📄 মানুষের চলাচলের পথ থেকে কষ্টদায়ক যে কোন বস্তু সরিয়ে দেয়া
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
الْإِيمَانُ بِضْعٌ وَسَبْعُوْنَ أَوْ بِضْعٌ وَسِتُّوْنَ شُعْبَةً، فَأَفْضَلُهَا قَوْلُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَأَدْنَاهَا إِمَاطَةُ الْأَذَى عَنِ الطَّرِيقِ، وَالْحَيَاءُ شُعْبَةٌ مِنَ الْإِيْمَانِ .
"ঈমানের তেয়াত্তর কিংবা তেষট্টির বেশি শাখা রয়েছে। তার মধ্যকার সর্বোত্তম শাখা হলো এ কথা বলা যে, আল্লাহ্ তা'আলা ছাড়া সত্য কোন মা'বুদ নেই। আর তার মধ্যকার সর্বনিম্ন শাখা হলো মানুষের চলাচলের পথ থেকে যে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা ঈমানেরই একটি বিশেষ শাখা"। (মুসলিম ৩৫)
আবু যর থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: নবী ইরশাদ করেন:
عُرِضَتْ عَلَيَّ أَعْمَالُ أُمَّتِي حَسَنُهَا وَسَيِّتُهَا، فَوَجَدْتُ فِي مَحَاسِنِ أَعْمَالِهَا الْأَذَى يُمَاطُ عَنِ الطَّرِيقِ، وَوَجَدْتُ فِي مَسَاوِي أَعْمَالِهَا النُّخَاعَةَ تَكُوْنُ فِي الْمَسْجِدِ لَا تُدْفَنُ .
"আমার নিকট আমার উম্মতের ভালো-মন্দ সকল আমলই উপস্থাপন করা হয়েছে। অতঃপর আমি তাদের নেক আমলগুলোর মাঝে পেয়েছি মানুষের চলাচলের পথ থেকে যে কোন কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেয়া। আর তাদের মন্দ কাজগুলোর মাঝে পেয়েছি মানুষের নাকের ময়লা মসজিদ থেকে না মুছে ফেলে তাতে এমনিভাবেই রেখে দেয়া"। (মুসলিম ৫৫৩)
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে আরো বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
بَيْنَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقٍ، وَجَدَ غُصْنَ شَوْكٍ عَلَى الطَّرِيقِ فَأَخَذَهُ فَشَكَرَ اللهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ .
"একদা জনৈক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলো। এমতাবস্থায় সে মানুষের চলাচলের পথে একটি কাঁটাবিশিষ্ট ডাল দেখতে পেয়ে তা রাস্তা থেকে সরিয়ে দিলো। আর আল্লাহ্ তা'আলা তার এ কাজের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ তাকে ক্ষমা করে দিলেন"। (বুখারী ৬২৪ মুসলিম ১৯১৪)
📄 পশুদের প্রতি দয়া করা
অন্যের প্রতি এক জন মোসলমানের কল্যাণকামিতা দমকা বায়ুর ন্যায় ব্যাপক হতে হবে। এমনকি আল্লাহ্ তা'আলার সকল সৃষ্টি জীব তাকে দিয়ে উপকৃত হতে হবে। এমনকি পশুরাও।
আবূ হুরাইরাহ্ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
بَيْنَمَا رَجُلٌ يَمْشِي بِطَرِيقِ اشْتَدَّ عَلَيْهِ الْعَطَشُ فَوَجَدَ بِثْرًا فَنَزَلَ فِيْهَا فَشَرِبَ، ثُمَّ خَرَجَ فَإِذَا كَلْبٌ يَلْهَثْ يَأْكُلُ الثَّرَى مِنَ الْعَطَشِ، فَقَالَ الرَّجُلُ: لَقَدْ بَلَغَ هَذَا الْكَلْبَ مِنَ الْعَطَشِ مِثْلُ الَّذِي كَانَ بَلَغَ مِنِّي، فَنَزَلَ الْبِثْرَ فَمَلَأَ خُفَّهُ مَاءً، ثُمَّ أَمْسَكَهُ بِفِيْهِ حَتَّى رَقِيَ فَسَقَى الْكَلْبَ، فَشَكَرَ اللَّهُ لَهُ فَغَفَرَ لَهُ، قَالُوا: يَا رَسُوْلَ اللَّهِ! وَإِنَّ لَنَا فِي هَذِهِ الْبَهَائِمِ لَأَجْرًا؟ فَقَالَ: فِي كُلِّ كَبِدِ رَطْبَةٍ أَجْرٌ .
"একদা জনৈক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে ভীষণভাবে তৃষ্ণার্ত হলে সে একটি কুয়া পেয়ে তাতে নেমে মনভরে পানি পান করলো। কুয়া থেকে বের হয়ে সে দেখলো, একটি কুকুর তৃষ্ণার দরুন জিহ্বা বের করে নরম মাটি খাচ্ছে। তখন লোকটি মনে মনে বললো: এ কুকুরটিরও তৃষ্ণা লেগেছে যেমনিভাবে ইতিপূর্বে আমারও লেগেছিলো। অতঃপর সে কুয়ায় নেমে তার মোজাখানা পানি দিয়ে ভর্তি করে নিজের মুখ দিয়ে ধরে কুয়ার পাড়ে উঠে কুকুরটিকে পানি পান করালে আল্লাহ্ তা'আলা তার কৃতজ্ঞতা আদায়ার্থে তাকে ক্ষমা করে দিলেন। সাহাবায়ে কিরাম বললেন: হে আল্লাহ্'র রাসূল! আমাদের জন্য কি এ পশুগুলোর রক্ষণাবেক্ষণেও নিশ্চয়ই সাওয়াব রয়েছে? তিনি বললেন: প্রতিটি তাজা প্রাণের রক্ষণাবেক্ষণে তোমাদের জন্য সাওয়াব রয়েছে”। (বুখারী ২২৩৪ মুসলিম ২২৪৪)
ইমাম নাওয়াওয়ী (রাহিমাহুল্লাহ) বলেন: হাদীসে বর্ণিত প্রতিটি তাজা প্রাণে সাওয়াব আছে মানে, প্রতিটি জীবিত প্রাণীকে পানি পান ইত্যাদির মাধ্যমে দয়া করলে তাতে নিশ্চয়ই সাওয়াব রয়েছে। (মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যা/নাওয়াওয়ী: ১৪/২৪১)
কোন কোন জ্ঞানী বলেছেন: যখন আল্লাহ্ তা'আলা একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করানোর দরুন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমা করে দিয়েছেন তখন কেউ কোন তৃষ্ণার্ত মোসলমানকে পানি পান করালে, কোন ক্ষুধার্তকে পেট ভরে খাওয়ালে কিংবা কোন উলঙ্গ ব্যক্তিকে কাপড় পরালে আল্লাহ্ তা'আলা নিশ্চয়ই তাকে ক্ষমা করবেন।
জাবির বিন্ আব্দুল্লাহ্ (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল ইরশাদ করেন:
مَنْ حَفَرَ مَاءً لَمْ يَشْرَبْ كَبِدٌ حَيٌّ مِنْ جِنِّ وَلَا إِنْسٍ وَلَا طَائِرٍ إِلَّا آجَرَهُ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
"যে ব্যক্তি পানির জন্য কোন কুয়া খনন করলো আর সে পানি কোন জীবন্ত প্রাণী তথা জিন, মানুষ ও পাখী পান করলো তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তাকে কিয়ামতের দিন সে জন্য সাওয়াব দিবেন”। (ইবনু খুযাইমাহ্: ২/২৬৯ স্বা'হী'হুত-তারগীবি ওয়াত-তারহীব ২৭১)
'উমর বিন খাত্ত্বাব বলেন:
لَوْ عَثَرَتْ بَغْلَةٌ بِالْعِرَاقِ لَسَأَلَنِيَ اللهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى عَنْهَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ .
"যদি কোন খচ্চর ইরাকের কোন রাস্তায় হোঁচট খায় তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তার সম্পর্কে আমাকে অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন"। (আন্সাবুল-আশ্রাফ: ৩/৪০৯)