📄 মানুষের মতো মানুষ তৈরি করা
আমি ও আপনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কিছু মানুষ তৈরি করার যারা আমাদের চেয়েও ভালো হবে। আর এটিই হলো কুর'আনের এক বিশেষ শিক্ষা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَرُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ ﴾ [الأعراف: ١٤٢] .
“আমি মূসাকে ত্রিশ দিনের সময় দিয়েছিলাম। এরপর আরো দশ দিন বাড়িয়ে আমি তার জন্য নির্ধারিত সময়টুকু পরিপূর্ণ করলাম। আর এভাবেই তার প্রভুর নির্ধারিত চল্লিশ দিন পার হয়ে গেলো। এ দিকে মূসা তার ভাই হারূনকে বললো: আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের জন্য তুমি আমার প্রতিনিধি। তাদের সংশোধন করো। কখনো বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না"। (আল-আ'রাফ: ১৪২)
একইভাবে তা রাসূল এর সুন্নাতও বটে:
একদা জনৈকা মহিলা রাসূল এর নিকট এসে তাঁর সাথে কোন এক বিষয়ে কথা বললে রাসূল তাকে তা দেয়ার আদেশ করলেন। মহিলাটি বললো: আমি যদি পুনরায় এসে আপনাকে না পাই হে আল্লাহ্'র রাসূল ! তখন তিনি বললেন:
إِنْ لَمْ تَجِدْنِي فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ .
"আমাকে না পেলে আবু বকরের কাছে আসবে"। (বুখারী ৬৯২৭)
'হুমাইদী (রাহিমাহুল্লাহ) ইব্রাহীম বিন্ সা'দ (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণনা করেন: মনে হয় মহিলাটি রাসূল এর মৃত্যুর প্রতিই ইঙ্গিত করেছে।
রাসূল মু'তার যুদ্ধে যাইদ বিন্ 'হারিসাকে আমীর বানিয়ে বললেন:
إِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ، فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، وَعَقَدَ لَهُمْ لِوَاءٌ أَبْيَضَ، وَدَفَعَهُ إِلَى زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ .
"যায়েদকে হত্যা করা হলে জা'ফরই আমীর হবে। আর জা'ফরকে হত্যা করা হলে আব্দুল্লাহ্ বিন্ রাওয়া'হাহই আমীর হবে। এরপর রাসূল তাদের জন্য একটি সাদা ঝাণ্ডা প্রস্তুত করে তা যায়েদ বিন্ 'হারিসাহ্'র হাতে তুলে দিলেন"। (বুখারী ৪০১৩)
রাসূল যুদ্ধকালীন সময়ে এগারো জনের বেশি সাহাবীকে মদীনার দায়িত্বশীল বানিয়েছেন। যাঁরা হলেন: সা'দ বিন্ 'উবাদাহ্, যায়েদ বিন্ 'হারিসাহ্, বাশীর বিন্ 'আব্দুল-মুন্যির, সিবা' আল-গিফারী, 'উসমান বিন্ 'আফ্ফান, ইবনু উম্মি মাকতুম, আবু যার আল-গিফারী, আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্দুল্লাহ্ বিন্ উবাই, নুমাইলাহ্ আল-লাইসী, কুলসুম বিন্ 'হুস্বায়্যিন ও মু'হাম্মাদ বিন্ মাসলামাহ্।
'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা عبدالله بن مسعود এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় খাব্বাব আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে তিনি ইব্নু মাস্'উদ কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে আবু আব্দির রহমান! আপনার সামনে বসা এ যুবকেরা কি আপনার ন্যায় কুর'আন পড়তে পারে? তিনি বললেন: আপনি চাইলে তাদের কাউকে পড়তে বলতে পারি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, বলুন। তখন ইব্নু মাস্'উদ বললেন: হে 'আলক্বামাহ্! তুমি পড়ো। 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: তখন আমি সূরা মারইয়ামের পঞ্চাশটি আয়াত পড়েছি। অতঃপর ইব্নু মাস্'উদ খাব্বাব কে উদ্দেশ্য করে বললেন: কেমন লাগলো? খাব্বাব বললেন: ভালোই লাগলো। তখন ইব্নু মাস্'উদ বললেন: "আমি যাই পড়ি সেও তাই পড়ে"। (বুখারী ৪১৩০)
সীরাতবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) এর কুর'আন তিলাওয়াতের আওয়াজ খুবই সুন্দর ছিলো।
আবূ 'হামযাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাবাহ্ আবুল-মুসান্নাকে বললাম: আপনি কি কখনো আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ কে দেখেছেন? তিনি বললেন: বরং আমি 'উমর এর সাথে তিন বার হজ্জ করেছি। তখন আমি এক জন সুপুরুষ। তিনি বলেন: সে সময় আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ ও 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষদেরকে দু'টি সারিতে ভাগ করতেন। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ এক জনকে পড়াতেন। আর 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) আরেক জনকে পড়াতেন। যখন তাঁরা কুর'আন পড়ানো শেষ করতেন তখন তাঁরা উভয় মিলে হজ্জের নিয়ম-কানুন ও হালাল-হারামের অধ্যায়গুলো পরস্পর আলোচনা করতেন। তুমি কখনো 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) কে দেখে থাকলে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ কে না দেখলেও চলবে। কারণ, 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর চাল-চলন ও আদর্শে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ এর মতোই ছিলেন। তুমি কখনো ইব্রাহীম আন-নাখা'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) কে দেখে থাকলে 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) কে না দেখলেও চলবে। কারণ, ইব্রাহীম আন-নাখা'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর চাল-চলনে 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) এর মতোই ছিলেন। (সিয়ারু আ'লামিন-নুবালা': ৪/৫৪)