📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 ভালো আদর্শ

📄 ভালো আদর্শ


জারীর বিন্ আব্দুল্লাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةً حَسَنَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ أَجْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أُجُورِهِمْ شَيْءٌ، وَمَنْ سَنَّ فِي الْإِسْلَامِ سُنَّةٌ سَيِّئَةً فَعُمِلَ بِهَا بَعْدَهُ كُتِبَ لَهُ مِثْلُ وِزْرِ مَنْ عَمِلَ بِهَا، وَلَا يَنْقُصُ مِنْ أَوْزَارِهِمْ شَيْءٌ .
"যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে ভালো কোন আদর্শ চালু করলো অতঃপর তার মৃত্যুর পরও তার উপর আমল চালু থাকলো তা হলে তার জন্য ওদের সমপরিমাণই সাওয়াব লেখা হবে যারা তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করেছে। তবে তাদের সাওয়াবে এতটুকুও কমতি করা হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামের মধ্যে কোন বদ রসম চালু করলো অতঃপর তার মৃত্যুর পরও তার উপর আমল চালু থাকলো তা হলে তার বিরুদ্ধে ওদের সমপরিমাণই গুনাহ্ লেখা হবে যারা তার মৃত্যুর পর সে অনুযায়ী আমল করেছে। তবে তাদের গুনাহে এতটুকুও কমতি করা হবে না”। (মুসলিম ১০১৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ دَعَا إِلَى هُدًى كَانَ لَهُ مِنَ الْأَجْرِ مِثْلُ أُجُوْرِ مَنْ تَبِعَهُ لَا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ أُجُوْرِهِمْ شَيْئًا وَمَنْ دَعَا إِلَى ضَلَالَةٍ كَانَ عَلَيْهِ مِنَ الْإِثْمِ مِثْلُ آثَامِ مَنْ تَبِعَهُ لا يَنْقُصُ ذَلِكَ مِنْ آثَامِهِمْ شَيْئًا .
“যে ব্যক্তি কাউকে হিদায়াতের দিকে ডাকলো তার ততটুকুই সাওয়াব হবে যতটুকু সাওয়াব হবে তার অনুসারীদের। তবে তাদের সাওয়াব থেকে এতটুকুও কম করা হবে না। আর যে ব্যক্তি কাউকে ভ্রষ্টতার দিকে ডাকলো তার ততটুকুই গুনাহ্ হবে যতটুকু গুনাহ্ হবে তার অনুসারীদের। তবে তাদের গুনাহ্ থেকে এতটুকুও কম করা হবে না”। (মুসলিম ২৬৭৪)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: উক্ত হাদীস দু'টি কোন ভালো আদর্শ চালু করা মুস্তাহাব ও কোন বদ রসম চালু করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে একেবারেই সুস্পষ্ট। আর তাতে এ কথাও রয়েছে যে, কেউ কোন ভালো আদর্শ চালু করলে তার সাওয়াব ওদের সমপরিমাণই হবে যারা সে অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত আমল করবে। আর যে ব্যক্তি কোন বদ রসম চালু করলো তার গুনাহ্ ওদের সমপরিমাণই হবে যারা সে অনুযায়ী কিয়ামত পর্যন্ত আমল করবে। ঠিক তেমনিভাবে যে ব্যক্তি কাউকে হিদায়াতের দিকে ডাকলো তার সাওয়াব তার অনুসারীদের সমপরিমাণই হবে। আর যে ব্যক্তি কাউকে ভ্রষ্টতার দিকে ডাকলো তার গুনাহ্ তার অনুসারীদের সমপরিমাণই হবে। চাই সে হিদায়াত ও ভ্রষ্টতা সে নিজেই শুরু করুক অথবা তার পূর্ব থেকেই তা চালু থাকুক না কেন। চাই তা কোন ধরনের শিক্ষা, ইবাদাত, আদব কিংবা অন্য কোন কিছুই হোক না কেন। চাই তা চালু করার পর তার জীবদ্দশায়ই সে অনুযায়ী আমল করা হোক কিংবা তার মৃত্যুর পর"। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা/নাওয়াওয়ী: ১৬/২২৬)
তেমনিভাবে যে খারাপ কোন রসম-রেওয়াজ চালু করলো:
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿ لِيَحْمِلُوا أَوْزَارَهُمْ كَامِلَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَمِنْ أَوْزَارِ الَّذِينَ يُضِلُّونَهُم بِغَيْرِ عِلْمٍ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ ﴾ [النحل : ٢٥].
“যার ফলে কিয়ামতের দিন তারা নিজেদের পাপের বোঝা তো পূর্ণ মাত্রায় বহন করবেই উপরন্তু ওদের পাপের বোঝাও আংশিক বহন করবে যাদেরকে তারা অজ্ঞতাবশতঃ পথভ্রষ্ট করেছে। হায়, তারা যা বহন করবে তা কতোই না নিকৃষ্ট”! (আন-নাহল: ২৫)
আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا ؛ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَ .
“কোন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা হলে প্রথম আদম সন্তানের উপর তার রক্তের কিয়দংশ বর্তাবে। কারণ, সেই সর্ব প্রথম দুনিয়াতে হত্যাকাণ্ড চালু করে”। (বুখারী ৩১৫৭)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 লাভজনক জ্ঞান, চলমান সাদাকা ও নেককার সন্তান যে নিজ পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করবে

📄 লাভজনক জ্ঞান, চলমান সাদাকা ও নেককার সন্তান যে নিজ পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করবে


আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ إِلَّا مِنْ صَدَقَةٍ جَارِيَةٍ أَوْ عِلْمٍ يُنْتَفَعُ بِهِ أَوْ وَلَدٍ صَالِحٍ يَدْعُوْ لَهُ .
“যখন কোন মানুষ মারা যায় তখন তার আমল বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনটি ক্ষেত্র থেকে তারপরও তার নিকট সাওয়াব পৌঁছায়। সেগুলো হলো, চলমান সাদাকাহ্, লাভজনক জ্ঞান ও নেককার সন্তান যে তার জন্য দো'আ করবে”। (মুসলিম ১৬৩১)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যায় বলেন: আলিমগণ বলেছেন: হাদীসের অর্থ হলো, এক জন মৃত ব্যক্তির আমল তার মৃত্যুর পরপরই বন্ধ হয়ে যায়। নতুন করে আর কোন আমল করা তার পক্ষে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তবে তিনটি বস্তুর মাধ্যমে তার নিকট সাওয়াব পৌঁছাবে। কারণ, সেই তো ছিলো এগুলোর হেতু। সন্তান তো তারই কামাই। তেমনিভাবে যে জ্ঞানটুকু সে শিক্ষকতা ও লেখালেখির মাধ্যমে রেখে গিয়েছে। তেমনিভাবে চলমান সাদাকাহ্ তথা ওয়াক্ফ্ফ ইত্যাদি।
উক্ত হাদীসে নেক সন্তানের আশায় বিয়ে করার ফযীলতের প্রতিও বিশেষ ইঙ্গিত করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে মানুষের অবস্থা বিভিন্ন ধরনের। যা বিবাহের অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
তেমনিভাবে উক্ত হাদীসে ওয়াফ্ফের বিশুদ্ধতা এবং তার বিপুল সাওয়াবের প্রমাণও রয়েছে। অনুরূপভাবে তাতে জ্ঞানের ফযীলত ও তা বেশি বেশি আহরণের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। উপরন্তু তা শিক্ষা দান, লেখালেখি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে অন্যদের নিকট মিরাস হিসেবে রেখে যাওয়ার প্রতিও উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে পর্যায় ভিত্তিক সর্বাধিক লাভজনকটিকেই বেছে নিতে হবে। তেমনিভাবে তাতে রয়েছে, দো'আ ও সাদাকাহ্'র সাওয়াব সত্যিই মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায়। এতে কোন মতভেদ নেই। তেমনিভাবে ঋণ পরিশোধও। যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা: ১১/৮৫)
ইনুল-ক্বায়্যিম (রাহিমাহুল্লাহ) জ্ঞানের ফযীলতের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন: আমি আমার ভিন্ন একটি কিতাবে জ্ঞান ও জ্ঞানীর ফযীলত সম্পর্কে দু' শত দলীল উল্লেখ করেছি। সুতরাং কতোই না সুউচ্চ সম্মান ও মর্যাদার বিষয় যে, এক জন মানুষ তার জীবদ্দশায় সে তার কোন কাজে ব্যস্ত থাকলো। তেমনিভাবে সে তার কবরে হাড়গোড় ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অবস্থান করলো। অথচ এ দিকে তার নেকির আমলনামা বাড়তে থাকলো। প্রতিটি সময় তা নেক দিয়ে পরিপূর্ণ হতে থাকলো। এমন জায়গা থেকে তার নিকট নেকির কাজগুলো হাদিয়া হিসেবে যেতে থাকলো যা সে কখনো ভাবতেও পারেনি। আল্লাহ্'র কসম! এটি একটি বিশেষ সম্মান ও গনীমত। এটি পরস্পর প্রতিযোগিতার একটি ঈর্ষনীয় বিষয়। মূলতঃ এটি আল্লাহ্'র দান। তিনি যাকে চান তাকেই দেন। আর তিনি তো সত্যিই মহা দানশীল। তাই এমন সম্মানজনক বিষয় অর্জনের জন্য সবাইকে নিজের সর্বাধিক পছন্দনীয় সম্পদ ও সময় ব্যয় করা উচিত। উপরন্তু তাকেই সর্বদা সার্বিক অগ্রাধিকার দেয়া ও তা-ই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত।
আমরা আল্লাহ্ তা'আলার নিকট আশা করবো, তিনি যেন তাঁর রহমতের সকল ভাণ্ডার আমাদের জন্য খুলে দেন। তেমনিভাবে তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর দয়ায় এমন বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও সম্মানের অধিকারী বানান। যাদেরকে আকাশে মহান বলে ডাকা হয়। যেমন: জনৈক মনীষী বলেছেন, যে ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান শিখলো এবং তার উপর আমল করলো উপরন্তু তা অন্যকে শিখালো তাকে আকাশে মহান বলে ডাকা হয়। (ত্বারীকুল-হিজরাতাইন: ৫২১)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
إِنَّ الرَّجُلَ لَتُرْفَعُ دَرَجَتُهُ فِي الْجَنَّةِ فَيَقُولُ: أَنَّى هَذَا؟ فَيُقَالُ: بِاسْتِغْفَارِ وَلَدِكَ لَكَ .
"নিশ্চয়ই জান্নাতে জনৈক ব্যক্তির সম্মান বাড়িয়ে দেয়া হলে সে বলবে: এ সম্মান কোত্থেকে আসলো? উত্তরে বলা হবে, তোমারই সন্তান তোমার জন্য ইস্তিগফার করেছে তাই"। (ইবনু মাজাহ্ ৩৬৬০ 'সা'হী'হুল-জামি' ১৬১৭)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
إِنَّ مِمَّا يَلْحَقُ الْمُؤْمِنَ مِنْ عَمَلِهِ وَحَسَنَاتِهِ بَعْدَ مَوْتِهِ عِلْمًا عَلَّمَهُ وَنَشَرَهُ، وَوَلَدًا صَالِحًا تَرَكَهُ ، وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ، أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ، أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيْلِ بَنَاهُ، أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ، أَوْ صَدَقَةً أَخْرَجَهَا مِنْ مَالِهِ فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ يَلْحَقُهُ مِنْ بَعْدِ مَوْتِهِ .
"নিশ্চয়ই এক জন মু'মিনের মৃত্যুর পর যে সাওয়াব ও নেক আমল তার নিকট পৌঁছায় তা হলো যে জ্ঞান সে কাউকে শিখিয়েছে ও প্রচার করেছে। যে নেককার সন্তান সে রেখে গিয়েছে। যে কুর'আন মাজীদ সে মিরাস হিসেবে রেখে গিয়েছে। যে মসজিদ সে বানিয়েছে। যে ঘর বা হোটেল সে মুসাফিরের জন্য বানিয়েছে। যে নদী সে খনন করেছে। এমনকি যে সাদাকাহ্ সে নিজের জীবদ্দশায় ও সুস্থ অবস্থায় নিজ সম্পদ থেকে দিয়েছে তা তার নিকট মৃত্যুর পর অবশ্যই পৌঁছাবে”। (ইবনু মাজাহ্ ২২৪ সা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ৭৭)
وَنَشَرَهُ তথা জ্ঞান প্রচার শব্দটি শিক্ষা দানের চেয়েও ব্যাপক। কারণ, তা লেখালেখি এবং যে কোন বই ওয়াক্‌ফ করাকেও শামিল করে।
'আল্লামাহ্ সিন্দী (রাহিমাহুল্লাহ্) وَوَلَدًا শব্দের ব্যাখ্যায় বলেন: বস্তুতঃ নেককার সন্তানকে আমল ও শিক্ষা দানের মধ্যেই গণ্য করা উত্তম। কারণ, এক জন পিতাই তো তার সন্তানের অস্তিত্ব এবং তার সৎকর্মশীল হওয়ার একান্ত মাধ্যম। যেহেতু পিতাই তার সন্তানকে হিদায়াতের পথ দেখান। উপরন্তু কুর'আন মাজীদে সন্তানকে হুবহু পিতার আমল বলেই আখ্যায়িত করা হয়েছে।
আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
﴿إِنَّهُ عَمَلُ غَيْرُ صَالِحٍ ﴾ [هود: ٤٦] .
"নিশ্চয়ই সে তোমার বদ আমলই মাত্র"। (হৃদ্‌ঃ ৪৬)
وَمُصْحَفًا وَرَّثَهُ মানে, সে কুর'আন মাজীদ মিরাস হিসেবে রেখে গিয়েছে। এটি ও এরপরের বিষয়গুলো মৌলিক ও বিধানগতভাবে চলমান সাদাকার অধীনেই শামিল। মূলতঃ এ হাদীসটি إِذَا مَاتَ الْإِنْسَانُ انْقَطَعَ عَنْهُ عَمَلُهُ إِلَّا مِنْ ثَلَاثَةٍ হাদীসেরই ব্যাখ্যা।
وَرَّثَهُ মানে, সে ওয়ারিশদের জন্য কুর'আন মাজীদ মিরাস হিসেবে রেখে গিয়েছে। যদিও তা তার মালিকানাধীনই হোক না কেন। শরীয়তের অন্যান্য পুস্তকাবলীর বিধানও তাই।
أَوْ مَسْجِدًا بَنَاهُ আলিমগণের মাদ্রাসা ও সত্যিকার নেককারদের বৈঠকখানার বিধানও তাই।
أَوْ بَيْتًا لِابْنِ السَّبِيلِ মানে, মুসাফির ও অপরিচিত।
أَوْ نَهْرًا أَجْرَاهُ মানে, সে একটি নদী খনন করে তা সবার উপকারার্থে চালু করে দিয়েছে। যাতে আল্লাহ্'র তাবত সৃষ্টি লাভবান হয়।
فِي صِحَّتِهِ وَحَيَاتِهِ মানে, সে এ কাজগুলো এমন এক সময় করেছে যখন সে নিজেই পরিপূর্ণ অবস্থায় বিদ্যমান। সম্পদের প্রতি সম্পূর্ণ মুখাপেক্ষী। উপরন্তু সে তা উপভোগও করতে সক্ষম।
হাদীসে মূলতঃ এ জাতীয় সাদাকার প্রতিই মানুষকে উৎসাহিত করা হয়েছে। যাতে তা শ্রেষ্ঠ সাদাকা হিসেবেই পরিগণিত হতে পারে। রাসূল কে একদা জিজ্ঞাসা করা হলো, কোন্ সাদাকার সাওয়াব বেশি? তখন তিনি বললেন:
أَنْ تَصَدَّقَ وَأَنْتَ صَحِيْحٌ شَحِيحٌ ....
“তুমি যখন এমতাবস্থায় সাদাকা করো যে, তুমি তখন সুস্থ, ধনাকাঙ্ক্ষী তথা সাদাকা করতে তোমার মন চায় না"। (বুখারী, হাদীস ১৪১৯ মুসলিম, হাদীস ১০৩২)
নতুবা চলমান সাদাকার জন্য এটি কোন শর্ত নয়। (মিরক্বাতুল-মাফাতীহ্: ১/৪৪২)
আবূ উমামাহ্ আল-বাহিলী থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
أَرْبَعَةٌ تَجْرِي عَلَيْهِمْ أُجُورُهُمْ بَعْدَ الْمَوْتِ: مُرَابِطٌ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، وَمَنْ عَمِلَ عَمَلاً أُجْرِيَ لَهُ مِثْلُ مَا عَمِلَ ، وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَجْرُهَا لَهُ مَا جَرَتْ، وَرَجُلٌ تَرَكَ وَلَدًا صَالِحًا فَهُوَ يَدْعُوْ لَهُ .
“চার জাতীয় মানুষের মৃত্যুর পরও তাদের সাওয়াব চালু থাকবে। তারা হলো:
ক. আল্লাহ্ তা'আলার পথে যুদ্ধের জন্য সর্বদা প্রস্তুত ব্যক্তি।
খ. যে ব্যক্তি দীর্ঘ দিন কোন আমল করার পর কোন কারণবশত তা আর করতে পারছে না তাকেও তার পূর্বের আমল অনুযায়ী সাওয়াব দেয়া হবে।
গ. যে ব্যক্তি কোন কিছু সাদাকা করেছে তার সাওয়াবও ততদিন চালু থাকবে যতদিন তার সাদাকা কর্তৃক মানুষ লাভবান হতে থাকবে।
ঘ. যে ব্যক্তি এমন কোন নেককার সন্তান রেখে গিয়েছে যে তার জন্য সর্বদা দো'আ করে”। (আহমাদ ২২৩৭২ সা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ১১৪)

📘 মরেও অমর হওয়ার চেষ্টা > 📄 মানুষের মতো মানুষ তৈরি করা

📄 মানুষের মতো মানুষ তৈরি করা


আমি ও আপনার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কিছু মানুষ তৈরি করার যারা আমাদের চেয়েও ভালো হবে। আর এটিই হলো কুর'আনের এক বিশেষ শিক্ষা। আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
وَوَاعَدْنَا مُوسَى ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هَرُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ ﴾ [الأعراف: ١٤٢] .
“আমি মূসাকে ত্রিশ দিনের সময় দিয়েছিলাম। এরপর আরো দশ দিন বাড়িয়ে আমি তার জন্য নির্ধারিত সময়টুকু পরিপূর্ণ করলাম। আর এভাবেই তার প্রভুর নির্ধারিত চল্লিশ দিন পার হয়ে গেলো। এ দিকে মূসা তার ভাই হারূনকে বললো: আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের জন্য তুমি আমার প্রতিনিধি। তাদের সংশোধন করো। কখনো বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করো না"। (আল-আ'রাফ: ১৪২)
একইভাবে তা রাসূল এর সুন্নাতও বটে:
একদা জনৈকা মহিলা রাসূল এর নিকট এসে তাঁর সাথে কোন এক বিষয়ে কথা বললে রাসূল তাকে তা দেয়ার আদেশ করলেন। মহিলাটি বললো: আমি যদি পুনরায় এসে আপনাকে না পাই হে আল্লাহ্'র রাসূল ! তখন তিনি বললেন:
إِنْ لَمْ تَجِدْنِي فَأْتِي أَبَا بَكْرٍ .
"আমাকে না পেলে আবু বকরের কাছে আসবে"। (বুখারী ৬৯২৭)
'হুমাইদী (রাহিমাহুল্লাহ) ইব্রাহীম বিন্ সা'দ (রাহিমাহুল্লাহ্) থেকে বর্ণনা করেন: মনে হয় মহিলাটি রাসূল এর মৃত্যুর প্রতিই ইঙ্গিত করেছে।
রাসূল মু'তার যুদ্ধে যাইদ বিন্ 'হারিসাকে আমীর বানিয়ে বললেন:
إِنْ قُتِلَ زَيْدٌ فَجَعْفَرٌ، فَإِنْ قُتِلَ جَعْفَرٌ فَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ، وَعَقَدَ لَهُمْ لِوَاءٌ أَبْيَضَ، وَدَفَعَهُ إِلَى زَيْدِ بْنِ حَارِثَةَ .
"যায়েদকে হত্যা করা হলে জা'ফরই আমীর হবে। আর জা'ফরকে হত্যা করা হলে আব্দুল্লাহ্ বিন্ রাওয়া'হাহই আমীর হবে। এরপর রাসূল তাদের জন্য একটি সাদা ঝাণ্ডা প্রস্তুত করে তা যায়েদ বিন্ 'হারিসাহ্'র হাতে তুলে দিলেন"। (বুখারী ৪০১৩)
রাসূল যুদ্ধকালীন সময়ে এগারো জনের বেশি সাহাবীকে মদীনার দায়িত্বশীল বানিয়েছেন। যাঁরা হলেন: সা'দ বিন্ 'উবাদাহ্, যায়েদ বিন্ 'হারিসাহ্, বাশীর বিন্ 'আব্দুল-মুন্যির, সিবা' আল-গিফারী, 'উসমান বিন্ 'আফ্ফান, ইবনু উম্মি মাকতুম, আবু যার আল-গিফারী, আব্দুল্লাহ্ বিন্ আব্দুল্লাহ্ বিন্ উবাই, নুমাইলাহ্ আল-লাইসী, কুলসুম বিন্ 'হুস্বায়্যিন ও মু'হাম্মাদ বিন্ মাসলামাহ্।
'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমরা একদা عبدالله بن مسعود এর নিকট বসা ছিলাম। এমতাবস্থায় খাব্বাব আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়ে তিনি ইব্‌নু মাস্'উদ কে উদ্দেশ্য করে বললেন: হে আবু আব্দির রহমান! আপনার সামনে বসা এ যুবকেরা কি আপনার ন্যায় কুর'আন পড়তে পারে? তিনি বললেন: আপনি চাইলে তাদের কাউকে পড়তে বলতে পারি। তিনি বললেন: হ্যাঁ, বলুন। তখন ইব্‌নু মাস্'উদ বললেন: হে 'আলক্বামাহ্! তুমি পড়ো। 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) বলেন: তখন আমি সূরা মারইয়ামের পঞ্চাশটি আয়াত পড়েছি। অতঃপর ইব্‌নু মাস্'উদ খাব্বাব কে উদ্দেশ্য করে বললেন: কেমন লাগলো? খাব্বাব বললেন: ভালোই লাগলো। তখন ইব্‌নু মাস্'উদ বললেন: "আমি যাই পড়ি সেও তাই পড়ে"। (বুখারী ৪১৩০)
সীরাতবিদগণ উল্লেখ করেছেন যে, 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) এর কুর'আন তিলাওয়াতের আওয়াজ খুবই সুন্দর ছিলো।
আবূ 'হামযাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: আমি একদা রাবাহ্ আবুল-মুসান্নাকে বললাম: আপনি কি কখনো আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ কে দেখেছেন? তিনি বললেন: বরং আমি 'উমর এর সাথে তিন বার হজ্জ করেছি। তখন আমি এক জন সুপুরুষ। তিনি বলেন: সে সময় আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ ও 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) মানুষদেরকে দু'টি সারিতে ভাগ করতেন। আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ এক জনকে পড়াতেন। আর 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) আরেক জনকে পড়াতেন। যখন তাঁরা কুর'আন পড়ানো শেষ করতেন তখন তাঁরা উভয় মিলে হজ্জের নিয়ম-কানুন ও হালাল-হারামের অধ্যায়গুলো পরস্পর আলোচনা করতেন। তুমি কখনো 'আলক্বামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) কে দেখে থাকলে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ কে না দেখলেও চলবে। কারণ, 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর চাল-চলন ও আদর্শে আব্দুল্লাহ্ বিন্ মাস্'উদ এর মতোই ছিলেন। তুমি কখনো ইব্রাহীম আন-নাখা'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) কে দেখে থাকলে 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ) কে না দেখলেও চলবে। কারণ, ইব্রাহীম আন-নাখা'য়ী (রাহিমাহুল্লাহ) তাঁর চাল-চলনে 'আলকামাহ্ (রাহিমাহুল্লাহ্) এর মতোই ছিলেন। (সিয়ারু আ'লামিন-নুবালা': ৪/৫৪)

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00