বিপদ থেকে কঠিন ঈমানী শক্তি নিয়ে বের হয়ে এসেছে। প্রতি বারই ষড়যন্ত্রকারী কাফির ও মুনাফিকরা ধারণা করেছে যে, এবার মোসলমানরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অথচ আল্লাহ্ তা'আলা তো তাদের প্রতি তাঁর রহমতের দৃষ্টি নিবদ্ধই রেখেছেন।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ ﴾ [التوبة: ٣٢]
"তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহ্'র নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা তা হতে দিবেন না। বরং তিনি তাঁর নূরকে পরিপূর্ণতা দিয়েই ছাড়বেন। যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে”। (আত- তাওবাহ্: ৩২)
যখন সাহাবায়ে কিরাম আল্লাহ্ তা'আলার নিম্নোক্ত বাণীগুলো শুনলেন:
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ﴾ [البقرة: ١٤٨]
"কাজেই তোমরা কল্যাণের দিকে দ্রুত ধাবিত হও”। (আল-বাক্বারাহ্: ১৪৮)
আল্লাহ্ তা'আলা আরো বলেন:
وَسَارِعُوا إِلَى مَغْفِرَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ وَجَنَّةٍ عَرْضُهَا السَّمَوَاتُ وَالْأَرْضُ أُعِدَّتْ لِلْمُتَّقِينَ ) [آل عمران: ١٣٣]
"তোমরা দ্রুত অগ্রসর হও তোমাদের প্রভুর ক্ষমা ও জান্নাতের দিকে। যার প্রস্থ হবে আকাশ ও যমিনের সমান। যা একমাত্র আল্লাহভীরুদের জন্যই তৈরি করা হয়েছে”। (আলি 'ইমরান: ১৩৩)
তাঁরা উক্ত আয়াতগুলো শুনে এ কথাই বুঝেছেন যে, তাঁদের প্রত্যেককেই অবশ্যই এ পথে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। যাতে তিনিই সর্ব প্রথম অন্যের আগে এ সম্মানের ভাগী হন। এ উচ্চ আসনে আসীন হন। এ জন্যই তাঁদের কেউ অন্যকে তাঁর চেয়ে বেশি আখিরাতের কাজ করতে দেখলে তিনি তাঁর সাথে এ কাজে প্রতিযোগিতা করতেন। তাঁর সমপর্যায়ের হওয়ার চেষ্টা করতেন। এমনকি তাঁকে ডিঙ্গিয়ে যাওয়ারও। তাই তাঁদের সার্বক্ষণিক প্রতিযোগিতা ছিলো আখিরাতের পদমর্যাদা নিয়ে। যেমন আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿وَفِي ذَٰلِكَ فَلْيَتَنَافَسِ ٱلْمُتَنَٰفِسُونَ ﴾ [المطففين: ٢٦]
"প্রতিযোগীরা মূলতঃ এ বিষয়েই প্রতিযোগিতা করুক"। (আল-মুত্বাফফিফীন: ২৬)
আমরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট সবার জন্য লাভজনক জ্ঞান ও নেক আমলের তাওফীক কামনা করছি। পরিশেষে সকল দরূদ, সালাম ও বরকত বর্ষিত হোক আমাদের প্রিয় নবী মু'হাম্মাদ ﷺ, তাঁর পরিবারবর্গ ও সকল সাহাবায়ে কিরামের উপর।
মুহাম্মাদ স্বালিহ আল-মুনাজ্জিদ
সমাপ্ত